কালভৈরব

726

আজ পুরান রহস্যের এই পর্বে লিখবো কাল ভৈরব নিয়ে, জানবো কে এই কাল ভৈরব? কি ভাবেই বা তার আবির্ভাব হলো?এবং কি তার ধার্মিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব? কেনই বা তাকে নিয়ে এতো রহস্য|

শিব পুরানে আমরা এক ব্যতিক্রমী দেবতার নাম পাই, তিনি কাল ভৈরব, এছাড়া তন্ত্রেও আলাদা করে তার উল্লেখ পাওয়া যায়, সাধারণত প্রত্যেক শিব মন্দিরেই থাকে কালভৈরবের মূর্তি। দাঁড়িয়ে থাকেন কালভৈরব। তাঁর চার হাত। হাতে থাকে ডোমরু, পাশা, নরমুণ্ড ও ত্রিশূল। কোনও কোনও মূর্তিতে চারটির বেশি হাতও থাকে। তাঁর এই মূর্তি দিগম্বর|

হিন্দু পুরাণ গুলির পাশাপাশি বৌদ্ধ শাস্ত্র এবং জৈন ধর্মগ্রন্থ গুলির মাধ্যমে আমরা জানতে পারি কাল ভৈরব এর একটি বিশেষ ভূমিকা |প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাস মতে মহাজগতের বিশেষ স্থানগুলি ভৈরব রক্ষা করেন এবং ভৈরবের মোট সংখ্য ৬৪। এই ভৈরব দের ৮টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয় প্রত্যেক ভৈরবের একজন করে ভৈরবী থাকেন। অষ্টাঙ্গ ভৈরবের নামগুলি এই রকম —

অসিতাঙ্গ ভৈরব, রুরু ভৈরব, চণ্ড ভৈরব, ক্রোধ ভৈরব, উন্মত্ত ভৈরব, কপাল ভৈরব, ভীষণ ভৈরব এবং সংহার ভৈরব।প্রতিটি শ্রেণির আবার একজন করে প্রধান ভৈরব রয়েছেন। প্রধান ৮ ভৈরবকে ‘অষ্টাঙ্গ ভৈরব’ বলা হয়। এই আটজন মহাবিশ্বের আটটি দিকের অধিপতি। এই আট জন আবার নিয়ন্ত্রিত হন মহা স্বর্ণ কালভৈরবের দ্বারা। তিনি সাধারণভাবে কালভৈরব নামেই পরিচিত।অর্থাৎ ভৈরব ও কাল ভৈরব আলাদা এবং ভিন্ন তাদের স্বরূপ ও তাৎপর্য|

“কাল” অর্থাৎ সর্ব শক্তি মান সময় এবং “ভৈরব” একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ ‘ভয়ঙ্কর’ বা ‘ভয়াবহ’। শিবের একটি বিশেষ রূপকে বলা হয় ‘কাল ভৈরব’ শিব পুরাণবা ও অন্যান্য শাস্ত্রে কাল ভৈরব এর বিস্তৃত ব্যাখ্যা আছে |

কালভৈরব আসলে শিবেরই একটি বিশেষ রূপ বা শিবের অংশ বিশেষ । শিব অনুসারে কোনো একসময় ব্রহ্মা নাকি কোনও ধর্মবিরোধী কাজ করেছিলেন যার ফলে শিব অত্যন্ত রেগে যান ব্রহ্ম দেবের উপর। তাই সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য কালভৈরবকে সৃষ্টি করেছিলেন করেছিলেন শিব। অর্থ্যাৎ শিবের ক্রোধ থেকে জন্ম কাল ভৈরবের আর সেই কালভৈরবই ব্রহ্মার একটি মাথা কেটে নিয়েছিল। কিন্তু তারপর সেই ছিন্ন মস্তক ছুঁড়ে ফেলতে চাইলেও কালভৈরনের হাতেই আটকে ছিল সেটি।সেই অবস্থায় কিছু কাল ভ্রাম্যমান অবস্থায় কাটান তিনি |এদিকে ব্রহ্ম হত্যার পাপ অন্য দিকে এই অসহায় অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে কপাল ব্রত পালন করতে হয় তাঁকে।তাতেও তেমন ফল হয়না, অবশেষে কাশীতে আসার পর তাঁর হাত থেকে হটাৎ খোশে পড়ে যায় সেই মস্তক। তার পর শিব কাল ভৈরব কে নিষ্ঠা সহকারে কাশী তেই স্থাপন করেন এবং কাশীকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেন কালভৈরবকে। তাই শিব হলেন কাশীর রাজা আর কালভৈরব তাঁর কোতোয়াল। তিনিই আশীর্বাদ করেন, তিনিই অভিশাপ দেন। এমনকি স্বয়ং যমরাজেরও নাকি কাশীবাসীকে শাস্তি দেওয়ার কোনও অধিকার নেই।কাশী তে কাল ভৈরব ই শেষ কথা |

তন্ত্রে এবং বৌদ্ধ ধর্মে কাল ভৈরব যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, কাশীর কালভৈরব মন্দির নিয়েও রয়েছে নানা রহস্য|আসবো সে সব নিয়ে আলোচনায় তবে একটি অন্য পর্বে|আজ এই টুকুই|পড়ুন ভালো লাগলে জানান ও শেয়ার করুন আর জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজ বা সমস্যা নিয়ে কথা বলতে চাইলে যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|