Home Blog Page 94

বিশেষ পর্ব – রথ যাত্রার ইতিহাস

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ পবিত্র রথ যাত্রা আজকের এই বিশেষ
পর্বে পুরীর রথ যাত্রার ইতিহাস ও সেই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য আপনাদের সামনে রাখবো।

ঠিক কখন পুরীর রথযাত্রা শুরু হয়েছিল তা নিদ্দিষ্ঠ করে বলা কঠিন। একাধিক প্রাচীন শাস্ত্রে এবং পুরানে রথ যাত্রার উল্লেখ পাওয়া যায়।
‘মাদলা পঞ্জি’ নামে ষোড়শ শতাব্দীতে প্রণীত এক পঞ্জিকায় উল্লেখ আছে, একদা জগন্নাথ মন্দির এবং গুন্ডিচা মন্দিরের মধ্যে মালিনী নামে একটি নদী ছিল যা বড় নাই অথবা বড় নদী নামেও খ্যাত।

সে সময়ের রাজা ৬টি রথ নির্মাণ করেন। সুদর্শন চক্রসহ জগন্নাথ এবং বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহের জন্য তিনটি রথ নদী পর্যন্ত আনতে ব্যবহৃত হতো। তারপর বিগ্রহগণ নদীর অপর প্রান্তে আনা হলে, সেই স্থান থেকে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রাকে গুন্ডিচা মন্দিরে আনতে তিনটি অতিরিক্ত রথ নিযুক্ত করা হতো। রাজা বীর নরসিংহের শাসনামলে নদীটি মাটি দ্বারা পূর্ণ করা হয় এবং তারপর থেকে গুন্ডিচা মন্দির পর্যন্ত যাওয়ার জন্য শুধু তিনটি রথ প্রয়োজন হয়।ভগবান বাসুদেবের রথ গরুড় ধ্বজ সুভদ্রার রথ পদ্মধ্বজ বলরামের রথ তালধ্বজ নামে পরিচিত।

যে ‘রথ চকড়’ নামে প্রাচীন গ্রন্থ পুরীতে পাওয়া যায় তাতে লেখা আছে যে রাজা যযাতি অষ্টম শতাব্দীতে রথযাত্রা উদযাপন করেন।

আবার স্কন্দপুরাণ অনুসারে মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্নের শাসনামলে রথযাত্রা উদযাপিত হয়, যখন তিনি জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা বিগ্রহ স্থাপন করেন।
এখানে এক জায়গায় নারদমুনি বললেন, “প্রিয় রাজা, ভগবানের ভ্রমণের জন্য সুন্দরভাবে সজ্জিত তিনটি রথ প্রস্তুত করতে হবে। এই রথ গুলো রত্ন, অলঙ্কার, পাটের শাড়ি, মালা এবং বিভিন্ন মূল্যবান রত্নদ্বারা আবৃত করতে হবে। স্কন্দ পুরাণে আরো বর্ণিত আছে যে, স্বর্গের স্থপতি বিশ্বকর্মা নারদ মুনি কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে একই দিনে তিনটি রথ নির্মাণ করেন। তখন নারদ মুনি বৈদিক রীতি অনুসারে রথসমূহ স্থাপন করেন।শুরু হয় রথ যাত্রা।

পুরীতে অধিষ্টিত জগন্নাথ এই জগতের শাসন কর্তা
তার কাছে সবাই সব সময় পৌঁছাতে পারেন না তার কিছু বিশেষ কারন আছে আছে কিছু বিধি নিষেধ। কিন্তু ভগবান তার ভক্তদের প্রতি সদা স্নেহশীল এবং সেই জন্য তিনি নিজেই ভক্তদের সামনে আসেন বছরের এই বিশেষ দিনে। শুধু দর্শন নয় এই দিন তাকে স্পর্শ এমনকি আলিঙ্গন অবধি করা যায়। তার পথ পরিষ্কার করেন স্বয়ং পুরী নরেশ। ভক্ত আর ভগবানের মিলন উৎসব
এই রথ যাত্রা।এই দিন জাত ধর্ম বর্ণ সব ভক্তি এবং
শ্রদ্ধার কাছে পরাজিত হয়।

সবাইকে জানাই পবিত্র রথ যাত্রার অসংখ্য শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – অম্বুবাচী কি এবং কেনো

পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রীজাতক

চলতি বছরে অম্বুবাচী প্রবৃত্তিঃ অর্থাৎ শুরু হবে ২২ জুন অর্থাৎ ৬ আষাঢ় এবং নিবৃত্তি হবে ২৬ জুন অর্থাৎ ১০ আষাঢ়। আধ্যাত্মিক ভাবে অত্যান্ত তাৎপর্যপূর্ণ এই সময়ে কয়েকটি পর্বে আপনাদের জানাবো কি এই অম্বুবাচি এবং কিভাবে ও কেনো এই ধর্মীয় উৎসব পালন করা হয়।

আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হলে অম্বুবাচী কালের সূচনা হয় হন|শুরুর দিনটি অম্বুবাচী প্রবৃত্তি ও ও শেষের দিনটি হলো অম্বুবাচী নিবৃত্তি|

সনাতন ধর্মে পৃথিবী কোনো জড় বস্তু নয় বসুন্ধরাকে কে আমরা এক দেবী বা মাতৃ রূপে দেখি ও পূজা করি তাই স্বাভাবিক ভাবেই এক নারী যেমন সন্তান ধারনের পূর্বে ঋতুমতী হয় ধরিত্রী ও তেমন ফসল উৎপাদনের পূর্বে রজঃস্বলা হয় ও পরবর্তীতে ফসল উৎপাদনের জন্য আরো বেশি উর্বর হয়ে ওঠে|জীবন চক্রের এই বিশেষ পর্যায়কেই অম্বুবাচি বলা হয়।

এই সময়ে কৃষকরা কৃষি কাজ থেকে বিরত থাকেন ও ধরিত্রী কে বিশ্রাম দেন|আবার অম্বুবাচী উপলক্ষে উড়িষ্যায় ভূদেবীর বিশেষ পূজা মেলা ও উৎসবের আয়োজন করা হয় ও ব্যাপক জন সমাগম হয়|ভূদেবী কে উড়িষ্যায় স্বয়ং জগন্নাথ দেবের স্ত্রী হিসেবে কল্পনা করা হয় এবং তার ঋতুমতী হওয়ার সময় কাল কে চারদিনের রজ উৎসব হিসেবে পালন করা হয়|চারদিনের এই উৎসব কে চারটি আলাদা পর্যায় উদযাপন করা হয় প্রথম দিনকে বলা হয় পহিলি রজ। দ্বিতীয় দিন মিথুন সংক্রান্তি| তৃতীয় দিন ভূদহ বা বাসি রজ এবং চতুর্থ দিন বসুমতী স্নান। বাংলাও কোনো কালে পিছিয়ে ছিলোনা এই শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠান পালনে অম্বুবাচী উপলক্ষে গ্রামবাংলার বিধবা মহিলারা তিন দিন ধরে ব্রত রাখেন|দেশ তথা বাংলার প্রায় সব গুলো শক্তি পীঠেই নিষ্ঠার সাথে অম্বুবাচী পালন হয় ও সেই উপলক্ষে বিশেষ উৎসব এবং কোথাও কোথাও মেলার আয়োজন করা হয়|অম্বুবাচি সর্বাধিক জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে পালন করা হয় আসামে|দেশের অন্যতম শক্তি পীঠ কামরূপ কামাখ্যায় অম্বুবাচী একটি মহোৎসবের রূপ নেয়|কামাখ্যার অম্বুবাচী পালন নিয়ে আছে অসংখ্য রহস্য, কিংবদন্তি ও গল্প যার সাথে জড়িয়ে আছে সনাতন ধর্মের বহু গূঢ় তত্ত্ব|সে সব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো আগামী পর্বগুলিতে।

অম্বুবাচিতে দেবী পুজো হয়না তবে অম্বুবাচী তন্ত্র সাধনার ও শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময়। ফিরে অম্বুবাচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বহু তথ্য ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – ডুমুরদহর ডাকাত কালী পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলায় মা কালীর সঙ্গে ডাকাতদের যোগ বেশ আত্মিক।যখন গৃহস্ত বাড়িতে কালী আরাধনা সেই ভাবে শুরু হয়নি সেই সময়ে রাতের অন্ধকারে ডাকাতদের গোপন আস্তানায় চলত মা কালীর আরাধনা। পুজো শেষে মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে রওনা দিত ডাকাতেরা। সেই ডাকাতরা না থাকলেও তাদের সেই সব পুজো আজও হয়।
আজ লিখবো এমনই এক ডাকাত কালী পুজো নিয়ে।

বাংলার হুগলি জেলার প্রাচীন এক জনপদ ডুমুরদহ। গঙ্গাতীরবর্তী দ্বীপ বা দহ থেকেই এই নাম। এই ডুমুরদহে রয়েছে এক অতি প্রাচীন কালী মন্দির। যা লোকমুখে বুনো কালী নামে পরিচিত। পিরামিড আকৃতি চারচালাযুক্ত একতলা সাদামাটা মন্দিরটির স্থাপত্যে আজ আধুনিক ছাপ পড়েছে বহু বার সংস্কারের পরে নানা পরিবর্তন হয়েছে বটে তবে ইতিহাস ঘাঁটলেই জানা যায় এই মন্দির এবং প্রতিমা বহু প্রাচীন। এই মন্দিরের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ডুমুরদহের বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, ওরফে বিশে ডাকাতের নাম। ইতিহাস বলছে
সেই উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে যখন
বাংলার ডাকাত দলগুলিকে সামলাতে হিমশিম খেতেন স্বয়ং ইংরেজ শাসকরা। সেসময় এই বিশে ডাকাত ছিল ইংরেজদের ত্রাস।তার শাসন চলতো এই অঞ্চলে। সবাই তাকে ভয় এবং ভক্তি করতো।

সেই সময়ে লেখা কিছু বইয়ে পাওয়া যায় ডাকাত বিশ্বনাথবাবুর অধীনে ডাকাতরা নৌকাযোগে যশোহর পর্যন্ত ডাকাতি করতেন। জানা যায় এই বিশে ডাকাত এই মন্দিরে পুজো দিয়েই ডাকাতি করতে যেতেন। বাবু সম্মোধন এর কারন সেই সময়ে ডাকাতি করে বহু অর্থ রোজগার করে প্রায়
জমিদার বোনে গেছিলেন বিশে ডাকাতের ন্যায়।বহু ডাকাত।

সমাচার-দর্পনে প্রকাশিত একটি সংবাদে পাওয়া যায় যে একসময় এখানে নরবলিও হতো
যদিও বর্তমানে বৈষ্ণব মতে পুজো হয়।
একটি অদ্ভুত রীতি ও নাকি পালন হয় যেখানে একটি ছাগলের কান কেটে বেলপাতায় করে অর্ঘ্য দেয়া হয় দেবীকে। এই প্রথা কতোটা মানবিক বা সমর্থন যোগ্য সেটা আলাদা বিষয়। সবটাই আস্থা এবং বিশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে আছে।

ডুমুরদহের বুনো কালী মাতার মন্দিরের পাশে রয়েছে একটি চারচালা ভৈরব মন্দির। মন্দিরটি বর্তমানে অবক্ষয়প্রাপ্ত তবে টেরাকোটার কাজ অপূর্ব।

আসন্ন আষাড় অমাবস্যা ও অম্বুবাচি উপলক্ষে
চলতে থাকবে দেবী মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা।আগামী ১৭ ই জুন তারাপীঠে গ্রহ দোষ
খন্ডনের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – মনোহর ডাকাতের কালী পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলার কালী ক্ষেত্র গুলি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে বার বার ঘুরে ফিরে আসে ডাকাত কালীর প্রসঙ্গ কারন আজকের গৃহস্ত বাড়িতে পূজিতা মা কালী এক কালে মূলত তান্ত্রিক ও ডাকাতদের আরাধ্যা দেবী ছিলেন।এমনই এক দুর্ধর্ষ ডাকাত ছিলো কলকাতার মনোহর ডাকাত। তার নামেই আজকের মনোহর পুকুর। তার পূজিতা কালী আজ ছানা কালী বা ছোটো কালী নামে খ্যাত।

পলাশীর যুদ্ধর সময় কলকাতার অধিকাংশ অঞ্চলেই ছিল গভীর জংগল। তার পাশ দিয়ে বয়ে যেত আদি গঙ্গা। অবশ্য তখন তার রূপ ছিল অন্য রকম। এই সমস্ত জঙ্গলে ছিল বাঘ আর সাপের ভয়। এলাকা শাসন করতো মনোহর ডাকাতের। ডাকাতরা।বেজায় কালী ভক্ত মনোহর ডাকাত
সেই সময় জঙ্গলের মধ্যে একটি ছোট কালী মূর্তি প্রতিষ্টা করেছিলেন। কষ্টি পাথরের কালী মূর্তিটি খুবই ছোট। তাই অনেকে এই কালীকে ছানা কালী বা ছোট কালী বলে উল্লেখ করেন।

সেকালে ডাকাত কালী বাড়ি নামেই এটি সুপ্রসিদ্ধ। ছিলো তখন কোন অলংকার ছিল না দেবীর গায়ে। দেবী ছিলেন মুন্ডমালা বিভূষিতা তার হাতে ঝুলতো
নর করোটি।আদিগঙ্গা দিয়ে নৌকো করে বা জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সদলবলে এসে দর্শণার্থীরা মাকে দর্শন করতো তবে সন্ধ্যের পর কেউ সাধারণত আসতোনা এদিকে ।

শোনা যায় ডাকাত মনোহর ছিল অকৃতদার।একবার ডাকাতি করে ফেরার সময় মনোহর দেখে যে জঙ্গলে এক মহিলা বাঘের হানায় মৃত হয়ে পড়ে আছেন। পাশেই জীবিত শিশু। মনোহর তখন সন্তান স্নেহে এই শিশুটিকে মানুষ করে এবং
ধীরে ধীরে নিজেও বদলাতে শুরু করে।। পরবর্তীতে শেষ জীবনে ডাকাতি ছেড়ে কৃষি কাজে মন দেয় পাশাপাশি চলে মাতৃ আরাধনা।

জনশ্রুতি আছে বৃদ্ধ বয়সে সে বহু মোহর আর সোনা রুপো দিয়ে যায় জন কল্যাণ মূলক কাজের জন্য। সেই অর্থে কাটানো হয় একাধিক পুকুর। আজও একটি পুকুর ও সেই সংলগ্ন রাস্তা মনোহর নামে পরিচিত।

আগামী অমাবস্যায় থাকছি তারাপীঠে গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠানে। প্রয়োজনে যোগাযোগ করতে পারেন।আবার ফিরে আসবো এমনই কোনো ঐতিহাসিক কালী মন্দির ও সেই মন্দিরের দেবী মাহাত্ম নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।
ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – নানেদের কালী মন্দিরের ইতিহাস

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শহর কলকাতার বুকে যে কয়টি জাগ্রত এবং ঐতিহাসিক কালীমন্দির রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম নানেদের কালী মন্দির। সামনেই রথ যাত্রা যে উৎসবের সাথে এই মন্দিরের সম্পর্ক রয়েছে।
সেটা পরে বলছি আগে আগে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা
নিয়ে যে বর্ণময় ইতিহাস শোনা যায় সেটা জেনে নেয়া যাক। জানেন হয়তো উত্তর কলকাতায় হেদুয়া পার্কের কাছে এই মন্দির রয়েছে।

শোনা যায় কৃষ্ণচন্দ্র সিংহ নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বারাণসী থেকে কষ্টিপাথরের বিগ্রহ নিয়ে আসেন এই স্থানে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য। সেই সময়ে ঈশ্বর চন্দ্র নান ছিলেন কৃষ্ণ চন্দ্রের পরিচিত এই শহরের অত্যান্ত প্রভাবশালী এবং ধনী ব্যাক্তি।সেই কোষ্টি পাথরের দেবী যেন চেয়েছিলেন তিনি ঈশ্বরচন্দ্র নানের মন্দিরেই প্রতিষ্ঠিত হবেন। কৃষ্ণচন্দ্র নানা কারণে আর তাই দেবীকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি।বার বার বাঁধা আসে। স্বপ্নাদেশের কথাও শোনা যায়।শেষ পর্যন্ত তিনি ঈশ্বরচন্দ্র নানের হাতে বিগ্রহকে স্থাপনের ভার সঁপে দেন। এরপরই মন্দির তৈরি করে বিগ্রহটি স্থাপন করেন ঈশ্বরচন্দ্র নান।সেই থেকে নানেদের কালী নামেই দেবী পরিচিত।

এই কালীমন্দিরটি বেদির ওপর তৈরি। এর গর্ভগৃহের সামনে ভক্তদের দাঁড়ানোর জন্য অন্যান্য বড় মন্দিরের মতই অলিন্দ আছে।এক রথ যাত্রার পবিত্র দিনে শাস্ত্র মতে দেবী মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো।দেবী কে নিস্তারিণী কালী নামে ডাকা হয়।বর্তমানে এই মন্দিরের সামনের দু’পাশে আটচালা দুটি শিব মন্দিরে আছে এবং সেখানে দুটি আছে দুটি কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ। এই মন্দিরে দেবী নিস্তারিণীর পাশাপাশি শিবলিঙ্গেরও নিত্যপুজো হয়।অমাবস্যায় দেবীর পুজো ও হোমের আয়োজন থাকে।শ্যামাপূজার দিন বিশেষ পূজা তো হয়ই। মন্দিরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতেও আয়োজিত হয় বিশেষ পুজো।

শোনা যায় এই মন্দিরে বিভিন্ন সময় বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি এসেছেন এবং দেবীর আশীর্বাদে পেয়ে ধন্য হয়েছেন। আপনারাও চাইলে দর্শন করে আসতে পারেন অপূর্ব এই কালী ক্ষেত্র।

আগামী ১৭ ই জুন তারাপীঠে গ্রহ দোষ
খন্ডনের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।
আসন্ন আষাড় অমাবস্যা ও অম্বুবাচি উপলক্ষে
চলতে থাকবে দেবী মাহাত্ম এবং মন্দির রহস্য নিয়ে আলোচনা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – বিষ্ণুপুর কালী মন্দিরের ইতিহাস

পঞ্জিকা অনুসারে অম্বুবাচি এবং আষাড় মাসের অমাবস্যার আর হাতে গোনা কটা দিন বাকি। আর অমাবস্যা মানেই কালী সাধনা এবং তন্ত্র স্বাধনার শ্রেষ্ঠ সময়।কালী বলতেই মাথায় আসে আদ্যাশক্তি মহামায়ার কৃষ্ণবর্ণা, উলঙ্গিনী রণচণ্ডী রূপ। কালী মায়ের প্রতি সাধারণ ভক্তদের শ্রদ্ধা খানিকটা ভয় মিশ্রিতও বটে। তবে তান্ত্রিক এবং দস্যু দের কাছে মা কালী তাঁদের মূল আরাধ্যা দেবী। এঁনারা মূলত পুজো করেন শশ্মানকালী দেবীর। পশ্চিমবঙ্গের কালী পুজোর ইতিহাস ঘাটলে উঠে আসবে অনেক স্মশান কালী মন্দিরের কথা। আজকের পর্বে এমনই এক কালী ক্ষেত্র নিয়ে আজ লিখবো।দক্ষিণ চব্বিশ পরগনাড় বিষ্ণুপুর অঞ্চলে আদি গঙ্গার পাড়ে প্রায় কয়েকশো বছর আগে তৈরি হয়েছিল এক কালী মন্দির। শোনা যায়, এক সময়ে এটি ছিল শশ্মান ভূমি। দুর্গম এই স্থান ছিলো ডাকাত, তান্ত্রিক এবং হিংস্র পশুর অবাধ বিচরণ ভূমি।এই স্থানে দেবীর পূজা শুরু করেন তান্ত্রিক মণিলাল চক্রবর্তী। বিষ্ণুপুরের প্রসিদ্ধ ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান ছিলেন মণিলাল। ছোট থেকেই ধার্মিক এবং সাধক প্রকৃতির বড় হতেই তার মাথায় চাপে তন্ত্র সাধনার নেশা বিষ্ণুপুর শ্মশানেই শুরু করেন তার সাধনা । শোনা যায়, মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়েই নাকি এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মণিলাল। স্বপ্নে মা কালী নাকি তাঁর কাছে নিত্য পুজোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তন্ত্র মতে ১০৮টি নরমুণ্ড দিয়ে শুরু করেন মা কালীর আরাধনা।শোনা যায় প্রতিটি মুণ্ডুই অপঘাতে মৃত ব্যক্তির। রতৈরী হয় পঞ্চ মুণ্ডির আসনও।সে সব আজও আছে।যদিও বর্তমানে দেবী এখানে করুণাময়ী কালী রূপে পূজিতা। অতীতের টালির চালের মন্দির এখন পাকা বাড়ি। মণিলাল চক্রবর্তী প্রয়াত হওয়ার পরে তার বংশের লোকেরা ধারাবাহিক ভাবে পুজো সামলাচ্ছেন।দেবী পুজোর বাকি অংশ জনসমক্ষে হলেও তান্ত্রিক পদ্ধতিতে উপাসনার মূল অংশ হয় রুদ্ধ দ্বারের ভিতরে। আজও লোকমুখে শোনা যায়, রাত হলেই নাকি এ তল্লাটে ঘুরে বেড়ায় অপঘাতে মৃত ব্যক্তিদের অশরীরী আত্মা।ঘটে বহু অলৌকিক ঘটনা।সামনেই আসন্ন আষাড় অমাবস্যা ও অম্বুবাচি সেই সময়ে গ্রহ দোষ খন্ডনের আদৰ্শ সময়।চলতে থাকবে দেবী মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা। বহু এমন রহস্য ময় সাধক সাধিকা ও মন্দিরের কথা আপনাদের জানাবো।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – মৃত্যু নাশিনী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলার মাতৃ সাধক রা যেমন জগৎ প্রসিদ্ধ তেমনই বহু মাতৃ সাধিকার ও অবির্ভাব হয়েছে এই পুন্য ভূমিতে। তাদের সাধন স্থল বা কালী মন্দির আজও আছে।আগের পর্বে যেমন এমনই এক তন্ত্র সাধিকার কথা বলেছি আজও এক অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্না সন্ন্যাসীনীর কথা লিখবো
যার প্রতিষ্ঠিত দেবী কালীকে মৃত্যু নাশিনী বলা হয়।

নদিয়ার কল্যাণীর কাছে রয়েছে এই মৃত্যুনাশিনী কালীর মন্দির। পুরোনো মন্দিরটি সংস্কার হয় ১৯৫০ সালে যদিও আসল প্রাচীন মন্দিরটি কবে কোন সময়ে তৈরী হয় তার কোনো নিদ্দিষ্ট তথ্য প্রমান পাওয়া যায়না।

বহুকাল আগে এখানে এসে সাধনা শুরু করেন এক সিদ্ধযোগিনী তিনি এলাকায় পরিচিত ছিলেন সাধিকা মা নামে। তার সঠিক পরিচয় শুনিদ্দিষ্টি ভাবে বলা না গেলেও জনশ্রুতি আছে যে তাঁর বিয়ে হয়েছিল রাজপরিবারে। তাঁর স্বামী ছিলেন এক রাজকুমার।বিয়ের পরদিনই ঘর ছেড়ে ব্রহ্মচারী হয়ে যান তার স্বামী পরবর্তীতে ঈশ্বর আরাধনায় স্বামীর আগ্রহ দেখে তার নববধূও ঘর ছাড়েন । সেই সময় ভাগীরথী এই অঞ্চলের পাশ দিয়ে বয়ে যেত। সেই ভাগীরথীর পাড়ে এসে বসেছিলেন ওই বধূ। সেই সময় ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা তিনি একটি দেবীর ঘট গঙ্গায় ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান।সেই সঙ্গে তিনি দেবীর কালীর আদেশ পান। আদেশ অনুসারে তিনি এক বটগাছের নীচে ঘটটি রেখে খোলা আকাশের নীচে সাধনা শুরু করেন। এরপর সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন এবং স্বপ্নাদেশে দেবীর বর্ণনা পেয়ে, সেই বর্ণনা অনুযায়ী মূর্তি তৈরি করে দেবীর পুজো শুরু করেন।সেই সাধন ক্ষেত্রই বর্তমানে দেবী মৃত্যুনাশিনীর মন্দির রূপে
গড়ে উঠছে।

শোনা যায় দেবী কাউকে নিরাশ করেন না। তার কৃপায় দূর হয় মৃত্যু ভয়। সব রোগ ভোগ যন্ত্রনা তিনি নাশ করেন বা। তিনি প্রকৃত অর্থেই তাই মৃত্যু নাশিনী।দেবীর মূর্তি প্রতিবছরই অঙ্গরাগ করা হয়। কিন্তু, মূর্তিতে কোনও ক্ষত দেখা দিলে, তা পরিবর্তন করার বিধান আছে।দেবীমূর্তির পাশেই রয়েছে তাঁর ভৈরব কপালভৈরব।

আসন্ন আষাড় অমাবস্যা ও অম্বুবাচি উপলক্ষে
চলতে থাকবে দেবী মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা। বহু এমন রহস্য ময় সাধক সাধিকা ও মন্দিরের কথা আপনাদের জানাবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।
ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – মগনেশ্বরী কালী মন্দিরের ইতিহাস

সতীপীঠের ভূমি বীরভূমে রয়েছে এক ঐতিহাসিক কালী ক্ষেত্র যা মগনেশ্বরী কালীবাড়ি নামে পরিচিত। এই মন্দিরের সাথে জড়িয়ে আছে এক মহান তন্ত্র সাধিকার নাম এবং বহু অলৌকিক ঘটনা।আজকের পর্বে বীরভূমের মগনেশ্বরী মন্দিরের ইতিহাস।শুরু করবো একটি অলৌকিক ঘটনা দিয়ে।সে বহু বছর আগের কথা বীরভূমের কোনো এক ছোট্ট রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার স্বপ্ন দেখেন, এক মহিলা বিনা টিকিটে আমোদপুরে আসছেন।তার বিপদ হতে পারে তিনি যেনো সাহায্যে এগিয়ে যান।সেই স্বপ্ন অনুযায়ী পরদিন ভোরে এক মহিলাকে খুঁজে পান স্টেশন মাস্টারতাঁর কাছে কোনও টিকিটও ছিল না।জিজ্ঞাসা করে জানা যায় কৈলাসপতি বাবার কাছে। তাঁর কাছ থেকে তিনি দীক্ষা গ্রহণ করবেন।স্টেশন মাস্টার তার সাধ্য মতো সব ব্যাবস্থা করে দেন।সেদিনের এই অজ্ঞাত মহিলা ছিলেন বিখ্যাত তন্ত্র সধিকা মৃণালিনী দেবী। এই মৃণালিনী দেবী ছোট থেকেই প্রচন্ড সংযমী এবং ধার্মিক চরিত্রের ছিলেন তিনি। মাত্র আট বছর বয়সে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে সাধনা করতে চলে যান।শোনা যায় তার জন্মের পর কৈলাসপতি নামে এক সাধক তাঁর পরিবারকে জানান “এই মেয়ে একদিন বিখ্যাত সন্ন্যাসিনী হবে” পরবর্তীতে সেই মেয়ে কৈলাশ পতি বাবার কাছেই দীক্ষা নিয়ে এক সাথে সাধনা করে।তার সন্ন্যাসীনী জীবনে নাম হয় মগনানন্দ।মগনানন্দ সাধক বামাক্ষ্যাপার সমসাময়িক ছিলেন দুজনের দেখাও হয়। দীক্ষা লাভের পর নিজের গ্রাম আমোদপুর ফিরে মৃণালিনী দেবী ওরফে মগনানন্দ ভক্তদের সাহায্যে দক্ষিণেশ্বর কালীর আদলে দেবীর শিলা মূর্তি স্থাপনা করেন।এবং পাকাপাকিভাবে আমোদপুরেই থাকতে শুরু করেন।চলতে থাকে তন্ত্র সাধনা। মাতৃ আরাধনা।শোনা যায় একবার তারাপীঠে বামদেবের সেবা করতে ছুটে যান মগদানন্দ গিরি।সেবা করে তাকে সুস্থ করে তোলেন। তার ভক্তদের মুখে তার একাধিক অলৌকিক শক্তির কথা শোনা যায়। ভক্তদের কাছে তিনি ছিলেন ‘গুরুমা’। ভাল কাজের যেমন বিধান দিতেন, ঠিক তেমনি খারাপ কাজেও শাসন করতেন। তিনি একশো চৌত্রিশ বছর বয়সে দেহত্যাগ করেন এবং তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী, তাঁকে ত্রিবেণী সঙ্গমে সমাধিস্থ করা হয়।গুরুমা মগদানন্দ গিরির নামানুযায়ী তার সাধন স্থল ও সেই সংলগ্ন কালী ক্ষেত্র আজসবার কাছে মগনেশ্বরী কালী মন্দির রূপে পরিচিত।সামনেই রথ যাত্রা এবং অম্বুবাচির মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান রয়েছে। এই সময় জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতে দুর্লভ সময়। তাৎপর্যপূর্ণ এই সময়ে চলতে থাকবে দেবী মাহাত্ম এবং মন্দির রহস্য নিয়ে বিশেষ বিশেষ পর্বগুলি। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – শেওড়াফুলি রাজবাড়ির পুজো

পন্ডিত ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলার প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক পুজো গুলির কথা বলতে হলে কিছু রাজবাড়ির পুজোর কথাও বলতে হয়। এমনই এক পুজো শেওড়াফুলি রাজবাড়ির ঐতিহাসিক পুজো। আজকের পর্বে এই পুজোর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও একটি অলৌকিক ঘটনার কথা বলবো।

শোনা যায় বর্ধমানের নারায়ণপুরে রাজত্ব করতেন এই বংশের আদি পুরুষরা। মোঘল আমলে স্বয়ং সম্রাট আকবর নাকি তাদের জমি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে নদী ভাঙন গ্রাস করেছিল জমিদারি। ভিটে মাটি হারিয়ে বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে শেওড়াফুলি এসে বসবাস করতে শুরু করেন তৎকালীন জমিদার।

বর্ধমানে যখন এই জমিদার বংশের গৌরব ময় সময় চলছে তখন গ্রামে পুকুর খনন করার সময় স্বপ্নাদেশ পান জমিদার মশাই । স্বপ্নাদেশ অনুসারে মাটির তলা থেকে পান দেবী দশভূজার অষ্টধাতুর মূর্তি।

পরবর্তীতে শেওড়াফুলির বাড়িতে এসে গৃহ মন্দিরে দেবী দশভূজার মূর্তিকে সর্বমঙ্গলা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় তিনশো বছর ধরে সেই প্রতিষ্ঠিত মূর্তিতেই চলে আসছে পুজো । নিত্যপূজা হয় কিন্তু শরতের আকাল বোধন ও বসন্তকালের বাসন্তী পুজো এই মন্দিরের প্রধান উৎসব।

এই বছর অম্বুবাচী প্রবৃত্তি অর্থাৎ শুরু হবে ২২ জুন এবং ২৬ জুন নিবৃত্তিঃ অর্থাৎ সমাপ্তি হবে। আগামী সপ্তাহ জুড়ে দেবী মাহাত্ম এবং মন্দির রহস্যর পাশাপাশি অম্বুবাচি নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের জানাবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – বড় ঠাকুরানীর পুজো

আসন্ন অম্বুবাচি বিশেষ করে অম্বুবাচি পরবর্তী অমাবস্যা শক্তি সাধনার উপযুক্ত সময়।শুধু তাই নয় এই সময় দেবী মাহাত্ম শোনার শোনানোর জন্য শ্রেষ্ঠ সময়। আজকের পর্বে আপনাদের বাংলার এক অতি প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক দূর্গা মন্দিরের কথা জানাবো।প্রাচীন এই দুর্গা মন্দির রয়েছে বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে।মল্লরাজ শ্রীমন্ত জগৎমল্লদেব বিষ্ণুপুরের গভীর অরণ্যে দেবী দুর্গার স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। সেই স্বপ্নাদেশমতোই তাঁর রাজধানী তিনি প্রাচীন প্রদ্যুম্নপুর থেকেবিষ্ণুপুরে স্থানান্তরিত করেন।এবং রাজবাড়ির কাছেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মৃন্ময়ীদুর্গা মন্দির। দেবীর মূল বিগ্রহের মুখ ও অবয়ব গঙ্গার মাটি দিয়ে তৈরি তাই মৃন্ময়ী দূর্গা মন্দির নাম হয়েছে বলে মনে করা হয়।যদিও এই পুজো বড়ো ঠাকুরানীর পুজো নামে খ্যাত। তার একটি বিশেষ কারন আছে।দূর্গা পুজোয় এবং বিশেষ বিশেষ তিথিতে ঘট স্থাপন করে এখানে পটে আঁকা দুর্গার পুজো শুরু হয়। কোনও মূর্তি বিসর্জন হয় না তবে জিতাষ্টমী তিথির পরদিন ছোটনাগপুরের রাজমহল থেকে রুপোর পাত দিয়ে তৈরি মহিষাসুরমর্দিনীকে আনা হয়। সেই মূর্তিকে বলা হয় বড়ঠাকুরানি। কয়েকশো বছরের প্রাচীন রীতি অনুসারে বড় ঠাকুরানি দেবীকে কৃষ্ণবাঁধে নবপত্রিকা-সহ স্নান করিয়ে বোধনের মাধ্যমে দুর্গাপুজোর সূচনা করা হয়।দুই দেবী অর্থাৎ মৃন্ময়ী দেবী ও রাজবাড়ীর গৃহ মন্দিরের দেবী যথাক্রমে মেজঠাকুরানী এবং বড়ো ঠাকুরানী নামে খ্যাত পাশাপাশি পটে আঁকা দেবীকে ছোটো ঠাকুরানী বলা হয়।প্রতিবার মহাষষ্ঠীর দিন বিষ্ণুপুরের রাজা ও রানিকে দেবীপট বা ছোটঠাকুরানির দর্শন করানো হয়। আগে এখানে কামান দেগে সন্ধিপুজো হতো সন্ধিপুজো চব্বিশ মিনিটের মধ্যে শেষ করা হয়।এককালে কলেরার মড়কে মল্লভূম রাজ্যের ও রাজপরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই সন্ধি পুজোর পরে এখানে নিষ্ঠা সহকারে মহামারীর পুজো শুরু হয় এইপুজোর অংশ হিসেবে ঘটের দিকে পেছন ফিরে পুরোহিতরা কিছু বিশেষ মন্ত্র উচ্চারণ করেন এবং সব শেষে বিশেষ কিছু উপাদান দিয়ে নির্মিত ভোগ শুধু মাত্র রাজবাড়ির সদস্যদের খেতে দেয়া হয়।যুগ ধরে বাংলার কতো এমন দূর্গা মন্দির এবং প্রাচীন কালী মন্দিরে এমন অদ্ভুত কতো রীতি চলে আসছে।আগামী দিনে দেবী মাহাত্ম এবং অম্বুবাচি নিয়ে আরো অনেক কথা হবে।থাকবে মন্দির রহস্য নিয়ে নতুন পর্ব।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।