বিগত পর্বে আপনাদের বলেছি বিষ্ণু বরাহ অবতারে হিরণ্যাক্ষ নামে এক রাক্ষসকে বধকরেন ও পৃথিবীকে রক্ষা করেন এই হিরণ্যাক্ষের ভাই হিরণ্যকশিপু স্বাভাবিক ভাবেই প্রবল বিষ্ণুবিদ্বেষী হয়ে ওঠেন। তিনি বিষ্ণুকে হত্যা করার পথ খুঁজতে থাকেন।তিনি বহু বছর ব্রহ্মার কঠোর তপস্যা করেন। ব্রহ্মাও হিরণ্যকশিপুর তপস্যায় সন্তুষ্ট হন। তিনি হিরণ্যকশিপুর সম্মুখে উপস্থিত হয়ে তাঁকে বর দিতে চান। হিরণ্যকশিপু বলেন, আপনি আমায় এমন বর দিন যে বরে আপনার সৃষ্ট কোনো জীবের হস্তে আমার মৃত্যু ঘটবে না, আমার বাসস্থানের অন্দরে বা বাহিরে আমার মৃত্যু ঘটবে না, দিবসে বা রাত্রিতে, ভূমিতে বা আকাশে আমার মৃত্যু হবে না, শস্ত্রাঘাতে, মনুষ্য বা পশুর হাতে আমার মৃত্যু হবে না,।বাধ্য হয়ে ব্রম্হা তাকে ইচ্ছা মতো বর দেন|অত্যাচারি রাজা হিরণ্য কশিপু কে বধ করে অধর্মের উপর ধর্ম কে প্রতিষ্ঠা করতে বিষ্ণু অবতার নৃসিংহ দেব পৃথিবীতে অবতীর্ন হয়ে ছিলেন |তিনি বিষ্ণুর চতুর্থঅবতার|সাধারণত দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের অন্যতম প্রতীক তিনি, তিনি বীরত্ব ও শৌর্যর ও প্রতীক তাই প্রাচীন কাল থেকে রাজারা বা শাসক রা তার উপাসনা করে আসছেন|পরবর্তীতে হিরণ্য কশিপুর পুত্র প্রহ্লাদ হয়ে ওঠেন পরম বিষ্ণুভক্ত।এতে তাঁর পিতা হিরণ্যকশিপু অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। ক্রমে প্রহ্লাদের বিষ্ণুভক্তিতে হিরণ্যকশিপু এতটাই ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত হন যে তিনি নিজ পুত্রকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন। বিষ্ণু স্বয়ং নৃসিংহ অবতারে হিরণ্য কশিপুরকে বধ করে প্রহ্লাদকে রক্ষা করেন|দেবতা মানুষ বা পশু হলে হবেনা কারন ব্রহ্মার বর হিরণ্য কশিপুর কে রক্ষা করবে তাই নৃসিংহ পরিপূর্ণ দেবতা, মানব বা পশু নন; হিরণ্যকশিপুকে দিবসে বা রাত্রিতে বধ করা যাবে না, তাই নৃসিংহ দিন ও রাত্রির সন্ধিস্থল গোধূলি সময়ে তাঁকে বধ করেন; হিরণ্যকশিপু ভূমিতে বা আকাশে কোনো শস্ত্রাঘাতে বধ্য নন, তাই নৃসিংহ তাঁকে নিজ জঙ্ঘার উপর স্থাপন করে নখের আঘাতে হত্যা করেন; হিরণ্যকশিপু নিজ গৃহ বা গৃহের বাইরে বধ্য ছিলেন না, তাই নৃসিংহ তাঁকে বধ করেন তাঁরই নিজের গৃহদ্বারে।নৃসিংহ দেবের হাতে হিরণ্য কশিপুর বধ হলো কিন্তু নৃসিংহদেবের ক্রোধ কম হল না। তিনি ভয়ানক ধ্বংসলীলা চালিয়ে যেতে থাকেন। এই সময়ে সব দেবতারা একসাথে শিবের শরণ নেন। তাঁরা বুঝতে পারেন, একমাত্র মহাদেবই পৃথিবীকে রক্ষা করতে পারেন। শিব বীরভদ্র ও ভদ্রকালীকে প্রেরণ করেন নৃসিংহকে থামানোর জন্য। কিন্তু মহাপ্রতাপ নৃসিংহ সেই দুই মহাশক্তিকেও বিপর্যস্ত করে ফেলেন। এমতাবস্থায় মহাদেব নিজেই শরভ নামের এক বিচিত্রদর্শন প্রাণীর রূপ নিয়ে আবির্ভূত হন।শরভ এক সুবিশাল পাখি। তাঁর সহস্রবাহু এবং পশুর মতো দেহ|নৃসিংহ ও শরভ অবতারের মধ্যে ভয়ানক যুদ্ধ হয়|শরভের আঘাতে নৃসিংহ আত্মসংবরণ করেন। শরভই শেষ করেন নৃসিংহের লীলা।নৃসিংহ দেবের ক্রোধ থেকে রক্ষা পায় সৃষ্টি |শিব নিজে একজন পরম বৈষ্ণব এবং নৃসিংহ দেব স্বয়ং বিষ্ণু| ভক্তের দ্বারা ভগবানের বধ বা ভক্ত এবং ভগবানের যুদ্ধ সনাতন ধর্ম শাস্ত্রের অতি বিরল ঘটনা|এই যুদ্ধ ও দুর্লভ অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় নৃসিংহ পুরান ও শিব পুরানে |আগামী পর্বে যথা সময়ে ভগবানের পরবর্তী রূপ সহ তার বিশেষ লীলা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|চলতে থাকবে এই পৌরাণিকআলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
দশ অবতার রহস্য – বরাহ অবতার
দশ অবতার পর্বে আজ ভগবানের বরাহ অবতারের কথা লিখবো |নাম থেকেই বোঝা যায় যে এই অবতারে বিষ্ণু বন্য শূকরের রূপ ধারণ করেছিলেন। পুরাণ বলে, তিনি হিরণ্যাক্ষ নামক রাক্ষসের হাত থেকে ভূদেবী অর্থাৎ পৃথিবীকে উদ্ধার করতে বরাহর রূপ ধারণ করেন|অত্যাচারী অসুর রাজ হিরণ্যাক্ষ পৃথিবীকে মহাজাগতিক সমুদ্রের তলায় লুকিয়ে রেখেছিলেন নিজ স্বার্থে তাকে ব্যবহার করতে ও নিজের অহংকার ও দম্ভ কে প্রকাশ করতে|যদিও পৃথিবীর মহা সমুদ্রে পতিত হওয়ার আরো একটি কারন শাস্ত্রে উল্লেখ আছে|কোনো একটি সময়ে যম রাজের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে ছিলেন স্বয়ং শ্রী হরি|পৃথিবীতে সেই সময় শুধুই জন্ম ছিলো মৃত্যু ছিলোনা|অতিরিক্ত প্রাণী কুলের সম্প্রসারণ যে চাপ সৃষ্টি করে ছিলো তার ফলেই অন্ধকার সাগরের অতলে তলিয়ে যায় পৃথিবী|পৃথিবীকে স্ব মহিমায় পুনপ্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে আবির্ভাব হয় বরাহ অবতারের|তার এই কাজে প্রধান বাঁধা হয় অসুর রাজ হিরনাক্ষ|যিনি মহা সমুদ্রে নিমজ্জিত পৃথিবীকে অধিকার করে বসেছিলেন|বিষ্ণু বরাহর বেশ ধারণ করে এক হাজার বছর ধরে হিরণ্যাক্ষের সঙ্গে যুদ্ধ করে তাকে পরাজিত ও নিহত করেন তারপর পৃথিবীকে অন্ধকার সমুদ্রের তলা থেকে উদ্ধার করেন।শাস্ত্রে বর্ণনা আছে কিভাবে বরাহ দেব তার বিশাল দাঁত দিয়ে পৃথিবীকে জলের উপর তুলে ধরলেন । পৃথিবী রক্ষা পেল ।বরাহ রূপে শ্রীবিষ্ণু দৈত্যরাজ হিরণ্যাক্ষকে হত্যা করে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন ।পুরান অনুসারে ভগবান বিষ্ণু বরাহ অবতারে ভূদেবী বা পৃথিবী কে পত্নী হিসাবে গ্ৰহণ করেন।বরাহ পুরানে বরাহ অবতারের রূপের উল্লেখ আছে|বরাহ অবতারের চারটি হাত, চার হাতে শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্ম-ত্রিশূল এবং বরাহদন্তে ধরা থাকে পৃথিবী।বরাহ দেব সৃষ্টিশীলতা ও ন্যায়ের প্রতিক রূপে পূজিত হন|দশ অবতারের আগামী পর্বে ভগবানেরপরবর্তী অবতার এবং তার বিশেষ লীলা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
জগদ্ধাত্রী পূজোর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন
বাংলায় জগদ্ধাত্রী পুজো শুরুর ইতিহাস নিয়ে আপনাদের আগেই বলেছি|আজ জগদ্ধাত্রী পূজোর শাস্ত্রীয় ও পৌরাণিক তাৎপর্য আপনাদের জানাবো|শাস্ত্র মতে মা দুর্গা মর্ত্য থেকে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার পর আবার মর্ত্যে ফেরেন দেবীজগদ্ধাত্রী রূপে।পুরান মতে মা দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করার পর দেবতারা আবার নিজেদের পুরানো গর্বে অভিভূত অবতারে ফিরে যান। নিজেদের ক্ষমতার অহংয়ে তারা আবার অন্ধ হয়ে পড়েন। যেন তাঁরাই দণ্ডমুণ্ডের কর্তা, তাঁরা ছাড়া আর কারও কোনও শক্তিই নেই আর কী!দেবতাদের এই অহংকার দেখে ভারী ক্রুদ্ধ হয়ে যান ব্রহ্মা। তিনি যক্ষরূপ ধারণ করে দেবতাদের একে একে ডেকে পাঠান। একটি সামান্য ঘাসকে রেখে তিনি পবনদেবকে বলেন তা নিজ ক্ষমতায় সরিয়ে দেখাতে। পবনদেব হাজারো চেষ্টার পরেও বিফল হন। এরপর বরুনদেবকে ডেকে পাঠানো হয় এবং বলা হয় ঘাসটিকে ভিজিয়ে দেখাতে। তিনিও অসফল হন। তারপরে ডাক পরে অগ্নিদেব, তিনিও ঘাসটিকে জ্বালাতে সক্ষম হন না।এই ভাবে দেবতাদের অহংকার চূর্ণ হয়|প্রত্যেক দেবতা একে একে অসফল হওয়ার পরে আসেন ব্রহ্মা। এবং তিনি দেবতাদের বোঝান যে সবার ওপরে পরম ব্রহ্মই সত্যি। তাহার ওপর কেহ না। তিনি সৃষ্টি কর্তা|তিনি আরও বলেন, দেবতাই হোক কিংবা মানব অথবা দৈত্য, এই জগতে সবচেয়ে বড় একটি অসুরের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই করতে হবে আর সেটি হল তাঁদের মানসিক অহংয়ের অসুর।করিন্দ্রাসুর আসলে এই অহং বোধের প্রতিফলন|আর এই অসুরকে বধ করতেই পরম ব্রহ্ম যে দেবীর রূপ নেন, তিনিই জগদ্ধাত্রী। সেই দেবীর আরাধনা হয় এই শুক্লা নবমী তিথিতে|আজ আপনাদের সবাইকে জগদ্ধাত্রী পুজোর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|দশ অবতার রহস্য নিয়ে আবার ফিরে আসবো যথা সময়ে|ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ |
দশ অবতার রহস্য – কুর্ম অবতার
ভগবানে বিষ্ণুর কুর্ম অবতারের আবির্ভাব নিয়ে দুটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা আছে|দুটোই আজ সংক্ষেপে আপনাদের বলবো|প্রথম ব্যাখ্যা অনুসারে পাতালবাসী অসুরেরা একবার দেবতাদের পরাজিত করে স্বর্গরাজ্য দখল করে । তখন ব্রহ্মদেব ও ইন্দ্র নিপীড়িত দেবতাদের সঙ্গে নিয়ে শ্রীবিষ্ণুর কাছে গেলেন । অসুরদের অত্যাচারের কথা বললেন । শ্রীবিষ্ণু দেবতাদেরকে অসুরদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষিরােদ সাগর মন্থনের পরামর্শ দিলেন । তিনি বললেন , সাগর মন্থনের ফলে যে অমৃত উঠে আসবে , তা পান করে দেবতাগণ অসুরদের পরাজিত করার শক্তি ফিরে পাবেন|দ্বিতীয় ব্যাখ্যা অনুসারে দুর্বাশা মুনির দেয়া মালা ইন্দ্রের ঐরবত দ্বারা অবহেলিত হওয়ায় রেগে গেলেন দুর্বাশা মুনি এবং ইন্দ্র কে অভিশাপ দিলেন দেবতারা তাদের শক্তি হারাবে, শ্রীহীন হয়ে যাবে এই স্বর্গরাজ্য।শ্রীহীন, সৌন্দর্য্যহীন, লক্ষ্মীহীন হয়ে পড়বে স্বর্গ।উপায় না দেখতে পেয়ে সমস্ত দেবতাগণ প্রজাপতি ব্রহ্মার শরণাপন্ন হলেন|প্রজাপতি বললেন সমুদ্র মন্থন করে অমৃতকে বের করে নিয়ে আস্তে হবে।কিন্তু দেবতাদের একার পক্ষে সমুদ্র মন্থন করা সম্ভব নয়।অমৃতের সমান বন্টনে ঠিক করা হয় দেব-অসুর উভয় মিলে সমুদ্র মন্থন করবে।দুটি ক্ষেত্রেই সমুদ্র মন্থনের কথা বলা হয়|ভগবান বিষ্ণু এই সমুদ্র মন্থনের কাজ সুসম্পন্ন করার জন্য এক বিরাট কচ্ছপের অবতারে আবির্ভুত হয়েছিলেন।যা তার কূর্ম অবতার রূপে জগৎ বিখ্যাত ।তার ওই বিরাট পৃষ্ঠদেশের ওপরে তিনি সমুদ্রমন্থনের সময় মন্দার পর্বতকে ধরে রাখেন।বাসুকি নাগ কে ব্যবহার করা হয় মন্থনের রজ্জু বা দড়ি রূপে|তারপর একে একে বিষ্ণুদেবের রাগিনী শক্তি অর্থাৎ পরমাপ্রকৃতি শ্রীলক্ষ্মী উঠে এলেন।বাসুকী নাগের শরীর মন্দার পর্বতে ঘর্ষণের ফলে যে বিষ উঠে এসেছিলো তা স্বয়ং মহাদেব পান করেছিলেন এবং নীলকণ্ঠ হয়ে সারা জগৎকে এই বিষের প্রভাব থেকে রক্ষা করেছিলেন।তৎপরবর্তীতে ধন্বন্তরি আবির্ভুত হয়েছিলেন অমৃত ভাণ্ড নিয়ে।সেযাত্রায় অমৃত পান করে দেবতারা রক্ষা পেয়েছিল অসুর দের হাত থেকে|জ্যোতিষ শাস্ত্রে এই কঠিন কর্মের সাথে শনিদেবের সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। কূর্ম অবতারের বন্দনায় গ্রহ রাজ শনিগ্রহের শুভ ফল প্রাপ্ত হয়।হিন্দুধর্মে কূর্ম হল বিষ্ণুর দ্বিতীয় অবতার|মৎস অবতারের মত এটিও সত্যযুগের অবতার ।শ্রী বিষ্ণুর কূর্ম অবতারের জন্য উৎসর্গীকৃত মন্দির হল অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর জেলার কুর্মাই মন্দির তাছাড়া শ্রীকুর্মাম মন্দির ও বেশ জনপ্রিয়|যথা রীতি আগামী পর্বে ভগবানেরপরবর্তী অবতার এবং তার বিশেষ লীলা নিয়ে ঠিক সময়ে ফিরে আসবো|চলতে থাকবে এই পৌরাণিক আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
দশ অবতার রহস্য – মৎস অবতার
গীতায় ভগবান স্বয়ং বলেছেন যখনই অধর্ম জগৎ কে গ্রাসঃ করবে তখনই তিনি ধর্মকে পুনস্থাপন এবং অধর্ম কে পরাজিত করতে অবতীর্ণ হবেন|দশটি ভিন্ন ভিন্ন অবতারের উল্লেখ পাওয়া যায় শাস্ত্রে যার মধ্যে একমাত্র কল্কি অবতারের আগমন এখনো বাকি আছে বাকি অবতারেরা এসেছেন এবং তাদের কাজ করে আবার ফিরে গেছেন|ভগবানের সেই লীলা সেই দশ অবতারের কথা বলবো পবিত্র এই দামোদর মাসে|আজ শুরু করবো মৎস অবতার দিয়ে| আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে সত্যব্রত নামে এক ধার্মিক রাজা ছিলেন । তাঁর রাজত্বকালে হঠাৎ পৃথিবীতে নানারূপ অন্যায় – অত্যাচার দেখা দেয় ।অধর্ম ও মিথ্যা জগৎ কে গ্রাস করে|রাজা তখন জগতের কল্যাণের জন্য ঈশ্বরের করুণা প্রার্থনা করেন । জলাশয়ে স্নানের সময় একদিন রাজা সত্যব্রতের নিকট একটি ছোট মাছ এসে প্রাণ ভিক্ষা চায় । রাজা কমণ্ডলুতে করে মাছটিকে বাড়ি নিয়ে এলেন তারপর দিনে দিনে মাছটির আকার ভীষণভাবে বাড়তে থাকে । তাকে পুকুর , সরােবর , নদী , যেখানেই রাখা হয় , সেখানেই আর ধরে না। তখন রাজা বুঝলেন ইনি নিশ্চয়ই সাধারণ কোনো মাছ নন| তখন রাজা মাছটির সামনে তার ইষ্ট দেব নারায়ণের স্তব করতে শুরু করলেন । তারপর ধীরে ধীরে প্রকট হলেন স্বয়ং নারায়ন|মৎসরূপী নারায়ণ রাজাকে বললেন,সাতদিনের মধ্যেই জগতের প্রলয় হবে। সে সময় তােমার ঘাটে এসে একটি স্বর্ণতরী ভিড়বে।তুমি সব রকমের জীবদম্পতি , খাদ্য – শস্য ও বৃক্ষবীজ সংগ্রহ করে তাদের নিয়ে সেই নৌকায় উঠবে । আমি তখন শৃঙ্গধারী মৎস্যরূপে আবির্ভূত হবাে । তুমি তােমার নৌকাটি আমার শৃঙ্গের সঙ্গে বেঁধে রাখবে ।আমি তোমায় রক্ষা করবো| যথা সময়ে মহাপ্রলয় শুরু হলাে । রাজা মৎসরূপী ভগবান শ্রীবিষ্ণুর নির্দেশ মতাে কাজ করলেন । ধ্বংস থেকে অক্ষা পেল তার নৌকা । প্রলয় শেষে রাজা জীব ও উদ্ভিত নিয়ে আবার নতুন করে জগৎ সংসার সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু করলেন এবং এই ভাবেই মৎস্য অবতাররূপে ভগবান শ্রীবিষ্ণু সৃষ্টিকে রক্ষা করলেন । আগামী পর্বে ভগবানের পরবর্তী অবতার এবং তার বিশেষ লীলা নিয়ে আবার ফিরে আসবো|চলতে থাকবে এই পৌরাণিক আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
ছট পুজোর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা
চলছে ছট পুজো|বিগত 28 অক্টোবর থেকে সামনের 31 অক্টোবর চারদিনের এই উৎসব সন্তানের দীর্ঘায়ু, সুখ-সৌভাগ্য ও উন্নত জীবনের জন্য করা হয়। কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে ছট মহোৎসব পালিত হয়। কার্তিক শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথি থেকে এই উৎসবের সূচনা হয়। ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত নির্জলা উপবাস রাখা হয় এই পুজোয়। এই উৎসবে মুখ্যত সূর্য ও জলকে সাক্ষী মেনে পুজো করা হয়। মনে করা হয়, ছট পুজো বৈদিক কাল থেকে প্রচলিত । পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, প্রিয়ংবদ নামক এক নিঃসন্তান রাজা সন্তান লাভের জন্য যজ্ঞ করান। মহর্ষি কশ্যপ পুত্র লাভের জন্য যজ্ঞ করার পর প্রিয়ংবদের স্ত্রী মালিনীকে প্রসাদ হিসেবে পায়েস দেন। এর পর রাজার পুত্র লাভ হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই পুত্র মৃত জন্ম নেয়। দুঃখিত প্রিয়ংবদ পুত্রশোকে প্রাণ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। সে সময় ব্রহ্মার মানসপুত্রী দেবসেনা প্রকট হন ও রাজাকে তাঁর পুজো করতে বলেন। এই দেবীর উৎপত্তি সৃষ্টির মূল প্রবৃত্তির ষষ্ঠ অংশ থেকে। তাই একে ষষ্ঠী বা ছটি মাইয়া বা ছট দেবী বলা হয়। দেবীর নির্দেশ অনুসারেই রাজা প্রিয়ংবদ ষষ্ঠী পুজো করেন, এর পরই ওনার পুত্র লাভ হয়। ছট সম্পর্কে মহাভারতে উল্লেখ আছে|সবার আগে সূর্যপুত্র কর্ণ সূর্যের পুজো করে করেন। কর্ণ প্রতিদিন কোমর পর্যন্ত জলে দাঁড়িয়ে থেকে সূর্য পুজো করতেন ও অর্ঘ্য দিতেন। সূর্যের আশীর্বাদেই তিনি মহান যোদ্ধা হন। তাই ছটে সূর্যকে অর্ঘ্য দেওয়ার প্রথা প্রচলিত রয়েছে। আবার আর একটি প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, পাশা খেলায় নিজের সমস্ত রাজ্য হেরে যাওয়ার পর দ্রৌপদী ছট ব্রত পালন করেন। এই ব্রত পালনের পর পাণ্ডবব নিজের রাজ্য ফিরে পান। লোককথা অনুযায়ী, সূর্যদেব ও ছট দেবী ভাই-বোন। তাই ছট পুজোয় ছট দেবীর সঙ্গে সূর্যের আরাধনা ফলদায়ী মনে করা হয়।অন্য দিকে রামায়ণেও ছট পুজোর উল্লেখ পাওয়া যায়। কথিত আছে, সীতাও ছট পুজো করে ছিলেন। ১৪ বছরের বনবাসের পর যখন রাম অযোধ্যা ফিরে আসেন, তখন রাবণ বধের পাপ থেকে মুক্তির জন্য ঋষি-মুনির আদেশে রাজসূয় যজ্ঞ করার সিদ্ধান্ত নেন। এর জন্য মুগ্দল ঋষিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু মুগ্দল ঋষি রাম ও সীতাকেই নিজের আশ্রমে আসার আদেশ দেন। ঋষির আজ্ঞায় রাম ও সীতা আশ্রমে এলে সেখানে তাঁদের ছট ব্রত সম্পর্কে জানানো হয়। ঋষি মুগ্দল গঙ্গা ছিটিয়ে সীতাকে পবিত্র করেন ও কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে সূর্যদেবের উপাসনার আদেশ দেন। তার পর সেখানে থেকেই সীতা ৬ দিন পর্যন্ত সূর্য পুজো করেন।সূর্যকে প্রসন্ন করার জন্য ছট পুজোর দিন গুড় দান করা উচিত। এদিন দান করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ব্যক্তি নিজের ইচ্ছানুযায়ী দান করতে পারেন।পাশাপাশি সূর্য প্রনাম করুন ও ধান, গঙ্গা জল, হলুদ ফুল ও একটি নারকেল সূর্য দেবকে অর্ঘ্য হিসেবে নিবেদন করুন|আপনার মনোস্কামনা পুর্ন হবে|ফিরে আসবো অন্য কোনো শাস্ত্রীয় ও পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আগামী পর্বে|সবাইকে জানাই ছট পূজার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন |পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
জগদ্ধাত্রী পূজোর ইতিহাস
দুর্গা ঠাকুরের বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলার আকাশে-বাতাসে নেমে আসে বিষাদের সুর। তার কিছুদিন পরে লক্ষ্মী পুজোতে কিছুটা হলেও মন খারাপ কেটে যায|তারপর আসে কালীপূজা|কালী পূজা শেষ হলে মানুষের মন থেকে বিষাদ যেন কাটতেই চায় না।তবে এক মার পূজো শেষ হতে না হতেই অন্যরূপে মাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য পৃথিবীবাসী অপেক্ষা করে থাকে এবং মা এবার আসবেন জগদ্ধাত্রী রূপে|জগদ্ধাত্রী পূজার ইতিহাস বেশ প্রাচীন এবং পৌরানিক দৃষ্টি কোন থেকে বেশ তাৎপর্য পূর্ন তবে আজ ইতিহাস নিয়ে বলবো|নদীয়া জেলার সদর কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনা করেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়। কিংবদন্তী অনুসারে নবাব আলীবর্দী রাজত্বকালে কৃষ্ণচন্দ্র রাজার কাছ থেকে ১২ লক্ষ টাকা নজরানা দাবি করেন।টাকা না দেয়ায় নবাব রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে মুর্শিদাবাদ এ নিয়ে যান এবং কিছুদিন বন্দী করে রাখেন|তারপর মুক্তির পর নদীপথে যখন কৃষ্ণনগরে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় নিজের রাজ্যে প্রত্যাবর্তন করেন সেই সময় ঘাটে বিজয়া দশমীর বিসর্জনের বাজনা শুনে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি দুর্গাপূজার সময় অতিক্রম করে এসেছেন। এবছর তিনি দুর্গাপুজো দেখতে পেলেন না, দূর্গা পূজার আয়োজন করতে না পেরে অত্যন্ত দুঃখিত হয়েছিলেন।সেই রাতে দেবী দুর্গা জগদ্ধাত্রী রূপে রাজাকে স্বপ্নে দেখা দেন এবং পরবর্তী শুক্লা নবমী তিথিতে জগদ্ধাত্রী দুর্গার পূজা করার আদেশ দেন ।সেই মত কৃষ্ণনগরে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনা করেন।বলা যায় জগদ্ধাত্রী, দুর্গার আরেক রূপ।সৃষ্টি কর্তা ব্রহ্মা করিন্দ্রাসুরকে বধ করার জন্য দেবী জগদ্ধাত্রীকে আহ্বান করে ছিলেন|সেই পৌরাণিক গল্প আপনাদের বলবো আগামী কোনো পর্বে|আজ আপাতত এখানেই শেষ করছি|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
সনাতন ধর্ম ও তুলসী মাতা
দামোদর মাস নিয়ে আগেই বলেছি, সনাতন ধর্মে দামোদর মাসের গুরুত্ব অপরিসীম আর এই আলাদা করে তুলসী দেবীর মহিমাও প্রচার করা হয়|আজ বলবো তুলসীদেবীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব নিয়ে|তুলসীর আবির্ভাব সম্পর্কে পুরাণে বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়। একই তুলসীদেবী কখনো জলন্ধরের পত্নী, কখনো শঙ্খচূড়ের পত্নী, আবার, কখনো বা ধর্মদেবের পত্নী বা চন্দ্রভানু কন্যা, আবার কখনো কেদাররাজের কন্যারূপে আবির্ভূত হয়েছেন|তবে প্রত্যেক জন্মেই তিনি কৃষ্ণভক্তিপরায়ণা ছিলেন।ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে উল্লেখ আছে ,কেদার রাজার যজ্ঞকুন্ড থেকে লক্ষীদেবীর অংশরূপে এক কন্যা আবির্ভূত হন এবং সে কন্যা কেদার রাজ ও তাঁর পত্নীকে তাঁর পিতা-মাতারূপে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সেই কন্যা তপস্যার উদ্দেশ্যে যমুনার তীরবর্তী বনে গমন করেন। ঐ কেদারকন্যার নাম ছিল বৃন্দা। তাই, তার তপোবন বলে সেই বন জগত বৃন্দাবন নামে প্রসিদ্ধ হয়।বৃন্দ ও তুলসী একই নারী বলে মনে করা হয়|ব্রহ্মার নিকট থেকে তিনি শীঘ্রই শ্রীকৃষ্ণকে পতিরূপে লাভ করার বর প্রাপ্ত হন।দেবী তুলসী কেন বৃক্ষ রূপ ধারণ করলেন তা নিয়েও একটি পৌরাণিক ঘটনা আছে|শঙ্খচুর নামে এক অসুরের সাথে দেবতাদের ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হয়েছিলো|সেই সময়ে শঙ্খচুরের পত্নী রূপে ছিলেন তুলসী দেবী স্বয়ং যুদ্ধে বিষ্ণু ছলনা করে শঙ্খচুরকে হত্যা করলে তুলসীদেবী রেগে গিয়ে বিষ্ণুকে শিলা খন্ড হয়ে গন্ডকি নদীতে পতিত হওয়ার অভিশাপ দিলেন|পরে নিজের ভুল বুঝতে পারলে বিষ্ণু তাকে ক্ষমা করেন ও বর দেন পবিত্র বৃক্ষ রূপে চিরকাল পূজিতা হওয়ার|ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুসারে, একসময় দেবী তুলসী অভিমান বশত অন্তর্হিত হলে তুলসীবনে গমনপূর্বক শ্রীহরি তুলসীর পূজা ও স্তব করেন। তখন দেবী তুলসী বৃহ্ম হতে আবির্ভূতা হন এবং শ্রীহরির পাদপদ্মে শরণ নেন।তুলসী গাছ নিয়ে অসংখ্য শাস্ত্রীয় উপাচার আছে যারা কিছু আমি আগেই বলেছি|আজ যে উপাচার গুলি বলবো সেগুলি এই পবিত্র দামোদর মাসে করলে আপনাদের অনেক সমস্যা দুর হবে|প্রায় সব হিন্দু বাড়িতেই তুলসী গাছ দেখতে পাওয়া যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, তুলসী গাছ যেন থাকে বাড়ি থেকে বেরোনোর প্রধান দরজার ডান দিকে।গৃহ কর্তার জন্য এটা শুভ|চারটি তুলসী পাতা ঘরের চার কোণে রেখে দিন। তার পর যত দিন পর্যন্ত তুলসী পাতাগুলি শুকিয়ে না যায়, তত দিন রাখতে হবে। শুকিয়ে গেলে জলে ভাসিয়ে আবার নতুন করে তুলসী পাতা রাখুন। এর ফলে বাড়িতে পজিটিভ এনার্জি থাকবে ভরপুর এবং যে কোনও শুভ কাজে সাফল্য আসবে দ্রুত।তামার ঘটিতে জল নিয়ে কয়েকটি তুলসী পাতা ভিজিয়ে রাখুন, যখন সকাল-সন্ধ্যা বাড়িতে পুজো করা হয়, তখন সেই জল সারা বাড়িতে ছিটিয়ে দিন।বাস্তু দোষ দুর হবে|বাড়িতে শ্রী কৃষ্ণ বিরাজমান থাকলে, অবশ্যই তুলসী পাতা মিশিয়ে সেই জলে স্নান করান।ভগবানের আশীর্বাদ পাবেন|ফিরে আসবো যথা সময়ে অন্য কোনোশাস্ত্রীয় ও পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আগামী পর্বে|ভাই ফোঁটার শুভেচ্ছা জানাই সবাইকে|ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|
ভাইফোঁটার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা
দীপাবলী তারপর গ্রহন জ্যোতিষ ও তন্ত্রের জগতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিন আমরা পেরিয়ে এলামযদিও উৎসবের রেশ এখনো রয়ে গাছে কারন সামনে ছট পুজো এবং জগদ্ধাত্রী পুজো|তবে আজ ভাই ফোঁটা তাই আজকের পর্বে ভাইফোঁটার শাস্ত্রীয় ও পৌরাণিক দিক নিয়ে বলবো|পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী মৃত্যুর দেবতা যম তাঁর বোন যমুনার বাড়িতে এই দিনে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে গিয়েছিলেন এবং তার বোন দাদার কপালে তিলক কেটে তাঁকে আরতি করে ঘরে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কার্তিক মাসের দ্বিতীয়া তিথিতে শুভ ক্ষণে সেই ফোঁটা দেয়া হয়েছিলো সেই থেকে শুরু হয়েছে ভাইফোঁটা যা মূলত ভাই বোনের মধুর সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় ও সুরক্ষিত করে শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে|মহাভারত অনুসারে নরকাসুর নামে এক দানবকে বধ করার পর দ্বারকায় ফেরেন কৃষ্ণ। দাদার আগমনে সুভদ্রা বিশেষ পূজা করেছিলেন এবং দাদা কৃষ্ণর কপালে পুজোর তিলক বা ফোঁটা দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন অনেকেই মনে করেন সেই থেকে এই ভাইফোঁটা চালু হয়েছে।ভাই ফোঁটা দেয়ার কিছু শাস্ত্রীয় রীতি নীতি আছে ভাইকে ফোঁটা দেওযার সময় ভাইয়ের মুখ পূর্ব, উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে থাকা উচিত। এই দিনে ভাইকে ফোঁটা দেওয়ার আগে কিছু খাওয়া উচিত নয়।ভাইয়ের কপালে হলুদ বা লাল রঙের তিলক বা ফোঁটা দিন। পাশাপাশি হলুদ ডোর তার ডান হাতে বেঁধে দিতে পারেন এরপর ভাইকে আরতি করে মুখে মধু ও কপালে ফোঁটা দেওয়া হয়। তারপর ভাইকে মিষ্টি খাইয়ে দিন।নিজের ইস্ট দেবের কাছে সুখী জীবন ও দীর্ঘায়ুর প্রার্থনা করুন।বিশেষ কয়েকটি বিধি নিষেধ এই দিন মেনে চলুন|ভাইফোঁটার দিন কপালে ফোঁটা দেওযার আগে দুজনেই কিছু খাবেন না।ভাইফোঁটার দিন ভাই-বোনেরা যেন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করবেন না।ভাইয়ের থেকে পাওয়া উপহার যেমনই হোক না কেন , তাকে ও তার দেওয়া উপহারকে কখনও অসম্মান করবেন না|দিন কোনো রকম কটু কথা বলবেন না।পুজোর সময় কালো কাপড় একেবারেই পরবেন না।পৃথিবীর সব ভাই বোনেদের জানাই ভাই ফোঁটার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন|ফিরে আসবো অন্য কোনো শাস্ত্রীয় ও পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
দামোদর মাসের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
সনাতন ধর্মে শ্রাবন মাস যেমন শিবের মাস তেমনই দামোদর মাস বা কার্তিক মাস বিষ্ণুর মাস|শুরু হয়েছে কার্তিক মাস যা কৃষ্ণর খুব প্রিয়। বলা হয়, কৃষ্ণ যা পছন্দ করতেন তা যদি এই মাসে করা হয় তাহলে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়।আজ আপনাদের দামোদর মাসের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য শোনাবো|দামোদর মাসেই ভীষ্মপঞ্চক ব্রতের কথা বলা হয়। গড়ুরপুরাণে এই ব্রতের কথা বলা হয়েছে। একাদশীর থেকে শুরু হয় এই ব্রতের। তবে কার্তিক মাসের শেষ পাঁচদিন এই ব্রত পালন করলেই হবে। ভীষ্ম যখন শরশয্যায় ছিলেন, তখন তিনি বাসুদেবের কাছে প্রার্থনা করে এই ব্রত পালন করেছিলেন এবং শরশয্যাতেই রাজধর্ম, মোক্ষধর্ম, দানধর্ম কীর্তন করেন। পান্ডবরা তখন ভীষ্মের এই কীর্তন শুনেছিল। এমনকী শ্রীকৃষ্ণও তা শুনেছিলেন।আর ভীষ্মের সেই কীর্তন শুনে কৃষ্ণ মনে মনে বলেছিলেন, ‘হে ভীষ্ম, তুমিই ধন্য; কেননা, তুমি আজ আমাদের শ্রেষ্ঠ ধর্ম শ্রবণ করিয়েছে ‘। শাস্ত্র মতে কার্তিক মাসে এই ব্রত পালন করলে সব মনবাঞ্ছা পূরণ হয়। যার যেটুকু সাধ্য রয়েছে, সেই মতো আরাধনা করলেই কৃষ্ণ খুশি হন।যাদের বাড়িতে গোপাল রয়েছে তাঁরা একদিন গোপালের প্রিয় পদ রান্না করে নিবেদন করুন। যাঁদের আর্থিক সামর্থ রয়েছে তাঁরা যদি কাউকে নতুন বস্ত্রদান করতে পারেন, তাহলেও মনবাঞ্ছা পূরণ হয়। মন খুলে পুজো করুন। সেই সঙ্গে সবার জন্য কিছু না কিছু ভালো করার চেষ্টা করুন। পাঁচদিন ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানোর কথা বলা হয়েছে। সম্ভব হলে প্রতিদিন একটি করে পদ্ম কৃষ্ণকে নিবেদন করুন।এই কার্তিক মাসে যে কারণে মন্দিরে কিংবা তুলসী তলায় সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালার কথা হয়। এছাড়াও বলা হয় এই মাসে মাছ, মাংস, শিম, কলমী শাক, বরবটি, বেগুন, পটল ইত্যাদি বর্জন করতে পারলে ভালো। কার্তিক মাসের শেষ পাঁচদিন নিরামিষ খেতে পারলে খুবই ভালো। নিরামিষ আহারের মধ্যে আতপ চালের ভাত, ঘি, আলু, গোলমরিচ, পাঁকা পেঁপে, কাঁচকলা, মুগ ডাল, বেতো শাক, রাঙা আলু এসব খেতে পারেন। সেই সঙ্গে এই পাঁচদিন বাড়িতে কৃষ্ণ, গোপাল বা বিষ্ণুর আরাধনা করুন। ফল, মিষ্টি আর নারকেল নাড়ু দিয়ে কৃষ্ণের পুজো দিন। যে কোনও একদিন সিন্নি প্রসাদও দিতে পারেন।বহু স্থানে কার্তিক মাসের সংক্রান্তিতে হয় গরুর বিশেষ পুজো। বলা হয় এদিন শ্রীকৃষ্ণ নিজে গোয়াল ঘর দেখতে আসেন। যে কারণে এদিন গোয়াল ঘর পরিস্কার করে গোরুর পুজো করা হয়। নিবেদন করা হয় কৃষ্ণের প্রিয় খাবার|এই মাসে নগরকীর্তনের চল এখনও রয়েছে গ্রাম বাংলায়। শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলার গান গাইতে গাইতে কার্তিক মাসে সকলকে ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন বৈষ্ণব ভক্তরা । এরপর তাঁরা সারা গ্রাম পরিক্রমা করতেন। সেই গানের মধ্যে দিয়েই বর্ণিত হত কৃষ্ণ মাহাত্ম্য। সব দিক দিয়ে তাৎপর্য পূর্ন ও গুরুত্বপূর্ণ দামোদর মাস|