আজ শনিবার |আজ মন্দির রহস্য পর্বে গ্রহ রাজ শনিদেবের চারটি মন্দিরের কথা বলবো যেগুলি ঐতিহাসিক বা পৌরাণিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি জ্যোতিষ শাস্ত্রের দিক দিয়েও গুরুত্বপূর্ণ|প্রথম মন্দিরটি তামিলনাড়ু তাঞ্জাভুর জেলায় এই মন্দির অবস্থিত। দুই নদীর মাঝখানে অবস্থিত এই মন্দির। এখানে শনিদেবের বিশেষ মহিমা রয়েছে । প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এখানে পুজো করলে ব্যক্তি স্বয়ং নিজের রাশি পরিবর্তন করতে পারে। এই মন্দিরে শনির পাশাপাশি শিবের পুজোও করা হয়। এখানে শিব ও শনি এক সঙ্গে নিজের ভক্তদের কল্যাণ করেন।দ্বিতীয় মন্দিরটি মথুরার কোসি কলায় অবস্থিত একটি প্রসিদ্ধ শনি মন্দির যারা চারদিকে জঙ্গল দিয়ে ঘেরা এই মন্দির সম্পর্কে প্রচলিত বিশ্বাস যে, এখানে সাতটি শনিবার সরষের তেল অর্পণ করলে শনি দোষ দূর হয়। উল্লেখ্য, এটি শনির পাশাপাশি গুরু বরখন্ডী বাবারও মন্দির। মনে করা হয় কৃষ্ণ এই স্থানেই কোকিল রূপে শনিকে দর্শন দিয়েছিলেন।পবিত্র এই স্থানে গ্রহ রাজ শনির সঙ্গে শ্রীমতী রাধারানী ও কৃষ্ণের পুজো করা হয়।তৃতীয় মন্দিরটি ছতরপুরে অবস্থিত|এটিও বিখ্যাত একটি পর্যটনস্থল। এখানে শনিদেবের মূর্তি প্রাকৃতিক এবং বিশ্বে শনির সবচেয়ে উঁচু মূর্তি এখানেই আছে । প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী এখানে শনিবার পূজার্চনা করলে শনি প্রদত্ত সব দুখঃ কষ্ট দূর হয়।মন্দিরে কাকের ওপর বিরাজমান শনিদেবের মূর্তি রয়েছে।সারা দেশে বিশেষ করে বাংলায় রহস্যময় মন্দিরের সংখ্যা প্রচুর|ফিরে আসবো অন্য কোনো মন্দির রহস্য নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরান রহস্য – গয়াসুরের কথা
সনাতন ধর্মে যতগুলি পবিত্র তীর্থস্থানের উল্লেখ আছে গয়া তারমধ্যে অন্যতম বিভিন্ন হিন্দুপুরাণে গয়া নগরীর উল্লেখ আছে। রামায়ণে গয়া নগরীর মহিমার বর্ণনা দিয়েছেন স্বয়ং রামচন্দ্র|আজ গয়া নগরীর ইতিহাস ও গয়াসুরের জীবন নিয়ে লিখবো যার নাম অনুসারে গয়ার নাম রাখা হয়েছে|মধ্যযুগে মৌর্য শাসনকালে গয়া সুসম্পন্ন নগরী হিসেবে গয়া প্রতিষ্ঠিত হয়।পরে নন্দ, গুপ্ত, পাল বংশের রাজারা গয়া শাসন করে। এরপর গয়া চলে যায় মোগলদের হাতে।তারও পরে ইংরেজরা এই শহর দখল করে নেয়।পুরাণ অনুযায়ী, নিজের শরীরকে দেবতাদের মতো পবিত্র করার ইচ্ছায় প্রজাপতি ব্রহ্মার তপস্যা করেছিলেন বিষ্ণু ভক্ত গয়াসুর। ব্রহ্মার বরে গয়াসুরকে দর্শন করলেই দর্শনকারী স্বর্গে যেতে পারবেন যার ফলে প্রচুর পাপ এবং অন্যায় করেও শুধুমাত্র গয়াসুরের দর্শন করেই স্বর্গে যেতে শুরু করেন সকলে। দেবতারা বিপদে পড়েন। স্বর্গে ভিড় বাড়তে থাকে। অবশেষে দেবতারা গয়াসুরের কাছে নতুন কোনও পবিত্র স্থানের দাবি করেন। বিষ্ণুর কৌশলে গয়াসুর বলেন তিনি মাটিতে শুয়ে পড়লে তাঁর উপর যেন পবিত্রভূমি তৈরি হয়। গয়াসুরের দেহ প্রায় পাঁচ ক্রোশব্যাপী এক পর্বতে পরিণত হয়। গয়াসুরের ইচ্ছে ছিল, তাঁর শরীরের উপর তৈরি নগরীতে কেউ পিণ্ডদান করলে তিনি যেন স্বর্গে যান। ভগবান বিষ্ণু তাঁর সেই ইচ্ছে পূরণ করেন। এবং পরবর্তী সময়ে সেই পাহাড় ভেঙেই এই প্রাচীন নগরী সৃষ্টি হয়েছিল।গয়ার প্রাচীন নাম বিষ্ণু নগরী। একে জ্ঞান এবং মোক্ষলাভের ভূমি বলেও ডাকা হয়। ফল্গু নদীর তীরে অবস্থিত এই প্রাচীন নগরীতেই নাকি রাজা দশরথের নামে পিণ্ডদান করেছিলেন স্বয়ং রাম সীতা । তারপরেই নাকি রাজা দশরথ স্বর্গে প্রবেশ করতে পারেন। ধর্মীয় বিশ্বাস তারপর থেকেই হিন্দুরা মৃত পূর্ব পুরুষের পিণ্ডদানের জন্য গয়াধামে যান। মহাভারতে গয়াকে বলা হযেছে গয়াপুরী।গয়ায় রয়েছে বোধি বৃক্ষ যে বটগাছের নীচে ভগবান বুদ্ধ পরম জ্ঞান লাভ করেছিল|বর্তমানে মহাবোধি মন্দিরের পিছনেই রয়েছে এই প্রাচীন বৃক্ষ। রয়েছে মুচলিন্দ হ্রদ |বৌদ্ধদের বিশ্বাস, ভগবান বুদ্ধের ধ্যানের সময় ভয়ানক ঝড় ওঠে। ঝড়ের দাপটে বুদ্ধদেবের ধ্যান ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়। সেই সময় মুচলিন্দ সাপ বুদ্ধদেবকে রক্ষা করে। সাপের নামেই হ্রদের নাম হয় মুচলিন্দ হ্রদ।গয়ার খুব কাছেই অবস্থিত নালন্দা, পাটনা, রাজগীর, বৈশালী সহ একাধিক স্থান। ভারতের প্রাচীন ইতিহাসের বহু নিদর্শন রয়েছে সেখানে।সারা দেশে বিশেষ করে বাংলায় ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক স্থানের সংখ্যা প্রচুর|তাদের সাথে জড়িয়ে আছে অসংখ্য কিংবদন্তী এবং অলৌকিক ঘটনা|আবার ফিরে আসবো অন্য কোনো পৌরাণিক স্থানের রহস্য নিয়ে আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন |ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
মন্দির রহস্য – করুনাময়ী কালী মন্দির
টালিগঞ্জ এর করুণাময়ী কালী মন্দিরের কথা আপনাদের আগে বলেছি|আজ মন্দির রহস্য পর্বে আপনাদের জন্য উত্তর বঙ্গের রায় গঞ্জে অবস্থিত বিখ্যাত করুণাময়ী কালী মন্দির নিয়ে লিখবো যে মন্দির ঘিরে আছে অসংখ্য রহস্য ও অলৌকিক ঘটনা|রায় গঞ্জ দিয়ে প্রবাহিত কুলিক নদীর তীরে রায়গঞ্জ বন্দর অবস্থিত| সেখানেই ছোট তিনরাস্তার মোড়ে রয়েছে আদি করুনাময়ী কালী মন্দির। বর্তমান মন্দিরের আনুমানিক বয়স কয়েকশো দুশো বছরের বেশি যদিও পুজো হচ্ছে আরো আগে থেকে । আজও সাধক বামাক্ষ্যাপার উত্তরসূরিরা এই মন্দিরের দায়িত্বে আছেন ।শোনা যায় একদা কুলিক নদী দিয়ে বজরা নিয়ে বাণিজ্যে যেতেন সওদাগরেরা।ব্যবসা-বাণিজ্য করতে যাওয়ার সময় এই মন্দিরে পুজো দিতে যেতেন তারা|বর্তমান সময়ে কুলিক নদীর গতিপথ অনেকটাই সংকীর্ণ|শোনা যায়, প্রায় সাড়ে পাঁচশো বছর আগে এই পুজোর প্রচলন হয়। সিদ্ধিলাভের জন্য পঞ্জাব প্রদেশের এক সাধু হেঁটে এসে কুলিক নদীর তীরে বন্দর এলাকায় একটি গাছের নীচে পঞ্চমুণ্ডি আসন প্রতিষ্ঠা করে সাধনায় বসেন। সিদ্ধিলাভও করেন তিনি। তারপর তিনি চলে যান। সেই থেকেই এই পঞ্চমুণ্ডির বেদিতে কালীপুজো শুরু হয়।জনশ্রুতি আছে যে বেদি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখানে মা হেঁটে বেড়াতেন। রাতে মায়ের পায়ের নূপুরধ্বনি শোনা যেত। দিনাজপুরের তৎকালীন রাজা মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই স্থানে মন্দির নির্মাণ করেন। মন্দির নির্মাণের পর বামাক্ষ্যাপার উত্তরসূরী সাধক জানকীনাথ চট্টোপাধ্যায় ১২১৬ সালে বেনারস থেকে মায়ের কষ্টিপাথরের মূর্তি এনে মন্দিরে স্থাপন করেন। তখন থেকে এই মন্দিরে নিত্যপুজো শুরু হয়।রায়গঞ্জের করুণাময়ী কালী মন্দিরে প্রতিটি অমাবস্যা তিথিতে এবং বিশেষ করে দীপান্বিতা অমাবস্যা তিথিতে তন্ত্র মতে পূজিতা হন মা।আজও কালীপুজোর রাতে নাকি মন্দির থেকে মায়ের পায়ের নুপূরধ্বনি শুনতে পাওয়া যায়। দেবীকে নাকি হেঁটে বেড়াতেও দেখেছেন অনেকে। দীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে কলকাতা সহ অন্যান্য জেলার পাশাপাশি ওডিশা, বিহার, এমনকি বাংলাদেশ থেকেও রায়গঞ্জ বন্দরের প্রসিদ্ধ এই কালীবাড়িতে প্রচুর ভক্ত আসেন। স্থানীয়দের বিশ্বাস আদি মন্দিরের মা কালী খুব জাগ্রত, তাঁর কাছে প্রার্থনা করলেই তা পূরণ হবে।তন্ত্র মতে এখানে দেবীর পুজো হয় তাই পশুবলী দেয়া হয়|তাছাড়া বিশেষ বিশেষ তিথিতে হোম যজ্ঞ ও চন্ডীপাঠ হয়|সারা দেশে বিশেষ করে বাংলায় মন্দিরের সংখ্যা প্রচুর|তাদের সাথে জড়িয়ে আছে অসংখ্য কিংবদন্তী এবং অলৌকিক ঘটনা|আবার ফিরে আসবো অন্য কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
আদি বিনায়ক মন্দিরে রহস্য
ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সিদ্ধিদাতা গণেশের বহু প্রসিদ্ধ মন্দির রয়েছে এবং প্রতিটি মন্দিরে তাঁর মূর্তি গজাননরূপেই স্থাপিত হয়। কিন্তুতামিলনাড়ুর তিরুভারুরের বিখ্যাত আদিবিনায়ক মন্দিরে গণপতির মুখের আদল মানুষের মতো|আজ মন্দির রহস্যর এই পর্বে সেই মন্দিরটি নিয়েই লিখবো |আদি বিনায়ক মন্দিরে গণেশর মুখ মানুষেরমতো হওয়ার কারণ হল|গণেশের গজানন মুখ সৃষ্টি হওয়ার আগে তাঁর মুখ ছিল বাকি সবার মতো স্বাভাবিক অর্থ্যাৎ মানুষের মতো|গণেশ কে এখানে তার আগের রূপেই পূজা করা হয়।বিঘ্নহর্তা গণেশের এই রূপ খুব কমই পুজো করা হয়। এই রূপে গণেশের হাতে রয়েছে একটি কুড়ুল, একটি দড়ি, একটি মোদক ও একটি পদ্ম|আদি বিনায়ক মন্দিরে শুধু শ্রী গণেশই নয়, শিব ও মা সরস্বতীরও পূজা করা হয়। ফলে বহু ভক্ত একযোগে মহাদেব, আদি বিনায়কের সঙ্গে দেবী সরস্বতীর আশীর্বাদ পেতেও এখানে আসেন।আদি বিনায়ক মন্দির বহু প্রাচীন|সম্ভবত রামায়ণের যুগের ও আগের|কারন শোনা যায়ভগবান রাম একবার আদি বিনায়ক মন্দিরে তাঁর পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য পুজো দিয়েছিলেন|আজও বহু মানুষ পিতৃ পুরুষের আত্মার শান্তির জন্য এই মন্দিরে পুজো দিতে আসেন|ভক্তরা বিশ্বাস করেন, মহাগুরু অগস্ত্য স্বয়ং প্রতি ‘সংকষ্টি চতুর্থীতে’ আদি বিনায়কের পূজা করেন। এমনও বিশ্বাস করা হয় যে এখানে গণেশের পূজা করলে পারিবারিক অশান্তি দুর হয় ও পরিবারের শিশুদের বিশেষ ভাবে কল্যান হয়|আগামী পর্বে যথা সময়ে আবার ফিরে আসবো অন্য কোনো মন্দিরের রহস্য ও তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
পুরীর দরিয়া বা বেড়ি হনুমান মন্দিরের রহস্য
বাঙালির বড়ো প্ৰিয় এবং অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থ ক্ষেত্র হচ্ছে শ্রীক্ষেত্র পুরী|আমি নিজে কতবার যে গেছি তার হিসেব নেই |পুরীতে আছে এক অদ্ভুত বজরংবলীর মন্দির যা বেড়ি হনুমান বা দরিয়া হনুমান নামে খ্যাত|আজ মন্দির রহস্য পর্বে সেই বেড়ি মন্দিরের কথাই আপনাদের জন্য লিখছি |যারা পুড়িতে গেছেন তারা নিশ্চই জানেন পুরী ধামে চক্রতীর্থের কাছে বেড়ি হনুমান মন্দির অবস্থিত।শ্রীজগন্নাথদেব হনুমানকে পুরীধাম রক্ষায় নিয়োজিত করেন। কেননা কখনও কখনও সমুদ্রের ঢেউ পুরীতে প্রবেশ করত এবং পুরীবাসীকে ভুগতে হত। সেজন্য জগন্নাথদেব এখানে পাহারায় হনুমানকে নিযুক্ত করেন, যাতে সমুদ্র পুরী শহরে প্রবেশ করতে না পারে।বজরংবলী হনুমান পুরীতে দ্বার রক্ষক এবং জগতের নাথের ইচ্ছায় তিনি শ্রীক্ষেত্রর সুরক্ষার দায়িত্বে আছেন|পুরীর এই মন্দিরে হনুমানের মূর্তি একটি বেড়ি দিয়ে আবদ্ধ করা হয়েছে।তার ও একটি কারন আছে|পুরান অনুসারে একবার হনুমানের অযোধ্যা পরিদর্শনের জন্য ইচ্ছা হল এবং পুরীধাম পাহারার দায়িত্ব ফেলে ঐ স্থান ত্যাগ করে হনুমান অযোধ্যা গেলেন। ফলে সমুদ্রের জল শহরে প্রবেশ করল এবং শহরবাসীর খুব ভোগান্তি হলো । শ্রীজগন্নাথদেব হনুমানকে অযোধ্যা থেকে ফিরিয়ে আনলেন। তাঁকে এখানে বেড়ি দিয়ে আবদ্ধ করে রাখলেন এবং তাঁকে আজ্ঞা দিলেন যে, কখনও যেন সে এই স্থান ছেড়ে না যায় এবং দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করে।বেড়ি দিয়ে বা শৃঙ্খল দিয়ে আবদ্ধ করার জন্য বজরংবলীকে এখানে বেড়ি হনুমান বলা হয়|যেহেতু হনুমান পুরী ধামকে মহাসাগর বা দরিয়া থেকে সুরক্ষিত রাখতে দরিয়ার নিকটে অবস্থান করছে, সেজন্য তিনি দরিয়া হনুমান নামেও খ্যাত।যারা তীর্থ করতে পুরীতে আসেন তারা জগন্নাথ দর্শনের পাশাপাশি বেড়ি হনুমান দর্শন করতে ভোলেন না|আগামী পর্বে যথা সময়ে আবার ফিরে আসবো অন্য কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|পড়তে থাকুন |ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
মন্দির রহস্য – মাটিয়া কালী
আজ মন্দির রহস্য পর্বে আপনাদের জন্য এমন এক কালী পুজো নিয়ে লিখবো যেখানে তথা কথিত মন্দির বলে কিছু নেই আবার মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তি থেকেও নেই|আগাগোড়া পুরোটাই রহস্য দিয়ে ঢাকা|দেবী এখানে মাটিয়া কালী নামে প্রসিদ্ধ|দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কালী মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম কালী মন্দির হল কুশমন্ডি ব্লকের আমিনপুরের ‘মাটিয়া কালী’ মন্দির।দীর্ঘ ৬০০ বছর ধরে এখানে পুজো হয়ে আসছে দেবীর।যে মাটির আসনে পুজো করা হয় তাঁকে সেই মাটিতেই মিলিয়ে যান তিনি। এখানে দেবীর কোনো প্রতিমা নেই। নেই কোনো পাকা মন্দির। তিনি এখানে মাটির বেদীতেই বিরাজমান।স্বাধীনতার আগে ইংরেজদের সঙ্গে যুদ্ধের সময় রটন্তী কালী নামে মায়ের পুজো করে যুদ্ধে জয়লাভ করেছিল জমিদার বংশ। যদিও পরে মাটিতে থাকার কারণে এই রটন্তী কালী এলাকাবাসীর কাছে ‘মা মাটিয়া কালী’ নামে পূজিত হন।পুজোর সূচনা গ্রামের জমিদার যোগেন্দ্রনারায়ণ রায়চৌধুরীর আমলে। ইংরেজ আমলে হরিপুর এস্টেটের জমিদারির দায়িত্ব ছিল তাঁর ওপর। তিনিই একদিন দেবীর স্বপ্নাদেশ পান। মা কালী তাঁকে নির্দেশ দেন, এই গ্রামের মাটিতেই মিশে আছেন তিনি । তাই তিনি এই খোলা আকাশের নীচে মাটির বেদীতেই পুজো নিতে চান। স্বপ্নাদেশ মতো আজও নির্মাণ করা হয়নি কোনো মন্দির। সেই থেকে মাটির বেদীকেই মা কালী রূপে পুজো করে আসছেন গ্রামের লোক|গ্রামের অভিভাবকের আসনে দেবী স্বয়ং তাই গ্রামে যেকোনো শুভ কাজের পূর্বে দেবীর পুজো করা হয় রীতি মেনে|পূর্বে ‘মা মাটিয়া কালীর’ থানের ঈশাণ কোণে ছিল একটি ঘর। যেখানে এক সময় মায়ের সাজগোজের গয়না রাখা হত। তার পাশেই রয়েছে পঞ্চমুখী শিব। যদিও মায়ের পাকা মন্দির নেই তবে পঞ্চমুখী শিবের জন্য মন্দির করা হয়েছে। প্রাচীন রীতি মেনে আজও মাটির থানেই হয় এই পুজো। শোনা যায়, মা মাটিতে থাকার কারণে সেই সময়ে জমিদার পরিবারের সকলে নাকি মাটিতেই ঘুমোতেন।তবে কার্তিক মাসের দীপান্বিতা অমাবস্যায় তাঁর পুজোর সময় তৈরী করা হয় দেবী প্রতিমা যা পরবর্তীতে মাটিতেই বিলীন হয়ে যায়|আগামী পর্বে যথা সময়ে আবার ফিরে আসবো অন্য কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়ের বাড়ির পুজো
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সাড়া জাগানো নাম তারাশঙ্কর বন্দোপাধ্যায়|তবে সাহিত্য চর্চার পাশাপাশি তিনি মাতৃ শক্তির আরাধনাও করেছেনশতাব্দী প্রাচীন বন্দোপাধ্যায় বাড়ির কালী পুজোবেশ কয়েকটি কারনে বৈচিত্রপূর্ন|আজ লিখবো সাধক তারাশঙ্করের পুজো নিয়ে|বীরভূমে রয়েছে একাধিক শক্তি পীঠ যার মধ্যে সতী পীঠের অন্যতম লাভপুরের ফুল্লরা মায়ের মন্দিরে প্রথমে পুজোর পর তারা মায়ের পুজোশুরু হয় তারাশঙ্করের পৈতৃক ভিটেতে। বন্দোপাধ্যায় বাড়ির গৃহ মন্দিরে তারা মা, নীল সরস্বতী রূপে বিরাজমানা।তারাশঙ্করের বাড়ির পুজোয় মা দশ মহাবিদ্যার এক বিদ্যারূপে পূজিত হন। তারাশঙ্করের বংশধর এবং পরিবারের সদস্যরা তো বটেই প্রতি অমাবস্যা এবং বিশেষ বিশেষ তিথিতে রাতের এই পুজোয় অংশ নেন আশেপাশের গ্রাম মিলিয়ে কয়েকশো মানুষ।তারাশঙ্করের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তাদের পূর্ব পুরুষ জমিদার হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন নিঃসন্তান ছিলেন। পরে ফুল্লরা মন্দিরে সাধনা করতে আসা তান্ত্রিক রামজি গোঁসাই হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী প্রভাবতী দেবীকে উপায় বাতলে দেন। নিদান দেন যে, আশ্বিন মাসে দুর্গাদুর্গাপুজো” করতে হবে|নিদান মেনে পুজো সারেন হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী প্রভাবতী দেবী। শোনা যায়, তার পরের বছরই জন্ম হয় তারাশঙ্করের ।তাঁর জন্মের পরই তারা মায়ের মন্দিরের প্রতিষ্ঠা করা হয় লাভপুর গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তের একটি মাঠে। সেই থেকে বছর বছর সেখানে পুজো হয়ে আসছে। আজ পর্যন্ত সেই ধারা অব্যাহত। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এখানে তারা মা, নীল সরস্বতী রূপে পূজিত হন। বর্তমানে মাঠটি তারামা ডাঙা নামে পরিচিত। নামের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই এখানে দেবীর গায়ের রঙ নীল। সারা দেহে জড়ানো থাকে সাপ। প্রতিমার পরনে থাকে বাঘ ছাল, মাথায় গেরুয়া জটা, গলায় মুণ্ডমালা এবং হাতে কৃপাণও থাকে।তারাশঙ্করের লেখায় বার বার ঘুরেফিরে এসেছে এই পুজোর কথা|আজও সন্ধের দিরে পুজো শুরু হলেও, তা চলে মধ্যরাত্রি পর্যন্ত। পুজোর পাশাপাশি চলে হোম-যজ্ঞও। তারাশঙ্কর যত দিনে জীবিত ছিলেন, তিনি পুজো করিয়ে গিয়েছেন নিয়ম করে। তাঁর লেখা ‘গণদেবতা’, ‘ধাত্রীদেবতা’, ‘কবি’-সহ বিভিন্ন উপন্যাসে তারা মায়ের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে বিভিন্ন ভাবে। ফিরে আসবো অন্য কোনো মন্দিরের কথা নিয়ে|সঙ্গে থাকবে আরো অনেক অলৌকিক ঘটনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
সাক্ষী গোপালের অলৌকিক বৃত্তান্ত
যখন কাউকে সাক্ষী রেখে কোনও কাজ করা হয় তখন ব্যবহার করা হয় সাক্ষী গোপাল কথাটি।জানেন কি কে এই সাক্ষী গোপাল? কেনই বা তার এমন অদ্ভূত নাম? আজকের পর্বে জানাবো সাক্ষী গোপালের অলৌকিক বৃত্তান্ত|ভারতের ওড়িশার কটক শহরে রয়েছে সাক্ষী গোপালের একটি মন্দির। সাক্ষী গোপালের এই মন্দিরের সাথে জড়িত আছে অলৌকিক এক ঘটনা যেখান থেকে শুরু হয় এই কিংবদন্তী|শোনা যায় এই মন্দিরের বিগ্রহটি আগে ছিল বৃন্দবনের এক মন্দিরে। সেখান থেকে স্বয়ং ওড়িশার এই স্থানে এসেছিল ওই মূর্তি। আর এই মূর্তির নিজে পায়ে আসার ঘটনাটি ঘিরেই প্রচলিত হয়েছে এক জন্যশ্রুতি । বলা বাহুল্য সেই কাহিনির মাধ্যমেই জন্ম হয়েছে সাক্ষী গোপাল বাগধারাটি।শোনা যায় দক্ষিণ ভারতের এক কুলীন ব্রাহ্মণ সংসারের যাবতীয় দায়িত্ব নিজের ছেলের হাতে তুলে দিয়ে তীর্থদর্শনে বেরিয়ে পড়েন। তীর্থে তীর্থে ঘুরে তিনি মথুরায় এসে পৌঁছন।সেখানে তার সঙ্গে একজন যুবক ব্রাহ্মণের আলাপ হয় একসঙ্গে মিলেই তারা ঘুরে দেখতে থাকেন বৃন্দাবনের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। হঠাৎ করেই ব্রাহ্মণের মনে হয় এমন ছেলে তাঁর কন্যার জন্য একেবারে উপযুক্ত পাত্র। তৎক্ষণাৎ নিজের মনের কথা সেই যুবককে বলেন ব্রাহ্মণ। কিন্তু ব্রাহ্মণত্বের বিচারে সেই যুবক কুলীন ছিল না, তাই প্রাথমিক ভাবে এমন প্রস্তাবে অসম্মতি জানায় ওই যুবক। তার যুক্তি ছিল, এই বিয়ে ব্রাহ্মণ সমাজ কিছুতেই মেনে নেবে না। তখন ওই বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ যুবককে আশ্বস্ত করেন যে এমন কোনও পরিস্থিতি তিনি তৈরি হতে দেবেন না। তখন তাঁরা দুজনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন বৃন্দাবনের এক গোপাল মন্দিরে। ব্রাহ্মণ সেই মন্দিরের দেবতাকে সাক্ষী করে শপথ করেন যে তিনি তাঁর কন্যার বিবাহ ওই যুবকের সঙ্গেই দেবেন। যুবকটিও কিছুদিন সময় চেয়ে নিজের বাড়ি ফিরে যায়।তারপর নিজের গ্রামে পরিবারের কাছে ফিরে আসেন ওই ব্রাহ্মণ। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় সেই পাত্রের পরিচয় সকলে জানার পর। ব্রাহ্মণের নিজের পরিবার সহ সমাজের প্রত্যেকেই এই বিয়ের বিরুদ্ধে একেবারে বেঁকে বসেন। ফলত বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ পড়েন এক ভয়ানক ধর্মসঙ্কটে। একদিকে তাঁর প্রতিজ্ঞাভঙ্গের ভয়, অন্যদিকে সমাজচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা। এমন সময় হঠাৎই সেখানে হাজির হন সেই যুবক। কিন্তু তাঁকে চরম অপমান করে গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেন গ্রামবাসী ও ওই বৃদ্ধের আত্মীয়রা। অপমানিত যুবক গ্রামবাসীদের উদ্দেশে ঘোষণা করেন, যে মন্দিরে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ তাঁকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেই মন্দিরের বিগ্রহকেই তিনি সাক্ষী হিসেবে সকলের সামনে নিয়ে আসবেন।তিনি নিজে দেবেন সাক্ষী|মনের দুঃখে যুবক হাজির হন বৃন্দাবনের সেই গোপালের মন্দিরে। কথিত আছে, সেখানে গিয়ে আকুলভাবে তিনি দেবতাকে জানান তাঁর সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের কথা। সেই ডাকে নাকি সাড়াও দেন স্বয়ং গোপাল। তিনি রাজি হন সাক্ষী দিতে এবং যুবকের কথামতোই পাথরের বিগ্রহ রূপে স্বশরীরে তিনি সাক্ষী দিতে রওনা হন দক্ষিণ ভারতের ওই গ্রামের উদ্দেশে।গোপালের একটি শর্ত ছিলো|যাওয়ার পথে যুবক যেন পিছন ফিরে মূর্তির দিকে না দেখে। পিছনে তাকালেই তিনি থেমে যাবেন ।যুবক শর্ত মেনেই নিতেই শুরু হয় যাত্রা। বেশ খানিকটা পথ যাওয়ার পর ওড়িশার কাছাকাছি একটি গ্রামে এসে যুবকের মনে হয় গোপালের বিগ্রহ আর সঙ্গে আসছেন না। সন্দেহের বশেই একটিবারের জন্য পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখেন|ব্যাস শর্ত অনুসারে গোপাল সেখানেই দাঁড়িয়ে পড়েন।ভগবানের উপর যতক্ষণ ভক্তের বিশ্বাস ছিলো ভগবান তার সাথে ছিলো|বিশ্বাস ভঙ্গ হতেই তিনি আবার পাথরের মূর্তিতে পরিণত হলেন এবং তার গতি স্তব্ধ হলো|তবে এই খবর সর্বত্র রটে যায় এবং বৃন্দাবনের গোপাল মূর্তি এতদূর হেঁটে এসেছেন শুনে পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে দলে দলে মানুষ ওড়িশার ওই গ্রামে জমায়েত হতে থাকেন। খবর পৌঁছায় সেই বৃদ্ধ ব্রাহ্মণের বাড়িতেও। তিনিও সদলবলে সেই গ্রামে উপস্থিত হন।সবাই নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং ব্রাহ্মণকন্যার সঙ্গে সেই যুবকের বিয়ের আয়োজন করেন|দ্রুত এই অলৌকিক ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই গোপালের নামে ওই স্থানে একটি মন্দির বানিয়ে দেওয়া হয়। মন্দিরে স্থাপিত সেই গোপালের বিগ্রহ পরিচিত হয় ‘সাক্ষী গোপাল’ নামে|জন্ম হয় সাক্ষী গোপালের নামে প্রচলিত বিখ্যাত প্রবাদ|আগামী পর্বে আবার কোনো পৌরাণিক বা শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে ফিরে আসবো আপনাদের সামনে পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
মন্দির রহস্য – কনক দুর্গার মন্দির
বহু মন্দিরের ইতিহাস ও অলৌকিক বৃত্তান্ত আপনাদের আগেই বলেছি ধরবাহিক লেখনী গুলির মাধ্যমে| তবে বাংলায় ঐতিহাসিক তথা প্রাচীন মন্দিরের সংখ্যা এতোই বেশি যে সহজে শেষ হওয়ার নয়|আজ বলবো ঝাড় গ্রামের কনক দূর্গা মন্দিরের কথা|চিল্কিগড়ের কনক দুর্গা মন্দির বাংলার প্রাচীন দূর্গা মন্দির গুলির মধ্যে অন্যতম। শোনা যায় এই মন্দিরটি প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো। আজও জশ্রুতি আছে যে একসময় নরবলি হত।যদিও তার ঐতিহাসিক তথ্য প্রমান জোগাড় করা মুশকিল তাই এক্ষেত্রে বিশ্বাস টাই সব|এখনও মোষ বা পাঁঠা বলি হয় বিশেষ রীতি মেনে।বলা হয় এই মন্দিরে নিজেই নিজের ভোগ রান্না করেন দেবী।ভোগের ক্ষেত্রে এখানে বেশ বৈচিত্র এবং অদ্ভুত কিছু রীতি আছে|পুজোর চারদিন দুর্গাদেবীকে হাঁসের ডিম, মাছ পোড়া, শাক ভাজা, পান্তা ভাত দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। অষ্টমীর রাতে মন্দিরে পাতকুয়োর সামনে পাঠা বলি দিয়ে দেবীকে নিবেদন করা হয়। শোনা যায় নিশি রাতে সেই বলি হয়৷ নবমীর অন্নভোগের আগে সেই বলির মাংস নতুন মাটির হাড়িতে সেদ্ধ করে রাখা হয়।নবমীর যজ্ঞের পরে হাড়িতে রাখা বলির মাংস রান্না করে কনক দূর্গার ভোগ নিবেদন করা হয়। একেই পুরোহিতরা বিরাম ভোগ বলেন। অষ্টমী পুজোর পরই রাতের বেলায় জঙ্গলের গভীরে বলির আয়োজন হয়। তিথি-নক্ষত্র মেনেই বলি দেওয়া হয় আর সেটি নিয়ে আসা হয় রাজবাড়ির বিশেষ কক্ষে। এই পুজোতে বাইরের কোনও মানুষের প্রবেশ অধিকার থাকে না। শুধুমাত্র পুরোহিত এবং কয়েকজন সহায়ক থাকেন যাঁরা বংশ পরম্পরা ধরে এই কাজ করে আসছেন।শোনা যায় চিল্কিগড়ে মত্তগজ রাজবংশের গোপীনাথ সিং এই পুজোর প্রতিষ্ঠা করেন। মত্তগজ বংশের পর চিল্কিগড়ের আসেন ধবলদেও সিংহ। তাঁরও আগে ছিলেন ত্রিপাঠি বংশের রাজারা। এঁরা সকলেই ছিলেন শক্তির উপাসক। চিল্কিগড় এলাকা ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ। আজও কান পাতলে শোনা যায় অদ্ভুত সব গা ছম ছম করা কিংবদন্তী শোনা যায়, চিল্কিগড়ের প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীন যে মন্দিরটি রয়েছে তার পশ্চিমপ্রান্তের এক পরিত্যাক্ত দালানে নাকি নরবলি হত। সেই রক্তেই নাকি পূজিতা হতেন কনকদূর্গা।প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এই মন্দির। ঝাড়গ্রাম থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার ডুলুং নদীর তীরে গভীর জঙ্গলে অবস্থিত । এখানকার দেবী অশ্বারোহিনী চতুর্ভূজা। ১৯৬০ সালে আসল মূর্তিটি চুরি হয়ে যায়৷ ১৯৯৬ সালে গোপীনাথের বংশধররা অষ্টধাতুর কনকদুর্গার একটি রেপ্লিকা মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত করেন৷ মন্দির লাগোয়া এলাকায় বিশাল জঙ্গল। পর্যটনের জন্য বেশ ভালো।বহু দুর দুরন্ত থেকে মানুষ আসেন দেবীর দর্শন করতে|ফিরে আসবো অন্য কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
মন্দির রহস্য – দেবী ছিন্নমস্তার মন্দির
ভারতের প্রাচীন রহস্যময় মন্দিরগুলি নিয়ে বিগত দিনে বেশ কয়েকটি লেখা লিখেছি |সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আজ একটি বহু প্রাচীন ছিন্ন মস্তা দেবীর মন্দিরের কথা আপনাদের বলবো|মন্দিরটি অবস্থিত আমাদেরর প্রতিবেশী রাজ্য খন্ডে|বিখ্যাত পরিচক সত্যজিৎ রায়ের ছিন্নমস্তার অভিশাপ গল্পে এই মন্দিরের উল্লেখ আছে যা নিয়ে পরে চলচ্চিত্র ও হয়েছে|ছিন্ন মস্তা মন্দিরটি ৬০০০ বছরের পুরানো|মন্দিরের ভিতরে ছিন্নমস্তিকার দেবীর মূর্তিটি দেখতে আশ্চর্যজনক। পদ্মফুলের উপর তাঁর মূর্তি স্থাপিত। তাঁর তিনটি চোখ রয়েছে। ডান হাতে তলোয়ার আর বাম হাতে দেবী তাঁর নিজের বিচ্ছিন্ন মস্তক ধারণ করছেন। বিপরীত ভঙ্গিতে কামদেব এবং রতি দেবীর পায়ের নীচে শয়ন অবস্থায় উপবিষ্ট। মা দেবীর চুল খোলা ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তিনি একটি সর্প মালা এবং একটি মুণ্ড মালা পরে রয়েছেন। দেবী মা এখানে অলংকারে সুশোভিত। দিগম্বরী রূপেদেবী ছিন্ন মস্তার সুবিশাল আকার বিরাজমান।মন্দিরটি তার তান্ত্রিক স্থাপত্যশৈলীর জন্যও বিখ্যাত। বহু দুর থেকে তান্ত্রিক জ্যোতিষী ও সাধারণ ভক্তরা আসেন মায়ের কাছে কারন জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতে দেবী ছিন্নমস্তাকে রাহু গ্রহের ইষ্ট দেবী হিসেবে দেখা হয়|তার পুজো দিয়ে রাহু কে সন্তুষ্ট করা হয়|পুরান অনুসারে এক বার দেবী আদ্যাশক্তি তাঁর সখী দের সঙ্গে গঙ্গা নদীতে স্নান করতে গেলে তাঁর দুই সখী সেখানে কিছু ক্ষণ কাটানোর পর ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন। দুজনের ক্ষুধা এতই প্রবল যে, দু’জনের গায়ের রং পরিবর্তিত হতে শুরু করে এবং তা কালো হয়ে যায়। তখন তারা দেবী মায়ের কাছে খাবারের জন্য দাবি করতে থাকে। মা তাকে ধৈর্য ধরতে বলল। কিন্তু তারা ক্ষুধার জ্বালায় জ্বলছিল। বন্ধুদের অবস্থা দেখে নিজের মাথা কেটে ফেলেন দেবী মা। তাঁর শিরশ্ছেদ করার সময় নিজের মাথা বাম হাতে পড়ে যায়। সেখান থেকে রক্তের তিনটি স্রোত বইতে শুরু করে। দেবী মা নিজের দুই সঙ্গিনীর পান করার জন্য দু’টি স্রোত প্রদান করেন এবং তিনি নিজেই অবশিষ্ট স্রোত থেকে রক্ত পান করতে শুরু করেছিলেন।তার এই রূপই ছিন্নমস্তা নামে পরিচিত|শত্রুদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করার জন্য ছিন্নমস্তা দেবীর বিশেষ পূজা করা হয়। এখানে মায়ের রূপ উগ্র।তন্ত্র মতে পুজো হয়|ভক্তরা দেবী ছিন্নমস্তিকার কাছে বলি দান এবং তন্ত্র সাধনার মাধ্যমে নিজেদের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন।ফিরে আসবো এমনই কোনো রহস্যময় প্রাচীন মন্দিরের কথা নিয়ে|আগামী পর্বে |পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|