Home Blog Page 106

শিব পুরান – ঋষি মার্কেণ্ডেয়র কথা

শিব পুরানের ষোলো তম অধ্যায়ে আছে ঋষি মার্কেণ্ডেয়র কথা|লেখা আছে তার অমরত্ত্ব প্রাপ্তি নিয়ে একটি গল্প যা আজকের পর্বে আপনাদের জানাবো |

শিব পূরাণ মতে বহুকাল পূর্বে মৃকাণ্ডু নামে এক ঋষি বাস করতেন। তিনি ছিলেন ধর্মপরায়ণ ও জিতেন্দ্রিয়। অর্থাৎ সমস্ত ইন্দ্রিয়কে জয় করতে পেরেছিলেন তিনি। তা সেই মৃকাণ্ড পুত্রলাভের আশায় বসলেন ব্রহ্মার তপস্যায়। দীর্ঘ তপস্যায় খুশি হলেন ব্রহ্মা। দিলেন বরও। তবে ওই একটা কিন্তু রয়েই গেল। প্রজাপতি ব্রহ্মা জানালেন, প্রবল ধার্মিক হওয়া সত্ত্বেও মাত্র সাত বছর বয়সে মৃত্যু হবে সেই পুত্রের|

যথাসময়ে পুত্রসন্তানের মুখ দেখলেন মৃকাণ্ডু।তার নাম রাখা হলো মার্কেন্ডেয়|তবে দিনরাত তাঁকে তাড়া করে বেড়াত একটাই দুশ্চিন্তা। ব্রহ্মার সেই কথাগুলো কিছুতেই মন থেকে তাড়াতে পারছিলেন না মৃকাণ্ডু। ঋষি শুরু করলেন বিষ্ণুর আরাধনা। কিন্তু ঋষি মৃকাণ্ডুকে খালি হাতেই ফিরতে হল বিষ্ণুর কাছ থেকে কারন কিন্তু পুত্রের দীর্ঘজীবন লাভের বর দেওয়ার সাধ্য ছিল না স্বয়ং বিষ্ণুরও এই কাজ একমাত্র শিবই করতে পারেন|

বালক মার্কেন্ডেয় মায়ের কাছ থেকে জানতে পারলেন যে তাঁর স্বল্পায়ুর কারনে সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত তাঁর পিতা-মাতা।তাঁকে সাহায্য করলেন তার গুরুদেব ঋষি পুলহ। তিনি সব শুনে তাকে বলেন, জগতের গুরু মহেশ্বরই একমাত্র পারবেন মার্কণ্ডেয়কে দীর্ঘজীবন লাভের বর দিতে। একইসঙ্গে তাঁকে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করারও পরামর্শ দেন ঋষি। পুলহের কথামতো তপস্যা শুরু করল সেই বালক। গুরুর চরণ বন্দনা করে সে চলে গেল সাগর তীরে। সেখানেই মাটি দিয়ে সে তৈরি করল এক শিবলিঙ্গ। তার সামনে বসে শুরু হল মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের জপ।

বেশ কিছুটা সময় কেটে গেলো সাতে পা দিলো মার্কণ্ডেয়। বিধির বিধানে মার্কণ্ডয়ের কাল পূর্ণ হয়েছে। তাকে মৃত্যুপুরীতে নিয়ে আসার আদেশ দিলেন ধর্মরাজ। যমের আজ্ঞা পেয়ে একদল যমদূত হাজির হল মার্কণ্ডেয়-র সামনে। ভয়ঙ্কর তাদের মূর্তি। তবে সেদিকে যেন ভ্রূক্ষেপই নেই মার্কণ্ডেয়র। একমনে ধ্যান করে চলেছে সেই ছোট্ট বালক।তারপর যথা সময়ে যমদূতেরা তার প্রাণ নিতে উদ্যত হতেই মাটির ওই শিবলিঙ্গের সামনেই প্রকট হলেন স্বয়ং মহেশ্বর। বিরাট ও বিকট পঞ্চানন রূপ ধারণ করে মহাদেব যমদূত দের সামনে রুখে দাঁড়াতেই ভয়ে চম্পট দিল যমদূতেরা।
এরপর মার্কণ্ডেয়-র প্রাণ নিতে সেখানে হাজির হলেন স্বয়ং যমরাজ। কিন্তু মহেশ্বরের ক্রোধের সামনে পরাজিত হলেন তিনিও উপায় না দেখে ব্রহ্মার দ্বারস্থ হলেন যম। ওদিকে মহাদেবের ক্রোধাগ্নিতে তো তখন তিন লোক কম্পমান । মহাদেবকে শান্ত করতে অগত্যা এগিয়ে এলেন সমস্ত দেবতা। অবশেষে রাগ পড়ে মহাদেবের। দেবাদিদেব জানান যে যদি কোনো ভক্ত শিবলিঙ্গের সামনে বসে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করে তাহলে সে দীর্ঘজীবন লাভের বর পাবে সে।

বালক মার্কেন্ডেয়র মাধ্যমে এই ভাবে মহাদেব ও মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের মহিমা জানলো জগৎবাসি|

আগামী পর্বে শিব পুরান অনুসারে অন্য কোনো বিষয় এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব পুরান – শিব বাঘ ছাল কেনো পরেন

আসন্ন শিব চতুর্দশীকে কেন্দ্র করে আগামী দিনের পর্ব গুলিতে আলোচনা করবো শিব পুরান নিয়ে জানবো শিব সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য|আমরা প্রত্যেকেই দেবাদিদেব মহাদেবকে বাঘ-ছাল পরিহিত বেশে দেখি এমনকি তিনি যখন ধ্যানমগ্ন থাকেন, তখন সেই বাঘ-ছালের উপর বসেই ধ্যান করেন।শিব কেনো বাঘ ছাল পরেন এবং কোথাথেকে তিনি এই বাঘ ছাল পেলেন আজ সেই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করবো শাস্ত্র থেকে|শিবের বাঘছাল পরা নিয়ে নিয়ে একটি জশ্রুতি প্রচলিত আছে|আজ শুরুতে সেই ঘটনা আপনাদের বলবো|শিব হলেন সর্ব ত্যাগী সন্ন্যাসী যিনি কখনো কৈলাসে ধ্যান মগ্ন আবার তিনি দুর্গম বনে জঙ্গলে বিচরন করে বেড়ান আপন খেয়ালে |শিব একবার হাঁটতে হাঁটতে এক বনে গিয়েছিলেন। সেই বনে কয়েকজন ঋষি তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করতো। তিনি যখন বনে জঙ্গলে ঘোরাফেরা করছিলেন তার পরনে কোনও পোশাক ছিল না। তার সৌম কান্তি রূপ ও দিব্য জ্যোতি দেখে স্থানীয় মানুষ, পশু পাখি এমন কি প্রকৃতি তার দিকে আকর্ষিত হতে থাকে|সেই বনে বসবাস কারী ঋষি ও সাধুরা এতে ঈর্ষা ও ক্রোধ অনুভব করে এবং তারা শিবকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন|আসলে তারা শিব কে তখনো চিনতে পারেননি শিব কে তারা সাধারণ ভবঘুরে ভেবেছিলেন|পরিকল্পনা অনুসারে, ওইসব ঋষিরা শিবের ভ্রমণের পথে একটা বড় গর্ত খুঁড়লেন এবং তাতে একটি বাঘও ছেড়ে রাখলেন।লক্ষ ছিলো বাঘ কে দিয়ে শিব কে হত্যা করা|শিবের অসীম শক্তি সম্পর্কে তাদের কোন ধারণা ছিল না। শিব ওই গর্তে প্রবেশ করলেন এবং তৎক্ষণাৎ বাঘটিকে হত্যা করে বাঘের ছাল ছড়িয়ে পরিধান করলেন। তখন ঋষিরা সেই ঘটনা দেখে আশ্চর্য হয়ে পরেন তারা বুঝতে পারেন তিনি কোন সাধারণ মানুষ নন স্বয়ং শিব|সঙ্গে সঙ্গে তারা মহাদেবের চরণে লুটিয়ে পড়েন আশির্বাদ নিতে ও ক্ষমা চাইতে|শিব পরম দয়ালু তাই তিনি তাদের ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহন করলেন ও মাফ করে দিলেন|সেই থেকেই তিনি কেবলমাত্র বাঘের ছাল পড়ে থাকেন।শিবের বেশভুষা বেশ রহস্যময় এবং তাৎপর্যপূর্ণ শিবের পোশাক বাঘছাল আসলে ত্যাগ, বীরত্ব এবং শৌর্যর প্রতীক|শিব আদি যোগী এবং এবং সর্ব শক্তিমান তাই তার এই পোশাক যথেষ্ট মানান সই|আগামী পর্বে শিব পুরান অনুসারে অন্য কোনো বিষয় এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ওঁম নম শিবায়|

বাংলার ডাকাত কালী – খানাকুলের ডাকাত কালী পুজো

হুগলি জেলার খানাকুলে সাড়ে তিনশো বছরের বেশি পুরনো ডাকাতকালীর পুজোয় আজও
এক অভিনব রীতি পালন করা হয়।আজকের পর্বে এই বিখ্যাত ডাকাত কালী মন্দিরের কথা লিখবো |

হুগলীর খানাকুলের চক্রপুরে ডাকাতকালীর পুজো কয়েকশো বছরের প্রাচীন। কথিত আছে ৩৫৬ বছর আগে এ এলাকায় কালী ডাকাত নামে পরিচিত ছিলেন কালীচরণ মাঝি। তিনিই এ পুজোর সূচনা করেছিলেন। কালীচরণের বংশধরেরা জানিয়েছেন, এখনও পুজোর দিন মানত হিসেবে পশু বলিও হয়। পাশাপাশি মেনে চলা হয় ঘটপুজোর রীতিও। কালীপুজোর দিন রাতে কালীচরণের বংশের এক জন সদস্য প্রথম মায়ের ঘট উত্তোলন করেন। তার পর আরও একটি ঘট উত্তোলন করেন পুরোহিত। ঘট দু’টি কালীমূর্তির পায়ের নীচে বসিয়ে তার পর শুরু হয় পুজোপাঠ।

শোনা যায় নবাবী আমলে ডাকাতির পর কালীপুজোয় বসতেন কালীচরণ মাঝি এবং তাঁর চেলাচামুন্ডারা। দিন বদলেছে। কালীচরণের বংশধরেরা আজ আর ডাকাতি করেন না। তবে প্রথা বজায় রাখতে রাতের অন্ধকারে ফুল ও ফল চুরি করেন তাঁরা। সে ফুল ও ফল কালীকে নিবেদন করেই পুজো শুরু করেন।চুরি করা সামগ্রীতে হয় মায়ের পুজো|এটাই এখানকার রীতি|

আজও এই পুজোয় কালী ডাকাতের উত্তরপুরুষরা অংশ নেন পুজোয় |ডাকাতকালীর পুজোয় আরও কয়েকটি অভিনব রীতি রয়েছে|মন্দিরে চার প্রহরে চার বার পুজো-আরতি হয়। শোনা যায় ২০০ বছর আগে এই কালীপুজোকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রথম মেলা বসেছিল।আজও সেই মিলন উৎসব পালিত হয়|

প্রতি বছর মৌনী অমাবস্যাতেও মহাসমারোহে কালী পুজো হয় খানাকুলের ডাকাত কালী মন্দিরে|দেখতে আসেন বহু মানুষ|

চলবে ডাকাত কালী মন্দিরের কথা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

ডাকাত কালী – কালী ডাকাতের কালী পূজা

বাংলার কালী ক্ষেত্র গুলির মধ্যে রয়েছে অসংখ্য ডাকাত কালী মন্দির, এই মন্দির গুলির সাথে জড়িয়ে আছে বহু গল্প ও দুর্ধর্ষ সব ডাকাতদের নাম এমনই এক কালী মন্দির রয়েছে বর্ধমানের কাটোয়ায় যা কাটোয়ার খেপি মায়ের মন্দির বলে বিখ্যাত|ডাকাত কালী সর্দার ছিল এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা|আজকের পর্বে লিখবো কালী ডাকাতের এই পুজোর কথা|অতীতে ডাকাতদের হাতে পূজিত কালী আজ কাটোয়ার অন্যতম বিখ্যাত কালী ক্ষেত্র|শোনা যায় আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর আগে কাটোয়া শহরের ভাগীরথীর তীরে খ্যাপাকালী পাড়া জঙ্গলে ভরা ছিল। কথিত আছে, সেই জঙ্গলে বাস করত দুর্ধর্ষ কালী ডাকাত । ওই ডাকাত জঙ্গলে কালী ঠাকুরের পুজো করত। ডাকাতি করার সময় কালী মাকে পুজো করে সে ডাকাতি করতে বের হতো। ওই ডাকাতের ভয়ে তটস্থ থাকত বর্ধমান, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষজন।পুলিশের ভয়ে ডাকাত সর্দার কালি ঠাকুরকে জঙ্গলের ভেতরে লুকিয়ে রাখত|আজ সেই জঙ্গলে গড়ে উঠেছে খ্যাপাকালী পাড়া|রূপ নিয়েছে তীর্থস্থানের|আজ তার চারিদিকে জনবসতি। এখন ঝা চকচকে সুবিশাল মন্দিরে ডাকাতের হাতে পূজিত কালীর পুজো হয় মহা ধুমধামে। কালী পুজোর সময় মূর্তিকে প্রায় পাঁচ কেজি সোনা ও নয় কেজি রুপো দিয়ে সাজানো হয়,সোনার মুকুট, থেকে শুরু করে সোনার সিতা হার, সোনার বালা থেকে শুরু করে সোনা-রুপোর নানান গয়নায় ভরে ওঠে মায়ের মূর্তি।ডাকাতদের হাত দিয়ে শুরু সেই পুজো আজ কাটোয়া শহরের খেপি মায়ের পুজো বলেই বিখ্যাত।ক্ষেপী মায়ের পুজোয় আশপাশের জেলা থেকে শুরু করে সারা বাংলার মাতৃ সাধক ও ভক্তরা আসেন তাদের মনোস্কামনা নিয়ে|একসময় গ্রাম বাংলায় ডাকাতরা কালী পুজো করে ডাকাতি করতে যেতো কেউ কেউ আবার ডাকাতির পর ফিরে এসে কালী পুজো করতো|সেই দিন আর নেই, সেই ডাকাতরাও নেই সবই আজ ইতিহাস তবে রয়ে গেছে তাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ডাকাত কালীর মন্দির গুলি|আবার যথা সময়ে ফিরে আসবো অন্য কোনো ডাকাত কালী মন্দিরের কথা নিয়ে পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|মৌনী অমাবস্যায় যারা গ্রহদোষ খণ্ডন করাতে চান এখনই যোগাযোগ করুন|ধন্যবাদ|

বাংলার ডাকাত কালী – বারাসাতের ডাকাত কালী

আজ আমার শহর অর্থাৎ উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সদর শহর বারাসাতের ডাকাত কালীর মন্দিরের কথা লিখবো।আগে বারাসাতের ইতিহাস সম্পর্কে এটুকু বলে রাখি যে সাত টি বার বা জনপদ নিয়ে গড়ে উঠেছিলো বলে এই মফস্বলের নাম হয়েছে বারাসাত। এই সাত টি জনপদের মধ্যে বেশ কয়েকটির নাম আমরা জানতে পারি যেমন ” শ্রীধরপুর, হৃদয় পুর, বনমালী পুর, প্রাসাদ পুর ও নিশ্চিন্দি পুর” ইত্যাদি|

বিখ্যাত মানিকচাঁদ যিনি ইতিহাসে জগৎ শেঠ নামে পরিচিত তার পরিবারের বারো জন সদস্য এখানে বাস করতেন বলেও শোনা যায় । তাদের মধ্যেই একজন রামচন্দ্র শেঠ বারাসাতের কেন্দ্র স্থলে একটি পুকুর নির্মাণ করেছিলেন। বর্তমানে সেটি ” শেঠ পুকুর ” নামে পরিচিত। শহীদ তিতুমীরের বারাসাত বিদ্রোহ আমরা ইতিহাস বইতেই পাই এছাড়াও বারাসতের কিছু অদূরেই চন্দ্রকেতু গর যেখানে আছে “খনা মিহিরের ঢিবি” যা এখনও বিদ্যমান।

তবে আজকের আলোচ্য বিষয় বারাসাতের ডাকাত কালী মন্দির কুখ্যাত এক ডাকাত দল নাকি বারাসাতে কালী পূজা শুরু করেছিলো নবাবী আমলে । বারাসতের থেকে প্রায় দেড় দুই কিলোমিটার দূরে নদীভাগের কাছে রয়েছে তার কালী মন্দির। তবে বর্তমানে সেটিকে মন্দির না বলে পরিত্যক্ত ভুতুড়ে বাড়ি বলাই শ্রেয় তবে তার ইতিহাস বেশ প্রাচীন ও বর্ণময়| 

লোকমুখে শোনা যায় এক সময় দুর্ধর্ষ এক ডাকাত দল শাসন করতো বারাসাতের বিস্তীর্ণ দুর্গম অঞ্চল একবার ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পরে যাওয়ায় রাগে-ক্ষোভে মুর্তিটি তরোয়াল দিয়ে ভেঙে ফেলে ডাকাত সর্দার । পরবর্তীতে এই ভগ্ন মুর্তিকেই পুজো করত ডাকাত দল । স্বাধীনতার পরও এখানে ডাকাত সর্দারের একটি মুর্তি ছিল। যদিও পরে এটি চুরি হয়ে যাওয়ায় এখানে আর মুর্তি স্থাপনের সাহস দেখায়নি নানা কারনে|

স্থানীয়দের থেকে জানা যায় এই মন্দিরে নাকি ঘটেছে নানান অলৌকিক ঘটনা যেমন অমাবস্যার রাতে হটাৎ ঢাক ঢোল কাঁসরের শব্দ, অট্টহাসি বা মাঝরাতে ওই অঞ্চলে শোনাযায় নুপুরের শব্দ এই সব ঘটনা আজও অবাক করে অনেককে|
তাছাড়াও অনেকের স্বচক্ষে মাতৃদর্শনের সুযোগ হয়েছে বলেও শোনা যায়।

একসময় এখানে অষ্টধাতুর প্রতিমাকে কালিরূপে পুজো করত ডাকাতরা । ডাকাতি করার আগে নরবলি দিয়ে পাশের পুকুরে ভাসিয়ে দিত সে। এইভাবেই তারা নরবলির মাধ্যমে মাকে প্রসন্ন করত। আজও মন্দিরের পাশে রয়েছে সেই পুকুরটি। মন্দিরের মূল ফটক দিয়ে ঢুকে বাঁ দিকে গাছের শিকড়ে দেখা যায় একটি হাতের ছাপের মত অবয়ব। গাছের যে অংশকে কালী রূপে পুজো করা হয় সেটিও মানব দেহের নিম্নাংশের মত দেখতে|মনে করা হয় এখানে দেবী অত্যন্ত জাগ্রত এবং তার কাছে করা সব মনোস্কামনা পূরণ হয়|

সব মিলিয়ে বারাসাতের ডাকাত কালী মন্দির বাংলার প্রাচীন ডাকাত কালী মন্দিরগুলির অন্যতম|ফিরে আসবো পরের পর্বে|চলবে এই ধারাবাহিক আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার ডাকাত কালী – রঘুডাকাতের কালী মন্দির

আর কয়েকটিদিন পরেই মৌনী অমাবস্যাতারাপীঠ সহ মা হৃদয়েশ্বরী সর্ব মঙ্গলার মন্দিরের বিশেষ পুজো ও গ্রহদোষ খণ্ডন এর হোম যজ্ঞর আয়োজন শুরু হয়ে গেছে এখন থেকেই|বহু মানুষ যোগাযোগ করছেন|তার মাঝেই আজ আপনাদের জন্যে নিয়ে এসেছি বাংলার এক প্রাচীন ডাকাত কালী মন্দিরের কথা যা অবস্থিত হুগলীর বাসুদেব পুরে|বাংলার এই ডাকাত কালী মন্দিরের সাথে জড়িত আছে কুখ্যাত রঘু ডাকাতের নাম|সাধক রামপ্রসাদ ও এই মন্দিরে এসেছিলেন ও এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছিলেন|আজ বলবো সেই অলৌকিক ঘটনা|ব্রিটিশ আমলে রঘু ডাকাত ছিলো হুগলীর ত্রাস|তার ছিলো রবিনহুড ইমেজ অর্থাৎ ধনীদের লুট করে গরিব অসহায় দের সাহায্য করতো|সেকালে লোকে যমের মতো ভয় পেতো রঘুডাকাতকে|তার নামে বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেতো|রাত তো দূরের কথা দিনের বেলাতেও মানুষ বেশি টাকা পয়সা নিয়ে পথ হাঁটতে ভয় পেতো|রঘু ডাকাতের অতীত সম্পর্কে শোনা যায় আনুমানিক ৫০০ বছর আগে জয় পুরের বাসিন্দা বিধুভূষণ ঘোষ ও তার ভাই রঘু ঘোষ ঘন জঙ্গলের মধ্যে তাদের আরাধ্যা মা কালীর মূর্তি স্থাপন করে। দিনের বেলায় দুই ভাই দিনমজুরের কাজ করলেও রাতে ধনীদের বাড়িতে ডাকাতি করত যদিও ডাকাতি করে আনা জিনিসপত্র এলাকার গরিব মানুষের মধ্যে বিলি করত এই দুই ডাকাত ভাই |সেকালে ডাকাত দলের ভয়ে দুপুরের পর থেকে এই রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করত না। কথিত আছে সেই সময়েরঘু ডাকাতের লোকজন রাস্তা দিয়ে যাওয়া কোনও মানুষকে ধরে বেঁধে রাখত। সন্ধ্যার পর পুরোহিতকে ডেকে এনে ঢাকঢোল বাজিয়ে নরবলি হতো| তারপর পুজো দিয়ে ও মহাপ্রসাদ খেয়ে ডাকাতি করতে বের হত।এসবই অবশ্য শোনা কথা বা প্রচলিত কিংবদন্তী|শোনা যায় সাধক কবি রামপ্রসাদ সেন কোনও এক সময়ে এই রাস্তা ধরে ফিরছিলেন। ওই সময়ে রঘু ডাকাতের লোকজন তাকে নরবলি দেওয়ার জন্য ধরে নিয়ে এসে বেঁধে রাখে। অলৌকিক ভাবে ডাকাত দল বলি দেয়ার আগের মুহূর্তে হারিকাঠে রামপ্রসাদের পরিবর্তে মাকে দেখতে পায়। এরপর রঘু ডাকাত বলি বন্ধ করে রামপ্রসাদের সেবার ব্যবস্থা করে এবং পরের দিন সকালে নৌকায় করে রামপ্রসাদকে সসম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসে।সাধক রামপ্রসাদের জীবনীতে এই ঘটনার উল্লেখ আছে|রঘু ডাকাতের আমল থেকে আজও একই নিয়মে ও নিষ্ঠায় মন্দিরের পুজো চলছে। মন্দিরের নরবলির প্রথা বহু পূর্বে বন্ধ হয়েছে। তবে এখনও মানত করা হয় এবং পশু বলি হয় বিশেষ বিশেষ তিথিতে |বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ পুজো ও সেই উপলক্ষে বহু মানুষের সমাগম হয়|আসন্ন মৌনী অমাবস্যা এমনই এক তিথি যেদিন বিশেষ পুজো ও জনসমাগম হবে বাংলার এই প্রাচীন ডাকাত কালী মন্দিরে|বাংলার নানা স্থানে রয়েছে এমন আরো অনেক প্রাচীন ঐতিহাসিক কালী মন্দিরে|আগামী পর্বে আবার অন্য কোনো কালী মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

বাংলার ডাকাত কালী – প্রহ্লাদ ডাকাতের বামা কালী

আজকের পর্বে ডাকাত সর্দার প্রহ্লাদের প্রতিষ্ঠিত | বর্ধমানের বামা কালীর কথা লিখবো|পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের রামনগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রহ্লাদ ডাকাতের প্রতিষ্ঠিত বামা কালী বেশ বিখ্যাত ।ডাকাত কালী মন্দিরটি বেশ প্রাচীন|সে প্রায় ৩০০ বছর আগের কথা পাণ্ডুক গ্রামে ছিলো এক দস্যু পরিবারের বাস তারাই তৈরী করেছিলেন এই বামা কালী মন্দির| বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা এক অলৌকিক ঘটনার কথা জানান তাদের মতে তাঁদের পূর্ব পুরুষেরা সালারের কাছে কেতুগ্রাম থানার মেটলি গ্রামের ‘রামসীতা’ মন্দিরের স্বর্ণ অলঙ্কার ডাকাতি করতে গিয়েছিলেন। পথে বীরভূমের মুলুকের কাছে অপরূপা নারী মূর্তি দেখে ডাকাতরা চমকে ওঠেন। কিন্তু ডাকাত সর্দার প্রহ্লাদ মেটের নির্দেশ ছিল, ডাকাতির পথে মেয়ে মানুষ আর শিশুর গায়ে হাত তোলা যাবে না শোনা যায় একবার সে নীতি লঙ্ঘন করায় এক সদস্যকে সর্দার প্রহ্লাদ এক কোপে দু’টুকরো করে দেন।সেই অপরিচিতা নারীর কাছে প্রহ্লাদ ডাকাত জানতে চান, ‘এই রাত্রিকালে আপনি কে মা?’ তখন সেই নারী জানান, আমি বামা।তারপর তারা দেখে যে মা মৃন্ময়ী মূর্তি থেকে চিন্ময়ী মূর্তি ধরেছেন এবং তিনি নিজে জানান যে আমাকে এখান থেকে নিয়ে না গেলে তোদের সর্বনাশ হবে।কিন্তু মায়ের এই বিশাল মূর্তিকে নিয়ে যাওয়ার অসুবিধার কথা বলেন ডাকাত সর্দার প্রহ্লাদ ও সেই সঙ্গে তিনি আরো বলেন, আজকে রাতে ডাকাতিতে সাফল্য পেলে তবেই মা তোকে নিয়ে যাব। কথিত আছে, মায়ের আর্শীবাদে সাফল্যও পায় ডাকাত দলটি। তাই ডাকাতি করে ফেরার পথে বামা মায়ের ছোট শিলা মূর্তিকে সঙ্গে নিয়ে ফেরেন ডাকাত দলটি।পাণ্ডুক গ্রাম ঢোকার পথে মায়ের নির্দেশ মতো তির ছোড়েন এবং সেই তির এসে পাণ্ডুক গ্রামের মাঝখানে পড়ে। সেখানেই বামা কালীর মূর্তি স্থাপন করেন সাধক ডাকাত প্রহ্লাদ।সেকালে আমাবস্যার গভীর রাতে, ঢাক ঢোল বাজিয়ে, মশাল জ্বালিয়ে ডাকাতদলের সদস্যরা মায়ের ঘট এনে পুজো করতেন। পুজো হয়ে গেলে পর দিন রাতে কাঁধে তুলে মাকে রসফাল্লা পুকুরে বিসর্জন করা হতো ।বিসর্জনের পরেই ডাকাত সর্দার প্রহ্লাদ-সহ সকলে কাঁদতে থাকেন মায়ের টানে। তাই মায়ের নির্দেশে পরবর্তীতে বারমাস পুজোর জন্য আর একটি মূর্তি গড়ে ডাকাত দলটি। সেখানে পুজো দিয়েই ডাকাতিতে বের হতেন তাঁরা।আজও রয়েছে সেই মূর্তি|বর্তমানে দেবীর বিশাল মন্দির তৈরি হয়েছে যা দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। বেশ মজার একটি রীতিও এখানে প্রচলিত আছে| রীতি অনুসারে ডাকাত পরিবারের সদস্যরা বামা কালীর পুজোতে কোনও না কোনও জিনিস চুরি করে আনেন|দেবী মূর্তিতেও আছে বৈচিত্র|এখানে মায়ের বাঁ পা-টি এগিয়ে থাকে। দীপান্বিতা আমাবস্যায় ২২ ফুট উচ্চতার মৃন্ময়ী মূর্তি তৈরি করে পুজো হয়।বাংলার ডাকাত কালী গুলির মধ্যে অন্যতম এই প্রহ্লাদ ডাকাতের বামা কালী|সামনেই মৌনী অমাবস্যা|এই তিথিতেও তন্ত্র মতে বিরাট পুজোর আয়োজন হয় এখানে|ফিরবো পরের পর্বে|চলতে থাকবে ডাকাত কালী নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|আগামী মৌনী অমাবস্যায় গ্রহ দোষ খন্ডনের জন্য যোগাযোগ করুন|ভালো থাকুন|ধারাবাহিক লেখা আপনাদের ভালো লাগলে জানান|ধন্যবাদ|

বাংলার ডাকাত কালী – ভবানী পাঠকের কালী মন্দির

আজ থেকে শুরু করে এই সপ্তাহে প্রতিটি পর্বে বাংলার ডাকাত কালী মন্দির গুলি নিয়ে লিখবো ডাকাত কালী মন্দির গুলি বাংলার ইতিহাস এবং সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাথে জড়িত প্রতিটি মন্দির ঘিরে আছে বহু রহস্য ও কিংবদন্তীশুরু করবো উত্তর বঙ্গের জলপাইগুড়ি তে অবস্থিত এক প্রাচীন কালী মন্দির নিয়ে যা সাধারণ মানুষের কাছে আজও ভবানী পাঠকের মন্দির নামে পরিচিত|এককালে অবিভক্ত বাংলার উত্তরের অন্যতম জেলা ছিলো রংপুর, এই রংপুরের অধীনে ছিলো বর্তমানের জলপাইগুড়ি এবং এই অঞ্চল দিয়ে তখনো বয়ে যেতো তিস্তা নদী যাকে সেকালে বলা হতো ত্রিশ্রোতা নদী |কথিত আছে এই দুর্গম অঞ্চল শাসন করতো এক দুর্ধর্ষ দস্যু রানী এবং এক মাতৃ সাধক যাদের বঙ্কিম চন্দ্রের কালজয়ী উপন্যাসে যথাক্রমে দেবী চৌধুরানী এবং ভবানী পাঠক নামে অভিহিত করা হয়েছে|উপন্যাসে উল্লেখিত ত্রিস্রোতা নদীই বর্তমানে তিস্তা নদী যে নদী দিয়ে যাতায়াত করতো দেবী চৌধুরানীর বজ্রা|আজও সেই ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে চলেছে ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ ব্লকের শিকারপুর চা বাগানের মধ্যে রয়েছে ভবানী পাঠক ও দেবী চৌধুরানীর সেই ঐতিহাসিক কালী মন্দির|বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যাyervউপন্যাস বলছে ভবানী পাঠক ডাকাত সর্দার হিসাবে পরিচিত থাকলেও তিনি ছিলেন একজন মাতৃ সাধক যিনি নানা বিধ তন্ত্র সাধনাও করেছেন|সন্ন্যাসীর মতো জীবনযাপন করতেন ভবানী পাঠক|ব্রিটিশ আমলে ভবানী সর্দার অত্যাচারী ইংরেজ ও দেশীয় জমিদারদের জিনিস লুঠপাট করে তা দীন দরিদ্রদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেনআগেই বলেছি বেজায় কালী ভক্ত ছিলেন ভবানী পাঠক নিজের সাধনার জন্য তিনি কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন|বর্তমানে এই কালী মন্দির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠাতার সঠিক নাম নিয়ে কিঞ্চিৎ মতবিরোধ থাকলেও জনশ্রুতি অনুসারে এবং সর্বোপরি মানুষের বিশ্বাস এই যে এই কালী মন্দির ভবানী পাঠকই বানিয়েছিলেন|শোনা যায় মন্দিরে প্রথমে কাঠের মূর্তিই ছিল। দুই পাশে দুটি কাঠের কালী মূর্তি। সেই কালীকে পুজো করেই নাকি ভবানী পাঠক তাঁর অভিযানে বের হতেন। পরে কোনোভাবে সেই কাঠের মূর্তি পুড়ে যাওয়ায় মাটির মূর্তি তৈরি হয়|বর্তমানে ঐতিহাসিক এই মন্দিরে মা কালীর মূর্তি ছাড়াও তিস্তাবুড়ি, ভবানী পাঠক, দেবী চৌধুরানী, গঙ্গা দেবী, স্থানীয় এক সিদ্ধপুরুষ মোহনলালের মূর্তি আছে, জলপাইগুড়ির দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে অন্যতম এই ভবানী পাঠকের কালী মন্দির|যাকে বাদ দিয়ে উত্তরবঙ্গের ইতিহাস লেখা যায়না|ভবানী পাঠকের মন্দিরে বড়ো আকারে কালী পুজো হয় আষাঢ় মাস ও কার্ত্তিক অমাবস্যায় এবং মন্দির প্রতিদিন ভোর পাঁচটায় খোলে, বন্ধ হয় বিকেল পাঁচটায়।সামনেই মৌনী অমাবস্যা|মৌনী অমাবস্যাতেও প্রতিবছর এই মন্দিরে বড়ো করে পুজো হয়|মূলত তন্ত্র মতেই হয় পুজো|যদিও বর্তমানে বলী প্রথা আর পালিত হয়না তবে নিয়ম নিষ্ঠা সেই আগের মতোই আছে|পরের পর্বে অন্য কোনো ডাকাত কালী মন্দিরের ইতিহাস ও রোমাঞ্চকর সব গল্প নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শুভ মকর সংক্রান্তি

আজ মকর সংক্রান্তি এই আধুনিক সময়েও এখনও দূর গাঁয়ে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব নিয়ে আসে আনন্দ বার্তা। পৌষ সংক্রান্তিতে নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় স্নিগ্ধ সবুজ গ্রাম। শহরের ব্যস্ত জীবনেও দোকানে দোকানে সেজে উঠা তিল, কদমা, প্যাকেটের চালের গুঁড়োর প্যাকেট, ঝোলা গুড়ের হাঁড়ি জানান দেয় চলে এসেছে পৌষ সংক্রান্তি। হালে পিঠে থেকে পায়েস সবই সহজলভ্য নির্দিষ্ট দোকানে। তবে শুধু গ্রামে নয়, শহরেও বেশ কিছু পরিবার আজও সমান আন্তরিকতার সঙ্গে এবং নানা আয়োজনে পালন করে পৌষ সংক্রান্তির উৎসব। বাড়িতেই তৈরি করেন পিঠে-পুলি। এই পৌষ বা মকর সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতির একটি বিশেষ উৎসব বা বিশেষ ঐতিহ্যবাহী দিন।বাংলা মাস অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ দিনটিতে এই উৎসব পালন করা হয় তবে শুধু বাংলায় বাঙালিরাই নন, আমাদের দেশের নানা প্রান্তে এই দিনটিকে নানা ভাবে বিশেষ বিশেষ উৎসবের সঙ্গে পালন করা হয়, পালন করা হয় কিছু উপাচার ও অবশ্যই গঙ্গা স্নানের মাধ্যমে পূর্ণতা পায় এই মকর সংক্রান্তি|শব্দের মানে খুঁজলে দেখা যায় সংক্রান্তি শব্দের অর্থ সঞ্চার বা গমন করা। সূর্যের মকর রাশিতে গমন হয় এই তিথিতে|পুরান মতে অনুযায়ী, এই দিনই দেবতাদের সঙ্গে অসুরদের যুদ্ধ শেষ হয়েছিল। বিষ্ণু অসুরদের বধ করে তাঁদের কাটা মুন্ডু মন্দিরা পর্বতে পুঁতে দিয়েছিলেন, মকর সংক্রান্তি তে, তাই মকর সংক্রান্তির দিনই সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাস হয়ে শুভ শক্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে আজও মানা হয়ে থাকে, মকর সংক্রান্তির এই মহাতিথিতেই মহাভারতের পিতামহ ভীষ্ম শরশয্যায় ইচ্ছামৃত্যু গ্রহণ করেছিলেন।মকর সংক্রান্তির দিন সাধারণত সূর্যদেবের পুজো করা হয়। তাঁর আশীর্বাদে আমাদের সকল রোগ-ব্যাধি দূর হয় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে তাই এই বিশেষ দিনটিতে সকলেই নিজের ঘরবাড়ি, বিশেষ করে রা

কালীকা পুরান – শরভ অবতারের দেহত্যাগ

কালীকা পুরানে শিবের বিবাহর যেমন উল্লেখ আছে তেমনই দেবাদিদেব কে নিয়ে আরো অনেক ঘটনা লিপিবদ্ধ আছে আজ বলবো শরভ অবতার নিয়ে|নৃসিংহ দেবের হাতে হিরণ্য কশিপুর বধ হলো কিন্তু নৃসিংহদেবের ক্রোধ কম হল না। তিনি ভয়ানক ধ্বংসলীলা চালিয়ে যেতে থাকেন। এই সময়ে সব দেবতারা একসাথে শিবের শরণ নেন। তাঁরা বুঝতে পারেন, একমাত্র মহাদেবই পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারেন। শিব বীরভদ্র ও ভদ্রকালীকে প্রেরণ করেন নৃসিংহকে থামানোর জন্য। কিন্তু মহাপ্রতাপ নৃসিংহ সেই দুই মহাশক্তিকেও বিপর্যস্ত করে ফেলেন।শেষে মহাদেব নিজেই শরভ নামের এক বিচিত্রদর্শন প্রাণীর রূপ নিয়ে আবির্ভূত হন।এই শরভের রূপের বর্ণনা আছে পুরানে|শরভ এক সুবিশাল পাখি। তাঁর সহস্রবাহু এবং পশুর মতো দেহ|নৃসিংহ ও শরভ অবতারের মধ্যে ভয়ানক যুদ্ধ হয়|শরভের আঘাতে নৃসিংহ আত্মসংবরণ করেন। শরভই শেষ করেন নৃসিংহের লীলা।নৃসিংহ দেবের ক্রোধ থেকে রক্ষা পায় সৃষ্টি|শিব নিজে একজন পরম বৈষ্ণব এবং নৃসিংহ দেব স্বয়ং বিষ্ণু| ভক্তের দ্বারা ভগবানের বধ বা ভক্ত এবং ভগবানের যুদ্ধ সনাতন ধর্ম শাস্ত্রের অতি বিরল ঘটনা|কালীকা পুরান অনুসারে বিষ্ণু অবতার নৃসিংহদেব স্বয়ং তার এই পরিণতি বেছে নিয়েছিলেন কারন তার ইচ্ছা ছাড়া জগৎ সংসারে কিছুই সম্ভব নয় শরভের কাছে পরাজয়ের পরে, বিষ্ণু তাঁর স্বাভাবিক রূপ গ্রহণ করেছিলেন এবং শিবের যথাযথ প্রশংসা করেছিলেন ও নিজেকে শিব ভক্ত রূপে ঘোষণা করেছিলেন ।নিজের কাজ শেষ করার পর শরভ ও দেহত্যাগ করেন স্বেচ্ছায়|শিবের এই রূপ “শরবেশমূর্তি” বা “সিংহমনামূর্তি” নামেও পরিচিত আবার শরভেশ্বর নামে তার পূজাও হয়|আগামী পর্বে অন্য কোনো পৌরাণিক কাহিনী আপনাদের শোনাবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|