Home Blog Page 91

শিবের পাঁচটি প্ৰিয় বস্তু

দেবাদি দেব মহাদেবকে তুষ্ট করতে ও তাঁর কৃপা পেতে শ্রাবন মাসে ব্রত রাখেন অনেকেই।এই সময়ে যত শিব বিষয়ে পাঠ করা যায় এবং শিব তত্ত্ব শোনা যায় ততো ভালো|আজ আপনাদের শিবের পাঁচটি বিশেষ অলংকারের কথা জানাবো যা সর্বদা শিবের সঙ্গে থাকে এবং এগুলি অর্পণ করে শিবকে সহজেতুষ্ট করা যায়।প্রথমেই বলবো ত্রিশূলের কথা।মহাদেবের ত্রিশূল তিনটি শক্তির প্রতীক। জ্ঞান, ইচ্ছা ও সম্মতি প্রদান করেন মহাদেব। আবার কথিত আছে, শিবের ত্রিশূল প্রতিটি মানুষকে তার কর্ম হিসেবে শাস্তি দেয়। ঘরে সুখ শান্তি বৃদ্ধি করত ত্রিশূল রাখুন। অনেকে শিবের মূর্তির পাশে ত্রিশূল রেখে থাকেন। বহু মন্দিরে প্রতিদিন শিবের ত্রিশূলের পুজো করা হয়।বাস্তু মতে গৃহে ত্রিশূল থাকলে এটি সমস্ত ক্ষতি ও দুঃখের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করে। শিব শিব কে ত্রিশুল নিবেদন করতে পারেন এতে সহজেই মহাদেবের আশীর্বাদ পাবেন।দ্বিতীয় স্থানে রাখবো রুদ্রাক্ষ। শাস্ত্রে রুদ্রাক্ষের গুরুত্ব রয়েছে বিস্তর। মহাদেবের সঙ্গে যোগ রয়েছে এই গাছের। কথিত আছে, ভগবান শিব কঠিন তপস্যার পর চোখ খুলতে তাঁর চোখ থেকে অশ্রু নির্গত হয়। যা মাটিতে পড়তে সেই অশ্রু থেকে তৈরি হয় রুদ্রাক্ষ গাছ।রুদ্রাক্ষ ও মহাদেব প্রায় সমার্থক। মহাদেবের খুব প্ৰিয় অলংকার রুদ্রাক্ষ যারা মধ্যে রয়েছে অফুরন্ত শক্তির ভান্ডার|জ্যোতিষ শাস্ত্রে গ্রহ অনুসারে রুদ্রাক্ষ ধারন করে প্রতিকারের কথা বলা হয়|শ্রাবন মাসে শিব লিঙ্গেযদি রুদ্রাক্ষ অর্পণ করাযায়। শিব কৃপা লাভ হয়।তৃতীয় হলো ডমরু শিবের অন্যতম প্ৰিয় বস্তু এটি ।শিবের হাতে ডমরু নামে এই বাদ্যযন্ত্র সর্বদা দেখা যায়। শিব নটরাজ নামেও খ্যাত। কথিত আছে ডমরু বাজিয়ে তিনি নৃত্য করেন। শিব এই কারণে নটরাজ নামেও খ্যাত।শিবের ত্রিশূলে সব সময় বাঁধা থাকে ডমরু। আবার তন্ত্র শাস্ত্রে বলা হয় শিবের ডমরু থেকে তন্ত্রের জন্ম হয়েছে।ডমরু আবার বেদ ও তার উপদেশের প্রতীক। মনে করা হয়, ডমরু বাজিয়ে শিব পুজো করলে মঙ্গল হয়। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, শিব ডমরুর শব্দ শুনলে খুশি হন। তাই তাঁকে আনন্দ দিতেপুজোর সময় ডমরু বাজাতে পারেন অথবা শিবশ্রাবন মাসে শিবকে ডমরু নিবেদন করে নিজের মনোস্কামনা জানান।আপনার মনোস্কামনা দ্রুত পূর্ণ হবে।শিব তার গায়ে ভশ্ম মাখতে ভালো বাসেন।পুরান মতে এই ভস্ম এনে দিতো শিবের এক ভক্ত যার নাম ভশমাসুর। একদিন সে যখন জানালো যেসে আর ভশ্ম খুঁজে পাচ্ছে না এবং যদি মহাদেব তাকে বর দেন যে তার স্পর্শে যেকোনো জীব এবং বস্তু ভস্মতে পরিণত হবে তাহলে তার কাজের সুবিধা হবে। ভোলানাথ তথাস্তু বলে দিলেন।পরবর্তীতে ভক্ত তার আরাধ্যকেই ভশ্মিভুত করতে চাইলে শ্রী বিষ্ণু অবতীর্ণ হয়ে কৌশল খাটিয়ে ভশমাসুরকে বধ করেন।শ্রাবন মাসে শিবকে ভশ্ম নিবেদন করলে শিব সন্তুষ্ট হন এবং মনোস্কামনা পূর্ণ করেন।যদিও বাস্তবে বাঘছাল অর্পণ আমাদের দেশের আইন অনুসারে সম্ভব নয়। তবুও শিবের এটি অন্যতম প্ৰিয় বস্তু। পৌরুষ এবং অফুরন্ততেজের প্রতীক এই বাঘ ছাল মহাদেবের অঙ্গে স্থান পায়।সমগ্র শ্রাবন মাস জুড়ে থাকছে শিব নিয়ে নানা তথ্য। পৌরাণিক ঘটনা এবং শাস্ত্রীয় বিধি নিষেধ।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবাদিদেব মহাদেবের কিছু অদ্ভুত রহস্য

শ্রাবন মাস শিবের মাস তা আমরা সবাই শ্রাবন মাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় উপাচার নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি। তবে শুধু উপাচার নয় এই মাসে শিব কথা শোনা,শিব পুরান পাঠ এবং শিব মাহাত্ম আলোচনা করার ও আলাদা তাৎপর্য আছে। আজ আপনাদের শিবের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিছু দিব্য বস্তুর অন্তর্নিহিত গুরুত্ব জানাবো।শিব তার জটায় গঙ্গা কে স্থান দিয়েছেন এবং তার ভয়ংকর গতি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করেছেন।গঙ্গা নিষ্কলুষ জ্ঞানের প্রতিনিধিত্ব করে।যখন শিবের মতই আমাদের হৃদয় স্থির হয়তখনই পরম জ্ঞান লাভ হয়।সাপ হচ্ছে কুলকুণ্ডলীনি শক্তির প্রতীক।আবার সর্প মানে ভয় আতঙ্ক যদি যিনি ভয় কে গলায় জড়িয়ে রাখেন তিনি ভয় যার অঙ্গের ভূষণ তিনি দেবাদিদেব মহাদেব।শিবের অঙ্গে ভষ্ম থাকে এটা জীবনের অনিত্যতাকে স্মরন করিয়ে দেয়। এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমাদেরও একদিন ভষ্মে পরিণত হতে হবে। এই ভস্ম শিবের খুবই প্ৰিয়।শিবের জটায় থাকে চন্দ্র চন্দ্র সর্বদাই মনের সাথে সম্পর্কিত। এটি জীবনের সকল পরিস্থিতিতে সুখী থাকা এবং মনের উপর নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার প্রতীক।স্বয়ং শিব এই চন্দ্র কে ধারণ করেন অর্থাৎ তিনি মন এবং মানসিক শক্তির নিয়ন্ত্রক।ডমরু শিবের অসীম তথা উন্মুক্ত চিন্তাচেতনার প্রতীক।আবার তন্ত্র শাস্ত্র মতে এই ডমরু থেকেই তন্ত্রের জন্ম হয়েছে।শিবের নীলাভ শরীরের ও অন্তর্নিহিত অর্থ আছে।আকাশ অন্তহীন শিবও তেমনি অন্তহীন। নীলাভ শরীর অন্তহীন আকাশের মতই শিবের অন্তহীনতাতথা অসীমতার প্রতীক।শিব প্রকৃতির তিনগুন নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন সত্ত রজ এবং তম গুন।ত্রিশূল তারই প্রতীক। তিনি এটির মাধ্যমে সকলকে নিজ নিজ ধর্ম পালনে উৎসাহিত করে থাকেন। আবার সৃষ্টি এবং ধ্বংশ এই ত্রিশূলের মাধ্যমেই হয়।শিবকে নিয়ে রহস্যর শেষ নেই।শ্রাবন মাস জুড়ে থাকছে শিব নিয়ে নানা তথ্য। পৌরাণিক ঘটনা এবং শাস্ত্রীয় উপাচার। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শ্রাবন মাসে শিবকে সন্তুষ্ট করার সহজ উপায়

শ্রাবন মাসে কোনো দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনা করা হয় এবং কেনো তিনি এই মাসেইতার ভক্ত দের দাকে দ্রুত সারা দিয়ে থাকেনতার দুটি পৌরাণিক কারন আছে।শিবকে স্বামীরূপে পাওয়ার জন্য পার্বতী দীর্ঘ সময় তপস্যা করেন এবং কঠোর সাধনা করে শিবকে সন্তুষ্ট করলে পার্বতীকে বিবাহ করতে রাজি হন মহাদেব।শাস্ত্র মতে শ্রাবন মাসেই হর গৌরীর এই আধ্যাত্মিক মহা মিলন ঘটেছিলো তাই শ্রাবন মাসেসহজেই শিবকে প্রসন্ন করে তার কৃপা লাভ হয়।দ্বিতীয় পৌরাণিত কাহিনি অনুযায়ী শ্রাবণ মাসেই সমুদ্র মন্থনের ঘটনা ঘটেছিল। সমুদ্র উত্থিত হলাহল বিষ থেকে গোটা ধরিত্রীকে রক্ষা করার জন্য স্বয়ং মহাদেব নিজ কণ্ঠে সেই বিষধারণ করেছিলেন। বিষের প্রভাবে নীল কণ্ঠ রুপী শিবের শরীরে বিষের তীব্রতা হ্রাস করার জন্য স্বর্গের দেবতারা শিবের মাথায় গঙ্গাজল ঢালতে থাকেন। সেই থেকেই শুরু হয় শ্রাবণ মাসেশিবের মাথায় গঙ্গাজল এবং বেলপাতা অর্পণ। তবে শুধুই বেলপাতা গঙ্গা জল বা দুধ নয়।শাস্ত্র মতে আরো কিছু উপাদান এবং সহজসরল উপাচার আছে যা পালন করে আপনারা দেবাদিদেবের কৃপায় অনেক জটিল সমস্যার সমাধান পাবেন। এবার আসুন জেনে নিই এমনই বেশ কিছু উপাচার এবং তার গুরুত্ব।শ্রাবন মাসে শিবরাত্রির দিন ১০৮টা বেলপাতায় সাদা চন্দন মাখিয়ে শিব পুজো করলে সম্পদ লাভ হয় দুঃখ কষ্ট লাঘব হয়।শ্রাবন মাসে শিবরাত্রির দিন দুধ, দই, ঘি, মধু, চিনি পঞ্চামৃত সহযোগে “ওঁ পার্বতী পতয়ে হরায়ে নমঃ”- এই মন্ত্রে ১০৮ বার শিবের অভিষেক করলে বিবাহের বাধা দূর হয় বিবাহিত জীবন ও সুন্দর হয় শ্রাবন মাসের প্রতি সোমবার ১০৮টা বট পাতায় সাদা চন্দন এবং কর্পূর মিশিয়ে ভগবান শিবকে পুজো করলে স্বামী এবং সন্তান ভাগ্য ভালো হয়।শ্রাবন মাসে ভগবান শিবকে মধু আর কর্পূর নিবেদন করলে গোপন শত্রুতা দূর হয় জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ হয়।শ্রাবন মাসে দুধ ও সিদ্ধি সহযোগেশিবলিঙ্গের অভিষেক করলে মানসিক অবসাদদূর হয় এবং গৃহে শান্তি আসে।শ্রাবন মাস জুড়ে থাকছে শিব নিয়ে নানা তথ্য। পৌরাণিক ঘটনার এবং এমন সব কার্যকরী শাস্ত্রীয় আলোচনা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কোন ফুলে শিব পুজো করলে কি লাভ হবে

মহাদেবের আশীর্বাদ পেতে শ্রাবন মাসে শিবের আরাধনা করতে ভুলবেন না শ্রাবন মাসে অতি সহজেই দেবাদিদেব মহাদেবকে তুষ্ট করা যায় এবং শিবকৃপা লাভ করে জীবনের অনেক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। শ্রাবন মাসে খুব সহজেই শিবের প্ৰিয় ফুল অর্পণ করে তাকে সন্তুষ্ট করা যায়|আসুন আজ জেনে নিই কোন ফুল অর্পণ করলে কি ফল লাভ করবেন।

ধূতরা ফুল ও বেলপাতা মহাদেবের অত্যন্ত পছন্দের।ধুতরা ফুল অর্পন করলে মানসিক অবসাদ দূর হয় এবং ভালো কর্ম প্রাপ্তি হয়।
অপরাজিতা ফুল শিবের পছন্দের এবং এই
ফুল মহাদেবের অপার সহ্য শক্তির প্রতীক এই ফুল শিব পুজোয় ব্যবহৃত হয়।আপনারাও অপরাজিতা ফুল মহাদেবের পুজোয় ব্যাবহার করুন এতে অর্থ কষ্ট এবং পারিবারিক বিবাদ
দূর হয়।

শাস্ত্র মতে চাঁপা ফুলের গন্ধ আশীর্বাদ ও শুভকামনা বয়ে আনে। মন ভালো করে দেওয়া গন্ধের চাঁপা ফুল শিবের পায়ে উত্‍সর্গ করুন ।গোপন শত্রুতা থেকে সুরক্ষিত থাকবেন।

আকন্দ ফুলের মালা শিব লিঙ্গে অর্পণ করুন মহাদেবে সন্তুষ্ট হবেন এবং দ্রুত আপনার সব মনোস্কামনা পূর্ণ করবেন।

শাস্ত্র মতে কল্কে ফুলের গাঢ় হলুদ রং ত্যাগের প্রতীক। দেবাদিদেব মহাদেব নিজেও ত্যাগ ও তিতিক্ষার প্রতীক। তাই কল্কে ফুল দিয়ে শিবপুজো করা হয়ে থাকে|শ্রাবন মাসে শিবের পুজোয় কল্কে ফুল রাখুন দাম্পত্য জীবন সুখের হবে।

ছোট্ট ছোট্ট জুঁই ফুলের অপূর্ব মিষ্টি সুবাস মহাদেবকে উত্‍সর্গ করা হয়ে থাকে।
দেবাদিদেবের অত্যন্ত পছন্দের এই ফুল|মহাদেবের উদ্দেশ্যে জুঁই ফুল নিবেদন করুন।
সম্পদ ও ঐশর্যর অধিকারী হবেন।

আশাকরি আজকের পর্বের এই তথ্য আপনাদের ভালো লাগবে|শ্রাবন মাসে এমন আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাবেন।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

​শিব লিঙ্গে কী কী অর্পণ করবেন না

এই পবিত্র শ্রাবন মাসে শিব পুজো বা শাস্ত্র মতে নানা বিধ উপাদান দিয়ে শিবলিঙ্গের বিশেষ অভিষেক করলে নানা রকম প্রাপ্তি হয়। কিন্তু এমন বহু উপাদান আছে যা শিব লিঙ্গে নিবেদন করলে ভালোর পরিবর্তে খারাপ হয়। আসুন জেনে নিই শাস্ত্র নিই কোন কোন সামগ্রী শিব লিঙ্গে অর্পণ করবেন না এবং শিব পুজোয় কোন জিনিস গুলি ব্যাবহার করবেন না।শিবের মাথায় জল ঢালার সময় তামা বা পিতলের পাত্র ব্যবহার করতে হবে। স্টিল বা লোহার পাত্র ব্যবহার করা যাবে না।তুলসী বৈষ্ণব দের কাছে অত্যান্ত পবিত্র কিন্তু তুলসী পাতা শিবের পুজোয় ব্যবহার করা যাবে না বা শিব লিঙ্গে তুলসী অর্পণ করা যাবেনা।শঙ্খ দ্বারা শিব লিঙ্গের অভিষেক বা শিব পুজোয় শঙ্খের ব্যবহার না করাই ভাল। শিব লিঙ্গে শঙ্খ অর্পণ করা থেকেও বিরত থাকুন।সাদা রঙের সব ফুলই শিব পছন্দ করেন, তবে সাদা চম্পা বা কেতকী এই দু’টি ফুল শিবকে অর্পণ করবেন না।এই দুটি ফুল শিব পুজোয় নিষিদ্ধ।দুধ দিয়ে শিব লিঙ্গের অভিষেক করলে মনোস্কামনা পূর্ণ হয় কিন্তু গরুর খাঁটি দুধ ব্যবহার করতে হবে।প্যাকেট দুধ ব্যবহার না করাই শ্রেয়।বিভিন্ন দেব দেবীর পুজোয় আপনারা নারকেল ব্যবহার করে থাকেন কিন্তু এই নারকেল শিব পুজোয় ব্যবহার করা যাবে না।বজরংবলীকে সিঁদুর নিবেদন করার রীতি আছে। বিভিন্ন দেবীর পুজোতেও সিঁদুর ব্যবহার হয়তবে সিঁদুর কোনও ভাবেই শিব পুজোয় দেবেন না।এতে অমঙ্গল হয়।তিল মহাদেবের পুজোয় ব্যবহার করা যাবে না।তাই শিব লিঙ্গে তিল অর্পন করা থেকে বিরত থাকুন।এই শ্রাবন মাস শিব কৃপা লাভ করার জন্য শ্রেষ্ঠ সময় তাই শ্রাবন মাস জুড়ে থাকবে এমনই সব শিব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে লেখা লেখি ।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শ্রাবন মাসে রাশি অনুসারে রুদ্রাক্ষর প্রয়োগ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শ্রাবন মাস যেমন শিবের প্ৰিয় মাস তেমনই শিবের অত্যান্ত প্ৰিয় একটি উপাদান হলো রুদ্রাক্ষ যা কিনা শিবেরই অংশ।জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে রত্নের ন্যায় প্রতিটি গ্রহের নিজস্ব রুদ্রাক্ষ আছে তাই স্বাভাবিক ভাবেই রাশি ও লগ্ন সাপেক্ষে রুদ্রাক্ষ ধারণ করলে অধিক ভালো ফল লাভ হয়। শুধু ধারণ করা নয় বাস্তু শাস্ত্রে এবং বিভিন্ন টোটকা বা উপাচারেও রুদ্রাক্ষ ব্যাবহার হয়। আজকের পর্বে আসুন জেনে নিই এই শ্রাবন মাসে কে কোন রুদ্রাক্ষ কি ভাবে ব্যাবহার করলে কি ফল পাবেন।

মেষ এবং বৃশ্চিক রাশির বা লগ্নের জাতক জাতিকা দের জন্য ৩ মুখী রুদ্রাক্ষ বিশেষ শুভ। আপনারা শ্রাবন মাসে শিব লিঙ্গে এই রুদ্রাক্ষ নিবেদন করে ধারণ বা গৃহে স্থাপন করতে পারেন এতে আপনাদের মনোস্কামনা দ্রুত পূর্ণ হবে।

বৃষ এবং তুলা রাশির বা লগ্নের জাতক জাতিকাদের জন্য ৬ মুখী রুদ্রাক্ষ অত্যাত্ন শুভ গ্রহগত যেকোনো দোষ দূর করতে আপনারা এই রুদ্রাক্ষ শ্রাবনের যেকোনো শুক্রবার শিব লিঙ্গে অর্পণ করুন।

যাদের মিথুন এবং কন্যা রাশি সেই সব জাতক-জাতিকারা ৪ মুখী রুদ্রাক্ষের মালা শিব লিঙ্গে অর্পণ করে সবুজ কাপড়ে মুড়ে ক্যাশ বাক্সে রাখুন এতে আপনাদের অর্থ কষ্ট দূর হবে।

কর্কট রাশির এবং লগ্নের জাতক-জাতিকারা ২ মুখী রুদ্রাক্ষ শ্রাবন মাসের যেকোনো সোমবার শিব লিঙ্গে স্পর্শ করিয়ে এবং গঙ্গা জল ও দুধ দিয়ে স্নান করিয়ে ধারণ করুন বা কাছে রাখুন এতে অবসাদ দূর হয় মানসিক শান্তি আসে।

সিংহ রাশির জাতক জাতিকারা ১ মুখী রুদ্রাক্ষ শিব লিঙ্গে অর্পণ করুন এবং ওম নমঃ শিবায় জপ করুন তারপর লাল সুতোয় ধারণ করতে পারেন। বাস্তু দোষ দূর করতে প্রধান দরজায় ও স্থাপন করতে পারেন এতে সুখ ও সমৃদ্ধি আসবে।

ধনু ও মীন রাশির জাতকরা ৫মুখী রুদ্রাক্ষ শিব লিঙ্গে অর্পন করে মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ করুন। পরে রুদ্রাক্ষটি গৃহ মন্দিরে স্থাপন করুন।
এতে রোগ ভোগ আপনাদের থেকে দূরে থাকবে।

মকর ও কুম্ভ রাশির বা লগ্নের জাতক জাতিকারা ৭ মুখী রুদ্রাক্ষ শনি মন্দিরে দান করুন এতে গ্রহ রাজ আপনাদের উপর প্রসন্ন হবেন এবং জীবনে সাফল্য আসবে।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। শ্রাবন মাস জুড়ে থাকবে এমনই সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

শ্রাবন মাসে রাশি অনুসারে কে কি ভোগ নিবেদন করবেন?

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

যদিও শিব ভক্তরা সারা বছরই শিব পুজো করেন।দেবাদিদেব ও তার প্রকৃত ভক্তদের সর্বদা কৃপা করেন তবুও শ্রাবন মাস বিশেষ শিব কৃপা লাভ পাওয়ার জন্য কারন শ্রাবন মাস শিবের মাস। এই শ্রাবন মাসে কিছু সহজ সরল শাস্ত্রীয় উপাচার যেনম বিশেষ ভাবে কার্যকরী হয়ে ওঠে তেমনই যদি কেউ নিজের রাশি অনুসারে মহাদেবকে ভোগনিবেদন করে তার জীবন থেকে সব দুঃখ কষ্টদূর হয়। আসুন আজ জেনে নিই রাশি অনুসারে আপনি কোন ভোগ দিয়ে শিব পুজো করবেন।মেষ রাশির অধিপতি মঙ্গল। শ্রাবণ মাসে এই রাশির জাতকরা শিবকে কালো আঙুর, কিশমিশ এবং মিশ্রী অর্পণ করতে পারেন সাথে যেকোনো লাল রঙের মিষ্টিও নিবেদন করুন।এতে আপনার দারিদ্রতা দূর হবে শিবের আশীর্বাদ লাভের জন্য বৃষ রাশির জাতকদের কাজু বাদাম এবং হলুদ মিষ্টি দিয়ে ভোগ নিবেদন করুন । শ্রাবণ মাসে এই উপায় করলে শিব প্রসন্ন হবেন এবং বৃষ রাশির জাতক জাতিকারা শুভ ফল পাবেন।বুধ  মিথুন রাশির অধিপতি। জ্যোতিষ মতে শ্রাবন মাসে আপনারা দুধ, সবুজ বেলপাতা এবং পেস্তা অর্পণ করলে আপনাদের সবদিক দিয়ে কল্যান হবে।চন্দ্র এই কর্কট রাশির অধিপতি এই রাশির তত্ত্ব জল আবার শিব নিজের মস্তকে চন্দ্র ধারণ করে থাকেন। শ্রাবণ মাসে কর্কট জাতকরা যদিশিবকে মাখন এবং গঙ্গা জল নিবেদন করেন আপনাদের সব বাঁধা বিপত্তি দূর হবে।গ্রহের রাজা সূর্য সিংহ রাশির অধিপতি। সিংহ রাশির জাতকরা শ্রাবণ মাসে লাল চন্দন নিবেদন করুন এবং মধু ভোগ হিসেবে নিবেদন করুন। আপনাদের শান্তি এবং সমৃদ্ধি লাভ হবে।বুধ কন্যা রাশির অধিপতি আপনারা সবুজআঙ্গুর এবং যেকোনো সবুজ মিষ্টি ভোগ হিসেবে অর্পণ করতে পারেন মহাদেবকে।শিব কৃপা লাভকরবেন।সুখ এবং সৌভাগ্যের কারক গ্রহ শুক্র তুলা রাশির অধিপতি। আপনারা নারকেল ও মিশ্রী অর্পণ করলে সৌভাগ্য বৃদ্ধি হবে।বৃশ্চিক রাশি মঙ্গলের সাহস ও পরাক্রমের কারক গ্রহ যাদের এই রাশি তারা আখরোটের ভোগ নিবেদন করতে পারেন।এতে আত্ম বিশ্বাস বাড়বে এবং জীবন যুদ্ধে জয় নিশ্চিত হবে।বৃহস্পতি ধনু রাশির অধিপতি। শ্রাবণ মাসের যে কোনও সোমবার শিবকে জাফরান ও খেজুরের ভোগ নিবেদন করলে শিব কৃপায় সব বিপদ জীবন থেকে দূর হবে।মকর রাশি গ্রহ রাজ শনির রাশি। যাদের মকর রাশি তারা শিবকে ডুমুর নিবেদন করুন এবং অপরাজিতা ফুল অর্পণ করুন শিব প্রসন্ন হবেন। পাশাপাশি শনিও গ্রহ ও শান্ত থাকবেন।জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে মকরের মতো শনি কুম্ভ রাশিরও অধিপতি। জ্যোতিষ মতে কুম্ভ রাশির জাতকরা শ্রাবণ মাসে সুপুড়ি ও আখের রস নিবেদন করলে দ্রুত মনোস্কামনা পূর্ণ হবে।দেবগুরু বৃহস্পতি মীন রাশির অধিপতি। শ্রাবণ মাসের যে কোনও সোমবার মীন রাশির জাতক জাতিকারা শিব লিঙ্গে জাফরান নিবেদন করুন।আপনাদের সংসার সুখের হবে।শ্রাবন মাস জুড়ে থাকবে শিব নিয়ে নানা তথ্য। পৌরাণিক ঘটনার এবং এমন সব কার্যকরী শাস্ত্রীয় টোটকা। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – জগন্নাথ মন্দিরের গুপ্তধন রহস্য

সনাতন ধর্মের পবিত্র চার ধামের মধ্যে পুরীর জগন্নাথ মন্দির অবশ্যই অন্যতম|পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য আছে যা কিন্তু যথেষ্ট রহস্যে মোড়া, তারমধ্যে অন্যতম প্রভু জগন্নাথের রত্নভান্ডার যাকে গুপ্ত ধন বালাই যায় কারন আজ অবধি সেই সঞ্চিত ধন ভাণ্ডারে ঠিক কি কি আছে তার কোনো সঠিক হদিশ পাওয়া যায়নি। আজকের লেখা এই গুপ্তধন রহস্য নিয়ে।একটি সরকারি তথ্য অনুসারে মন্দিরের কোষাগারে রয়েছে সোনার হার, মূল্যবান রত্ন পাথর, সোনার থালা, মুক্তা, হীরা, প্রবাল ও রৌপ্য সামগ্রী।জগন্নাথের মাথার ব্রহ্মজ্যোতি হিরে, বলরামের মাথার নীলা বা সুভদ্রার মাথার মানিক, সবই রত্নভান্ডারে রাখা আছে।যে ব্রহ্মজ্যোতি হীরের কথা বললাম প্রতি বছর চিতালগি অমাবস্যায় এই আভরণ মাথায় ধারণ করেন প্রভু। আর স্নানযাত্রার সময় সেই হীরকখচিত আভূষণ তাঁর মাথা থেকে সরিয়ে রত্ন ভাণ্ডারে রেখে দেয়া হয়।একটি জনশ্রুতি আছে যে একবার এক সেবায়েত রত্ন ভাণ্ডারে দৃষ্টি নিঃক্ষেপ করায় রত্নের তেজে তার দৃষ্টি শক্তি চলে যায়।পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দীরের আর একটি রহস্য হলও গুপ্তধনের চাবীর রহস্য।বাহির ভান্ডার এবং ভিতর ভান্ডার এই দুই ভাগে বিভক্ত প্রভু জগন্নাথের রত্ন ভান্ডার যেখানে ঢোকার চাবি তিন জোড়া। পুরীর গজপতি রাজা, মন্দিরের সরকারি প্রশাসকের অফিস আর ভান্ডারের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর জিম্মাদারের কাছে চাবি গুলি রাখা থাকে। তিন মাথা একত্র না হলে বাহির-ভান্ডারই খুলবে না। সেখানেই রাখা থাকে বিভিন্ন পালাপার্বণে প্রভুর বেশভূষা— উল্টোরথে মন্দির প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে রথারূঢ় জগন্নাথের সোনার বেশ বা মন্দিরের রাজরাজেশ্বর বেশের ধড়াচুড়ো। ভিতর-ভান্ডারের সম্পদ সচরাচর জগন্নাথের কাজে লাগে না।প্রসঙ্গত বলে রাখি মহারাজা রঞ্জিত সিং কোহিনূর হিরে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে দানের সিদ্ধান্ত নেন। তবে সেই ইচ্ছা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই রঞ্জিত সিংয়ের মৃত্যু হয় তারপর রঞ্জিৎ সিংয়ের ছেলে দলিপ সিংয়ের থেকে এই হিরে চলে যায় ইংল্যান্ডে।সেক্ষেত্রে কোহিনূর হিরের আসল মালিক জগন্নাথ দেব এবং তার প্রকৃত স্থান জগন্নাথ দেবের এই বিখ্যাত রত্ন ভাণ্ডারেই হওয়া উচিৎ।অনেকের মতে মন্দিরের উচ্চতা যত ঠিক ততটাই এই মন্দিরের গুপ্তধনের পরিমাণ। যা স্বর্ণ এবং যহরতে পরিপূর্ন। কথিত আছে কোনো এক অলৌকিক শক্তি এই গুপ্তধনের পাহাড়া দিচ্ছে।আজ এই বিশেষ পর্ব এখানেই শেষ করছি|ফিরবো আগামী পর্বে সঙ্গে থাকবে এমনই কোনো আধ্যাত্মিক এবং রহস্যময় বিষয়।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – শিবধাম কৈলাশ রহস্য

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শাস্ত্রে কৈলাস পর্বতকে শিবের ‘লীলাধাম’ বলা হয়েছে কারন শিব এবং তার সহধর্মিনী দুর্গা ও কার্তিক গণেশ সহ শিবের সকল অনুসারী ভক্তরা কৈলাসে বাস করেন|আজকের পর্বে এই কৈলাশপর্বত সম্পর্কে কিছু অজানা কথা কিছু রহস্যময় তথ্য আপনাদের সাথে ভাগ করে নেবো।প্রতি বছর বহু মানুষ মানস সরোবর যাত্রা করেন। তবে কৈলাস পর্বতের শৃঙ্গে এখনও পর্যন্ত কেউ উঠতে পারেননি। একটি নির্দিষ্ট পয়েন্টের পর যাওয়া সেখানে নিষিদ্ধ। ঠিক পিরামিডের আকারের এই পাহাড়ে অনেক প্রাচীন গুম্ফা ও গুহা রয়েছে। যেখানে দেখা মিলতে পারে বৌদ্ধ ও হিন্দু সন্ন্যাসীদের। এই সন্ন্যাসীরা লোকচক্ষুর আড়ালে বহু বছর ধরে তপস্যা করে চলেছেন।তিব্বত মালভূমি থেকে প্রায় কুড়ি হাজার ফুটের বেশি ওপরে অবস্থিত কৈলাস হিন্দু সম্প্রদায় ছাড়াও বৌদ্ধদের কাছেও অত্যন্ত পবিত্র ধর্মীয় স্থান|কৈলাস পর্বতকেই পৃথিবীর কেন্দ্র বলা হয়ে থাকে।অনেকে বলে থাকেন কৈলাস পর্বত থেকে ফেরার পরে হঠাত্‍ করে চুল ও নখ বেশ কিছুটা বড় হয়ে যায়। আবার কথিত আছে, একবার কয়েকজন সাইবেরিয়ান পর্বতারোহী কৈলাস পর্বতের নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাদের বয়স কয়েক দশক বেড়ে যায় এবং এর এক বছর পরেই বয়সজনিত কারণে মৃত্যু হয় তাঁদের|এসবই অবশ্য প্রচলিত জনশ্রুতি বা কিংবদন্তী|একটি ব্যাখ্যা অনুসারে সময়ের ধরা বাঁধা গন্ডির বাইরে অবস্থিত এই পর্বত তাই এখানে নিদ্দিষ্ট এরিয়ার বাইরে নিষিদ্ধ জায়গায় যাওয়া মানে টাইম মেশিনে চড়ে অন্য সময়ে গিয়ে পড়া। তাই এই সব হয়।তিব্বতি লোককথা অনুযায়ী, মিলারেপা নামে এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসী একবার কৈলাস পর্বতের শীর্ষের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি সবাইকে সাবধান করে দেন যে ঈশ্বরের বাসস্থানে না যাওয়াই ভালো। মানস সরবোর ছাড়াও কৈলাস পর্বতের নীচে রয়েছে আরও একটি অপরূপ সুন্দর হৃদ রাক্ষস তাল।প্রায় পনেরো হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত মানস সরোবর বিশ্বের উচ্চতম মিষ্টি জলের হৃদ। আরও একটি আশ্চর্যের বিষয় যত জোরেই হাওয়া থাকুক এই মানস সরোবরের জল সবসময়ই শান্ত কিন্তু রাক্ষসতালের জল সব সময় অশান্ত থাকে। বিখ্যাত এক রাশিয়ান চিত্রকার বহুকাল এই অঞ্চলে কাটিয়ে তার অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করেছিলেন, তার কথায় কৈলাসের আসেপাশে শাম্বালা নামের একটি রহস্যময় রাজ্য আছে। সেখানে শুধু উচ্চ কোটির তপস্যিরা বসবাস করেন|এই শাম্বালাই অনেকের মতে জ্ঞান গঞ্জ যার কথা আগেই আপনাদের বলেছি।বেশ কিছু বছর আগে আরো একটি রাশিয়ান অভিযাত্রী দল কৈলাশ অভিযানে গেছিলো তারা ফিরে এসে জানায় যে কৈলাশ সম্ভবত একটি বড় পিরামিড যাকে অনেক ছোট ছোট পিরামিড ঘিরে আছে আর সেখানে বহু অলৌকিক ঘটনা ঘটে।সেই অভিযাত্রী দলের নেতা এর্নেস্ট নিজের ডাইরি তে লিখেছিলেন যে রাতের নিশ্তব্দতায় পাহাড়ের ভিতর থেকে একটি আজব ফিসফিস এর শব্দ আসে। একবার নয় বহু বার এমন অভিযান হয়েছে এবং সবাই স্বীকার করেছেন যে কৈলাস পর্বতের চারিদিকে একটি অপার্থিব এবং অলৌকিক শক্তির স্রোত বয়ে চলে|যেখানে বাস করেন স্বয়ং মহাদেব সেই স্থান ঘিরে রহস্য ও অলৌকিক ঘটনা ঘটবে সেটাই স্বাভাবিক।ফিরে আসবো আগামী পর্বে থাকবে এমনই কোনো অলৌকিক ও রহস্যময় বিষয় নিয়ে আলোচনা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – তিরুপতি বালাজি রহস্য

ভগবান বহুবার বহু অবতারে, ভিন্ন ভিন্ন রূপে ভক্তের উদ্ধারের জন্য পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছেন মনে করা হয় কলিযুগের দুঃখ ও যন্ত্রণা থেকে মানব সমাজকে মুক্ত করতে ভগবান বিষ্ণু তিরুমালায় ‘ভেক্টেশ্বর’ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন|আজকের পর্ব আলোচনা করবো দক্ষিণ ভারতের এই তিরুপতি বালাজি মন্দিরের কিছু অদ্ভুত এবং অলৌকিক রহস্যময় বিষয় নিয়ে।তিরুপতি মন্দিরের আরাধ্য দেবতা ভেঙ্কটেশ্বর। তাকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার রূপেই দেখা হয়। তার আরো অনেক নাম আছে যেমন বালাজি গোবিন্দ এবং শ্রীনিবাস।তিরুমালার রাজকুমারী পদ্মাবতীর সঙ্গে শ্রীবিষ্ণুর বিবাহ স্থির হয় এবং এই বিবাহের জন্যই বিষ্ণু সম্পদের দেবতা কুবেরের কাছ থেকে বিবাহ উপলক্ষে বিপুল ঋণ গ্রহণ করেন।ঋণ করার কারণ পদ্মাবতীর বাবা এই অর্থ দাবি করেছিলেন। কুবের এই শর্তে ঋণ দান করেন যে, বিষ্ণু যতদিন পর্যন্ত এই ঋণ শোধ করতে পারছেন না, ততদিন তিনি বৈকুণ্ঠে প্রবেশ করতে পারবেন না। সেই থেকে আজ পর্যন্ত বিষ্ণু কুবেবের ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। ভক্তরা ভগবানকে বিপুল অর্থ ও সম্পদ প্রদান করেন, যাতে তিনি ঋণমুক্ত হন|আজও অগণিত ভক্ত ভগবানের ঋণ পরিশোধ করতে মুক্ত হস্তে দান করে চলেছেন|সেই জন্যই এই মন্দির আজ পৃথিবীর অন্যতম ধনী মন্দির।অনেকেই এই মন্দিরে চুল দান করেন।তার সাথে একটি পৌরাণিক ঘটনার যোগ আছে।একবার ভগবান ভেক্টেশ্বরের মাথায় এক নাবালক রাখাল নিজের অজান্তেই আঘাত করেছিলেন যার ফলে ভগবানের মাথার কিছু অংশের চুল ছিঁড়ে পড়ে যায়। নীলাদেবী নামে এক গন্ধর্ব রাজকুমারী এই ঘটনাটি দেখতে পান| নীলাদেবী মনে করেন, ভগবান ভেক্টেশ্বরের সৌন্দর্যে কোন ক্ষুত থাকা উচিত নয় তিনি তখন নিজের মাথার চুল কেটে জাদুশক্তির সাহায্যে ভগবান ভেক্টেশ্বরের মাথায় প্রতিস্থাপন করেন|নীলাদেবী যেহেতু নিজের সৌন্দর্যের কথা না ভেবে ভগবান ভেক্টেশ্বরের সৌন্দর্যের বিষয়ে ভেবে নিজের মাথার চুল তাঁকে দান করেছিলেন, তাই ভগবান ভেক্টেশ্বরও রাজকুমারী নীলাদেবীকে এক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন|সেই প্রতিশ্রুতি অনুসারে এই ভেক্টেশ্বর মন্দিরে আগত প্রত্যেক ভক্ত তাঁদের নিজের মাথার চুল অর্পণ করবেন ভগবান ভেক্টেশ্বরকে। এবং সেই চুল প্রকৃত অর্থে পাবেন রাজকুমারী নীলাদেবী।সেই প্রথা আজও চলে আসছে|তিরুপতির বালাজি মূর্তির বুকে কান পাতলে শোনা যায় সমুদ্রের শব্দ|ভগবানের কপালে জমে বিন্দু বিন্দু ঘাম|ভগবানের চুল ও কোনো সাধারণ চুল নয়,তা আসল, অকৃত্তিম|বালাজির পূজা সামগ্রীও আসে একটি মাত্র নিদ্দিষ্ট গ্রাম থেকে|এই প্রথা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে|ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরের চোখ কেনো ঢাকা তারও নানা রকম ব্যাখ্যা হয়|অনেকে বিশ্বাস করেন এই বিপুল ঋণের কারণেই লজ্জিত বালাজি নাকি চোখের অর্ধাংশ ঢেকে রাখেন|তবে স্থানীয়রা মনে করেন বালাজির তিরুপতির চোখ যাতে ঢাকা থাকে তা আসলে তিলক|আবার এরেকটি ভিন্ন ব্যাখ্যা আছে তা হলো বালাজির দৃষ্টি অতীব অলৌকিক শক্তি সম্পন্ন। এই শক্তির প্রভাব সকলের সহ্য হবে না তাই ওই বিশেষ তিলক দিয়ে তাঁর নয়নকে অর্ধনিমিলিত রাখা হয় যাতে দর্শনকারী দের ওই মহা তেজের সম্মুখীননা হতে হয়।আমি নিজেও তিরুপতি বালাজি মন্দির দর্শন করেছি এবং এই প্রতিটি রীতি নীতি এবং অদ্ভুত বিষয় গুলি যে প্রতিদিন ঘটে চলেছে তা সামনাসামনি প্রত্যক্ষ করে ধন্য হয়েছি|ভারতে এমন রহস্যর শেষ নেই আবার পরের পর্বে ফিরে আসবো নতুন কোনো আধ্যাত্মিক এবং একইসাথে রহস্যময় বিষয় নিয়ে|পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।