Home Blog Page 107

কালীকা পুরান – অর্ধনারীশ্বর রূপ

বিভিন্ন পুরাণ ও প্রাচীন ধর্ম গ্রন্থে অর্ধনারীশ্বর রূপ নিয়ে রয়েছে মতভেদ এবং নানা রকম ব্যাখ্যা আজকের পর্বে লিখবো অর্ধনারীশ্বর রূপ সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পৌরাণিক তথ্য ও তার ব্যাখ্যা নিয়ে|শিবের বাহন ভৃঙ্গীর একবার ইচ্ছে হয়েছিল তার আরাধ্য শিবকে প্রদক্ষীণ করার। কিন্তু তাতে বাধ সাধলেন পার্বতী। তিনি তাঁর স্বামীর কোলে বসে থাকায় শিবকে প্রদক্ষীণ করতে পারলেন না ভৃঙ্গী কারন তিনি শুধু শিবকে প্রদক্ষিণ করবেন|উপায় না দেখে ভৃঙ্গী মাছির রূপ নিয়ে শিবকে প্রদক্ষীণ করার চেষ্টা করলেন। তখন পার্বতী তাঁর এবং শিবের মধ্যে সব ব্যবধান ঘুচিয়ে মিলে গেলেন মহেশ্বরের শরীরের সঙ্গে।সৃষ্টি হলো অর্ধনারীশ্বর রূপ|নারী শক্তির কাছে সেবার মাথা নত করতে হয়েছিলো শিবভক্ত ভৃঙ্গীকে|সেই রুপই অর্ধনারীশ্বর রূপ|বৈদিক একটি ব্যাখ্যাও আছে এই বিষয়ে|সৃষ্টির সূচনা লগ্নে ব্রহ্মার খেয়াল হয় যে জগত তো সৃষ্টি হয়েছে কিন্তু প্রান চাই, আরো সৃষ্টি চাই ভাবতে ভাবতে আচমকাই তাঁর চোখের সামনে ভেসে মহেশ্বরের আকার, যাঁর এক অংশ পুরুষের এবং বাকি অর্ধেক অংশ নারীর। এই দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্রহ্মা নিজেকে দু’ভাগে বিভক্ত করে ফেললে তার ডান দিকের অংশ থেকে জন্ম নিল পুরুষ লিঙ্গের সব প্রাণী এবং বাঁ দিক থেকে জন্ম নিল সব প্রাণীর নারী লিঙ্গ।অর্থাৎ সৃষ্টিকে পথ দেখিয়েছিলো অর্ধ নারীশ্বর রূপ|ভিন্ন একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যাও আছে,শোনা যায় একবার শিবের জটায় গঙ্গাকে অবস্থান করতে দেখে ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন পার্বতী। তাঁকে শান্ত করার জন্যে পার্বতীর শরীরের সঙ্গে নিজেকে মিশিয়ে দেন মহেশ্বর। একাংশে বর্তমান থাকে শিবের উপস্থিতি, অন্য অংশে বিরাজ করেন নারী শক্তি পার্বতী।শিব বুঝিয়ে দেন শিব ও পার্বতী এক এবং অভিন্ন|তারা আলাদা নন|সনাতন ধর্মে স্ত্রী সব সময়ে স্বামীর বাঁ-দিকে অধিষ্ঠান করেন। এই সব মেনেই অর্ধনারীশ্বরের নারী শক্তির স্থান বাঁদিকে। শুধু মহেশ্বরই নন, বিষ্ণুও যখন অর্ধনারীশ্বর অবতারে আবির্ভূত হন, তখন তাঁর বাঁদিকেই জায়গা হয় দেবী লক্ষী বা শ্রীরাধিকার, এটাই রীতি|বিজ্ঞান অনুসারে হৃদয়ের সাথে সম্পর্ক রয়েছে শরীরের বা দিকের এবং মস্তিস্ক ডান দিকের সাথে যুক্ত|বুদ্ধি এবং আবেগ নিয়ন্ত্রিত হয় যথাক্রমে মস্তিস্ক ও হৃদয় দিয়ে|সহজ ভাষায় বলা যায় শিবের অস্তিত্ব নির্ভর করে আদ্যাশক্তির উপর ।আদ্যা শক্তি মহামায়া আছেন বলেই শিব আছেন। তিনি তাঁরই ভাবনা এবং চিন্তার নারী রূপ।দেবী আছেন বলেই জ্ঞান, সম্পত্তি এবং পরাক্রম আছে। শক্তি সর্বদাই রূপান্তরিত হতে থাকেন, তিনি মায়া এবং তাঁকে সর্বদা মান দিয়ে আসেন মহেশ্বর। তাঁরা এক এবং অভিন্ন।পরবর্তী পর্বগুলিতে থাকবে আরো অনেক পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনা থাকবে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালীকা পুরান – নরকাসুরের কথা

নরকাসুরের কিংবদন্তি কামরূপ রাজ্যের ইতিহাসে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কারন কামরূপ শাসন করা কয়েকটি রাজবংশ নরকাসুর থেকেই সৃষ্টি হয়েছে বলে মানা হয়। গুয়াহাটীর দক্ষিণে তার নামে একটি পাহাড়ও আছে। দেবী কামাখ্যা এবং তন্ত্র সাধনার পীঠ স্থান কামাখ্যার সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত নরকাসুর যার সম্পর্কে অনেক তথ্য আছে আসাম রাজ্যে রচিত কালীকা পুরানে|আজ আপনাদের জন্য লিখবো নরকাসুর নিয়ে|রামায়ণ এবং মহাভারতেও নরকাসুরের সৃষ্টি প্রাগজ্যোতিষ রাজ্যের উল্লেখ আছে। তার পুত্র ভগদত্ত‌ মহাভারতের যুদ্ধে কৌরবদের হয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন|নরকের মাতা ভূমি দেবী বিষ্ণুর কাছে বর চেয়েছিলেন যেন তার পুত্র দীর্ঘ জীবন লাভ করে এবং সে শক্তিশালী হয়। বিষ্ণু এই বর পূরণ করেন। সঙ্গে বিষ্ণু নরকাসুরকে কামাখ্যা দেবীর পূজা করতে শেখান। প্রথম অবস্থায় ভাল ভাবে শাসন করা নরকাসুর পরে অত্যাচারী হয়ে ওঠে।নরকাসুর কামাখ্যা দেবীকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। দেবীকে বলাতে দেবী শর্ত রাখেন যে একরাতে যদি নরকাসুর নীলাচল পাহাড়ের তলা থেকে মন্দির পর্যন্ত সিঁড়ি নির্মাণ করতে পারেন তবে তিনি বিয়ে করতে রাজী হবেন। নরকাসুর সেইমত সিড়ি নির্মাণ করে রাত পেরোনোর আগে শেষ করার উপক্রম করলেন। কামাখ্যা দেবী তখন একটি মোরগকে আদেশ দিলে সে ডাক দেয়। নরকও রাত পেরোলো এই ভেবে কাজঅসম্পূর্ণ রাখলেন এবং ফল স্বরূপ দেবী তাকে স্বামী রূপে প্রত্যাখ্যান করলেন|পুরানে আরো একটি ঘটনার উল্লেখ আছে যেখানে বশিষ্ঠ মুনিকে কামাখ্যা মন্দিরে উপাসনা বাঁধা পেয়ে তিনি নরকাসুর এবং দেবীকে অভিশাপ দেন যে এই মন্দিরে পূজা করা কারো মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে না।পরবর্তীতে শিবের হস্তক্ষেপে এই অভিশাপ সেই বছর পর্যন্ত সীমিত হয়। অন্যদিকে নরকাসুর বিষ্ণু এবং কামাখ্যার অপ্রিয়ভাজন হয়ে ওঠেন।পৃথিবীর সকল রাজ্য জয় করার পর নরকাসুর স্বর্গ আক্রমণ করেন এবং ইন্দ্র পালাতে বাধ্য হন। স্বর্গর অপ্সরাদের অপহরণ করে নিয়ে যান। পরবর্তীতে কৃষ্ণর ভার্যা সত্যভামাকে অদিতি নরকাসুরের কুকীর্তি বলে। সত্যভামা কৃষ্ণকে নরকাসুরের বিপক্ষে যুদ্ধের জন্য রাজি করান। কৃষ্ণ এবং সত্যভামা গরুড়ে উঠে নরকাসুরের রাজ্য আক্রমণ করেন। প্রথমে কৃষ্ণ‌ নরকাসুরের সেনাপতি মুর কে বধ এবং অবশেষে সুদর্শন চক্র দ্বারা কৃষ্ণ‌ নরকাসুরকে বধ করেন|নরকাসুর ও কৃষ্ণর এই যুদ্ধ এবং আরো অনেকপৌরাণিক তথ্য লিপিবদ্ধ আছে কালীকা পুরানে|পরবর্তী পর্বগুলিতে থাকবে আরো অনেক পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালিকা পুরান – মহিষাসুর বধ

দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধ সম্পর্কে কম বেশি আমরা সবাই জানি কিন্তু কালিকা পুরানে দেবী কোন কোন রূপে কোন সময়ে মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন তার বিস্তারিত বিবরণ আছে|আসুন আজ জেনে নিই কালীকা পুরান অনুসারে মহিষাসুর বধ পর্ব|কালীকা পুরানে দেবীর সৃষ্টি, তার রূপস্বজ্জা, অস্ত্র প্রাপ্তি, রনক্ষেত্রের বিবরণ, যুদ্ধের সময়কাল সব বিস্তারিত ভাবে লিপিবদ্ধ আছে|পুরান অনুসারে একশতবর্ষব্যাপী যুদ্ধের পর দেবতাদের পরাস্ত করে মহিষাসুর দেবতাদের তাড়িয়ে দিলেন স্বর্গ থেকে। অধিকার করলেন স্বর্গলোক। মুনি ঋষিরাও রেহাই পেলেন না তার অত্যাচার থেকে।নিজেই অধিকার করে বসলেন ত্রিভুবন|ত্রিলোকের কোনও পুরুষই তাকে পরাভূত করতে পারবে না এই ছিলো ব্রম্হার বর|বিতাড়িত দেবতারা ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের শরণাপন্ন হলেন এবং তাদের মুখে মহিষাসুরের ভয়াবহ অত্যাচারের কাহিনি শুনে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর ক্রোধান্বিত হলেন। ত্রিদেবের ক্রোধাগ্নির প্রচণ্ড তেজ ও দেবতাদের পুঞ্জীভূত রোষ সম্মিলিত হয়ে হিমালয়ের শীর্ষে মহর্ষি কাত্যায়নের আশ্রমে আবির্ভূতা হলেন দেবী কাত্যায়নী|ঋষি কাত্যায়নের আশ্রমে দশভূজার সৃষ্টিকার্য হয়েছিল বলে দেবী দুর্গার আর এক নাম ‘কাত্যায়নী’।কালীকা পুরাণ অনুসারে, শিবের তেজ থেকে দেবীর মুখ, যমের তেজে চুল, বিষ্ণুর তেজে বাহু, ব্রহ্মার তেজে পদযুগল, অগ্নির তেজে ত্রিনয়ন ও অন্যান্য দেবতার তেজে দুর্গার সৃষ্টি হয়। দেবী দুর্গা প্রবল পরাক্রমে এবং কৌশলে পরাজিত হল মহিষাসুরের বাহিনীকে। এরপর শুরু হল মহিষাসুর এবং দেবী দুর্গার দ্বন্দ্ব যুদ্ধ। প্রবল যুদ্ধে কম্পিত হয়ে উঠল ত্রিভূবন। অবশেষে যুদ্ধে পরাজিত মহিষাসুরের গলায় পা রেখে ত্রিশুল দিয়ে তার বক্ষ বিদীর্ণ করে তাকে বধ করেন দেবী মহিষাসুরমর্দিনী|কালিকা পুরাণ অনুসারে দেবী তিনবার মহিষাসুরকে বধ করেন। আদি সৃষ্টি কল্পে অষ্টাদশভূজা উগ্রচণ্ডী রূপে মহিষাসুরকে বধ করেন। দ্বিতীয় সৃষ্টি কল্পে ষোড়শভুজা ভদ্রকালী রূপে মহিষাসুরকে বধ করেন। আবার তৃতীয় সৃষ্টি কল্পে দশভূজা দেবী দুর্গা রূপে মহিষাসুরকে বধ করেন। মহিষাসুর তৃতীয়বার বধ হওয়ার পর দেবীর আশীর্বাদে তিনি চিরতরে দেবীর পদতলে স্থান পান।ফিরে আসবো পরের পর্বে|কালীকা পুরান নিয়ে|থাকবে আরো অনেক পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালীকা পুরান – ভৃঙ্গী ও মহাকাল

কালীকা পুরানে দেবী কালীকা শুধু নয় শিব ও শিবের অনুচর সংক্রান্ত বহু তথ্য রয়েছে, রয়েছে বহু পৌরাণিক ঘটনা ও তার ব্যাখ্যা|আজ লিখবো শিবের অনুচর ভৃঙ্গী ও মহাকালের কথা| কালীকা পুরান অনুসারে ভৃঙ্গী ও মহাকাল দুজনেই শিবের অনুচর। একবার শিব পাৰ্বতীর সঙ্গে কৈলাশে ভ্রমন করছিলেন সেই সময় ভূঙ্গী ও মহাকাল দ্বাররক্ষক রূপে নিযুক্ত ছিল। গোপনে তারা শিব ও পার্বতীর অনুশাসন ভেঙে শিব ও পার্বতীকে একত্রে দেখে ফেলে এবং তাতে পার্বতী ক্রুদ্ধ হয়ে এদের মনুষ্যযোনিতে জন্ম হবে বলে অভিশাপ দেন|পরবর্তীতে ভৃঙ্গী ও মহাকাল শিবানীর কাছে প্রার্থনা করে যে শিব ও শিবানীও যেন মনুষ্যরূপে জন্মগ্রহণ করেন কারন তারা শিবানীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করতে চায় । শিব দক্ষের পৌত্র পৌষ্যের পুত্ররূপে জন্মগ্রহণ করে। তখন তাঁর নাম হল চন্দ্ৰশেখর। ওদিকে শিবানী ইক্ষাকুবংশীয় এক রাজকন্যারূপে জন্মগ্রহণ করেন । তখন, তার নাম হল তারাবতী । চন্দ্ৰশেখরের সঙ্গে তারাবতীর বিবাহ হয় । তঁদের দুটি বানর পুত্র জন্মগ্রহণ করে । তারাই হচ্ছে বেতাল ও ভৈরব অর্থাৎ ভৃঙ্গী ও মহাকালের মনুষ্য যোনি| মহাদেবের আরও অনুচর ছিল যাদের উল্লেখ আছে কালীকা পুরানে যথা কুবের, নন্দী, ভূঙ্গী, মহাকাল,বেতাল, যোগিনী, ভৈরবী, যক্ষ, রাক্ষস ইত্যাদি।এদের সৃষ্টি সম্পর্কে বলা হয়েছে ব্ৰহ্মা প্ৰথম জল সৃষ্টি করেন । তারপর সেই জল রক্ষার জন্য যে প্ৰাণীদের সৃষ্টি করেন তার হল রাক্ষস । যক্ষদের রাজা হলেন কুবের । কৈলাসের অলকাপুরীতে তার বাসস্থান । কুবের মহাদেবের ধনরক্ষক । তিনি মানুষকে ধনপ্রদান করেন । আবার যোগিনীরা শিবানীর সহচরী। তারা বিভিন্ন সময়ে শিবানীকে সাহায্য করে ও তাঁর আদেশ অনুসারে কাজ করে । যোগিনীরা সংখ্যায় চৌষট্টি জন । তাদের মধ্যে প্ৰধান হচ্ছে ভৈরবী । তিনি দশমহাবিদ্যার অন্যতমা|এই সব তথ্য আমরা পাই কালীকা পুরান সহ একাধিক গ্রন্থে| আগামী পর্বগুলিতে কালীকা পুরান অনুসারে আরো অনেক পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কালীকা পুরান – শিবের বিবাহ

সনাতন ধর্মে যে আঠেরোটি উপপুরান আছে তারমধ্যে অন্যতম কালীকা পুরান|এই পুরানে একাধিক শাস্ত্রীয় বিষয়ের ব্যাখ্যা ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনার উল্লেখ আছে|যার মধ্যে বেশ কয়েকটি নিয়ে আগামী কয়েকটি পর্বে ধারাবাহিক ভাবে লিখবো|প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথিতে মহা শিবরাত্রি পালিত হয়। কালীকা পুরান মতে এই তিথিতেই হয়েছিল শিব ও পার্বতীর বিবাহ|পাশাপাশি বিবাহের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে|শুরু করবো শিবের বিবাহ দিয়ে|পার্বতীর কাছ থেকে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে দেবতারা কন্দর্প নামক তাদের এক দূতকে শিবের কাছে পাঠান।শিব সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ও তৃতীয় নেত্র দিয়ে কন্দর্পকে ভস্ম করে দেন। কিন্তু দীর্ঘ কাল কঠোর তপস্যা করে শিবকে মনে মনে নিজের স্বামীরূপে মেনে নিয়েছিলেন পার্বতী।পার্বতীর দীর্ঘশ্বাস ও মনের ব্যাথ্যায় সমস্ত স্থানে হাহাকার শুরু হয়েছিল। বড় বড় পর্বতের ভিতও নড়ে গিয়েছিল। তখন শিব নিজের ধ্যান থেকে উঠেছিলেন এবং পার্বতীকে বলেছিলেন যে তিনি যেন তাকে বিবাহের ইচ্ছা ত্যাগ করেন ও কোনও যুবরাজের সঙ্গে বিয়ে করে নেন কারণ শিবের সঙ্গে বসবাস করা সহজ নয়।কিন্তু হিমালয় কন্যা পার্বতী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি শিব ছাড়া কাউকে বিবাহ করবেন না। পার্বতীর ভালোবাসা দেখে মহাদেব তাঁকে বিবাহ করতে প্রস্তুত হন|কিন্তু তাদের বিবাহ সম্পন্ন হওয়াও বেশ নাটকীয় ছিলো|শিব যখন পার্বতীর সঙ্গে বিবাহ করতে যান, তখন তাঁর সঙ্গে ডাকিনি, ভূত-প্রেত, পেত্নী ছিল। ডাকিনি ও পেত্নীরা শিবকে ভস্ম দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছিলেন ও নরমুন্ডের মালা পরিয়েছিলেন কণ্ঠে ছিলো বাসুকি নাগ|শিবের এই আশ্চর্যজনক বরযাত্রী পার্বতীর গৃহে পৌঁছালে সমস্ত গিরিরাজ ও মেনকা সহ সব দেবতা চমকে গেছিলো ও ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। এই বিচিত্র রূপে শিবকে মেনে নিতে পারেননি পার্বতীর মা। তখন তিনি শিবের সঙ্গে নিজের মেয়ের বিবাহ দিতে অসম্মত হয়েছিলেন। পরিস্থিতি খারাপ দিকে এগোতে দেখে পার্বতী শিবকে বিবাহের জন্য নিয়মনীতি অনুযায়ী তৈরি হয়ে আসতে প্রার্থনা করেছিলেন। শিব তাঁর প্রার্থনা স্বীকার করেছিলেন। সমস্ত দেবী-দেবতাকে সুন্দর ভাবে বরবেশে সাজিয়ে দিয়েছিলেন। ঐশ্বরিক জল দিয়ে মহাদেবকে স্নান করানো হয়, রেশমের ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল। শিবের এই দিব্য রূপ দেখে পার্বতীর পিতা মাতা সহ উপস্থিত সকলে বিবাহে রাজি হয়েছিল|স্বয়ং ব্রহ্মার উপস্থিতিতে ও পৌরোহিত্বে শিব পার্বতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। আগামী পর্বে কালীকা পুরান অনুসারে এমনই কোনো পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শুভ কল্পতরু দিবস ও নতুন বছরের শুভেচ্ছা

আজকের দিনে 1886 সালে কাশিপুর উদ্যান বাটিতে ঠাকুরের স্পর্শে তার উপস্থিত গৃহি ভক্তরা ঐশ্বরিক শক্তি অনুভব করেন নিজেদের মধ্যে এর পর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণও অকাতরে ভক্তদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে লাগলেন।সেখানে উপস্থিত ভক্ত রামচন্দ্র দত্ত শ্রীরামকৃষ্ণের ওই দৈব্য রূপ ও অকাতর ‘দান’ দেখে, পুরাণের ‘কল্পতরু-বৃক্ষ’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।সেই থেকে চলে আসছে এই কল্পতরু দিবস পালনের রীতি|

আজ ইংরেজি নব বর্ষের সূচনাও বটে আশা করবো সবার সব স্বপ্ন পূরণ হোক এই বছরে,আর আগামী দিনে যেনো কোনো নতুন বিপদে আমাদের না পড়তে হয়, মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার কৃপায় দূর হোক সব বাঁধা বিপত্তি, সব দিয়ে সার্থক ও সুম্দর হোক নতুন বছরের সূচনা|নতুন বছরে ফিরে আসবো নতুন লেখা, নতুন অনুষ্ঠান নিয়ে অবশ্যই থাকবে কিছু নতুন চমক যা নিয়ে যথা সময়ে বলবো|আমার সব শুভাকাঙ্খী ও সোশ্যাল মিডিয়ার বন্ধুদের জানাই নতুন বছরের শুভেচ্ছা, জানাই হ্যাপি নিউ ইয়ার|সুস্থ্য থাকুন ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

নেপাল ভ্রমণ – চিতয়ান জাতীয় উদ্যান

নেপাল মানেই শুধু হিমালয়, মন্দির আর বৌদ্ধ স্তুপ নয়|নেপালের অন্যতম আকর্ষণ তার সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যান যার পোশাকি নাম চিতয়ান বা চিতবন জাতীয় উদ্যান|আজ গেছিলাম এই সংরক্ষিত অরণ্যে জঙ্গল সাফারির উদ্দেশ্যে|খোলা মেলা প্রাকৃতিক পরিবেশে এখানকার জীব বৈচিত্র দেখে মুগ্ধ হয়েছি|নেপালের তরাই অঞ্চলে রয়েছে এই ‘চিতওয়ান জাতীয় উদ্যান’। আসলে উপনিবেসিকতার যুগে ভারতের ন্যায় নেপালের বন ও বন্যা প্রাণীও নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়|একটি ঘটনার কথা বলি এই প্রসঙ্গে, ১৯১১-য় নেপালের রাজার আমন্ত্রণে আসেন ব্রিটেনের রাজা পঞ্চম জর্জ ও পুত্র অষ্টম এডওয়ার্ড।আসল উদ্দেশ্য শিকার, শোনা যায় সেই সময় প্রায় ৪০টি বাঘ ও ১৮টি একশৃঙ্গ গণ্ডার বন্দুকের গুলির শিকার হয়।বহু বার এমন হয়েছে নেপাল ভুটান সহ কোচ রাজাদের ছিলো শিকারের শখ, সত্যজিৎ রায়ের রয়েল বেঙ্গল রহস্য আপনাদের নিশ্চই মনে আছে, সেখানেও এরম শিকারের উল্লেখ পাওয়া যায়, যাই হোক ধীরে ধীরে বাঘের ও অন্য প্রাণী দের সংখ্যা সংখ্যা কমতে শুরু করে। তারপর স্বাধীনতার পর শিকার নিষিদ্ধ হয়।বন্যাপ্রাণ সংরক্ষণ ও পর্যটন কে উৎসাহ দিতে তৈরি হয় এই জাতীয় উদ্যান|১৯৮৪ সালে ইউনেসকো চিতওয়ানকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’-এর মর্যাদা দেয়। প্রায় ৯৩২ বর্গ কিলোমিটার অরণ্যের আয়তন এখানে যার মধ্যে সৌরাহার বাঘমারা অংশেই ঘুরতে পারেন পর্যটকরা বাকিটা জনসাধারনের জন্য উন্মুক্ত নয়|চিতবন রাষ্ট্রীয় অরণ্যে প্রায় ৭০০ প্রজাতির অধিক বন্যপ্রাণ ও গাছপালা দিয়ে সাজানো হয়েছে|রয়েছে প্রজাপতি, মথ এবং পোকার অসংখ্য প্রজাতি|দেখা যায় শঙ্খচূড় এবং শিলা পাইথন সহ সাপের অন্যান্য ১৭ প্রজাতি, রয়েছে বিরল প্রজাতির কচ্ছপ এবং গুই সাপ|এখানে প্রতি বছর ঘড়িয়ালের ডিম সংগ্রহ করা হয় নদী থেকে, ঘড়িয়াল সংরক্ষণ প্রকল্পে ছানাগুলোকে ৬-৯ বছরের বড় করা হয়। প্রতিবছর তরুণ ঘড়িয়ালগুলোকে নারায়ণী-রাপ্তি নদী প্রক্রিয়ার মধ্যে পুনর্বাসন করা হয়|বর্তমানে গন্ডার, বাঘ, ভাল্লুক হরিণ সহ অসংখ্য প্রাণীর নিরাপদ বিচরণ ভূমি এই চিতয়ান জাতীয় উদ্যান|যা আপনি দেখতে পাবেন জিপে চড়ে|সঙ্গে একটি দূরবীন থাকলে বহু দূরে থাকা জীব বৈচিত্র আপনার চোখে ধরা দেবে যা আনন্দকে নিঃসন্দেহে আরো কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয়|সব দেখে শুনে আমি এতটাই মুগ্ধ যে অরণ্য ছেড়ে ফেরার ইচ্ছে নেই বললেই চলে|তবু বেরোতে হবে সময় নির্ধারিত|আবার পরের গন্তব্য নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|সঙ্গে থাকুন|ধন্যবাদ|

নেপাল ভ্রমণ – গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনী

ভাবতেও অদ্ভুত লাগে যে মাটিতে, যে স্থানে ভগবানের অবতার গৌতম বুদ্ধ জন্মেছিলেন সেই পবিত্র স্থানে আমি এই এখন দাঁড়িয়ে আছি..হ্যাঁ ঠিকই ধরেছেন,নেপাল ভ্রমণ পর্বে আজ আমি জগৎ প্রসিদ্ধ লুম্বিনী তে আছি..বর্তমানে নেপালের দক্ষিন পশিমাঞ্চলের একটি ছোট্ট শহর লুম্বিনী যা প্রত্নতাত্ত্বিক ভাবে প্রায় পাঁচশো পঞ্চাশ খ্রিষ্ট পূর্বের নিদর্শন বহন করছে।স্থানটি বৌদ্ধ এবং হিন্দু দুই ধর্মের মানুষের কাছেই অতি পবিত্র|ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বও অপরিসীম|বৌদ্ধধর্মের একাধিক প্রাচীন গ্রন্থে বলা হয়েছে হিমালয়ের পাদদেশে নেপালের লুম্বিনিয়াজনপদে গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়।বৌদ্ধ পুরাণ অনুযায়ী গৌতম বুদ্ধের মা মায়াদেবী শাক্য রাজধানী কপিলাবস্তু থেকে তার পৈতৃক বাসগৃহে যাচ্ছিলেন তখন তিনি গর্ভবতী এবং পথেই লুম্বিনি বনে একটি শালগাছের নিচে গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়।বুদ্ধের জন্মের আগে মায়াদেবী এখানে একটি দীঘিতে স্নান করেন।সেই দীঘিতে সিদ্ধার্থকেও জন্মের পর স্নান করানো হয়।এই জলাশয়টি পবিত্র পুষ্করিণী হিসেবে খ্যাত যার প্রতিটি জল বিন্দুতে রয়েছে বুদ্ধের স্পর্শ ।বর্তমানে লুম্বিনিতে রয়েছে এই পবিত্র পুষ্করিণী। রয়েছে মায়াদেবী মন্দির।এই মন্দিরের একটি স্থান চিহ্নিত করা রয়েছে।বলা হয়ে থাকে ঠিক এই স্থানেই গৌতম বুদ্ধের জন্ম হয়েছিল|সেই জলাশয় দর্শন করে আমি ধন্য|গৌতম বৌদ্ধের মাতা মায়া দেবী বাগানের একটি গাছের কাছে বৌদ্ধের জন্ম দিয়েছিলেন। সেখানে তার নামে একটি মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। ছোট একটি পার্কের মাঝখানে রয়েছে সুন্দর এই মন্দিরটি|প্রতিবছর বৈশাখী পূর্ণিমায় লুম্বিনির অধিষ্ঠাত্রী মায়াদেবীর মন্দিরে পুজো দিতে হাজার হাজার হিন্দু তীর্থ যাত্রী এই তীর্থে আসেন।হিন্দুপুরাণে মায়াদেবীকে রূপাদেবী বলা হয়ে থাকে।বৈশাখী পূর্ণিমা ছাড়াও প্রতিদিনই সকাল থেকে বৌদ্ধ পুণ্যার্থীরা লুম্বিনিতে আসেন এবং সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান দর্শন করেন।শুধু জন্মগ্রহণই নয় সিদ্ধার্থ বুদ্ধ হওয়ার পরও লুম্বিনিবনে এসেছিলেন।তিনি দেবদহতে যাওয়ার পথে লুম্বিনিবনে কিছুকাল বাস করে ছিলেন এবং এই স্থানেই তিনি বিখ্যাত দেবদহ সুত্ত বর্ণনা করেন।ইউনেস্কো লুম্বিনিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষণা করেছে।কজ লুম্বিনী তে এসে বুদ্ধজন্মস্থান দেখার পাশাপাশি বেশ কিছু প্রাচীন মন্দির,মঠ ও অশোকস্মারক স্তম্ভ দর্শন করলাম|মৌর্য সম্রাট অশোক এই তীর্থভূমি পরিদর্শনে এসেছিলেন এবং তার আগমনের স্মারক হিসেবে এখানে এই অশোক স্তম্ভ স্থাপন করা হয়।ষষ্ঠ শতকে বিখ্যাত চীনা সন্ন্যাসী ও পর্যটক ফা হিয়েন তার লেখায় এই অশোক স্তম্ভর কথা বর্ণনা করেছেন|নেপালের অন্যতমশাসক খাদগা সোমেশ্বর রানার উদ্যোগে নেপালী প্রত্নতত্ববিদরা এই অশোক স্তম্ভ আবিষ্কার করেন|সারা বিশ্বের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রধান তীর্থ স্থান গুলির মধ্যে লুম্বিনি হলো অন্যতম। অন্য তিনটি হলো কুশিনগর,বুদ্ধগয়া এবং সারনাথ।প্রতিবছর বৈশাখী পূর্ণিমায় লুম্বিনির অধিষ্ঠাত্রী মায়াদেবীর মন্দিরে পুজো দিতে হাজার হাজার হিন্দু তীর্থ যাত্রী এই তীর্থে আসেন।হিন্দুপুরাণে মায়াদেবীকে রূপাদেবী বলা হয়ে থাকে।ইতিহাস ও পুরান ও ধার্মিক গুরুত্ব ছাড়াও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যর দিক দিয়েও লুম্বিনী কোনো অংশে কম নয়|নেপাল ভ্রমণ সম্পূর্ণ হতে পারেনা লুম্বিনী না দেখলে|আর সব অভিজ্ঞতা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পেরে আনন্দ আরো বেড়ে যায়|সঙ্গে থাকুন|ভালো থাকুন|পড়তে|থাকুন|ধন্যবাদ|

নেপাল ভ্রমণ: পোখরার কিছু দর্শনীয় স্থান

গতকালের মনোস্কামনা মন্দির দর্শন দৈহিক ভাবে কিছুটা ক্লান্তি এনেছিল কারন দুর্গম ও প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ পদে পদে শক্তির পরীক্ষা নেয়|তবে নেপালের সৌন্দর্য এতটাই মনোরম ও মায়াবী যে ক্লান্তি নিমেষে দূর হয়ে যায় আবার নতুন গন্তব্য হাত ছানি দিয়ে ডাকে|আজকের গন্তব্য পোখরা, এই পোখরা নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ২০০ কিমি পশ্চিমে অবস্থিত এবং নেপালের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ শহর|ভারতে যেমন কাশ্মীরকে ভুস্বর্গ বলা হয় তেমনই “নেপালের ভূস্বর্গ” বলা হয় এই পোখরাকে|দেখার মতো অসংখ্য ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থান রয়েছে পোখরায়….প্রথমে বলবো ডেভিস ফলসের কথা যা পোখারার অন্যতম আকর্ষন। ছোট একটি ঝর্ণার নাম ডেভিস ফলস। বহুকাল আগে এক দম্পতি ঝর্নায় নেমে স্নান করছিল। সেই সময়ে জলের তোড়ে ভেসে যান ওই মহিলা পর্যটক এবং কিছুদিন পর তার মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তিতে নেপাল সরকার মৃত ট্যুরিস্টের নামে ঝর্ণার নাম রাখে ডেভিস ফলস|পাহাড়ি এই ঝর্ণা বেশ সুন্দর এবং মনোরম|ডেভিস ফল উল্টো দিকেই রয়েছে মহেন্দ্র গুহাটি মৃত রাজা মহেন্দ্র বির বিক্রম শাহাদেবের নামে নামাঙ্কিত|নেপাল রাজ পরিবার বরাবরই পরম শিব ভক্ত এবং তাদের অনুপ্রেরণায় গুহার ভিতরে মহাদেবের মুর্তি স্থাপন করা হয়|গুহার অভ্যন্তরের প্রাকৃতিক নিস্তব্ধতা|অন্ধকার ও বাদুড়ের ডানা এবং জলপ্রবাহের শব্দ বেশ গা ছম ছমে পরিবেশ সৃষ্টি করে|পোখরা ভ্রমন অসম্পূর্ন থেকে যাবে বিন্ধ্যবাসিনী মন্দির না দেখলে পোখরা অঞ্চলে বসবাসকারী হিন্দুদের কাছে অত্যন্ত ধর্মীয় গুরুত্ব বহন করে এই মন্দিরটি দেবী দুর্গাকে উত্সর্গীকৃত, যিনি পোখারার নির্বাচিত অভিভাবিকা|বিন্ধ্যবাসিনী মন্দিরটি 1845 খ্রিস্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভগবতী এখানে প্রতিদিন পূজিতা হয়ে আসছে।আজও পশু বলি হয় এবং সাধারণত শনিবার এবং মঙ্গলবার বেছে নেয়া হয় বলীর জন্য|পোখরা সম্পর্কে বলতে গেলে আরো একটি গুহার কথা বলতেই হয়|ডেভিস ফলস এর বিপরীতে রয়েছে গুপ্তেশ্বর গুহা ডেভিস ফলসের জল এই গুহার মধ্য দিয়ে যায়।এখানেই স্বেতি নদী ভূগর্ভ থেকে বের হয়েছে। গুহা মন্দিরটি 16 শতকের দিকে আবিষ্কৃত হয় । স্বয়ং শিব রয়েছেন এই গুহায়|প্রায় 3 কিমি দীর্ঘ এই গুহা পোখরার অন্যতম আকর্ষণ|পোখরা আরো একবার মুগ্ধ করলো তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র দিয়ে|দেখা যাক আর কি কি অপেক্ষা করে আছে পরবর্তী পর্বে|পড়তে থাকুন|সঙ্গে থাকুন|ধন্যবাদ|

নেপাল ভ্রমণ – মনোস্কামনা মন্দির দর্শন

প্রথম দিনের নেপাল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ছিলো অনবদ্য তবে নেপাল মানেই তীর্থ যাত্রী বা পর্যটকদের স্বর্গ রাজ্য কারন এ দেশের কোনায় কোনায় লুকিয়ে আছে মন্দির ও বৌদ্ধ স্তুপ আর তাদের ঘিরে আছে অসংখ্য পৌরাণিক কাহিনী ও ইতিহাস|আজ গেছিলাম বিখ্যাত মনোস্কামনা মন্দিরে যাকে স্থানীয় ভাষায় অনেকেই মনকামনা মন্দির ও বলেন… সে এক দুর্গম রাস্তা…আগাগোড়া পাহাড়ি পথ দিয়ে যেতে হয়। প্রথমে গাড়িতে,তারপর হেঁটে, প্রায় ৮০০ ধাপ সিঁড়ি অতিক্রম করে তবে পৌছালাম মূল মন্দির চত্বরে| মনোস্কামনা মন্দির নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ড‌ু থেকে পশ্চিমে ১৪০ কিলোমিটার দূরে উঁচু এক পাহাড়ের মাথায় অবস্থান করছে|১৭’শ শতাব্দীর পুরনো এই মন্দির পাহাড়ের গায়ে ১৩০২ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে ত্রিশুলী নদী এবং রয়েছে এক গভীর খাদ। মন্দিরের অধিষ্টাত্রী দেবী হলেন মনোকামনা দেবী।মনের অভীষ্ট কামনা পূর্ণ করেন তাই অধিষ্ঠাত্রী দেবীর নাম মনোকামনা রাখা হয়েছে।সমগ্র নেপালবাসীর কাছে দেবী অত্যন্ত জনপ্রিয় ও জাগ্রত|কথিত আছে মনোকামনা দেবীর কাছে প্রার্থনা করলে মনের ইচ্ছে পূরণ হয় তাই শুধু নেপাল নয় দেশ বিদেশ থেকেও দর্শণার্থীরা ছুটে আসেন| মনোস্কামনা মূলত দেবী ভগবতী, দুর্গা এবং কালীর মিশ্র রূপ। দেবীর মন্দিরে যাওয়ার আগে দেবীর পুজোর জন্য নিয়ে যেতে হয় ফুল, ধূপ ও লাল কাপড় কারন মন্দিরে নির্দিষ্ট জায়গায় লাল কাপড় বেঁধে, প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবীর কাছে নিজেদের প্রার্থনা জানান ভক্তরা। মনোকামনা দেবী খাঁটি সরল মনে চাওয়া ভক্তের প্রার্থনা সব সময় পূরণ করেন বলে মনে করা হয়| হয়তো আপনাদের ২০১৫-র ভয়াবহ ভূমিকম্পের কথা মনে আছে যাতে নেপালের একাধিক ঐতিহাসিক পর্যটন স্থল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ছিলো তখন ভালোরকম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দেবী মনোস্কামনা মন্দিরটি। পরবর্তীতে সেটি সংস্কার করে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলা হয়| দেবীর মনোকামনা কে নিয়ে বহু গল্প বহু জনশ্রুতি প্রচলিত আছে কেউ কেউ এই মন্দির কে অন্যতম শক্তিপীঠ বলে মনে করেন যদিও এই মতের স্বপক্ষে সঠিক তথ্যের কিঞ্চিৎ অভাব আছে|আবার নেপালের অন্যতম শাসক রাম শাহের রাণী স্বয়ং মনোকামনা দেবীর অবতার ছিলেন এমনটাও বিশ্বাস করেন বহু মানুষ|  সারা বছর ভিড় থাকলেও দশহরায় দেবীর বিশেষ পূজার জন্য প্রচুর ভক্তসমাগম ঘটে। তন্ত্র মতে দেবীর পুজো হয় এখানে প্রতি অষ্টমী তিথিতে বলিদানের রীতি আজও প্রচলিত আছে। মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ|আধ্যাত্মিক অনুভূতি এবং সর্বোপরি দেবী মনোস্কামনার দর্শন|সব মিলিয়ে আজকের ভ্রমণ স্বার্থক|আগামী দিনে আবার নতুন গন্তব্য আবার নতুন অভিজ্ঞতা|সবই আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবো যথা সময়ে|সঙ্গে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|