মন্দির রহস্য – টাঙ্গিনাথ ধাম

232

আজকের পর্বে আপনাদের ঝাড় খন্ডের এক অদ্ভুত এবং রহস্যময় মন্দিরের কথা জানাবো। মানুষের বিশ্বাস এবং জনশ্রুতি অনুসারে এই মন্দিরেই আছে ভগবান পরশুরামের বিখ্যাত
সেই কুঠার।

বিখ্যাত মন্দির রয়েছে ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে ১৭৫ কিলোমিটার দূরে গুমলা জেলায়।
প্রায় ৩০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের ওপর অবস্থিত বাবা টাঙ্গিনাথ ধাম।

বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার হলেন পরশুরাম। পুরান ও অন্য বহু শাস্ত্রে উল্লেখ আছে যে তিনি অমর এবং অবিনাশি আজও তিনি পৃথিবীতেই আছেন।
আর এই টাঙ্গি নাথ এই মন্দিরে রয়েছে তাঁর কুঠার। ভক্তদের বিশ্বাস স্বয়ং পরশুরাম ও এখানে থাকেন।

ত্রেতাযুগে জনকপুরে সীতার স্বয়ম্বর সভায় হরধনু ভেঙেছিলেন শ্রীরামচন্দ্র। শিবের থেকে প্রাপ্ত হরধনু পরশুরাম জনক রাজাকে দিয়েছিলেন। সেই হরধনু ভাঙার খবরে স্বভাবতই পরশুরাম উত্তেজিত হয়ে নিজের ক্রোধ প্রকাশ করেন পরে প্রভু রামের আসল পরিচয় জেনে নিজের ভুল বুঝতে পারেন কৃতকর্মের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য কুঠারটি এক পাহাড়ের ওপর পুঁতে দেন এবং জঙ্গলে গিয়ে তপস্যা শুরু করেন। টাঙ্গিনাথ ধাম সেই স্থান বলেই মনে করা হয়। টাঙ্গিনাথ ধামে পরশুরামের পদচিহ্নও আছে বলে অনেকের ধারণা।

কুঠারকে হিন্দিতে টাঙ্গি বলে।সেই থেকেই নাম টাঙ্গি নাথ।পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে টাঙ্গিনাথ ধাম অত্যন্ত বিখ্যাত।শাস্ত্র মতে ভগবান শিবের থেকেই টাঙ্গি বা কুঠার পেয়েছিলেন পরশুরাম। এই টাঙ্গিনাথ ধামও শিবের মন্দির। এই মন্দির অত্যন্ত প্রাচীন। এখানে পাওয়া বিশাল আকারের কুঠারটি দেখতে অনেকটা ত্রিশূলের মত।

টাঙ্গি নাথ ধামে যে বিশাল টাঙ্গি বা কুঠারটি মাটিতে পুঁতে রাখা আছে তা যুগ যুগ ধরে অক্ষত রয়েছে। তাতে কোনও মরচে ধরেনি। এই কুঠার মাটির নীচেও অনেকখানি রয়েছে। ভক্তদের দাবি, এই কুঠার বহুবার চুরি করা ও ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু, তাতে কোনও লাভ হয়নি। উলটে, যারা এই কুঠার চুরি বা ধ্বংসের চেষ্টা করেছিল, তাদের ক্ষতিই হয়েছে।যেমন একবার স্থানীয় এক উপজাতির লোকজন কুঠারটি উপড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। না-পেরে কুঠারের ওপরের অংশটি কেটে নিয়েছিল। এর জেরে লোহার সম্প্রদায়ের মধ্যে মরক লাগে। বহু মানুষের মৃত্যু হয়। লোহার উপজাতিরাও এই অঞ্চল ছেড়ে চলে যায়।

প্রতি বছর মহাশিবরাত্রি উপলক্ষে তিন দিন ধরে টাঙ্গিনাথ ধামের মন্দির চত্বরে মেলা বসে এবং ব্যাপক ভক্ত সমাগম হয়।

ফিরে আসবো আগামী দিনে। নতুন বিষয় নিয়ে। চলবে ধারাবাহিক আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।