Home Blog Page 102

দেবী মাহাত্ম – পাতুন গ্রামের জ্যান্ত কালীর পুজো

বাংলায় এমন কিছু কালী মন্দির আছে এমন কিছু দেবী মূর্তি আছে যেগুলি নানা কারণে বেশ বিখ্যাত বা আলোচিত আবার এমন অনেক মন্দির বা শতাব্দী প্রাচীন পুজোও আছে যার জনপ্রিয়তা স্থানীয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ সেই ভাবে প্রচার মাধ্যমে আসনি। এমনই এক কালী পুজো হয় বর্ধমানের পাতুন নামে ছোট্ট একটি গ্রামে।আজকের পর্বে এই পুজো এবং পুজোর সাথে জড়িত কিছু অদ্ভুত প্রথা নিয়ে লিখবো ।এই গ্রামে প্রায় চারশো বছর ধরে পূজিতা হয়ে আসছেন জ্যান্ত কালী। জ্যান্ত কালী মানে সত্যি সত্যি মানব রুপী কালী অর্থাৎ কোনও মূর্তি নয় মানুষই কালীর সাজে সেজে থাকেন এখানে । তাঁকে ঘিরেই চলে পূজা অর্চনা এবং যাবতীয় তান্ত্রিক উপাচার। শুনতে অদ্ভূত লাগলেও এই গ্রামের মানুষের কাছে এটা স্বাভাবিক রীতি।এখানে নেই কোনও কালী মন্দির আছে উৎসব এবং অদ্ভুত সব প্রথা। মূল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়চৈত্র সংক্রান্তিতে এই সময়ে মা কালীর বেশে বহুরূপী গ্রামে ঘুরে ঘুরেই করেন গাজনের নাচ। সেই সময়ে ওই শোভা যাত্রায় নানা রকম লোকগান এবং মন্ত্র উচ্চারণ করা হয়। মা কালীর এক হাতে থাকে খাঁড়া বা তরোয়াল এবং অন্য হাতে থাকে কাগজ বা মাটির তৈরি নরমুণ্ড।অদ্ভুত সেই রূপ এবং শোভা যাত্রা দেখতে আসেন বহু মানুষ।তবে একটি নিদ্দিষ্ট পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্য কেউ দেবী কালীর মুখোশ পড়ে কালী সাজতে পারেননা। এই মুখোশও রাখা থাকে ওই পরিবারের কাছেই। মুখোশকে নিত্য পুজো করা হয়। এবং বছরের এই নিদ্দিষ্ট সময়ে মুখোশ জনসমক্ষে আনা হয়।গ্রামের বাকি পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন তবে তারা সাজেন কালীর চ্যালাচামুণ্ডা আর একজন সাজেন শিব।স্থানীয় রা বলেন পুজোর কিছু বিশেষ সময়ে এবং বিসর্জনের সময়ে একজন ব্যক্তিকে দেবীকে ধরে রাখতে হয়। কারন দেবীর মুখোশ পড়ার পরে সেই দেবীর সাজে সজ্জিত মানুষটির মধ্যে অদ্ভুত শক্তি সঞ্চারিত হয় যা যেকোনো সময়ে নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যেতে পারে এবং কোনো বিপত্তি ঘটে যেতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হয়।গভীর রাতে দেবীর পুজো অনুষ্ঠিত হয়। নিয়ম নিষ্ঠা মেনে সব রীতি পালিত হয়।ঢাকের শব্দ। ধুনীর ধোঁয়া। নাচ গান। সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত এবং মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি হয়।এমন কতই না অদ্ভুত সব পুজো এবং রীতি নীতি আছে সারা বাংলা জুড়ে। রয়েছে কতো রহস্যময় দেবী মন্দির।আবার এমন কোনো পুজো বাদেবীর মাহাত্ম নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম- সাধক কমলা কান্তের কালীবাড়ি

বাংলার মাটিতে জন্ম নেয়া সিদ্ধ মাতৃ সাধকদের মধ্যে অন্যতম সাধক কমলাকান্ত। তার সাধন পীঠ আজ কমলা কান্তের কালী বাড়ি নামে প্রসিদ্ধ। আজকের পর্বে আসুন জেনে নিই এই মহান সাধক ও তার কালী বাড়ি সম্পর্কে কিছু অদ্ভুত এবং ঘটনা।

একবার এই মন্দিরের প্রতিমায় বেলকাটা ফোঁটানোয় বেরিয়ে এসেছিল রক্ত। সেই অলৌকিক কাণ্ড করে সবাইকে হতভম্ব করে দিয়েছিলেন সাধক কমলাকান্ত। আজও যারা এই বিখ্যাত কালীবাড়িতে যান সেই কথা স্মরণ করেন।
শোনা যায় সাধক কমলাকান্ত এক অমাবস্যার দিনে বর্ধমানের মহারাজাকে পূর্ণিমার চাঁদ দেখিয়েছিলেন।তার অলৌকিক ক্ষমতায় প্রসন্ন হয়ে মহারাজ তাকে রাজ গুরুর পদ দিয়েছিলেন।

সাধক কমলা কান্তের মন্দিরে রয়েছে নর্মদেশ্বর শিব। যাঁরা সেই শিবলিঙ্গের ছবি তোলেন, তাঁদের ছবিতে শিবলিঙ্গের সঙ্গেই নাকি এক আবছা রক্তমাখা খাঁড়ার ছবি ওঠে। যদিও বাস্তবে শিবলিঙ্গের পাশে কোনও রক্তমাখা খাঁড়া থাকে না। যদিও এই দাবীর সত্যতা প্রমান করা সহজ নয়। তবু এই জনশ্রুতিতে বিশ্বাস করেন অনেকেই।

সাধকের লোকান্তরিত হওয়া নিয়েও একটি অলৌকিক ঘটনা শোনা যায়।বিষধর সর্প রূপে স্বয়ং মহাকাল নাকি সাধকের বুকে এক ছোবল দেয় এবং সেই কালকেউটের ছোবলেও তার ধ্যানভঙ্গ হল না তবে মুহুর্তের মধ্যে ঘুচে গেল অন্ধকার। ছিন্ন হল সব মায়াজাল। মাতৃ সাধক ফিরে গেলেন মাতৃক্রোড়ে।চীরনিদ্রায়।

আবার অন্য একটি জলনশ্রুতি মতে সাধক কমলাকান্ত শেষ সময়ে গঙ্গায় যেতে চাননি। তখন দেখা গিয়েছিল, এই কালীবাড়ির মাটি ফুঁড়ে আচমকা উঠে এসেছিল জল। যা আসলে গঙ্গা বলেই বিশ্বাস ভক্তদের। সেই জল যে স্থান থেকে উঠে এসেছিল। আজও সেই জলাধার কুয়োর মত বাঁধিয়ে রাখা হয়েছে কমলাকান্তের কালীবাড়িতে।

এই মন্দিরে পঞ্চমুণ্ডির আসনে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন কমলাকান্ত। তাঁর ইচ্ছা ছিল, মৃত্যুর পর মায়ের চরণতলে তাঁকে ঠাঁই দেওয়া হয় এবং মায়ের থেকে তাঁকে যেন কোনওভাবেই আলাদা না করা হয়। সেই ইচ্ছানুসারে, তাঁর সমাধির উপরই প্রতিষ্ঠা করা হয় মায়ের মূর্তি ও মন্দির। কমলাকান্তকালী বাড়িতে ধাতুর তৈরি এক অনিন্দ সুন্দর মূর্তি আছে। জা আমি নিজে দর্শন করেছি। অপূর্ব সেই অনুভূতি।

ফিরে আসবো পরের পর্বে দেবী মাহাত্মর নতুন পর্ব নিয়ে।চলবে মন্দির রহস্য।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম : সাধক রাম কানাইয়ের বামা কালীর পুজো

সিউড়ির ইন্দ্রগাছা গ্রামের বামা কালী রাম কানাইয়ের কালী নামে সু প্রসিদ্ধ। এই দেবীর পুজোর রয়েছে কিছু অদ্ভুত রীতি নীতি এবং সাধক রামকানাইয়ের অলৌকিক অভিজ্ঞতা এবং তার মাতৃ সাধনা আজও আলোচিত হয় বীরভূমের এই অঞ্চলে। পুরোটা জানতে হলে পড়তে হবে।

শোনা যায়। স্থানীয় হরকুনার গভীর জঙ্গলে সাধনা করতে গিয়ে মায়ের সাক্ষাৎ পান সাধক রামকানাই। মায়ের জীবন্ত সাক্ষাৎ সেই রূপ তিনি থালায় এঁকে নেন। জীবন্ত মায়ের সেই রূপের ছবি দেখে বানানো হয় মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তি। পুজোর জন্য লেখেন প্রার্থনার মন্ত্র। যা আজ লোকমুখে রাম কানাইয়ের পুঁথি নামে পরিচিত।

সাধক রাম কানাইয়ের গোপন পুঁথির গুপ্ত
নিয়ম মেনেই পুজো হয় শতাব্দী প্রাচীন ইন্দ্রগাছার কালীর। যে থালায় মায়ের জীবন্ত রূপ দেখে ছবি এঁকেছিলেন, সেই থালা বহু গোপনে সযত্নে রেখে দিয়েছে ইন্দ্রগাছায়। প্রায় ৫০০ বছর ধরে পুজিত হয়ে চলেছেন এই দেবী ।

গায়ের রং চক্ষুদান হয় কালীপুজোর তিথিতে গভীর রাতে তারপর সেই মূর্তি কাঁধে চাপিয়ে গঠন মন্দির থেকে পুজো মন্দিরে নিয়ে আসা হয়।
শতাধিক ভক্তের কাঁধে চড়ে গঠন মন্দির থেকে পূজার মন্দিরে পাড়ি দেযার এই দৃশ্যা দেখতে আসেন বহু মানুষ।প্রায় ১৩ ফুটের এই বামা কালীর মূর্তিকে ৪০ ফুট বড় লাল কাঠের ওপর চাপিয়ে কাঁধে করে নিয়ে আসা হয় মূল মন্দিরে। প্রতিবার দীপান্বিতা অমাবস্যায় পুজোর পর ভাইফোঁটার দিন প্রতিমার বিসর্জন হয়। ৫০০ বছর ধরে চলা এই রীতির আজও কোনও পরিবর্তন হয়নি।

ফিরে আসবো পরের পর্বে দেবী মাহাত্মর নতুন পর্ব নিয়ে। জানাবেন ধারাবাহিক এই আলোচনা আপনাদের কিরকম লাগছে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম- রঙ্কিনী দেবীর কথা

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা একটি বিখ্যাত ছোট গল্প হলো ‘রঙ্কিণী দেবীর খড়গ’ হয়তো আপনারা অনেকেই অলৌকিক এই গল্পটির বেতার নাট্যরূপ শুনেছেন। বাস্তবেই রয়েছে এই মন্দির এবং তা অবস্থিত জামশেদপুরের কাছে এক পাহাড়ি উপত্যকায়।এই মন্দিরকে ঘিরে থাকা কিছু অলৌকিক ঘটনা বা জনশ্রুতি নিয়ে আজকের
পর্ব।

জনশ্রুতি অনুসারে মাতা রঙ্কিণী এই অঞ্চলের বনে জঙ্গলে বাস করতেন এবং তিনি এই দুর্গম অরণ্যের রক্ষাকতৃ ছিলেন।স্থানীয় আদিবাসীরা তাকে খুব মান্য করতো। তবে তার মন্দির ও মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয় অনেক পরে। শোনা যায় একবার এক স্থানীয় আদিবাসির মেয়ে সন্ধ্যার পর জঙ্গলে পথ হারায় এবং এক অপদেবতার খপ্পরে পরে। দেবী রঙ্কিনি তখন আবির্ভূত হন এবং মেয়েটিকে রক্ষা করেন।
তারপর জঙ্গলে অদৃশ্য হয়ে যান।সেই রাতেই ঐ মেয়েটির বাবাকে দেবী রঙ্কিণী স্বপ্নাদেশ দিয়ে দেবীর একটি মন্দির তৈরি করতে বলেন।

মন্দির প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে এই জনশ্রুতি প্রচলিত থাকলেও ঠিক কোন সময়ে মূল মন্দিরটি তৈরি হয়েছে তা জানা যায়না । তবে মন্দিরের বর্তমান যে রূপ আমরা দেখতে পাই, তা তৈরি হয়েছে দেশ স্বাধীন হওয়ার কয়েক বছর পর । অনেকের কাছে মা রঙ্কিনী দেবী কালীর একটি রূপ আবার পূর্ব ভারতের বিভিন্ন উপজাতির কাছে তিনি তাদের আরাধ্যা দেবী।

ঘাটশিলায় বসবাস করার সময়ে সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় এই মন্দির সম্পর্কে জানেন ও দেবী রঙ্কিনী সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে ওঠেন
প্রসঙ্গত বলে রাখি ঘাট শিলায় শ্রদ্ধেয় বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের বাসস্থান আজও তার স্মৃতি বহন করে চলেছে।

যাই হোক আবার দেবী রঙ্কিনীর প্রসঙ্গে ফেরা যাক। শোনা যায় এই মন্দির থেকে কেউ আজ অবধি খালি হাতে ফেরেনি। মা রঙ্কিনী সকলের মনস্কামনা পূর্ণ করেছেন। পাহাড়ি দুর্গম রাস্তা দিয়ে পৌছাতে হয় দেবীর মন্দিরে।মন্দিরের গর্ভগৃহে কোনো মূর্তি নেই। একটি পাথরকে দেবীরূপে পূজা করা হয়।মূল মন্দিরের দুই পাশে রয়েছে আরও দুটো মন্দির। ডানপাশে রয়েছে শিবমন্দির এবং বামপাশের মন্দিরে রয়েছে গণেশের মূর্তি।

প্রায় রোজই অসংখ্য তীর্থ যাত্রী এখানে আসেন পুজো দেন। নিজেদের মনোস্কামনা জানান এবং সর্বোপরি দেবী রঙ্কিনি ও তার মন্দির দর্শন করে ধন্য হন।

ফিরে আসবো আরো এমন সব অজানা ও রহস্যময় মন্দিরের কথা ও দেবী মাহাত্ম নিয়ে আলোচনায়। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

মন্দির রহস্য – বুড়িমার মন্দিরের রহস্য

তেহট্টর কাছে ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া এক ছোট্ট গ্রাম ইলশেমারিতে আছে এক অদ্ভুত মন্দির যে মন্দিরে কালী নয় দূর্গা নয় বা দেবীর কোনো পরিচিত রূপের পুজো হয়না তার বদলে পুজো হয় এক বৃদ্ধার মূর্তির। স্থানীয় দের কাছে
তিনি পরম শ্রদ্ধার বুড়িমা। কিন্তু কে এই বুড়ি মা আর কেনই বা তার পুজো করেন স্থানীয়রা? সেই কথাই বলবো আজকের মন্দির রহস্য পর্বে।

ঘটনার সূত্রপাত দেশ ভাগ পরবর্তী সময়ে।
ছিন্নমূল কিছু উদ্বাস্তু পরিবারকে ইলশেমারীতে জমি দেওয়া হয়েছিল বসবাসের জন্য।তখন এখানে জমি মানে ঘন শেওড়ার জঙ্গল।
সরকারি উদ্যোগে বেশিরভাগ জঙ্গল কেটে
ফেলে বা গাছ পালা পোড়ানো গেলেও একটি জায়গায় জঙ্গল পোড়ানো দূরের কথা গাছই কাটা যাচ্ছিল না। অনেক চেষ্টাতেও মাঝের একটু জঙ্গল না কাটতে পেরে শেষ পর্যন্ত আর গাছ কাটতে সাহস করেননি লোকজন।সেই সময় প্রথম দেখা দেন বুড়িমা। শোনা যায় রাতে ওই জঙ্গল থেকে নাকি লাঠি হাতে সেই বৃদ্ধাকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত মাঝে মাঝেই। কাছে গেলেই নাকি সেই মূর্তি উধাও।মনে করা হতো তিনিই ওই অরণ্য বা গাছেদের রক্ষাকতৃ। তার পর আর কেউ সেখানে গাছ কাটার চেষ্টা করেনি। শুরু হয় মানুষ ও প্রকৃতির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান।
সৌজন্যে বুড়িমা।প্রথম দিকে বিষম ভয় পেয়ে ওই বৃদ্ধাকে কোনও অলৌকিক দেবী বলেই ভেবে নেয় গ্রামের মানুষ। পরে সেই ভয় ভক্তিতে পরিবর্তিত হয়।মূর্তি গড়ে শুরু হয় ওই বৃদ্ধার পুজো।
পরে মন্দির ও তৈরী হয়।

গ্রামের মানুষের আশা ভরসার স্থান হয়ে ওঠে বুড়িমার মন্দির এমন ও শোনা যায় যে একটা
সময় বৃষ্টি না হওয়ায় চাষবাস বিপন্ন হলে এই বুড়িমাকে পুজো দিয়েই নাকি বৃষ্টি পেয়েছিলেন গ্রামের চাষীরা। নাহলে খরা দেখা দিতো।

জনশ্রুতি আছে এক সময় রেলওয়ের তরফ
থেকে মন্দিরটি সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হলে অলৌকিক কোনো শক্তির প্রভাবে তা সম্ভব হয়নি বাধ্য হয়ে ঘুরিয়ে দিতে হয় রেলপথই। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মন্দিরটি সংস্কারও করে দেন।

বুড়িমার মন্দির প্রাঙ্গনে বহু পুরনো একটি অশ্বত্থ গাছও রয়েছে এবং এই গাছেরও রয়েছে আলাদা ইতিহাস। স্থানীয় মানুষের বিশ্বাস এই অশ্বত্থ গাছ কাটলে রক্তপাত হয়। কেউ কাটার চেষ্টা করলে তার ক্ষতি হয়। তাই গাছটিও মানুষের শ্রদ্ধার বস্তু।

আগে বৃদ্ধার মৃন্ময়ী মূর্তিই পরবর্তীতে সিমেন্টের মূর্তি হয়।আজও গ্রামে বুড়িমার পুজো শেষ হলে তবেই অন্য দেব-দেবীরা পুজো পান।প্রত্যেক অমাবস্যা এবং বিশেষ বিশেষ তিথিতে বহু মানুষ এখানে আসেন বুড়িমার পুজো দেখতে এবং
তার আশীর্বাদ নিতে।স্থানীয় মানুষের কাছে
তাদের বুড়িমা সাক্ষাৎ জগৎজননী।

সামনেই ফল হারিণী অমাবস্যা।সেই উপলক্ষে
দেবী মাহাত্ম এবং মন্দির রহস্য নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা চলতে থাকবে। তবে শুধু দেবী প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা শোনা নয় দেবীর অলৌকিক উপখ্যান জানা নয় নয়।
এই তিথির গুরুত্ব তখনই সম্পূর্ণ রূপে উপলব্ধি করতে পারবেন যখন এই তিথিতে গ্রহ দোষ খণ্ডন করিয়ে জীবনের জটিল সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।ফিরে আসবো পরের পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – পেট কাটি কালীর কথা

বাংলার উত্তর থেকে দক্ষিনে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য রহস্য ময় কালী মন্দির তাদের নিয়ে গল্প এবং অলৌকিক জনশ্রুতির শেষ নেই। এমনই ওকে প্রাচীন কালী মন্দিরের দেখা মেলে জলপাইগুড়ির অন্তর্গত পুরনো জনপদ ময়নাগুড়িতে। গেলে দেখা মিলবে অদ্ভুতপেটকাটি কালী মায়ের।আজ এই বিখ্যাত এবং বাংলার অন্যতম রহস্যময় মন্দির নিয়ে লিখবো।সঠিক মূর্তির বয়স কত জানা নেই কারও। দেবীর অদ্ভুত ও ব্যাতিক্রমী ভয়াল রূপ দেখলে গায়ে কাঁটা দেয় ভক্তদের। বলা হয়, খোদাই করে বার করার সময়ে কোদালের ঘায়ে নাকি পেট কেটে গিয়েছিল এই মাতৃমূর্তির। তা থেকেই তাঁর নাম পেটকাটি।কষ্টিপাথরের কালো মূর্তিটি দেখলে শিহরণ জাগে আজও।মূর্তির উচ্চতা প্রায় সাড়ে ৪ ফুট। দেবী এখানে দশভুজা। দেবী দাঁড়িয়ে আছেন ফুটন্ত পদ্মের উপরে।অদ্ভুত তার রূপ এবং রহস্যময়তার মন্দিরের পরিবেশ।খননের সময়ে পেটে আঘাত লাগার পাশাপাশি তিনটি হাতও ভেঙে গেছিলো তবে , অক্ষত আছে তাঁর বাকি হাতগুলি।দেবীর সেই হাতে ধরা অস্ত্রসম্ভার। বাঁদিকের চার হাতে ধরা রয়েছে হাতি, ঘণ্টা, ছিন্ন নরমুণ্ড, নরমূর্তি।একটি হাত ভাঙা।তাঁর পেটের মধ্যেই খোদাই করা রয়েছে অসংখ্য বিছের ছবি। দেবীর গলায় ঝুলছে নরমুণ্ডের এবং সর্পের মালা। সব মিলিয়ে দেবী বেশ ভয়ঙ্করী এবং স্বাভাবিক ভাবেই রহস্যময়ী।কালীপুজোর দিনে তাঁর আরাধনা করা হয়ধূমাবতী এবং চণ্ডী কালী রূপে। দেবীর এই রূপ অত্যন্ত জাগ্রত এবং উত্তরবঙ্গের পাশাপাশিআসাম নেপাল ও ভূটান থেকেও বহু মানুষ এখানে পুজো দিতে আসেন। সেই সময়ে মন্দিরকে ঘিরে বসে মেলা।কষ্টিপাথরের মূর্তিটিকে পুজো করা হয় তারপর পাশের মন্দিরে পূজিতা হন শ্যামা কালী প্রতিমা। দুটি মূর্তির পুজো হয় তন্ত্র মতে নিষ্ঠা সহকারে। আজও বলী প্রথা এখানে প্রচলিত।ফিরে আসবো পরের পর্বে। দেবী মাহাত্ম এবং প্রাচীন রহস্যময় মন্দির গুলি নিয়ে আলোচনা চলতে থাকবে আগের মতোই। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – হরিপালের বৈষ্ণব কালীর পুজো

ধর্মে শাক্ত ও বৈষ্ণব দুটি ভিন্ন দর্শন এবং দুটি ভিন্ন ধারা।কিন্তু হুগলির হরিপালের শ্রীপতিপুরে অধিকারী পরিবারের কাছে এই দুই প্রকার সাধনা অর্থাৎশ্রীকৃষ্ণ ও দেবী কালি দুয়ে মিলে এক হয়েগেছে আজকের পর্বে।হরিপালের বিখ্যাতবৈষ্ণব কালীর পুজো।এখানেদেবী কালির গলায় কন্ঠি মালা, বৈষ্ণবতিলক আঁকা পুজোতে কোনরকম বলি নয়,দেবী তৃপ্ত হন বাঁশির সুরে। আজ থেকে ৭০ বছর আগে বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীবটোকৃষ্ণ অধিকারীর তন্ত্রসাথনায় সিদ্ধ হয়েপ্রথম শুরু করেন এই পুজো। এখানে মা পরম বৈষ্ণবী।শাস্ত্রে একটি ঘটনার উল্লেখ আছে একবার শ্রীকৃষ্ণ ও রাধিকা যখন লীলা করছিলেন সেই খবর গিয়ে পৌছায় রাধিকার স্বামী আইহন ঘোষেরকাছে কিন্তুরাধিকার স্বামী আয়ন ঘোষ এসেদেখেন রাধিকা কালি পুজো করছেণ,প্রেমিকা কে অপমানের হাত থেকে বাঁচাবার জন্য স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ কালির রূপ ধরেন, যা কৃষ্ণকালী নামে পরিচিত সেই রুপই হুগলীর এই শতাব্দী প্রাচীন পুজোয় দেখা যায়।সাধক বটকৃষ্ণ অধিকারী এই গ্রামেরই এক দরিদ্র গোড়া বৈষ্ণব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেনবৈষ্ণব সূলোভ আচরণ ছোটথেকেই দেখা গিয়েছিলো অধিকারী মশাইয়ের মধ্যে বড়ো হয়ে সংসার ধর্ম করার পরেও তন্ত্রসাধনার দিকে আগ্রহছিল তার বেশিএকসময় তিনি শ্মশানে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন ও স্বপ্নাদৃষ্ট হয়ে এইখানে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন এই মাতৃ মন্দির। শুরু হয় পুজো।স্বপ্নেই তিনি দেখে ছিলেন যে তার দেবী মূর্তি সাধারণ কালো বা নীল নয় বর্ণ সবুজ এবং শ্যাম ও শ্যামা এক সাথে বিরাজমান। তাই এই অদ্ভুত রুপই প্রতিষ্ঠিত হয়।যদিও আজকের এখানেই শেষ করছি। তবে চলতে থাকবে কালী কথা। মন্দির রহস্য এবং দেবী মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ। 

বিশেষ পর্ব – বাঙালির কালী সাধনা

বাঙালির কালী সাধনার এক সুদীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ ইতিহাস আছে। আজ আপনাদের সেই ইতিহাস ও পরম্পরা সম্পর্কে কিছু তথ্য দেবো ষোড়শ শতাব্দীর দিকে নবদ্বীপের একজন প্রসিদ্ধ পণ্ডিত দীপান্বিতা অমাবস্যায় শুধুমাত্র লক্ষ্মী পুজো অর্চনার বিধান দিয়েছিলেন তিনি কখনোই সেই দিন কালী পুজোর বিধান দেননি।তবু পরবর্তীতে দীপান্বিতা অমাবস্যা আর কালী পুজো সমার্থক হয়ে যায়।যদিও পাল সেন যুগেও মাতৃ শক্তির আরাধনার প্রমান পাওয়া যায় তবুও কালী বাঙালির ঘরের মেয়ে হয়ে উঠতে আরো কিছুটা সময় নেন।প্রাচীন কিছু পুঁথি থেকে গ্রাম বাংলার শ্মশানে সন্ন্যাসী ও ডাকাতদের কালী পুজোর ইতিহাস জানা যায়। পলাশী যুদ্ধ পরবর্তীতে ১৭৬৮ সালে প্রকাশিত কাশীনাথ এর একটি গ্রন্থ কালী সপর্যাস বিধি তে দীপান্বিতা অমাবস্যা কৃষ্ণপক্ষ তিথিতে কালী পুজো পালন করার উল্লেখ আছেতবে তখনকার সময় কালীপুজো বাংলারমানুষের কাছে খুব বেশি জনপ্রিয়তা লাভ করেনি। পুরানে কালীর জন্ম নিয়ে রয়েছে এক কাহিনী। মনে করা হয় যখন স্বর্গে অসুরের তান্ডব চলছে দেবতাদের স্বর্গরাজ্য দখলের উদ্দেশ্যে। ঠিক তখনই দেবতারা মিলে সৃষ্টি করেন দেবী দুর্গার, আর সেই অসুরের প্রধান ছিল রক্তবীজ সে ছিল দেবতাদের বর প্রাপ্ত।তার রক্তের ফোটা থেকে নতুন অসুর জন্মাতো।তার বধের জন্য মা দুর্গা তার দুটো ভ্রুর মাঝখান থেকে জন্ম দেন কালীর।তিনি ভয়ঙ্কর সেই রক্তবীজকে হত্যা করেন এবং তার প্রতিটি রক্ত বিন্দু পান করেন।সেদিক দিয়ে দেবী কালি একটি দানবীর রূপ। মহাভারতেও কালীর উল্লেখ রয়েছে, যেখানে যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত পশুদের আত্মা বহন করেন যিনি সেই তিনি কালরাত্রি।এই কাল রাত্রি আর কালীকে অনেকেই এক করে দেখেন।তন্ত্র শাস্ত্রতে যেসব দেব-দেবীর পূজা করা হয় তাদের মধ্যে কালীপূজা অন্যতম। তিনি দশ মহাবিদ্যার অন্যতম।তবে শ্মশান বাসিনি ও তান্ত্রিক এবং দস্যুদল দ্বারা পূজিতা কালীকে যিনি বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দেন তিনি নবদ্বীপের সাধক কৃষ্ণানন্দ তিনি প্রথমকালী মূর্তি পূজার প্রচলন করেন। তিনি স্বপ্নে মায়ের নির্দেশ পেয়ে অলৌকিক ভাবে তার রূপ প্রত্যক্ষ করে ছিলেন।সেই থেকে শক্তি দেবী হিসেবে শ্যামা মা বা কালী মূর্তির আরাধনা করেন শাক্ত বাঙালিরা।পরবর্তীতে রামকৃষ্ণ রামপ্রসাদ বা বামা ক্ষেপার মতো সাধকরা মাতৃ শক্তির আরাধনা করে সিদ্ধি লাভ করেন।শোনা যায় গঙ্গা আগে পাঁচটি ধারায় বিভক্ত হয়ে মোহনায় পড়ত। আজকের মজে যাওয়া আদিগঙ্গা ছিল তাদের একটি। কালীগ্রাম ছিল তার তীরে সেই কালী গ্রামই পরবর্তীতে হয় কলকাতা। অর্থাৎ কলকাতার অস্তিত্ব দেবী কালীকে কেন্দ্র করে আবর্তীত হয়েছে।এই যে ফল হারিণী অমাবস্যা নিয়ে এতো কথা বললাম শাস্ত্র মতে এই তিথিতে মা কালী মানুষের সমস্ত খারাপ কর্মফলকে নিজের মধ্যে ধারণ করেন। তাই এই তিথিতে দেবীর পুজো করলে অশুভ কর্মফলের নাশ এবং শুভ ফল প্রাপ্তি হয়।এই দিন মা কালীর উদ্দেশে নিজের পছন্দের ফল রেখে মনস্কামনা জানাতে হয় এবং  সেই মনস্কামনা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সেই ফলটি অন্য কাউকে দান করতে বা খেতে নেই। একবছর পর ফলটি গঙ্গায় বিসর্জন করে সেই ফল গ্রহণ করা যেতে পারে। শব্দকল্পদ্রুমে বলা হয়েছে, ‘জ্যৈষ্ঠ-পঞ্চদশ্যাং বহুফলাদ্যুপহারৈঃ পূজনীয়া’ – অর্থাৎ জ্যৈষ্ঠমাসের অমাবস্যায় সাধক নানাবিধ ফলের উপহার সহযোগে দেবীর পুজো করবেন। এই দিন তারাপীঠেও তাই ফল ব্যবহার করা হয় পুজোয়।আজকের এখানেই শেষ করছি চলতে থাকবে কালী কথা। মন্দির রহস্য এবং দেবী মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – বালুরঘাটের বুড়া কালীমাতা

ফলহারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে আপাতত দেবী মাহাত্মা নিয়ে আলোচনায় গুরুত্ব দিয়েছি। কারনদেবী মাহাত্ম শোনার ও বলার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়।যারা শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খন্ডন করিয়ে প্রতিকার চান তাদের জন্যও এই তিথি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ।আজ আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করি আলোচনাআজকের পর্বে বালুরঘাটের বুড়া কালী মাতা।দক্ষিণ দিনাজপুরের শতাব্দী প্রাচীন কালী ক্ষেত্র গুলির মধ্যে অন্যতম হল বালুরঘাটের এই বুড়া কালীর পুজো।শোনা যায় কয়েকশো বছর আগে বর্তমান বালুরঘাট বুড়া কালী মাতার মন্দিরের পাশ দিয়ে নাকি আত্রেয়ী নদী বইত। মন্দির ও বাজারের জায়গায় ছিল ঘন জঙ্গল। সেই সময়ে দস্যু ও বন্যা প্রাণীরা শাসন করতো এই এলাকা শতাব্দী প্রাচীন পুজো হলেও এর সঠিক বয়স কত তা কেউ বলতে পারে না।জনশ্রুতি আছে এই কালী ক্ষেত্রর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রেয়ী নদীর ধারে নিজে থেকেই নাকি ভেসে ওঠে বুড়া কালী মাতার বিগ্রহ যা মূলত একটি শিলা খন্ড। স্থানীয় এক ত্রান্তিক সেই সময় ওই বিগ্রহকে তুলে নিয়ে এসে পুজো শুরু করেন । তারপর থেকেই শুরু হয় বুড়া কালী পুজো।প্রথমে টিনের ঘেরা দিয়ে বুড়া কালী মাতার পুজো শুরু হলেও বর্তমানে বিশাল আকার মন্দিরের পুজিত হন বুড়া কালী মাতাশোনা যায় কলকাতার রানি রাসমণি এই মন্দিরে পুজো দিতে আসতেন। বজরায় করে এসে তিনি আত্রেয়ী নদী থেকে জল নিয়ে এসে মায়ের পুজো দিয়ে আবার ফিরে যেতেন কলকাতায়। যদিও তার কোনো প্রামান্য তথ্য প্রমান নেই। সবটাই জনশ্রুতি।বহু অলৌকিক অভিজ্ঞতাও নাকি হতো এখানেসন্ধ্যের পর নাকি অপরূপ ফুলের সুগন্ধি পাওয়া যেত এই এলাকা থেকে। কিন্তু কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত কোনও জঙ্গল বা গাছপালা ছিল না। শোনা যেত নুপুরের আওয়াজ।সব মিলিয়ে এই স্থান বেশমায়াবী এবং পরিবেশ বেশ রহস্য ময়।পুজোতে এখন শোল মাছ বলি হয়। জনশ্রুতি আছে আগে নাকি ২০ কিলো ওজনের শোল মাছ বলি দেওয়া হত। প্রতি অমাবস্যায় বড়ো করে পুজোর আয়োজন করা হয়।পুজোর দিন মায়ের মূর্তিতে সারা গায়ে সোনা থেকে রুপোর অলঙ্কারে সুসজ্জিত থাকে। পুজোকে ঘিরে পুজোর দিন কয়েক হাজার ভক্তগনের সমাগম হয় পুজো প্রাঙ্গনে।সমগ্র জেলার মানুষের কাছে বুড়া কালী মাতা খুব শ্রদ্ধার এবং জাগ্রত দেবী। তার কাছে মনোস্কামনা নিয়ে আসেন অসংখ্য মানুষ। দেবী বুড়া কালী কাউকে খালি হাতে ফেরাননা বলে কিংবদন্তী প্রচলিত আছে।চলতে থাকবে দেবী মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা। পাশাপাশি মন্দির রহস্যর নতুন পর্ব নিয়েও ফিরে আসবো শিগ্রই। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পারিবারিক কালী পুজো

বাংলার ইতিহাসের নানা ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছে এক রাজার নাম তিনি নদীয়া তথা কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্র। বাঙালির দূর্গা পূজা বা জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা লগ্নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন। আবার মহারাজার পরিবারের উত্তরসূরিরা বেজায় কালী ভক্ত ছিলেন। আজকের পর্বে লিখবো মহা রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পরিবারের কালী পুজো নিয়ে।কৃষ্ণনগর রাজবাড়ীর খুব কাছে আনন্দময়ীতলা নামে একটি স্থান রয়েছে। পাশের রাস্তাটির নামও আনন্দময়ী রোড। সবই আসলে রাজ পরিবারের পূজিতা কালী দেবী আনন্দময়ীর নামে।দেবীর পুজো শুরু করেন মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রপৌত্র মহারাজা গিরিশচন্দ্র। তথ্য অনুসারে ১৮০৪ সালে মা আনন্দময়ীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি।শোনা যায় গিরিশ চন্দ্র রায় তন্ত্রসাধক ছিলেন। তন্ত্র মতে তিনি এখানে পুজো করতেন। এবং নানা রকম তন্ত্র সাধনা করতেন। তার অবর্তমানে রাজ পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের পুজোর দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং সেই পরম্পরা আজও সমান ভাবে চলছে।কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে আনন্দময়ী মায়ের পুজোর রয়েছে কিছু বিশেষত্ব যেমন এখানে আনন্দময়ী মাকে মাছের আঁশ হলেও দিতে হয় ভোগে।শুধু আঁশ নয় মা আনন্দময়ীকে ভোগে রোজ মাছ দেওয়া আবশ্যক।শোনা যায় আনন্দময়ীর রূপ স্বপ্ন দেখেছিলেন রাজা গিরিশচন্দ্র রায়।সেই রূপেই স্থাপিত হয় আনন্দময়ী মা।দক্ষিণমুখী এই মন্দিরে গর্ভগৃহে হাঁটু মুড়ে যোগাসনের শুয়ে আছেন মহাদেব। মহাদেবের বুকের উপর পদ্মাসনে বসে আছেন মা আনন্দময়ী। মহাদেবের বিগ্রহটি শ্বেত পাথরে নির্মিত এবং দেবী আনন্দময়ীর বিগ্রহটি কষ্টিপাথরে নির্মিত। প্রায় সাড়ে তিন ফুটের কাছাকাছি উঁচু এই দেবীর মূর্তি চতুর্ভূজা।এছাড়াও মন্দিরে রয়েছে ছোট কালী মূর্তিদেবী শীতলা ও অন্যান্য দেবদেবী বিগ্রহ। জন শ্রুতি আছে যে বর্তমানে যেখানে দেবী মূর্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে, সেখানে আগে ছিল প্রকাণ্ড একটি কষ্টিপাথর এবং সেই পাথরের নির্মিত হয়েছে মহারাজের স্বপ্নে দেখা আনন্দ ময়ী মায়ের মূর্তি । বর্তমানে শুধু রাজ পরিবার নয় সমগ্র জেলা তথা বাংলা থেকে মায়ের ভক্তরা আসেন।সবার বিশ্বাস মা আনন্দময়ীর কাছেযদি কোনও ভক্ত অন্তর থেকে কিছু প্রার্থনা করেন তাঁর মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়ই।আসন্ন ফল হারিণী অমাবস্যায় আপনাদের সব আশা পূর্ণ হবে।শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডন করান এবং সব বাধা বিপত্তি কাটিয়ে উঠুন।ফিরে আসবো পরের পর্বে। চলতে থাকবে দেবী মাহাত্ম এবং আপনাদের প্ৰিয় মন্দির রহস্য পর্ব। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।