আজ কালী কথার এই পর্বে লিখবো কালী পুজোর বিশেষ করে তন্ত্র মতে পুজোর একটি অঙ্গ বলি নিয়ে, অনেকেই মনে করেন কালী পুজোর সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে, বলী প্রথা,এই চিন্তা ধারা ঠিক কি ভুল এই বিতর্কও বহু দিনের|সত্য যুগে বৈদিক আচার সম্পন্ন শুদ্ধ ব্রাহ্মনগণ যজ্ঞে বৃদ্ধ পশু আহুতি দিয়ে তত্ক্ষণাত্ মন্ত্রযোগে পশুর উন্নত নবজীবন দান করবার যথেষ্ঠ ক্ষমতা তাদের ছিল ।কিন্তু কলিযুগে বৈদিক আচারভ্রষ্ট ব্রাহ্মনদের সে ক্ষমতাই নেই । ভগবান শ্রীবিষ্ণুর অবতার বুদ্ধদেব জগতে পশুবলি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন একটি সময়ে|শ্রীমদ্ভাগবত পঞ্চম, ষষ্ঠ ও একত্রিশ শ্লোকে বলা হয়েছে -“যারা পশুবলি দিয়ে ভৈরব বা ভদ্রাকালী প্রভৃতি দেবদেবীর পূজা করে , হিংসা কবলিত সেই পশু যমালয়ে রাক্ষস হয়ে ঘাতকের মতো সুতীক্ষ্ন অস্ত্র দিয়ে তাদের বধ করে|বৈষ্ণব ঘরানায় পশু বলী বা রক্ত পাতের কোনো স্থান নেই কিন্তু তন্ত্রে আছে|আর কালী পুজো হয় তন্ত্র মতে|বেলুড় মঠে দূর্গা পূজার সূচনা কালে স্বামী বিবেকানন্দ চেয়ে ছিলেন পশু বলী দিতে কিন্তু মা সারদা বুঝিয়ে তাকে এই কাজ থেকে বিরত করেন অনেকেই মনে করেন আসলে বলী বা স্যাক্রিফাইস এর অর্থ হলো নিজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সড় রিপুর উপর জয় পাওয়া|বলীর সপক্ষে যারা তারা বলেন তন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাচার বলী এবং বলী প্রদত্ত পশু তার জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে মোক্ষ লাভ করে যা তার কাছে আশীর্বাদ স্বরূপ এতে দুক্ষের কোনো কারন নেই|তবে বাংলার কালী পুজোয় বলীর ইতিহাস অতি প্রাচীন|এককালে ডাকাত রা নর বলী পয্যন্ত দিতো এবং বলী দিয়ে দেবীকে সন্তুষ্ট করে ডাকাতি করতে যেতো, রঘু ডাকাত, বিশে ডাকাত, চিতে ডাকাত এদের সবার পুজো তেই বলী হতো|বনেদী বাড়ির পুজো গুলোতেও বলী হতো|এখন অধিকাংশ জায়গায় থেকে বলী লুপ্ত হয়েছে, কোথাও কোথাও কুমড়ো বা আখ বলী দিয়ে নিয়ম রক্ষা করা হয়|আসন্ন দীপান্বিতা অমাবস্যায় আমি থাকছি তারাপীঠে, হবে বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও বহু মানুষের দোষ খণ্ডন|সরাসরি সম্প্রচার হবে সোশ্যাল মিডিয়ায়|আপনিও চাইলে অংশগ্রহণ করতে পারেন, নিজের জীবনের গ্রহগত কুপ্রভাব কাটিয়ে সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন|যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কালী কথা
পর্ব পাঁচ
সনাতন ধর্মে শক্তির দেবী হিসাবেই কালী পূজিত হন। এই কালী শব্দের ও অনেক অর্থ,কাল-কে যদি আলাদা করে নেওয়া হয় তাহলে কাল-এর একাধিক অর্থ বের হয়। কাল মানে সময়, আবার কাল তথা কৃষ্ণবর্ণ। কাল-এর অর্থ-এ লুকিয়ে আছে সংহার- বা মৃত্যু ভাবনাতেও। কালীকে কাল অর্থাৎ সময়ের জন্মদাত্রী বলা যেতে পারে, আবার পালনকর্ত্রী এবং প্রলয়কারিণী নিয়ন্ত্রক বলা হয়। এবং সেই কারণেই দেবীর নাম কাল যুক্ত ঈ-কালী। সনাতন ধর্মে ঈ-কারের সৃষ্টি ও শব্দোচ্চারণ-কে উল্লেখ করা হয়েছে ঈশ্বরী বা সগুণ ও নিগুর্ণ ব্রহ্মকে উপলদ্ধি করার জন্য। আবার শ্রীশ্রী চণ্ডীতে উল্লেখ মেলে যে, ‘ইয়া দেবী সর্বভুতেষু চেতনেত্যাবিধীয়তে, নমস্তসৈ, নমস্তসৈ নমো নমোঃহ।’ এই কারণে অনেকেই কালী-কে ক্রোধাম্বিতা, রণরঙ্গিনী বা করালবদনা বলেও অভিহিত করে থাকেন।
কালী পুজোর সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে তন্ত্র শাস্ত্রের, তন্ত্র সাধনায় তিনি অন্যতম আরাধ্যা দেবী এই শক্তি পূজায় যে পঞ্চমকার যথা- মদ্য-মাংস-মৎস্য-মুদ্রা-মৈথুন এর কথা পাই তার অর্থ লোকনাথ বসু তাঁর হিন্দুধর্ম মর্ম গ্রন্থে লিখেছেন, পঞ্চ ম কারের প্রথমটি অর্থাৎ মদ কেবল এক পানীয় নয়। তা আসলে ব্রহ্মরন্ধ্র থেকে ক্ষরিত অমৃতধারা বা সাক্ষাৎ আনন্দ।
কালিকা উপনিষদও মদ্য বা কারণবারির এই অন্তর্নিহিত অর্থের দিকেই জোর দিয়েছে। তার নবম শ্লোকে বলা হয়েছে, পঞ্চমকারের বেদসম্মত আধ্যাত্মিক অর্থ বুঝে যিনি দেবীরর পূজা করবেন, তিনিই সতত ভজনশীল, তিনিই ভক্ত।
তন্ত্রসাধনার মাধ্যমে কুলকুণ্ডলিনী জাগ্রত হলে খুলে যায় মস্তিষ্কের উপরিতল বা ব্রহ্মরন্ধ্র। তখন যে আনন্দধারা প্রবহমান হয়, তাই আসলে মদ্য বা কারণ! আবার সাধকজীবন ও দশমহাবিদ্যা গ্রন্থে তারাপ্রণব ব্রহ্মচারীর মত, ‘মা মা’ বলতে বলতে যখন ভক্তি নেশার মতো থিতু হবে অন্তরে, তখন সেই মাদকতাকেই বলতে হবে মদ্য! তন্ত্রের আরো অনেক তত্ত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে যা নিয়ে আগামী দিনে আলোচনা করা যায়|
দীপান্বিতা অমাবস্যার তিথিগত গুরুত্ব অপরিসীম, বিশেষত গ্রহ দোষ খণ্ডন, তন্ত্রমতে নানা বিধ সমস্যার সমাধানের জন্যে এই তিথি শ্রেষ্ঠ|তাই যুগ যুগ ধরে জ্যোতিষীরা, তান্ত্রিকরা এই তিথিতে ছুটে আসেন তারাপীঠে, কামাখ্যায়|এবছর আমিও থাকছি তারাপীঠে|আপনারা যোগাযোগ করতে পারেন নিজেদের জীবনের সমস্যা নিয়ে|শুধু একটি ফোন করতে হবে উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কালী কথা
পর্ব চার
দেবী কালিকা বা কালীর সবচেয়ে জনপ্রিয় মূর্তিতে দেবীকে দিগম্বরী রূপে দেখা যায়। দেবীর এই মূর্তি অনেকের কাছে কৌতুহলের কারণ, অনেকের কাছেই কালী মূর্তি এক রহস্য, সেক্ষেত্রে এই দেবীরূপের প্রকৃত তাৎপর্য জানা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।আজ কালী কথার এই পর্বে দেবী মূর্তির কয়েকটি বিষয় নিয়ে ব্যাখ্যা করবো|
দেবীর কেশরাশি উন্মুক্ত, তাঁর এই মুক্ত কেশপাশ তাঁর বৈরাগ্যের প্রতীক। তিনি জ্ঞানের দ্বারা লৌকিক মায়ার বন্ধন ছেদন করেছেন। তাই তিনি চিরবৈরাগ্যময়ী।
কখনও দেবীকে গাঢ় নীল বর্ণেও কল্পনা করা হয়। তিনি গাঢ় নীল আকাশের মতোই অসীম। তাঁর নীল গাত্রবর্ণ সেই গগনসম অসীমতার ইঙ্গিতবাহী।
তার দিগম্বরী রূপের ও কারন আছে, তিনি বিশ্বব্যাপী শক্তির প্রতীক। তিনি অসীম। এই চিরশক্তিকে আবৃত করে এমন সাধ্য কোন বস্ত্রের রয়েছে! দেবী তাই দিগম্বরী।
দেবীর গলায় রয়েছে মোট ৫০টি মুণ্ডের মালা। এই মুণ্ডগুলি ৫০টি বর্ণ বা বীজমন্ত্রের প্রতীক। এই বীজমন্ত্রই সৃষ্টির উৎস।দেবী নিজে শব্দব্রহ্মরূপিনী।দেবীর কোমরের কাটা হাত গুলি কর্ম ও কর্ম ফলের ইঙ্গিত দেয়|
দেবী কালী কে নিয়ে এখনো অনেক কথা বলার আছে, দীপান্বিতা অমাবস্যা ও তন্ত্র শাস্ত্র নিয়েও লিখবো আগামী পর্ব গুলিতে|কিছু দিন পরেই দীপাবলিতে উপস্থিত থাকবো তারাপীঠ মহাশ্মশানে, দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে হবে বিশেষ পুজো ও গ্রহদোষের প্রতিকার,সরাসরি সম্প্রচার ও হবে যেমন হয়|নিজের সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন নির্দ্বিধায়|পোস্টে নাম্বার উল্লেখিত আছে ফোন করে সরাসরি কথা বলুন|ধন্যবাদ|
কালী কথা
পর্ব তিন
দীপান্বিতা অমাবস্যায় আমাদের ঘরে ঘরে পূজিতা হবেন দেবী কালী, এই দেবী কালীর পায়ের তলায় থাকেন দেবাদিদেব মহাদেবে|কিন্তু কেনো এই অবস্থান এবং কেনই বা এই রূপে দেবীকে আমরা পুজো করি সেই কোথায় বলবো কালী কথার এই পর্বে|
অসুরদের হারানোর পর প্রবল বিজয়নৃত্য শুরু করেন কালী। অসুরের ধরহীন মুণ্ড দিয়ে বানান কোমড়বন্ধ ও গলার মালা। কালীর উন্মাদ নাচে স্বর্গে তখন ত্রাহি-ত্রাহি রব। দেবতারা ফের ছুটলেন মহাদেবের কাছে। কারণ কালীর নৃত্যে সৃষ্টির লয় ধ্বংস হওয়ার পরিস্থিতি। ছুটলেন মহাদেব কালীর নাচ বন্ধ করতে। কিন্তু, মহাদেবের হাজারো কথাও শুনতে পেলেন না উন্মাদিনী কালী। উপায়ান্ত না দেখে মহাদেব এবার কালীর পা-এর তলায় নিজেকে ছুঁড়ে ফেলে দেন। পায়ের নিচে স্বামীকে পরে থাকতে দেখতে লজ্জিত হন কালী। লজ্জায় জিভ কাটেন তিনি। পৌরাণিক এই কাহিনি অবলম্বনে পূজিত হয়ে আসছেন কালী।
তাই কালীরূপ মানেই তাঁর নগ্ন-রূপ আর অসুরদের ধরহীন মুণ্ড-র কোমরবন্ধনী ও মালার সঙ্গে সঙ্গে পা-এর তলায় শিব।আবার একটু গভীরে গিয়ে ভাবলে মনে হবে শিব অর্থাৎ মহা কাল কে যিনি নিজের নিয়ন্ত্রণ এ রাখতে সক্ষম তিনি কালী অর্থাৎ আদি শক্তি|কালী রূপের আরো অনেকগুলি দিক ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করবো আগামী পর্ব গুলিতে পড়তে থাকুন|
জানিয়ে রাখি আসন্ন দীপান্বিতা অমাবস্যায় আমি নিজে উপস্থিত থাকবো তারাপীঠে, অসংখ্য মানুষের গ্রহ দোষ খণ্ডন ও তন্ত্র মতে প্রতিকারের ব্যাবস্থা থাকবে|যারা যোগদান করতে আগ্রহী, কোনো সমস্যার সমাধানে আগ্রহী অবশ্যই যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে ও সরাসরি কথা বলুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
কালী কথা – পর্ব দুই
কালী কথার প্রথম পর্বে দেবী কালী সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও কিছু শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা আপনাদের সামনে এনেছি, আজ দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা করবো পুরান অনুসারে দেবী কালীর জন্ম বা সৃষ্টি তত্ব নিয়ে|
কালীর সৃষ্টি হয়ে ছিলো একটি বিশেষ উদ্দেস্যে |স্বর্গ তোলপাড় করে লন্ডভণ্ড করে দিচ্ছে অসুরের দল। দেবতাদের তাড়িয়ে স্বর্গরাজ্যের দখলের চেষ্টাও করছে তারা। দেবতাদের মধ্যে ত্রাহি-ত্রাহি রব। অসুরদের প্রধান রক্তবীজ-ৃএর ছিল ব্রহ্মার বর। যার জেরে রক্তবীজের শরীর থেকে এক ফোঁটা রক্ত ভূতলে পতিত হলেই তা থেকে জন্ম নিচ্ছিল একাধিক অসুর।এই পরিস্থিতিতে কার্যত দিশেহারা দেবতারা|
এই বিপদ থেকে স্বর্গ-কে রক্ষা করতে এবং দেবতার মানসম্মান রক্ষার্থে অবতীর্ণ হন দেবীদুর্গা। সব অসুর দেবীদুর্গার হাতে নিহত হলেও ব্রাক্ষ্মার বরপ্রাপ্ত রক্তবীজ বারবার বেঁচে যায়।
অবশেষে ক্রোধাম্বিত দেবীদুর্গা তাঁর ভ্রু যুগলের মাঝ থেকে জন্ম দেন কালীকে। কালীর ভয়াবহ রুদ্রমূর্তি আর নগ্নিকা রূপে নিহত হতে থাকে একের পর এক অসুর। রক্তবর্ণ লকলকে জিভ বের করে কালী গ্রাস করে নিতে থাকেন একের পর অসুর এবং তাদের রণবাহিনীকে। হাতি, ঘোরা সমতে অসুরের দলকে কালী গ্রাস করতে থাকেন। রক্তবীজকে অস্ত্রে বিদ্ধ করে তার শরীরের সমস্ত রক্ত পান করে নেন কালী। রক্তবীজের শরীর থেকে একফোঁটা রক্ত যাতে মাটিতে না পরে সেজন্য কালী তাকে শূন্যে তুলে নেন। রক্তবীজকে এক্কেবারে রক্তশূন্য করে দেহ ছুঁড়ে ফেলে দেন|শান্ত হল ব্রম্হান্ড |রক্ষা পেলো সৃষ্টি|
আগামী পর্বে আরো বিস্তারিত আলোচনা করবো দেবী কালীর রূপ ও তার মহাত্ম নিয়ে|এই পর্ব থেকে বিদায় নেয়ার আগে জানিয়ে রাখি আগামী দীপান্বিতা অমাবস্যায় আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন সম্পন্ন হবে|আগ্রহীরা আগাম যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে ও সরাসরি কথা বলুন আমার সাথে|ভালো থাকুন|নমস্কার|
কালী কথা – পর্ব এক
দুর্গাপূজার পরই গোটা দেশ ও বাংলা মেতে ওঠে কালী আরাধনায়, আর কিছুদিন পরেই সেই বহু প্রতীক্ষিত তিথি অর্থ্যাৎ দীপান্বিতা অমাবস্যা|আশ্বিন মাসের অমাবস্যা তিথিতে দীপান্বিতা কালীপূজা বিশেষ জাঁকজমক সহকারে পালিত হয়। এছাড়া মাঘ মাসে রটন্তী কালীপূজা ও জ্যৈষ্ঠ মাসে ফলহারিণী কালীপূজাও বিশেষ জনপ্রিয়। অনেক জায়গায় প্রতি অমাবস্যা এবং প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবারে কালীপূজা হয়ে থাকে, তবে তন্ত্রে ও জ্যোতিষ জগতে এই দীপান্বিতা অমাবস্যা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ|তাই এখন থেকে দীপাবলী অবধি দেবী কালী কে নিয়ে ধারাবাহিক লেখালেখি চলবে, কালী কথার এক একটি পর্বে আলোচনা করবো দেবী কালীর রূপ নিয়ে, পুরান মতে দেবীর উৎপত্তি নিয়ে এবং কালী সংক্রান্ত যা কিছু তথ্য ও ব্যাখ্যা শাস্ত্রে আছে তা সহজ সরল ভাবে উপস্থাপন করবো আপনাদের সামনে|সহজ ভাবে দেবী কালীর পরিচয় দিতে গেলে বলতে হয়, কালী বা কালিকা তাঁর অন্য নাম শ্যামা বা আদ্যাশক্তি। প্রধানত শাক্ত সম্প্রদায় কালীপূজা করে থাকে। তন্ত্র অনুসারে, কালী দশমহাবিদ্যা নামে পরিচিত।শাস্ত্রে বলা আছে, কালী দুর্গার ললাট থেকে উৎপন্না হয়েছে, এই বাক্যের তাৎপর্য যে, ললাটের সংকোচনেই ক্রোধভাব প্রকাশিত হয় বলে সদা ক্রোধান্বিতা,রণরঙ্গিনী করাল-বদনা কালীকে ললাট-সম্ভবা বলা হয়েছে। বাস্তবিক কালীও দুর্গার রূপান্তর বিশেষ। ক্রোধাবস্থাপন্না শক্তিকেই কালী বলা হয়েছে।কালী নাম ও এক রহস্য, কাল-এর স্ত্রীলিঙ্গ হল কালী। আর শিব-কেও কাল নামে ডাকা হয়। কাল মানে অনন্ত সময়। এই সময়েরই স্ত্রীলিঙ্গ বোধক হচ্ছে কালী। শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে যে কাল সর্বজীবকে গ্রাস করে, সেই কালকে আবার যিনি গ্রাস করেন-তাঁকেও কালী বলা হয়।জগতের উৎপত্তি, স্থিতি, মহাপ্রলয়-এর পিছনে রয়েছে কালশক্তি। সবচেয়ে মজার কথা এই সবের জন্য যে মহাকাল পরিস্থিতির উদ্ভূত হয় তাই আবার সব সৃষ্টিকে গ্রাস করে। সনাতন ধর্মে উল্লেখ যে মহাকালেরও পরিণাম আছে। মহাপ্রলয়ের কালশক্তি মহাকালীর ভিতরেই নিঃশেষ লীন হয়ে যায়।তন্ত্র এবং আধ্যাত্মিক জগতে দেবী কালীর মহাত্মা অপরিসীম, আবার আগামী পর্বে ফিরে আসবো নতুন তথ্য ও ব্যাখ্যা নিয়ে,পড়তে থাকুন এবং জানান এই কালী কথা নিয়ে আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ মতামত|এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি তন্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন ও প্রতিকারের জন্যে এই সময় শ্রেষ্ঠ সময়, দীপান্বিতা অমাবস্যায় মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে অসংখ্য মানুষের গ্রহ দোষ খণ্ডন হবে তবে তার আগে প্রয়োজন সঠিক ভাগ্যবিচার|জ্যোতিষ সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা নিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
দেবী লক্ষীর আটটি রূপ
দেবী লক্ষীর আটটি ভিন্ন রূপ আছে যা একত্রে অষ্ট লক্ষী নামে পরিচিত|আজকের পর্বে এই আটটি রূপ ও তার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করবো|
১. আদি লক্ষ্মী বা মহালক্ষ্মী — তিনি বিষ্ণুপ্রিয়া। বিষ্ণুর সঙ্গেই তিনি চিত্রিত হন।আদি লক্ষী বা মহা লক্ষী হলো আদিরূপ মা লক্ষীর। এই মা লক্ষী হলেন অফুরন্ত ধনসম্পদের অধিষ্ঠাত্রী|
২. ধনলক্ষ্মী বা ঐশ্বর্য্যলক্ষ্মী — সম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবী।এই দেবীর ছটি হাত এবং মূলত লাল শাড়িতেই অধিষ্ঠাত্রী। প্রতিটি হাতে থাকে একে একে চক্র, শঙ্খ, একটি ঘটে বা পবিত্র কলসি, তীর ধনুক এবং একটি পদ্ম। সর্বশেষ হাতটি অভয় মুদ্রার ন্যায় রাখা এবং তা থেকে সোনার মোহর বা মুদ্রা বের হয়।
৩.ধান্যলক্ষ্মী— শস্যর দেবী।শস্য ভালো হয়
আর্থিক কষ্ট লাঘব হয় এই রূপের পুজো করলে|এই দেবী খাদ্যশস্যএর প্রতীক। দেবীর এক হাত চাষের জমির শস্য সম্পদের আশীর্বাদ স্বরূপ রয়েছে এবং আরেক হাতে থাকে মানব জীবনের প্রয়োজনীয় পুষ্টিদায়ক শস্যের সমাহার। এই দেবীর পরনে থাকে শস্যের রঙের সবুজ শাড়ি|
৪. গজলক্ষ্মী— গজ বা হাতির সঙ্গে তাঁকে কল্পনা করা হয়। ব্যক্তির শ্রীবৃদ্ধি ঘটে তাঁর কল্যাণে|। এই দেবী হাতির ওপর সরাসরি অধিষ্ঠাত্রী না হলেও, তার চারিদিক আবর্ত থাকে হাতি দ্বারা। রাজকীয় ধন সম্পদের প্রতীক এই দেবী। কথিত আছে সমুদ্র মন্থন কালে ভগবান ইন্দ্রের হারিয়ে যাওয়া ধন সম্পদ ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এই দেবী|
৫. সন্তানলক্ষ্মী— সন্তানভাগ্য নিরূপণ করেন এই দেবীরূপ। ভালো সন্তান লাভ হয় এই দেবী সন্তুষ্ট হলে|
৬. বীরলক্ষ্মী— সাহসদাত্রী দেবী।সাহস ও আত্মবিশ্বাস যোগান|এই দেবীর আরাধনা মনের শক্তি, ধৈর্য্য যোগায়, যা জীবনের কঠিন ও ভালো সময়কে সঠিকভাবে পরিচালনা করার শক্তিও যোগায়|
৭. বিদ্যালক্ষ্মী—বিদ্যা লক্ষী জ্ঞানের দেবী। বিদ্যা লাভ হয় এই দেবীর পূজায়|বিদ্যার প্রতীক এই দেবী। সরস্বতী ঠাকুরের মতোই এই দেবী পদ্মের ওপর সাদা শাড়িতে অধিষ্টাত্রী হন|
৮. বিজয়লক্ষ্মী বা জয়লক্ষ্মী— ইনি বিজয়ের অধিষ্ঠাত্রী|বিজয় লাভ হয় এই দেবীর আশীর্বাদে|
এই দেবী সর্বদা বিজয়এর প্রতীক স্বরূপ। কোনো সমস্যার থেকে মুক্তি পেতে বা বলা সাফল্য পেতে এই দেবীর পূজা হয়ে থাকে|
অর্থাৎ দেবী লক্ষীর এই প্রতিটি রূপের নিজস্ব ব্যাখ্যা ও পুজোর উদ্দেশ্য রয়েছে|আপনাদের সবাইকে কোজাগরী লক্ষী পুজোর অনেক শুভেচ্ছা
লক্ষী পুজোর নিয়ম ও তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা
সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধির দেবী শ্রীলক্ষ্মী। শ্রীবিষ্ণুর স্ত্রী। তাঁকে ঘরে বেঁধে রাখতে কোজাগরী পূর্ণিমা তিথিতে বন্দনা করে বঙ্গবাসী। মনে করা হয়, কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো যে বাড়িতে করা হয় সেই গৃহে মা লক্ষ্মী স্থির থাকেন। গৃহে সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধি বজায় থাকে। কোজাগরীলক্ষ্মী দেবীর পুজো করলে ধনসম্পত্তি অক্ষয় হয়|আজ জানবো লক্ষী পুজো সংক্রান্ত কিছু বিধি নিষেধ ও তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা|
পুজোর দিন অন্ন বা যেকোনও খাবার নষ্ট করবেন না। এতে মা অসন্তুষ্ট হন। দেবী লক্ষ্মী অন্নের অপচয় সহ্য করেন না। ফলে বাড়িতে অর্থ ও খাবারের অভাব দেখা দিতে পারে। এই দিনে সম্ভব হলে অন্ন দান করুন|
লক্ষ্মী দেবীকে কোনও ভাবে সাদা রঙের ফুল দিয়ে পুজো করা যাবে না। সাদা রঙ ছাড়া লাল, হলুদ, গোলাপি রঙের ফুল ব্যবহার করা যাবে।লক্ষ্মীপুজো করার সময় কোনওভাবেই কালো পোশাক পরা যাবে না। কারন সাদা ও কালো রঙ দেবী পছন্দ করেননা তার প্ৰিয় রঙ হলুদ ও লাল|
মা লক্ষ্মীর পুজোয় সাদা ফুল যেমন ব্যবহার করা যায় না, তেমনই আসনে সাদা বা কালো কাপড় পাতার নিয়ম নেই। ব্যবহার করা যেতে পারে লাল, গোলাপি প্রভৃতি রঙের কাপড়। বিশ্বাস, মা লক্ষ্মী এতে অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন কারন ওই একই|
মনে করা হয়, শ্রীলক্ষ্মীর পূজনে তুলসী ব্যবহার করলে দেবী অসন্তুষ্ট হন| কথিত আছে, তুলসির সঙ্গে শালগ্রাম শিলার বিবাহ হয়। শালগ্রাম গ্রাম শিলা নারায়ণের প্রতিভূ। যেহেতু শ্রীলক্ষ্মীও বিষ্ণুপত্নী তাই দুজনের সম্পর্ক মধুর নয় তাই এই পুজোয় তুলসির ব্যবহার চলে না।
পুজোর পর মন্দির বা ঠাকুর ঘরের দক্ষিণমুখে প্রসাদ অর্পণ করার কথা বলে থাকেন অনেকে। এর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা না থাকলেও বাস্তু শাস্ত্র মতে শুভ| লক্ষ্মীপুজোর প্রসাদে না বলতে নেই। অল্প হলেও মুখে তুলতে হয়।এতে দেবী প্রসন্ন হন|
ঢাক – ঢোল- কাঁসর ঘণ্টা লক্ষ্মীপুজোয় বাজানো যাবে না। অত্যধিক শব্দ পছন্দ করেন না শ্রীলক্ষ্মী। সব পুজোতেই বাদ্যি বাজানো হয়। কিন্তু মা লক্ষ্মীর পুজোয় কাঁসর ঘণ্টা বাজালে দেবীর অসন্তুষ্ট হন বলে মনে করা হয়।এবিষয়ে একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা আছে|
পুরাণ মতে, ঘণ্টাকর্ণ নামে এক দেবতা পূজনীয় লক্ষ্মী দেবীকে দেখে অশালীন আচরণ করেছিলেন। যে দেবীকে গোটা দেবলোক পুজো করেন, সেই দেবীকেই কিনা অপমান করেন ঘণ্টাকর্ণ। এই ঘটনায় দেবী লক্ষ্মী ঘণ্টাকর্ণের উপর বেজায় ক্রুদ্ধ হন।বলা হয় সেই থেকেই অন্যান্য সমস্ত পুজোতে ঘণ্টা বাজালেও, লক্ষ্মী পুজোতে ঘণ্টা বাজানো নিষিদ্ধ। সেই থেকেই মা লক্ষ্মীর পুজোয় কোন ব্যক্তি ঘন্টা বাজালে, তাঁর উপর বেজায় ক্ষিপ্ত হন পদ্মাসনা দেবী লক্ষ্মী|
আপনাদর সবাইকে কোজাগরী লক্ষী পুজোর অনেক শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
দেবী লক্ষী : পর্ব এক
আগামী বুধবার কোজাগরী লক্ষী পুজো|দেবী আসবেন আমাদের গৃহে|তার আশীর্বাদে ও কৃপায় ধন্য হবে আমাদের জীবন|সুখ ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে ঘরে ঘরে|এই আশায় আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মহা সমারোহে লক্ষী পুজোর আয়োজন করি|এই পবিত্র সময়ে দেবী লক্ষীর স্বরূপ ও তার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তিনটি পর্বে আপনাদের জন্যে আলোচনা করবো|আজ প্রথম পর্ব|মর্তে লক্ষী পুজোর প্রচলন হওয়া নিয়ে যে লৌকিক কাহিনী বা ব্রত কথা আছে তা হলো একবার দোলপূর্ণিমার রাতে নারদ বৈকুণ্ঠে লক্ষ্মী ও নারায়ণের কাছে গিয়ে মর্ত্যের অধিবাসীদের নানা দুঃখকষ্টের কথা বললেন। লক্ষ্মী মানুষের নিজেদের কুকর্মের ফলকেই এই সব দুঃখের কারণ বলে চিহ্নিত করলেন। কিন্তু নারদের অনুরোধে মানুষের দুঃখকষ্ট ঘোচাতে তিনি মর্ত্যলোকে লক্ষ্মীব্রত প্রচার করতে এলেন।এই সময়ে অবন্তী নগরে ধনেশ্বর নামে এক ধনী বণিক বাস করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেদের মধ্যে বিষয়সম্পত্তি ও অন্যান্য ব্যাপার নিয়ে ঝগড়া চলছিল। ধনেশ্বরের বিধবা পত্নী সেই ঝগড়ায় অতিষ্ট হয়ে বনে আত্মহত্যা করতে এসেছিলেন। লক্ষ্মী তাঁকে লক্ষ্মীব্রত করার উপদেশ দিয়ে ফেরত পাঠালেন। ধনেশ্বরের স্ত্রী নিজের পুত্রবধূদের দিয়ে লক্ষ্মীব্রত করাতেই তাঁদের সংসারের সব দুঃখ ঘুচে গেল। ফলে লক্ষ্মীব্রতের কথা অবন্তী নগরে প্রচারিত হয়ে গেল। একদিন অবন্তীর সধবারা লক্ষ্মীপূজা করছেন, এমন সময় শ্রীনগরের এক যুবক বণিক এসে তাদের ব্রতকে ব্যঙ্গ করল। ফলে লক্ষ্মী তার উপর কুপিত হলেন। সেও সমস্ত ধনসম্পত্তি হারিয়ে অবন্তী নগরে ভিক্ষা করতে লাগল। তারপর একদিন সধবাদের লক্ষ্মীপূজা করতে দেখে সে অনুতপ্ত হয়ে লক্ষ্মীর কাছে ক্ষমা চাইল। লক্ষ্মী তাকে ক্ষমা করে তার সব ধনসম্পত্তি ফিরিয়ে দিলেন। এই ভাবে সমাজে লক্ষ্মীব্রত প্রচলিত হল|কোজাগরী লক্ষ্মী পুজো দক্ষিণ ভারত ও পূর্ব ভারতে অত্যন্ত জনপ্রিয় হলেও উত্তর ও পশ্চিম-ভারতে মা লক্ষ্মীর আবাহন মূলত হয় ধনতেরাস-দিওয়ালি তিথিকে কেন্দ্র করে|বাংলায় লক্ষ্মীপুজোর সংস্কৃতি ভারতের অন্যান্য রাজ্যের থেকে একটু অন্যরকম। যেমন ভারতের বেশিরভাগ অঞ্চলে শুক্রবার মহালক্ষ্মীর উপবাস রাখা হয় ও বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। ওদিকে বাংলার ঘরে ঘরে বৃহস্পতিবারই লক্ষ্মীবার|আমি তো বলি প্রতিটা গৃহে প্রতি বৃহস্পতিবারই নিষ্ঠা সহকারে দেবী লক্ষীর পুজো করলে গৃহের কল্যাণ হয়|এবার দেবী লক্ষীর রূপ নিয়ে বলতে গেলে বলা যায় লক্ষ্মীর চারটি হাত যথাক্রমে ধর্ম, কর্ম, অর্থ ও মোক্ষর প্রতীক|দেবীর বাহন প্যাঁচা ও যথেষ্ট তাৎপর্য পূর্ণ|প্যাঁচা কৃষকের বন্ধু তাই অর্থ ও সম্পদের প্রতীক|প্যাঁচা গভীর অন্ধকার মাঝেও পথ দেখতে সক্ষম অর্থাৎ প্রতিকূলতা কে কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত দেয়|লক্ষী পুজোর এই বিশেষ সময়ে জ্যোতিষ পরামর্শ বা প্রতিকার অনেক বেশি কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে তা দীর্ঘ তিন দশকের পেশাদার জ্যোতিষ জীবনে আমি বহুবার বহু ভাবে উপলব্ধি করেছি|তাছাড়াও সামান্য কিছু উপাচার বা বাস্তু সংক্রান্ত পরামর্শও বদলে দিতে পারে জীবনের মোড়|সৌভাগ্যের দেবী কে ডাকুন আর তার পাশাপাশি নিজের জীবনের সৌভাগ্যের চাবি কাঠি খুঁজে নিতে আস্থা রাখুন সঠিক ভাগ্যবিচার, জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকারের উপর|যেকোনো জ্যোতিষ সংক্রান্ত প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নম্বরে|আগামী পর্বগুলিতে দেবী লক্ষীর আটটি বিশেষ রুপ নিয়ে আলোচনা করবো|সবাইকে কোজাগরী লক্ষী পুজোর আগাম শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন| |ধন্যবাদ|
নব দূর্গা – নবম রূপ
আজ বিজয়া দশমী, এই তিথিতে দেবী দূর্গা মহিষাসুরে বধ করে বিজয় লাভ কোরেছিলেন তাই বলা হয় বিজয়া দশমী|আগেই দেবীর আটটি রূপ নিয়ে আলোচনা করেছি আজ নবদুর্গার নবম তথা শেষ রূপ সিদ্ধিদাত্রী নিয়ে আলোচনা করবো| সিংহবাহিনী দেবীর চার হাতে আশীর্বাদী মুদ্রা | তিনি সিদ্ধি দান করেন|দেবী ভগবত্ পুরাণে আছে, স্বয়ং মহাদেব দেবী পার্বতী কে সিদ্ধিদাত্রী রূপে পুজো করেছিলেন|এবং তার ফলে মহাদেব সকল সিদ্ধি লাভ করেন|দেবীর উপাসনায় সংসারে আসে সুখ এবং সমৃদ্ধি এবং সকল সিদ্ধি লাভ হয়| যারা কর্ম ক্ষেত্রে উন্নতি চায় শিক্ষা ক্ষেত্রে সমস্যা থেকে মুক্তি চায় এবং প্রকৃত জ্ঞান লাভ করতে চায় তারা দেবীর এই রূপের আরাধনা করতে পারেন|এসেছেন দেবী|স্বমহিমায় বিরাজ করছেন তিনি মর্ত লোকে| আবার একটি বছর পর আমরা তাকে ঘরের মেয়ে রূপে মর্তে স্বাগত জানাবো|তার আরাধনায় দূর হোক সব বিপদ কেটে জাক সব সংকট|জগতের মঙ্গল হোক|জয় মা দূর্গা| আপনাদের সবাইকে শুভ বিজয়ার প্রীতি শুভেচ্ছা জানাই|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|