মন্দির রহস্য – পুরুলিয়ার সীতা কুন্ড

199

বাংলায় বহু পৌরাণিক স্থান আছে যা সেই ভাবে প্রচারে আসেনি বা যা নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হয়না। এমনই এক পৌরাণিক মন্দির ও জলাধার আছে পুরুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। মন্দিরটি একটি প্রভু রামের মন্দির এবং জলাধারটি সীতা কুন্ড নামেই পরিচিত।

পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় বেশ জনপ্রিয় পর্যটন স্থল। এই পাহাড়েই আছে বাগান্ডি নামে একটি গ্রাম সেখানেই পাহাড়ি অঞ্চলে রয়েছে পাথর দিয়ে বাঁধানো ঠান্ডা জলের এক প্রাকৃতিক প্রস্রবণ। ‘সীতাকুণ্ড’ নামে পরিচিত এই জলের উৎসটি বেশ অদ্ভুত ভাবে মাটির নিচ থেকে অনবরত বেরিয়ে আসছে। সেই জল যথেষ্ট স্বচ্ছ পরিষ্কার এবং শীতল জল।ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যায় মাছও রয়েছে সেখানে।

সীতা কুন্ডু নামের কারন হলো ত্রেতাযুগে
বনবাসের সময়ে এখানে কয়েকদিন ছিলেন রামচন্দ্র ও সীতাদেবী।তখন গ্রীষ্মের দাবদাহ চলছে। আশপাশে কোথাও পানীয় জল নেই সীতা তৃষ্ণার্থ হয়ে পড়লে প্রভু রামকে জল আনতে বলেন। অন্য কোথাও জল না পেয়ে প্রভু শ্রী রাম তির ছুঁড়ে মাটি ভেদ করে জল বের করে আনেন। সেই তীরের আঘাতে সৃষ্টি হওয়া এই সীতা কুন্ড থেকে এখনও বেরিয়ে চলেছে জল। অদ্ভুত এই কুন্ড দেখতে আসেন বহু মানুষ।

পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় ছাড়াও ভারতীয় উপমহাদেশের আরও অনেক জায়গায় সীতাকুণ্ড দেখা যায় এবং সেই সব জায়গা নিয়েও রয়েছে ত্রেতা যুগের প্রভু শ্রী রাম ও সীতাদেবীকে নিয়ে
বহু এরকম ঘটনা।

স্থানীয় দের কাছে জায়গাটা খুবই পবিত্র।
প্রথা মেনে প্রত্যেক বছর বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে স্থানীয় আদিবাসীরা এখানে পশু শিকারের উৎসবে মেতে ওঠেন।

সীতাকুণ্ডের কাছেই রয়েছে এক বহু প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক রামমন্দির। শোনা যায় প্রস্রবণের আরেকটি মুখ ছিলো যা এখন প্রায় বিপর্যস্ত। সেখান থেকে আর জল বের হয় না এখন।

ফিরে আসবো পরের পর্বে। অন্য কোনো বিষয় নিয়ে। ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করবো
দেবী মাহাত্ম নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।