বনেদি বাড়ির দূর্গা পূজা – দাঁ পরিবারের পুজো

312

শুরু হয়ে গেলো নব রাত্রি উৎসব|চলবে নয় দিন|সারা দেশ জুড়ে পালিত হয় এই উৎসব যদিও আমরা বাঙালিরা সাধারণত চারদিন অর্থাৎ ষষ্ঠী থেকে নবমী দূর্গা পূজা হিসেবে পালন করে থাকি|এই দুর্গোৎসব এর পুন্য সময়ে আমি চেষ্টা করছি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে আমাদের বাংলার তথা কলকাতার এক হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস যে ইতিহাসের সাথে যুক্ত রয়েছে অসংখ্য গল্প ও ঘটনা|আজ বনেদি বাড়ির পুজোতে বলবো দাঁ পরিবারের পুজোর কথা|

সেকালের কলকাতায় দূর্গা পুজো কে ঘিরে একটি প্রবাদ প্রচলিত ছিলো যে দেবী মর্ত লোকে পা রেখে প্রথমে সাজতে আসেন দাঁ বাড়িতে তার পর এখান থেকে অন্য কোথাও যান|কেনো এই প্রবাদ সৃষ্টি হলো তার পেছনেও একটি কারন আছে|সে বিষয়ে পড়ে আসছি আগে আগে এই এই পরিবার দুর্গাপূজার প্রচলন নিয়ে কয়েকটা কথা জানিয়ে রাখি|

কালী প্রসন্ন সিংহ তার বিখ্যাত হুতোম পেঁচার নকশা গ্রন্থে এই পরিবার সম্পর্কে অনেক তথ্যই দিয়েছেন|এই বংশের প্রতিষ্ঠা ও দূর্গা পুজোর প্রচলন করেন এই বংশের গোকুলচন্দ্র দাঁ সময় টা খুব সম্ভবত 1840 সাল| তিনি পরবর্তীতে শিবকৃষ্ণ দাঁ কে দত্তক নেন|এই শিব কৃষ্ণ দাঁ এর আমলে এই পরিবারের ও তাদের দূর্গা পুজোর নাম ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র|পারিবারিক লোহা, কয়লা আর হার্ডওয়ারের ব্যবসায় প্রভূত লাভ করেন তিনি এবং লাভের একটা বড়ো অংশ ব্যয় করেন নিজের সৌখিনতা ও পরিবারের দূর্গা পুজোয়|শোনা যায় শিবকৃষ্ণ দাঁ সাজগোজ করতে বড় ভালবাসতেন এবং দূর্গা পুজোয় দেবীর রূপ সজ্জায় তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করতেন|

তার আমলে তিনি ফ্রান্স এবং জার্মানি থেকে বিশেষ কাজ করা অলঙ্কার ও পোশাক আনালেন ঠাকুরকে পরানোর জন্য|সোনা রুপো ও মূল্যবান রত্ন দিয়ে তৈরী পোশাকs ও গয়নায় দেবীকে সাজানো হতো|

আর একটি মজার ঘটনা এখানে উল্লেখ করা যায়|শোনা যায় জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ির সঙ্গে ছিলো এই দাঁ পরিবারের খুব রেষারেষি তাই তাদের দেখিয়ে দেখিয়ে ঠাকুরবাড়ির সামনে দেবীকে বেশ কয়েকবার ঘুরিয়ে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে তারপর গঙ্গায় নিয়ে যাওয়া হতো বিসর্জনের জন্য|

সেই রাজা আর নেই, রাজত্বও নেই|সবই ধূসর অতীত|তবু দাঁ বাড়িতে পুজো হয়|দেবীর সেই বিখ্যাত সাজ আজও হয়|এখানে রথের দিন গড়ানকাঠ পুজোর মধ্য দিয়ে প্রতিমা গড়ার কাজ শুরু হয় এবং জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামোতে দেবীর মস্তক স্থাপন করা হয়|এ বাড়ির রীতি অনুসারে
দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠার সময় তেরোটি শাড়ি ও তেরোটি কাঁসার পাত্র দেওয়া হয়। এছাড়াও একশো আটটি পেতলের প্রদীপ সাজানো হয়|এখানে বলী প্রথা নেই কারন পুজো হয় বৈষ্ণব মতে|কুমারী পুজোও এই বাড়ির পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট|

আজকের বনেদি বাড়ির পুজোর এই পর্ব এখানেই শেষ করলাম|ফিরবো আগামী পর্বে|যারা বিগত অমাবস্যায় মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের বিশেষ পুজোয় অংশগ্রহণ করলেন তাদের ধন্যবাদ|আগামী দিনেও বিশেষ তিথি গুলিতে বিশেষ পুজোর ও গ্রহদোষ খণ্ডনের সু ব্যবস্থা থাকবে|মহাষ্টমী উপলক্ষে আপনারা অঞ্জলিও দিতে পারবেন অনলাইনে|সঙ্গে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|