Home Blog Page 108

দেবী দুর্গার দশ হাতের রহস্য

যেমন টা কথা দিয়ে ছিলাম আগেই যে দেবী দূর্গা কে নিয়ে ফিরে আসবো, আজ শুরু করবো দেবী দুর্গার নাম ও তার দশ হাতের ব্যাখ্যা দিয়ে| আমাদের শাস্ত্রে ‘দুর্গা’ শব্দটিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলা হয়েছে ‘দৈত্যনাশার্থবচনো দকারঃ পরিকীর্তিতঃ। উকারো বিঘ্ননাশস্য বাচকো বেদসম্মত।। রেফো রোগঘ্নবচনো গশ্চ পাপঘ্নবাচকঃ। ভয়শত্রুঘ্নবচনশ্চাকারঃ পরিকীর্তিত।।’ দুর্গা শব্দের অর্থ যিনি দুর্গতি বা সংকট থেকে রক্ষা করেন। অর্থাৎ সংকট বা দুর্গতি থেকে তিনি রক্ষা করবেন এবং করেন বলেই তিনি দুর্গা। অর্থাৎ, ‘দ’ অক্ষরটি দৈত্য বিনাশ করে, উ-কার বিঘ্ন নাশ করে, রেফ রোগ নাশ করে, ‘গ’ অক্ষরটি পাপ নাশ করে এবং আ-কার শত্রু নাশ করে। একসঙ্গে করলে এর অর্থ দাঁড়ায়, দৈত্য, বিঘ্ন, রোগ, পাপ ও শত্রুর হাত থেকে যিনি রক্ষা করেন, তিনিই দুর্গা।দেবী দুর্গার আগমনই হয়েছে সময়ের প্রয়োজনে। যখন দেবালয়ে আসুরিক প্রবৃত্তি বেড়ে গিয়েছিল। মহিষাসুর দেবতাদের শান্তি বিনষ্ট করে দিয়েছিল সেইসময় দেবী দুর্গার আগমন ঘটে। শব্দকল্পদ্রুম অনুসারে , ‘দুর্গং নাশয়তি যা নিত্যং সা দুর্গা বা প্রকীর্তিতা’। অর্থাৎ, যিনি দুর্গ নামে অসুরকে বধ করেছিলেন, তিনি সব সময় দুর্গা নামে পরিচিত। কেন দেবীর দশ হাত, কেন এত অস্ত্র, তানিয়েও শাস্ত্রে ব্যাখ্যা আছে, চণ্ডিতে দেবী দুর্গাকে দশ প্রহরণধারিণী নামে অভিহিত করা হয়। মহালয়ার পুণ্য তিথিতে আহ্বান জানানো হয়, জাগো দুর্গা, জাগো দশ প্রহরণধারিণী। প্রহরণ শব্দের অর্থ হাতিয়ার, প্রহার বা অস্ত্র। দশ হাতে অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে যিনি অসুর বা অপশক্তি নাশ করেন তিনিই দশ প্রহরণধারিণী। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, পৃথিবীর দশটি দিকের প্রতিভূ এই দশ হাত। পুরাণে বলা আছে, কুবের, যম, ইন্দ্র, বরুণ, ঈশান, বায়ু, অগ্নি, নৈঋত, ব্রহ্মা ও বিষ্ণু এই দশ দিক থেকে মহিষাসুরকে বধ করার উদ্দেশ্যে দেবী দুর্গার দশটি হাত সৃষ্টি। মহিষাসুরকে বধের জন্য ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশ্বরের শরণাপন্ন হন দেবতারা। ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশ্বরের মিলিত ত্রিশক্তি থেকে দেবী দুর্গার আবির্ভাব। প্রত্যেক দেবতার তেজে দেবীর বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ গড়ে ওঠে এবং দেবীর দশটি হাত আবির্ভূত হয়।তন্ত্র শাস্ত্র অনুসারে আবার দশমহাবিদ্যার দশটি রূপের আধার দেবী দুর্গার দশটি হাত| দেবতারা শুধু যে দেবীকে অস্ত্র দেন তা নয়, দেবীর শরীরের বস্ত্র, অলংকারও দেবতারা প্রদান করেন, তার বাহনের ও পৌরাণিক ব্যাখ্যা আছে|সেসব নিয়ে চলবে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দশ মহাবিদ্যা -দেবী কমলা

আজ দশ মহাবিদ্যার অন্তিম রূপ দেবী কমলা নিয়ে আলোচনা করবো জানবো তার তার রূপের অন্তরনিহিত তাৎপর্য ও পৌরাণিক ব্যাখ্যা|আগেই বললাম দশমহাবিদ্যার শেষ বা দশম রূপ ঐশ্বর্য লক্ষ্মী কমলা।দেবী কমলার উৎপত্তি হয় সমুদ্র মন্থনের সময়।দেবী কমলা চতুর্ভূজা। দেবীর ডান হাতে পারিজাত পুষ্প, বাম হাতে বরমুদ্রা, সমুদ্রের মধ্যে দেবী প্রস্ফুটিত পদ্মে আসীন। দুই পাশে দুইটি হাতি শুড় দিয়ে কলসে করে জল নিয়ে দেবীকে স্নান করাচ্ছে।দেবী কমলা হচ্ছেন ইচ্ছাপূরণের দেবী। মূলত জাগতিক সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি তিনি তাঁর ভক্তদের দেন।কমলাকে গজলক্ষ্মীও বলা হয়।দেবীর এই রূপটি জাগতিক বন্ধনের রূপ।দেবী কমলা ঐশ্বর্য,সুখ,শান্তি,সৌভাগ্য,সৌন্দর্য,প্রীতি ও করুনা প্রদান করেন। পদ্মের উপর তিনি বিরাজমানা এই পদ্ম উর্বরতা,আধ্যাত্মিকতা ও কর্তৃত্বের প্রতীক। যে হাতি দুটি তাঁকে স্নান করাচ্ছে তা বিশালত্ব ও ঐশ্বর্যের প্রতীক। সাধারনত দেবীর পূজা করা হয় জাগতিক লাভের জন্যে। মা কমলা একাধারে বিশুদ্ধতা,পবিত্রতা, সমৃদ্ধি ও সম্পদ,উর্বরতা ও ফসল, এবং সৌভাগ্যের প্রতীকআবার চন্ডীমঙ্গল গ্রন্থে চণ্ডীর একরূপ কমলে কামিনী।দীর্ঘ সমুদ্র যাত্রায় বনিক ধনপতির ছটি ডিঙা একসময়ে সমুদ্রে ডুবে যায়।তারপর কোনােরকমে একটি ডিঙা আশ্রয় করে ধনপতি কালীদহে পৌঁছেন। সেখানে দেবী চণ্ডী তাকে ‘কমলে-কামিনী’ মূর্তি দেখান। ধনপতি সিংহলে গিয়ে সেখানকার রাজাকে কমলে-কামিনী’র কথা বলেন কিন্তু রাজা তা বিশ্বাস না করে তাকে কারাগারে বন্দি করেন।পরবর্তী ঘটনাবলী হয়তো আপনারা জানেন|পুরান মতে দেবী কমলা মহর্ষি ভৃগুর কন্যা।সাধারনত গৃহস্তর বাড়িতে দশ মহাবিদ্যার এই বিশেষ রুপ সম্পদ,উন্নতি এবং সৌভাগ্য প্রদানের জন্যে পূজিতা হয় বহু কাল থেকে|বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে শুক্রগ্রহের ইষ্টদেবী কমলা বা কমলেকামিনী তিনিই মহাশক্তি, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্ত্রী তিনিই। তিনিই বিশ্বের সব সম্পদের অধিষ্ঠাত্রী। তিনি সমৃদ্ধির দেবী।কমলা সাধককে ধন-ধান্যে ভরিয়ে রাখেন। কমলার পুজো সমস্ত ধরনের ভয় থেকে মুক্ত রাখে ।সামনেই দূর্গাপুজো|আগামী পর্ব গুলিতে দেবী দুর্গার রূপ, শাস্ত্র মতে তার পুজো সম্পর্কে নানা জানা অজানা কথা ও পৌরানিক ঘটনা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|জ্যোতিষ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যেকোনো সময়ে যোগাযোগ করতে পারেন নির্দ্বিধায়|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ।

দশ মহাবিদ্যা – মাতঙ্গী

আজ আলোচনা করবো দশমহাবিদ্যার অন্যতম রূপ মাতঙ্গী দেবীকে নিয়ে যা দেবীর কন্যা রূপগুলির একটি|সরস্বতীর তান্ত্রিক রূপ দেবী মাতঙ্গী।তিনি দশমহাবিদ্যার নবম রূপও বটে|পুরান অনুসারে মাতঙ্গ মুনির আশ্রমে দেবতাদের আহ্বানে ইনি মাতঙ্গ মুনির স্ত্রীর শরীর থেকে আবীরভূতা হয়ে অসুর দের বধ বধ করেন ও দেবতাদের রক্ষা করেন|স্বাভাবিক ভাবেই দেবী সরস্বতীর থেকে দেবী মাতঙ্গিনীর রূপ ভিন্ন দেবী মাতঙ্গী শ্যামবর্ণা।দেবী মাতঙ্গীর চার হাত। প্রথম হাতে বীণা, দ্বিতীয় হাতে বরাভয় বা অভয় মুদ্রা, তৃতীয় হাতে নর-করোটি এবং চতুর্থ হাতে খড়গ । দেবীর হাতের নর-করোটির উপর আসীন তার বাহন টিয়াপাখি। যখন দেবী মহাকালীর রুদ্ররূপিণী পাপনাশিনী রূপ এবং দেবী সরস্বতীর অসীম জ্ঞান একইরূপে মিলিত হয়, তখন সৃষ্টি হয় দেবী মাতঙ্গীর।দেবীর ভোগ সব থেকে অদ্ভুত ও রহস্যময়|মনুষ্য-উচ্ছিষ্ট ছাড়া আর কোনওরকম সাজিয়ে-গুছিয়ে দেওয়া ভোগে দেবী মাতঙ্গী তুষ্ট হন না । তা সে মানুষ উচ্ছিষ্ট নিরামিষ ব্যঞ্জন হোক বা মানুষ উচ্ছিষ্ট মাছ মাংস হোক, উচ্ছিষ্ট ভোগের কারণেই দেবী মাতঙ্গীর অপর নাম উচ্ছিষ্টা চণ্ডালিনী|অন্তির্নিহিত তাৎপর্য হলো দেবী মানুষের মধ্যেই বাস করেন মানুষ কে অবহেলা করে তিনি খুশি হন না তাই মানুষের উচ্ছিষ্ট তিনি নির্দ্বিধায় গ্রহন করেন এবং সন্তুষ্ট থাকেন|দেবী মাতঙ্গী রক্তবসনা। রজঃস্বলা নারীর রক্ত বস্ত্র দেবী পরিধান করেন এবং তার মাধ্যমে পরশ্রীকাতরতা এবং কুণ্ঠাবোধের যত গ্লানি এবং অপরাধ বোধ দেবী নিজ অঙ্গে গ্রহণ করে মানুষের আত্মার শুদ্ধিকরণ ঘটান|ভারতবর্ষে দেবী মাতঙ্গীর কিছু বিখ্যাত মন্দির রয়েছে যেমন কর্নাটকের বেলগাওঁ, এছাড়া দেবী মাতঙ্গীর মন্দির রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের মাদানাপাল্লেতে, তামিলনাড়ুর নাঙ্গুরে এবং মধ্যপ্রদেশের ঝাবুয়াতে ।আগামী দিনে ফিরে আসবো আরো অনেক পুরান, জ্যোতিষ ও তন্ত্র সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দশ মহাবিদ্যা – দেবী বগলা

আজ দশ মহাবিদ্যা পর্বে আলোচনা করবো দেবী বগলা রূপ নিয়ে|জানাবো তার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য তার রূপের ব্যাখ্যা ও পৌরাণিক এক ঘটনা যে ঘটনার মাধ্যমে উৎপত্তি হচ্ছে দেবী বগলার|দশমহাবিদ্যার অষ্টম রূপ বগলা।বগলামুখী দেবী সিদ্ধবিদ্যা ও পীতাম্বরাবিদ্যা এই নামে প্রসিদ্ধ।রুরু নামক দৈত্যের পুত্র দুর্গম দেবতাদের চেয়ে বলশালী হওয়ার জন্য ব্রহ্মার তপস্যা করে বরপ্রাপ্ত হন। দেবতারা তখন দেবী ভগবতীর আরধনা করেন। দেবী আর্বির্ভূত হয়ে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন।এই যুদ্ধে দেবীর দেহ হতে কালী, তারা, ভৈরবী, রমা, মাতঙ্গী, বগলা,কামাক্ষী, জম্ভিনী, মোহিনী, ছিন্নমুণ্ডা, গুহ্যকালী প্রভৃতি মহাশক্তি বের হয়ে যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন ও অশুভ শক্তি পরাজিত হয় দেবীর সম্মুখে|দেবীর গায়ের বর্ণ পীত। বসন পীত বর্ণ। সুধা সমুদ্রের মাঝে সিংহাসনে উপবিষ্টা। এঁর বাহন শব। দ্বিভূজ দেবী বাম হাতে দুর্গম অসুরের জিহবা ধরে আছেন ও ডান হাতে গদা দিয়ে শত্র দমন করেন তিনি|বগলামুখী দেবি পীতবস্ত্রা, পীতপুস্পপ্রীয়া, এবং পীতঅলঙ্কারধারিনি।জ্যোতিষ ও তন্ত্র শাস্ত্রে দেবী বগলা মুখীর গুরুত্ব অপরিসীম|শাস্ত্র মতে বগলামুখীর আরাধনা করলে শত্রুদের বিনাশ, জীবনে সাফল্য এবং অশুভ শক্তির কাছে জয় লাভ হয়।দেবী বগলামুখীর মন্ত্র সাধকের সমস্ত ইচ্ছা পূরণ করতে পারে। বগলামুখী মন্ত্র সমস্ত ধরণের বাধা থেকে মুক্তি দেয়, রোগ এবং দুর্ঘটনার দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা থেকে রক্ষা করে এবং সুরক্ষা দেয়।জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে দেবী বগলামুখী হলেন মঙ্গলগ্রহের ইষ্টদেবী তাই যাদের মঙ্গল পীড়িত বা মাঙ্গলিক দোষের জন্য যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের দোষ খন্ডনে বগলামুখী দেবীর স্মরন নেয়া হয় শাস্ত্র সম্মত পদ্ধতিতে|ফিরে আসবো দশ মহাবিদ্যার পরের রূপ তার সাথে আরো অনেক পুরান, জ্যোতিষ ও তন্ত্র সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

দশ মহাবিদ্যা – দেবী ধূমাবতী

আগের কয়েকটি পর্বে আপনাদের দশ মহাবিদ্যা রূপের কয়েকটি নিয়ে বলেছি|আজ থেকে আবার বাকি রূপ গুলো নিয়ে আলোচনা করবো|আজকের পর্বে দেবী ধুমাবতী|দশমহাবিদ্যার সপ্তম রূপ দেবী ধূমাবতী। একদিন কৈলাশে পার্বতী প্রচণ্ড ক্ষুধায় কাতর হয়ে বারবার শিবের কাছে অন্ন চান। কিন্তু ঘরে একটা চালও নেই। ক্ষুধার জ্বালায় ক্ষিপ্ত হয়ে শিবকে গ্রাস করে ফেলেন দেবী। সঙ্গে সঙ্গে দেবীর দেহ হতে ধোঁয়া নির্গত হতে থাকে। সেই ধোঁয়া পার্বতীকে বিবর্ণ করে দেয়। ধোঁয়ার আবৃত দেহ থেকে শিব বের হয়ে বলেন, ‘তুমি যখন ক্ষুধায় আমাকে গ্রাস করেছ তখন তুমি বিধবা হয়েছ। এই বিধবা বেশে তুমি ধূমাবতীরূপে পূজিতা হবে। তাই ধূমাবতী বিধবা|ধূমাবতী হলেন সপ্তম মহাবিদ্যা। গুহ্যাতিগুহ্য তন্ত্র গ্রন্থে দশ মহাবিদ্যাকে বিষ্ণুর দশ অবতারের উৎস বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই গ্রন্থ মতে মৎস্য অবতারের উৎস হলেন ধূমাবতী।মুণ্ডমালা গ্রন্থেও ধুমাবতীর উল্লেখ রয়েছে,এই গ্রন্থ মতে বামন অবতারের উৎস হলেন ধূমাবতী|তিনি শিবহীন, ভয়ঙ্করী, রুক্ষ মলিন বসনা, বিবর্ণ কুণ্ডলা, বিরল দন্তা, নিত্য বুবুক্ষিতা, অতিকৃশা, বৃদ্ধা। ধূমাবতীর দুই হাত, একহাতে কুলা ও অন্য হাতে ধর। ইনি রথরূঢ়া। রথের ধ্বজ চারটিতে চারটি কাক।দেবীর মূর্তিতত্ত্ব নিয়েও রয়েছে মতান্তর। ধূমাবতী তন্ত্রে তাঁকে শ্মশানচারিণী এক বৃদ্ধা বিধবারূপে কল্পনা করা হয়েছে, যাঁর এক হাতে একটি কুলো আর অন্য হাতটি বরাভয় প্রদান করছে। দেবী রীতিমত কুৎসিত এবং দীর্ঘাকায়া, রোগগ্রস্থা, পাণ্ডুরবর্ণা এবং মুক্তোকেশী। একইসঙ্গে তাঁর হৃদয় অত্যন্ত কুটিল। দারিদ্র্যের দেবী, তাই শরীরে অলংকার নেই। পরনে জীর্ণ, মলিন বস্ত্র। সবথেকে ভয়ের উদ্রেক করে দেবীর হিংস্র দুই চোখ। অন্যদিকে তাঁর মুখে বেশ কয়েকটি দাঁত নেই, তাই হাসলে ফোকলা দেখায়। দেবী একটি অশ্বহীন রথের ওপর আসীন, এই রথের পতাকায় একটি কাকের ছবি।দেবী ধুমাবতী কে মৃত্যুর দেবীও বলা হয়ে থাকে।ধূমাবতী সিদ্ধি বা অলৌকিক ক্ষমতা প্রদান করেন; তিনি সকল বিপদ থেকে ভক্তকে উদ্ধার করেন এবং জ্ঞান ও মোক্ষফল সহ সকল অভীষ্ট বস্তু প্রদান করেন। জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে কেতু সংক্রান্ত দোষ দুর করতে দেবী ধুমাবতীর স্মরণ নেয়া হয়|বারাণসীতে ধূমাবতীর একটি মন্দির রয়েছে। এছাড়া ভারতবর্ষে দেবীর মন্দিরের সংখ্যাখুবই কম। শ্মশান বা জঙ্গলে তন্ত্রমতে দেবী ধূমাবতীর পুজো হয়ে থাকে।ফিরে আসবো দশ মহাবিদ্যার পরের রূপ এবং আরো অনেক আলোচনা সাথে নিয়ে |পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

সিদ্ধিদাতা গণেশ ও চন্দ্রদেব

গণেশ পূর্ণিমা উপলক্ষে আজ বিঘ্নহর্তা গণেশদেবকে নিয়ে বেশ কয়েকটি পৌরাণিক ঘটনা আপনাদের বলবো|চন্দ্র দেব ও গণেশ ঠাকুর এর একবার দ্বন্দ্ব বেঁধে ছিলো|ভোজ সভায় কুবেরকে শিক্ষা দেয়ার ঘটনা আপনাদের আগেই বলেছি সেখানে তার ইচ্ছামত খাওয়ার ফলে গণেশের পেটটি তিনি যখন তিনি হাঁটতে শুরু করলেন তখন তিনি তার ভারসাম্য হারালেন এবং পড়ে গেলেন।চন্দ্র দেব আকাশ থেকে গণেশের এই সকল কাণ্ডকারখানাগুলি দেখছিলেন, তিনি হেসে উঠলেন। চাঁদের এই অবমাননা গণেশ বরদাস্ত করলেন না, তিনি প্রচন্ড ক্ষোভে চন্দ্র দেবকে আঘাত করলেন এবং সম্পূর্ণরূপে অদৃশ্য করে দিলেন।অনুতপ্ত ও পরাজিত চন্দ্রদেব চন্দ্র এই ঘটনায় নিজের ভুল বুঝতে পারে এবং গণেশের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।তার বারংবার ক্ষমা প্রার্থনার ফলে গণেশ তখন তাকে মুক্তি দিলেন এবং তার জন্য একটি সময়চক্র তৈরী করলেন যাতে প্রতি দিন অন্তর অন্তর চন্দ্র একবার সম্পূর্ণরুপে প্রকাশিত হবেন এবং একবার করে অদৃশ্য থাকবেন।সেই থেকে নির্ধারিত হয় চন্দ্রের অমাবস্যা ও পূর্ণিমা এবং গ্রহনের রীতি|আবার অন্য একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে দেবী পার্বতী একবার কৈলাসে গনেশের প্রিয় খাদ্য মোদক বানিয়ে ছিলেন।খাদ্য রসিক গণেশ ঠাকুর যত বেশি সম্ভব মোদক খেয়ে ফেলেছিলেন।তারপর তার বাহন ইঁদুরের পিঠে চেপে বেড়াতে বেরোলেন এমনিতেই তার বাহন ইঁদুরটি মোদক পরিপূর্ণ গণেশের ভার বহন করতে পারছিল না এমন সময়ে হঠাৎ করে একটি সাপ ইঁদুরটির সামনে এসে উপস্থিত হয়।ইঁদুরটি ভয় পেয়ে যায় এবং গণেশ তার পিঠের উপর থেকে পড়ে যায়।গণেশ মাটিতে আঘাত পাওয়ার সাথে সাথেই সমস্ত মোদক গুলি তার পেট থেকে বেরিয়ে আসে।গণেশ সেগুলিকে তুলে পুনরায় গিলে ফেলেন আর যাতে সেগুলি তার পেট থেকে না বেরিয়ে আসে সেই জন্য সেই সাপটিকে দিয়ে কোমরবন্ধন করে ফেলেন।সেই জন্য বেশ কিছু মূর্তিতে গণেশের পেটে একটি সাপের বাঁধন দেখতে পাওয়া যায়।আকাশ থেকে সমগ্র বিষয়টি দেখে চন্দ্র দেব হেসে ফেলেন এবং গনেশ এতে প্রচণ্ড রেগে যান এবং চন্দ্র দেবতাকে অভিশাপ দিয়ে বলেন গণেশ চতুর্থীর দিন চন্দ্রকে দেখতে পাবেন না যদিও বা কেউ চন্দ্রকে দেখেন তা অশুভ বলে চিহ্নিত হবে|গণেশ চতুর্থী অন্যতম শ্রেষ্ট তিথি ও যাদেরবাড়িতে নেতিবাচক শক্তি আছে বা সব কাজেবাধা আসে চাকরিতে বাধা, পারিবারিক অশান্তি, দাম্পত্য কলহ ইত্যাদি সমস্যা থাকলে গণেশ আরাধনা অবশ্যই করুন|আপনাদের আগেই বলেছি আজ গণেশ চতুর্থী তে আপনাদের হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ গণেশ পুজো, হোম যজ্ঞ ও বিশেষ প্রতিকারপ্রদান করা হবে আপনার চাইলে এই আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে যোগ দিতে পারেন|আপনাদের সবাইকে জানাই গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

গণেশ ও কুবের দেব

আসন্ন গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে আজ আরো একটি গণেশ দেবের মহিমা আপনাদের জন্য লিখবো| পুরান অনুসারে একবার কুবের ও গণেশের মধ্যে সংঘাত বেঁধেছিলো আজ|আজ আপনাদের সেই ঘটনার কথা বলবো|সনাতন ধর্মে কুবের অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন দেবতা ছিলেন কারণ তিনি মহাবিশ্বের সমস্ত ধনসম্পদের অধীশ্বর।তার তার কাছে ছিল অগাধ গুপ্তধন এবং তার ভান্ডারে সবকিছুই ছিল যার জন্য তিনি খুবই গর্বিত ছিলেন।নিজের ধন সম্পদ ও বৈভব দেখানোর জন্য একদিন কুবের সমস্ত দেবতাদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ করেন এবং তাদের মধ্যে শিব এবং পার্বতীও ছিলেন।কিন্তু তারা দুজনেই সেই ভোজ সভায় উপস্থিত না হয়ে তারা গণেশকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠান।গণেশ কুবেরের ব্যবহার লক্ষ্য করেন এবং সিদ্ধান্ত নেন তার গর্ব খর্ব করার।তিনি সমস্ত খাবারই দ্রুত খেয়ে ফেলেন এবং তার ফলে অন্যান্য আমন্ত্রিতদের জন্য কিছুই অবশিষ্ট থাকে না যদিও তাতেও তার ক্ষুধানিবৃত্তি হয়নি।তখন সে কুবেরের সঞ্চিত সম্পদ এবং ঐশ্বর্যগুলি খেতে শুরু করেন এর মধ্যে ছিল স্বর্ণ এবং অন্যান্য দামি বস্তু সমূহ। তাতেও তার পেট না ভরাতে তিনি কুবেরকে খেতে চান|নিজেকে বাঁচাতে সেইসময় কুবের কৈলাস পর্বতে দৌড়ে যান আশ্রয়ের খোঁজে এবং মহাদেবের কাছে স্মরণ নেন|মহেশ্বর গণেশের এই রূপ আচরনের প্রকৃত কারণ বুঝতে পেরে ক্ষুদার্থ গণেশকে তৎক্ষণাৎ অন্ন পরিবেশন করেন ।গণেশ সেই অন্ন গ্রহণের সাথে সাথে তার ক্ষুধা নিবৃত্তি ঘটে।তিনি শান্ত হয়ে কুবের দেবকে ছেড়ে দেন|ঘটনার পর কুবের বুঝতে পারেন লোভীর মতো সম্পদ গ্রহণ করা উচিত নয় এবং সেই সম্পদ নিয়ে গর্ব বা অহংকার অনুচিত তিনি সম্মত হন তার সমস্ত সম্পদ প্রয়জনে সকলের মধ্যে বিলিয়ে দিতে।আপনাদের আগেই বলেছি আগামী 31 আগস্ট গণেশ চতুর্থী তে আপনাদের হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ গণেশ পুজো, হোম যজ্ঞ ও বিশেষ প্রতিকার প্রদান করা হবে কারন এই তিথি অত্যান্ত শুভ ও কার্যকরী বিশেষ করে যন্ত্র স্থাপন, রুদ্রাক্ষ ও রত্ন ধারনের জন্য অতি শুভ তিথি|আপনার চাইলে এই আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে যোগ দিতে পারেন|আবার ফিরে আসবো গণেশ প্রসঙ্গ নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

পুরান কথা – গণেশ ও বিষ্ণুর শঙ্খ

আগামী 31 আগস্ট গণেশ চতুর্থী|গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে আগামী আজ থেকে তিন দিন সিদ্ধি দাতা গণেশ কে নিয়ে কিছু পৌরাণিক ঘটনা ও তার পুজোর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা সহ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো|আজকের পৌরাণিক ঘটনা ভগবান বিষ্ণুর শঙ্খ নিয়ে|ভগবান বিষ্ণুর প্রিয় শঙ্খটির কথা সকলেই জানেন যেটিকে তিনি সর্বদা তাঁর নিজের কাছে রাখতেন।একদিন তিনি তাঁর প্রিয় শঙ্খটিকে কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিলেন না।এই বিষয়টি তাকে খুবই মর্মাহত করে তুলল, তিনি তার সমস্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করলেন শঙ্খটিকে খুঁজে বের করার জন্য।যখন শঙ্খ খোঁজাখুঁজির পালা চলছিল তখন ভগবান কৃষ্ণ হঠাৎ করে সেই শঙ্খটির আওয়াজ শুনতে পেলেন কিছুটা দূর থেকে এবং সেই শব্দ শুনে সেটি কোন দিক থেকে আসছে তার অনুসন্ধান করে তিনি অনুধাবন করলেন যে শব্দটির উৎস হল কৈলাস পর্বত।তিনি কৈলাস পর্বত চলে এলেন এবং দেখতে পেলেন স্বয়ং গণেশ সেই শঙ্খটিকে ফুঁ দিয়ে বাজাতে ব্যাস্ত।তিনি জানতেন গণেশ সহজে নমনীয় হওয়ার পাত্র নন, তাই তিনি সেটি ফেরত পাওয়ার জন্য দেবাদিদেব শিবকে বললেন যাতে তিনি গণেশকে শঙ্খটি ফেরত দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।শিব জানালেন যে তাঁরও ক্ষমতা নেই গণেশের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করার এবং তাঁকে প্রশমিত করার একমাত্র পথ হল গণেশের পূজা করা।তাই বিষ্ণু গণেশের পূজা করতে উদ্যোগী হলেন।তিনি পূজার সমস্ত উপকরণ দিয়ে শ্রী গণেশকে হৃদয় থেকে আহ্বান করলেন।এটি দেখে গণেশ অত্যন্ত প্রীত হলেন এবং বিষ্ণুর শঙ্খটিকে তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন।তার মানে ভগবান বিষ্ণু স্বয়ং নিজের হারানো সম্পদ ফিরে পেতে গণেশ আরাধনা করেছিলেন এথেকে বোঝা যায় সিদ্ধিদাতা গণেশ পুজোর মাহাত্ম ও তার আধ্যাত্মিক গুরুত্ব কত বেশি|আগামী 31 আগস্ট গণেশ চতুর্থী তে আপনাদের হৃদয়েশ্বরী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ গণেশ পুজো, হোম যজ্ঞ ও বিশেষ প্রতিকার প্রদান করা হবে কারন এই তিথি অত্যান্ত শুভ ও কার্যকরী|আপনার চাইলে এই আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে যোগ দিতে পারেন|আবার ফিরে আসবো গণেশ প্রসঙ্গ নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

অমাবস্যা, তন্ত্র ও জ্যোতিষ শাস্ত্র

গতকাল আপনারা মা হৃদয়েশ্বরী মন্দিরে বিশেষ পুজো হোম যজ্ঞ ও গ্রহ দোষ খণ্ডন দেখেছেন পঞ্জিকা মতে আজও থাকছে কৌশিকী অমাবস্যা|আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরবো অমাবস্যা, তন্ত্র ও জ্যোতিষ শাস্ত্র সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ব্যাখ্যা|যুগ যুগ ধরে জ্যোতিষ ও তন্ত্রে শাস্ত্রে অমাবস্যা তিথির গুরুত্ব অপরিসীম|মনের কথার আজকের পর্বে ব্যাখ্যা করবো জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতে কেনো অমাবস্যা এতো গুরুত্বপূর্ণ|প্রথমে জানা দরকার এই অমাবস্যা তিথি কি|শুক্লপক্ষ এবং কৃষ্ণপক্ষ এক মাসের দুটি অংশ রয়েছে। শুক্লপক্ষে চন্দ্রের শিল্পকলা বৃদ্ধি পায় অর্থাৎ চন্দ্র বৃদ্ধি পায়। কৃষ্ণপক্ষের চন্দ্র বক্ররেখা এবং অমাবস্যায় সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়। চাঁদের ষোলটি কলার মধ্যে ষোড়শ শিল্পকে অমা বলা হয়। তাই এই তিথি অমাবস্যা নামে পরিচিত।স্কন্দ পুরাণ অনুসারে অমাবস্যা সংক্রান্ত একটি শ্লোকে বলা হচ্ছে|’আমা শোভাগইন দেবী প্রক্ত মহাকালসংস্থিতা পরমা মায়া দেহিনাম দেহধারিনী।’এই শ্লোক অনুসারে, আমা চাঁদ দ্বারা উপাসনা করা হয়, এটি চাঁদের সমস্ত ষোলো কলার শক্তি অন্তর্ভুক্ত করে। এই শিল্প ক্ষয় এবং উত্থান হয় না। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে যখন সূর্য ও চাঁদ কোনও কোনও রাশিতে থাকে, তখন অমাবস্যা তিথি সৃষ্টি হয়|শাস্ত্রে অমাবস্যা তিথির কর্তা পিতৃদেব বলে বিশ্বাস করা হয়। সুতরাং, অমাবস্যায় পিতৃগণের সিদ্ধির জন্য তর্পণ, শ্রদ্ধা কর্ম ও দান করা গুরুত্বপূর্ণ। অমাবস্যায় পবিত্র নদীতে স্নান করলে পুণ্যলাভের সম্ভাবনা। এছাড়া যেকোনো তন্ত্রের কাজ এবং শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন এই সময়ে করলে তা অনেক বেশি সফল এবং কার্যকর হয়|শাস্ত্র মতে যেকোনো রকম প্রতিকার ধারণের জন্যে এই সময় শ্রেষ্ট সময়|আবার সারা বছরের অমাবস্যা তিথি গুলির মধ্যে কয়েকটি অমাবস্যা অত্যাধিক গুরুত্ব নিয়ে আসে বিশেষ করে জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতের ক্ষেত্রেযেমন কৌশিকী অমাবস্যা, ফল হারিনী অমাবস্যা, দীপান্বিতা অমাবস্যা এবং মৌনী অমাবস্যা|কিছু তন্ত্র মতে কৌশিকী অমাবস্যার রাতকে তারা রাত্রিও বলা হয়। এ দিন এক বিশেষ মুহূর্তে স্বর্গ ও নরক দুইয়ের দ্বার মুহূর্তের জন্য উম্মুক্ত হয় এবং এই সময়ে তন্ত্র মতে বহু অসাধ্য সাধন সম্ভব হয় আবার ফল হারিনী অমাবস্যায় শাস্ত্র মতে মা কালীকে সন্তুষ্ট করে যেকোনো অশুভ কর্মফল থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব|দীপান্বিতা অমাবস্যা আমরা দীপাবলি হিসেবে পালন করে থাকি যা অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির জয় লাভের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়|মৌনী অমাবস্যাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়|এই অমাবস্যায় মৌন থেকে নিজের মনকে একটি বিন্দুতে কেন্দ্রীভূত করে শক্তি সাধনা করতে হয়|এবার তন্ত্র সম্পর্কে একটু বলে নেয়া দরকার ,তন্ত্র শব্দটির অর্থ ব্যাপক । সংক্ষেপে তন্ত্র হচ্ছে “সৃষ্টির পরিচালনার নিয়ম “। মহাদেব বা শিবের ডমরু থেকে তন্ত্রের উৎপত্তি । সতী বা দেবি দূর্গার দশ হাতে আছেন দশ মহাবিদ্যা |এই দশমহাবিদ্যার উপর ভিত্তি করেই অনেকটা তন্তশাস্ত্র গড়ে উঠেছে|তন্ত্রের বিষয়টা অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত সাধারনভাবে, তন্ত্র অসীম জ্ঞানের আধার|তন্ত্র জ্ঞানচক্ষু উম্মোচন করে ।সৃষ্টির কারন বুঝতে সাহায্য করে তন্ত্র । তন্ত্র সৃষ্টি , স্থিতি ও বিনাশের পরিচালনা শক্তি । ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর এই তিন শক্তির পরিচালনা নিয়ম ব্যাক্ত করে তন্ত্র ।তন্ত্রের সাথে সম্পর্কিত আছে মন্ত্র ,যন্ত্র|এই তন্ত্র মন্ত্র এবং যন্ত্র তিনটিই একত্রে ব্যবহিত হয় জ্যোতিষ শাস্ত্রে শাস্ত্রীয় প্রতিকার রূপে এবং এক্ষেত্রে তিথি ও নক্ষত্র অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে|যেহেতু তন্ত্র ও জ্যোতিষ জগতে শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন একটি অতি পরিচিত ও শক্তি শালী পন্থা এক্ষেত্রে এবং অমাবস্যা তিথি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাই প্রতিটি অমাবস্যায় আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরে বিশেষ পুজো হোম যজ্ঞ ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের সু ব্যবস্থা থাকে আগামী সকল অমাবস্যা তেই এই পরম্পরা অনুসরণ করা হবে |আপনারা নিজেদের ভাগ্যবিচার ও গ্রহদোষ থেকে মুক্তি পেতে এই গুরুত্বপূর্ণ তিথি গুলিকে কাজে লাগাতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন|ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|দেখা হবে আগামী পর্বে |ধন্যবাদ|

দেবী কালীর পুজো ও বলী

আজ দেবী কালী নিয়ে এই বিশেষ পর্বে বলবো বহু যুগ থেকে চলে আসা কালী পুজোর বিশেষ করে তন্ত্র মতে পুজোর একটি অঙ্গ বলি নিয়ে,অনেকেই মনে করেন কালী পুজোর সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে, বলী প্রথা,এই চিন্তা ধারা ঠিক কি ভুল এই বিতর্কও বহু দিনের|সত্য যুগে বৈদিক আচার সম্পন্ন শুদ্ধ ব্রাহ্মনগণ যজ্ঞে বৃদ্ধ পশু আহুতি দিয়ে তত্ক্ষণাত্ মন্ত্রযোগে পশুর উন্নত নবজীবন দান করবার যথেষ্ঠ ক্ষমতা তাদের ছিল ।কিন্তু কলিযুগে বৈদিক আচারভ্রষ্ট ব্রাহ্মনদের সে ক্ষমতাই নেই । ভগবান শ্রীবিষ্ণুর অবতার বুদ্ধদেব জগতে পশুবলি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন একটি সময়ে|শ্রীমদ্ভাগবত পঞ্চম, ষষ্ঠ ও একত্রিশ শ্লোকে বলা হয়েছে -“যারা পশুবলি দিয়ে ভৈরব বা ভদ্রাকালী প্রভৃতি দেবদেবীর পূজা করে , হিংসা কবলিত সেই পশু যমালয়ে রাক্ষস হয়ে ঘাতকের মতো সুতীক্ষ্ন অস্ত্র দিয়ে তাদের বধ করে|বৈষ্ণব ঘরানায় পশু বলী বা রক্ত পাতের কোনো স্থান নেই কিন্তু তন্ত্রে আছে|আর কালী পুজো হয় তন্ত্র মতে|বেলুড় মঠে দূর্গা পূজার সূচনা কালে স্বামী বিবেকানন্দ চেয়ে ছিলেন পশু বলী দিতে কিন্তু মা সারদা বুঝিয়ে তাকে এই কাজ থেকে বিরত করেন অনেকেই মনে করেন আসলে বলী বা স্যাক্রিফাইস এর অর্থ হলো নিজের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সড় রিপুর উপর জয় পাওয়া|বলীর সপক্ষে যারা তারা বলেন তন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাচার বলী এবং বলী প্রদত্ত পশু তার জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে মোক্ষ লাভ করে যা তার কাছে আশীর্বাদ স্বরূপ এতে দুক্ষের কোনো কারন নেই|তবে বাংলার কালী পুজোয় বলীর ইতিহাস অতি প্রাচীন|এককালে ডাকাত রা নর বলী পর্যন্তদিতো এবং বলী দিয়ে দেবীকে সন্তুষ্ট করে ডাকাতি করতে যেতো, রঘু ডাকাত, বিশে ডাকাত, চিতে ডাকাত এদের সবার পুজো তেই বলী হতো|বনেদী বাড়ির পুজো গুলোতেও বলী হতো|এখন অধিকাংশ জায়গায় থেকে বলী লুপ্ত হয়েছে, কোথাও কোথাও কুমড়ো বা আখ বলী দিয়ে নিয়ম রক্ষা করা হয়|আজ কৌশিকী অমাবস্যায় আমি থাকছি আপনাদের হৃদয়েস্বরী মা সর্ব মঙ্গলার মন্দিরে সেখানে অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ পুজো, হোম যজ্ঞ ও বহু মানুষের দোষ খণ্ডন|সরাসরি সম্প্রচার হবে সোশ্যাল মিডিয়ায়|আপনিও চাইলে অংশগ্রহণ করতে পারেন, নিজের জীবনের গ্রহগত কুপ্রভাব কাটিয়ে সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন|দেবী কালী নিয়ে আলোচনা সহ ফিরে আসবো আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|