Home Blog Page 43

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ত্রম্ব্যকেশ্বর মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে লগ্ন কুন্ডলি তে যে কয়েকটি অশুভ গ্রহগত সংযোগ থাকে তার মধ্যে অন্যতম কাল স্বর্প দোষ|মোট বারো প্রকারের কাল স্বর্প দোষ থাকে যার সব গুলোই একেকটা সাপের নামে।আজ যে জ্যোতির্লিঙ্গটি নিয়ে আলোচনা করবো তার সাথে এই কালসর্প দোষের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।

 

পুরান মতে একবার গণেশ মহাদেবের পুজো করেন সেই সময়ে শিবের গলায় থাকা বাসুকি নাগের মনে হয় যে গণেশ তারই পুজো করছেন। তার এই ঔদ্ধত্যের জন্য শিব রেগে গিয়ে তাকে অভিশাপ দেন যে নাগকূল তাদের সব ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।তাই হয়|পরবর্তীতে ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা নাগেরা শিবের কাছে গিয়ে অভিশাপ ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানায়। শিব তখন দয়া বসত তাদের মর্ত্যে গিয়ে তাঁর পুজো করতে বলেন|নাগকুল এই ত্রম্বকেশ্বর মন্দিরে শিব পূজা করে তাদের হারানো গৌরব ফিরে পায়|

 

আরেকটি পৌরাণিক আখ্যান মতে রাহু ও কেতুও এই স্থানে মহাদেবের পুজো করেছিলেন।যেহেতু রাহু এবং কেতু নাগ রূপে গ্রহদের গ্রাস করে কাল সর্প দোষের জন্মদেয় তাই এই স্থানের সাথে জ্যোতিষ শাস্ত্র এবং বিশেষ করে কাল সর্প দোষ খন্ডনের গভীর আধ্যাত্মিক সম্পর্ক স্থাপন হয়েছে।

 

মহা রাষ্ট্রে অবস্থিত বর্তমান মন্দির টি নির্মাণ করিয়েছিলেন পেশোয়া তৃতীয় বালাজি বাজি রাও,1755 থেকে 1786 দীর্ঘ একত্রিশ বছর লেগেছিলো এই মন্দির নির্মাণ সম্পুর্ন হতে|ত্র্যম্বকেশ্বর মন্দিরের পিছনের পাহাড় ব্রহ্মগিরি থেকে উদ্ভূত হয়ে গোদাবরী গুপ্ত ভাবে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে এসে ক্ষীণ আকারে বেরিয়ে আসছে জ্যোতির্লিঙ্গ ত্র্যম্বকেশ্বরের মধ্য থেকে। মন্দির থেকে কিছু দূরে কুশাবর্ত কুণ্ড ও গোমতী ঘাট। কুম্ভপর্বে যে তিনটি স্নান হয়, তার একটি রামতীর্থ রামঘাটে ও অপর দুটি হয় এই কুশাবর্ত তীর্থে। কয়েক বছর আগে আমি নিজে গিয়েছিলাম ত্রম্বকেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন করতে এবং

অভিভূত হয়ে ছিলাম সেই আধ্যাত্মিক পরিবেশ এবং অলৌকিক শক্তির উপস্থিতি উপলব্ধি করে।

 

আজও বহু মানুষ আসেন এই মন্দিরে রাহু কেতুর অশুভ প্রভাব বিশেষ করে কালসর্প দোষ থেকে মুক্তি পেতে।

 

ফিরে আসবো আরো একটি জ্যোতির্লিঙ্গর কথা নিয়ে সঙ্গে থাকবে পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় নানা তথ্য। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – নাগেশ্বর শিব মন্দির

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – নাগেশ্বর শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের পর্বে নাগেশ্বর শিব মন্দির নিয়ে।

এই বিশেষ জ্যোতির্লিঙ্গ টির সঠিক অবস্থান নিয়ে কিছু বিতর্ক বা মতপার্থক্য রয়েছে|যদিও বর্তমানে এই শিব লিঙ্গ ও মন্দির ভারতের গুজরাটের দ্বারকায় অবস্থিত কিন্তু অনেকেই মনে করেন ভারতের উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত যোগেশ্বর শিব লিঙ্গই আসলে জ্যোতির্লিঙ্গ তবে দ্বারকার নাগেশ্বর শিব মন্দিরই জ্যোতির্লিঙ্গের মর্যাদা পায়।

 

এই জ্যোতির্লিঙ্গ সৃষ্টি নিয়ে শিব পুরানে এক সুন্দর পৌরাণিক আখ্যান আছে|এক কালে এই অঞ্চলের শাসক ছিলো দারুক নামে এক অত্যাচারি রাক্ষস|নিজের প্রাধান্য বিস্তারের জন্য সে সবার উপর খুব অত্যাচার করতো|তার রাজ্য বাস করতো সুপ্রিয় নামে এক শিব ভক্ত|একদিন দারুক তাকে বন্দী করে ও অত্যাচার শুরু করে|সুপ্রিয় ভয় না পেয়ে আরাধ্য মহাদেব কে ডাকতে থাকেন|ভক্তর ডাকে সাড়া দিয়ে প্রকট হন মহাদেব ও বধ করেন রাক্ষস দারুককে|এর পর সুপ্রিয়র অনুরোধে এখানেই জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে বাস করতে সম্মত হন মহাদেব|

 

নাগেশ্বর অর্থ্যাৎ নাগেদের ঈশ্বর|দেবী পার্বতীও এই স্থানে নাগেশ্বরী রূপে বিরাজিতা|সারা বছর অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী ভীড় করেন নাগেশ্বর মন্দিরে।জ্যোতির্লিঙ্গ ও সুন্দর শিব মন্দিরটি দর্শন করে নিজেদের ধন্য করেন।

 

অন্যান্য জ্যোতির্লিঙ্গের ন্যায় শিব রাত্রিতে ও কিছু বিশেষ তিথীতে এখানেও বিশেষ পূজা হয় ও সেই উপলক্ষে ব্যাপক জনসমাগম হয়|দুর দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন তাদের মনোস্কামনা নিয়ে|ভক্তদের বিশ্বাস বাবা নাগেশ্বর সকল ভক্তের মনোস্কামনা পূরণ করেন।

 

আজকের জ্যোতির্লিঙ্গ পর্ব এখানেই শেষ করে আজ বিদায় নেবো|দেখা হবে পরের পর্বে। থাকবে অন্য একটি জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে শাস্ত্রীয় আলোচনা।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – সোমনাথ মন্দির

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – সোমনাথ মন্দির

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

ফিরে এলাম দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের এক সম্পূর্ণ নতুন এক পর্ব নিয়ে|আজ লিখবো সোমনাথ মন্দির নিয়ে|

গুজরাটের বেরাবলে অবস্থিত সোমনাথ মন্দির দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম|এর ইতিহাস অতি প্রাচীন ও ঘটনাবহুল|ভারতের জনপ্রিয় তীর্থ ক্ষেত্র গুলির মধ্যে একদম প্রথম সারি তে আছে এই বিশেষ মন্দিরটি|সোমনাথ কে ঘিরে আছে নানা গল্প, ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক ঘটনা আর সব কিছুর উপরে আছে এই তীর্থ ক্ষেত্র কে কেন্দ্র করে অসংখ্য মানুষের বিশ্বাস ও শ্ৰদ্ধা|সোমনাথ শব্দের প্রকৃত অর্থ হলো চন্দ্র দেবতার রক্ষা কর্তা, এই মন্দির চিরন্তন পীঠ নামেও পরিচিত কারন অতীতে একাধিক বার আক্রান্ত হয়েছে এই মন্দির, ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে কিন্তু প্রতিবারই পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে সোমনাথ মন্দির|

কথিত আছে মন্দিরটি খ্রিস্টের জন্মের আগেও বিদ্যমান ছিলো|আরবের শাসক জুনায়েদ, আলাউদ্দিন খিলজি, মামুদ গজনী ও সুলতান মুজাফ্ফর শাহ পর্যায় ক্রমে সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করেন লুঠপাঠ চালান ও ধ্বংস করেন|সোমনাথ মন্দির তবু অক্ষয় ও অমর |সনাতন ধর্মের প্রতীক হয়ে তা আজও স্বমহিমায় বিরাজমান|এথেকে এও প্রমান হয় যে ধ্বংসের থেকে সৃষ্টি বড়ো|বর্তমানে সোমনাথ মন্দির শ্রীসোমনাথ ট্রাস্ট দ্বারা পরিচালিত হয়|

পুরান মতে দক্ষ প্রজাপতি একবার চন্দ্র কে অভিশাপ দিয়েছিলেন এবং সেই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে চন্দ্রদেব শিবের আরাধনা শুরু করেন|তার আরাধনায় তুষ্ট হয়ে শিব প্রকট হন ও চন্দ্র কে অভিশাপ থেকে নিষ্কৃতি দেন|চন্দ্র পরবর্তীতে শিব কে সন্তুষ্ট করার জন্য একটি স্বর্ণ নির্মিত শিব মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন যা সোমনাথ মন্দির নামে খ্যাত|সোমনাথ মন্দিরের শিব সোমেশ্বর মহাদেব নামে পরিচিত |বহুকাল পড়ে শিব ভক্ত রাবন রুপো এবং চন্দন কাঠ দিয়ে এই মন্দির পুনর্নির্মাণ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়|তারও অনেক পড়ে ভীমদেব নামে এক রাজপূত রাজা সোমনাথ মন্দিরের সংস্কার করে পুনর্নির্মাণ করেন|তবে বর্তমান সময়ে আমরা যে মন্দির টি দেখতে পাই তার নির্মাণের রূপকার ভারতের লৌহ পুরুষ সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল|

গুজরাট তথা ভারতের অন্যতম দর্শনীয় স্থান এই জ্যোতির্লিঙ্গ যা দেখতে দেশ বিদেশ থেকে প্রতি বছর অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী ভীড় জমান সোমনাথ প্রাঙ্গনে।

জ্যোতির্লিঙ্গ সোমনাথ নিয়ে আজ এটুকুই
ফিরবো পরের পর্বে অন্য কোনো জ্যোতির্লিঙ্গের কথা নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ সৃষ্টি

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ সৃষ্টি

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ থেকে ধারাবাহিক ভাবে আপনাদের শোনাবো দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের কথা আজকের পর্বে শোনাবো দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ সৃষ্টি হওয়ার পৌরাণিক কাহিনী|

 

কীভাবে সৃষ্টি হল এই ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের, তার নেপথ্যে রয়েছে একটি পৌরাণিক কাহিনি। গল্পটা হল এইরকম। একবার ব্রহ্মা আর বিষ্ণুর মধ্যে জোর লড়াই বাঁধল। বিষ্ণু বললেন আমি শ্রেষ্ঠ আর ব্রহ্মা বললেন আমি। মীমাংসা করতে দুজনে গেলেন শিবের কাছে। শিব তখন স্বর্গ, মর্ত আর পাতাল ফুঁড়ে দেখা দিলেন এক আদি অনন্ত আগুনের স্ফুলিঙ্গ হিসেবে। তিনি ব্রহ্মা আর বিষ্ণুকে বললেন যে এই অগ্নিস্ফুলিঙ্গের শুরু বা শেষ খুঁজে বের করতে পারবে, প্রমাণ হবে সেই শ্রেষ্ঠ।বিষ্ণু শুয়োর বা বরাহের রূপ ধারণ করে নীচের দিকে যেতে শুরু করলেন। আর ব্রহ্মা একটি হংসের রূপ ধারণ করে উপরের দিকে যেতে লাগলেন।বেশ কিছুটা নিচে যাওয়ার পর বিষ্ণু বুঝতে পারলেন এ শিবের ছলনা বৈ আর কিছু না। এই স্ফুলিঙ্গের তল পাওয়া অসম্ভব। ব্রহ্মাও বেশ কিছুটা উপরে যাওয়ার পর এই সত্য বুঝতে পারলেন। অর্থাৎ আদি শিব লিঙ্গর আদি বা অন্ত নেই তা অনন্ত এবং শাস্বত। তার বিস্তার সমগ্র ব্রম্ভান্ড জুড়ে।

 

শাস্ত্রে আছে এই জ্যোতির্ময় লিঙ্গই মোট ৬৪টি জায়গায় ফুঁড়ে বেরিয়েছিল। যার মধ্যে ১২টি অত্যন্ত পবিত্র এবং আবিষ্কৃত এই বারোটি স্থানে রয়েছে বারোটি শিব মন্দির এবং এগুলোই হল দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ।

 

এই দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ গুলি হলো যথাক্রমে

 

১। গুজরাতের সোমনাথ মন্দির:

 

কথায় বলে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের পরিক্রমা শুরু করলে এখান থেকেই করা উচিৎ।

 

২। গুজরাতের নাগেশ্বর:

 

জামনগরে অবস্থিত এই মন্দিরের দেবতা নাগেশ্বরের উল্লেখ আছে শিবপুরাণে।

 

৩। মধ্যপ্রদেশের ওঙ্কারেশ্বর:

 

নর্মদা নদীর একটি দ্বীপে অবস্থিত এই মন্দির।

 

৪। মধ্যপ্রদেশের মহাকালেশ্বর:

 

প্রাচীন শহর উজ্জয়নীতে অবস্থিত এই মন্দির। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে এটা একমাত্র লিঙ্গ যার মুখ দক্ষিণ দিকে।

 

৫। মহারাষ্ট্রের ভীমাশঙ্কর:

 

ভীমাশঙ্করের উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক আছে। কারণ এই নামে উড়িষ্যা, গুয়াহাটি ও উত্তরাখণ্ডেও মন্দির আছে।

 

৬। মহারাষ্ট্রের ত্র্যম্বকেশ্বর:

 

গোদাবরী নদীর উৎপত্তির সঙ্গে জড়িত এই মন্দির অবস্থিত নাসিক জেলায়।

 

৭। মহারাষ্ট্রের গৃশ্নেস্বর:

 

এই মন্দিরের উল্লেখ আছে শিব পুরাণে।

 

৮। বেনারসের কাশী বিশ্বনাথ:

 

বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন শহরে অবস্থিত এই মন্দির আছে গঙ্গার পশ্চিম দিকে।

 

৯। ঝাড়খণ্ডের বৈদ্যনাথ:

 

দেওঘরে অবস্থিত এই মন্দির খুব জনপ্রিয়। কথিত আছে শিবভক্ত রাবণের চিকিৎসা করেছিলেন মহাদেব। তিনি হয়েছিলেন বৈদ্য। আর এখান থেকেই বৈদ্যনাথ নামের উৎপত্তি।

 

১০। উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ:

 

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় এটি। একদা ঘটে যাওয়া মহাপ্রলয়ও পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের এখানে যাওয়া থেকে নিরস্ত করতে পারিনি। বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে এটি সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত এবং এটি শিবের বাসস্থান কৈলাস পর্বতের খুব কাছে। কেদারনাথ চারধামের অন্যতম।

 

১১। অন্ধ্রপ্রদেশের মল্লিকার্জুনস্বামী:

 

কুরনুল জেলার শ্রীশৈলম অঞ্চলে এই মন্দির অবস্থিত। এখানে শিবের সঙ্গে রয়েছে পার্বতীও। বাবা মাকে প্রদক্ষিণ করে গণেশের বিশ্ব ভ্রমণের গল্প জড়িত আছে এই মন্দিরের সঙ্গে।

 

১২। তামিলনাড়ুর রামেশ্বরম:

 

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে এটি সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত।

 

আগামী পর্ব গুলিতে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ গুলি নিয়ে

বিস্তারিত আলোচনা করবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব মাহাত্ম – কালভৈরব রূপ 

শিব মাহাত্ম – কালভৈরব রূপ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিবের বিভিন্ন রূপগুলির মধ্যে

অন্যতম কাল ভৈরব যা শিবের অংশ বিশেষ।

আজ এই এই রূপ নিয়ে লিখবো।

 

আগের পর্বে বলেছিলাম সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য কালভৈরবকে সৃষ্টি করেছিলেন করেছিলেন শিব। অর্থ্যাৎ শিবের ক্রোধ থেকে জন্ম কাল ভৈরবের আর সেই কালভৈরবই ব্রহ্মার একটি মাথা কেটে নিয়েছিল।

 

কিন্তু তারপর সেই ছিন্ন মস্তক ছুঁড়ে ফেলতে চাইলেও কালভৈরনের হাতেই আটকে ছিল সেটি।সেই অবস্থায় কিছু কাল ভ্রাম্যমান অবস্থায় কাটান তিনি। এই কপাল হাতে থাকার কারনেই শিবের আরেক নাম হয় কাপালিক।

 

এদিকে ব্রহ্ম হত্যার পাপ অন্য দিকে এই অসহায় অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে কপাল ব্রত পালন করতে হয় তাঁকে।তাতেও তেমন ফল হয়না, অবশেষে কাশীতে আসার পর গঙ্গা স্নান করে পাপ মুক্ত হন শিব এবং সেই কপাল থেকে মুক্ত হন তিনি তার পর শিব তার কাল ভৈরব রূপকে কে নিষ্ঠা সহকারে কাশী তেই স্থাপন করেন এবং কাশীকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেন কালভৈরবকে। তাই শিব হলেন কাশীর রাজা আর কালভৈরব তাঁর কোতোয়াল। তিনিই আশীর্বাদ করেন, তিনিই অভিশাপ দেন। এমনকি স্বয়ং যমরাজেরও নাকি কাশীবাসীকে শাস্তি দেওয়ার কোনও অধিকার নেই।কাশী তে কাল ভৈরব ই শেষ কথা |

 

কাশীর কালভৈরব মন্দির ঘিরে রয়েছে অসংখ্য রহস্যময় আচার ও প্রথা,কথিত আছে কাল ভৈরব এর অনুমতি ছাড়া কাশী প্রবেশ বা এখানে থাকা সম্ভব নয়|

 

অনেকের কাছেই কালভৈরব শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাফল্যের দেবতা, তার বাহন কুকুর, অনেকে বিশ্বাস করেন গভীর রাতে কোথাও যাত্রা করার সময় কালভৈরবের নাম নিলে নাকি তিনি সব বিপদ কাটিয়ে দেন।হিন্দু পুরাণ মতে, কালভৈরব কাল বা সময়ের শাসক। প্রতিটি হিন্দু মন্দিরে কালভৈরবের মূর্তি রয়েছে। এবং তিনি সেই মন্দিরের রক্ষক হিসেবে বিবেচিত হন।তবে সেই ভৈরব মূর্তিও অনেক প্রকার ভেদ আছে।

প্রতি শিব মন্দিরে কালভৈরব এক বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ওই মন্দিরের চাবির রক্ষক বলে বলে মনে করা হয়|

 

চলতে থাকবে ধারাবাহিক শাস্ত্রীয় আলোচনা।

ফিরে আসবো দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে

আগামী পর্ব গুলিতে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

শিব মাহাত্ম – আদি শিব লিঙ্গর আবির্ভাব

শিব মাহাত্ম – আদি শিব লিঙ্গর আবির্ভাব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিব রাত্রি মূলত আদি শিব লিঙ্গের আবির্ভাব তিথি। আজকের পর্বে সেই আদি শিব লিঙ্গের আবির্ভাব নিয়ে লিখবো।

 

শিব পূরাণ মতে এক সময় ভগবান বিষ্ণু এবং ব্রহ্মার মধ্যে কোনো এক কারনে ভিষণ বিবাদ দেখা দিয়েছিল। লড়াই প্রায় বাঁধে বাঁধে। সেই সময় হঠাৎ করেই আগুনে জ্বলতে থাকা একটা কালো স্তম্ভ দুই দেবাতার মাঝে আর্বিভাব হয়। এই স্তম্ভ হঠাৎ করে এল কীভাবে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্রহ্মা ঠিক করেন পিলারের উপরের দিকে গিয়ে দেখবেন কোথায় এর শেষ, আর বিষ্ণু দেব যাবেন নিচের দিকে।

 

সেই মতো দুজনে বেরিয়ে পরলেন ব্রহ্মা হংসের রূপ নিলেন ও বিষ্ণু বরাহ হলেন |কিন্তু কোটি বছর কেটে যাওয়ার পরেও কেউই স্তম্ভের শুরু অথবা শেষ প্রান্ত খুঁজে উঠতে পারলেন না। অবশেষ বিষ্ণু দেব ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। কারণ তাঁর মনে হয়েছিল এই কালো স্তম্ভ হল অনাদি এবং অনন্ত। অর্থাৎ এর না আছে শুরু, না শেষ। কিন্ত অন্যদিকে পিলার উপরের দিকে চলতে চলতে ব্রহ্মা দেখতে পেলেন একটা কেতকী ফুল পরে রয়েছে। কোটি বছরে চলে ক্লান্ত ব্রহ্মা দেব ঠিক করলেন কিছু সময় ওকটু জিরিয়ে নেবেন এবং এমন আজব স্থানে কেতকী এল কীভাবে তাও জেনে নেবেন। সেই মতো তিনি কেতকীকে প্রশ্ন করাতে জবাব এল, “আমি ভগবান শিবের মাথায় ছিলাম। এক সময় আমার মনে হল আমার থেকে শক্তিশালী আর কেউ না, কারণ আমার স্থান দেবাদিদেবর মাথায়।” আর ঠিক সে সময়ই শিব ঠাকুর মাথা দোলাতে কেতকি ফুল পরে গেলেন সর্বশক্তিমানের মাথা থেকে। সেই থেকেই এই স্থানে পরে রয়েছে কেতকী ফুল। ঘটনাটা শুনতে শুনতেই ব্রহ্মার মাথায় একটা বুদ্ধি এসে গেলো । তিনি কেতকীকে বললেন ফুলটি যদি তাঁর সঙ্গে যায় এবং বিষ্ণুর কাছে গিয়ে বলে যে ব্রহ্মা এই পিলারের শেষ প্রান্ত খুঁজে পেয়েছেন, তাহলে ব্রহ্মা দেব স্বয়ং কেতকীকে আশীর্বাদ করবেন।

 

ব্রহ্মার কথা শুনে ফুলটি রাজি হয়ে গেলে এবং বিষ্ণুর কাছে গিয়ে বললো, কেতকী সাক্ষী ছিল যখন ব্রহ্মা পিলারের শেষ প্রান্তে পৌঁছে ছিলেন। কিন্তু বিষ্ণু দেব নিজ অসফলতা মেনে নিলেন। আর ঠিক তখনই দেবাদিদেবের আর্বিভাব ঘটল। ব্রহ্মা এবং কেতকীকে মিথ্যা কথা বলতে দেখে দেবাদিদেব এতটাই রেগে গেলেন যে ভৈরব অবতারে এসে ব্রহ্মার পঞ্চম মাথা কেটেই ফেললেন। আর কেতকীকেও চরম শাস্তি দিলেন। আর সত্যের সাথে থাকার জন্য ভগবান বিষ্ণুকে দু হাত ভরে আশীর্বাদ করলেন দেবাবিদেব।

 

পরবর্তীপর্বে আপনাদের শিবের সেই কাল ভৈরব রূপের কথা বলবো যে রূপে তিনি ব্রহ্মার মাথা ছিন্ন করেছিলেন। সঙ্গে থাকুন। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

মহা শিবরাত্রির শুভেচ্ছা

মহা শিবরাত্রির শুভেচ্ছা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

তিথি অনুসারে আজ মহা শিব রাত্রি। দেবাদিদেব মহাদেবকে জানাই প্রণাম এবং প্রতিটি শিব ভক্তকে জানাই মহা শিব রাত্রির শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।

শিবরাত্রি’ কথাটা দুটি শব্দ থেকে এসেছে। ‘শিব’ ও ‘রাত্রি’, যার অর্থ শিবের জন্য রাত্রী। শিবরাত্রির সঙ্গে জড়িত আছে নানা পৌরাণিক কিংবদন্তী।

পুরাণ মতে দেবী পার্বতীর সঙ্গে এদিন দেবাদিদেব মহাদেবের বিবাহ হয়।শিব রাত্রির এই তিথিতেই প্রকট হয়েছিলো আদি শিব লিঙ্গ।  যজ্ঞের মধ্যে যেমন অশ্বমেধ যজ্ঞ, তীর্থের মধ্যে যেমন গঙ্গা তেমনই পুরাণ অনুযায়ী ব্রতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হল শিব চতুর্দশীর ব্রত। তাই শিবরাত্রির ব্রত পালন করলে ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ- এই চতুর্বিধ ফল লাভ হয়।

দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনা করার সর্বশ্রেষ্ঠ দিন মহা শিবরাত্রি এদিন ভক্তি মনে পুজো করলে বাবা ভোলেনাথের ভক্তদের মনবাঞ্ছা পূরণ হয়।মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে শিবরাত্রি পালন করা হয়।

সবাইকে আরো একবার জানাই শিব রাত্রিরশুভেচ্ছা|ফিরে আসবো দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন।হর হর মহাদেব|

আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে বিশেষ পর্ব 

আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে বিশেষ পর্ব

 

শ্রী শ্রী বামা ক্ষ্যাপার অলৌকিক কীর্তি

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিব চতুর্দশীতে অবির্ভুত হয়ে ছিলেন তারা পীঠের বামা ক্ষ্যাপা। তাই তার আবির্ভাব দিবস বেশ ঘটা করে পালন করা হয় এই তিথিতে। আজকের পর্বে বামা ক্ষেপার অলৌকিক জীবন প্রসঙ্গে

আলোচনা করবো।

 

তন্ত্র সাধনায় যে উচ্চতায় বামা ক্ষ্যাপা পৌঁছে ছিলেন তা মা তারার আশীর্বাদ ছাড়া অসম্ভব।

বামা যখন তারা পীঠে অবাধ বিচরণ করছেন তখন প্রায় প্রতিদিনই নানা অলৌকিক কান্ড ঘটাতেন তিনি।কখনো বামা চরণ শ্মশানে জ্বলন্ত চিতার কাছে বসে থাকতেন, কখনো বাতাসে কথা বলতেন। তার অদ্ভুত আচরণ বা ক্ষ্যাপামির কারণে তার নাম বামাচরণ থেকে বামাক্ষ্যাপা হয়। খেপা মানে পাগল। অর্থাৎ গ্রামবাসীরা তাকে অর্ধ পাগল মনে করত। আসলে তিনি ছিলেন অতি উচ্চ মানের সাধক এই ক্ষ্যাপামি ছিলো তার সত্ত্বার বাইরের আবরণ।

 

বামা ক্ষ্যাপার সঙ্গে তারা মায়ের সম্পর্ক মানে মা ছেলের সম্পর্ক আর তারা পীঠ বামা ক্ষ্যাপার কাছে মায়ের কোলের মতো। বামা তারা মাকে বলতেন বড়মার এবং মা মৌলাক্ষীকে বলতেন ছোটমা। শুধু বামা নন অনেক সাধকই মনে করেন এই দুই দেবী আসলে দুই বোন। যাই ফিরে আসি বামা ক্ষ্যাপার কথায়।

 

তারা পীঠে আসার পর শুরুর দিন গুলিতে বামাক্ষ্যাপার কাজগুলো ছিল অদ্ভুত। কখনো কখনো সারাদিন পূজা করতেন। কখনও কখনও তিনি দু তিন দিন পূজা করেন না। কখনো দেবীকে মালা পরাতেন আবার কখনো নিজে পরতেন।কখনো নিজে খেয়ে ভোগ দিতে যাচ্ছেন আবার কখনো ভোগ তুলে নিজে খেয়ে নিচ্ছেন। সাধনার এই পর্যায়কে শাস্ত্রীয় পূজা পদ্ধতির সাথে বাকি পান্ডারা মেলাতে পারতেন না। তারা ভাবতেন বামা উন্মাদ। অশাস্ত্রীয় আচরণ করছেন।যদিও পরে তাদের ভুল ভাঙে।

 

একদিন খবর রটে যায় বামা ভোগ নিবেদন করার আগেই দেবীর প্রসাদ খেয়েছেন এবং এতে ঘোর পাপ হয়েছে।দেবী রাগান্বিত হবেন, সারা গ্রামকে তার ক্রোধ বহন করতে হবে তাই গ্রামবাসীরা বামাচরণকে কঠোরভাবে মারধর করে। তাকে শ্মশানে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। তার মন্দিরে প্রবেশ কার্যত নিষিদ্ধ ঘোষণা হয়।এতে বামার ভীষণ অভিমান হয় তার বড়মার প্রতি।

 

সেই রাতেই রানীর স্বপ্নে দেখা দিল মা তারা

রাগান্বিত মা রাণীকে ভর্ৎসনা করলো-তোমার পুরোহিতরা আমার ছেলেকে আঘাত করেছে। আমি তোমার মন্দির ছেড়ে চলে যাচ্ছি। এখন তোমাকে ও তোমার রাজ্যকে আমার ক্রোধ সইতে হবে, তুমি যদি তা এড়াতে চাও, কাল আমার ছেলেকে ফিরিয়ে এনে মন্দিরে পূজার দায়িত্ব দাও, নইলে পরিণতি ভোগ করতে প্রস্তুত থাকো।

 

আতঙ্কে সারা রাত জেগে কাটালানে রানীমা ভোরে তিনি মন্দিরে ছুটে গেলেন। সব শুনলেন তারপর সেই সব পান্ডা দের তিরস্কার করলেন এবং তাদের মন্দিরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করলেন। তারপর তার ভৃত্যদের আদেশ দিলেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বামাখেপাকে নিয়ে আসতে। বামার কিছুক্ষনের মধ্যেই প্রশমিত হলো। তিনি তারাপীঠ মন্দিরে যেতে রাজি হলেন। সেই দিন রানীমা আদেশ জারি করেন এই মন্দিরের পুরোহিত বামাক্ষ্যাপা। সে স্বাধীন। তার পথে কেউ আসলে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।শুধু তাই না তারাপীঠে আগে বামা ক্ষ্যাপাকে ভোগ নিবেদন হবে তারপর তারা মাকে ভোগ দেয়া হবে।অর্থাৎ সন্তানকে খাইয়ে তারপর মা খাবেন। এই রীতি আজও একই ভাবে চলছে।

 

বামা ক্ষ্যাপার আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে তার অলৌকিক জীবন এবং মহিমা নিয়ে

ধারাবাহিক এই আলোচনা চলতে থাকবে আগামী পর্বেও। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – বামাক্ষ্যাপার আবির্ভাব তিথি

বিশেষ পর্ব – বামাক্ষ্যাপার আবির্ভাব তিথি

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলার ১২৪৪ সনে তারাপুরের কাছে আটলা গ্রামে সর্বানন্দ চট্টোপাধ্যায় এবং রাজকুমারী দেবীর সংসারে বামা চরণ নামে এই অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন শিশুর জন্ম হয়।সেদিন ছিলো শিব চতুদর্শীর দিন।অর্থাৎ শিব চতুর্দশী বামা ক্ষেপার জন্ম তিথি। সেই উপলক্ষে আজ এই মহান মাতৃ সাধককে নিয়ে লিখবো।

বামচরণ এর আরো এক ভাই এবং চারজন বোন ছিলেন কনিষ্ঠ ভাই ছিলেন রামচন্দ্র এবং চার বোনের নাম যথাক্রমে জয়কালী, দূর্গা, দ্রবময়ী এবং সুন্দরী।বাকিরা গৃহস্ত জীবনে সাধারণ জীবন যাপন করলেও শৈশব থেকে বামা ছিলেন ব্যতিক্রমী। অন্তরমুখী এবং আধ্যাত্মিক প্রকৃতির এই ছেলেই পরবর্তীতে তারাপীঠে গিয়ে আশ্রয় নেন। ধীরে ধীরে মহান সাধক কৈলাশপতির সান্নিধ্যে এবং মাতৃ সাধনা করে হয়ে ওঠেন জগৎ বিখ্যাত বামা ক্ষ্যাপা।

স্বয়ং তারা মা তাকে দেখা দিয়ে আশীর্বাদে করেছিলেন।সেটি ছিল ভাদ্রপদ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি।ভগবতী তারার সিদ্ধির জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধ মুহুর্ত। তখন রাতের সময় বামাখেপা জ্বলন্ত চিতার পাশে শ্মশানে বসে ছিল, যখন নীল আকাশ থেকে আলো ফুটে চারদিকে আলো ছড়িয়ে পড়ে।
এই আলোকে বামাচরণ মা তারার দর্শন পেয়েছিলেন। কোমরে বাঘের চামড়া পরা! এক হাতে অস্ত্র।এক হাতে মাথার খুলি, এক হাতে নীল পদ্ম ফুল, এক হাতে খড়গ। সেই দিন মা তারা বামার মাথায় হাত রাখাতে বামাক্ষ্যাপা সেখানে সমাহিত হয়। সমাধি অবস্থায় তিনি তিন দিন তিন রাত শ্মশানে অবস্থান করেন। তিন দিন পর জ্ঞান ফেরে এবং জ্ঞান ফেরার সাথে সাথে বামা চিৎকার করে এদিক ওদিক দৌড়াতে থাকে। গ্রামবাসীরা নিশ্চিত হয় যে বামা সম্পূর্ণ পাগল হয়ে গেছে। বামার এই অবস্থা একমাস ধরে চলে বলে শোনা যায়। তারপর ধীরে কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায়
ফিরে আসেন বামা ক্ষ্যাপা।

বামা ক্ষেপার অসংখ্য ভক্ত অনুরাগীরা এই শিব চতুর্দশীর সময়ে তারাপীঠে জমা হন কারন শিবচতুর্দশী তিথিতে বামাক্ষেপার আবির্ভাব তিথি পালন শুরু হয়। চারদিন ধরে চলে উৎসব। আটলা গ্রামে বসে মেলা এবং বামা ক্ষ্যাপার জন্মভিটেয় হয় চণ্ডীপাঠ।দ্বারকা নদীর জলে স্নান করানো হয় বামা ক্ষ্যাপার মূর্তি। বিশেষ পুজো এবং হোম যজ্ঞে অংশ নেন বহু দর্শণার্থী।

তার শৈশব থেকে কৈশোর এবং পরবর্তীতে জীবনের শেষ দিন অবধি নানা বিধ অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে তারাপীঠে। আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে দুটি পর্বে বামা ক্ষেপার অলৌকিক জীবন প্রসঙ্গে আলোচনা করবো।ফিরে আসবো
আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব তীর্থ – পঞ্চমুখী শিব

শিব তীর্থ – পঞ্চমুখী শিব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরুলিয়ায় পিঁড়রা গ্রাম সংলগ্ন কংসাবতী

নদীর উত্তরপাড়ে অবস্থিত ‘বাবা পঞ্চমুখী ধাম’।

শিবের একটি ব্যতিক্রমী রূপ দেখতে পাওয়া যায়। পুজো পদ্ধতিও একটু আলাদা।আজকের পর্বে এই শিব মন্দির প্রসঙ্গে লিখবো।

 

শাস্ত্রে পঞ্চমুখি শিব কে পাঁচটি তত্ত্বর প্রতীক রূপে দেখা হয় আবার অনেকের কাছে পঞ্চমুখি সদাশিব

শিবের পঞ্চাক্ষরি মন্ত্রের প্রতিনিধিত্ব করছে।শিবের এই রূপকে পঞ্চানন্দ ও বলা হয়। প্রতিটি মুখের রয়েছে নিজস্ব নাম। নামগুলি যথাক্রমে ইশানা, তৎপুরুষ,অঘোর,বাম দেব, ব্রম্হা এবং সদ্যজাত।

 

শোনা যায় মহাভারতের যুগে পান্ডবদের সময়কাল থেকে এই মন্দিরের অস্তিত্ব রয়েছে । এই মন্দিরের সঠিক বয়স সম্বন্ধে কারুরই কোনো ধারণা নেই। এই মন্দিরে বাসস্থান রয়েছে চতুর্মুখী একটি শিবলিঙ্গের কিন্তু এখানে শিব পূজিত হন পঞ্চমুখী রূপে কারণ শিবের পঞ্চম তম মুখটি পুরোহিত নিজের মুখ হিসাবে পরিকল্পনা করেই পূজা করে থাকেন।যুগ যুগ ধরে চলে আসছে

এই প্রথা।

 

হিন্দু সনাতন ধর্মে একাধিক দেব দেবীর পুজোর প্রচলন থাকলেও মানুষের মধ্যে ভগবান বসবাস করেন এমনটাই বিশ্বাস রয়েছে। মানুষের মধ্যে যে সত্যিই যে ঈশ্বর বিরাজমান সেই তত্বকে এই মন্দিরে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে তাই শিব মূর্তির মধ্যে নিজের প্রতিচ্ছবিকে কল্পনা করে পুজো করেন পুরোহিত। ভক্ত ও ভগবান এই ভাবে এখানে মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। এমন টা সম্ভবত বাংলা তথা দেশের আর কোনো শিব মন্দিরে দেখা যায়না।

 

সারা বছর দর্শণার্থীরা আসেন তবে চৈত্র মাস এবং শ্রাবন মাসে বহু দুর দূরান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম হয় এই মন্দিরে।এছাড়া শিব রাত্রিতে বিশেষ পুজো এবং জলাভিষেক হয় ভক্তদের বিশ্বাস বাবা পঞ্চমুখী শিব ভক্তদের সমস্ত মনোবাসনা পূরণ করে থাকেন। তিনি কাউকেই খালি হাতে ফেরান না তিনি পরম দয়াময়।

 

ফিরে আসবো শিব তীর্থ নিয়ে আগামী পর্বে এখনো বাংলার বহু প্রাচীন শিব মন্দির নিয়ে আলোচনা বাকি আছে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।