দেবী মাহাত্ম- চট্টেশ্বরী দেবী

223

বাংলাদেশের বিখ্যাত মন্দিরসমূহের মধ্যে অন্যতম শ্রী শ্রী চট্টেশ্বরী কালী মায়ের বিগ্রহ মন্দির যা নিয়ে আমার আজকের পর্ব।জনশ্রুতি মতে এটি একটি সতীপীঠ । যেখানে দেবী সতীর দেহের কোনও একটি অংশ পড়েছিল দক্ষযজ্ঞের পরে ।প্রায় ৩০০-৩৫০ বছর পূর্বে আর্য ঋষি যোগী ও সাধু সন্ন্যাসীদের মাধ্যমে শ্রী শ্রী চট্টেশ্বরী দেবীর প্রকাশ ঘটে। এটি বাংলাদেশের বন্দর নগরী চট্টগ্রামের চট্টেশ্বরী সড়কে তিন পাহাড়ের কোণে অবস্থিত।এখানে মন্দিরের বাঁধানো চত্বরটির বাঁদিকে কালী মন্দির ও ডানদিকে শিব মন্দির।শিব মন্দিরের পাশে রয়েছে একটি কুন্ড।মানুষ বিশ্বাস করেন এই কুন্ডের জলে অলৌকিক ক্ষমতা আছে।চট্টেশ্বরী মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত আদি কালীমূর্তি নিয়ে কিংবদন্তি রয়েছে। মন্দিরের সেবাইতেদের ধারণা অনুযায়ী স্বপ্নাদিষ্ট কালীমাতার একটি নিমকাঠের মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন এখানকার মহারাজা।সেই মূর্তিটি ছিলো দক্ষিণকালীর। যাঁর পুজো করলে জাগতিক ও পারমার্থিক সবরকম ফললাভ হয় বলে মনে করা হতো ।পরবর্তীতে চট্টেশ্বরী মাতার সাধনা শুরু করেন চট্টগ্রাম জেলার বোয়ালখালি থানার সরোয়াতলি গ্রামের অধিবাসী সাধক রামসুন্দর দেবশর্মণ।তন্ত্র সাধনার পাশাপাশি মায়ের পুজোও নিয়মিত চলতে থাকে।কথিত আছে স্বাধীনতার আগে কবি নবীন চন্দ্র সেন তথা তত্‍কালীন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট এই মন্দিরে নিত্য পুজোর ব্যবস্থা করেছিলেন।পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের দ্বারা এই মন্দিরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং মন্দিরের সেবায়েতের বাড়ি ও বিগ্রহ বিনষ্ট করা হয়। শ্রীচট্টেশ্বরী মাতার প্রাচীন নিমকাঠের মূর্তিটি খণ্ডবিখণ্ড করেছিল।পরে মূর্তিটির যে অংশগুলি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল সেগুলি জোড়া দেওয়া হয় এবং নতুন করে দেবী মূর্তি তৈরী হয়।তারপর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করার পরে মন্দিরটি সংস্কার করা হয়।দেবী চট্টেশ্বরীর বর্তমান মূর্তিটি কষ্টিপাথরের। শ্বেতপাথরের শিব মায়ের শ্রীচরণতলে শায়িত।আজও তন্ত্র মতে নিষ্ঠা সহকারে দেবীর পুজো হয়।ফিরে আসবো। নতুন কোনো মন্দিরের কথা বা দেবী মাহাত্ম নিয়ে।ধারাবাহিক এই অনুষ্ঠানে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।