Home Blog Page 50

কালী কথা – জহুরা কালী 

কালী কথা – জহুরা কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথায় বাংলার অন্যতম প্রাচীন কালী মন্দির জহুরা কালীর মন্দির নিয়ে লিখবো।

এই ঐতিহাসিক কালী মন্দির উত্তরবঙ্গের মালদায় ইংরেজবাজার থানা এলাকায় একটি প্রাচীন আমবাগানের মধ্যে অবস্থান করছে।

 

দেবীর নাম কেনো জহুরা হলো আগে সেটা জেনে নেয়া যাক।শোনো যায় এক কালে এই অঞ্চলে ছিলো ঘন অরণ্য।ডাকাত রাই একপ্রকার শাসন করতো এই এলাকা এবং এই দেবী এক সময়ে ছিলেন ডাকাতদের আরাধ্যা। এখানে দেবী চণ্ডীর পুজো করে ডাকাতরা যেত ডাকাতি করতে। ডাকাতি করে প্রচুর ধনরত্ন আনত তারা, তারপর সেগুলোকে এখানেই মাটির তলায় রাখত। সেই ধনরত্নের ওপরই দেবীমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয় যেহেতু ধনরত্নকে হিন্দিতে বলে ‘জওহর’। দেবীমূর্তির নিচে প্রচুর ধনরত্ন রাখা থাকত বলেই এখানে দেবী চণ্ডী ‘জহরা’ বা ‘জহুরা’ নামে বিখ্যাত।

 

বর্তমানে মন্দিরের অভ্যন্তরে লাল রঙের ঢিবির ওপর রয়েছে এক মুখোশ এবং ঢিবির দু’পাশে আরও দু’টি মুখোশ দেখা যায়। এছাড়া গর্ভগৃহে আছে শিব আর গণেশের মূর্তি|এক কালে এখানে দেবীর পূর্ণ অবয়ব মূর্তি ছিলো তবে বিদেশী শত্রুর আক্রমণের ভয়ে তা মাটির নিচে লুকিয়ে ফেলেন পুরোহিতরা। সেই থেকে এই রূপেই পূজিতা হচ্ছেন দেবী জহুরা।

 

দেবী জহুরা চন্ডিরই রূপ তিনি অত্যন্ত জাগ্রত

তার পুজো উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল ছাড়াও বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ সমবেত হন এই মন্দির প্রাঙ্গনে।এখানে বৈশাখ মাসের মঙ্গল ও শনিবার থাকে বিশেষ পুজোর আয়োজন|উল্লেখযোগ্য বিষয় অন্যান্য কালীমন্দিরের মতো এখানে রাত্রিবেলা কোনো পুজো এখানে হয় না পুজো হয় দিনে|

 

আবার ফিরে আসবো কালী কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে। কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে

থাকবে কালী কথা।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – অর্ধ কালী

কালী কথা – অর্ধ কালী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শাস্ত্রে যতগুলি মাকালীর রূপের উল্লেখ আছে যেমন ভদ্র কালী, দক্ষিনা কালী ইত্যাদি তার বাইরেও বাংলায় নানা রূপে পূজিতা হন দেবী কালী। দেবীর এমনই এক রূপ অর্ধ কালী।
আজ কালী কথায় আপনাদের দেবী অর্ধকালীর কথা লিখবো।

আজ থেকে প্রায় ছশো বছর আগে
অবিভক্ত বাংলার ময়মনসিংহের প্ৰখ্যাত কালীসাধক দ্বিজদেব নিজের নিঃসন্তান অবস্থা ঘোচানোর জন্য তার আরাধ্যা দেবী কালীর কাছে প্রার্থনা করেন।দীর্ঘ সময় ধরে প্রার্থনা করার পরে তার ডাকে সাড়া দেন মা কালী এক রাতে তিনি স্বপ্ন দেখলেন তাঁর পরমারাধ্যা তাঁর কাছে কন্যারূপে আসবেন। যথা সময়ে সন্তান সম্ভবা হলেন তার স্ত্রী এবং এক মাঘী পূর্ণিমার দিন এক কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হল। লোকমুখে শোনা যায় বিচিত্র ছিলো সেই কন্যা সন্তানের রূপ। সে না পুরোপুরি গৌরাঙ্গী আবার না সম্পূর্ণ শ্যামাঙ্গী। তার দেহের অর্ধেক গৌরবর্ণা আর বাকি অর্ধ ঘন শ্যামবর্ণা ।

তিনি আদর করে কন্যার নাম দিলেন জয়দুর্গা। তবে নিজে কন্যাকে অর্ধকালী বলে ডাকতেন। আসলে এই কন্যা কোনো সাধারণ কন্যা নন। তিনি বিশ্বাস করতেন এই কন্যা দেবী কালীর মানবী রূপ
এবং পিতা হয়েও দেবী রূপেই তাকে মনে মনে ভক্তি করতেন দ্বিজদেব।কন্যা বড় হয়ে বিবাহযোগ্যা হলে দ্বিজ ঠাকুরের টোলের শিষ্য রাঘবরাম ভট্টাচার্যর সাথে জয় দুর্গার বিবাহ হয়। রাঘবরাম ভট্টাচার্য তন্ত্র জ্যোতিষ
চর্চা করতেন এবং পরবর্তীতে মাতৃ সাধক রূপে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।

বিবাহ পরবর্তী জীবনেও জয় দূর্গা বা
অর্ধকালীকে কেন্দ্র করে একাধিক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়।শোনা যায় একবার তাদের পরিবারে এক নব বধূর ঘোমটা জন সমক্ষে পড়ে যাওয়ায় তৎক্ষণাৎ এক জোড়া অদৃশ্য হাত সেই ঘোমটা আবার স্বস্থানে বসিয়ে দেয় যা দেখে হতবাক হয় সবাই। এই পরিবারে নিয়মিত দূর্গা পুজো এবং চন্ডী পাঠ হতো একবার তাদের পুজোয় একটি বিশেষ কারণে চন্ডী পাঠ বন্ধ
থাকে সেই সময় তাদের কুল দেবী দুর্গা দক্ষিণমুখী
থেকে ঘুরে পশ্চিমমুখী হন আর কাঁচা হলুদ বর্ণা দেবী ক্রুদ্ধ রক্তবর্ণা রূপ ধারণ করেন।আজও নাকি অর্ধকাকালীর পরিবারের এই রূপেই
দেবীর পুজো হয়। হয়না চন্ডী পাঠ।

আজও এখানে পরম্পরা মেনে দুর্গাপূজা হয় শারদীয়া দুর্গা পুজোর সময়ে দেবী
অর্ধকালীকে স্মরণ করা হয় গৃহদেবী রূপে।

ফিরে আসবো কালী কথার পরবর্তী পর্বে। থাকবে বাংলার অন্য এক ঐতিহাসিক কালী পুজো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – ভৈরবেশ্বরী কালী

কালী কথা – ভৈরবেশ্বরী কালী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ কালী কথায় আপনাদের বর্ধমানের এক প্রসিদ্ধ কালী ক্ষেত্রর কথা জানাবো যা প্রায় তিনশো বছরের প্রাচীন।আজকের পর্বে দেবী ভৈরবেশ্বরী।

বর্ধমান রাজ পরিবারের এক পূর্বপুরুষ ভৈরবচাঁদ ছিলেন নিঃসন্তান। মা কালীর প্রতি যেমন তাঁর অগাধ ভক্তি ছিল। তিনি নিয়মিত মা কালীর আরাধনা করতেন।তিনি ছিলেন নিঃসন্তান সন্তান কামনায় প্রতিদিন মায়ের কাছে প্রার্থনা জানাতেন। তাঁর কাতর প্রার্থনায় মা কালী একদিন রাতে ভৈরবচাঁদ কাপুরকে স্বপ্ন দেন এবং দেবী বলেন যে “তোর সন্তানের জন্য দুঃখ কিসের। আমিই তোর সন্তান হয়ে তোর মেয়ে রূপে তোর কাছে
থাকব কথা দিচ্ছি”।

তারপরই এক মাঘ মাসের রটন্তী চতুদ্দশীর দিন নিমকাঠের কালী মূর্ত্তি তৈরী করে মন্দির নির্মাণ করে মাকে প্রতিষ্ঠা করেন ভৈরবচাঁদ। সেই থেকেই মায়ের পুজোর শুরু।খুব সম্ভবত ভৈরবের
নাম থেকেই দেবীর নাম ভৈরবেশ্বরী হয়।
ভৈরবেশ্বরী মন্দির দক্ষিণমুখী।এখানকার বিশেষত্ব মন্দিরে নিম কাঠের তৈরী প্রাচীন কালী মূৰ্ত্তি।

বিশেষজ্ঞদের মতে এই ধরনের নিম কাঠে
দিয়ে তৈরী কালী মূর্ত্তি নাকি একমাত্র পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরেই আছে। অনেকের মতে এই কালী মূর্তি ভারতবর্ষের মধ্যে দ্বিতীয়
নিম কাঠের কালী মূৰ্ত্তি যা অত্যান্ত দুর্লভ।

এছাড়াও রাধাকৃষ্ণের বিগ্রহ, গৌর নিতাই মূর্ত্তি, নারায়ণ শিলা এবং আরো, অনেক বিগ্রহের নিত্য পুজো এই মন্দিরে হয়। বাৎসরিক কালী পূজায় এবং প্রতিষ্ঠা দিবসে অর্থাৎ মাঘ মাসের রটন্তী চতুর্দশীতে পশু বলী সহ তন্ত্র মতে মহা সমারোহে পুজো অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই উপলক্ষে
বহু ভক্তের সমাগম হয়।

ফিরে আসবো কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে। থাকবে অন্যএক কালী মন্দিরের ইতিহাস এবং নানা অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

কালী কথা – মগনেশ্বরী কালীবাড়ি

কালী কথা – মগনেশ্বরী কালীবাড়ি

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

 

সতীপীঠের ভূমি বীরভূমে রয়েছে এক

ঐতিহাসিক কালী ক্ষেত্র যা মগনেশ্বরী কালীবাড়ি নামে পরিচিত।আজকের কালী কথা এই

ঐতিহাসিক কালী মন্দির নিয়ে।

 

শুরু করবো একটি অলৌকিক ঘটনা দিয়ে।

সে বহু বছর আগের কথা বীরভূমের কোনো এক ছোট্ট রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার স্বপ্ন দেখেন, এক মহিলা বিনা টিকিটে আমোদপুরে আসছেন।তার বিপদ হতে পারে তিনি যেনো সাহায্যে এগিয়ে যান।সেই স্বপ্ন অনুযায়ী পরদিন ভোরে এক মহিলাকে খুঁজে পান স্টেশন মাস্টার।তার কাছে কোনও টিকিটও ছিল না।জিজ্ঞাসা করে জানা যায় তিনি যাবেন প্ৰখ্যাত সাধক এবং আধ্যাত্মিক গুরু কৈলাসপতি বাবার কাছে। তাঁর কাছ থেকে তিনি দীক্ষা গ্রহণ করবেন।স্টেশন মাস্টার তার সাধ্য মতো সব ব্যাবস্থা করে দেন।

 

সেদিনের এই অজ্ঞাত মহিলা ছিলেন বিখ্যাত তন্ত্র সধিকা মৃণালিনী দেবী। এই মৃণালিনী দেবী ছোট থেকেই প্রচন্ড সংযমী এবং ধার্মিক চরিত্রের ছিলেন তিনি। মাত্র আট বছর বয়সে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে সাধনা করতে চলে যান।শোনা যায় তার জন্মের পর কৈলাসপতিবাবা তার পরিবারকে জানান “এই মেয়ে একদিন বিখ্যাত সন্ন্যাসিনী হবে” পরবর্তীতে সেই মেয়ে কৈলাশ পতি বাবার কাছেই দীক্ষা নিয়ে এক সাথে সাধনা করে।তার সন্ন্যাসীনী জীবনে নাম হয় মগনানন্দ।মগনানন্দ সাধক বামাক্ষ্যাপার সমসাময়িক ছিলেন দুজনের দেখাও হয়। দীক্ষা লাভের পর নিজের গ্রাম আমোদপুর ফিরে মৃণালিনী দেবী ওরফে মগনানন্দ ভক্তদের সাহায্যে দক্ষিণেশ্বর কালীর আদলে দেবীর শিলা মূর্তি স্থাপনা করেন।এবং পাকাপাকিভাবে আমোদপুরেই থাকতে শুরু করেন।চলতে থাকে তন্ত্র সাধনা। মাতৃ আরাধনা।

 

শোনা যায় একবার তারাপীঠে বামদেবের সেবা করতে ছুটে যান মগদানন্দ গিরি।সেবা করে তাকে সুস্থ করে তোলেন। তার ভক্তদের মুখে তার একাধিক অলৌকিক শক্তির কথা শোনা যায়। ভক্তদের কাছে তিনি ছিলেন ‘গুরুমা’। ভাল কাজের যেমন বিধান দিতেন, ঠিক তেমনি খারাপ কাজেও শাসন করতেন। তিনি একশো চৌত্রিশ বছর বয়সে দেহত্যাগ করেন এবং তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী, তাঁকে ত্রিবেণী সঙ্গমে সমাধিস্থ করা হয়।গুরুমা মগদানন্দ গিরির নামানুযায়ী তার সাধন স্থল ও সেই সংলগ্ন কালী ক্ষেত্র আজ সবার কাছে মগনেশ্বরী কালী বাড়ি রূপে পরিচিত।

 

আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে

ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে কালী কথা।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – কঙ্কালেশ্বরী কালী

কালী কথা – কঙ্কালেশ্বরী কালী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বর্ধমানের অন্যতম এক জাগ্রত এবং ঐতিহাসিক মাতৃ মন্দির হলো কঙ্কালেশ্বরী কালী মন্দির। এই প্রাচীন কালী মন্দির নিয়ে রয়েছে একাধিক কিংবদন্তী এবং অলৌকিক ঘটনা যা নিয়ে আজকের কালী কথায় লিখবো।

আজ থেকে কয়েকশো বছর আগে বর্ধমানে থাকতেন কমলানন্দ নামে এক মাতৃসাধক।
তন্ত্র বিশারদ হিসেবে তার বেশ খ্যাতি ছিলো। শোনা যায় তিনি একবার মায়ের স্বপ্নাদেশ পান। স্বপ্নে আদেশ হয় যে দামোদর নদে শীল রূপে দেবী কালী অবস্থান করছেন এবং তিনি যেনো ওই মাতৃ মূর্তি উদ্ধার করে আনেন এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা করে সেই মূর্তি স্থাপন করে পুজো শুরু করেন।

স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী তিনি দামোদরের তীরে গিয়ে ঘোর কৃষ্ণ বর্ণের সেই পাথরটি উদ্ধার করেন। সেই পাথরে দেবী মূর্তি খোদাই করা ছিলো।
পাথরের এই দেবী মূর্তি পেয়ে তিনি বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজ বিজয়চাঁদ মহাতাবকে খবর দেন।তারপর রাজার উদ্যোগে সেই মূর্তি মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

সেই কৃষ্ণ বর্ণের পাথরে খোদাই দেবী কঙ্কালের মতো দেখতে। নাম তাই কঙ্কালেশ্বরী কালী। দেবী এখানে অষ্টভূজা। শায়িত শিবের নাভি থেকে উৎপত্তি হয়েছে পদ্মের। সেই পদ্মার ওপর দেবী বিরাজমানা।দেবী মূর্তির সাথে একটি হাতিও লক্ষ্য করা যায়।সব থেকে আশ্চর্য জনক বিষয় পাথরের কালী মূর্তিতে মানব শরীরের সব শিরা উপশিরা এবং প্রত্যেকটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নিখুঁত ভাবে
খোদাই করা আছে।

বিশেষ বিশেষ অমাবস্যা তিথি এবং
প্রতি কালীপুজোয় এখানে অসংখ্য
ভক্তের সমাগম হয়। সেই সময়ে এখানে
প্রায় কুড়ি হাজার ভক্ত অন্নভোগ গ্রহণ করেন। চামুণ্ডা মতে পুজো হয় এখানে।
তবে শুরু থেকেই বলি প্রথা নেই।

আবার কালী কথার পরবর্তী পর্বে ফিরে আসবো অন্য এক প্রাচীন কালী মন্দিরের ইতিহাস।
থাকবে নানা অলৌকিক ঘটনা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বর্গেশ্বরী

কালী কথা – বর্গেশ্বরী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথায় যে দেবীর কথা বলবো তার সাথে বাংলার ইতিহাসের একটি অধ্যায় জড়িত আছে।তার নাম টিও ভারী অদ্ভুত।

আজকের পর্বে দেবী বর্গেশ্বরীর মহিমা এবং ইতিহাস।

 

তখন বাংলায় বার বার বর্গী আক্রমণ হচ্ছে

এই বর্গি শব্দটা এসেছে ফারসি ‘বারগিস’ থেকে, যেটার অর্থ ‘প্রাচীন মারাঠা যোদ্ধা’। তারা ছিলো বেজায় কট্টর হিন্দু। মাতৃ শক্তির আরাধনা করতো

তারা।মুঘলরা ছিলো তাদের প্রধান শত্রু।

 

বাংলায় তখন নবাবী যুগ চলছে। অবিভক্ত বাংলা বিহার উড়িষ্যার রাজধানী মুর্শিদাবাদ। মসনদে বৃদ্ধ নবাব আলিবর্দি খান। দৌহিত্র সিরাজুদ্দউল তখন কিশোর। সেই সময়ে রাতের আঁধারে একদল বর্গী ঘোড়া টগবগিয়ে হানা দিতে থাকল বাংলায়। তারা গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিতে থাকল, লোকজনকে মেরে-ধরে সবকিছু কেড়ে নিতে থাকল। দোকানপাট বাজার সব তাদের অত্যাচারে বন্ধ হয়ে গেল। সবাই তাদের ভয়ে ঘর থেকে বেরুনো বন্ধ করে দিল। শান্ত বাংলা যেন হঠাৎ করেই আতঙ্কের বাংলা হয়ে উঠল।

 

ইতিহাস বলছে ১৭৪০ খিস্টাব্দে মারাঠা অশ্বারোহী বর্গিরা কংসাবতী নদী অতিক্রম করার উদ্দেশ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দকুমারের বরগোদা গ্রামে অস্থায়ী সৈন্য শিবির স্থাপন করে। তাদের আগ্রহেই তখন প্রতিষ্ঠিত হয় দেবী বর্গশ্বেরী মন্দির। আর তখন থেকেই মায়ের আরাধনা শুরু হয়।যেহেতু বর্গীরা দেবীর প্রতিষ্ঠা করে ছিলো তাই নাম হয়

বর্গেশ্বরী।

 

সব জাতি ও সম্প্রদায় মিলেমিশে পালন করে আসছে এই দেবীর পুজো।কাছেই তমলুকে রয়েছে বর্গভীমার মন্দির।মানুষের বিশ্বাস বর্গভীমার

বোন হন দেবী বর্গশ্বেরী। প্রাচীন এই পুজোকে ঘিরে সমস্ত ধর্মের মানুষ একাত্ম। একসঙ্গে আরাধনা করে পুজোর কটা দিন।

 

বিশেষ বিশেষ তিথিতে ধুম ধাম করে দেবী বর্গেশ্বরীর পুজোর আয়োজন করা হয়। দূর্গা এবং কালী পুজোর সময় এখানে পুজো উপলক্ষে বিরাট উৎসব হয় পুজোতে ভোগ হিসেবে দেওয়া হয় গুড়পিঠে। এই প্রসাদ পাওয়ার জন্য ভিড়ও হয় খুব।বহু মানুষ আসেন মনোস্কামনা জানাতে আবার মনোস্কামনা পূর্ণ হলে পুজো দিয়ে যান।

 

সামনেই কৌশিকী অমাবস্যা। আগামী দিন গুলিতে এই রূপ কালী কথা। চলতে থাকবে।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – প্রসন্নময়ী কালী

কালী কথা – প্রসন্নময়ী কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার বিখ্যাত কালী মন্দির গুলির মধ্যে অনেকগুলি ব্রিটিশ আমলের জমিদারদের পৃষ্ঠেপোষকতায় গড়ে উঠেছিল যাদের ঘিরে আছে নানা রকম অলৌকিক ঘটনা এবং ইতিহাস । এমনই এক কালী মন্দির আছে উত্তর চব্বিশ পরগনার গোবর ডাঙায় যা প্রসন্ন ময়ী কালী নামে খ্যাত।আজকের কালী কথায় এই প্রসন্নময়ী কালী নিয়ে লিখবো।

 

শোনা যায় স্থানীয় জমিদারবাবুর স্ত্রীর গর্ভে কোন পুত্রসন্তান না হওয়ায় তিনি খুবই মনঃকষ্টে ছিলেন। সেই সময় এক সন্ন্যাসী এসে তাঁকে কালীমাতার প্রসাদী ফুল দৈব,ওষুধ হিসাবে ধারণ করতে বলেন। ওই ওষুধ ধারণের ফলে তার স্ত্রী একটি পুত্রসন্তান লাভ করেন। কালী মাতা প্রসন্ন হয়ে এই পুত্রসন্তান দেওয়ায় সেই পুত্রের নাম রাখা হয় কালীপ্রসন্ন এবং কালীমাতার প্রসাদে পুত্রসন্তান লাভ করায় জমিদার বাবু কালীমূর্তি ও কালীমন্দির স্থাপনে উদ্যোগী হন। কিন্তু মন্দির নির্মাণ কার্য শেষ হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয় এবং পরবর্তীতে পুত্র কালীপ্রসন্ন জমিদার হন এবং মন্দির নির্মাণ কার্য শেষ করেন। পরবর্তীতে জমিদারবাবুর নাম অনুসারে এই কালী মন্দির প্রসন্ন ময়ী কালী মন্দির নাম প্রসিদ্ধ হয়।

 

প্রসন্ন ময়ী কালী মন্দির উঁচু ভিত্তিবেদির উপর প্রতিষ্ঠিত। দক্ষিণমুখী মন্দিরটি একটি দালান বিশিষ্ট।গর্ভগৃহে শ্বেত পাথরের বেদির উপর শায়িত স্বেত পাথরের শিবের উপর দণ্ডায়মানা প্রায় আড়াই ফুট উঁচু কষ্টি পাথরের সুন্দর কালিকা মূর্তি প্রতিষ্ঠিত।

 

আজও সেই জমিদার বংশের পূর্বসুরিরা বংশ পরম্পরায় পুজোর দায়িত্ব গ্রহণ করে আসছেন। সব রীতি নীতি প্রায় আগের মতোই আছে।

আজও রীতি মেনে সেই জমিদার বংশের প্রতিটি পুরুষের নামের সঙ্গে ‘প্রসন্ন’ শব্দ যুক্ত করা হয়।

 

প্রায় চারশো বছরের পুরোনো এই মন্দিরে প্রতিটি বিশেষ তিথি যেমন কৌশিকী বা দীপান্বিতা অমাবস্যায় উৎসব উপলক্ষ্যে আশেপাশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক লোকের সমাগম হয়। শনি-মঙ্গলবারে অনেকে মনোস্কামনা পূরণের জন্য পূজাও দিয়ে থাকেন।দেবী প্রসন্নময়ীর প্রতি এই অঞ্চলের মানুষের রয়েছে অগাধ আস্থা।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। অন্য কোনো মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে ।থাকবে অজানা অনেক জনশ্রুতি এবং অলৌকিক ঘটনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

রাখী পূর্ণিমার শুভেচ্ছা

 

রাখী পূর্ণিমার শুভেচ্ছা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ সারা দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র রাখী পূর্ণিমা উৎসব।ভারতীয় সনাতন সভ্যতায় বহু প্রাচীন কালথেকে চলে আসছে এই উৎসব|ভারতের পুরাণ, মহাকাব্য থেকে ইতিহাস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখী বন্ধনের গল্প|

মহাভারতে, মা কুন্তী যখন কর্ণকে জন্মের পর জলে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন সদ্যোজাতের হাতে বেঁধে দিয়েছিলেন একটি সুতো যা রাখীর মতোই রক্ষা কবচ হিসেবে রক্ষা করেছিলো তার সন্তানকে|শিশুপালের দিকে সুদর্শন চক্র ছুড়ে দেওয়ার সময় কৃষ্ণের হাতের আঙ্গুল কেটে রক্ত বের হতে শুরু করে। কৃষ্ণসখী দ্রৌপদী তাঁর শাড়ির আঁচল খানিকটা ছিঁড়ে তাঁর হাতে বেঁধে দেন। বড়ো ভাইয়ের ন্যায় শ্রীকৃষ্ণও দ্রৌপদীকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেন|এও তো একপ্রকার রাখী বন্ধন|

রামায়নে মহর্ষি বাল্মীকির আশ্রমে রাম-সীতার দুই সন্তান লব-কুশের জন্মের পর তাদের হাতে সুরক্ষা কবচ হিসেবে একটি বিশেষ সুতো বেঁধে দেন বাল্মীকি|আবার পুরান অনুসারে দেবী লক্ষী রাজা বলীর হাতে রাখী পড়িয়ে বিষ্ণু কে বৈকুন্ঠ লোকে ফিরিয়ে এনেছিলেন|

এই দিনে অনেকেই নিজের ইষ্ট দেবকে রাখী
অর্পণ করেন। এতে খুব ভালো এবং দ্রুত
নিজের মনোস্কামনা পূর্ণ হয়।

রাখী বন্ধন প্রতিশ্রুতি রক্ষার উত্সব। ভাইবোনের মধ্যেই হোক কিংবা প্রিয় দুই মানুষের মধ্যে। সেই জন্যই তো প্রেম পর্যায়ের গানেও রবি ঠাকুর লিখেছেন … ” মনে ক’রে সখী, বাঁধিয়া রাখিয়ো আমার হাতের রাখী–তোমার কনককঙ্কনে|

আপনাদের সকলকে জানাই এই পবিত্র রাখী বন্ধন উৎসবের অনেক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।
ভালো থাকুন। পড়তে থাকুন।ধন্যবাদ।

কালী কথা – ভবতারিণী কালী

কালী কথা – ভবতারিণী কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ভবতারিণী কালী বলতে অনেকেই শুধু দক্ষিনেশ্বর কালী মন্দিরের কথা ভাবেন আজ কালী কথার এই পর্বে আপনাদের কলকাতার এমন একটি প্রাচীন কালীর পুজোর কথা আপনাদের জানাবো।

যেখানে দেবী ভবতারিণী রূপেই বিরাজ করছেন যদিও এখানে দেবী ঘোমটায় ঢাকা থাকেন তাই তিনি ঘোমটা কালী নামে বেশি প্রসিদ্ধ।

 

বলরাম ঘোষের উত্তরসূরি তুলসীরাম ঘোষকে স্বপ্নে দেখা দিয়েছিলেন দেবী।স্বপ্নে দেখা রূপ অনুযায়ীই এখানে দেবী কালীর মূর্তি তৈরি হয়েছে। মন্দিরটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ প্রথম গ্রহণ করেন সারদা প্রসাদ ঘোষের মা দয়াময়ী দাসী। তুলসীরাম ঘোষ স্বপ্নে দেখা কালী মূর্তি অনুযায়ী একটি ছবি আঁকিয়েছিলেন। সেই ছবিটি এখনও মন্দিরে রাখা আছে। তুলসীরামের পুত্রবধূ দয়াময়ী দেবী স্বামীর মৃত্যুর পর ছেলের সঙ্গে কলকাতায় এসে জমি কিনে মন্দির তৈরি শুরু করেন এবং তুলসীরামের আঁকানো ছবি অনুযায়ী কালী মূর্তি তৈরি করান। পরবর্তীতে মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয় স্থাপিত হয় একটি কষ্টি পাথরের কালী মূর্তি এবং নিয়মিত পুজো

শুরু হয়।

 

ঐতিহাসিক এই মন্দিরটি ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত।

বর্তমানে এই মন্দিরটি হেরিটেজ ঘোষিত হয়েছে।

গর্ভগৃহে কষ্টিপাথরের দক্ষিণাকালী ভবতারিণী নামেই নিত্য পূজিতা। মন্দিরের  গর্ভগৃহের একদিকে শ্রীধর অর্থাৎ নারায়ণ শিলা, কৃষ্ণ-রাধিকা মূর্তি, গণেশ, কৃষ্ণ মূর্তিও নিত্য পূজিত হয়।  মন্দিরটি দক্ষিণমুখী। দক্ষিণেশ্বরের আদলে নবরত্নশৈলীতে মন্দিরটি নির্মিত।

 

ভবতারিণী মন্দিরে বৈষ্ণব মতে পুজো হয়।

প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পুজো হয় তবে

কার্তিক অমাবস্যায় বেশি ধূমধাম করে কালী পুজো হয়। এছাড়াও জন্মাষ্টমী, দুর্গাপুজো এবং জগদ্ধাত্রী পুজো হয়ে থাকে। মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাসন্তী পঞ্চমীর দিন সেই কারণে, প্রতি বছর বসন্ত পঞ্চমীর দিন মন্দিরের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে পুজো হয়।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা বিপদে-আপদে মন্দিরে ছুটে আসেন তাদের ঘোমটা কালী মা বা ভবতারিণী মায়ের মন্দিরে ভক্তদের বিশ্বাস দেবীর কৃপায় যেকোনও বিপদ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে অন্য এক কালী মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে ।ধারাবাহিক ভাবে চলতে থাকবে কালী কথা।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – দেবী যোগমায়া

কালী কথা – দেবী যোগমায়া

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন কালী মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে বহু ইতিহাস।বহু অলৌকিক ঘটনা।সেইরকমই এক অলৌকিক ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে ঝাড়গ্রামের যোগমায়া মন্দিরের সাথে রয়েছে এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ।আজকের কালী কথায় লিখবো এই দেবী

যোগমায়ার মন্দির নিয়ে।

 

দেবী যোগ মায়া আসলে দেবী কালী স্বয়ং।

এই যোগ মায়া মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হাড়িরাম দাস নামে এক মাতৃ সাধক।শোনা যায় তিনি তন্ত্রসিদ্ধ হয়ে স্বপ্নাদেশে দেবীকে কন্যারূপে পেয়েছিলেন।

 

সে আজ থেকে প্রায় একশ বছর আগের ঘটনা হাড়িরামের কন্যা মাত্র দেড় বছর বয়সে অসুস্থ হয়ে মারা যায় মেয়েকে হারিয়ে উন্মাদের মতো হয়ে যান হাড়িরাম। গ্রামের অদূরে এক শ্মশানে মাটি চাপা দিয়ে সমাহিত করেন মেয়েকে। কিন্তু সন্তানহারা বাবার মন সর্বক্ষণই মেয়ের জন্য কেঁদে উঠত। রাত হলেই শ্মশানে গিয়ে মাটি সরিয়ে মেয়ের দেহ বুকে চেপে কান্নায় ভেঙে পড়তেন তিনি। এই শ্মশানে এক গভীর রাতে দেবী যোগমায়ার দর্শন পেলেন হাড়িরাম। দেবী জানালেন এভাবে রোজ মেয়ের দেহ দেখতে আসার দরকার নেই। তিনিই যোগ মায়া নামে কন্যারূপে হাড়িরামের ঘরে আসবেন।

 

তারপর দেবীর আদেশে বাড়ির উঠোনে বেলগাছের তলায় পঞ্চমুণ্ডির আসনে সাধনা শুরু করলেন তিনি। এক অমাবস্যায় তন্ত্র সাধনায় সিদ্ধিলাভ হল।তারপর ধীরে ধীরে সাধকের চেষ্টায় তৈরী হলো মাটির একটি ছোট্ট মন্দির এবং সেখানে যোগমায়াকে প্রতিষ্ঠা করেন তিনি । নিজের কন্যা রূপে যোগ মায়া কে দেখতেন তিনি এবং সারা জীবন তার পুজো করেই কাটিয়ে দেন।

হাড়িরামের মৃত্যুর পর মন্দিরের পাশেই তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। পরে তাঁর স্ত্রী মনোরমার মৃত্যু হলে তাঁকেও হাড়িরামের সমাধির পাশেই সমাধিস্থ করা হয়।

 

খুব দ্রুত যোগমায়া দেবীর মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পরে চারিদিকে।বহু মানুষ আসতে শুরু করেন দেবী যোগ মায়ার মন্দিরে।পরবর্তীতে ভক্তদের দানে সেখানে তৈরি হয়েছে সমাধি মন্দির। মন্দিরে মায়ের বিগ্রহের পাশেই রয়েছে হাড়িরামের মূর্তিও। দেবীর পুরনো মাটির মূর্তি প্রতি বছর নবকলেবর ধারণ করে।আজও বংশ পরম্পরায় হাড়িরামের পরিবারের সদস্যরাই পুজো করেন।

 

প্রতিটি অমাবস্যায় বিশেষ পুজো হয় তবে কালীপুজোর রাতে এখানে প্রচুর ভক্ত আসেন। গভীর রাতে হয় পুজো।ভক্তিভরে মায়ের কাছে প্রার্থনা জানালে মা ভক্তের কথা শোনেন।

সেই বিশ্বাসেই বহু মানুষ আসেন।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে কালী কথা নিয়ে।

আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে এই ধারাবাহিক আলোচনা।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।