মৌনী অমাবস্যা

264

নমস্কার আমি পন্ডিত ভৃগুর শ্রী জাতক|শুরু করছি আজকের বিশেষ পর্ব|আর কয়েকটা দিন পরই মৌনী অমাবস্যা, আমাদের তন্ত্র ও জ্যোতিষ জগতে এই মৌনী অমাবস্যা একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে যুগ যুগ ধরে|আজ আপনাদের জানাবো মৌনী অমাবস্যার প্রকৃত অর্থ ও এর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য|

সাধারন ভাবে মাঘ মাসের অমাবস্যা তিথিকে মৌনী অমাবস্যা বলা হয়|মৌনী অমাবস্যা হলো মকর সংক্রান্তির পরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন র্তিথি আবার অন্যদিক দিয়ে দেখলে মহা শিব রাত্রির আগের শেষ অমাবস্যাই হলো মৌনী অমাবস্যা ৷ অর্থাৎ মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের অমাবস্যাই মৌনী অমাবস্যা এই তিথিতেই জন্মে ছিলেন মহান ঋষি মনু বলা হয় ঋষি মনুর নাম থেকেই মৌনী অমাবস্যা নামকরন|শাস্ত্র মতে মৌনী অমাবস্যার এই বিশেষ দিনেই সূচনা হয়েছিল দ্বাপর যুগের|

সংস্কৃতে মৌন শব্দের অর্থ হলো “যে কথা বলতে বা শব্দ উচ্চারণ করতে পারে না অর্থাৎ যে চুপ অর্থাৎ নিস্তব্ধ অবস্থায় থাকে ” অন্যদিকে নিঃশ্বব্দ কথার অর্থ হলো” বিশ্বভ্রমান্ডের নিঃসীম শুন্যতাকে যদি জানতে হয় এবং ঈশ্বরের স্বরূপ যদি অন্তরে উপলব্ধি করতে হয় তবে হতে হবে মৌন|এই উদ্দেশ্যে মৌনী অমাবস্যার এই তিথিতে সাধকেরা মৌনব্রত পালন করে থাকেন শাশ্বত জ্ঞানকে উপলব্ধি করতে প্রকৃত সাধক এই তিথিতে মৌন ব্রত পালনের মাধ্যমে কুন্ডলিনী জাগ্রত করতে পারেন এবং অসীম শক্তির অধিকারী হতে পারেন তাই যুগ যুগ ধরে তন্ত্র সাধনার ক্ষেত্রে মৌনী অমাবস্যা একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে|

জ্যোতিষ শাস্ত্রে এই দিন টির আলাদা তাৎপর্য আছে, এদিন সূর্য ও চন্দ্র মকর রাশিতে অবস্থান করে ৷প্রায় একমাস ধরে সূর্য এই অবস্থানে থাকে এবং অন্যদিকে চাঁদ থাকে আড়াই দিন|চন্দ্র ও সূর্যের এই অবস্থান ও রাশি পরিবর্তন মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে নানান ভাবে|

আধ্যাত্মিক দৃষ্টি ভঙ্গি থেকে এই মৌনী অমাবস্যার পূণ্য তিথিতে মৌনব্রত পালন করলে জীবনের সব আকাঙ্খা, মোহ এবং ইন্দ্রিয়কে নিজের অধীনে রাখা যায় এমনকি এই তিথিকে সঠিক ভাবে কাজে লাগালে একজন সাধক জন্ম মৃত্যুর আবর্ত থেকে মুক্তি লাভ করে মোক্ষ লাভ ও করতে পারেন|

বহু মানুষের বিশ্বাস এই তিথিতে স্বর্গের দেবতারা নেমে আসেন মর্তে এবং প্রয়াগরাজের গঙ্গা-যমুনা-স্বরস্বতীর মিলনস্থল ত্রিবেনীসঙ্গমে পূণ্য স্নান করেন|

নিজেদের কর্মফল থেকে মুক্তি লাভের আশায় ত্রিবেনী সহ দেশের বিভিন্ন নদী সঙ্গমে স্নান করেন লক্ষ লক্ষ মানুষ|মাঘ মাসে পবিত্র গঙ্গা বা অন্য নদীতে স্নান করা মানেই শুভ। কিন্তু মনে করা হয়, মৌনী অমাবস্যায় এই স্নানের মাহাত্ম্য ও গুণ আরও অনেক বেশি। জ্যোতিষীদের মতে, মৌন ব্রত পালন করে, অমাবস্যায় যদি গঙ্গা স্নান করা যায় তাহলে মানব জীবনের বহু জন্মের পাপ ধুয়ে যায়|এদিন নৈঃশব্দ্য পালন করলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায় এবং রোগমুক্তি ঘটে|

এই বছর ১১ ফেব্রুয়ারি পড়েছে এই বিশেষ তিথি|১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২.৪৩ মিনিট থেকে, ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ১২.১২ মিনিট পর্যন্ত অমাবস্যা তিথি থাকবে|এর মধ্যেই রয়েছে রটন্তী অমাবস্যা ও কালী পূজা|এই গুরুত্বপূর্ণ তিথিকে আপনারাও চাইলে কাজে লাগাতে পারেন সেক্ষেত্রে মেনে চলতে হবে কয়েকটি শাস্ত্রীয় নিয়ম|

যারা গঙ্গা স্নান করবেন তারা প্রথমে কপালে পবিত্র জল ঠেকিয়ে উপাসনা করুন এবং তারপরে সম্পূর্ণ স্নান করুন। সর্বদা পরিষ্কার বস্ত্র পরে সূর্য দেবতাকে তিল ও জল উৎসর্গ করুন। এবারে মন্ত্র জব করে আপনার সামর্থ্য মতো দান করুন।

এই দিন উপোস চলাকালীন মৌনতা পালন করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।নির্জলা উপোস রাখতে না পারলে, শুধুমাত্র ফল ও জল খেলেও এই দিন উপোস রাখা যায়|

এই অমাবস্যা তিথিতে নেশা থেকে দুরে থাকুন, কাউকে কুকথা বলবেন না, যথা সম্ভব সৎ চিন্তায় নিজেকে নিয়োজিত রাখুন, পবিত্র দেহ ও মনে ঈশ্বরকে স্মরণ করুন এবং পারলে দরিদ্র মানুষকে কিছু দান করুন|

সব শেষে বলবো যার জ্যোতিষ শাস্ত্রে আস্থা রাখেন ও নিজেদের জীবনের গ্রহগত কুপ্রভাব কে দূর করে জীবনে সফল হতে চান তারা এই তিথিকে চাইলে কাজে লাগাতে পারেন|শাস্ত্র মতে তন্ত্র ক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রহ দশ খণ্ডনের জন্যে এই মৌনী অমাবস্যা একটি প্রসস্থ তিথি|এই দিন আপনাদের মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের উদ্দেশ্যে বিশেষ পুজো পাঠের আয়োজন করা হয়েছে|যোগদানের জন্যে যোগাযোগ করতে পারেন আমার সাথে|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|