Home Blog Page 100

মন্দির রহস্য – যে মন্দিরে আছে গণেশের মাথা

সিদ্ধিদাতা গণেশের জন্ম, তার বিবাহ ও শিরোচ্ছেদ নিয়ে আগে আলোচনা করেছি কিন্তু আজ বলবো তার জীবনের সব থেকে রহস্যময় দিক নিয়ে|তার মাথা ধর থেকে আলাদা হওয়ায় পরে কোথায় গেলো তা সত্যি এক রহস্য|আদি বিনায়ক মন্দিরে গণেশের যে আদি রূপ আছেসেই রূপে তার যে মাথা আমরা দেখতে পাই মাথা নাকি এই মর্তেরই এক মন্দিরে আছে|সে বিষয়ে লেখার আগে আসুন দেখে নিই এনিয়ে শাস্ত্রে কি বলা আছে|পার্বতীর ইচ্ছায় জন্ম হয়েছিল গণেশের। এরপর পার্বতী গনেশকে কৈলাসের দ্বার পাল হিসেবে নিযুক্ত করেন। গণেশ শিবকে কৈলাসে ঢুকতে বাধা দেন। একে অপরের পরিচয় না জেনেই যুদ্ধ শুরু হয়। আর শিব গণেশের মাথা কেটে দেন। এরপর পার্বতীকে শান্ত করতে তিনি হাতির মুন্ড গণেশের ধড়ে স্থাপন করেন‌।শিব পুরাণ পড়লে জানা যায় মস্তক ছিন্ন করার পরে তা অপ্সরাগণ নিয়েছিলেন কিন্তু তারপর তা কোথায় গেল তার শিব পুরাণে বলা নেই।আবার”ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণের” ‘গণপতি খন্ডে’ উল্লেখ আছে গণেশের মুন্ড গোলকধাম এ চলে যায় শ্রী হরির কাছে। আর শ্রী হরির দেহের সঙ্গে সেই মস্তক মিশে যায়। গনপতি শ্রী হরির আরেক অংশ। তাই শ্রী হরির এই তেজ অর্থাৎ গণেশের কাটা মুন্ডু শ্রী হরির শরীরেই মিশে গেল।তারপর গণেশের শরীরে হাতির মুন্ড স্থাপন হলো। তবে লৌকিক মতে গণেশের কেটে যাওয়া মনুষ্য মুণ্ডটি কোথায় তা নিয়ে আছে একটি আলাদা ব্যাখ্যা আছে|প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী ভারতের উত্তরাখণ্ডের পাতাল ভুবনেশ্বর মন্দিরে আছে গণেশের কেটে যাওয়া মুন্ড আর সেই মুন্ড স্বয়ং পাহারা দিচ্ছেন দেবাদিদেব মহাদেব।উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড় থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে ভূবণেশ্বর গ্রাম‌। এই ভুবনেশ্বর মন্দিরের ভূগর্ভে একাধিক গুহা রয়েছে। আর এই একাধিক গুহা গুলি একটি জায়গায় গিয়ে মিলিত হয়েছে।জনশ্রুতি অনুযায়ী এই সকল গুহার মিলনস্থলে যে উঁচু পাথরের ঢিবিটি রয়েছে সেটি গণেশের মনুষ্য মুন্ড।বলা হয় এই মন্দিরে একজন মানুষ একবারই প্রবেশ করতে পারেন। তাই কোন মানুষ যদি এই মন্দিরের শ্রী গণেশের চ্ছেদ করা মুন্ড রাখার মূল স্থলে না গিয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে আসেন তাকে আর ওই মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয় না।আবার এমনটাও বলা হয় যে এই মন্দিরের গুহার দেওয়াল ধরে হাঁটলে পূণ্য অর্জন হয়। এই মন্দিরের গুহার দেওয়াল ধরে হাঁটলে দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়‌। সরযু, রামগঙ্গা ও গুপ্তগঙ্গার মিলনস্থলে গড়ে উঠেছে এই মন্দির। এই মন্দির প্রদক্ষিণ করলে পাপ ক্ষয় হয়। শুদ্ধ মনে ভক্তি সহকারে এই মন্দির দর্শন করলে গণেশের কৃপায় সকল বিঘ্ন কেটে যায় বলেও অনেকে বিশ্বাস করেন|বাকি আছে অনেক রহস্যময় মন্দিরের কথাপরের পর্বে আবার এমনই কোনো রহস্যময় মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কোচ বিহারে বানেশ্বর শিব মন্দির দর্শন

গত কাল কোচ বিহার রাজবাড়ি ও বিখ্যাত মদন মোহন মন্দির দর্শনের অভিজ্ঞতা আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলাম|কথা দিয়েছিলাম আজ বানেশ্বর মন্দির দর্শনের অভিজ্ঞতাও যথা সময়ে আপনাদের সাথে আবার ভাগ করে নেবো,আজ সকালেই শীতের মিঠে রোদ গায়ে মেখে, উত্তরের ঠান্ডা হাওয়ার স্পর্শ উপেক্ষা করে হাজির হয়েছিলাম বানেশ্বর মহাদেবের মন্দিরে, অদ্ভুত অভিজ্ঞতা হলো|জানলাম অনেক তথ্য, দেখলাম অনেক কিছু – কোচ বিহারের আদি শাসক বংশ, অর্থাৎ কোচ রাজারা ছিলো বেজায় ধার্মিক ও পরম শিব ভক্ত যদিও কৃষ্ণ তাদের আরাধ্য তবু অন্যান্য দেব দেবীদের মূর্তিও তৈরি করিয়েছিলেন সারা রাজ্য জুড়ে, তাদের আমলের মন্দির গুলির মধ্যে অন্যতম একটি মন্দির হল ‘বানেশ্বর শিব মন্দির’। বানেশ্বর রূপে ভগবান শিব এখানে পূজিত হয়ে আসছেন বহুদিন ধরে।যদিও মন্দির প্রতিষ্টার সঠিক দিন ক্ষণ পাওয়া যায়না তবে কোচবিহারের প্রবীণ মানুষেরা মনে করেন। কোচ রাজবংশের মহারাজা নরা নারায়ণ এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার পরবর্তীকালে কোচবিহার রাজ্যের মহারাজা প্রাণ নারায়ণ এটিকে সংস্কার করেছিলেন এবং নব রূপ দিয়েছিলেন|বানেশ্বর মন্দিরের প্রধান দালান থেকে ১০ ফুট নীচে, মন্দিররের গর্ভগৃহে রয়েছে আদি বানেশ্বর ‘শিব লিঙ্গ’ প্রধান মন্দিরের ডানদিকে সিমেন্টের তৈরি একটি নন্দী মূর্তি রয়েছে। মন্দিরের উত্তর দিকে একটি চালাঘরে শিব ও অর্ধনারীশ্বরের মূর্তি রয়েছে। অন্যান্য দিকে একটি কালী মূর্তি সহ আরও কিছু দেব দেবীর মূর্তিও রয়েছে।মন্দিরের সব থেকে বড় উৎসব শিব চতুর্দশীর সময় একটি সপ্তাহব্যাপী মেলা বসে এই মন্দির এলাকায়।তাছাড়া প্রতিদিনই পুজো হয় এবং বহু দর্শণার্থী আসেন পুজো দিতে|প্রতিদিন সকাল ৮-টায় খুলে দেওয়া হয় মন্দির প্রাঙ্গণ। এবং মন্দির বন্ধ করা হয় রাত ৮-টার সময়|দুপুরে মন্দিরে ভোগ আরতী করা হয়। এবং সন্ধ্যে বেলায় সন্ধ্যে আরতি করা হয় ৬-টার সময়।কথিত আছে এই বানেশ্বর মন্দিরে মানসিক রোগীদের নিয়ে এলে ও পুজো দিলে তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে যান|কথায় বলে বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহু দূর|আর বাবা মহাদেবের কৃপায় সবই সম্ভব|তাই সেই উদ্দেশ্যেও আসেন অনেকেই|বানেশ্বর মন্দিরের ঠিক পাশেই রয়েছে একটি বড় জলাশয় যেখানে অনেকগুলি কৃষ্ণ বর্নের বিরল প্রজাতির কচ্ছপ আছে। এই কচ্ছপ গুলি স্থানীয়ভাবে ‘মোহন’ নামে পরিচিত। এখানে এদেরকে খুব পবিত্র মনে করা হয় এবং এদের পুজোও করা হয়। আগে পুকুরের ঘাটের কাছে গিয়ে মোহন বলে ডাক দিলে দেখা পাওয়া যেত এদের।যুগ যুগ ধরে এই প্রাণী গুলি রয়েছে এই পুকুরে|কবে এবং কোথাথেকে তারা এই পুকুরে এলো সেই প্রশ্নের উত্তর অজানা|তবে তারা কোচবিহারের বহু ইতিহাস ও বহু রাজনৈতিক এবং সামাজিক উত্থান পতনের নীরব সাক্ষী|বর্তমানে পুকুরটি ঘিরে দেওয়া হয়েছে তবুওদূর থেকেও কচ্ছপ গুলি দেখতে পাওয়া যায় মাঝে মাঝে।তাদের দর্শন পাওয়া সৌভাগ্যর ব্যাপারবলে মনে করা হয়|সব দেখে ও শুনে আমি অভিভূত|আশা করি আপনাদের ও ভালো লাগলো এই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা|আবার আসবো সুযোগ পেলে|সঙ্গে থাকুন|পরবর্তী যাত্রা যেখানেই হোক সে অভিজ্ঞতা নিয়েও লিখবো যথা সময়ে|পড়তে থাকুন|জানান আপনাদের মতামত|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কোচবিহার ভ্রমণ ও মদনমোহন মন্দির দর্শন 

বর্তমানে রয়েছি কোচবিহারে, যদিও আগেও এসেছি উত্তর বঙ্গের এই ঐতিহাসিক এবং স্থাপত্য শিল্পের অন্যতম প্রাণকেন্দ্রে, তবে এবারেরআসা টা একটু আলাদা|শীতের আমেজ গায়ে মেখে, অদ্ভুত সব ঐতিহাসিক নিদর্শন ও ধর্মীয় স্থান গুলি ঘুরে দেখতে বেশ লাগছে… আরো ভালো লাগবে এই অভিজ্ঞতা আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে পারলে, তাই অবসরে একটু লেখা লেখিতে মন দিলাম…..প্রথমে কোচ বিহারের ইতিহাসটা সংক্ষেপে বলে নিই তাহলে বাকিটা পড়তে আপনাদের আরো ভালো লাগবে -এককালে কামরূপ রাজ্যের অন্তর্গত ছিল এই কোচবিহার জেলা। বলা হয়, এই স্থানে কোচ বংশ প্রায় ৫০০ বছর শাসনকার্য চালায়। ১৫৩০ সালে কোচ বংশের রাজা বিশ্ব সিংহ এই কোচবিহারে এসে শাসন শুরু করেন। তারপর তাঁর ছেলে নরনারায়ণ এই রাজ্যকে বহুদূর বিস্তৃতি দেন।কোচ রাজাদের নাম অনুসারেই এই স্থানের নাম হয় কোচ বিহার, ১৭৭২ সালে ভুটানের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে কোচবিহার রাজ ধৈর্জেন্দ্র নারায়ণ ও ওয়ারেন হেস্টিংস-এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়|যার ফলে কোচ বিহার ব্রিটিশ শাসনের অধীনে চলে যায়|পরবর্তীতে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর, অল্প কিছু ভৌগোলিক রাজনৈতিক জটিলতা অতিক্রম করে কোচ বিহার ভারত তথা বাংলার অন্তরভুক্ত হয়|কোচ বিহার বরাবরই ঐতিহাসিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রচিন নগরী, সপ্তদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে রচিত ‘শাহজাহাননামা’ গ্রন্থে কোচবিহার নামটি উল্লেখ রয়েছে।প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় জয়পুরের বিখ্যাত মহারানী গায়েত্রী দেবী এই কোচ রাজবংশের কন্যা।যার জীবন হয়তো আপনারা আর কদিন পরে রুপোলি পর্দায় দেখতে পাবেন|যারা সত্যজিৎ রায়ের রয়াল বেঙ্গল রহস্য দেখেছেন তারা হয়তো কোচ রাজ্যের বা কোচ বিহারের ইতিহাস সম্পর্কে প্রাথমিক কিছু তথ্য জানেন|কোচ বিহার বেড়াতে গেলে সবাই কোচবিহার রাজবাড়ি দেখতে যান, আমিও ব্যাতিক্রমী নই, চলুন এবার কোচবিহার রাজবাড়ি নিয়ে কিছু তথ্য জেনে নেয়া যাক|কোচবিহার রাজবাড়ি ১৮৮৭ সালে মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ-এর রাজত্বকালে তৈরি হয়। ভিক্টর জুবিলী প্যালেস’ নামেও পরিচিত এই রাজবাড়ি|লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেসের আদলে এই রাজবাড়িটি নির্মিত|ভিতরে একটি ছোট্ট সুন্দর সুসজ্জিত উদ্যান রয়েছে এবং একটি পুকুর রয়েছে। যেখানে মাছ ছাড়াও কচ্ছপ দেখা যায়।রাজবাড়ি চত্বরে প্রবেশ করলে মনে হতে পারে আপনি টাইম মেশিনে চড়ে চলে গেছেন সুদূর অতীতের গৌরবময় এক সময়ে|প্রাসাদের মোট আয়তন ৫১,০০০ বর্গফুট। মূল কাঠামো ৩৯৫ ফুট লম্বা এবং ২৯৬ ফুট চওড়া। গোটা স্থাপত্য জুড়ে ইউরোপীয় রেনেসাঁস শৈলীর প্রভাব। প্রসাধন ঘর, শোয়ার ঘর, বসার ঘর, খাওয়ার ঘর, বিলিয়ার্ড ঘর, গ্রন্থাগার, তোষাখানা – এগুলোও দেখার মতো।না দেখলে কিন্তু আফসোস থেকে যাবে|কোচ বিহার রাজবাড়ি আর মদন মোহন মন্দির প্রায় সমার্থক শব্দে পরিণত হয়েছে যা আজ গোটা বাংলার মানুষের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থ ক্ষেত্র বলা যায়|বিশেষ করে রাস পূর্ণিমার সময়ে|শোনা যায় যে কোচবিহারের দ্বিতীয় মহারাজা বিক্রমাদিত্য নর নারায়ণ অসমের বৈষ্ণব ধর্মগুরু শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের নির্দেশানুসারে বংশীধারীর অষ্টধাতুর বিগ্রহ তৈরী করিয়েছিলেন যা পরবর্তীতে মদন মোহন নামে জগৎ প্রসিদ্ধ হয়|মদন মোহন মন্দিরে রাজপরিবারের কূলদেবতার বিগ্রহ সহ অন্যান্য দেবদেবীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মন্দিরের মোট পাঁচটি কক্ষ রয়েছে। একেক কক্ষে একেক দেবীর বিগ্রহ|রাজনৈতিক কারনে যখনই কোচ রাজারা নিজেদের রাজধানী স্থানান্তরিত করতেন, তখনই তাদের গৃহদেবতা শ্রী শ্রী মদনমোহন ঠাকুরেরও স্থান পরিবর্তন হত।তবে তবে বর্তমানে সেই রাজাও নেই রাজত্বও নেই, নেই সেই সাম্রাজ্যবাদের টানাপোড়েন, হানাহানি, তাই বহুকাল এই মদন মহন মন্দিরেই আছেন বংশীধারী|তার দর্শন দেহে মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক পরিপূর্ণতা দেয়|আজ আমি নিজে অনুভব করলাম|চেষ্টা করলাম আপনাদের সাথেও ভাগ করে নিতে|শেষ করার আগে কোচ বিহারের বিখ্যাত রাস মেলা সম্পর্কে দুচার কথা না বললেই নয়, বর্তমানে এই মেলা আর শুধুমাত্র ধর্মীয় গন্ডীতে আবদ্ধ নেই, বরঞ্চ সামাজিক মিলন উৎসবে পরিনত হয়েছে , মেলায় একদিকে যেমন নানারকমের মনোহারি দোকান আসে, তেমনই থাকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন। মন্দির চত্বরে নানারকম ভক্তিমূলক গান, পাঠ, কীর্তন প্রভৃতির ব্যবস্থা থাকে।সারা রাজ্য থেকেই প্রায় আসেন দর্শণার্থীরা|রাসের সময় আসতে পারেন সুযোগ পেলে|আগামী কাল যাওয়ার ইচ্ছে আছে কোচবিহারের বিখ্যাত বানেশ্বর মন্দিরে|তার গল্প ও ইতিহাস যথা সময়ে আবার ভাগ করে নেবো সঙ্গে থাকবে আমার অভিজ্ঞতা|পড়তে থাকুন|সঙ্গে থাকুন|ধন্যবাদ|


                

মন্দির রহস্য – বড়ো কাছারি মন্দিরের রহস্য

আজ বাংলার এক বিখ্যাত ও একইসাথে রহস্যময় শৈব তীর্থ নিয়ে আলোচনা লিখবো যা বড়ো কাছারি শিব মন্দির নামেই জগৎ প্রসিদ্ধ| দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিষ্ণুপুর থানার বাখরাহাটে অবস্থিত বড়কাছারি|এক সময়ে আজকের বাখরাহাট সংলগ্ন এলাকা ছিলো ঘন জঙ্গলে ঢাকা, এখানেই বাস করতেন এক সাধু, শোনা যায় স্থানীয় অধিবাসীদের সকল বিপদ থেকে রক্ষা করতেন ওই সাধু, তার মৃত্যুর পর তার মরদেহ না পুডিয়ে সেই শশ্মানে সমাধিস্থ করে ভক্তগণ। পরে সেই সমাধিক্ষেত্র হতে এক অশ্বত্থ গাছ জন্মায় এবং ওই স্থানে স্থাপন করা হয় এক শিবলিঙ্গ, স্থানটি ক্রমশঃ সর্বত্র বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং দূর দূর থেকে মানুষ আসতে থাকেন পুজো দিতে| কেনো বড়ো কাছারি নাম হলো সে নিয়েও এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে|কাছাড়ি মানে যেখানে বিচার সভা বসে এবং কর্ম ফল অনুসারে শাস্তি বা পুরুস্কার ঘোষণা হয়| জনশ্রুতি অনুসারে এই শশ্মানে নাকি গভীর রাতে স্বয়ং শিবশম্ভু ভূতনাথ বেশে বিচার সভা বসাতেন। সেকারণে স্থানটিকে অনেকে এখনো ভূতের কাছারিও বলেন। আর যেহেতু সে বিচার ভূতনাথরূপী শিবের দরবারে হতো তাই তাঁর বিচারই সর্বশ্রেষ্ঠ তাই সব কাছারির উর্ধে এই কাছারি ও তার বিচার তাই বড়ো কাছারি নামেই পরিচিত হয়েছে এই স্থান| প্রতি শনি ও মঙ্গলবার বেশ ধুমধাম সহ পূজা হয় এখানে, শিব রাত্রিতে ও বিশেষ বিশেষ তিথিতে ব্যাপক জনসমাগম হয়, দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা আসেন বাবার মাথায় জল ঢালতে|ভক্তরা এক ছোট্ট কাগজে তাদের প্রার্থনা দরখাস্তের আকার লিখে মন্দিরের গায়ে বেঁধে দেন|শোনা যায় এখানে করা কোনো প্রার্থনাই নাকি বিফলে যায় না| পরের পর্বে আবার এমনই কোনো রহস্যময় মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – শিঙ্গাপুর শনি দেবের মন্দিরের রহস্য

আজ মন্দির রহস্যর এই পর্বে লিখবো একটি রহস্যময় গ্রাম নিয়ে যে গ্রামের দিন-রাত ২৪ ঘন্টা সবার ঘরের দরজা খোলা থাকে। ‘খোলা থাকে’ বললেও কিঞ্চিত ভুল হবে, কেননা সেই গ্রামের ঘর-বাড়ির দরজাতে কপাটই নেই; মানে চাইলেও দরজা বন্ধ করার সুযোগ নেই।সেখানেই রহস্য এবং এই রহস্যর কেন্দ্র বিন্দুতে আছে গ্রহরাজ শনিদেব ও তার এক রহস্যময় মন্দির|গ্রামের নামকরনও হয়েছে গ্রহরাজ শনিদেব ও তার একটি মন্দির কে কেন্দ্র করে|শিঙ্গাপুর গ্রামের অবস্থান ভারতের মহারাষ্ট্র প্রদেশে। জেলার নাম নাভাসা। মহারাষ্ট্রের সুপরিচিত শহর আহমেদ নগর থেকে গ্রামটির দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার। জনশ্রুতি আছে, প্রায় ৩০০ বছর আগে গ্রামটিতে একবার প্রচন্ড বৃষ্টি ও বন্যা হয়। বন্যা শেষ হলে গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পানাশালা নদীর তীরে বিশালাকৃতির কালো রঙের একটি পাথর পাওয়া যায়|প্রথমে কেউ পাথর টির স্বরূপ বুঝতে পারেনি তারপর একদিন সবাই যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন একই সময় গ্রামের সবার স্বপ্নে দেখা দিলেন শনি দেব। সবাইকে তিনি জানালেন,এটি কোনো সাধারণ পাথর নয়, এটি আমার প্রতিমূর্তি। যদি তোমরা আমার উপাসনা করো তাহলে আমি তোমাদের সবার মুক্তি ও নিরাপত্তা দান করবো|শনি দেবতা তার উপাসনার পদ্ধতি হিসেবে দুটি শর্ত জুড়ে দেন। প্রথমত, এই গ্রামের কোনো এক জায়গায় আমার এ পবিত্র প্রতিমূর্তিটিকে সংরক্ষণ রাখতে হবে। দ্বিতীয়ত, গ্রামের কেউ তাদের ঘরের দরজার কপাট বন্ধ করতে পারবে না। যদি কেউ ঘরের দরজার কপাট বন্ধ করে তাহলে তিনি তাদের নিরাপত্তার দায়দায়িত্ব তিনি নেবেন না। কেননা সবার নিরাপত্তা প্রদানের জন্য দেবতাকে যখন তখন সবার ঘরে প্রবেশের সুযোগ থাকতে হবে। তাছাড়া দরজার কপাট বন্ধ থাকলে দেবতার সুনজর থেকেও গৃহবাসী বঞ্চিত হবে|তারপর তৈরি হলো এক শনি মন্দির প্রতিষ্টিত হলেন শনিদেব|এখানে শনি মন্দিরের উপরে কোনো ছাদ নেই। খোলা আকাশের নিচেই বেদি নির্মাণ করে শনি দেবতার পবিত্র পাথরটি প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।গ্রহ রাজ শনিদেবের এই আদেশ আজও অক্ষরে অক্ষরে পালন করে আসছেন এই গ্রামের মানুষ|তাই এই অদ্ভুত ব্যাতিক্রমী রীতি যা ভাবতেও অবাক লাগে|আবার ফিরবো আগামী পর্বে|অন্য কোনো রহস্যময় মন্দির ও তার সাথে জড়িত নানা কিংবদন্তী নিয়ে |জন্ম ছকে গ্রহরাজ পীড়িত বা অশুভ অবস্থায় থাকলে এবং খারাপ ফল দিলে চিন্তার কিছু নেই|জ্যোতিষ শাস্ত্রে তারও সমাধান আছে|যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – বুলেট বাবার মন্দিরের রহস্য

আজ অবধি মন্দির মন্দির রহস্যতে আপনাদের শিব মন্দির, কালী মন্দির, গণেশ মন্দির, শনি মন্দির এবং বজরংবলীসহ সব প্রায় সব দেব দেবীর মন্দিরের কথা বলেছি|যে মন্দিরের কথা আজ লিখবো তা কোনো শাস্ত্রসম্মত দেবতারা মন্দির নয়|রাজস্থানের এই মন্দির যেখানে আরাধ্য দেবতা একটি বুলেট বাইক এবং মন্দিরটি বুলেট বাবার মন্দির নামে বিখ্যাত|বিখ্যাত এই মন্দির প্রতিষ্ঠার পিছনে রয়েছে অলৌকিক এক গল্প। তিন দশক আগে ১৯৯৮ সালে ওম সিং রাঠৌর নামে এক তরুণের মৃত্যু হয় পথদুর্ঘটনায়। স্থানীয় গ্রামবাসীর ছেলে ছিলেন তিনি। বুলেট বাবা মন্দিরে পুজো হওয়া বাইকটি আসলে ওম সিং রাঠৌরের । ওই বাইকটি নিয়ে ফেরার পথে পালির কাছে দুর্ঘটনায় পড়েন তিনি। পরদিন পুলিশ তাঁর শবদেহ এবং বাইকটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। কিন্তু গ্রামবাসীদের দাবি, রাতে আচমকা উধাও হয়ে যায় বাইকটি। সেটিকে খুঁজে পাওয়া যায় ওম সিং রাঠৌরের দুর্ঘটনার স্থানে। স্থানীয় সূত্রে দাবি, এরকম ঘটনা এক নয় একাধিকবার ঘটে। ট্যাঙ্ক থেকে তেল খালি করে, চেন দিয়ে বেঁধে রাখলেও উধাও হয়ে গিয়েছে বাইকটি।স্থানীয়দের দাবি, আপনাআপনি ইঞ্জিন স্টার্ট হয়ে চালু হয়ে যায় বাইকটি। তারপর থেকেই একটি বিশ্বাস ছড়িয়ে যায় ওম বাবা নিজে ওই বাইকের মাধ্যমে বেঁচে আছেন। পথদুর্ঘটনায় আর যাতে কারও মৃত্যু না হয় তাই তিনি পাহারা দিতে বেরোন। এরপরই দুর্ঘটনাস্থলের গাছের নীচে প্রতিষ্ঠিত হয় বুলেট বাবার মন্দির।রাজস্থানের যোধপুর থেকে পালির দিকে ৫০ কিমি গেলেই দেখা মিলবে এই বুলেট বাবা মন্দিরের। যেখানে পূজিত হয় ৩৫০ সিসি রয়্যাল এনফিল্ডের এক বহুমূল্য বাইক। বুলেট বাবার মন্দির বা ওম বান্নার মন্দির বলে বিখ্যাত রাজস্থানের এই মন্দির। স্থানীয়দের বিশ্বাস, পথদুর্ঘটনা থেকে বাঁচাবে এই বুলেট বাবা। তাই এপথে যাত্রার আগে স্থানীয় থেকে পর্যটক, সমস্ত গাড়ি চালকরাই এই মন্দিরে পুজো দেন।শুধু তাই নয় গ্রামবাসীদের দাবী বাইকের কাছে যেকোনও সমস্যার কথা জানালে তা সমাধানও হয়ে যায়|ফিরে আসবো পরের পর্বে নতুন কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|থাকবে অনেক অলৌকিক ঘটনা|ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – গাদিয়া ঘাট মন্দিরের রহস্য

ভারতে এমন অনেক মন্দির রয়েছে, যেগুলি তাদের বিস্ময়কর এবং অলৌকিকতার জন্য বিখ্যাত।আজ মন্দির রহস্যতে আপনাদের এমন এক মন্দিরের কথা লিখবো যেখানে তেল দিয়ে নয়, জল দিয়ে প্রদীপ জ্বলে|প্রসিদ্ধ এই মন্দিরটি মধ্যপ্রদেশের কালিসিন্ধ নদীর তীরে অবস্থিত আগর মালওয়ার নলখেদা গ্রাম থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে গাদিয়া গ্রামের কাছে ।মধ্যপ্রদেশের গাদিয়াঘাট ওয়ালি মাতার নামে বিখ্যাত এই মন্দিরটি বর্ষাকালে জলে তলিয়ে যায়। যার সেই কারনে বর্ষা কালে পূজা করা সম্ভব হয় না। বিখ্যাত এই মন্দিরের পুরোহিতরা জানান যে মন্দিরে প্রদিপ প্রথম থেকেই সর্বদা তেল দিয়ে জালানো হত, কিন্তু কয়েক বছর আগে, মা স্বপ্নে মন্দিরের এক পুরোহিতের কাছে হাজির হন এবং জল দিয়ে প্রদীপ জ্বালাতে বলেন।এরপর সকালে পুরোহিত কালিসিন্ধ নদী থেকে জল নিয়ে প্রদিপে ভরে ঢেলে দেন। তার পর অগ্নি শিখা প্রদীপে রাখা তুলোর সলতের কাছে নিয়ে গেলে আগুনের শিখা জ্বলতে থাকে।এই দৃশ্য দেখে পুরোহিত নিজেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং প্রায় 2 মাস কাউকে এ বিষয়ে কিছু বলেননি। তার পর তিনি ২মাস পর গ্রামবাসীকে বিষয়টি জানালে প্রথমে কেউ তাকে বিশ্বাস করেনি। যখন গ্রাম বাসি তাকে বিশ্বাস করছিল না তখন তিনি নদী থেকে জল এনে প্রদীপে ঢেলে জ্বালিয়ে দিলে তা জ্বলে ওঠে।এরপর এই অলৌকিক ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে।কথিত আছে, সেই থেকে আজ পর্যন্ত কালিসিন্ধ নদীর জল থেকেই এই মন্দিরে প্রদীপ জ্বালানো হয়।শোনা যায় এখানে বাতিতে জল ঢাললে তা বিশেষ একটি তরলে পরিণত হয় এবং প্রদীপে রাখা শিখা জ্বলতে থাকে।বর্ষাকালে এই মন্দিরটি কালী সিন্ধু নদীর জলতে তলিয়ে যায় বর্ষাকালে জলর উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে এখানে পূজা করা সম্ভব হয় না।তাই, শারদীয়া নবরাত্রির প্রথম দিনের এখানে আবার শিখা জ্বালানো হয়, যা পরবর্তী বছরের বর্ষাকাল পর্যন্ত জ্বলতে থাকে।অলৌকিকতায় ভরা এই মন্দিরটি দেখতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা এখানে আসেন। কিন্তু বর্ষাকালে মন্দিরে যাওয়া সম্ভব হয় না।অদ্ভুত এই মন্দিরের খ্যাতি রয়েছে দেশে বিদেশে|ফিরে আসবো পরের পর্বে নতুন কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|আরো অনেক এমন অলৌকিক বিষয় নিয়ে কথা হবে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – অষ্ট বিনায়ক মন্দির

আজ মন্দির রহস্য পর্বে একটি নয় আটটি ভিন্ন ভিন্ন মন্দিরের কথা লিখবো |আটটি গণেশ মন্দির, যেগুলিকে একত্রে অষ্টবিনায়ক মন্দির বলা হয়|শিবের পুজোর জন্য দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ ও শক্তির আরাধনার জন্য যেমন ৫১ শক্তিপীঠের উল্লেখ পাওয়া যায়, তেমনই গণেশের আরাধনার জন্য ৮টি পবিত্র মন্দির রয়েছে যাকে অষ্টবিনায়ক বলা হয় উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ৮টি মন্দিরই মহারাষ্ট্রে অবস্থিত। প্রথমটি হলো ময়ূরেশ্বর মন্দির, পুণে শহর থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরে গণেশের এই পবিত্র ধাম অবস্থিত। মনে করা হয় এই স্থানেই ময়ূরে সওয়ার হয়ে সিন্ধুরাসুর নামক রাক্ষস বধ করেছিলেন গণেশ। তাই এই মন্দিরের নাম ময়ূরেশ্বর মন্দির। দ্বিতীয়টি হলো সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির,মহারাষ্ট্রের আহমেদনগরে ভীম নদীর ধারে অবস্থিত গণেশের এই মন্দির। পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত এই মন্দির সম্পর্কে প্রচলিত আছে যে, এই পবিত্র স্থানেই সিদ্ধি অর্জন করেছিলেন স্বয়ং শ্রী বিষ্ণু। তৃতীয়টি হলো বল্লালেশ্বর মন্দির, গণপতির এই সিদ্ধ মন্দির মহারাষ্ট্রের কুলাবা জেলার পালী নামক স্থানে অবস্থিত।অদ্ভুত স্থাপত্য শৈলীর জন্য বল্লালেশ্বর মন্দিরে গণেশের ওপর সরাসরি সূর্য কিরণ পড়ে।গণেশের অন্যতম ভক্ত বল্লালের নাম অনুসারে এই মন্দিরের এমন নামকরণ করা হয়। চতুর্থ মন্দিরটি হলো, বরদ বিনায়ক যেটা কোলহাপুরে অবস্থিত। প্রচলিত আছে, এই মন্দিরে গণেশ দর্শন করলে ব্যক্তির সমস্ত মনোস্কামনা পূর্ণ হয়।পঞ্চম মন্দিরটি হলো, চিন্তামণী মন্দির,এখানে নিজের ভক্তদের সমস্ত চিন্তা দূর করে থাকেন গণেশ। তাঁর এই মন্দির পুণা থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে থেউর গ্রামে অবস্থিত। গণেশের পরম ভক্ত মোরয়া গোসাবী এই মন্দির স্থাপন করেন।ষষ্ঠ স্থানে আছে গিরিজাত্মজ অষ্টবিনায়ক মন্দির, পুণা শহর থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে এক গ্রামে অবস্থিত গণেশের এই সিদ্ধ মন্দির।বহু যুগ আগে পর্বত খোদাই করে এই গিরিজাত্মজ মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল|সপ্তম স্থানে আছে বিঘ্নেশ্বর অষ্টবিনায়ক মন্দির,মহারাষ্ট্রের ওঝর জেলার জূনর অঞ্চলে গণেশের এই মন্দির অবস্থিত। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী গণেশ এই অঞ্চলে বিঘনাসুর নামক রাক্ষস বধ করে এই অঞ্চলের জণগণকে রক্ষা করেছিলেন|অষ্টম তথা অষ্টবিনায়কের শেষ মন্দির মহাগণপতি মন্দির যা পুণা থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে রাজণগ্রামে অবস্থিত। গণেশের এই মন্দির বহু প্রাচীন। নবম থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে এই মন্দির নির্মিত।গণপতি এখানে মহোৎকট নামেও পরিচিত।সিদ্ধিদাতা গণেশর এই আট মন্দির দর্শনেই সব কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন অনেকে।ফিরে আসবো পরের পর্বে নতুন কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

মন্দির রহস্য – সংকট মোচন মন্দিরের রহস্য

তুলসী দাস হনুমান চালিশা লিখেছিলেন তা আপনারা জানেনা, অনেকে এটাও জানেন তিনি হনুমান চালিশা লেখার আগে স্বয়ং হনুমানজীর দর্শন পেয়ে ছিলেন|আজ আপনাদের সেই মন্দিরের কথা জানাবো যেখানে বজরংবলী ও তুলসীদাসের সাক্ষাৎ হয়েছিলো|ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের বারাণসী শহরে অসী নদীর তীরে কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে অবস্থিত সঙ্কটমোচন হনুমান মন্দির অবস্থিত।কথিত আছে, এই মন্দিরটি যেখানে নির্মিত হয় সেখানেই তুলসীদাস হনুমানের দর্শন পেয়েছিলেন।বাল্মীকি-রামায়ণের অবধি-সংস্করণ রামচরিতমানস গ্রন্থের রচয়িতা তুলসীদাস এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মন্দিরের বর্তমান স্থাপত্যটি শিক্ষাবিদ, স্বাধীনতা সংগ্রামী তথা কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পণ্ডিত মদনমোহন মালব্যের দ্বারা নির্মিত।হনুমান জয়ন্তী এই মন্দিরের প্রধান উৎসব। এই উৎসব উপলক্ষে দুর্গামন্দিরের নিকটবর্তী দুর্গাকুণ্ড থেকে হনুমান মন্দির পর্যন্ত এক বিশাল শোভাযাত্রা বের হয়।প্রচলিত বিশ্বাস অনুসারে, এই মন্দির যাঁরা নিয়মিত দর্শন করেন, তারা হনুমানের আশীর্বাদ পান। প্রতি মঙ্গলবার ও শনিবার ভক্তেরা এই মন্দিরে হনুমানের বিশেষ পূজা দিয়ে থাকেন। জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে, হনুমান দুষ্টগ্রহ শনিকে দমন করেন। তাই অনেক গ্রহরাজ শনিদেবের অশুভ প্রভাব থেকে বাঁচাতে এই মন্দিরে পূজা দেন।আপনাদের হয়তো মনে আছে ২০০৬ সালের অভিশপ্ত এক দিনে আরতি চলাকালীন তিনটি বোমা বিস্ফোরণ হয় এই মন্দির চত্বরে।এই সময় মন্দিরে অসংখ্য দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন|বজরংবলীর কৃপায় রক্ষা পায় মন্দির ও ভক্তগন পরদিন থেকে আবার মন্দিরের দৈনন্দিন পূজাশুরু হয়|ফিরে আসবো পরের পর্বে নতুন কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|অনেক রহস্য ময় ঘটনা ও তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|অনলাইন এবং চেম্বারে এসে ভাগ্য বিচারের জন্য যোগাযোগ করুন উল্লেখিত নাম্বারে|ধন্যবাদ |

মন্দির রহস্য – ভূত নাথ মন্দিরের রহস্য

উত্তরা খন্ডের ঋষিকেশে অবস্থিত একটি বহু প্রাচীন শিব মন্দিরে নিয়ে আজকের পর্বে লিখবো| শিব এখানে ভুতেশ্বর মহাদেব নামে প্রসিদ্ধ এবং মন্দিরটি ভূতনাথ মন্দির নামেই জগৎ বিখ্যাত|এই মন্দির ঘিরে রয়েছে একটি রহস্য ও পৌরাণিক আখ্যান|পুরান অনুসারে দক্ষ কন্যা পার্বতীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়া শিবের বরযাত্রী এই স্থানে এসেছিলো, এবং যাত্রা পথে এই নিদ্দিষ্ট স্থানে তারা অপেক্ষা করে ছিলো কিছুক্ষন, এটি তাদের বিশ্রামের স্থান|পরবর্তীতে স্থানীয় দের অনুরোধে শিব স্বয়ংপ্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি ভুতেশ্বর রূপে এই স্থানে সদা বিরাজমান থাকবেন, তারপর থেকে এই স্থানে সুদৃশ্য আটতল বিশিষ্ট ভূতনাথ মন্দিরে, তিনি বিরাজমান,এমনকি মহাদেবের অশরীরী সঙ্গী সাথীরাও রয়েছে স্বমহিমায়, এমনটাই প্রচলিত বিশ্বাস|জনশ্রুতি আছে এই মন্দিরে এসে ভুতেশ্বর মহাদেবের দর্শন করলে অশুভ শক্তি, ভুত, প্রেত মানুষের আর কোনো ক্ষতি করতে পারেনা, বাবা ভুতেশ্বরের কৃপায় দূর হয় অশুভ শক্তি জনিত সব সমস্যা, তাই এই এই সব সমস্যায় পীড়িত বহু মানুষ প্রায় প্রতিদিন আসেন এই মন্দিরে, ভক্তি সহকারে পূজা দেন|মন্দিরের চার পাশে বেশ একটা গা ছম ছমে অলৌকিক শক্তির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়. প্রতিদিন সন্ধে ছটায় বন্ধ হয় মন্দির|বেশ রহস্যময় একটি বিষয় রয়েছে এই মন্দির প্রাঙ্গনে, এখানে আছে একটি সুসজ্জিত বেদি যার চারপাশে ঝোলানো রয়েছে দশটি ঘন্টা এবং রহস্য রয়েছে এই খানেও, ওই দশটি ঘন্টা থেকে দশ প্রকার আলাদা আলাদা ধ্বনি উৎপন্ন হয় যার কোনো কারন বা ব্যাখ্যা আজও পাওয়া যায়নি|চলবে মন্দির রহস্য নিয়ে আলোচনা|ফিরে আসবো পরের পর্বে নতুন কোনো মন্দিরের রহস্য নিয়ে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|