Home Blog Page 50

ভক্তের ভগবান – রামভক্ত বিভীষণ

ভক্তের ভগবান – রামভক্ত বিভীষণ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

ভক্তির জন্য সংসার ত্যাগ বা প্রাণ ত্যাগ সনাতন ধর্মে নতুন কিছু না তবে ভক্তির জন্য নিজ কুল নিজ ভ্রাতা এবং পরিবারের সাথে চরম শত্রুতা করে ভগবানের সাথে হাত মেলাতে একমাত্র বিভীষণই পেরে ছিলেন। আজ এই পরম রাম ভক্তকে নিয়ে লিখবো।

রামায়ণ অনুসারে বিভীষণ ছিলেন রাবণের ছোট ভাই। অত্যাচারী রাবণ যখন ছল করে সীতাকে হরণ করে লঙ্কায় আনলেন এবং রাম যখন রাবনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন তখন বিভীষণ
তার ভাই তার পরিবার এবং সমগ্র লংকার বিরুদ্ধে গিয়ে তার আরাধ্য শ্রী রামের পক্ষ নেন।কারণ রাক্ষস কূলে জন্মালেও বিভীষণ ছিলেন শ্রী রামের পরম ভক্ত এবং ভগবানের পক্ষে দাঁড়াতে তিনি সর্বস্য ত্যাগ করেন।

প্রথমে তিনি বারবার সীতাকে ফিরিয়ে দিতে রাবনকে অনুরোধ করেছেন কিন্তু রাবণ তার কথা শোনেননি এবং শেষে নিজের রাজ্য নিজের প্রাণ দিয়ে মূল্য দিতে হয়েছিল।ধর্ম এবং অধর্মর যুদ্ধে রামের জয়লাভের পেছনে বিভীষণের যথেষ্ট অবদান ছিল।। রাম রাবণের যুদ্ধে রাবণে পরাজিত হলে বিভীষণ লঙ্কার রাজা উপাধি পান।কিন্তু বিভীষনের রাজ্য পরিচালনায় মন ছিলোনা। তিনি আজীবন প্রভু শ্রী রামের নাম জপ করে তার ধ্যান করেই কাটাতে চেয়ে ছিলেন।

এখানে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করতে হয়। রাম এবং রাবনের যুদ্ধ বাঁধার বহু আগে থেকেই বিভীষণ শ্রী রামের ভক্ত ছিলেন। কথিত আছে তার প্রাসাদের সর্বত্র তিনি শ্রী রামের নাম লিখে রাখতেন। একদিন ভ্রাতা রাবন যখন গুপ্তচর মারফত জানতে পারলেন তার ভাই তার শত্রুর নাম তার প্রাসাদে লিখে রাখেন রাবন তাকে তীব্র ভৎসনা করলেন এবং এর কারন জানতে চাইলেন। চতুর বিভীষণ এর উত্তরে বলেন রা অর্থাৎ রাবন এবং ম অর্থাৎ মন্দদরি অর্থাৎ তিনি তার ভ্রাতা এবং মাতৃ স্বরূপা বৌদির নাম লিখেছেন। উত্তর শুনে রাবনের ক্রোধ শান্ত হয়।

ভক্তিতে যদি অটুট থাকা যায় একজন ভক্ত তার ভগবানের জন্য সব কিছু ত্যাগ করতে পারে সব এবং ত্যাগ করা সব কিছুই তার কাছে পুনরায় ফিরে আসে। বিভীষণ তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

আবার ভক্ত এবং ভগবানের পরবর্তী পর্ব নিয়ে ফিরে আসবো থাকবে আরো অনেক পৌরাণিক ঘটনা এবং ভক্তের কথা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – হরিভক্ত দেবর্ষি নারদ 

ভক্তের ভগবান – হরিভক্ত দেবর্ষি নারদ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরানে অসংখ্য হরি ভক্তের উল্লেখ আছে তবে দেবর্ষি নারদের ন্যায় নারায়ণ

ভক্ত দ্বিতীয় কেউ নেই। নারদ এক জনপ্রিয় পৌরাণিক চরিত্র, আচার আচরণে তিনি পরম বৈস্নব |মুখে সদা হরিনাম, সর্বত্র তার অবাধ যাতায়াত, সব সংবাদ, সব জ্ঞান তার মধ্যে সদা বর্তমান |দেব লোক থেকে জমলোক সব স্থানে তিনি সমান জনপ্রিয়।

 

নারদের জন্মই হয় নারায়নের বরে পূর্ব জন্মে নারদ ছিলেন এক ব্রাহ্মণ সন্তান তার নাম ছিলো নন্দ।তিনি কৈশোরে তার আরাধ্য শ্রী হরির দর্শন পেতে জঙ্গলে গিয়ে বিষ্ণুর ধ্যান শুরু করেন নন্দ। তাঁর প্রচণ্ড তপস্যায় তুষ্ট হয়ে বিষ্ণু তাঁকে দর্শন দেন। শ্রীবিষ্ণু নন্দের পবিত্রতা, তার সাধনা এবং ঈশ্বরকে পাওয়ার প্রবল ইচ্ছে দেখে খুশি হয়ে তাঁকে বর দেন যে পরের জন্মে তিনি বিষ্ণুর পরম ভক্ত হয়ে জন্ম নেবেন। তাঁর ভক্তির কারণেই নারদ হয়ে জন্মে তিনি অমরত্ব লাভ করেন।

 

দেবর্ষি নারদের জন্ম নিয়ে একাধিক শাস্ত্রে একাধিক তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে।একটি তত্ব অনুসারে নারদের জন্ম হয়ে ছিল ব্রহ্মার কণ্ঠ থেকে।প্রথমে ব্রহ্মা তাঁকে সৃষ্টির ভার দেন। সৃষ্টির কাজে ব্যস্ত থাকলে ঈশ্বর চিন্তা বিঘ্নিত হবে বিবেচনা করে ইনি ব্রহ্মার আদেশ মানতে রাজী হলেন না। ফলে ব্রহ্মা তাঁকে অভিশাপ দিয়ে বলেন যে, নারদকে গন্ধমাদন পর্বতে গন্ধর্বযোনিতে জন্মগ্রহণ করতে হবে।যথা সময়ে ইনি গন্ধর্বযোনিতে জন্মগ্রহ করেন।এই সময় তাঁর নাম ছিল উপবর্হণ।

 

ব্রহ্মার মানসপুত্র নারদ একজন ত্রিকালজ্ঞ, বেদজ্ঞ ও তপস্বী|তার বৈরাজ্ঞ ও জ্ঞানের জন্য তিনি দেবর্ষি উপাধিতে ভূষিত।নারদের জন্ম থেকে তার প্রতিটি লীলায় শ্রী বিষ্ণু স্বমহিমায় উপস্থিত। নারদের কণ্ঠে সদা হরিনাম এবং সর্বদা তিনি বিষ্ণুর ধ্যানে মগ্ন।

 

নারদ কংসের কাছে কৃষ্ণের জন্মের আগেই কৃষ্ণের আবির্ভাব এবং কৃষ্ণকর্তৃক কংসবধের কথা বলেছিলেন।যার ফলে ফলে কংস চরম অত্যাচারি হয়ে উঠেছিলো, অন্ধকার নেমে এসে ছিলো দেবকী ও বাসুদেবের জীবনে। আপাত দৃষ্টিতে দেখলে নারদ অন্যায় করেছিলেন কিন্তু এসবই ভগবানের লীলা মাত্র নারদকে স্বয়ং ভগবান বেছে নিয়ে ছিলেন তার লীলায় সহায়তা করার জন্য।

অতি উচ্চ মার্গের ভক্ত না হলে এই সৌভাগ্য হয়না।

 

একজন আদর্শ ভক্ত রূপে নারদ সদা কৃষ্ণ নাম করেছেন ও নাম বিলিয়েছেন, ভক্তি মার্গে চলতে উৎসাহ দিয়েছেন সবাই কে, পাপ থেকে দূরে থাকতে বলেছেন সর্বদা |যেকোনো কার্যে তিনি নিমিত্ত মাত্র, যাই হয়েছে তা ভগবান এর ইচ্ছায় হয়েছে।

 

আগামী পর্বে আরো এক মহান ভক্ত এবং তার ভক্তির কথা নিয়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – বিষ্ণু ভক্ত শেষ নাগ

ভক্তের ভগবান – বিষ্ণু ভক্ত শেষ নাগ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

গরুড় বা সুদর্শনের ন্যায় বিষ্ণু আরো এক একনিষ্ট ভক্ত এবং সর্বক্ষণের সঙ্গী হলেন শেষ নাগ। তিনি পালন কর্তা বিষ্ণুকে তার সৃষ্টি পরিচালনায় সাহায্য করেন আবার অনন্ত সজ্জা রূপে তিনি শ্রী বিষ্ণুর চিরসঙ্গী। শ্রী কৃষ্ণ রূপে যখন শ্রী বিষ্ণু তার তার লীলা করতে ধরাধামে অবতীর্ণ হন তখন তখন শেষ নাগও বলরাম অবতারে তার লীলা সঙ্গী হন।

আজ এই মহান ভক্ত প্রসঙ্গে আলোচনা করবো।

 

কশ্যপ মুনির ঔরসে কদ্রুর গর্ভে বিষ্ণু ভক্ত শেষ নাগ জন্মগ্রহণ করেন। তার সহস্র ফনার ছায়ার বিশ্রাম নেন শ্রী বিষ্ণু। তার কুন্ডলীকৃত দেহই শ্রী বিষ্ণুর অনন্ত সজ্জা। পুরান মতে নাগেদের মধ্যে শেষ নাগই শ্রেষ্ঠ।

 

সৃষ্টির ধ্বংস এবং পুনরায় সৃষ্টির সূচনায় শেষ নাগের বিশেষ ভূমিকার কথা একাধিক

পুরানে উল্লেখিত আছে। পুরান মতে শেষ নাগের মস্তকে পৃথিবী অধিষ্ঠান করছে। তার ক্রোধে পৃথিবী তে ভূমিকম্প হয় আবার প্রতি কল্পর শেষে শেষ নাগের মুখ থেকে অগ্নি নির্গত হয় এবং পৃথিবী ধ্বংশ হয়।এসবই হয় শ্রী বিষ্ণুর ইচ্ছেতে।ভগবান তার প্রিয় ভক্তের মাধ্যমে তার সৃষ্টি কার্য সম্পন্ন করেন।

 

রানী যশমতিকে স্বয়ং বিষ্ণু আশীর্বাদ দিয়েছিলেন যে আমি যখন কৃষ্ণ রূপে পৃথিবীতে আসবো তখন বলরাম রূপে শেষ নাগ আমার লীলা সঙ্গী হবেন এবং সেই সময়ে শেষ নাগের সঙ্গে তোমার বিবাহ হবে।দ্বাপর যুগে রানী রেবতী রূপে যশমতির জন্ম হয় এবং বলরাম রুপী শেষ নাগের সঙ্গে তার বিবাহ হয়।

 

আবার অনেকে মনে করেন ত্রেতা যুগে বিষ্ণু যখন রাম অবতার নেন তখন শেষ নাগ লক্ষণ রূপে তার তার সাথে ছিলেন এবং লক্ষণের ধর্মপত্নী আর কেউ নন তিনি স্বয়ং রানী যশমতি।

 

শিবের যেমন নন্দী। রামের যেমন বজরংবলী বিষ্ণুর তেমনই শেষ নাগ। ভক্ত এবং ভগবানের এই যুগলবন্দি সমগ্র সৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

 

আবার পরের পর্বে এমনই এক ভক্ত এবং ভগবানের লীলা নিয়ে আধ্যাত্মিক আলোচনা করবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – শিবভক্ত বানাসুর

ভক্তের ভগবান – শিবভক্ত বানাসুর

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শাস্ত্রে আছে শিব অতি অল্পে তুষ্ট হন এবং তার প্রকৃত ভক্তদের তিনি অপার ঐশর্য প্রদান করেন। দেবাদিদেব শুধু দেবতাদের আরাধ্যা দেবতা নন বহু অসুর, দৈত্য বা রাক্ষস ও তার আরাধনা করে তার কাছে বর প্রার্থনা করেছেন এবং তার অশেষ কৃপা লাভ করে ধন্য হয়েছেন।এদের মধ্যে অনেকই শিবের কাছে বর লাভ করে স্বয়ং শিব কেই বিপদে ফেলেছেন। তাদের কথা পরে বলবো আজ আপনাদের শিব ভক্ত বানাসুরের কথা জানাবো।

 

প্রাচীনকালে বাণ নামে এক শিব ভক্ত অসুর প্রতিদিন একটি করে শিব শিবলিঙ্গ নির্মাণ করে পূজা করতেন এবং মনে মনে তার আরাধ্য শিবের দর্শন কামনা প্রার্থনা করতেন।এইভাবে দীর্ঘদিন শিবপূজার ফলে শিব তাকে দর্শন দিয়ে একটি বর দিতে চান। ভক্ত বাণ বলেন, প্রতিদিন তাকে শিবলিঙ্গ নির্মাণ করতে বেশ কষ্ট পেতে হয়। তাই বর হিসেবে তিনি উত্তম লক্ষণযুক্ত চোদ্দ কোটি শিবলিঙ্গ চান। শিব ভক্তের মনোস্কামনা পূর্ণ করেন এবং চোদ্দো কোটি শিবলিঙ্গ নির্মাণ করে

বাণকে দেন।

 

এতো গুলি শিবলিঙ্গ পেয়ে বানাসুর ঠিক করেন তিনি সারা ভারতবর্ষে এই শিব লিঙ্গগুলি স্থাপন করবেন যাতে সর্বত্র শিব ভক্তরা এই সুন্দর এবং শয়ম্ভু শিব লিঙ্গ দর্শন করতে বা সংগ্রহ করতে পারেন।

 

পরিকল্পনা করে বানাসুর শ্রীশৈলে তিনকোটি, নেপালে এককোটি, কন্যতীর্থে এককোটি,কন্যাশ্রমে এককোটি,মহেন্দ্র পর্বতক্ষেত্রে এককোটি, মহেশ্বরক্ষেত্রে এককোটি, সৌরাষ্ট্রে এক কোটি উজ্জয়িনীতে এক কোটি ওমকার তীর্থে এককোটি,কাশীতে এককোটি,রামেশ্বরে এককোটি শিব লিঙ্গ নিঃক্ষেপ করেন এবং এই ভাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে যায় বানাসুরের বানলিঙ্গ।

 

তবে নর্মদা নদী তীরে সর্বাধিক বানলিঙ্গ দেখতে পাওয়া যায়। এই প্রাকৃতিক শয়ম্ভু শিব লিঙ্গ দর্শন পাওয়া বা সংগ্রহ করে গৃহ মন্দিরে স্থাপন করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।একজন প্রকৃত ভক্ত রূপে বানাসুর তার আরাধ্য মহাদেবের মহিমা এই সারা বিশ্বে প্রচার করেছিলেন।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে।থাকবে আরেক

ভক্ত এবং আরাধ্য দেবতার লীলা কথা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণভক্ত সুদর্শন

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণভক্ত সুদর্শন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আমাদের সনাতন ধর্মের দেবদেবীদের প্রত্যেকের যেমন নিজস্ব বাহন রয়েছে, সৃষ্টি কার্যে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, তেমনই তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব অস্ত্র রয়েছে, যেমন শিবের ত্রিশূল, ইন্দ্রের বজ্র, পরশুরামের কুঠার। তবে শ্রী কৃষ্ণের অস্ত্র সুদর্শন এদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।সুদর্শন একাধারে ভগবানের অস্ত্র আবার তার সর্বক্ষণের সঙ্গী এবং একই সাথে ভগবানের চরণ আশ্রিত পরম ভক্তও।

 

সুদর্শনের দুটি সত্ত্বা আছে একটিতে তিনি ভগবানের হাতের অস্ত্র। স্বয়ং শিব ভগবান বিষ্ণুকে সুদর্শন চক্র দিয়েছিলেন|সুদর্শন চক্র দানের প্রধান উদ্দেশ্য পালনকর্তা যেনো দৃঢ় হাতে সিস্টের পালন ও দুষ্টের দমন করতে পারেন|সু শব্দের অর্থ মঙ্গল এবং দর্শন মানে দেখা দেয়া অর্থাৎ সুদর্শন হলো মঙ্গলময় দর্শন এবং চক্র মানে যা নিজে থেকে ধাবিত হতে পারে|

 

সুদর্শন চক্রের সাথে জড়িয়ে আছে বিষ্ণুর আরেক অবতার পরশুরামের নাম , ত্রেতাযুগে সীতার স্বয়ংবর সভায় যখন রাম হরধনু ভঙ্গ করে ফেলেন তখন রুষ্ট হয়ে তাঁকে শাস্তি দিতে মহেন্দ্র পর্বত থেকে সেখানে উপস্থিত হন পরশুরাম।কিন্তু বিষ্ণুর আর এক অবতার রামের আসল প্রকৃতি জানতে পেরে তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করেন তিনি। সেই সময় রাম তাঁকে সুদর্শন চক্রটি গচ্ছিত রাখতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন যে দ্বাপর যুগে তিনি যখন আবার জন্ম নেবেন, তখন যেন পরশুরাম সেটি ফিরিয়ে দেন। দ্বাপর যুদে শ্রীকৃষ্ণের রূপ ধরে বিষ্ণু ধরাধামে অবতীর্ণ হলে ধর্ম রক্ষা করার জন্য তাঁকে সুদর্শন চক্রটি ফিরিয়ে দেন পরশুরাম।

 

সুদর্শনচক্র তৈরি করেছিলেন স্বয়ং বিশ্বকর্মা, বৈষ্ণবরা বিশ্বাস করেন সুদর্শন চক্র ও বিষ্ণু এক এবং অভিন্ন|ভয়ংকর অসুররের কাছ থেকে সৃষ্টি কে রক্ষা করা হোক বা ক্রোধে উন্মত্ত মহাদেব কে শান্ত করতে সতীর দেহকে খণ্ডিত করা হোক সুদর্শন চক্র থাকে মুখ্য ভূমিকায়|প্রকৃত অর্থে সুদর্শন চক্র শুভ শক্তির প্রতীক যা অশুভ শক্তিকে বার বার পরাজিত করেছে|আমাদের জ্যোতিষ এবং বাস্তু শাস্ত্রে সুদর্শন যন্ত্রের উল্লেখ পাওয়া যায় যা সাক্ষাৎ সুদর্শন।বাস্তু দোষ এবং গ্রহ দোষ দুর করতে সুদর্শন যন্ত্র প্রয়োগ হয়।

 

সুদর্শন আবার একবার দেবতা রূপেও বর্ণিত হয়েছেন কিছু কিছু শাস্ত্রে।পুরান মতে সুদর্শন সূর্যদেব এবং সুদর্শনার পুত্র। ওঘবতী নামক এক রাজকন্যার সঙ্গে সুদর্শনের বিবাহ হয়।

 

সুদর্শনকে শ্রী কৃষ্ণ যেমন স্নেহ করতেন তেমনই শাসন ও করেন। একবার সুদর্শন যখন নিজের বল এবং পরাক্রমের জন্য অহংকারী হয়ে উঠেছিলেন তখন বিষ্ণু বজরংবলীকে ডেকে পাঠান এবং সুদর্শনকে বলেন দ্বার রক্ষী থাকতে এবং আদেশ দেন কাউকে যেনো তার অমুমতি ছাড়া অন্দর মহলে প্রবেশ করতে না দেয়া হয়। কিন্তু বজরংবলী অবলীলায় সুদর্শনকে পরাস্ত করে তার প্রভুর কাছে চলে যান।

 

ভক্ত এবং ভগবানের সম্পর্ক এরককমই হয়। শাসন এবং অনুশাসন দুই থাকে। তার সাথে থাকে স্নেহ এবং সঠিক পথ প্রদর্শন।

 

আবার ভক্তের ভগবানের পরবর্তী পর্ব নিয়ে যথা সময়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – শিব ভক্ত কুবেরদেব 

ভক্তের ভগবান – শিব ভক্ত কুবেরদেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মে দেবী ধন সম্পদের দেবী হলেও কুবের দেব হলেন ধন সম্পদের দাতা এবং রক্ষা কর্তা। তার আশীর্বাদ ছাড়া সম্পদ আসেনা বা এলেও স্থায়ী হয়না।এই কুবের দেব হলেন মহান শিব

ভক্ত শিবের দয়াতেই তিনি ধনরাজ হন। আজ এই শিব ভক্ত এবং ভক্ত এবং ভগবানের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি বিশেষ লীলা নিয়ে

আলোচনা করবো।

 

কুবের ছিলেন যক্ষের রাজা এবং সম্পর্কে রাবনের ভাই।একবার লঙ্কার রাজা রাবণ ভাই কুবেরকে লঙ্কা থেকে বিতাড়িত করেন এবং পুষ্পক রথ সমেত তার সমস্ত ধন সম্পদ অধিকার করে নেন।তখন কুবেরকে সেখান থেকে মূল ভূখণ্ডে চলে যেতে হয়। নিজের রাজ্য এবং সম্পদ হারানোর হতাশায় কুবের হিমালয়ে গিয়ে ভগবান শিবের তপস্যা শুরু করেন এবং পরম শিব

ভক্ত হয়ে ওঠেন।

 

তার তপস্যায় তুষ্ট হয়ে শিব দয়া করে কুবেরকে তার রাজ্য এবং সমগ্র বিশ্বের ধনসম্পদের অধিকারী করে দেন এইভাবেই কুবের বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হয়ে ওঠেন।

 

ধনরাজ হয়ে কুবেরের মধ্যে অহংকার জন্ম নেয় তিনি ভাবতে শুরু করেন তিনিই শিবের সর্বশ্রেষ্ঠ ভক্ত, কারণ তিনি শিবকে অনেক কিছু দিয়েছিলেন।শিবকে নৈবেদ্য রূপে বিপুল ধন সম্পত্তি দিতে চাইলে ভগবান শিব শুধুমাত্র বিভূতি ছাড়া আর কিছুই স্পর্শ করেননি।

 

ভক্ত রূপে কুবের যখন নিজেকে শ্রেষ্ঠ এবং অসীম ক্ষমতার অধিকারী ভাবতে শুরু করেন তখন শিব তাকে শিক্ষা দিতে কুবেরের প্রাসাদে আমন্ত্রণ রক্ষা করতে গণেশকে পাঠান।সব খাদ্য দ্রব্য শেষ করে গণেশ কুবেরের সমস্ত সঞ্চিত ধনসম্পদ গ্রাস করতে শুরু করেন।যখন প্রায় নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম দেখা দিয়েছে তখন কুবের মহাদেবের লীলা বুঝতে পারেন এবং নিজের অহংকারের জন্য মহাদেবের কাছে ক্ষমা চেয়ে সে যাত্রায় রক্ষা পান।

 

ভগবান যেমন ভক্তের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে তার সব মনোস্কামনা পূর্ণ করতে পারেন আবার ভুল করলে তাকে শাস্তি দিয়ে সঠিক পথে ফিরিয়েও আনতে পারেন।

 

ফিরে আসবো ভক্ত এবং ভগবানের আরো এক পৌরাণিক লীলা নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – কালীভক্ত বিবেকানন্দ

ভক্তের ভগবান – কালীভক্ত বিবেকানন্দ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জীবনের প্রথম দিকে প্রতিমা পূজার বিরোধী হলেও বিবেকানন্দই পরবর্তীতে হয়ে উঠেছিলেন করুণাময়ী মা ভবতারিণীর একনিষ্ঠ ভক্ত। আজকের পর্বে স্বামী বিবেকানন্দর

কালী ভক্তির কথা লিখবো।

 

ঠাকুর রামকৃষ্ণর সান্নিধ্যে এসে প্রথম দিকে যুবক নরেন্দ্রনাথ কালীকে গ্রহণ করতে বা তার পূজা করতে সম্মত ছিলেন না। রামকৃষ্ণ তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, “যদি আমার মা কালীকে নাই মানবি, তাহলে এখানে আসিস কেন?” নরেন্দ্রনাথ উত্তরে বলতেন, “আমি আপনাকে দেখতে আসি। আমি আসি, কারণ, আপনাকে আমি ভালবাসি।”

 

বিবেকানন্দর ঘোর কালী ভক্তির সাথে জড়িয়ে আছে দক্ষিনেশ্বর মন্দিরে ঘটে যাওয়া এক অলৌকিক ঘটনা।১৮৮৪ সালে রামকৃষ্ণ পরমহংস নরেন্দ্রনাথ দত্তকে দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়িতে আর্থিক উন্নতির জন্য প্রার্থনা করতে পাঠিয়েছিলেন। তিন বার কালীর আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে গিয়ে তিন বারই নরেন্দ্রনাথ উচ্চারণ করেছিলেন: “মা, জ্ঞান ও ভক্তি ছাড়া আর কিছুই আমি চাই না।” এই ঘটনার পর থেকে তিনি কালীমূর্তি পূজা মেনে নেন এবং কালীমূর্তির কাছে জাগতিক সুখ চাওয়ার বদলে বিবেক এবং বৈরাগ্য চেয়ে নেন।

 

নরেন্দ্র নাথের দক্ষিনেশ্বর মন্দিরে আসা। মা ভবতারিণীর দর্শন করা এবং তার কাছে নিজের সুখ স্বচ্ছন্দর বদলে জ্ঞান এবং বৈরাগ্য চাওয়া এসবই ছিলো মা ভবতারিণীর লীলা। ভগবান যদি ঠিক করেন ভক্তকে কৃপা করবেন তাহলে তিনিই পথ দেখবেন তিনিই নিমিত্ত বেছে নেবেন। বিবেকানন্দর ক্ষেত্রে ঠাকুর রামকৃষ্ণ ছিলেন সেই নিমিত্ত মাত্র।

 

দেবী কালীর একনিষ্ঠ ভক্তে পরিণত হওযয়া বিবেকানন্দ বলেছিলেন, কালী হলেন “ব্রহ্মাণ্ডের দিব্য জননী”, যিনি “নিজের মধ্যে সৃষ্টি ও ধ্বংস, প্রেম ও ভীতি, জীবন ও মৃত্যুকে আত্মীভূত করেছেন।

 

পরবর্তীকালে বিবেকানন্দ যখন পাশ্চাত্যে বেদান্ত প্রচারে গিয়েছিলেন, তখন তিনি ভগিনী নিবেদিতাকে একটি চিঠিতে লেখেন যে, মা তাকে রক্ষা করছেন এবং হৃদয়ের সমর্থন জোগাচ্ছেন।

 

পরবর্তীতে স্বামী বিবেকানন্দর ইচ্ছেতেই বেলুড় মঠে শুরু হয় দেবী পুজো। তন্ত্র মতে বলী দিয়ে পুজো করতে চাইতেন স্বামীজী। কিন্তু মা সারদার ইচ্ছেতে বলী বন্ধ হয়।

 

আবার পরের পর্বে অন্য এক ভক্ত এবং

তার ভক্তি নিয়ে আধ্যাত্মিক আলোচনা করবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – রামভক্ত জটায়ু

ভক্তের ভগবান – রামভক্ত জটায়ু

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আগে একটি পর্বে আপনাদের রামভক্ত শবরীর কথা বলেছিলাম। আজকের পর্বে আপনাদের আরো এক মহান রাম ভক্ত জটায়ুর কথা বলবো।

রামায়নে জটায়ু সম্পর্কে কিছু তথ্য থাকলেও বজরংবলীর উজ্জ্বল উপস্থিতি তে অন্যান্য রাম ভক্তদের ন্যায় জটায়ুর মহিমা এবং তার প্রভু শ্রী রামের প্রতি ভক্তি অনেকটাই ম্লান হয়ে রয়ে গেছে।

 

জটায়ু ঋষি কষ্যপের বংশে জন্মেছিলেন এবং তার সম্পতি নামে এক ভাই ছিলো। যৌবনে একবার কৌতূহল বসত জটায়ু সূর্য দেবতার

কাছে উড়ে যান। সূর্যের কক্ষপথে প্রবেশ করলে প্রচন্ড তাপে তার ডানা ঝলসে যেতে লাগল। তার ভাইকে বাঁচানোর মরিয়া প্রচেষ্টায় সম্পতি তার সামনে উড়ে যায় এবং তার ডানা প্রশস্ত করে জটায়ুকে রক্ষা করেন।

 

রামায়ণের অরণ্য কাণ্ডে বলা হয়েছে যে জটায়ু হলেন শকুনের রাজা বা গিধরাজ।আবার জটায়ু ছিলেন সমগ্র পক্ষীকুলের উপর রাজত্ব করার অধিকারী তাই তাকে পক্ষীরাজও বলা হয়।

জটায়ু ছিলেন পরম রাম ভক্ত এবং রামকে তার সর্বশক্তি দিয়ে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।তাই।

 

বনবাসে থাকাকালীন রাবণ যখন মাতা সীতাকে অপহরণ করেছিলেন, যখন জটায়ু তাকে বাঁচানোর জন্য রাবনের সাথে ভীষণ যুদ্ধ করেন এবং রাবন কতৃক পরাজিত এবং নিহত হন।

তবে মৃত্যুর পূর্বে তিনি রামকে রাবনের দিশা বলে দেন।মৃত্যুর পর শ্রী রাম রাজকীয় মর্যাদায়

তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন এবং তার এই পরম ভক্তের আত্মত্যাগের জন্য নিজের চোখের জল ফেলেন।

 

জটায়ু সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থ ভাবে নিজ আরাধ্য শ্রী রামের সেবা করেন এবং প্রাণ বিসর্জন দেন। তার দেহ ত্যাগ তার ভক্তিকে পূর্ণতা দান করেন এবং তার ভক্তির জোরে তার নাম অন্যতম শ্রেষ্ঠ

রাম ভক্ত রূপে পরিগণিত হয়।

 

আবার পরের পর্বে এমনই এক মহান ভক্ত এবং তার ভক্তির বৃত্তান্ত নিয়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – মা সারদার কথা

ভক্তের ভগবান – মা সারদার কথা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

মা সারদার কাছে এসে একবার এক গৃহী ভক্ত নাছোড়বান্দা, ‘তোমাকে বলতেই হবে তুমি আমার কেমন মা।’ শেষমেশ মা মুচকি হেসে বলেছিলেন, ‘আমি সত্যিকারের মা, পাতানো মা নই। ‘ বাস্তবে মা সারদা ছিলেন তার ভক্তদের কাছে সত্যি কারের মা। আজ এই পর্বে মা সারদা এবং তার ভক্তদের কিছু ঘটনা আপনাদের সামনে উপস্থিত করবো।

 

একবার জয়রামবাটি থেকে অনেকের সঙ্গে দক্ষিণেশ্বর আসছেন।বেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছিলেন মা। সন্ধে নামছে। চারদিক অন্ধকার হয়ে আসছে। ডাকাত মাঠ নাম কুখ্যাত এক মাঠের প্রান্তে এসে দাঁড়ান মা সারদা।কিছুক্ষনের মধ্যেই সামনে এসে দাঁড়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাত।তার পরিচয় বুঝতে পেরেও মা সারদা বললেন বললেন, ‘বাবা আমি পথ ভুলেছি।তোমার জামাই দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে থাকেন। তুমি যদি সেখানে আমাকে পৌঁছে দাও তিনি তোমায় খুব আদর যত্ন করবেন।’ডাকাত তার স্ত্রীকে সাথে নিয়ে মা সারদাকে দক্ষিনেশ্বর পৌঁছে দিয়ে ছিলেন।পরে তারা মায়ের ভক্ত হয়ে ওঠেন। মা সারদা বাস্তবেই ছিলেন সতের ও মা অসতের ও মা।

 

স্বামী সারদানন্দের বন্ধু অভিনেতা পদ্মবিনোদ সারদা মায়ের ভক্ত ছিলেন। একদিন রাতে নেশার ঝোঁকে মায়ের বাড়ির চলে আসেন। মাও তাকে সাক্ষাৎ দেন। বাকি ভক্তরা রাগ করলে মা তাদের বলেন ছেলের ডাকে সাড়া না দিয়ে পারিনে। সে যেমন ছেলে হোক।’

 

মায়ের এক ভক্ত ছিলো আমজাদ কথা স্মরণ যাকে মা নিজের হাতে তাকে খেতে দিতেন এমনকী খাওয়া শেষে এঁটো থালা পরিষ্কার করতেও তাঁর কোনও দ্বিধা ছিল না। আমজাদের পরিচয় সম্পর্কে মাকে মনে করিয়ে দেওয়ায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার শরৎ যেমন ছেলে, ওই আমজাদও তেমন ছেলে’শরৎ অর্থাৎ স্বামী সারদানন্দ।

 

প্রতিটি মানুষকে নিজের মধ্যে দেবতাজ্ঞানে গ্রহণ করতেন। সাড়া দিয়েছেন সবার ডাকে, এমনকী পশুপাখিদেরও সন্তানস্নেহে আপ্লুত করেছেন। তার অলৌকিক সত্ত্বা ভক্তদের থেকে আড়ালে থাকতো।

এক বার এক সহজ সরল ভক্ত নিজেকে সংযত করে রাখতে না পেরে মাকে সরাসরি প্রশ্ন করলেন, মা, আপনি কি সাক্ষাৎ মা কালী? সারদা দেবী মৃদু হেসে বলেছিলেন – ওই, লোকে বলে কালী’!

 

ভক্তদের কাছে মা সারদা ছিলেন সাক্ষাৎ জগৎজননী। ঠাকুর রামকৃষ্ণর যদি অবতার হন তাহলে মা সারদা ছিলেন ভগবানের লীলা সঙ্গিনী।

 

মা সারদা কে প্রণাম জানিয়ে আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি।ফিরে আসবো ভক্ত এবং ভগবানের পরবর্তী পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – শিবভক্ত বাসুকি নাগ 

ভক্তের ভগবান – শিবভক্ত বাসুকি নাগ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রচলিত আছে, কদ্রু কশ্যপ ঋষির কাছ থেকে আটটি টি পুত্র লাভ করেন। এঁদের নাম অনন্ত, বাসুকী, তক্ষক, কর্কোটক, পদ্ম, মহাপদ্ম, শঙ্খ ও কুলিক। এঁদেরকেই নাগের প্রমুখ অষ্টকুল বলা হয়।শেষনাগ বিষ্ণুর এবং তার ছোট ভাই বাসুকী শিবের প্রধান সেবক হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করেছিলেন।

 

শিব পুরাণ অনুযায়ী নাগলোকের রাজা বাসুকী শিবের পরম ভক্ত ছিলেন এবং এই নাগজাতির লোকেরাই সর্বপ্রথম শিবলিঙ্গের পুজো শুরু করেন।আজকের পর্বে জানাবো কি ভাবে এই পরম ভক্ত তার ভগবানের কণ্ঠে স্থান পেলেন।

 

বাসুকীর বিশেষ অবদান ছিলো সমুদ্র মন্থন এর ক্ষেত্রে আবার কারাগারে জন্ম নেয়া কৃষ্ণ কে যখন পিতা বাসুদেব নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিচ্ছিলেন তখন নদী মধ্যে প্রবল বৃষ্টি পাত থেকে বাসুকি তার বিশাল ফনা দিয়ে শ্রী কৃষ্ণ কে রক্ষা করেছিলেন |

 

ভবিষ্য পুরানে বলা হচ্ছে যে নাগেরাই প্রথম শিব পূজা শুরু করে এবং নাগ রাজা হিসেবে বাসুকি শিবের তপস্যা করেন ও শিব কে তুষ্ট করে বরদান পান যে তিনি শিবের কণ্ঠে স্থান পাবেন ও সারা জীবন শিবের সব থেকে কাছে থেকে তার স্তুতি করবেন |তাই তিনি শিবের গলায় স্থান পান।

 

আরেকটি কাহিনী অনুসারে সমুদ্র মন্থন করে অমৃত সন্ধানের সময়ে বাসুকি রজ্জু হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে ছিলেন ও তার পরবর্তীতে শিব যখন হলা হল পান করেন তখনোও বাসুকি শিবের পাশে থেকে তার প্রতি নিজের অনুগত্য প্রকাশ করেন | বাসুকীর এই ভক্তি দেখে শিব সন্তুষ্ট হন ও বাসুকি কে তার শরীরে আশ্রয় দেন |

 

শিব ও বাসুকি কে নিয়ে আরো একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় | মনে করা হয় শিব ও পার্বতীর বিবাহের সময় যখন শিবের অঙ্গ সজ্জার প্রয়োজন হয় তখন বাসুকি তার কণ্ঠে জড়িয়ে যান | শিব এতে এতটাই খুশি হন যে সদা সর্বদা তিনি বাসুকি কে ওই স্থানে ধারণ করে থাকেন|

 

এনিয়ে আরো একটি মত আছে যেখানে বিশ্বাস করা হয় বাসুকি শিবের ধ্যান করেছিলেন এবং তাঁর ভক্তিতে খুশি হয়ে ভগবান শিব তাঁর কাছে আবির্ভূত হলেন এবং তাঁকে বর চাইতে বললেন।বাসুকি মহাদেবকে নিজের শরীরে স্থান দেয়ার অনুরোধ করেন।শিব এই অনুরোধ মেনে নেন সেই থেকে নাগরাজ বাসুকি সর্বদা তার গলায় জড়িয়ে আছেন।

 

মহাদেব ভালো, মন্দ, পুণ্য, দোষ, বিষ, অমৃত সবই জয় করেছেন। তিনি নির্গুণ তাই তার গলায় নাগ রাজ স্বয়ং বিরাজমান।অর্থাৎ ভক্তের ভক্তি যদি খাঁটি হয় ভগবান তাকে নিজ অঙ্গে ধারণ করতেও দ্বিধা করেন না।

 

আবার এমনই এক ভক্ত এবং তার ভক্তির কথা নিয়ে ফিরে আসবো ভক্তের ভগবানে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।