হাজার হাত কালী

605

মাঘী পূর্ণিমার ব্যস্ততা কাটিয়ে আবার ফিরে এলাম কলকাতার কালীর একটি নতুন পর্ব নিয়ে|কিছুদিন পরই মৌনী অমাবস্যা তারপর রটন্তী অমাবস্যা, অর্থাৎ সব মিলিয়ে শক্তি সাধনার আদর্শ সময়|কলকাতার কিছু বিখ্যাত কালী মন্দিরের গল্প আপনাদের আগেই বলেছি, জেলার কয়েকটি প্রসিদ্ধ ও প্রাচীন কালী মন্দিরে কথাও বলেছি, এই পরম্পরা কে আরেকটু এগিয়ে নিয়ে যাবো আজ|আজকের পর্বে হাওড়ায় অবস্থিত হাজার হাত কালীর মন্দির|

দেবী কালীর এই রূপটি খুব একটা জনপ্রিয় বা পরিচিত রুপ নয়, এই রূপ খুব কম কালী মন্দিরেই রয়েছে, তবে শাস্ত্রে এই রূপের উল্লেখ রয়েছে|
চণ্ডীপুরাণের ২২তম অধ্যায়ে কালীর এই রূপের কথা উল্লেখ আছে|চণ্ডীপুরাণ অনুযায়ী, অসুর বধের সময় দেবী দুর্গা অনেক রূপ ধারন করেছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম হাজার হাতের রূপ। কাত্যায়নী, মহামায়ার পরেই অসুর নিধন করতে আসেন হাজার হাত রূপী মা কালী|দেবীর এই রূপই দেখা যায় হাওড়ার শিব পুরের এই বিশেষ মন্দিরে|

মন্দিরের প্রতিষ্টা নিয়েও একটি লোককথা প্রচলিত আছে, শোনা যায় স্থানীয় মুখোপাধ্য়ায় বাড়ির ছেলে তান্ত্রিক আশুতোষ মুখোপাধ্য়ায় মা চণ্ডীর স্বপ্না দেশে কালীর এই রূপ দেখতে পান এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা করে দেবীর এই রূপের পুজো করতে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন|কিন্তু এই মন্দির নির্মাণের বিপুল ব্যয় ভার বহন করার সাধ্য ছিলোনা তান্ত্রিক আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বা তার পরিবারের|তবে স্বয়ং দেবী যার সহায় তার আর চিন্তা কি! আশুতোষ মুখোপাধ্য়ায়ের এই ইচ্ছাপূরণের জন্য এগিয়ে আসেন স্থানীয় ধনী হালদার পরিবার এবং তাদের চেষ্টায় 1870 সালে স্থাপিত হয় এই মন্দির এবং দেবীর এই বিশেষ রূপ এখানে প্রতিষ্টিত হয়|

এই কালী মন্দির দক্ষিণ ভারতীয়দের মধ্যে বিশেষ ভাবে জনপ্রিয়, তার একটা কারন আছে, একটা ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়, শোনা যায়, প্রায় ৬০ বছর আগে শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের এক শুক্রবার দক্ষিণ ভারতের বাসিন্দা জনৈক কৃষ্ণা সুব্রহ্মণ্যম এই মন্দিরে এসেছিলেন। তখন তিনি দৃষ্টিহীন। হাজার-হাত কালীর কাছে দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রার্থনা করেন|অলৌকিক ভাবে এক বছরের মধ্যে তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান। তার পর থেকে তিনি মায়ের মাহাত্ম্য প্রচার শুরু করেন দক্ষিণ ভারত জুড়ে। এখন প্রচুর দক্ষিণ ভারতীয় মানুষ শ্রাবণে শুক্লপক্ষের শুক্রবারে পুজো দেন এই হাজার হাত কালীর মন্দিরে|

এই রূপে দেবী নীল বর্ণা, বাহন সিংহের উপর তাঁর ডান পা|এখানে দেবী পূজিত হন তন্ত্র মতে তবে বলী প্রথা এখানে নেই এবং প্রাচীন প্রথা মেনে আজ ও মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরা এখানে পুজো করে আসছেন|দৈনন্দিন পুজোর পাশাপাশি বুদ্ধ পূর্ণিমা ও দীপাবলিতে এখানে বিশেষ পুজো হয় ও সেই উপলক্ষে ব্যাপক জনসমাগম হয়|

আজ এখানেই শেষ করছি, আবার ফিরবো পরের পর্বে নতুন কোনো কালী মন্দিরের কথা নিয়ে, যারা আগামী গুরুত্বপূর্ণ তিথি গুলিতে জ্যোতিষ প্রতিকারের কথা ভাবছেন দ্বিধা না করে যোগাযোগ করবেন আমার সাথে এবং যারা ভাগ্যবিচার ও জ্যোতিষ পরামর্শর জন্যে সাক্ষাৎ চান, উল্লেখিত নাম্বারে ফোন করে জেনে নেবেন আমাকে কবে কখন ও কোথায় পাবেন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|