নবরাত্রির পঞ্চম দিনে দেবী স্কন্দ মাতার পূজা করা হয়।ভগবান শিব এবং দেবী পার্বতীর পুত্র কার্তিকের আরেক নাম স্কন্দ তাই স্কন্দমাতা পার্বতীজির অপর নাম। দেবী স্কন্দমাতা শিশু স্কন্দকে কোলে নিয়ে থাকেন । দেবী চতুর্ভুজা এক হাতে সে স্কন্দকে ধরে রেখেছে। যেখানে অন্য দুটি হাতে তিনি দুটি পদ্ম ধারণ করেন এবং তার চতুর্থ হাতটি আশীর্বাদ দেয়ার জন্য ব্যাবহিত হয়|হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, দেবী স্কন্দমাতা আগুনের দেবী।স্বেত বর্ণের দেবী একটি পদ্মের উপর উপবিষ্ট। তিনি তার ভক্তদের অমূল্য জ্ঞান দান করেন।যারা নবরাত্রির পঞ্চম দিনে বাড়িতে স্কন্দমাতার পুজো করবেন তারপর প্রথমে গঙ্গাজল দিয়ে গৃহ শুদ্ধ করুন। একটি রৌপ্য, তামা বা মাটির পাত্রে নারকেল রেখে একটি কলস স্থাপন করুন। এরপর শ্রীগণেশ, বরুণ, নবগ্রহ, ষোড়শ মাতৃকা,সাতটি সিন্দুর বিন্দু স্থাপন করুন। তারপর বৈদিক ও সপ্তশতী মন্ত্রের মাধ্যমে স্কন্দমাতা ও ষোড়শপচার সহ সমস্ত প্রতিষ্ঠিত দেবতার পূজা করুন। এর মধ্যে রয়েছে আবাহন, আসন, পদ্য, আরাধ্যা, আচমন, স্নান, পোশাক, সৌভাগ্য সূত্র, চন্দন, রোলি, হলুদ, সিঁদুর, দূর্বা, বিল্বপত্র, গহনা, ফুলের মালা, সুগন্ধি মদ, ধূপ-প্রদীপ, নৈবেদ্য, পাণুবিদ্য, ফল। দক্ষিণা। , আরতি, প্রদক্ষিণা, মন্ত্র পুষ্পাঞ্জলি ইত্যাদির পর প্রসাদ বিতরণ করে পূজা করা।পুজোর সময় মাতৃদেবীর এই মন্ত্রটি ১১ বার জপ করা উচিত। স্কন্দমাতার এই মন্ত্রটি জপ করলে আপনার বাড়িতেও সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি বিরাজ করবে।যা দেবী সর্বভূতেষু মা স্কন্দমাতা রূপেন সংস্থা।নমস্তস্য নমস্তস্য নমস্তস্য নমো নমঃ।।পুজোর দিনে নীল বর্নের পোশাক পরিধান করা উচিত এবং কলা নিবেদন করে মাতাকে তুষ্ট করা উচিত। এই দিনে দুর্গা সপ্তশতী কথার সপ্তম অধ্যায় পাঠ করা উচিত। মা স্কন্দমাতা তাঁর ভক্তদের প্রতি অগাধ ভালবাসা ও ভক্তি বর্ষণ করেন। একজন সত্যিকারের ভক্তি সহকারে তার কাছে প্রার্থনা করা উচিত।ফিরে আসবো পরের পর্বে দেবীর পরবর্তী রূপ নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
নবদুর্গার চতুর্থ রূপ – দেবী কুষ্মান্ডা
নব রাত্রি উপলক্ষে পূজিতা মায়ের চতুর্থ রূপ হলো কুষ্মাণ্ডা রূপ এই রূপে দেবী পূজিতা হন নব রাত্রির চতুর্থ রাত্রে|দেবীর এইরকম অদ্ভুত নাম এর নিদ্দিষ্ট ব্যাখ্যা আছে ‘কু’ শব্দের অর্থ কুৎসিত এবং ‘উষ্মা’ শব্দের অর্থ ‘তাপ’; ‘কুষ্মা’ শব্দের অর্থ তাই ত্রিতাপ বা দুঃখ–দেবী জগতের দুঃখ গ্রাস করে নিজের উদরে ধারণ করেন, তাই তার নাম ‘কুষ্মাণ্ডা’মহাপ্রলয়ের পরে যখন সর্বত্র শুধু নিশ্ছিদ্র অন্ধকার ছেয়ে রয়েছে, তখন এই দেবী কুষ্মাণ্ডা নব রূপে ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি করেছিলেন|দেবী অষ্টভুজা” নামেও পরিচিতা আবার দেবীকে “কৃষ্ণমাণ্ড” নামেও ডাকা হয়|দেবী সিংহবাহিনী ও ত্রিনয়নী দেবীর হাতে থাকে সুদর্শনচক্র, ধনুর্বাণ, রক্তপদ্ম, কমণ্ডলু, অমৃত কলস ও জপমালা|মনে করা হয়, দেবী কুষ্মাণ্ডা অল্প পূজাতেই সন্তুষ্ট হন। তার পূজায় কুষ্মাণ্ড বা কুমড়ো বলি দেওয়ার রীতি আছে।কাশীতে দেবী কুষ্মাণ্ডার মন্দির বিখ্যাত। কাশীতে তিনি দুর্গা নামেই সমধিক পরিচিত। তিনি কাশীর দক্ষিণ দিকের রক্ষয়িত্রী। কাশীখণ্ড-এ রয়েছে, অসি নদীর সঙ্গমস্থলে কুষ্মাণ্ডার অধিষ্ঠানশাস্ত্র মতে এই রূপের আরাধনায় বৈভব, সুখ সমৃদ্ধি ও যশ এবং খ্যাতি বাড়ে বলে মনে করা হয়|যারা দেবীর কুষ্মান্ডা রূপের পুজো করবেন প্রথমে কলস এবং তার মধ্যে উপস্থিত দেবতার পূজা করুন। তারপর অন্যান্য দেবতাদের পূজা করা উচিত। তাঁদের পূজা করার পর, দেবী কুষ্মান্ডার পূজা শুরু করুন।পুজোর দিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে হাতে ফুল নিয়ে দেবীর পূজা করা উচিত।দেবী কুষ্মান্ডার ধ্যান করার পর, তাঁকে ধূপ, লাল ফুল, সাদা ফল নিবেদন করুন। এই ভাবে পুজো করলে দেবীর আর্শীবাদ এবং সৌভাগ্যবান হয়ে উঠতে পারেন।দেবী কুষ্মান্ডার পভোগ হিসেবে হালুয়া এবং দই দিন। আপনি এটিকে প্রসাদ হিসেবে নিতে পারেন।পুজোর শেষে দেবীর আরতি করুন।আপনারাও নবরাত্রির এই পবিত্র সময়কে শাস্ত্র মতে ব্যবহার করে নিজের জীবনের যাবতীয় সমস্যা দূর করতে পারেন ভরসা রাখুন জ্যোতিষ শাস্ত্রে ভরসা রাখুন আমার উপর|ফিরে আসবো পরের পর্বে দেবীর পরবর্তী রূপ নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
নবদুর্গার তৃতীয় রূপ – দেবী চন্দ্রঘন্টা
নবরাত্রিতে তৃতীয় দিনে পূজিতা হন নব দুর্গার তৃতীয় রূপ অর্থাৎ চন্দ্র ঘন্টা|পুরান অনুসারে শিব পার্বতীর বিবাহের সময় হঠাৎ তারোকাসুর প্রেত পিশাচ দৈত দানব সহ আক্রমণ করে বসে তখন দেবী পার্বতী এক দশ ভুজা রুপী মঙ্গলময়ী দেবী রূপে চন্দ্র সম বিশাল শুভ ঘণ্টা বাজিয়ে সকল অশুভ শক্তি কে নিরস্ত্র করেন|দেবীর এই রূপ চন্দ্র ঘন্টা নামে পরিচিত|দেবীর আবির্ভাব সম্পর্কে আরো একটি ব্যাখ্যা প্রচলিত আছে|দ্বিতীয় তত্ব অনুসারে শিব বিবাহ কালে চন্ড রূপ ধারণ করলে তাকে দেখে মেনকা সহ উপস্থিত অথিতিরা ভীত হয়ে পড়েন তখন দেবী পার্বতী শিবের এই রূপের প্রত্যুত্তরে চন্দ্রঘণ্টা রূপ ধারণ করেন। দেবীর এই রনমূর্তি দেখে শিব তার নিজের চন্ড রূপ ত্যাগ করে বিবাহের জন্যে নিজের সৌম ও শান্ত রূপে ফিরে আসেন|দেবী চন্দ্রঘন্টা তৃতীয় নয়ন দ্বারা সমৃদ্ধ যা শুধুমাত্র যুদ্ধের সময় খোলে।দেবীর মস্তকে অর্ধচন্দ্র থাকে , তাই দেবীকে চন্দ্রঘণ্টা নামে ডাকা হয় । দেবীর শরীরের রং স্বর্ণের মতো উজ্জ্বল । এই দেবী দশভুজা । দেবীর হাতে কমণ্ডলু , তরোয়াল , গদা , ত্রিশূল , ধনুর্বাণ , পদ্ম , জপ মালা থাকে| দেবীর বাহন সিংহ|দেবীর চন্দ্র ঘন্টার পুজো করতে চাইলে একটি প্রদীপ ঘি বা তিলের তেল দিয়ে জ্বালান এবং দেবীর মূর্তি মূর্তির কাছে বেদীতে রাখুন।গন্ধম, পুষ্পম, দীপম, সুগন্ধম এবং নৈবেদ্যম অর্থাৎ পঞ্চোপচার দেবীর পুজো করতে পারেন দেবীর আহ্বানে নিম্নলিখিত মন্ত্রটি উচ্চারন করতে পারেন- ওম দেবী চন্দ্রঘণ্টায় নমঃ ॥পিন্ডজা প্রভাররুধা চন্দকোপাস্ত্রকৈর্যুতা।প্রসাদম্ তনুতে মহ্যম চন্দ্রঘণ্টেতি বিশ্রুতা ॥ইয়া দেবী সর্বভূতেষু মা চন্দ্রঘণ্টা রূপেন সংস্থিতা। নমস্তস্যায় নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ ॥দেবী দুর্গার এই রূপ তার ভক্তদের মন্দ থেকে রক্ষা করেন। এই দেবীর আরাধনা সাংসারিক সুখ ও শান্তি এনে দেয় জীবনে|জীবন সবদিক থেকে পরিপূর্ণ হয় দেবীর আশীর্বাদে|প্রতিবছরের ন্যায় এবছর ও নবরাত্রি এবং দূর্গা পুজো অনুষ্ঠিত হবে আপনাদের হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে আপনারা বাড়িতে থেকেও অনলাইনে এই পক্রিয়ার সাথে সম্পূর্ণ ভাবে যুক্ত হতে পারেন|আগামী দিনের পর্বে দেবীর অন্যরূপ নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
নবদুর্গার দ্বিতীয় রূপ – দেবী ব্রহ্মচারিনী
আজ নবরাত্রি উপলক্ষে পূজিতা দেবী দুর্গার দ্বিতীয় রূপ নিয়ে আলোচনা করবো যথারীতি|নব রাত্রির দ্বিতীয় দিনে ব্রহ্মচারিনীর বেশে ধরা দেন মা|এখানে ‘ব্রহ্ম’ শব্দের অর্থ হল তপস্যা। ব্রহ্মচারিণী অর্থাৎ তপস্বীনি|ভগবান শঙ্করকে পতিরূপে লাভ করার জন্য দেবী পার্বতী কঠিন তপস্যা করেন। সেই কঠিন তপস্যার জন্য তাকে তপশ্চারিনী বা ব্রহ্মচারিণী বলা হয়|তপস্যা সার্থক হয় বিবাহ হয় দুজনের । পরে তাঁদের সন্তান কার্তিক বা ষড়ানন বধ করেন তারকাসুরকে।দেবীর ব্রহ্মচারিণীর রূপ জ্যোতিতে পূর্ণ, অতি মহিমামণ্ডিত। তিনি ডান হাতে জপের মালা এবং বাঁ হাতে কমণ্ডলু ধারণ করে আছেন।জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে দেবী মঙ্গল গ্রহ শাসন করেন। প্রেম, আনুগত্য, প্রজ্ঞা এবং জ্ঞানের প্রতীক হিসেবেও তিনি পরিচিত। সাদা রঙ দেবীর প্রিয় তাই দেবী ব্রহ্মচারিনীর পুজোয় স্বেত চন্দন ও সাদা ফুল ব্যাবহার হয়|যারা দেবীর ব্রহ্মচারীনি রূপের পুজো করবেন তারা এই মন্ত্রটি জপ করতে পারেন|”ইয়া দেবী সর্বভূতেষু মা ব্রহ্মচারিণী রূপেন সংস্থিতা নমস্তস্যই নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ |দধনা কারা পদ্মভ্যাম অক্ষমলা কামণ্ডালু | দেবী প্রসিদাতুরমণি মা |ওম দেবী শৈলপুত্রায় নমঃ ॥ ইয়া দেবী সর্ব ভূতেষু শক্তি রূপেন সংস্থিতাঃ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমহা ” শাস্ত্রে আছে এই রূপের পূজায় বৃদ্ধি পায় মনোসংযোগ এবং সব ভয় সংশয় ও মানসিক দুর্বলতা দূর হয়|নবরাত্রির দ্বিতীয় দিনে এই রূপের পুজো হয় সারা দেশে|বিশ্বাস করা হয় নবরাত্রির গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জ্যোতিষ পরামর্শ ও প্রতিকারের জন্য অত্যান্ত শুভ সেই বিষয়ে আপনারা চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন| আগামী দিনের পর্বে দেবীর অন্যরূপ নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
নবদুর্গার প্রথম রূপ – দেবী শৈল পুত্রী
শুরু হয়ে গেছে দেবীপক্ষের|শাস্ত্র মতে প্রতিপদের শুরু হলো আজ|বাংলার দূর্গা পূজার পাশাপাশি একই সময়ে সারা দেশ জুড়ে পালিত হয় নব রাত্রি উৎসব|মূলত দেবী দুর্গার নয় টি ভিন্ন রূপের পূজা হয় নয় দিন ধরে| বাংলার অনেক দূর্গা পূজা তেও নব দুর্গার আরাধনা হয়|এই রূপ গুলির আছে নিজস্ব শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য|আজ বলবো প্রথম রূপ শৈল পুত্রী নিয়ে|প্রজাপতি দক্ষএকবার বিরাট যজ্ঞ করেন ।তার যজ্ঞে সতী কে নিমন্ত্রণ করা হয়নি । সতী পিতৃ গৃহে যাবার জন্য অস্থির হলেন কিন্তু ভগবান শঙ্কর সাবধান করলেন যে কোন কারনে তিনি উমার উপর রেগে আছেন । কিন্তু সতীর মন মানল না তখন শঙ্কর জী অনুমতি দিলেন যাবার জন্য । কিন্তু পিতৃ গৃহে গিয়ে পৌঁছে দেখলেন কেউ তাকে সেরকম স্নেহ ভরে কাছে ডাকছে না । একমাত্র মা জড়িয়ে ধরলেন । স্বয়ং দক্ষ তাকে নানা খারাপ কথা বললেন । তখন রাগে দুঃখে যজ্ঞাগ্নির সাহায্যে নিজে কে ভস্মীভূত করলেন ।সতীর এই পরিনতির সংবাদ শুনে শিব ও তার অনুগামীরা প্রচন্ড ক্রোধে দক্ষের যজ্ঞ ধ্বংস করলেন|পর জন্মে দেবী সতী শৈলরাজ হিমালয়ের কন্যা রুপে জন্ম নিলেন| শৈলরাজ হিমালয়ের কন্যা হবার জন্য দেবীর এক নাম হয় শৈলপুত্র এবং এই জন্মে তিনিই পার্বতী রূপে শিবের অর্ধাঙ্গিনী হলেন|নবরাত্রি উৎসবের প্রথমদিনের পুজো হয় দেবী শৈলপুত্রীর। দেবী শৈলপুত্রী আসলে প্রকৃতির দেবী। শৈলপুত্রীর বাহন বৃষ । এঁনার দক্ষিণ হস্তে ত্রিশূল আর বাম হস্তে কমল আছে তাই দেবীর অপর নাম শুলধারিনি|আবার তাকে দেবী হৈমবতী বলে ডাকা হয়|শাস্ত্র অনুযায়ী ব্রহ্মার শক্তির প্রতীক হলেন দেবী শৈলপুত্রী কারন একবার দেব ও অসুরের যুদ্ধে ব্রহ্ম দেবতাদের জয়ী করেছিলেন। কিন্তু ব্রহ্মের শক্তিকে ভুলে দেবতারা জয়ের গৌরব নিজেরাই নিতে উদ্যত হলেন। ব্রহ্ম তখন নিজে এলেন দেবতাদের দর্পচূর্ণ করতে। তিনি একখণ্ড তৃণ রাখলেন দেবতাদের সম্মুখে। কিন্তু দেবতারা আশ্চর্য হয়ে দেখলেন, অগ্নি সেই তৃণখণ্ডটি দহন করতে বা বায়ু তা একচুল পরিমাণ স্থানান্তরিত করতে অসমর্থ হলেন। তখন ইন্দ্র এলেন সেই জ্যোতির্ময় ব্রহ্মকে জানতে। ব্রহ্ম অন্তর্হিত হলেন। ব্রহ্মশক্তি শৈলপুত্রীর রূপ ধারন করলেন|দেবী শৈলপুত্রী সম্পর্কে বর্ণিত আছে কালিকা পুরাণে|শাস্ত্র মতে এই রূপের আরাধনায় বৃদ্ধি পায় মনোবল|মানসিক অস্থিরতা ও অবসাদ মুক্তি হয় দেবী শৈল পুত্রীর আরাধনায়|ধারাবাহিক ভাবে চলবে ওই আলোচনা|আগামী পর্বে দেবীর পরবর্তী রূপ নিয়ে আলোচনা করবো |পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
মহালয়ার তিথির আধ্যাত্মিক ও পৌরাণিক ব্যাখ্যা
আজ পঞ্জিকা মতে পিতৃ পক্ষের অবসান হয়ে দেবী পক্ষের সূচনা, অর্থাৎ মহালয়া তিথি, মহাভারত অনুযায়ী, প্রসিদ্ধ দাতা কর্ণের মৃত্যু হলে তার আত্মা স্বর্গে গমন করলে, তাকে স্বর্ণ ও রত্ন খাদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়। কর্ণ ইন্দ্রকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে ইন্দ্র বলেন, কর্ণ সারা জীবন স্বর্ণই দান করেছেন, তিনি পিতৃগণের উদ্দেশ্যে কোনোদিন খাদ্য প্রদান করেননি। তাই স্বর্গে তাকে স্বর্ণই খাদ্য হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। কর্ণ বলেন, তিনি যেহেতু তার পিতৃগণের সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না, তাই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে পিতৃগণকে স্বর্ণ প্রদান করেননি। এই কারণে কর্ণকে ষোলো দিনের জন্য মর্ত্যে গিয়ে পিতৃলোকের উদ্দেশ্যে অন্ন ও জল প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই পক্ষই পিতৃপক্ষ নামে পরিচিত হয়। হিন্দু পূরাণ অনুযায়ী, জীবিত ব্যক্তির পূর্বের তিন পুরুষ পর্যন্ত পিতৃলোকে বাস করেন। এই লোক স্বর্গ ও মর্ত্যের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। পিতৃলোকের শাসক মৃত্যুদেবতা যম। তিনিই সদ্যমৃত ব্যক্তির আত্মাকে মর্ত্য থেকে পিতৃলোকে নিয়ে যান। পরবর্তী প্রজন্মের একজনের মৃত্যু হলে পূর্ববর্তী প্রজন্মের একজন পিতৃলোক ছেড়ে স্বর্গে গমন করেন এবং পরমাত্মায় লীন হন এবং এই প্রক্রিয়ায় তিনি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের ঊর্ধ্বে উঠে যান। এই কারণে, কেবলমাত্র জীবিত ব্যক্তির পূর্ববর্তী তিন প্রজন্মেরই শ্রাদ্ধানুষ্ঠান হয়ে থাকে; এবং এই শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে যম একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।পিতৃগণের অবস্থানের প্রথম পক্ষে হিন্দুদের পিতৃপুরুষগণের উদ্দেশ্যে তর্পণাদি করতে হয়|এই তর্পনের শাস্ত্র সম্মত তিথি হলো মহালয়া তিথি| জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুসারে অনুযায়ী, সূর্য কন্যারাশিতে প্রবেশ করলে পিতৃপক্ষ সূচিত হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময় পূর্বপুরুষগণ পিতৃলোক পরিত্যাগ করে তাদের উত্তরপুরুষদের গৃহে অবস্থান করেন। এর পর সূর্য বৃশ্চিক রাশিতে প্রবেশ করলে, তারা পুনরায় পিতৃলোকে ফিরে যান। বাংলায় মহালয়ার দিন দুর্গাপূজার সূচনা হয়। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিন দেবী দুর্গা মর্ত্যলোকে আবির্ভূতা হন। মহালয়ার ভোরে চণ্ডীপাঠ করার রীতি রয়েছে। বাঙালির মহালয়ার ভোর মানে টাই রেডিওতে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রর কণ্ঠে চন্ডী পাঠ ও মহিষাসুর মর্দিনী অনুষ্ঠান| প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে বিশেষ পুজো ও হোম যজ্ঞর আয়োজন করা হয়েছে|আপনারা সশরীরে অথবা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অংশ নিতে পারেন|শাস্ত্র মেনে মহালয়া তিথি পালন করুন|মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার কৃপায় আপনারা ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
বাংলার ঐতিহাসিক পুজো – হরিপালের বোম ফাটানো পুজো
আজ আপনাদের ৪০০ বছরেরও বেশি পুরনো হরিপালের ‘বাবুর বাড়ি’-র দুর্গা পুজো নিয়ে বলবো হ্যাঁ ” বাবুর বাড়ির পুজো ” নামেই খ্যাত হুগলীর হরিপালের এই বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক দূর্গা পুজো|ব্যাতিক্রমী একটি প্রথা এখানে আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়|বিশেষ মুহুর্তে পরিবারের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য , বাড়ির সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠা মহিলাদের থেকে গিয়ে অনুমতি নেন আরতি আরম্ভ করার। অনুমতি মেলার সঙ্গে সঙ্গে একটি বোমা ফাটানো হয়। তারপরেই বয়োজ্যেষ্ঠ সদস্য “মা” বলে ডেকে ওঠেন, সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও “মা” বলে ডাক দেন। আর অমনি এই সময়ে এক সাথে “মা” দুর্গা এবং রাধা গোবিন্দের আরতি শুরু করেন দুই পুরোহিত। ৪০০ বছরে এই রীতির পরিবর্তন হয়নি|স্থানীয় ইতিহাস ঘাটলে জানা যায় আনুমানিক ৫০০ বছর আগে রাসবিহারী ভট্টাচার্য্য হরিপালেরএই গ্রামে এসে জমিদারি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় প্রত্যেক বছর অঘ্রাণ মাস ধরে কাত্যায়নি পুজো হতো জমিদার বাড়িতে। রাজবিহারী ভট্টাচার্য্যের পুত্র কৃষ্ণনাথ ভট্টাচার্য্য একানিষ্ঠ গোবিন্দ ভক্ত ছিলেন। তিনি একদা বৃন্দাবনে গোবিন্দ দর্শনে বার হলে পথে স্বপ্নাদেশ পান বৃন্দাবনে নয়, জয়পুরে অধিষ্ঠিত আছেন গোবিন্দ। সেখান থেকে গোবিন্দের মূর্তি নিয়ে এসে গজা গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন কৃষ্ণনাথ ভট্টাচার্য্য। তারপর থেকেই কাত্যায়নি পূজো বন্ধ হয়ে মা দুর্গার পূজা চালু হয় ভট্টাচার্য্য বাড়িতে যেটি বর্তমানে “বাবুর বাড়ি” নামে খ্যাত।জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামো পূজার মাধ্যমে ” বাবুর বাড়ি” র দুর্গাপুজো শুরু হয়। এক চালচিত্রের মধ্যেই একই বংশের পটুয়ারা বাবুর বাড়িতে এসে প্রতিমা নির্মাণের কাজ করেন। পুজোর চারদিন দূর্গা দালানে মা দুর্গার পাশে বিরাজমান থাকেন রাধা গোবিন্দ । এবং রাধা গোবিন্দের সাথে মা দুর্গার একসাথে আরাধনা চলে পুজোর চারদিন। দুটি পুরোহিত একসঙ্গে দুটি পুজোর রীতিনীতির কাজ সম্পন্ন করেন নিষ্ঠাভরে।। সপ্তমী, অষ্ঠমী, নবমীতে রাধা-গোবিন্দকে প্রথমে উৎসর্গ করা ভোগ। সেই ভোগের একটা অংশ চলে যায় মা দুর্গার কাছে। সঙ্গে আরও অন্য ভোগ দিয়ে মা দুর্গাকে ভোগ নিবেদন করা হয়। প্রাচীন এই রীতির পরিবর্তন হয়নি আজ ও। দশমীতে বিসর্জনের আগের মুহুর্তে রাধাগোবিন্দ ফিরে যান তাঁর নিজ স্থানে। হুগলী জেলার প্রাচীনতম পুজো “বাবুর বাড়ি” পুজো এই বাড়ির ঠাকুর বিসর্জনের পরেই গ্ৰামের অন্যান্য বাড়ি ও এলাকার অন্যান্য পুজা কমিটির প্রতিমা বিসর্জন হয়।বাকি রইলো আরো অনেক ঐতিহাসিক পুজো নিয়ে বলা|আগামী দিনে দুর্গাপূজা সংক্রান্ত আরো অনেক ইতিহাস, গল্প ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
বাংলার ঐতিহাসিক পুজো – শতাব্দী প্রাচীন লাহা বাড়ির দূর্গা পুজো
বাংলা তথা কলকাতার ঐতিহাসিক দূর্গা পুজো গুলির মধ্যে লাহা বাড়ির পুজো অন্যতম|আজকের পর্বে লাহা বাড়ির এই দূর্গা পুজো নিয়ে লিখবো |ঐতিহাসিক এই লাহা বাড়ির ইতিহাস বেশ প্রাচীন তাদের এবং দূর্গা পুজো নিয়ে প্রচলিত আছে বহু বহু গল্প বহু অদ্ভুত রীতি|মনে করা হয় বর্ধমানের বড়শূলে প্রথম পুজো শুরু করেন বনমালী লাহা|পরবর্তীতে কলকাতায় এই পুজো শুরু করেন দুর্গাচরণ লাহা|এ বাড়ির পুজোর এমন কিছু বৈশিষ্ট আছে যা আর বেশ অদ্ভুত এবং আর কথাও চোখে পড়েনা|লাহা বাড়ির কুল দেবতা সিংহ বাহিনী এবং দূর্গা পুজোর সময়ের দেবী দূর্গা সিংহ বাহিনী একই সাথে পূজিতা হন|সিংহ বাহিনী কি করে এবাড়ির কুলদেবী হলো সে নিয়েও একটি অলৌকিক ঘটনা আছে|শোনা যায় কোনো এক সময় নাকি দেবীর এই মূর্তি কোন এক গভীর জঙ্গলে ডাকাতদের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে অনাদরে অযত্নে পড়ে ছিল এই বাড়িরই এক সদস্য দেবীর কাছে স্বপ্নাদেশ মেয়ে মূর্তি উদ্ধার করতে গিয়ে দেখেন, দেবী বড় বিপন্ন। তিনি যত্নে দেবীকে তুলে নিয়ে এসে কুলদেবী রূপে পুজো করতে শুরু করেন|সেই থেকেই অষ্ট ধাতুর সেই মূর্তি কুল দেবী রূপে এবাড়িতে প্রতিষ্ঠিত|শোনা যায় ওই ঘটনার পর থেকে লাহাদের ব্যাপক উন্নত হয়|পরবর্তীতে শিবচরণ লাহা ইংরেজদের সঙ্গে পেন খাতাপত্র এবং মূল্যবান রত্নের ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলেন। পুজোর জাঁকজমকও বাড়ে এই সময়|এই বাড়ির পুজো হয়ে ওঠে কলকাতার বনেদি বাড়ির বড়ো পুজোগুলোর একটা|লাহা বাড়িতে দেবী দুর্গার রূপ অন্যরকম |তিনি এখানে হরপার্বতী রূপের পূজিতা হন|লাহা বাড়ির পুজো হয় বৈষ্ণব মতে।শিবের কোলে দেবী দুর্গা উপবিষ্টা|মহিষাসুর থাকেনা, দেবীর হাতে কোনো অস্ত্রও থাকেনা|লাহাবাড়ির পুজোর রীতিও একটু আলাদা লাহাবাড়িতে কাঠামো পুজো হয় জন্মাষ্টমীর দুই তিন পড়ে এবং দেবীপক্ষের শুরুতে বোধন হয়|প্রথা মেনে এখানে অন্ন ভোগ হয় না এখানে ভোগের বিশেষত্ব নানা ধরণের মিষ্টি|এখনো বলী প্রথা পুরো পুরি লুপ্ত হয়নি তবে প্রাণী হত্যা হয়না|বলী হয় কুমড়ো বা শসা|বিসর্জন ঘিরেও এবাড়িতে রয়েছে এক অদ্ভুত প্রথা বিসর্জন দিয়ে ফিরে বাড়ির পুরুষরা জিজ্ঞাসা করেন, ‘মা আছেন ঘরে’ ? তখন বাড়ির কোনও মহিলা ভিতর থেকে উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ মা আছেন।‘ বাইরে থেকে ফের জিজ্ঞাসা করা হয় ‘মা আছেন ঘরে ?’ একই উত্তর দেওয়া হয় ভিতর থেকে। এভাবে পরপর তিনবার জিজ্ঞাসা করার পর সবাই ভেতরে প্রবেশ করে|আগামী দিনে দুর্গাপূজা সংক্রান্ত আরো অনেক ইতিহাস, গল্প ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
বাংলার ঐতিহাসিক দূর্গা পুজো -শোভা বাজার রাজবাড়ির পুজো
বাংলার দুর্গাপূজার নিজস্ব এক ইতিহাস এবং ঐতিহ্য আছে যা কয়েকশো বছরের পুরোনো|পলাশীর যুদ্ধ থেকে, স্বদেশী আন্দোলন, দেশ ভাগ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ সবই এই ইতিহাসের অঙ্গ|দূর্গা পুজোকে কেন্দ্র করে শাস্ত্র এবং ধর্মীয় ভাবাবেগের পাশাপাশি এই ইতিহাসের ও এক আলাদা তাৎপর্য আছে|এই বনেদি বাড়ির দূর্গা পুজো নিয়ে লিখতে আলোচনায় সেই ইতিহাস সেই ঐতিহ্য কেই কিছুটা নতুন করে আপনাদের সামনে তুলে ধরছি|আজকের পর্বে ঐতিহাসিক শোভাবাজার রাজ বাড়ির পুজো|বাংলার বনেদি বাড়ির পুজো ঐতিহাসিক পুজোর মধ্যে শোভাবাজার রাজবাড়ীর পুজো থাকবে একদম প্রথম শাড়িতে|সেকালে বলা হতো দেবী মর্তে থাকাকালীন তার মনোরঞ্জনের জন্য এই বাড়িতেই আসতেন|এমন ভাবনার পেছনে অনেক কারন আছে|তবে আগে এই বাড়ি ও তার ইতিহাস সংক্ষেপে জেনে নেয়া দরকার|যদিও এই পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বিজয় হরি দেব তবে এই পরিবারের স্বর্ণযুগ বলা হয় রাজা নবকৃষ্ণ দেবের সময় কে এবং তার আমলেই শুরু হয় এই দূর্গা পূজা|নব কৃষ্ণদেব ছিলেন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একজন সাধারণ কর্মচারী যিনি নিজের দক্ষতায় ও পরিশ্রমে কোম্পানির মুন্সী হয়ে ছিলেন|পলাশীর যুদ্ধে তিনি নানা ভাবে ক্লাইভ কে সাহায্য করেন ও পুরুস্কার স্বরূপ প্রচুর অর্থ লাভ করেন|মূলত পলাশীর যুদ্ধ জয় কে স্মরণীয় করে রাখতেই নবকৃষ্ণ দেবে দূর্গা পুজো শুরু করেছিলেন তাছাড়াও তার উদেশ্য ছিলো ক্লাইভ কে খুশি করে নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা|এই উদ্দেশ্যে তিনি সফল হয়েছিলেন|তার দূর্গা পুজোয় অংশগ্রহণ করেছিলেন স্বয়ং লর্ড ক্লাইভ|আজও অনেক জায়গায় এই পুজো কে গোরা দের পুজো বা কোম্পানির পুজো বলা হয়|উদেশ্য যাই থাকুক নিষ্ঠা সহকারে পুজো করতেন নবকৃষ্ণ দেব|প্রচুর অর্থ ব্যায় হতো এই পরিবারের দূর্গা পুজোয়|বসতো গান বাজনার আসর, নাচ, কবি গানের ও ব্যবস্থা থাকতো|দূর্গা পুজো উপলক্ষে অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি, ভোলা ময়রার মতো কবিয়ালরা এখানে এসেছেন কবির লড়াই করতে আবার গহরজান, মালকাজান, নুর বক্স প্রমুখ নামী নর্তকী এই বাড়িতে এসেছেন নাচ করতে|সব মিলিয়ে এলাহী আয়োজন হতো শোভাবাজার রাজ বাড়ির দূর্গা পুজোয় আর এই কারণেই মনে করা হতো যে এটা মর্তে দেবী দুর্গার মনোরঞ্জনের স্থান|পরবর্তীতে দুই শরিকের মধ্যে ভাগ হয়ে যায় সম্পত্তি তবে প্রথা মেনে নিষ্ঠা সহকারে আজও শোভাবাজর রাজবাড়ি তে দূর্গা পূজা হয়|উল্টো রথের দিন কাঠামো পুজো দিয়ে শুরু হয় দেবীমূর্তি তৈরির কাজ|শোভাবাজার রাজবাড়ির মাতৃমূর্তির বিশেষ এক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এছাড়া, এখানকার পুজোর উপাচারও বেশ চমকপ্রদ। সন্ধিপুজোতে কামানের গোলার শব্দে শুরু হত পুজো এবং শেষও হত একই ভাবে|মা দুর্গা এই বাড়িতে বৈষ্ণবী হিসেবে পূজিতা হন। তাই শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজোয় অন্নভোগ থাকে না। গোটা ফল, গোটা আনাজ, শুকনো চাল, কচুরি, খাজা, গজা, মতিচুর-সহ নানা ধরনের মিষ্টি দেবীকে উত্সর্গ করা হয়|বর্তমানে এখানে বলী প্রথা নেই|এবাড়ির পুজোয়|প্রতিমার সামনে একটা বড় হাড়িতে জল রাখা হয়। সেই জলে দেবীর পায়ের প্রতিবম্বের ছবি দেখে সবাই প্রণাম করে। একে দর্পণ বিসর্জন বলা হয়|তারপর প্রথা মেনে দশমীর দিনই হয় বিসর্জন|আগে নীলকণ্ঠ পাখি ওড়ানোর রীতি থাকলেও সরকারি নিয়মে তা এখন বন্ধ|যারা মহালয়া অমাবস্যা উপলক্ষে বিশেষ যজ্ঞ ও পরবর্তীতে দুর্গাপূজায় আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের পুজোর সাথে যুক্ত হতে চান যোগাযোগ করতে পারেন|আগামী পর্বে আবার ঐতিহাসিক পুজোর কথা নিয়ে ফিরবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
বাংলার ঐতিহাসিক পুজো – বর্ধমানের জোড়া দূর্গা পুজো
আজ আপনাদের এমন এক দূর্গা পুজোর কথা বলবো যেখানে একটি নয় একসাথে দুটি দূর্গার পুজো হয়|বর্ধমানের গলসির রায়চৌধুরী বাড়িতে বসে জোড়া দুর্গা পুজোর আসর|মনে করা হয় জোড়া দূর্গা পুজোর কিছু ইতিহাস রয়েছে তবে তা ওই প্রাচীন রায় চৌধুরী পরিবারের বর্তমান সদস্য দের অজানা। তবুও নিষ্ঠাভরে বংশপরম্পরায় চলে আসছে একই বাড়িতে দুই মন্দিরে দুই দুর্গার পুজো।আজও নিয়ম মেনে একই সময়ে পৃথক পণ্ডিত দিয়ে একই মন্ত্র উচ্চারণ করে পাশাপাশি পূজিত হন|প্রতিবছর পুজোর সময়ে দুটি দুর্গা মূর্তি একসঙ্গে সেজে ওঠে। সমস্ত সাজ সম্পন্ন হওয়ার পর এক অনবদ্য রূপ ধারন করে দুর্গা মন্দির ও দুর্গা প্রতিমা। যেখানে মন্দিরটি রয়েছে সেটি একটি মেঝের মধ্যে। এক ছাদের নীচে রয়েছে দুটি মন্দির যার মধ্যে কেবল রয়েছে একটি দেওয়াল।জোড়া দুর্গামন্দিরের জোড়া দুর্গা পুজো প্রায় ১৫০-৩০০ বছরের প্রাচীন বলে মনে করা হয়।তবে বর্তমান প্রজন্মের কেউও পুজো শুরুর সঠিক সময় জানেন না|রায়চৌধুরী বাড়ির মায়ের নির্মাণে রয়েছে বিশেষত্ব। দুর্গা প্রতিমা একচালার। একটি পুজো বাড়ির চার ভাইয়ের পরিবার করে আর আরেকটি পুজো ১৬ টি পরিবারের সদস্যরা ও গ্রামের সকলে মিলে পুজো করেন।দুটি পুজোই ষষ্ঠীর দিন থেকে পঞ্জিকা মেনে হয়। তবে বাড়িতে পুজোর আমেজ এসে যায় মহালয়ার দিন থেকেই। কলাবউ স্নান হয় পাশের থাকা পুকুরে। সেখান থেকেই শুরু হয় পুজোর নিয়মাবলী। কলাবউকে নিয়ে আসাকে রায়চৌধুরী পরিবারের সকলের ‘দোলা’ আনতে যাওয়া বলে থাকেন। পরিবারের দুই ছেলে সেটিকে বহন করে থাকেন এবং বাকি বয়স্করা বাকি কাজ করেন।জোড়া দূর্গা পুজোয় দেওয়া হয় ছাগলের বলি। শোনা যায় এই বলি প্রথা বন্ধ করার চেষ্টা হয়ে ছিলো ২০২০ সালে, কিন্তু বলি বন্ধ করার কথা ভাবতেই ঘটে যায় এক অবিশ্বাস্য ঘটনা।সেবার ছাগ বলির সময় খাঁড়া ঘুরে যায় এবং যেখানে একবরে বলি হয় সেখানে তিন বারের চেষ্টাতে বলি সম্পন্ন করতে হয়|সেই থেকে পুজোর প্রাচীন রীতি নীতি তে আর কোনো পরিবর্তন আনার কথা ভাবা হয়নি|বাংলার প্রাচীন ঐতিহাসিক পুজোর সংখ্যা অনেক তাই দূর্গা পুজো উপলক্ষে চলতে থাকবে এই বিশেষ পর্ব গুলি ধারাবাহিক ভাবে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|