Home Blog Page 108

নেপাল ভ্রমণ – পশুপতি নাথ ও শয়ম্ভু বৌদ্ধ স্তুপ

আগেই জানিয়েছিলাম বর্তমানে নেপালে আছি, উদেশ্য ভ্রমণ…বছরের শেষ টা হিমালয়ের কোলে এই সুন্দর দেশেই কাটাবো আর যা কিছু দেখবো যা কিছু শুনবো, যা অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করবো সব ভাগ করে নেবো আপনাদের সাথে, যেমনটা বরাবরই করে থাকি….. আজ শুরু করবো নেপালের দুটি বিখ্যাত ধার্মিক পর্যটন স্থল দিয়ে…নেপাল বলতেই আমাদের মনে ভেসে ওঠে সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত উপন্যাস ” যত কান্ড কাটমান্ডু ” গোটা উপন্যাসটি নেপালের পটভূমিকায় লেখা, সেখানে বার বার ঘুরে ফিরে এসেছে এই পশুপতি নাথ মন্দিরের কথা..কাঠমান্ডু শহরের খুব কাছে দিওপাটন শহরের বুকে,বাগমতি নদীর তীরে পশুপতিনাথ মন্দির অবস্থিত। হিন্দু ধর্মালম্বীদের কাছে এই মন্দিরটির গুরত্ব অপরিসীম|শিবের আরেক নাম হল পশুপতিনাথ। সেই নামেই এই মন্দিরটির নাম পশুনাথ মন্দির।পশুপতি নাথ মন্দিরটি কবে প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সে সম্পর্কে কোনও সঠিক তথ্য পাওয়া যায়না তবে ঐতিহাসিকদের মতে এই মন্দির চতুর্থ শতাব্দী থেকেই নেপালের এই জায়গায় মন্দিরটির অস্তিত্ব ছিল।মন্দিরকে কেন্দ্র করে একটি পৌরাণিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় – একবার শিব ও পার্বতী কাটমান্ডুর বাগমতী নতীর তীরে ভ্রমণ করতে এসেছিলেন। নদী তীরবর্তী উপত্যকায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুদ্ধ হয়ে হরিণের বেশ ধরে ওই এলাকায় ঘুড়ে বেড়াতে থাকেন দুজনে। কিন্তু দেবতারা পড়েছেন মহাফাঁপরে।শিব ছাড়া সৃষ্টি অচল প্রায়!অনেক কষ্টে শিবকে খুঁজে পেলেও দেবাদিদেব শিব এই স্থান থেকে যেতে নারাজ।বহু অনুরোধে পরে শিব ঠিক করেন, তিনি যখন হরিণ বেশে এখানে ঘুড়েছেন তখন পশুদের পালন কর্তা হিসাবে এখানে তিনি পরিচিত হবেন। তারপর থেকেই এখানে শিবকে পশুপতিনাথ হিসেবে পূজা করা হয়ে আসছে।অপূর্ব সুন্দর এই প্রাকৃতিক পরিবেশে এমন রাজকীয় শিব মন্দির প্রাঙ্গনে দাঁড়িয়ে মন চলে যায় সেই আদিম, প্রাকৃতিক পৌরাণিক কালে|যে আধ্যাত্মিক উপলব্ধি হয় অন্তরে তা ভাষায় প্রকাশ করা যায়না….এখানে বলে রাখি নেপালের রাজারাই ছিলেন বিশ্বের শেষ হিন্দু রাজা, তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় ও অন্তরিক প্রচেষ্টায় বার বার নবরূপে সেজে উঠেছে পশুপতি নাথের মন্দির|হয়ে উঠেছে দেশ বিদেশের পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ|নেপাল হচ্ছে ভগবান বুদ্ধের জন্মদেশ তাই সারা দেশ জুড়ে রয়েছে অসংখ্য বৌদ্ধ স্তুপ যার মধ্যে অন্যতম শয়ম্ভু বৌদ্ধ মনেস্ট্রি বা বৌদ্ধ স্তুপ|আজই সৌভাগ্য হয়েছিলো এও বৌদ্ধ স্তুপটি দর্শন করার|অদ্ভুত অভিজ্ঞতা|কাট মান্ডু শহরের পশ্চিমে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই স্তুপের সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিক পরিমন্ডল চোখে না দেখলে বা অনুভব না করলে ঠিক ভাষায় প্রকাশ করা মুশকিল|গুনে গুনে 365 টি পাথরের সিঁড়ি অতিক্রম করে এখানে পৌঁছাতে হয়|টবে পৌঁছানোর পর|সব ক্লান্তি সব পরিশ্রম এক নিমিশে উধাও হয়ে যায়|সবে শুরু হলো আমার স্বপরিবারে নেপাল যাত্রা|থাকবো কিছুদিন|সব ঘুরে দেখবো|এখনো অসংখ্য তীর্থ স্থান দেখা বাকি|সে সব ও আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবো আগামী পর্বগুলিতে|পড়তে থাকুন|সঙ্গে থাকুন|আরো অনেক চমক অপেক্ষা করে আছে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বড়দিনের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

বড়ো দিন এলেই আমার স্বামীজী ও ঠাকুর রামকৃষ্ণর আদর্শর প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা নত হয় কারন সব ধর্মীয় সংকীর্ণতার উর্দ্ধে গিয়ে তারা প্রভু যীশুর আরাধনা করেছিলো এই বাংলার মাটিতে, স্বয়ং ঠাকুর রামকৃষ্ণ, প্রভু যীশুর উপস্থিত উপলব্ধি করছিলেন একবার, সেকথাও উল্লেখ আছে নানা গ্রন্থে…. আজকের দিন সেই পরম পিতার শ্রেষ্ট সন্তানের জন্মদিন হিসেবেই পালিত হয় গোটা বিশ্বে|সব গির্জায় চলে বিশেষ প্রার্থনা|প্রকৃত অর্থে এই ক্রিসমাস ডে প্রভু যীশুর জন্মদিন কিনা তা বিতর্কের বিষয়|বাইবেলে কিন্তু কোথাও প্রভু যীশুর জন্মের নিদ্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ নেই|অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন এই তারিখের ঠিক নয় মাস পূর্বে মেরির গর্ভে প্রবেশ করেন যিশু। সম্ভবত, এই হিসাব অনুসারেই ২৫ ডিসেম্বর তারিখটিকে যিশুর জন্মতারিখ ধরা হয় হয় এবং উৎসব পালন করা হয়|আবার অনেকের মতে ভৌগোলিক ভাবে উত্তর গোলার্ধের দক্ষিণ অয়নান্ত দিবস উপলক্ষে ২৫ ডিসেম্বর তারিখে বড়দিন পালিত হয় বিশ্ব জুড়ে অর্থাৎ আক্ষরিক দিক দিয়ে এই দিন সত্যি বড়ো দিন|এই দিনকে খ্রিস্টমাস ও বলে আবার এক্স মাস ও বলে কারন ইংরেজি খ্রিস্টমাস শব্দটি “খ্রিস্টের মাস ” বোঝাতে ব্যবহার হয়ে আসছে এবং মূলত গ্রিক ভাষা থেকে এই শব্দের জন্ম হয়েছে|যেহেতু প্রাচীন গ্রিক ভাষায় Χ অক্ষর টি Christ বা খ্রিষ্ট শব্দের প্রথম অক্ষর তাই তাই এই অক্ষরটি খ্রিষ্ট শব্দেরনামসংক্ষেপ|বড়দিন বলুন বা ক্রিস্টমাস কিংবা এক্সমাস দিনটি ওতি পবিত্র| আজ প্রভু যীশুর কাছে প্রার্থনা জানানোর দিন|আজ উৎসব করার দিন|আপনারাও প্রার্থনা করুন|উৎসব পালন করুন|আপাতত রয়েছি প্রতিবেশী দেশ নেপালে|উদ্দেশ্য ভ্রমণ|সেই ভ্রমণ কাহিনী নিয়েও লিখবো যথা সময়ে| আপাতত আমার ও আমার পরিবারের তরফ থেকে আপনাদের সবাইকে,বড়দিনের অসংখ্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ভালো থাকুন|শুভ বড়দিন।

মন্দির রহস্য – রাজমাতা মন্দিরের ইতিহাস

বাংলার কোচবিহার জেলার রাজ আমলে স্থাপিত একটি অন্যতম প্রাচীন মন্দির হল রাজমাতা মন্দির। এই মন্দিরটি কোচবিহার রাজমাতা দীঘির উত্তরে মদনমোহন বাড়ি থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।আজকের পর্বে লিখবো এই প্রাচীন ঐতিহাসিক মন্দির নিয়ে|বর্তমান কোচবিহার জেলার এই অন্যতম প্রাচীন মন্দিরটি কবে স্থাপিত সেটা সঠিক জানা যায়নি। তবে বিভিন্ন তথ্যসূত্র অনুয়ায়ী ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দের অনেক আগে থেকেই এই মন্দিরটির অস্তিত্ব ছিল। যতদূর জানা যায় এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন মহারাজা নরেন্দ্র নারায়ণের জ্যেষ্ঠ রাণী মহারানী নিস্তারিণী দেবী। তার ব্যক্তিগত তহবিল থেকেই তিনি এটিকে নির্মাণ করেছিলেন।তিনি ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের পরম ভক্ত|প্রায় ১৬৫ বছরের পুরনো এই মন্দির সংরক্ষিত এবং পরিচালিত হয় কোচবিহার দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ড দ্বারা।বর্তমানে সংস্কারের অভাবে মন্দিরের চারপাশ জঙ্গলে পরিপূর্ণ, নোনা ধরা দেওয়ালে শ্যাওলা, জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে।‌তবুও এখানে নিত্যসেবা হয় ঠাকুরের। রোজ রোজ ভিড় লেগে থাকে দর্শনার্থীর।রাতে তো কথাই নেই বর্তমানে দিনের বেলাতেও মন্দির প্রাঙ্গনে প্রবেশ করলে বেশগা ছম ছমে অনুভূতি হয়|প্রাচীন এই মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এখানে পূজিত হয়ে আসছেন সত্যভামা রাধারমণ এবং দেবী তারা কালি।মন্দিরটি দক্ষিণ দিকে মুখ করে অবস্থান করছে। এই একতলা মন্দিরটির নির্মাণের মাঝখানে একটি গম্বুজ রয়েছে। এছাড়া এই মন্দিরে রয়েছে মোট তিনটি কক্ষ। নিত্য পুজো হয় এখানে|আজও নিয়ম মেনে প্রতিদিন সোয়া এক কেজি চালের ভোগ দেয়া হয়| এখানে দোল পূর্নিমার দিন বড় পুজো করা হয়। এছাড়াও রটন্তি কালী পুজো এখানে প্রচলিত আছে এবং দিপান্বিতা কালী পুজোরসময় বিশেষ পুজো করা হয় রাতে।আগামী পর্ব থেকে শুরু করবো নতুন বছরের রাশি ফল তার পর আবার যথা সময়ে ফিরে আসবো আপনাদের জন্য মন্দির রহস্য নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – বর্ধমানের লালজি মন্দিরের রহস্য

বর্গী হামলার সময় মারাঠারা যখন বর্ধমান আক্রমণ করেন। তখন সেখানকার জমিদাররা চলে আসেন কালনাতে। এখানেই তারা নতুন করে প্রাসাদ ও বিভিন্ন মন্দির নির্মাণ করেন। তাদের তৈরি রাজবাড়ির অন্দরে রয়েছে বিখ্যাত লালজী মন্দির। যে মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে পুরনো দিনের বহু ইতিহাস।সেই মন্দির নিয়েই আজকের লিখবো আজকের পর্বে|শতাব্দী প্রাচীন লালজী মন্দির কালনায় বর্ধমান রাজাদের তৈরি মন্দিরগুলির মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন মন্দির এবং এই মন্দির তৈরীর পেছনে রয়েছে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর কাহিনী।প্রাচীনকালে সন্ন্যাসীরা পুণ্য অর্জনের জন্য কালনার ওপর দিয়ে নদীপথে পাড়ি দিত গঙ্গাসাগরে। তখন যাওয়ার পথে কিছু সন্ন্যাসীর দল কালনার এই গঙ্গার ঘাটে আস্তানা গড়ে। একদিন গঙ্গাস্নানে যাওয়ার পথে রাজমাতা ব্রজকিশােরী দেবী এমনি এক তাবু থেকে হঠাৎ এক বালকের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন। কৌতূহল বশত তাঁবুতে প্রবেশ করলে তিনি এক সন্ন্যাসীকে দেখতে পেলেন। বালকের প্রসঙ্গ সন্ন্যাসীকে জিজ্ঞেস করায়, তিনি জানালেন তার সঙ্গে রয়েছে শুধুমাত্র তার উপাস্য দেবতা কানাইয়ের মূর্তি। এই শুনে ব্রজকিশােরী দেবী সেই মূর্তি নিতে চাইলেন। কিন্তু রাজমাতার অনুরোধেও মূর্তি দিতে চাইলেন না সেই সন্নাসী। তখন রাজমাতা জানালেন তার মেয়ের সাথে কানাইয়ের বিয়ে দিতে ইচ্ছুক। সন্ন্যাসী এ কথায় রাজি হলে ব্রজকিশােরী দেবী তার আরাধ্যা রাধারাণীর বিগ্রহের সঙ্গে বিয়ে দিলেন সন্ন্যাসী লালজীর সেই কানাই বিগ্রহের । এরপর ব্রজকিশােরী দেবী বহু অর্থ ব্যায় করে বিগ্রহদুটিকে প্রতিষ্ঠা করেন এবং গড়ে তােলেন লালজী মন্দির।প্রসিদ্ধ এই মন্দিরের মােট ২৫ টি চূড়া বা রত্ন যা ৪টি ধাপে বিভক্ত হয়েছে। মন্দিরের প্রথম তলার ছাদের চারকোণে মােট ১২ টি চূড়া রয়েছে। তার উপরের ধাপে ৮ টি চূড়া ও তৃতীয় তলার ছাদে ৪ টি চূড়া এবং সবশেষে একদম উপরে ১ টি চূড়া রয়েছে। মন্দিরের ভিতরে প্রবেশের জন্য পূর্বদিকে রয়েছে একটি কাঠের দরজা। এই দরজা দিয়েই গর্ভগৃহে প্রবেশের পরেই ডানদিকে রয়েছে সিঁড়ি, যার সাহায্যে মন্দিরের উপরে ওঠা যায়। লালজি মন্দিরের দেওয়ালের সর্বত্রই রয়েছে টেরাকোটার কাজ সমগ্র মন্দির পরিসরে রয়েছে অসাধারণ টেরাকোটার কারুকার্য|বারান্দার দেওয়ালে খোদাই করা রয়েছে লঙ্কাযুদ্ধ। এছাড়াও বারান্দার সামনের খিলানে রয়েছে স্বপরিবাসে দুর্গা, দক্ষিণা কালী, বালগােপাল, জগদ্ধাত্রী দেবী। রয়েছে অশ্বারােহী সৈন্য, উঠের পিঠে সামরিক বাহিনী, মল্লযুদ্ধ, শিকারযাত্রা।মন্দিরের বিগ্রহ রাধাকৃষ্ণের দুই পাশে রয়েছে বালগােপাল। আজও নিয়মিত এই মন্দিরে পুজো করা হয়। এখানকার প্রধান উৎসব জন্মাষ্টমী। এছাড়াও এখানে মহাসমারোহে রাসযাত্রাও পালিত হয়।ফিরবো পরের পর্বে|থাকবে অন্য কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – লেপক্ষী মন্দিরের রহস্য

আসন্ন বকুল অমাবস্যায় আমার গৃহ মন্দিরে বিশেষ পূজা ও হোম যজ্ঞর মাধ্যমে গ্রহদোষ খণ্ডনের তোড়জোড় চলছে |আর এসবের মাঝে আজ মন্দির রহস্যর একটি নতুন পর্ব নিয়ে আমি আপনাদের সামনে|আজকের পর্বে বীরভদ্র মন্দির লেপক্ষী মন্দিরের রহস্য |দক্ষিণ ভারতের এই মন্দির নিয়ে রয়েছে যেমন কিছু রহস্য তেমনই এক পৌরাণিক ঘটনার ও উল্লেখ পাওয়াযায়|রামায়ন অনুসারে রাবণের সীতাহরণের সময় বাঁধা দিতে গিয়ে প্রাণ যায় জটায়ুর|আকাশপথে সেই লড়াইয়ে রাবণের তলোয়ারের আঘাতে গুরুতর আহত হয়ে সে এসে পড়েছিল ভূপষ্ঠের এক মন্দিরে|সেই মন্দির হলো এই বীরভদ্র মন্দির|এই মন্দিরের আরেকটি নাম লেপাক্ষী মন্দির কারন মৃত্যুর আগে রামচন্দ্রের সঙ্গে যখন জটায়ুর দেখা হয়, তখন রাম তাকে বলেছিলেন ‘লে পক্ষী’। যার অর্থ পাখি, উঠে দাঁড়াও। সেই থেকেই অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরের এই মন্দিরের নাম হয় লেপাক্ষী মন্দির|রামায়ণে বর্ণিত এই লেপাক্ষী মন্দির তৈরি হয় ১৫৩৮ সালে। বিজয়নগর রাজের পারিষদ দুই ভাই বীরান্না ও বীরুপান্না মন্দিরটি তৈরি করেন। তখন এর নাম রাখা হয়েছিল বীরভদ্র মন্দির।আবার পুরাণ মতে, এই মন্দির তৈরি অগস্ত্য মুনির হাতে।বিখ্যাত এই মন্দিরটিতে রয়েছে গণেশ, বীরভদ্র, শিব, ভদ্রকালী, বিষ্ণু ও লক্ষ্মীর মূর্তি ও একটি বিশালআকার নন্দী মূর্তি|এই মূর্তিটি ২৭ ফিট দীর্ঘ ও ১৫ ফিট উঁচু। বিশালাকার এই মূর্তি ভারতের সবচেয়ে বড় নন্দী মূর্তির তকমা পেয়েছে।এই মন্দির বিজয়নগর শৈলীর জাঁকজমকপূর্ণ স্থাপত্যের একটি নিখুঁত উদাহরণ যাতে আছে ৭০ টি ঝোলানো স্তম্ভ|আর স্তম্ভই হলো এই মন্দিরের সব থেকে বড়ো রহস্য|ষোড়শ শতাব্দীর এই মন্দিরে প্রায় ৭০টি পাথরের থাম রয়েছে। তবে, তাজ্জব করা বিষয়, একটি থামও মাটির|উপরে দাঁড়িয়ে নেই থাম বা স্তম্ভ গুলি রয়েছে ঝুলন্ত অবস্থায়|আজ পর্যন্ত কোনও স্থপতি বা ইঞ্জিনিয়ারের মাথায় আসেনি, কীভাবে কোনও কিছুর উপর ভর না দিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী দাঁড়িয়ে রয়েছে থামগুলি|সত্যি অবাক করা রহস্য|এই রহস্য নিয়ে অনেক জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে| শোনো যায় করেন যে একবার একজন ব্রিটিশ স্থপতি এই পিলারের কোন অংশ ভাঙ্গার চেষ্টা করে এর অলৌকিকতা বোঝার জন্য কিন্তু তিনি সফল হননি |আজ এখানেই থামছি আবার পরের পর্বে ফিরবো একটি নতুন মন্দির রহস্য নিয়ে|যারা গ্রহের প্রতিকার চাইছেন আমাগী 22 ডিসেম্বর বকুল অমাবস্যা উপলক্ষে গ্রহ দোষ খন্ডনের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন উল্লেখিত নাম্বারে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য -তেলেঙ্গানার নৃসিংহ মন্দিরের রহস্য

প্রাচীন ঐতিহাসিক মন্দির নিয়ে অনেকগুলি পর্বে আগে লিখেছি আজ একটি এমন মন্দির নিয়ে লিখবো যা তারিখের হিসেবে প্রাচীন নয় তবে একটি পৌরাণিক ঘটনার সাথে সম্পর্কযুক্ত|মন্দিরটি হলো তেলেঙ্গানার ইয়াদাদ্রিতে অবস্থিত শ্রী লক্ষ্মী নরসিংহ স্বামী মন্দির যে মন্দিরে শুধু প্রবেশদ্বারেই আছে ১২৫ কেজি সোনা|ঐতিহাসিক মন্দিরটির পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল 2016 সালে|তারপর বিস্তৃত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, যজ্ঞাদির পর, মন্দিরটি ফের খুলে দেওয়া হয় ভক্তদের জন্য।আগে এখানে একটি প্রাচীন গুহা মন্দির ছিলো|শ্রী লক্ষ্মী নরসিংহ স্বামী মন্দিরটি, ইয়াদাদ্রি মন্দির নামেই বেশি পরিচিত। এটি তেলেঙ্গানার ইয়াদাদ্রি ভুবনগিরি জেলার ছোট শহর ইয়াদাগিরিগুত্তার একটি পাহাড়ের উপর অবস্থিত। এই মন্দিরে নরসিংহ অবতারে পূজিত হন ভগবান বিষ্ণু। স্কন্দপুরাণ অনুসারে, মহর্ষি নারদ এখানে নরসিংহ রূপে ভগবান বিষ্ণুর তপস্যা করেছিলেন। তাঁর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান তাঁর সামনে নিজেকে পাঁচটি রূপে প্রকাশ করেন – জ্বালা নরসিংহ, গণ্ডবেরান্দ নরসিংহ, যোগানন্দ নরসিংহ, উগ্র নরসিংহ এবং লক্ষ্মী নরসিংহ|পাহাড়ের চূড়ায় লক্ষ্মী-নরসিংহদেব মন্দিরের প্রধান গুহায় নরসিংহের পাঁচ রূপই পাথরে খোদাই করা রয়েছে। নব রূপে মন্দিরের দরজা খোলার আগে, করা হয় ‘মহা সুদর্শন যজ্ঞ’। এর জন্য একশ একরের একটি যজ্ঞ বাটিকা এবং মোট ১০৪৮টি যজ্ঞকুণ্ডল তৈরি করা হয়েছিল। হাজার হাজার পুরোহিত ও তাঁদের সহকারীরা এই আচারে অংশ নেন। পুনর্নির্মাণে খরচ হয়েছে আনুমানিক ১৮০০ কোটি টাকা। বিশাল এই মন্দিরের একটি অন্যতম বিশেষত্ব হল এর পুনর্নির্মাণ কাজে সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। মন্দিরের পুনর্নির্মাণে ২.৫ লক্ষ টন গ্রানাইট ব্যবহার করা হয়েছে। এই গ্রানাইট পাথর অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম থেকে আনা হয়েছে।মন্দিরের প্রবেশদ্বারগুলি তৈরি করা হয়েছে পিতল দিয়ে। তার উপর সোনা দিয়ে কারুকার্য করা হয়েছে। মন্দিরের গোপুরম অর্থাৎ প্রধান প্রবেশদ্বারটিতেই ১২৫ কেজি সোনা ব্যবহার করা হয়েছে। সুদৃশ্য এই নৃসিংহ মন্দির বর্তমানে দক্ষিণ ভারতের তীর্থ ক্ষেত্র গুলির মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রসিদ্ধ যা দেখতে আসেন দেশ বিদেশের মানুষ|পরের পর্বে অন্য কোনো মন্দির রহস্য নিয়ে যথা সময়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – ভূতওয়ালা মন্দিররের রহস্য

শুধুমাত্র একটা রাত। তার মধ্যেই নাকি তৈরি হয়ে গিয়েছিল একটা আস্ত শিব মন্দির! আর সেই মন্দিরটি নাকি তৈরি করেছিল অতৃপ্ত আত্মারা! অবাক করা এমনই অলৌকিক গল্প জুড়ে রয়েছে মেরঠের হাপুরের সিমভাওয়ালির দাতিয়ালা গ্রামের একটি বিশেষ শিব মন্দিরের সঙ্গে।রহস্যময় এই শিব মন্দির নিয়েই আজকের পর্বে লিখবো|গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, প্রাচীন এই মন্দির তৈরি করেছিল ভূতেরা। তাই এর নাম ‘ভূতোওয়ালা মন্দির’। লাল রঙে তৈরি মন্দিরটিতে ইটের সঙ্গে ইট জুড়ে তৈরি। শোনা যায় এই শিব মন্দিরটি প্রায় হাজার বছরের পুরনো৷ শুধুমাত্র চূড়ার কিছু অংশ বাদে এত বছরে প্রাচীন এই মন্দিরের কোনও ক্ষতিই হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, মন্দিরের কেবল ওই অং‌শটি নাকি ‘ভূতেরা’ তৈরি করেনি। পরে মানুষই মন্দিরের চূড়া তৈরি করেছিল। আর সেই কারণেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে মন্দিরের উপরিভাগ।মন্দিরের পুরোহিতের মতে, এক রাতে এই মন্দির তৈরি করেছিল অতৃপ্ত আত্মারা৷ কিন্তু সম্পূর্ণ মন্দিরটি রাতের মধ্যে তৈরি হয়ে গেলেও মন্দিরটির চূড়াটি তৈরি হওয়ার আগেই সূর্যোদয় হওয়ায় ‘তেনারা’ নাকি পালিয়ে গিয়েছিলেন! পরে ১৯৮০ সালে গ্রামবাসীরা মন্দিরের চূড়া তৈরি করেন।স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে অতৃপ্ত আত্মাদের তৈরি এই মন্দিরটি কি কোনও ক্ষতি করে গ্রামের বাসিন্দাদের?এই প্রশ্নের উত্তরে গ্রামবাসীরা জানান, একেবারেই নয়৷ বরং এই মন্দিরটিই নাকি সমস্ত সমস্যা থেকে রক্ষা করে! খরা, বন্যার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করে এটি৷ তবে, যাই হোক না কেন মেরাঠের এই ভূতুড়ে মন্দির দেখতে উৎসুক দর্শকদের ভিড় উপচে পরে৷পরের পর্বে অন্য কোনো মন্দির রহস্য নিয়ে যথা সময়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – দন্তুরা দেবীর মূর্তির রহস্য

সতীর ৫১ পীঠের অন্যতম কেতুগ্রামের অট্টহাস। পুরাণে বলা হয়, সতীর অধর অর্থাৎ ঠোঁটের নিম্নাংশ এই জায়গায় পড়েছিল। দেবী এখানে অধরেশ্বরী নামে পূজিতা হন। অট্টহাস মন্দিরের কথা আপনাদের আগে বলেছি এই মন্দিরেই ছিলো একটি প্রাচীন শিলামূর্তি যাকে দন্তুরা দেবীর মূর্তি বলা হয়|সেই মূর্তির রহস্য নিয়ে লিখবো আজ|বর্তমানে দন্তুরা চামুণ্ডার সেই মূর্তির প্রতিরূপরয়েছে মন্দিরে,আসল মূর্তিটি প্রায় ১০০ বছর আগে অট্টহাস থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেটি সংরক্ষিত রয়েছে অন্য স্থানে|দন্তুরা দেবীর মূর্তি বড়োই অদ্ভুত ও বিচিত্র|দেবীর কঙ্কালসার চেহারা। ফুটে উঠেছে বুকের পাঁজর। কান দুটি শরীরের তুলনায় বেশ বড়। বিস্ফারিত গোলাকার চোখ। আঁচড়ানো চুল পিঠের উপর পড়েছে। মুখগহ্বর থেকে বেরিয়ে রয়েছে কুকুরের মতো দুটি তীক্ষ্ণ দাঁত। মুখে হিংস্রতার ছাপ। বাম হাত মাটিতে ভর দিয়ে আর ডান হাত হাঁটুতে রেখে অদ্ভুত ভঙ্গিতে বসে আছেন দেবী। পাথরের উপর খোদাই করা হয়েছে এই সোওয়া এক ফুটের দন্তুরা চামুণ্ডার মূর্তি। শোনা যায় ওই মূর্তির চোখের ওপর কেউ বেশিক্ষণ চোখ রাখতে পারতেন না। এই কারণে কেতুগ্রামের অট্টহাসে আজও প্রকাশ্যে আনা হয় না দেবীর আসল রূপ। অন্তরালেই থাকেন অট্টহাসের দেবী দন্তুরা চামুণ্ডা। অট্টহাসে দেবীর মূল মূর্তিটি দেবীর অষ্টচামুণ্ডা রূপের অন্যতম দন্তুরা চামুণ্ডা। এই মূর্তি ভারতবর্ষে সচরাচর দেখা যায় না। যার বয়স প্রায় সাড়ে তিনহাজার বছরেরও বেশি। ১৯১৫–১৬ সাল নাগাদ ঐতিহাসিক ও গবেষকদের উদ্যোগেদন্তুরা চামুণ্ডার মূর্তিটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সংগ্রহশালায়। সেই থেকে সংগ্রহশালায় রয়েছে অট্টহাসের দন্তুরা চামুণ্ডা। তারপর থেকে দন্তুরা চামুণ্ডার একটি আলোকচিত্র সংগ্রহ করে মন্দিরে পুজো করা হচ্ছে। নির্জন জঙ্গলের মাঝে নিশুতি রাতে অট্টহাসের চামুণ্ডা পুজোয় রোমাঞ্চ উপভোগ করতে অনেক দর্শনার্থী ভিড় জমান। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এখনও রাতের বেলায় এড়িয়ে চলেন অট্টহাস মন্দির।কারন শ্রদ্ধা ও ভক্তির সাথে মিশে আছে এক ধরনের ভীতি ও অনুগত্য যার কেন্দ্রে আছে দন্তুরা দেবীর রহস্যময় মূর্তি|যথা সময়ে ফিরে আসবো পরের পর্বে অন্য কোনো মন্দির রহস্য নিয়ে|থাকবে এরকম বহু রহস্যময় ও অলৌকিক ঘটনারর উল্লেখ|পড়তে থাকুন|আগামী 22 ডিসেম্বর বকুল অমাবস্যায় শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকারের জন্য যোগাযোগ করুনপোস্টে উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

তত্তা পানি শিব মন্দিরের রহস্য

ভারতের হিমাচল প্রদেশের সুন্দর পার্বত্য উপত্যকায় অনন্য এবং বিস্ময়কর এক শিবমন্দির রয়েছে যা আপনাকে অবাক করে তুলতো পারে।আজ মন্দির রহস্য পর্বে সেই শিব মন্দিরের কথাই আপনাদের জন্য লিখবো |পার্বতী নদীর তীরে রয়েছে এই অলৌকিক ও সুন্দর শিব মন্দির। যে মন্দিরের ভিতরে রয়েছে উষ্ণ প্রসবন।পার্বত্য অঞ্চলে উষ্ণ জল মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসাকে ঘিরে মানুষের মধ্যে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। ঐতিহাসিক এই শিবমন্দিরের পাশেই রয়েছে গুরু নানকের পবিত্র গুরুদ্বার। দুটি ভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অদ্ভুত সহাবস্থান ও মনোরম প্রাকৃতিক রূপ তার সাথে আধ্যাত্মিক অনুভূতি এই সব মিলিয়ে মুগ্ধ হন দেশ বিদেশ থেকে আসা পর্যটক ও ভক্তরা।একদিকে এই নদীর তাপমাত্রা বরফের মতো ঠান্ডা অন্যদিকে সূর্যের তেজ তার মাঝে ভুগর্ভ থেকে উঠে আসা জলের উষ্ণতা সব মিলিয়ে বেশ রহস্যময় পরিবেশ সৃষ্টি হয় এখানে । ভক্তরাও এই গরম জলে স্নান করেন। বলা হয়ে থাকে যে, এই জল থেকে যদি চা তৈরি করা হয়, তবে প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক চিনি যোগ করলেও চা তৈরির জন্য পর্যাপ্ত মিষ্টি হয়। পর্যটকদের জন্য গরম জলেতে সিদ্ধ করে চালও বিক্রি করা হয় এবং অনেকে আবার স্নানের জন্য জল নেন।দেশ বিদেশ থেকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেন। এখানকার উষ্ণ গন্ধকযুক্ত জলে স্নান করলে অনেক রোগের নিরাময় হয় বলেও বিশ্বাস তারমধ্যে বাত ও যেকোনো হাড়ের অসুখও সেরে যায় বলে দর্শণার্থীরা মনে করেন|পার্বতী উপত্যকার পার্বতী নদীর তীরে হিমাচল প্রদেশের এই কুল্লু শহরে অবস্থিত মণিকর্ণ নামক এই স্থান হিন্দু এবং শিখদের জন্য একটি বিখ্যাত তীর্থস্থান। এটি বিশ্বাস করা হয় যে মহাদিদেবাএবং দেবী পার্বতী এই স্থানে ১১ হাজার বছর ধরে একসঙ্গে তপস্যা করেছেন। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, পার্বতীর কর্ণ বলিদানের কারণে এই স্থানটির নামকরণ হয়েছে মনি কর্ণ আবার স্থানটিকে উষ্ণ প্রশ্রবনের জন্য তত্তাপানিও বলা হয়। তত্তপানি মানে গরম জল, এর অর্থ এখানে গরম জলের উৎস আছে|বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই। আস্থা ও ভক্তিই শেষ কথা|যথা সময়ে ফিরে আসবো পরের পর্বে অন্য কোনো মন্দির রহস্য নিয়ে|থাকবে আরো অনেক অলৌকিক ঘটনা ও রহস্যময় মন্দিরের কথা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – এই মন্দিরে আছে কার্তিকের অস্থি

আজ আপনাদের উত্তরাখন্ডের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত কার্তিক স্বামী মন্দিরের কথা জানাবো|পুরাণ অনুসারে, যে পর্বতের উপর কার্তিক স্বামী টেম্পল তৈরি করা হয়েছে সেই পর্বতের আগে নাম ছিল ক্রোঞ্চ পর্বত। ক্রোঞ্চ পর্বতেই রয়েছে কার্তিকদেবের অস্থি!পুরাণ অনুসারে, মহাদেব এবং দেবী পার্বতীয় জ্যেষ্ঠ পুত্র কার্তিকদেব।দক্ষিণভারতে কার্তিকদেবকে স্কন্দ এবং মুরুগান নামে পুজো করা হয়।দুর্গম অঞ্চলে অবস্থিত এই মন্দিরের সঠিক বয়স বা নির্মাণের ইতিহাস জানা যায়না।বর্তমানে উত্তরাখন্ড সরকার এই মন্দিরের রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্বে আছে|জিম করবেট এর বইয়ে আপনারা হয়তো রূদ্র প্রয়াগের কথা পড়েছেন সেই রুদ্রপ্রয়াগ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে এই মন্দির। পর্বতের এই চূড়ায় পৌঁছতে হলে কনকচৌরি থেকে ভক্তদের ৩ কিলোমিটার ট্রেক করে আসতে হবে। ট্রেক-এর পথ সহজ নয়, তবে নিঃসন্দেহে আনন্দদায়ক এবং মনমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ|কথিত আছে, জ্যেষ্ঠ পুত্র কার্তিক নাকি কনিষ্ঠপুত্র গণেশ— কে বেশি তার বাবা-মা’কে ভালোবাসেন তা পরীক্ষা করার জন্য একবার পিতা মহাদেব এবং মাতা পার্বতী ছোট্ট একটি পরীক্ষা নিয়েছিলেন। তাঁরা সন্তানদের জানিয়েছিলেন, যে পুত্র আগে ব্রহ্মাণ্ড প্রদক্ষিণ করে আগে তাঁদের কাছে পৌঁছতে পারবে, সেই পুত্রই তাঁদের বেশি ভালোবাসে বলে প্রমাণিত হবে। শোনা মাত্রা কার্তিকদেব তাঁর ময়ূরের পিঠে চড়ে ব্রহ্মাণ্ড প্রদক্ষিণে বেরিয়ে পড়েন। অন্যদিকে গণেশদেব তাঁর পিতা মাতাকে প্রদক্ষিণ করে জোড় হস্তে বলেন, তাঁর কাছে পিতা-মাতাই ব্রহ্মাণ্ডের স্বরূপ! একথা শুনে পিতা মহাদেব ও মাতা পার্বতী অত্যন্ত প্রসন্ন হন।পুরান কথায় আগেও হয়তো আপনাদের এই পৌরাণিক ঘটনা বলেছি আজ তার পরের ঘটনা বলবো যার সম্পর্ক রয়েছে এই মন্দিরের সাথে|কিছু সময়ের মধ্যে কার্তিকদেবও ব্রহ্মাণ্ড প্রদক্ষিণ করে এসে ফিরে আসেন ও দেখেন পিতা-মাতার ক্রোড় অধিকার করে বসে আছেন গণেশ। এরপর গণেশদেবের বুদ্ধির পরিচয় পেয়ে ও পিতা মাতার সিদ্ধান্ত জেনে তিনি পিতা মহাদেব ও মাতা পার্বতীর প্রতি ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁর মনে হয়, পিতা-মাতা কনিষ্ঠ পুত্রের প্রতি বেশিই স্নেহশীল। তিনি রাগের তেজ শান্ত করতে ক্রোঞ্চ পর্বতের চূড়ায় বসে কঠোর তপস্যা শুরু করেন দেহের মাংস ও হাড় পরিত্যাগ করেন ও পিতামাতার প্রতি তাঁর ভক্তির পরিচয় দেন। ওই তেজদীপ্ত স্থানেই পরবর্তীকালে তৈরি হয় মন্দির।তার অস্থি সেই থেকে সংরক্ষিত আছে এই পর্বতে এমনটাই প্রচলিত বিশ্বাস|অনেকেই বর্তমানে এই দুর্গম পাবর্ত্য অঞ্চলে ঘুরতে যান । পর্বতের চূড়ায় পৌঁছে কার্তিক স্বামীমন্দিরে ভক্তি ভরে মাথা ঠেকিয়েও আসেন।পরের পর্বে অন্য কোনো মন্দির রহস্য নিয়ে যথা সময়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|