Home Blog Page 94

দেবী মাহাত্ম – কলকাতার বনদূর্গা

সারা বাংলা জুড়ে রয়েছে অসংখ্য রহস্যময় মন্দির।প্রায় প্রতিটি মন্দির ঘিরে রয়েছে অনেক অলৌকিক কাহিনী ও অদ্ভুত সব ঘটনা এবং চমকপ্রদ সব পুজোর রীতি।কোথাও অধিষ্টান করছেন দেবী কালী কোথাও দূর্গা কোথাও আবার অন্যকোনো রূপ। সেই সব দেবী মহাত্ম নিয়ে এবার থেকে আলোচনা হবে একেকটি পর্বে। আজ শুরুতে লিখবো দক্ষিণ কলকাতার এক অদ্ভুত বন দুর্গার মন্দির নিয়ে।যে মন্দিরে দেবীর পুজোয় ব্যবহৃত হয় রাশি রাশি হাঁসের ডিম।কলকাতার বিজয়গড়-শ্রীকলোনিতে অবস্থিত বারো ভূত বা দ্বাদশ অবতার মন্দির।বহুকাল থেকেই এই মন্দিরে বনদুর্গা পূজিতা হন।তাকে অনেকেই বুড়িমা বলেন আবার অনেকের কাছে তিনি লৌকিক দেবী বন দেবী।বহু মানুষ মনে করেন বনদুর্গার এই মন্দির শতাব্দী প্রাচীন।দেবী এখানে পূজিত হন হাঁসের ডিমেই। মকর সংক্রান্তির দিন গামলা গামলা হাঁসের ডিম দফায় দফায় দেওয়া হয় দেবীর পুজো। শুধু মকর সংক্রান্তি নয়। প্রতিটি অমাবস্যা তিথিতেও হয় ধুমধাম করে দেবীর পুজো।তবে নৈবেদ্য হিসেবে হাঁসের ডিম থাকবেই।বনদুর্গা ও তাঁর পুজোর নৈবেদ্য নিয়ে একাধিক গল্প প্রচলিত আছে।বনের দেবী বলে তাঁর ভোগে দেওয়া হয় ডিম এটা যেমন অনেকে মনে করেন । আবার একটি জনশ্রুতি অনুসারে একবার এক ভিখারিনীর বেশে এক গরীব ঘরে গিয়েছিলেন দেবী।দরিদ্র পরিবারের সেই গৃহকর্ত্রী ভিখারিনীকে নিরাশ করেননি। ঘরে থাকা একমুঠো চাল আর পোষা হাঁসের ডিম দিয়েই অতিথি আপ্যায়ন করেছিলেন। সেই ভোগে তৃপ্ত হন দেবী। তারপর থেকেই নৈবেদ্যই স্থান পায় ডিম। সেই পরম্পরা আজও চলছে।পুজোয় নৈবেদ্য হিসেবে জমা লক্ষ লক্ষ ডিম প্রসাদ হিসেবে ভক্তদের দেওয়া ছাড়াও আশপাশের অনাথ আশ্রম, বৃদ্ধাশ্রম ও দরিদ্র নারায়নের মধ্যেবিলি করা হয়।বহু এমন অদ্ভুত সব মন্দির ও সেই মন্দিরের দেবী মাহাত্ম নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বগুলিতে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব চতুর্দশী বিশেষ পর্ব- ষোলো থেকে একুশ মুখী রুদ্রাক্ষ

বাকি রয়েছে অনেকগুলি রুদ্রাক্ষ নিয়ে আলোচনা আজ তাদের কয়েকটি নিয়ে লিখবো।শাস্ত্র মতে হর পার্বতীর মিলিত রূপ ১৬ মুখী রুদ্রাক্ষ। একে জয় রুদ্রাক্ষ ও বলে। আবার শিবের মহা মৃত্যুঞ্জয় রূপেও দেখা হয়। এই রুদ্রাক্ষ ভয় শোক ও হতাশা দূর করে ও আত্মবিশ্বাস দেয়। ছাত্র ছাত্রী দের জন্য বিশেষ ভাবে শুভ।দেবী কাত্যায়নী হলেন ১৭ মুখী রুদ্রাক্ষর অধীস্টাত্রী দেবী। এই রুদ্রাক্ষ মনের মতো জীবন সঙ্গী পেতে সাহায্য করে এবং দাম্পত্য জীবন সুখের করে।পাশাপাশি নীরোগ ও দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন লাভ করতে সাহায্য করে।দেবী বসুন্ধরা ১৮ মুখী রুদ্রাক্ষর অধীস্টাত্রী দেবী। যারা এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করে তাদের জাগতিক সব মনোস্কামনা পূর্ণ হয়। জমি বাড়ি সংক্রান্ত ব্যবসা যারা করেন তাদের জন্য এই রুদ্রাক্ষ বিশেষ ভাবে শুভ।শাস্ত্র মতে লক্ষী এবং নারায়ণ একত্রে বাস করেন ১৯ মুখী রুদ্রাক্ষতে। তাই এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে সব বিপদ নাশ হয় এবং সৌভাগ্য লাভ হয়। যারা প্রবল অর্থ কষ্টে আছেন তারা এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে পারেন।শাস্ত্র মতে ২০ মুখী রুদ্রাক্ষ ব্যক্তিকে মানসিক শান্তি ও চাপ থেকে মুক্তি দেয়।নেতিবাচক শক্তির বিরুদ্ধে একটি ঢাল হিসেবে এই রুদ্রাক্ষকে ব্যবহার করা হয়।শাস্ত্র মতে ২১ মুখী রুদ্রাক্ষ একজন ব্যক্তির ভুল কর্মের ফলাফল হ্রাস করে।দুর্ঘটনা এবং দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা থেকে রক্ষা করে এবং সর্ব ক্ষেত্রে সাফল্য দেয়।শিব রাত্রিতে রুদ্রাক্ষ শোধন ও ধারণ করা বিশেষ ভাবে শুভ। যারা গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চান তারাও এই তিথিকে বেছে নিতে পারেন। ফিরে আসবো পরের পর্বে পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ। ওঁম নমঃ শিবায়ঃ।

শিব চতুর্দশী বিশেষ পর্ব – তেরো চোদ্দ পনেরো মুখী রুদ্রাক্ষ

শাস্ত্র মতে রুদ্রাক্ষ শোধন করা বা ধারণ করার শ্রেষ্ট তিথি শিব চতুর্দশী তিথি। এই বিশেষ তিথিতে সঠিক নিয়ম মেনে জন্ম ছক অনুসারে নিদ্দিষ্ট সমস্যাকে বিবেচনা করে রুদ্রাক্ষ ধারন করে রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে হয়। আগেই বেশ কয়েকটি রুদ্রাক্ষর কথা বলেছিম আজ তেরো থেকে পনেরো মুখী রুদ্রাক্ষ নিয়ে লিখবো।

তেরো-মুখী রুদ্রাক্ষ কামদেবের স্বরূপ যা ধারণে মনের বাসনা পূর্ণ হয় এবং কোনও প্রকারের অকল্যাণ হয় না।যাদের দাম্পত্য জীবন সুখের নয় তারা শুক্রবার কাম দেব ও মহা দেবকে স্মরণ করে গঙ্গাজল ও দুধ বা ঘি দিয়ে শোধন করে এই রুদ্রাক্ষ কন্ঠে বা বাহুতে ধারণ করতে পারেন।

চৌদ্দমুখী রুদ্রাক্ষ শিব ও হনুমান স্বরূপ।ধারণ করলে জীবনে সুখ সমৃদ্ধির আগমন ঘটে থাকে। সর্বপ্রকার সম্মান প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে সকল সুখ-শান্তি এবং আয়ু বৃদ্ধি ঘটে থাকে। এই প্রকার রুদ্রাক্ষ ধারণকারী ব্যক্তি শিবের আশীর্বাদ লাভ করেন ও বজরংবলী তাদের রক্ষা করেন। এই রুদ্রাক্ষ সর্বরোগে বিনাশের মধ্য দিয়ে ব্যক্তিকে নীরোগ রাখতে সাহায্য করে।যেকোনো দিন শুদ্ধ দেহে ও পবিত্র মনে ওঁম নমঃ শিবায় জপ করে এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে পারেন।

শাস্ত্র মতে ধন, যশ, জনপ্রিয়তা লাভের জন্য পনেরো রুদ্রাক্ষের তুলনা হয় না।অনেকেই লটারি, শেয়ার বাজার ইত্যাদিতে দিনের পর দিন অর্থব্যয় করে থাকেন। তারা যদি পনেরো মুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করেন তাহলে সুফল পেতে পারেন।লাল ধাগায় রবিবার এই রুদ্রাক্ষ বাহুতে বা কণ্ঠে ধারণ করতে পারেন।সুফল পাবেন।

শিব চতুর্দশী উপলক্ষে চলবে রুদ্রাক্ষ নিয়ে এই ধারাবাহিক আলোচনা। রুদ্রাক্ষ ধারনের পাশাপাশি যারা শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার করাতে চান তারাও এই শিব চতুর্দশী তিথিকে কাজে লাগাতে পারেন। ফিরে আসবো পরের পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিবচতুর্দশী বিশেষ পর্ব- দশ এগারো এবং বারো মুখী রুদ্রাক্ষ

আজ শুরু করবো দশ মুখী রুদ্রাক্ষ দিয়ে।এই দশমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে নবগ্রহ শান্ত থাকে।দশদিক দশমুখী রুদ্রাক্ষের অধিপতি। ভগবান বিষ্ণু এর আদি দেবতা। এই দশমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণকারীর নাম যশ দশদিকে প্রসারিত হয়।অশুভ শক্তি নাশ করে নিজেকে রক্ষা করতে বা শত্রুকে দমন করতে দশমুখী রুদ্রাক্ষের কোনও বিকল্প হয় না। জীবনে আনন্দের আগমন ঘটানোর জন্য রুদ্রাক্ষ ধারণ করা হয়ে থাকে। ওম হ্রীং নম: মন্ত্রের জপ করতে হয়। ভগবান বিষ্ণু যে দশ অবতার হয়েছিলেন মৎস্য, কূর্ম, বরাহ, বামন, বুদ্ধ, রাম, কল্কি, প্রমুখ সেই দশাবতারের শক্তি গুলি এই দশমুখী রুদ্রাক্ষের মধ্যে নিহিত আছে বলে মনে করা হয়।এগারো মুখী রুদ্রাক্ষর অধিষ্ঠাতা দেবতা হনুমান। ধারকের জ্ঞান, বিচারবুদ্ধি, বাকশক্তি বৃদ্ধি পায়। জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য এটি ধারণ করতে হয়। অনেক সাধু সন্ন্যাসী এই ১১মুখী রুদ্রাক্ষকে ভগবানের সর্বশ্রেষ্ঠ দান বলে মনে করেন।ধরণের আগে ওম হ্রীং হুম নম: মন্ত্র জপ করা উচিত।প্রকৃত পক্ষে ১১মুখী খুবই রুদ্রাক্ষ দুর্লভ।কথিত আছে এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে গোদান, ব্রাহ্মন ভোজন ও দেব সেবার ফল পাওয়া যায়।১১ মুখী রুদ্রাক্ষ হল ভগবান শিবের বিভিন্ন শক্তির কেন্দ্র বিন্দু তাই এই রুদ্রাক্ষ সকল বিপত্তি বিনাশকারী ও সমৃদ্ধিকারী।দ্বাদশ মুখী রুদ্রাক্ষর অধিষ্ঠাতা দেবতা সূর্য। নিয়ন্ত্রক গ্রহ রবি। এই রুদ্রাক্ষ খ্যাতি ও প্রতিপত্তি। ওম ক্রৌং ক্ষৌং রৌং নম: মন্ত্র জপ করে এই রুদ্রাক্ষ স্বর্ণ বা রৌপ দিয়ে ধারণ করা উচিত।এটি খুব শক্তিশালী ও তেজস্বী রুদ্রাক্ষ। সাধারণত সাধু সন্ন্যাসী ও আধ্যাত্মিক জগতের মানুষরা এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করেন।সামনেই শিব চতুর্দশী। রুদ্রাক্ষ ধারনের শ্রেষ্ঠ সময়।আগামী পর্বে আরো অনেকগুলি রুদ্রাক্ষর কথা বলবো।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব চতুর্দশী – সাত আট ও নয় মুখী রুদ্রাক্ষ

জ্যোতিষ শাস্ত্রে রত্ন যেমন একটি প্রতিকার তেমনই রুদ্রাক্ষ একটি অতি শক্তিশালী প্রতিকার। ভুল রত্ন ধরণে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে কিন্তু রুদ্রাক্ষ সেই দিক দিয়ে অনেকটাই নিরাপদ। তাই দিন দিন রুদ্রাক্ষর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। আজকের পর্ব সাত আট ও নয় মুখী রুদ্রাক্ষ নিয়ে।সাত মুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে দুর্দশা দূর হয়। বাণিজ্যে সাফল্য আসে। যে ব্যক্তির অত্যধিক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং তা কাটিয়ে ওঠার কোনও উপায় তাঁর হাতে নেই তাঁদের রুদ্রাক্ষ পরা উচিত।অধিষ্ঠাত্রী দেবী মহালক্ষ্মী। নিয়ন্ত্রণ করে শনি।ওম হুম নম: মন্ত্র জপ করে এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করা উচিত। সপ্তমুখী রুদ্রাক্ষ সাক্ষাৎ কামরূপ। এটি রোগ নিবারক ও সমৃদ্ধিশালী। এটি দুর্গার প্রভাবে পুর্ণ। তাই হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেয়। শনিবার এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে হয়।শনির সাড়েসাতি বা ঢাইয়া যদি কারুর প্রতিকূলতার কারন হয় তারা সাত মুখী রুদ্রাক্ষ ধারন করলে বিশেষ উপকার পাবেন।অষ্টমুখী রুদ্রাক্ষ- রাহু গ্রহের মারকতা নাশার্থে ধারণ করা হয়। এই রুদ্রাক্ষের দুটি নাম বিনায়ক ও বটুকভৈরব।এই রুদ্রাক্ষ ধারণে হঠাত্ আঘাত পাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। দুষ্কৃতকারীদের হাতে আক্রান্ত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। রাশিচক্রে শনি ও রাহু অশুভ থাকলে উক্ত রুদ্রাক্ষ যথাবিধি সংস্কারপূর্বক পুরুষের ডান বাহুতে এবং স্ত্রীলোকের বাম বাহুতে ধারণীয়।অধিষ্ঠাতা দেবতা গণেশ। নিয়ন্ত্রক গ্রহ রাহু।শাস্ত্রে আছে আট মুখী রুদ্রাক্ষ ধারণে বাধা-বিপত্তি দূর হয়। শত্রুনাশ হয়। ওম হুম নম: মন্ত্র জপ করে এই রুদ্রাক্ষ পরলে রোগ মুক্তিও ঘটে।যাদের জন্ম ছকে গ্রহণ দোষ আছে তারা এই রুদ্রাক্ষ পড়লে গ্রহণ দোষের কুপ্রভাব থেকে মুক্ত থাকবেন।নয় মুখী রুদ্রাক্ষর অধিষ্ঠাত্রী দেবী দুর্গা। নিয়ন্ত্রক গ্রহ কেতু। ধারকের জীবনে শক্তি সঞ্চারিত হয়, ভয় দূর হয়। যারা বারবার বাধাগ্রস্ত হন, সময়কালে বুদ্ধি ভ্রম ঘটে থাকে তারা নয় মুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে পারেন। এই রুদ্রাক্ষকে ন’ দেবীর স্বরূপ মনে করা হয়। সমাজে প্রতিষ্ঠার ইচ্ছে থাকলে, এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করা উচিত। এক্ষেত্রে ওম হ্রীং হুম নম: মন্ত্র জপ করতে হয়।যাদের জন্মছকে কাল সর্প দোষ আছে তারা এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে বিশেষ ভাবে সুফল পাবেনবাকি থাকলো রুদ্রাক্ষ নিয়ে আরো অনেক কথা। সেসব নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব চতুর্দশী বিশেষ পর্ব- চার পাঁচ ও ছয় মুখী রুদ্রাক্ষ

বিগত পর্বে এক দুই ও তিন মুখী রুদ্রাক্ষ নিয়ে লিখেছিলাম আজ লিখবো চার পাঁচ ও ছয় মুখী রুদ্রাক্ষ নিয়ে।শাস্ত্র মতে চার মুখের রুদ্রাক্ষের মধ্যে ব্রহ্মার সমস্ত শক্তি নিহিত আছে। জ্যোতিষ শাস্ত্র মতেএটি ধারণ করলেই যে সমস্ত পড়ুয়ার পড়া শুনে অমনোযোগ সে ক্ষেত্রে সমস্যা মিটে যায়। তবে শুধু ধারণ করাই নয় দরিদ্র বা দুঃস্থ কোনও ব্যক্তি এই রুদ্রাক্ষ পুজো করলেই শীঘ্রই আর্থিক কষ্ট থেকে মুক্তি পায়।এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত যে কোনো ব্যক্তি স্বচ্ছলতা ফিরে পান।এই রুদ্রাক্ষ গলায় থাকলে শত্রুপক্ষ কোনও ক্ষতি করতে পারে না।চারমুখী রুদ্রাক্ষ সংসারের শ্রীবৃদ্ধি ঘটায় এবং বহু জন্মের পাপ খণ্ডন করতে সাহায্য করে।শ্রাবন মাসে বা শিব রাত্রিতে শোধন করে এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে, ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ লাভ হয়। ওম হ্রীং নম: মন্ত্র জপ করে একে ধারণ করতে হয়।চার মুখী রুদ্রাক্ষর নিয়ন্ত্রক গ্রহ বুধ এবং ধারণ করলে সৃজনশক্তি বৃদ্ধি পায়। সন্তানের বিদ্যার উন্নতির জন্য চার।এই রুদ্রাক্ষর অধিষ্ঠাতা দেবতা ব্রহ্মা। বুধবার দিন গঙ্গা জলে শোধন করিয়ে ওঁম নমঃ শিবায় মন্ত্র জপ করেও চার মুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে পারেন।পাঁচ মুখী রুদ্রাক্ষর অধিষ্ঠাতা দেবতা কালাগ্নি রুদ্র। নিয়ন্ত্রক গ্রহ বৃহস্পতি।পাঁচ মুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে স্বাস্থ্য ও শান্তি সুরক্ষিত থাকে।অনেকের মতে একে ধারণ করলে এক কথায় সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়।পাঁচ মুখী রুদ্রাক্ষ ধারণের পূর্বে ওম হ্রীং নম: মন্ত্র জপ করবেন। পঞ্চমুখী রুদ্রাক্ষ শান্তিদায়ক, পাপনাশক।শাস্ত্রে আছে গো-ব্রাহ্মণ হত্যাকারীর পাপমোচন করে এই ররুদ্রাক্ষ। এতে মানুষের শ্রীবৃদ্ধি ঘটে। এই রুদ্রাক্ষ ধারনে মানবের আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও ধর্মানুশীলন বৃদ্ধি পায়।খুবই সহজ লভ্য ও সস্তাদামের হয় পাঁচ মুখী রুদ্রাক্ষ।তবে জ্যোতিষ শাস্ত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম। বৃহস্পতিবার লাল ধাগায় কাঁচা দুধ ও ঘি দিয়ে শোধন করে মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ করে পাঁচ মুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে পারেন।ছয় মুখী রুদ্রাক্ষ আপনার প্রেম ও দাম্পত্য জীবনের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ।অধিষ্ঠাতা দেবতা কার্তিকেয়। নিয়ন্ত্রক গ্রহ শুক্র।এই রুদ্রাক্ষ ধারণে শোক থেকে মুক্তি ঘটে। উচ্চশিক্ষা লাভ হয়।বিবাহিত জীবন সুখের হয়। এটি কার্তিকের রুদ্রাক্ষ। এটি পরলে ব্রহ্মহত্যার পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।পরার সময় ওম হ্রীং হুম নম: মন্ত্র জপ করবেন শোনা বা রুপো অথবা হলুদ ধাগায় শুক্রবার এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে হয়।সব রকম অশুভ শক্তিথেকে নিজেকে রক্ষা করতে বা শত্রুকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে এই রুদ্রাক্ষর জুড়ি নেই।শিব চতুর্দশী উপলক্ষে চলবে রুদ্রাক্ষ নিয়ে এই ধারাবাহিক লেখা।বাকি রইলো আরো অনেকগুলি রুদ্রাক্ষর কথা। সেগুলি নিয়েও আলোচনা হবে আগামী পর্ব গুলিতে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব চতুর্দশী বিশেষ পর্ব – এক থেকে তিন মুখী রুদ্রাক্ষ

শিবের সাথে রুদ্রাক্ষর সম্পর্ক অনেকটা গাছের সাথে পাতার সম্পর্কর মতো।কারন শিবের শরীর থেকেই রুদ্রাক্ষর জন্ম হয়েছে।শাস্ত্র মতে শিবের অশ্রু থেকে তৈরি হয়েছিল রুদ্রাক্ষ গাছ। ভগবান শিব কঠিন তপস্যার পর চোখ খুলতে তাঁর চোখ থেকে অশ্রু নির্গত হয়। যা মাটিতে পড়তে সেই অশ্রু থেকে তৈরি হয় রুদ্রাক্ষ গাছ।শিব চতুর্দশী উপলক্ষে আজ থেকে শুরু করবো রুদ্রাক্ষ নিয়ে আলোচনা। এক থেকে শুরু করে একুশ মুখী পর্যন্ত রুদ্রাক্ষ নিয়ে আলোচনা হবে।প্রথমেই বলবো এক মুখী রুদ্রাক্ষের অধিষ্ঠাতা দেবতা স্বয়ং শিব। এই রুদ্রাক্ষ ধারণে যাবতীয় পাপ নাশ হয়। এর নিয়ন্ত্রক গ্রহ রবি। যে ব্যক্তিরা ক্ষমতা লাভ করতে চান, তাঁরা এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে সুফল পাবেন। যে সব ব্যক্তির ধন-সম্পদ এবং ভৌতিক বস্তুর আকাঙ্ক্ষা থাকে তিনি এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে পারেন। ওম হ্রীং নম: মন্ত্র জপ করে এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে হয়।একমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে অনেক প্রকার বাধা বিপত্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রবি গ্রহ ভালো ফল দেয়।কেবল তাই নয় ভগবান শিবের প্রতি বিশেষ ভক্তি প্রদর্শিত হয়।ক্রমে ক্রমে আধ্যাত্মিক উন্নতিও ঘটে।যারা রাজনীতি, সরকারি চাকরি বা প্রশাসনিক কাজের সাথে যুক্ত তারা বিশেষ করে এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে পারেন। এটা গোল আকারের হয়। আবার গোলাকার ছাড়াও অর্ধচন্দ্রাকৃতি আকারের দেখা যায়।লাল সুতোয় বা সোনায় গঙ্গাজল দিয়ে শোধন করে রবিবারদিন ধারণ করা শ্রেয়।দুই মুখী রুদ্রাক্ষ হরপার্বতীর প্রতীক ।শিব ও শক্তি একত্রে এতে অবস্থান করেন। একে তাই ‘অর্ধনারীশ্বর’ হিসেবেও ধরা হয়। এর নিয়ন্ত্রক গ্রহ চন্দ্র। আধ্যাত্মিক তৃপ্তির জন্য এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করতে পারেন।একে ধারণের পূর্বে ওম নম: মন্ত্রের জপ করা উচিত। সোমবার দিন রুপো দিয়ে গঙ্গাজল দুধ ও ঘি দিয়ে শোধন করে শিব লিঙ্গে স্পর্শ করিয়ে ধারণ করুন। যারা মানসিক অবসাদে আছেন। শিল্প সাহিত্য বা সৃষ্টিশীল কাজে সাফল্য খুঁজছেন তারা ভালো ফল পাবেন। চন্দ্র গ্রহ সবল হয় ও সুফল দেয় এই রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে।তিন মুখী রুদ্রাক্ষর অধিষ্ঠাতা অগ্নিদেব। এর নিয়ন্ত্রক গ্রহ মঙ্গল। এই রুদ্রাক্ষ ধারণে পাপমুক্তি ঘটে। ভয় দূর হয়। একে অগ্নিদেবের রুদ্রাক্ষ বলা হয়। এটি ধারণ করলে ব্যক্তির সমস্ত ইচ্ছে শীঘ্র পুরো হয়। ওম ক্লীং নম: মন্ত্র জপ করে একে ধারণ করা উচিত।লাল ধাগায় বা সোনায় এই রুদ্রাক্ষ মঙ্গলবার দিন ঘি বা মধু দিয়ে শোধন করে ধুপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করে ধারণ করুন। যাদের দাম্পত্য জীবন সুখের নয়। যারা ব্যবসা বা ক্রীড়া ক্ষেত্রে সাফল্য চান বা মঙ্গল গ্রহ অশুভ তারা বিশেষ ভাবে ভালো ফল পাবেন।রুদ্রাক্ষ ধারণ করার শ্রেষ্ট সময় এই শিব চতুর্দশী তিথি। জ্যোতিষ শাস্ত্রে রুদ্রাক্ষ একটি প্রতিকার তবে রুদ্রাক্ষ হতে হবে খাঁটি এবং শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে সঠিক ভাবে পড়তে হবে। আমার প্রতিষ্ঠানে আমি চেষ্টা করি সেরা মানের রুদ্রাক্ষ মানুষের হাতে তুলে দিতে।রুদ্রাক্ষ সম্পর্কে আরো জানতে পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ফিরে আসবো পরের পর্বে।

শিব চতুর্দশী – শিব রাত্রির তাৎপর্য

শিব চতুর্দশী উপলক্ষে শিব নিয়ে অনেক তথ্য আপনাদের দিয়েছি এই ধারাবাহিক লেখায়। শিব সংক্রান্ত অনেক পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেছি। আজ জানাবো শিব রাত্রির তাৎপর্য। জানাবো শাস্ত্র মতে শিব রাত্রি পালন করলে কি ফল পাওয়া যায়।শিব চতুর্দশী তিথিতে প্রকট হয়েছিলো আদি শিব যে শিব লিঙ্গের আদি ও অন্ত খুঁজতে ব্যার্থ হয়ে ছিলেন স্বয়ং ব্রম্হা ও বিষ্ণু এবিষয়ে এই শিব লিঙ্গের মধ্যে উপস্থিত রয়েছে এ জগতের অনন্ত শক্তি। আর এত মাত্রায় শক্তি যেখানে মজুত রয়েছে তাকে ঠান্ডা রাখতে না পারলে সংসারের বিপদ অনিবার্য আর ঠিক এই কারণেই শিব লিঙ্গের মাথায় জল ঢালার প্রথা শুরু হয়। তিথি অনুসারে প্রত্যেক বছর ফাল্গুনমাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে শিবরাত্রি উদযাপন করা হয়।বিশ্বাস করা হয়, শিবরাত্রির রাতই মহাদেবের প্রিয় রাত।শিবরাত্রির দিনে শিব পার্বতীকে বিয়ে করেছিলেন।শুধু তাই নয় শিবরাত্রির দিনেই মহাদেব তাণ্ডব নৃত্য করেছিলেন। অবিবাহিত মেয়েদের জন্য এটাই সবচেয়ে পূণ্যের রাত।কথিত আছে যাঁরা ভগবান শিবের মতো স্বামী চান, তাঁরা এই দিন ব্রত করেন।শিবরাত্রির দিনের এই ব্রত শুধু অবিবাহিত মেয়েরাই নন, বিবাহিত মেয়েরা এমনকি ছেলেরাও এই ব্রত করতে পারেন।যারা নানা বিধ সমস্যায় জর্জরিত তারা সর্ব ক্ষেত্রে সাফল্য এবং সমৃদ্ধি চেয়েও এই ব্রত করতে পারেন।শিব সব রকম অশুভ শক্তিকে নাশ করেন এবং তিনি পরম দয়ালু ও অতি অল্পেই সন্তুষ্ট।শিবরাত্রির ব্রত করলে অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।শিব রাত্রি তিথিতে দেবাদিদেব আদি লিঙ্গের রূপ ধারণ করেছিলেন তাই সেই সময়ই শিবরাত্রি ব্রত উদযাপনের মাধ্যমে সহজেই তার কৃপা লাভ করা যায়।জগৎ কে রক্ষা করতে সমুদ্র মন্থনে বিষ পাণ করেছিলেন মহাদেব।যারা সারারাত জেগে শিবরাত্রি ব্রত পালন করবেন তাদের জীবনের সব বিষ অর্থাৎ সব দুঃখ কষ্ট হরণ করবেন মহাদেব।মহাশিবরাত্রির ব্রত করলে রজঃ গুণ এবং তমোঃ গুণগুলি নিয়ন্ত্রণে আসে। শিব রাত্রি যুক্ত অমাবস্যা তিথি গ্রহ জন্মছকে থাকা অশুভ গ্রহের দোষ খন্ডনের জন্য প্রশস্ত তিথি।যারা রুদ্রাক্ষ বা বিশেষ কোনো প্রতিকার ধারণ করতে চান অথবা গৃহে বিশেষ কোনো যন্ত্র স্থাপন করতে চান তারাও শিব রাত্রিকে কাজে লাগাতে পারেন।শিব রাত্রি ব্রত পালনের অন্য সব নিয়ম পালন করা যদি সম্ভব না হয় শুধু শিব মন্ত্র ‘ওম নমঃ শিবায়’ স্তব করেও মহাদেবের কৃপা লাভ করতে পারেন।আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী পড়েছে এবছরের শিব চতুর্দশী তিথি। যারা শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার চান যোগাযোগ করতে পারেন।ফিরে আসবো পরের পর্বে। মহাদেবকে নিয়ে এখনো অনেক কথা বলার বাকি আছে।সব বলবো আগামী পর্ব গুলিতে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব চতুর্দশী – শিব ও তন্ত্র

শিব ও তন্ত্র দুটি পরস্পরের সাথে সম্পর্ক যুক্ত। শিব সংক্রান্ত এই আলোচনায় তন্ত্র নিয়ে কিছু বলার উচিৎ। আজকের পর্বে মহাদেবের সাথে তন্ত্র শক্তির সম্পর্ক নিয়ে লিখবো।

তন্ত্র – ছোট্ট একটি শব্দ। কিন্তু গভীর তার অন্তর্নিহিত অর্থ। তন্ত্র হল এক বৃহৎ ও অতিপ্রাচীন গুপ্ত বা লুপ্তপ্রায় সাধন বিষয়। মুক্ত বিশ্বকোষে বলা আছে, তন্ত্র হিন্দুসমাজে প্রচলিত ঈশ্বর উপাসনার একটি পথবিশেষ। আসলে শিব ও মহাশক্তির উপাসনা সংক্রান্ত শাস্ত্রগুলিকেও তন্ত্র সাধনা নামে অভিহিত করা হয়।তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী, এই মহাবিশ্ব হল শিব ও মহাশক্তির দিব্যলীলা।যদিও তন্ত্র শব্দটির অর্থ ব্যাপক। তবে সংক্ষেপে তন্ত্র হচ্ছে “সৃষ্টির পরিচালনার নিয়ম”।

তন্ত্রে যেসব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও রীতি-নীতির বর্ণনা রয়েছে তার উদ্দেশ্যই হল মানুষকে অজ্ঞানতা ও পুনর্জন্মের হাত থেকে মুক্তি দেওয়া।তন্ত্রের সঙ্গে মহাদেবের সম্পর্ক অতি গভীর বলা ভালো মহাদেব থেকেই তন্ত্রের উৎপত্তি কারন শিবের ডমরু থেকে তন্ত্রের জন্ম হয়েছে ডমরু মহাদেবের অন্যতম প্ৰিয় বস্তু।

আবার সতী বা দেবী দুর্গার দশ হাতে আছেন দশ মহাবিদ্যা। এই দশমহাবিদ্যার উপর ভিত্তি করেই তন্তশাস্ত্রর ব্যাবহারিক দিকটি গড়ে উঠেছে।জ্যোতিষ শাস্ত্রে প্রতিটি গ্রহ দশ মহাবিদ্যার একেকটি বিদ্যার অধীনে আছে।

সংক্ষেপে তাই বলাই মহাদেব ও আদ্যা শক্তি মহামায়া এই দুই অনন্ত ও অসীম শক্তি তন্ত্রের আধার।

ভারতের আদি ও অকৃত্রিম তন্ত্র সাধনার জায়গা হল নীলাচল পর্বত। যা ‘কামাখ্যাধাম’ নামে পরিচিত।তেমনই মহাদেবের বাস কৈলাশ পর্বতেও বহু অলৌকিক শক্তির উপস্থিতি আছে যাকে অনেকেই তন্ত্রশক্তির সাথে তুলনা করেন।

তন্ত্র এমনই একটি শাস্ত্র যার মাধ্যমে নিজেকে অনুসন্ধান করা যায়। নিজের অন্তরের ঈশ্বরকে খুঁজে পাওয়া যায়।

তন্ত্র জ্ঞানচক্ষু উম্মোচন করে। সৃষ্টির কারন বুঝতে সাহায্য করে তন্ত্র। তন্ত্র সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশের পরিচালনা শক্তি। ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর এই তিন শক্তির সমন্বয়ে সাধিত হয় তন্ত্র শক্তির অদৃশ্য বৃত্ত যা আমাদের জীবন ও সমগ্র সৃষ্টিকে পরিচালনা ও প্রভাবিত করে।

যারা তন্ত্র মতে এবং শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে জীবনের অন্ধকার দূর করতে চান বা গ্রহগত কু প্রভাব কাটিয়ে জীবনে জয়ী হতে চান তারা শিব রাত্রি যুক্ত অমাবস্যাকে বেছে নিতে পারেন গ্রহ দোষ খন্ডনের জন্য।

ফিরে আসবো পরের পর্বে। শিব বিষয়ে আরো অনেক কথা বলার আছে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব চতুর্দশী – শিবের পঞ্চানন রূপ

শিবের পঞ্চানন রূপকে দুই ভাবে দেখা যায় বা ব্যাখ্যা করা যায়।প্রথমত পঞ্চানন রূপের অন্তর্নিহত অর্থ বা শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা যে ব্যাখ্যা অনুসারে।দ্বিতীয়ত একজন লৌকিক দেবতা হিসেবে তার ব্যাখ্যা।আজ দুটি দিক নিয়েই লিখবো।পাঁচ সংখ্যাটির সঙ্গে শিবের এক রহস্যময় ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে।শিবের পবিত্র সংখ্যা হল পাঁচ। পরম বৈষ্ণব শিবের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রগুলির একটি নমঃ শিবায় পাঁচটি অক্ষর দ্বারা গঠিত আবার শিবের শরীর পাঁচটি মন্ত্র দ্বারা গঠিত। এগুলিকে বলা হয় পঞ্চব্রহ্মণ।পঞ্চানন রূপে শিবের পাঁচটি সত্তা বা রূপ প্রকাশিত হয়। এই পাঁচটি রূপ হলো ১- সদ্যোজাত২- বামদেব৩-অঘোর৪- তৎপুরুষ৫- ঈশানবিভিন্ন শাস্ত্র অনুসারে আবার এই পাঁচটি রূপ পঞ্চভূত, পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় ও পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয়ের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।দেবাদিদেবের পঞ্চানন রূপের আরো একটি ব্যাখ্যা হয় যেখানে পঞ্চানন শিবের এক লৌকিক রূপ। গ্রাম বাংলায় বহু জায়গায় পঞ্চানন শিবের মন্দির আছে। স্থানীয় ভাষায় তিনি “বাবাঠাকুর” নামে পরিচিত। আবার কারও কারও মতে তিনি “পাঁচু ঠাকুর”যিনি শিবের ই একটি বিশেষ রূপ।গ্রাম বাংলায় লৌকিক দেবতা রূপে পূজিত পঞ্চানন ঠাকুরের সঙ্গে থাকেন তাঁর দুই অনুচর। ধনুষ্টংকার এবং জরাসুর নামক দুই অপদেবতা। এছাড়া থাকে ভূত-প্রেত, ঘোড়া ইত্যাদি পশু। যাআবার অনেকের মতে তিনি শিবের পুত্র বা অবতার অনেকটা দক্ষযজ্ঞকালে জন্ম নেওয়া বীরভদ্রের মত।বাংলার অন্যতম প্রাচীন তথা জনপ্রিয় লৌকিক দেবতা “ধর্মঠাকুর” আসলে শিবের পঞ্চানন রূপ বলেই অনেকে মনে করেন।দেবাদিদেব নানা রূপে পূজিত হন তবে তার পুজোকরে তার কৃপা লাভ করার শ্রেষ্ট তিথি আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারী অর্থাৎ শিব চতুর্দশী। জ্যোতিষ শাস্ত্রমতে গ্রহের প্রতিকারের জন্যও এই তিথি অন্যতম শ্রেষ্ঠ।ফিরে আসবো পরের পর্বে। থাকবে শিব সংক্রান্ত আরো অনেক আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।