Home Blog Page 90

দেবী মাহাত্ম – রানী রাসমণির অন্নপূর্ণা

সামান্য কিছুদি আগে অন্নপূর্ণা পুজো উপলক্ষে বিশেষ পর্বে বাংলার একটি অন্নপূর্ণা মন্দিরের কথা উল্লেখ করে ছিলাম। আজ রানী রাসমণির অন্নপূর্ণা মন্দির নিয়ে বিস্তারিত ভাবে লিখবো ।ব্যারাকপুরের অবস্থিত এই অন্নপূর্ণা মন্দির নির্মিত হয়েছিল দক্ষিণেশ্বরের মন্দির নির্মাণের বেশ কয়েক বছর পরে। মথুরমোহন বিশ্বাসের ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করতেই জগদম্বা তৈরি করেছিলেন এই মন্দির। এই মন্দির নির্মাণের সাথে জড়িত অলৌকিক কাহিনীটি হলো এইরকম – ১৮৪৭-এ রানি রাসমণি তাঁর জামাই মথুরমোহন বিশ্বাস সহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজন নিয়ে জল পথে কাশীযাত্রা করেছিলেন। যাত্রা শুরুর দিন রাতেই রানীমা দেবীর স্বপ্নাদেশ পান যে কাশী না গিয়ে গঙ্গার পাড়েই মন্দির প্রতিষ্ঠা করে তাঁর নিত্যপুজোর ব্যবস্থা করা হোক। রানি কাশীযাত্রা স্থগিত করে ফিরে আসেন। নানা কারণে সেবার মন্দির তৈরী হয়নি ।তারমধ্যে তৈরী হয়ে যায় দক্ষিনেশ্বর মন্দির।এদিকে অন্নপূর্ণা-দর্শন না হওয়ায় মথুরমোহনের মনে মনে ইচ্ছে ছিল দেবী অন্নপূর্ণার মন্দির প্রতিষ্ঠা করার। কিন্তু তাঁর জীবদ্দশায় তা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ করেন তাঁর স্ত্রী রানি রাসমণির ছোটো মেয়ে জগদম্বাদেবী। তৈরী হয় তার মায়ের স্বপ্নদেশ পাওয়া অন্নপূর্ণা মন্দির।মন্দির টি ন’টি চূড়াবিশিষ্ট নবরত্ন মাতৃমন্দির, ছ’টি আটচালার শিবমন্দির, দু’টি নহবতখানা, নাটমন্দির, ভোগের ঘর, গঙ্গায় স্নানঘাট ইত্যাদি তৈরি হয়েছিল।অন্নপূর্ণা মন্দিরটি দেখতে অবিকল দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দিরের মতো।মন্দিরের গর্ভগৃহে অধিষ্ঠিত শিব ও অন্নপূর্ণার বিগ্রহ অষ্টধাতুর। মাতৃমূর্তি দক্ষিণমুখী।পাশে ভিক্ষা পাত্র হাতে শিব।অন্নপূর্ণা মন্দিরের তোরণদ্বারের ওপর স্থাপিত রয়েছে এক সিংহমূর্তি। যা নিয়ে সেকালে ব্রিটিশরা আপত্তি করে ছিলো কারণ ব্রিটিশদের দাবি ছিল, সিংহ তাদের রাজশক্তির প্রতীক। বিবাদ গড়ায় আদালত পর্যন্ত। তবে আইনি লড়াইয়ে জয় হয়েছিল রাসমণির পরিবারের।  ব্যারাকপুরে অন্নপূর্ণা মন্দির প্রাঙ্গণে রয়েছে ছ’টি শিবমন্দির।মন্দিরের পাশেই চাঁদনি রীতির গঙ্গার ঘাট আছে যা রানি রাসমণি ঘাট নামে পরিচিত। শোনা যায় এই ঘাটে ঠাকুর স্বয়ং শ্রীরামকৃষ্ণ স্নান করেছিলেন।সেই রানীও নেই। নেই সেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ। তবে রয়ে গেছে এই প্রাচীন অন্নপূর্ণা মন্দির বহু ইতিহাস ও অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী হয়ে। ফিরে আসবো পরের পর্বে। এমনই একটি বিষয় নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

মন্দির রহস্য – জীবন্ত শিব লিঙ্গ

বীরভূমের দুবরাজপুরে পাহাড় এবং অরণ্য পরিবেষ্টিত একদা দুর্গম স্থানে রয়েছে বহু চর্চিতদুটি পাহাড় যার পোশাকি নাম মামা ভাগ্নে।আসলে একটি পাহাড়ের নাম মামা ওপরটির নাম ভাগ্নে। এই পাহাড়েই আছে এক অদ্ভুত শিব মন্দির। শিব মন্দিরে রয়েছে একটি রহস্যময় শিব লিঙ্গ। কেনো এই শিব লিঙ্গ অদ্ভুত এবং রহস্যময় সেটাই জানাবো আজকের পর্বে।শিব মন্দির টির নাম তিলেশ্বর শিব মন্দির। সেই মন্দিরের শিবলিঙ্গ নাকি প্রতিদিন তিল তিল করে বড়ো হচ্ছে। সেকারণেই এই মন্দিরের নাম তিলেশ্বর শিবমন্দির।শোনা যায় এক কালে শয়ম্ভু একটি ছোট্ট শীল আকারে ছিলো এই শিব লিঙ্গ পরবর্তীতে সেই ছোট্ট শিলা থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে শিবলিঙ্গটি বিশালাকার নিয়েছে।এবং সেই অদ্ভুত শিব লিঙ্গকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে আজকের তিলেস্বর শিব মন্দির।পৌরানিক তথ্য অনুসারে যখন প্রভু রামের সেনা যখন হিমালয় থেকে সেতু বন্ধনের পাথর নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তার কিছু অংশ এই খানে পড়ে সেই পাথর থেকেই মামা ভাগ্নে পাহাড়ের উত্‍পত্তি হয়েছে।আবার অনেকে মনে করেন মহাদেবের নির্দেশে বিশ্বকর্মা যখন দ্বিতীয় কাশী তৈরি করছিলেন তখন কিছু পাথর এখানে পড়ে যায় সেই থেকেই মামা ভাগ্নে পাহাড়ে তৈরি হয়েছে।পাহাড়ের একটি অংশে রয়েছে পাহাড়েশ্বর আশ্রম। এখানে একটি যজ্ঞকুণ্ডও রয়েছে সেটি এখনও জ্বলছে।ব্রিটিশ আমলে পুলিশের তাড়া খেয়ে বেশ কিছু দিন নাকি রঘু ডাকাত এই মামা ভাগ্নে পাহাড়ে ডেরা গেরেছিল।এখানে সেই সময়ে তৈরী রঘু ডাকাতের গুহাও রয়েছে।বিখ্যাত বক্রেশ্বর শক্তি যোনি পিঠও দুবরাজপুরের এই মামা ভাগ্নে পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় আছে।সব মিলিয়ে স্থানটির অপরিসীম আধ্যাত্মিক গুরুত্ব রয়েছে।ফিরে আসবো পরের পর্বে। দেবী মাহাত্ম নিয়ে যথা সময়ে। থাকবে এমন অনেক আধ্যাত্মিক ও রহস্যময় বিষয় নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম: চঞ্চলা কালী

বালুরঘাট শহরের প্রাচীন কালী পুজো পূজো গুলির অন্যতম চঞ্চলা কালী নিয়ে আজকের দেবী মাহাত্ম পর্বে লিখবো। জানবো কিছু দৈব বা অলৌকিক ঘটনাবলী।বালুরঘাট শহরের হোসেনপুরের কাছে চকবাখর গ্রামে রয়েছে চঞ্চলা কালী। প্রতি বছর এখানে দোলপূর্ণিমার পরের দিন গভীর রাতে চঞ্চলা কালীর পুজো হয়।সাধারণত কালীর পায়ের নিচে শিবের দেখা মিললেও এই কালীর পায়ের নিচে অশুর রয়েছে। অন্য পায়ের নিচে আছে সিংহ। বলা হয়, মহামায়া ও চামুণ্ডার এক রূপ এই চঞ্চলা কালী মাতা।দেবীর উচ্চতা সাড়ে দশ হাত এবং চঞ্চলা কালী মাতার হাতের সংখ্যা আট।প্রায় তিনশো বছর ধরে পুজো চলছে এখানে শোনা যায় কোনো এক সময়ে এখান থেকে কিছু অলৌকিক নিদর্শন খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। তখন স্থানীয় রাজা এই পুজোর প্রচলন করেন। রাজার মৃত্যুর পর কিছুকাল পুজো বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে এই এলাকার এক বাসিন্দা স্বপ্নাদেশ পেয়ে স্থানীয় জমিদারের সহযোগিতায় আবার পুজোর সূচনা করেন।চঞ্চলা কালীর মন্দিরের পাশেই রয়েছে শ্মশান কালী ও মাশান কালীর মন্দির। মা চঞ্চলার পুজোর পরের দিন এঁরা তন্ত্র মতে ভক্তিভরে পূজিত হন। এখানে রয়েছে একটি পুকুর। জনশ্রুতি রয়েছে এই পুকুর থেকে একসময় পূজোর কাজের জন্য থালা-বাসন ভেসে উঠত। বর্তমানে এই পুকুরের জল দিয়ে মায়ের পুজো করা হয়।দেবী মন্দিরের সামনে রয়েছে নাটমন্দির যেখানে পুজোর পরে দুদিন রাতভর মঙ্গলচন্ডীর গান শোনানো হয়।প্রায় তিনশো বছরের পুরোনো এই পুজোয় শুধু দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার নয়, বিহার, ঝাড়খণ্ড সহ প্রতিবেশী রাজ্যের ভক্তরাও উপস্থিত হন।আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে। দেবী মাহাত্ম এবং মন্দির রহস্য নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা চলতে থাকবে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম- সত্যময়ী কালী

বাংলার হুগলি জেলার চুঁচুড়ার রয়েছে সত্যময়ী কালী মন্দির। এই মন্দির নিয়ে আছে একাধিক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ।আজকের দেবী মাহাত্ম পর্বে লিখবো। সেই কথা।চুচুড়ার বিখ্যাত দাসী পিসির গঙ্গার ঘাটযারনামে তার প্রকৃত নাম সত্যময়ী দেবী। তিনি ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় গড়ে তুলেছিলেন এই গঙ্গার ঘাট সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কালী মন্দির।বিগ্রহ নিমকাঠের তৈরী ।উল্লেখযোগ্য বিষয় এই দক্ষিনা কালী মূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সাধক বামাক্ষ্যাপার হাত দিয়ে। সত্যময়ী দেবী ও স্থানীয় এক কারিগর একইসময়ে পেয়েছিলেন দেবীর স্বপ্নাদেশ।সত্যময়ী দেবী স্বপ্নাদেশ পান যে গঙ্গায় ভেসে আসবে নিম কাঠ। স্বপ্নাদেশ পেয়ে কাঠটি গঙ্গা থেকে তুলে এনেছিলেন সত্যময়ী দেবী।কারিগর কে স্বপ্নে বলা হয়েছিল যে গঙ্গায় ভেসে যাওয়া নিমকাঠ নিয়ে দেবী মূর্তির গড়ে দিতে হবে। সেই মতো কারিগর এসে খোঁজ নেন সত্যময়ী দেবীর বাড়িতে। যা শুনে সত্যময়ী বুঝতে পারেন যে সব দেবীরই অলৌকিক লীলা। সেই মতো সূর্য অস্ত্র যাওয়ার আগে তৈরি করা হয়েছিল এই দেবীমূর্তি দেবীর নির্দেশ মতো পারিশ্রমিক নেয়া হয় নয় টাকা মাত্র।বাংলার ১২৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সেই মূর্তি।যেহেতু এই বিগ্রহ সত্যময়ী দেবী নিজের বাড়িতে তৈরি করিয়েছিলেন, তাই এলাকাবাসীর কাছে এই মূর্তি পরিচিতি পায় সত্যময়ী কালী নামে।বীরভূম থেকে সাধক বামা ক্ষেপা কে আনিয়ে এখানে মূর্তি প্রতিষ্ঠা হয়।বামাক্ষ্যাপা এখানেদেবীর ঘটও প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছিলেন। যে ঘট, আজও এই বাড়ির মন্দিরে অবিকৃত অবস্থায় আছে।আজও পুরোহিত হিসেবে বংশপরম্পরায় থাকেন পরিবারেরই কোনও না-কোনও সদস্য।ভক্তদের দাবি এই দেবীর কাছে করা যেকোনোপ্রার্থনা দেবীর আশীর্বাদে পূরণ হয়।ফিরে আসবো পরের পর্বে। দেবী মাহাত্মর নতুনপর্ব নিয়ে। থাকবে অলৌকিক ঘটনায় ভরা একটি দেবী মন্দিরের মাহাত্ম।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

রাম নবমীর শুভেচ্ছা

আজ রাম নবমী।ত্রেতা যুগে রাম ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার রূপে জণ্মে ছিলেন|তার জন্ম এই
চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে। তাই আজকের দিনটি প্রতি বছর পালিত হয় রামনবমী রূপে। রাম নবমী পালন করার মূল উদ্দেশ্য হল অধর্মকে নিক্ষেপ করে ধর্মকে স্থাপন করা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম উৎসব রাম নবমী অনান্য রাজ্যের তুলনায় উত্তর ভারতে অনেক বেশি জনপ্রিয়। তবে বাংলাতেও এখন রাম নবমী বেশ বড় করে উদযাপন হচ্ছে। ভারত ছাড়া
নেপাল ও দক্ষিণ এশিয়ার বহু দেশে রাম পূজা প্রচলিত আছে।

পুরাণ মতে ‘রমন্তে সর্বত্র ইতি রাম’ যার অর্থ রাম সব জায়গায় আছেন। হিন্দু ধর্মগ্রন্থতে তাঁকে অযোধ্যার রাজা বলা হয়েছে। পুরাণ অনুযায়ী, রামকে আদর্শ মানুষ মনে করা হয়। তিনি বাবার সম্মান রক্ষার জন্য সিংহাসনের অধিকার ছেড়ে দিয়ে চৌদ্দ বছরের জন্য বনে গিয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রী সীতা ও ভাই লক্ষ্মণ তাঁর বিচ্ছেদ সহ্য করতে পারবেন না বলে তাঁরাও রামের সঙ্গে বনবাসে যান। বনবাসের সময় লঙ্কার রাজা রাবণ সীতাকে হরণ করে লঙ্কায় নিয়ে যান। এরপর রাম এবং রাবণের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে। যুদ্ধে রাবণ পরাজিত হন। রাম সীতাকে উদ্ধার করে অযোধ্যায় ফিরে আসেন। সেখানে তার রাজ্যাভিষেক হয়। পরে তিনি সম্রাট হন।এই পৌরাণিক ঘটনাবলী আমরা প্রায় সবাই কম বেশি জানি।

তবে আরো বৃহত্তর অর্থে রাম হলেন পবিত্রতা ও রাজ ধর্মের প্রতীক তাঁর রাজত্বকালে প্রজারা সুখে, শান্তিতে বাস করত। প্রজারা ন্যায়বিচার পেতেন। যে জন্য রামের শাসনের অনুসরণে সুশাসিত রাজ্যকে “রামরাজ্য” বলার প্রবণতা চালু হয়।শুধু মাত্র একজন প্রজার সন্দেহ কে প্রাধান্য দিয়ে যিনি নিজের সহধর্মিনীকে অগ্নি পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে দেন তিনি হলেন রাম। তার কাছে উঁচু নিচু ধনী গরিব সবই এক।

রাম নবমীর দিনটিতে রাম কথার বর্ণনা করে
এবং রাম কাহিনী পড়ে পালন করা হয়। অনেকে মন্দিরে যান।অনেকে বাড়িতে রামের মূর্তিতে পূজা করেন। রাম নবমী পালন করার মূল উদ্দেশ্য অধর্মকে বিনাশ করে ধর্মকে প্রতিষ্ঠা করা।এই দিন রাম চরিত মানস বা রাময়ন পাঠ করলে কর্ম ফল থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

শাস্ত্র মতে কলি যুগে পাপ তাপ থেকে বাঁচতে নিরন্তর রাম নাম নেয়ার কোনো বিকল্প নেই।
প্রভু রামের পুজো করলে খ্যাতি এবং সৌভাগ্য আসে। জীবনে সুখ এবং সমৃদ্ধি থাকে এবং সমস্ত কাজ  বিনা বাধায় সম্পন্ন হয়।

সবাইকে জানাই রাম নবমীর অসংখ্য শুভেচ্ছা এবং আন্তরিক অভিনন্দন। ফিরে আসবো পরের পর্বে ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক আলোচনা নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

মা অন্নপূর্ণার আবির্ভাব

আজ মা অন্নপূর্ণার পূজার দিন আজ দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব নিয়ে লিখবো।জানবো দেবী অন্নপূর্ণার স্বরূপ ও তার পুজোর ধর্মীয় তাৎপর্য।সনাতন ধর্মে দেবী অন্নপূর্ণা অন্নের দেবী, সুখ ও সমৃদ্ধির দেবী|পুরান মতে এক চৈত্র মাসের শুক্ল অষ্টমীতে দেবী অন্নপূর্ণা আবির্ভুতা হয়ে ছিলেন কাশীধামে|তার আবির্ভাব নিয়ে একটি পৌরাণিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় শাস্ত্রে।পুরাণ মতে দেবী পার্বতীর সঙ্গে একবার দেবাদিদেবের কোনো কারণনে গুরুতর মতবিরোধে দেখা দিলে দেবী কৈলাস ত্যাগ করেন। সাথে সাথে ভয়ানক মহামারি, খাদ্যাভাব দেখা দেয়।ভক্তগণকে এই বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য দেবাদিদেব ভিক্ষার ঝুলি নিজ কাঁধে তুলে নেন। কিন্তু দেবীর মায়ায় ভিক্ষারও অভাব ঘটে। তখন দেবাদিদেব শোনেন কাশীতে এক নারী সকলকে অন্ন দান করছেন। দেবীর লীলা বুঝতে পারেন মহাদেব। মহাদেব দেবীর কাছে ভিক্ষা গ্রহণ নিতে কাশীতে আসেন। দেবী তাকে অন্ন ভিক্ষা দেন। সেই অন্ন ভিক্ষা নিয়ে তার ভক্তদের খাদ্যাভাব থেকে রক্ষা করেন মহাদেব।ঘটনাটি থেকে বোঝা যায়। দেবী আদ্যাশক্তি মহামায়ার আরেক রূপ দেবী অন্নপূর্ণা সুখ সমৃদ্ধি ও অন্নর দেবী। তার উপস্থিত থাকলেই সংসারে বা জগতে সুখ সমৃদ্ধি থাকে। তার অনুপস্থিতি ঘটলেই দেখা দেয় অশান্তি, অভাব এবং দারিদ্রতা।দেবীর কাছে ভিক্ষা গ্রহণের পর মহাদেব দেবীর একটি মন্দির নির্মাণ করেন কাশীতে এবং সেই থেকে তিনি কাশীর অধিষ্টাত্রী দেবী তার কৃপায় কাশিতে ইচ্ছা থাকলেও অনাহারে থাকা যায়না, প্রত্যেক কাশী বাসির অন্নদানের ভার দেবী অন্নপূর্ণার|তিনি অন্নদাত্রী।তাই অন্নদাত্রী দেবী অন্নপূর্ণার আরেকনাম অন্নদা।দেবী অন্নপূর্ণার পুজোর পর দরিদ্রকে অন্ন দান করলে জীবন থেকে সব অভাব দূর হয়|দেবী অন্নপূর্ণা কতৃক মহাদেবকে অন্নদানের ছবি বা মূর্তি যে গৃহে থাকে সেই অন্নর অভাব হয়না বলেও শাস্ত্রে আছে।আজ প্রতিবারের ন্যায় আমার নব নির্মিত গৃহ মন্দিরে দেবী অন্নপূর্ণার পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। দেবীর কাছে আজ জগৎ কল্যানের জন্য প্রার্থনা করবো।সবাইকে জানাই অন্নপূর্ণা পুজোর শুভেচ্ছা।পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলায় অন্নপূর্ণা পুজোর ইতিহাস

আসন্ন অন্নপূর্ণা পুজো উপলক্ষে দেবী অন্নপূর্ণার পুজোর মাহাত্ম ও তার ইতিহাস নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করছি। আজ বঙ্গ দেশে দেবী পুজোর ইতিহাস নিয়ে বলবো।দেবী অন্নদার কৃপা প্রাপ্ত হয়ে ভবানন্দ মজুমদার জাহাঙ্গীরের কাছে রাজা উপাধি লাভ করেছিলেন।দেবী অন্নপূর্ণার পুজো বঙ্গদেশে প্রচলন করেছিলেন। তিনি ছিলেন কৃষ্ণনগরের জমিদার এবং মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের পূর্বসুরী। তাকেইবাংলার অন্নপূর্ণা পুজোর সূচনা করার কৃতিত্বদেয়া হয়।তবে বহু আগেথেকেই বিভিন্ন শাস্ত্রে বঙ্গদেশে দেবী অন্নপূর্ণার পুজোর উল্লেখ আছে।অন্নদামঙ্গলকাব্যে দেবী পুজোর বিষয়ে অনেককিছুই লেখা আছে।শোনাযায় নবাব মুর্শিদকুলি খাঁয়ের কাছে নির্ধারিত দিনে কর বা রাজস্ব মেটাতে না পেরে দুর্গাপুজোর সময় মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র মুর্শিদাবাদে কারারুদ্ধ হন। সেই সময়ে দেবী অন্নপূর্ণা রাজাকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে অন্নপূর্ণা পুজোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্র মুক্তি পেয়ে সেই আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে ছিলেন।আবার অনেকে মনে করেন এই পুজো এসেছিল কাশী থেকে কারন বাংলার সঙ্গে কাশীর যোগ বহুকালের এবং কাশী হল মা অন্নপূর্ণার প্রধান অধিষ্ঠানক্ষেত্র।বাংলায় দেবী অন্নপূর্ণার একটি মন্দির রয়েছে বেহালার বড়িশায়। সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের এক নিঃসন্তান সদস্য তার স্ত্রীর কাসিবাস আটকাতে নিজের জমিদারিতেই তৈরী করে দেন অন্নপূর্ণার মন্দির যা আজও স্বমহিমায় বিরাজমান।পরবর্তীতে বাংলার প্রখ্যাত সব রাজ পরিবার ও জমিদারদের তৈরী হয় বেশ কিছু অন্নপূর্ণা মন্দির।যেমন ব্যারাকপুরে একটি অন্নপূর্ণা মন্দির আছে যা দেখতে অনেকটা দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের মতো। যখন রানি রাসমণি তাঁর জামাই মথুরমোহন বিশ্বাস, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য দাসদাসীকে সঙ্গে নিয়ে কাশীযাত্রা করেছিলেন তখন রাতে রানীমা দেবীর স্বপ্নাদেশ পান যে তিনি যেনো কাশী না গিয়ে গঙ্গার পূর্ব পাড়ে দেবীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করে নিত্যপুজোর ব্যবস্থা করেন। এর পরে রানি কাশীযাত্রা স্থগিত করে দক্ষিণেশ্বরে ভবতারিণীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।পরবর্তীতে ব্যারাকপুরে রানী রাসমণির পরিবারের উদ্যোগে তৈরী হয় এই অন্নপূর্ণা মন্দির যেখানে আজও নিষ্ঠা সহকারে দেবী পূজিতা হয়ে আসছেন।ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পায় বাংলার অন্নপূর্ণা পুজো পরবর্তীতে রাজা বা জমিদার বাড়ির অন্দর মহল ছাড়িয়ে সাধারন গৃহস্ত বাড়িতেও শুরু হয় দেবী আরাধনা।দেবী অন্নপূর্ণা সংক্রান্ত আরো অনেক শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা ও তথ্য নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী অন্নপূর্ণার রূপ ও পূজা পদ্ধতি

আগামী ২৯ মার্চ অন্নপূর্ণা পূজা|আজকের এই বিশেষ পর্বে দেবী অন্নপূর্ণার রূপ ও তার পূজা পদ্ধতি নিয়ে লিখবো ।শাস্ত্র মতে দেবী অন্নপূর্ণা মূলত দ্বিভূজা আবার চতুর্ভূজা রূপেও কোথাও কোথাও তার পুজো দেবীর গায়ের রঙ উজ্জ্বল গৌর বর্ণ। দেবীর বামহাতে সোনার অন্নপাত্র। ডানহাতে চামচ বা হাতা।মাথায় বিরাজিত অর্ধচন্দ্র। তিনি ক্ষুধার্ত মহাদেবকে অন্নদান করছেন স্মিতহাস্যে তার এক পাশে শ্রী ও অন্য পাশে ভূমি|সনাতন ধর্মে দেবী অন্নপূর্ণার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য অপরিসীম|অন্নদামঙ্গল কাব্য রচিত হয়েছে দেবীর মহিমা কীর্তন করে। আবার প্রাচীন তন্ত্রসার গ্রন্থে দেবীর পূজা পদ্ধতি রয়েছে।দেবী অন্নপূর্ণা সম্পর্কে অনেকে মনে করেন যে তিনি গ্রিক ও রোমান দেবী ‘অন্নোনা’র রূপান্তর। প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যর ধ্বংসাবশেষ থেকে দেবীর যে মূর্তি পাওয়া যায় তাতে তার বামহাতে শিঙ্গা আর ডানহাতে তুলাদণ্ড।যদিও এই মতবাদ যুক্তি গ্রাহ্য নয় কারন। দেবী অন্ন পূর্ণা হাজার হাজার বছর থেকে সনাতন ধর্মে পূজিতা হয়ে আসছেন। তিনি শস্যর দেবী রূপে প্রাচীন হরপ্পা সভ্যতায় পূজিতা ছিলেন।বাংলায় তিনি লৌকিক দেবী। ভালো ফসল পাওয়ার জন্য এবং সংসারে স্বচ্ছলতা প্রার্থনা করে বঙ্গদেশে সাধারণ মানুষ অন্নপূর্ণার পুজো করেন অগ্রহায়ণ মাসের নবান্নের সময়। এটি প্রাচীন পুজো যা পরবর্তীকালে কাশীতে অনুপ্রবেশ করেছিল প্রবাসী বাঙালিদের হাত ধরেই।তীর্থ ক্ষেত্র কাশীতে দেবী অন্নপূর্ণার বিখ্যাত মন্দির রয়েছে। সেখানে প্রতি বছর ধুমধাম করে অন্নপূর্ণা পুজো হয়ে থাকে। এই মন্দিরে অন্নকূট উত্‍সব বিখ্যাত।তিথি মেনে চৈত্র মাসের শুক্লাপঞ্চমী তিথিতে অন্নপুর্ণার পুজা করা হয়। কালী ও জগদ্ধাত্রী পুজোর মতই তান্ত্রিক মতে এই পুজো হয়ে থাকে।সাদা কাপড়ের বেদিতে দেবীকে স্থাপন করা উচিৎ এবং সাদা পোশাক পরে পুজোয় বসতে হয় ।দেবী এতে প্রীত হন বলে মনে করা হয়।দেবী অন্নপূর্ণাকে প্রনাম জানিয়ে আজকের পর্ব শেষ করলাম। দেবী অন্নপূর্ণা প্রসঙ্গে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ব্যাখ্যা আপনাদের জানাবো আগামী পর্ব গুলিতে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

মন্দির রহস্য – দুর্যোধন মন্দির

যদিও মহাভারতের প্রধান চরিত্র গুলির মধ্যে আপাত দৃষ্টিতে প্রধান খলনায়ক রূপে দুর্যোধনকে চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু সেই দুর্যোধনের নামেই দেশে রয়েছে একটি অদ্ভুত মন্দির।আজকের পর্ব দেরাদুনের কাছে অবস্থিত দুর্যোধন মন্দির নিয়ে।প্রাচীন একটি লোক কথা অনুসারেপাণ্ডবরা যখন ১৪ বছর বনবাস কাটাচ্ছিলেন, তখন তাদের খোঁজে গাড়ওয়াল হিমালয়ের পাদদেশে এই স্থানে পৌঁছন দুর্যোধন। স্থানটির অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েপাণ্ডবদের কথা ভুলে কয়েকদিন এখানেই কাটিয়ে যান তিনি। শোনা যায় এখানকার আঞ্চলিক উপাস্য দেবতা ছিলেন মাহাসুর। দুর্যোধন তার আরাধনা করেন এবং মাহাসুর দেখা দিলেতার কাছে এই উপত্যকা চেয়ে পনেন দুর্যোধন। সেই থেকে অঞ্চলে রাজত্ব করার অধিকার পান দুর্যোধন।বহুকাল এই পার্বত্য অঞ্চল অত্যান্ত দুর্গম ছিলো যার ফলে এই মন্দির ছিলো লোক চক্ষুর আড়ালেপার্শবর্তী কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা পুজো করতেন দুর্যোধনের। আরও মনে করা হয় যে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে ভীমের হাতে দুর্যোধনের মৃত্যুর পর এখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা কয়েক দিন ধরে কেঁদেছিলেন। তাঁদের চোখের জলেই নাকি তামস নদীর উত্‍পত্তি হয়। যা আজও বয়ে চলেছে।স্থানীয় দের কাছে দুর্যোধন শুধু এই এলাকার উপাস্য দেবতা নন। তিনি এই কয়েকটি গ্রামের রক্ষাকর্তা।প্রতিবছর পৌষ মাসের পঞ্চম দিনে তার দুর্যোধনের মন্দির থেকে তার মূর্তিকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে বাইরে আনা হয় এবং ২০ দিন পরে ফের তাকে মন্দিরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় নানারকম স্থানীয় বাদ্যযন্ত্রের মাধ্যমে সেখানে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়।এই কয়টি দিন তিনি সমগ্র এলাকার বেশ কয়েকটি বিশেষ স্থান পরিভ্রমণ করেন।দুর্যোধন মন্দিরের সামনে একটি অতি প্রাচীন লোহার কুঠার আজও রাখা আছে যেটিকে স্থানীয়রা দুর্যোধনের কুঠার হিসেবে মনে করেন দেরাদুন নামটি দুর্যোধনের নাম থেকে সৃষ্টি হয়েছে বলেও অনেকের বিশ্বাস।বহু মন্দিরের রহস্য এখনো জানানো বাকি আছে।বাকি আছে দেবী মাহাত্ম নিয়ে অনেক আলোচনা।ফিরে আসবো পরের পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

মন্দির রহস্য – বুধেশ্বর শিব মন্দির

বাংলার বহু প্রসিদ্ধ শিব মন্দির নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি। আজকের পর্বে লিখবো বাংলার প্রতিবেশী রাহয় চত্রিশ গড়ে অবস্থিত এক অতি জাগ্রত ও জনপ্রিয় শিব মন্দির নিয়ে যা স্থানীয়দের কাছে বুধেস্বর শিব মন্দির নাম খ্যাত।

ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুরে চার দিকে ভোলেনাথের অনেক বিখ্যাত শিব মন্দির রয়েছে, কিন্তু ঐতিহাসিক মন্দিরগুলির মধ্যে বুধেশ্বর মহাদেব মন্দির দেখার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
ছত্রিশ গড়ের রায়পুরের এই শিব মন্দিরের ইতিহাস প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো।বুধেশ্বর মহাদেবের নামকরণ করা হয়েছে আদিবাসী দেবতার নামে। 

এখানে একটি বহু প্রাচীন জলাশয় আছে। স্থানীয় আদিবাসীদের আরাধ্য দেবতা বুদ্ধদেবের নামানুসারে পুকুরটির নাম বুধতালাব । পুকুরের পাড়ে একটি শিবলিঙ্গ ছিল এবং তার চারপাশে ভয়ঙ্কর বিষধর সাপ বাস করত এবং শিবলিঙ্গের চারপাশে সাপগুলি সর্বদা আবৃত থাকত। বুধতালাবের তীরে থাকায় শিবলিঙ্গটির নাম হয় বুধেশ্বর মহাদেব। পরবর্তীতে স্থানীয় আদিবাসিদের উদ্যোগে পুকুরের পাড়ে একটি ছোট মন্দির তৈরি করে শিবলিঙ্গকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বুধেশ্বর মন্দিরে ২০০ বছরের পুরনো একটি বটগাছ রয়েছে।

মহাশিবরাত্রির সময়ে অসংখ্য ভক্ত এই মন্দির দেখার জন্য ভিড় করেন।মহাশিবরাত্রির সকালে শিবলিঙ্গে ভস্ম আরতি করা হয়।বহু নারী এখানে ছুটে আসেন বট সাবিত্রী ব্রত পূজা করতে।

ফিরে আসবো পরের পর্বে। সঙ্গে থাকবে
নতুন কোনো মন্দির রহস্য পর্ব। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।