Home Blog Page 132

নব দূর্গা – অষ্টম রূপ

অষ্টম রূপ হল মায়ের মহাগৌরী রূপ|হিমায়লকন্যা ছিলেন গৌরবর্ণা। শিবের জন্য কঠোর তপস্যা করে রৌদ্রে তিনি কৃষ্ণবর্ণা হন| মহাদেব যখন গঙ্গাজল দিয়ে তাকে স্নান করান, তখন তিনি হয়ে ওঠেন পুনরায় গৌর বর্ণা|দেবীর এই রূপের নাম হয় মহাগৌরী|এই রূপে হাতির পিঠে চার হাতে অস্ত্র নিয়ে দেখা যায় মা দূর্গাকে|

মহা গৌরী গায়ের রং শ্বেতবর্ণ, তিনি শান্ত প্রকৃতির দেবী। আট বছরের বালিকার রূপে তিনি পূজিত হন। দেবীর এক হাত শোভিত বরাভয় মুদ্রায়। বাকি তিন হাতে থাকে পদ্ম, ত্রিশূল এবং ডমরু।

শাস্ত্র মতে এই রূপের পুজোয় কেটে যায় বিবাহ সম্পর্কিত বাধা| যাদের বিবাহে বিলম্ব বা বাঁধা আসছে অথবা বিবাহিত জীবন সুখের নয় তারা এই দেবীর আশীর্বাদে সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন|দেখা হবে পরের পর্বে দেখতে থাকুন|যুক্ত থাকুন হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরের পুজোর সাথে|ভালো থাকুন|ধব্যবাদ

নব দূর্গা – সপ্তম রূপ

নব দুর্গার সপ্তম রূপ হল কালরাত্রি। বিভিন্ন অস্ত্র ও গহনায় সজ্জিত হয়ে দেবী ধরা দেন কালরাত্রি রূপে|দেবী কৃষ্ণবর্ণা ও ত্রিনয়না|দেবীর বাহন গর্ধব|চতুর্ভুজা দেবী ভীষণদর্শনা|দেবীর তিন হাতে অস্ত্র | এক হাতে ভক্তদের প্রতি বরাভয় | এই রূপের আরাধনায় কেটে যায় সব সংকট|কালরাত্রি দুর্গাপূজার সপ্তম দিনে পূজিত হন। শাক্ত শাস্ত্রানুযায়ী, “সেই দিন সাধকের মন সহস্রার চক্রে অবস্থান করে। তাঁর জন্য ব্রহ্মাণ্ডের সকল সিদ্ধির দ্বার অবারিত হয়ে যায়। এই চক্রে অবস্থিত সাধকের মন সম্পূর্ণভাবে মাতা কালরাত্রির স্বরূপে অবস্থান করে। তাঁর সাক্ষাৎ পেলে সাধক মহাপুণ্যের ভাগী হন। তাঁর সমস্ত পাপ ও বাধাবিঘ্ন নাশ হয় এবং তিনি অক্ষয় পুণ্যধাম প্রাপ্ত হন।হিন্দুদের বিশ্বাস করেন, কালরাত্রি দুষ্টের দমন করেন, গ্রহের বাধা দূর করেন এবং ভক্তদের আগুন, জল, জন্তুজানোয়ার, শত্রু ও রাত্রির ভয় থেকে মুক্ত করেন।তারা বিশ্বাস করেন, কালরাত্রির উপাসক তাকে স্মরণ করলেই দৈত্য, দানব, রাক্ষস, ভূত ও প্রেত পালিয়ে যায়।কালরাত্রির রূপ ভয়ংকর হলেও তিনি শুভফলের দেবী।তার অপর নাম শুভঙ্করী|আগামী পর্বে ফিরবো পরবর্তী রূপ নিয়ে|দেখতে থাকুন|আসন্ন দীপাবলিতে গ্রহ দোষ খণ্ডন ও জ্যোতিষ প্রতিকারের জন্যে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে| ভালো থাকুন|

নব দূর্গা – ষষ্ঠ রূপ

নবরাত্রির আজ ষষ্ঠ দিন|ষষ্ট রূপে নানাবিধ অস্ত্র সম্বলিত হয়ে মা কাত্যায়নী রূপে ধরা দেন| ষষ্ঠীতে এই রূপের আরাধনা হয়|বৈদিক যুগে কাত্যায়ন নামে এক ঋষি ছিলেন|কাত্যায়নের ইচ্ছে হয় একটি কন্যসন্তান লাভের | দেবী পার্বতীর তপস্যা করে তিনি অভীষ্ট পূর্ণ করেন |তার স্তবে তুষ্ট হয়ে স্বয়ং দেবী পার্বতী জন্ম নেন মহাঋষি কাত্যায়নের কন্য রূপে | তখন তার নাম হয় কাত্যায়নী|বামন পুরাণ গ্রন্থে দেবী কাত্যায়নীর উদ্ভবের কাহিনি বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে: “দেবগণ চরম দুরবস্থায় বিষ্ণুর নিকট সহায়তা প্রার্থনা করলে, বিষ্ণু ও তাঁর আদেশে শিব, ব্রহ্মা ও অন্যান্য দেবগন দেবী পার্বতীর অংশ নিয়ে তাকে কায়া রূপ দেন সকলের দেহ হতে দিব্য তেজ বিনির্গত হয়ে এক জ্যোতিপর্বতের সৃষ্টি করল। এই জ্যোতিপর্বত ধারণ করল অষ্টাদশভূজা, কৃষ্ণকেশী, ত্রিনয়না ও সহস্র সূর্যের প্রভাযুক্তা দেবী কাত্যায়নীর রূপ।পৌরাণিক ব্যাখ্যা মতে দেবীর এই রূপের পূজায় শত্র নাশ হয়।মহা সপ্তমীর শুভেচ্ছা আপনাদের সকলকে, সুস্থ থাকুন, আনন্দে থাকুন থাকুন, যুক্ত থাকুন মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরের পুজোর সাথে|প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন| ধন্যবাদ|

নব দুর্গা – পঞ্চম রূপ

বাংলায় আজ মহা ষষ্ঠী এবং দেশ জুড়ে পালিত নব রাত্রির পঞ্চম দিন, এই দিনে পূজিতা হন দেবী স্কন্দ মাতা|পঞ্চম রূপে সিংহের উপর উপবিষ্ট হয়ে মা স্কন্দ মাতা রূপে ধরা দেন|কার্তিকের আর এক এ নাম স্কন্দ|ত্রিনয়নী দেবী চার হাতবিশিষ্টা | ডানদিকের উপরের হাতে ধরে আছেন শিশু কার্তিককে |প্রস্ফুটিত পদ্ম থাকে আর এক দক্ষিণ হস্তে|বাঁ দিকের একটি হাত বরাভয় দিচ্ছে | আর এক হাতে ধরে আছেন পদ্ম | এই রূপে দেবী দুর্গা সিংহ বাহনে উপবিষ্ট হন | তিনি বসে থাকেন ফুটে থাকা কমলে |দেবীর কথা আমরা পাই স্কন্দ পুরাণে । দেবী সতীর দেহত্যাগের পর জকহ্ন দেবী আদিশক্তি পার্বতী রূপে পুনরায় জন্মগ্রহন করেন তখন প্রথমে শৈল্যপুত্রী রূপে প্রকাশিত হয় পরবর্তী সময়ে ব্রক্ষচারিনী রূপে প্রকাশিত হয়ে শিবকে তুষ্ট করেন ও পতিরূপে প্রাপ্ত করেন । দেবী পার্বতী ও শিবের অংশ স্কন্দ ষড়ানন কুমার কার্ত্তিক জন্মগ্রহন করেন তারকাসুরের বধের জন্য। পৌরাণিক গল্পে পাওয়া যায় কার্ত্তিকের শৈশব কালে যখন তিনি ক্রীড়া মগ্ন ছিলেন তখন অকস্মাৎ তারকাসুর তার সৈন্যদের নিয়ে কুমারকে বধের জন্য উদ্ধত হয় । ভগবতী পার্বতী কার্ত্তিকে রক্ষার্থে এই বিশাল প্রচণ্ড রূপ ধারন করেন ও সমস্ত অসুর সৈন্য বধ করেন ।দেবীর আশীর্বাদে কার্ত্তিক তারকাসুর বধ করেন।দূর্গা পূজার পঞ্চমীর দিন নব দূর্গার এই রূপ পূজিত হয়|পরিবারের কল্যাণ করেন এই দেবী|সন্তান ও পরিবারের শিশু দের কল্যাণ হয় এই দেবীর আশীর্বাদে|আপনাদের সকলকে মহাষ্টমীর শুভেচ্ছা|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

নবদূর্গা চতুর্থ রূপ – কুষ্মাণ্ডা

মায়ের চতুর্থ রূপ অর্থাৎ কুষ্মাণ্ডা রূপ পূজিতা হন নব রাত্রির চতুর্থ রাত্রে|দেবীর এইরকম অদ্ভুত নাম কেন? ‘কু’ শব্দের অর্থ কুৎসিত এবং ‘উষ্মা’ শব্দের অর্থ ‘তাপ’; ‘কুষ্মা’ শব্দের অর্থ তাই ত্রিতাপ বা দুঃখ–দেবী জগতের দুঃখ গ্রাস করে নিজের উদরে ধারণ করেন, তাই তার নাম ‘কুষ্মাণ্ডা’মহাপ্রলয়ের পরে যখন সর্বত্র শুধু নিশ্ছিদ্র অন্ধকার ছেয়ে রয়েছে, তখন এই দেবী কুষ্মাণ্ডা নব রূপে ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছিলেন|দেবী অষ্টভুজা” নামেও পরিচিতা আবার দেবীকে “কৃষ্ণমাণ্ড” নামেও ডাকা হয়|দেবী সিংহবাহিনী ও ত্রিনয়নী দেবীর হাতে থাকে সুদর্শনচক্র, ধনুর্বাণ, রক্তপদ্ম, কমণ্ডলু, অমৃত কলস ও জপমালা|মনে করা হয়, দেবী কুষ্মাণ্ডা অল্প পূজাতেই সন্তুষ্ট হন। তার পূজায় কুষ্মাণ্ড (কুমড়ো) বলি দেওয়ার রীতি আছে। কাশীতে দেবী কুষ্মাণ্ডার মন্দির বিখ্যাত। কাশীতে তিনি দুর্গা নামেই সমধিক পরিচিত। তিনি কাশীর দক্ষিণ দিকের রক্ষয়িত্রী। কাশীখণ্ড-এ রয়েছে, অসি নদীর সঙ্গমস্থলে কুষ্মাণ্ডার অধিষ্ঠানশাস্ত্র মতে এই রূপের আরাধনায় বৈভব, সুখ সমৃদ্ধি ও যশ এবং খ্যাতি বাড়ে বলে মনে করা হয়| আপনারাও যদি এই পবিত্র সময়কে শাস্ত্র মতে ব্যবহার করে নিজের জীবনের যাবতীয় সমস্যা দূর করতে চান, ভরসা রাখুন জ্যোতিষ শাস্ত্রে ভরসা রাখুন আমার উপর, যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

নবদূর্গার তৃতীয় রূপ – দেবী চন্দ্র ঘন্টা

নবরাত্রিতে তৃতীয় দিনে পূজিতা হন নব দুর্গার তৃতীয় রূপ অর্থাৎ চন্দ্র ঘন্টা|পুরান অনুসারে শিব পার্বতীর বিবাহের সময় হঠাৎ তারোকাসুর প্রেত পিশাচ দৈত দানব সহ আক্রমণ করে তখন দেবী পার্বতী এক দশ ভুজ রুপী মঙ্গলময় দেবী রূপে চন্দ্র সম বিশাল শুভ ঘণ্টা বাজিয়ে সকল অশুভ শক্তি কে নিরস্ত্র করেন|দেবীর মস্তকে অর্ধচন্দ্র থাকে , তাই দেবীকে চন্দ্রঘণ্টা নামে ডাকা হয় । দেবীর শরীরের রং স্বর্ণের মতো উজ্জ্বল । এই দেবী দশভুজা । দেবীর হাতে কমণ্ডলু , তরোয়াল , গদা , ত্রিশূল , ধনুর্বাণ , পদ্ম , জপ মালা থাকে| দেবীর বাহন সিংহ|এই দেবীর আরাধনা সাংসারিক সুখ ও শান্তি এনে দেয় জীবনে|জীবন সবদিক থেকে পরিপূর্ণ হয় দেবীর আশীর্বাদে|প্রতিবছরের ন্যায় এবছর ও নবরাত্রি এবং দূর্গা পুজো অনুষ্ঠিত হবে আপনাদের হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের, হবে গ্রহ দোষ খণ্ডন|আপনারা বাড়িতে থেকেও অনলাইনে এই পক্রিয়ার সাথে সম্পূর্ণ ভাবে যুক্ত হতে পারেন, শুধু যোগাযোগ করতে হবে উল্লেখিত নাম্বারে আর নজর রাখতে হবে মন্দিরের ওয়েবসাইট ও আমার প্রোফাইলে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

নবদূবর্গার দ্বিতীয় রূপ ব্রহ্মচারিণী

এই রূপে ব্রহ্মচারীর বেশে ধরা দেন মা|এখানে ‘ব্রহ্ম’ শব্দের অর্থ হল তপস্যা। ব্রহ্মচারিণী অর্থাৎ তপস্বীনি|ভগবান শঙ্করকে পতিরূপে লাভ করার জন্য দেবী পার্বতী কঠিন তপস্যা করেন। সেই কঠিন তপস্যার জন্য তাকে তপশ্চারিনী বা ব্রহ্মচারিণী বলা হয়|

তপস্যা সার্থক হয় বিবাহ হয় দুজনের । পরে তাঁদের সন্তান কার্তিক বা ষড়ানন বধ করেন তারকাসুরকে।

দেবীর ব্রহ্মচারিণীর রূপ জ্যোতিতে পূর্ণ, অতি মহিমামণ্ডিত। তিনি ডান হাতে জপের মালা এবং বাঁ হাতে কমণ্ডলু ধারণ করে আছেন।

কথিত আছে এই রূপের পূজায় বৃদ্ধি পায় মনোসংযোগ এবং সব ভয় সংশয় ও মানসিক দুর্বলতা দূর হয়|নবরাত্রির দ্বিতীয় দিনে এই রূপের পুজো হয়

আগামী দিনের পর্বে দেবীর অন্যরূপ নিয়ে ফিরে আসবো পড়তে থাকুন|নবরাত্রির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকারের জন্যে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন নমস্কার|

নব দুর্গা – শৈলপুত্র

আজ থেকে শুরু করছি এক নতুন ধারাবাহিক লেখনী|বাংলার দূর্গা পূজার পাশাপাশি একই সময়ে সারা দেশ জুড়ে পালিত হয় নব রাত্রি উৎসব|মূলত দেবী দুর্গার নয় টি ভিন্ন রূপের পূজা হয় নয় দিন ধরে| বাংলার অনেক দূর্গা পূজা তেও নব দুর্গার আরাধনা হয়|এই রূপ গুলির আছে নিজস্ব শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য|আজ লিখবো প্রথম রূপ শৈল পুত্রী নিয়ে|একবার প্রজাপতি দক্ষ বিরাট যজ্ঞ করেন । এই যজ্ঞে সতী কে নিমন্ত্রণ করা হয় নি । সতী পিতৃ গৃহে যাবার জন্য অস্থির হল কিন্তু ভগবান শঙ্কর সাবধান করলেন যে কোন কারনে তিনি উমার উপর রেগে আছেন । কিন্তু সতীর মন মানল না তখন শঙ্কর জী অনুমতি দিলেন যাবার জন্য । কিন্তু পিতৃ গৃহে গিয়ে পৌঁছে দেখলেন কেউ তাকে সেরকম স্নেহ ভরে কাছে ডাকছে না । একমাত্র মা জড়িয়ে ধরলেন । স্বয়ং দক্ষ তাকে নানা খারাপ কথা বললেন । তখন রাগে দুঃখে যজ্ঞাগ্নি র সাহায্যে নিজে কে ভস্মীভূত করলেন ।এই সংবাদ শুনে শিব ও তার অনুগামীরা দক্ষের যজ্ঞ ধ্বংস করলেন|পর জন্মে তিনিই শৈলরাজ হিমালয়ের কন্যা রুপে জন্ম নিলেন । এই জন্মে তিনি শিবের অর্ধাঙ্গিনী রুপে ছিলেন|নব দূর্গার প্রথম রূপটি হল শৌলপুত্রী।নবরাত্রি উত্সবের প্রথমদিনের পুজো হয় দেবী শৈলপুত্রীর। দেবী শৈলপুত্রী আসলে প্রকৃতির দেবী। শৈলপুত্রীর বাহন বৃষ । এঁনার দক্ষিণ হস্তে ত্রিশূল আর বাম হস্তে কমল আছে তাই দেবীর অপর নাম শুলধারিনি|দেবী পার্বতী রূপে জন্ম নেন ও শিব কে বিবাহ করেন|হিন্দুশাস্ত্র অনুযায়ী ব্রহ্মার শক্তির প্রতীক হলেন দেবী শৈলপুত্রী।শৈলরাজ হিমালয়ের কন্যা হবার জন্য দেবীর এক নাম হয় শৈলপুত্রী|শাস্ত্র মতেএই রূপের আরাধনায় বৃদ্ধি পায় মনোবল|মানসিক অস্থিরতা ও অবসাদ মুক্তি হয় দেবী শৈল পুত্রীর আরাধনায়|আগামী পর্বে দেবীর পরবর্তী নিয়ে আলোচনা করবো |পড়তে থাকুন|

বাংলার জমিদার বাড়ির দুর্গাপূজা – মহিষাদল রাজবাড়ি

কলকাতার বনেদী বাড়ি গুলির পাশাপাশি বাংলার জেলা গুলিতে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য প্রাচীন রাজ পরিবারের দুর্গাপূজা|মহিষাদল রাজবাড়ির পুজো যার মধ্যে অন্যতম|দেবী প্রতিমা এখানে সাজে সজ্জিত। যাঁর আরাধনা হয় সম্পূর্ণ বৈষ্ণব পদ্ধতিতে। রীতি মেনে আজও মহালয়ার পরদিন অর্থাৎ প্রতিপদে কুলদেবতা মদনগোপাল জিউয়ের মন্দির সংলগ্ন পুকুর থেকে ঘট উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় পুজো।এই রাজ পরিবারের ইতিহাস বেশ প্রাচীন ও ঘটনা বহুল|উত্তরপ্রদেশ থেকে এসেছিলেন জনার্দন উপাধ্যায়। তিনি রাজা কল্যাণ রায়চৌধুরীর থেকে মহিষাদলের জমিদারি কিনে নেন। অতঃপর ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে রাজা আনন্দলাল উপাধ্যায়ের স্ত্রী জানকীদেবীর হাত ধরে শুরু দুর্গাপুজো|পুজো হয় বৈষ্ণব মতে|তিথি অনুসারে হয় ভোগের পরিমান অর্থাৎ ষষ্টিতে ছয় মন ও সপ্তমীতে সাতমন চালের ভোগ|১০৮টি নীলপদ্ম দিয়ে পুজো করা হত এককালে|দেবীর বিসর্জন হতো ব্যতিক্রমী| দশমীর দিন গার্ড অব অনার দিয়ে দেবীকে নিয়ে যাওয়া হত গেঁওখালির রূপনারায়ণ নদীতে। আজ সেই রাজাও নেই সেই রাজত্বও নেই তবে নিষ্ঠা ও ভক্তি সহকারে প্রথা মেনে অনুষ্ঠিত হয় পুজো|আগামী পর্বে অন্যকোনো রাজবাড়ির কথা নিয়ে ফিরে আসবো|কাল আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠিত হয়েছে |আগামী দিনেও প্রতিটি বিশেষ তিথিতে এই ব্যবস্থা থাকবে|অংশ নিতে যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|নমস্কার|

বাংলার জমিদার বাড়ির দূর্গা পুজো : সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের পুজো

আজ এই পর্বে যে বাড়ির পুজোর কথা বলবো বাংলা তথা কলকাতার ইতিহাসে তার গুরুত্ব অপরিসীম|আজকের পর্বে সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের পুজো|

বাংলার ইতিহাসের বারো ভূঁইয়া দের অন্যতম ছিলেন লক্ষীকান্ত রায় চৌধুরী যিনি আকবরের রাজ প্রতিনিধি মান সিংহের থেকে মোট আটটি পরগনার স্বত্ব ও রায়চৌধুরী উপাধি লাভ করেন|যদিও তার আগেই এই পরিবার যথেষ্ট প্রভাবশালী ও বিত্তবান ছিলো|এই পরিবারের অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়েই লেখা হয়েছিল বিখ্যাত উপন্যাস বৌ ঠাকুরানীর হাট|রায় চৌধুরী উপাধি পাওয়ার পড় লক্ষীকান্ত রায় চৌধুরী বিরাট আকারে দুর্গাপূজা শুরু করেন|
প্রথমে হালি শহরে শুরু হলেও পরবর্তীতে পুজো অনুষ্ঠিত হয় বড়িশায়|বর্তমানে এই পরিবার বেশ কয়েকটি আলাদা পরিবারের বিভক্ত এবং মোট এখন মোট আটটি দূর্গা পুজো হয় সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারে তবে প্রধান পুজো বলতে বরিশার দুর্গাপূজাকেই বোঝায়|

শাক্ত, শৈব এবং বৈষ্ণব— এই তিন মত মিলে যায় পুজোতে|এবাড়ির পুজোতে ছিন্নমস্তা, বগলা, কমলাকামিনী, মাতঙ্গী, অর্থাৎ দশমহাবিদ্যা যেমন পূজিতা হন আবার সেই সঙ্গে রয়েছেন রাধাকৃষ্ণ|
বৈচিত্র পূর্ণ এই পারিবারিক পুজোতে কোথাও বৈষ্ণব মতে পুজো হয় আবার কোথাও তন্ত্র মতে|
ভোগের ক্ষেত্রেও রয়েছে এই বৈচিত্র কোনো বাড়ির পুজোতে যেমন অন্ন ভোগ হয় কোথাও আবার ফল ও মিষ্টি তবে সাবর্ণদের বাকি বাড়িগুলিতে আমিষ ভোগ হলেও নিমতার বাড়িতে সম্পূর্ণ নিরামিষ ভোগ হয়|আগে পশু বলী প্রথা থাকলেও এখন তা বন্ধ তবে কুমড়ো বা শশা বলী হয়|

আগে ঠাকুর টলিনালায় বিসর্জন হত। বর্তমানে অন্য ঠাকুরের মতোই বাবুঘাটে বিসর্জন হয়|দশমীর দিন সকালে ঘট বিসর্জনের পরে ঠাকুরের সামনেই শুরু হয় বিজয়া পর্ব|চণ্ডীমণ্ডপে প্রণামের রীতি এই পরিবারের অন্যতম বৈশিষ্ট|

আজ বিদায় নিচ্ছি|দেখা হবে পরের পর্বে|যারা নবরাত্রি তে গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে পারলেন না এবং আগামী দীপাবলি উপলক্ষে যারা বিশেষ প্রতিকার বা গ্রহ দোষ খণ্ডনের জন্য কথা বলতে চান ফোন করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|যারা হৃদয়েশ্বরী মা সর্ব মঙ্গলার মন্দির বা আমার গৃহ মন্দিরের সাথে যুক্ত হতে চান, অনলাইন পুজো দেখতে চান বা অঞ্জলি দিতে চান তাদের বলবো আমার ফেসবুক প্রোফাইলে সব তথ্য পেয়ে যাবেন|আর ওয়েবসাইটও রয়েছে চাইলে একবার ঘুরে আসতে পারেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|