Home Blog Page 90

শিবের মাথায় চন্দ্র কেনো শোভা পায়

দেবাদিদেবের জটায় যেমন গঙ্গা বিরাজ করছে তেমনই তার মাথায় অর্ধচন্দ্রও শোভা পায়এর ব্যাখ্যা বিভিন্ন পুরাণে বিভিন্ন রকম।আজকের পর্বে আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই সব পৌরাণিক ব্যাখ্যা।শেষে থাকবে একটি বিশেষ শাস্ত্রীয় উপাচার।তাই পুরোটা পড়তে হবে।ব্রহ্মাপুত্র প্রজাপতি দক্ষ তার ২৭ জন কন্যা অর্থাৎ ২৭ টি নক্ষত্রের সঙ্গে চন্দ্রদেবের বিবাহ দিয়েছিলেন। সেই নক্ষত্রদের মধ্যে চন্দ্রদেবের প্রিয় ছিলেন রোহিণী। বাকি কন্যারা একবার রোহিনীর বিরুদ্ধে দক্ষর কাছে দুর্ব্যবহার এর অভিযোগ করেন তাতে রেগে গিয়ে দক্ষ চন্দ্রদেবকে অভিশাপ দেন যে ধীরে ধীরে চন্দ্রের ঔজ্জ্বল্য কমে যাবে। ক্রমশঃ তাই হতে থাকে শেষে চন্দ্রদেবের মাত্র একফালি অংশই উজ্বল ছিল সেই সময়ে দেবতাদের অনুরোধে চন্দ্রকে নিজের জটায় স্থান দেন পাশাপাশি তিনি সঙ্গে চন্দ্রদেবকে বর প্রদান করেন যে ১৫ দিন চন্দ্রের উজ্বলতা হ্রাস পাবে। তবে পরবর্তী ১৫ দিনে তা আবার ফিরে আসবে। পৌরাণিক মতে, এই কারণেই প্রত্যেক মাসে চাঁদের আলোর হ্রাস-বৃদ্ধি হয়।আবার শিব পুরাণে অনুসারে সতীর দেহ ত্যাগের পর ক্ষুব্ধ মহাদেবের ক্রোধ শান্ত করতে বিষ্ণু নিজের সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ ৫১টি অংশে খণ্ডিত করে দেয়ার পর শিবের ক্রোধ কিছুটা কমলেও রুদ্রতেজ পুরোপুরি শান্ত হয়নি হয়নি। সেই তেজ কমানোর উপায় খুঁজতে দেবতারা ব্রহ্মার স্মরণে যায়। ব্রহ্মা তাঁদের একটাই উপান বলেছিলেন, তা হল অমৃতের কলস এবং ষোলকলাময় চন্দ্র।অমৃত পান করে শান্ত হলেন মহাদেব কিন্তু কলসে থাকা চন্দ্র তার হাতের আঘাতে দ্বিখণ্ডিত হলো।অমৃত পান করে প্রসন্ন এবং শান্ত হয়ে চন্দ্রকে পুনরায় ষোলকলা ফিরে পাওয়ার বর দিলেন শিব এবং নিজের মাথায় ধারণ করলেন।তারপর থেকেই মহাদেবের মাথায় শোভা পায় অর্ধচন্দ্র।অন্য একটি ব্যাখ্যা অনুসারে সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের সঙ্গে বিষ উঠে এসেছিল যা মহাদেব নিজের কণ্ঠে ধারণ করেছিলেন। সেই তীব্র বিষ ধারণ করার ফলে মহাদেবের শরীরের তাপমাত্রা ভীষণভাবে বেড়ে যায়।সেই তাপ হ্রাস করতেই শিব মাথায় চন্দ্রকে ধারণ করেছিলেন।জ্যোতিষ মতে চন্দ্র শীতল এবং জলতত্ত্ব দিয়ে গঠিত তাই শিব শীতলতা লাভ করেছিলেন চন্দ্রের স্পর্শে।শ্রাবন মাসে যদি শিবকে সন্তুষ্ট করতে চান তাকে ধাতব অর্ধ চন্দ্র নিবেদন করতে পারেন এতে আপনার মনোস্কামনা দ্রুত পূরণ হবে।শ্রাবন মাস জুড়ে চলতে থাকবে শিব নিয়ে আলোচনা আগামী পর্বে আবার কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদে সামনে|থাকবে নতুন শাস্ত্রীয় উপাচার।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

আদি অঘোরী শিব এবং তন্ত্র

শিবের অনেক রূপ তার অনেক ব্যাখ্যা তার মধ্যে সব থেকে রহস্যময় রূপ হলো তার অঘোরী রূপ।আজকের পর্বে লিখবো এই বিশেষ সাধন মার্গ এবং তার অন্তর্নিহিত অর্থ নিয়ে।যুগ যুগ ধরে অঘোরীদের জীবনধারা এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন সব সময়ই ব্যাপক কৌতূহলের বিষয় কারন তাঁদের জীবন অনেকটাই রহস্যে মোড়া। সাধারণত এঁরা শ্মশানে থাকেন, ধ্যান করেন। মৃতদেহকেই তাঁদের আধ্যাত্মিক সাধনার মূল ভিত্তি করে তোলেন। শুধু মৃতদেহ নয় সাধারন মানুষের কাছে যা তথাকথিত ঘৃণ্য এবং পরিত্যায্য তাই তাদের সাধনার উপাদান কাশীসহ দেশের অনেক জায়গায় তাঁদের মঠ রয়েছেকুম্ভ মেলা গঙ্গা সাগর মেলায় তাদের দেখা গেলেও তাঁদের আবির্ভাব এবং হঠাৎ অন্তর্ধান সব সময়ই এক রহস্যময় বিষয়।যদিও তাদের সাধন পক্রিয়া গোপন একটি বিষয় তবু এটুকু জানা যায় যে অঘোরীরা নিজেদের সম্পূর্ণরূপে শিবের মধ্যে মিশিয়ে দিতে চান। অঘোর হল শিবের পাঁচটি রূপের একটি।অঘোর পন্থায় শিবের উপাসনা করার উপচার হিসেবে অঘোরীরা শব-সাধনার পথ বেছে নেন।অন্ত্যন্ত কঠিক এই সাধন পক্রিয়ায় একজন অঘোরী মৃতদেহের উপর বসে সাধনা করেন। ‘শব থেকেই শিব প্রাপ্তি’ এই হল তাঁদের দর্শন।অঘোরীরা মূলত তিনটি ধাপে সাধনা করেন।প্রথম শব সাধনা এখনে শবকে মাধ্যম করে সাধনা করা হয়।দ্বিতীয় শিব সাধনা এখানে শিবকে আদি অঘোরী রূপে মেনে তার ধ্যান করা হয়।তৃতীয় শ্মশান সাধনা যেখানে শ্মশান ভূমিতে তান্ত্রিক পদ্ধতিতে হোম যজ্ঞাদি সম্পন্ন করা হয়।আসলে অঘোরীরা বিশ্বাস করেন প্রতিটি মানুষই অঘোরী হিসেবে জন্মগ্রহণ করে। তাঁদের দার্শনিক ব্যাখ্যা বলে, একটি ছোট অবোধ শিশু যেমন তার বর্জ্য ও খাদ্যের মধ্যে কোনও পার্থক্য করতে পারে না তেমনই করেন না অঘোরীরাও ভেদাভেদ করেননা। তাদের অহং বোধ নেই শরীরের কোনো অস্তিত্ব নেই তাই পোশাকের কোনো প্রয়োজন নেই।তাদের চোখে ভাল বা খারাপের কোনও প্রভেদ নেই আছেন শুধু পরম পিতা যার কাছে সবাই সমান।শিবের মাস শ্রাবন মাস তন্ত্র ক্রিয়ার জন্য আদর্শ। তাই যারা শাস্ত্র মতে হোম যজ্ঞর দ্বারা গ্রহের প্রতিকার চান তারা এই সময়কে কাজে লাগাতে পারেন।শ্রাবন মাসে ধারাবাহিক ভাবে চলবে এইশিব মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা। থাকবে এমনবহু শাস্ত্রীয় বিষয়। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব পুজোয় কেনো চম্পা ফুল নিষিদ্ধ

শিব পুজোয় কি অর্পণ করা যায় কি অর্পণ করা যায় না এই আগেও আলোচনা করেছি। হয়তো আপনারা জানেন চম্পা ফুল শিব পুজোয় ব্যবহৃত হয়না। কিন্তু কেনো তা জানেন কি? তার কারন জানতে হলে একটি পৌরাণিক ঘটনা জানতে হবে।দাক্ষিণ ভারতের গোকর্ণপুর নামক স্থানে শিব বিরাজ করতেন ‘গোকর্ণেশ’ রূপে। শোনা যায়সেই শিব লিঙ্গ দর্শনেই সমস্ত পাপ স্খলন হয়।একবার ছদ্মবেশে নারদমুনি এলেন শিব লিঙ্গ দর্শননে।তিনি দেখলেন মন্দিরের রাস্তার দুধারে আকন্দ আর কলকের বন তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে চাঁপাফুলের সৌন্দর্য আর সুগন্ধ ।নারদ গাছের সামনে এক ব্রাহ্মণকে দেখেন এবং তার হাতে ফুলের সাঁজি দেখে নারদ জিজ্ঞেস করলেন সে কি ফুলের সংগ্রহের জন্যই দাঁড়িয়ে? ব্রাহ্মণ জানায় না ভিক্ষার উদ্দেশ্যেই তিনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। নারদ সরল মনে তা বিশ্বাসও করেন। মন্দির থেকে ফেরার পথে আবার সেই ব্রাহ্মণের সাথে দেখা এবার তার সাঁজি তাও আবার পাতা ঢাকা। নারদ সাঁজিতে কি আছে জানতে চাইলে সে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। এবারেও এক কথা জানায় সাঁজিতে সামান্য ভিক্ষেই আছে। কিন্তচাঁপাগাছের সামনে পৌঁছে নারদ রীতিমতো অবাক। গাছে একটিও ফুল নেই। নারদ বুঝতে পারেন ব্রাহ্মণ মিথ্যে বলছেন। চাঁপা গাছকে জিজ্ঞাসা করেও দেবঋষি কোনো সদুত্তর পাননা।যখন কৌতূহল বসত তিনি মন্দিরে ফিরে গেলেন দেখলেন শিবলিঙ্গের সামনে কেউ ১০৮ টি চাঁপাফুলে দিয়ে পুজো দিয়েছেন । পূজারীকে জানতে চাইলে তিনিই সবটা খুলে বলেন। তিনি জানান ও এক ভন্ড ব্রাহ্মণ। ইচ্ছে করেই সব ফুল আগে তুলে নেয় রোজ। যাতে সে ছাড়া আর কেউ চাঁপাফুলে মহাদেবকে সন্তুষ্ট করতে না পারে। চাঁপাগাছটিকেও তার বশেই রেখেছে।শুধু তাই নয় ব্রাহ্মণ সন্তান হয়েও তিনি নির্দয় এবং মিথ্যার আশ্রয় নেন সুযোগ পেলে দরিদ্র মানুষদের প্রতারণা করতেও তার বাঁধে না।প্রচন্ড রাগে নারদ মহাদেবের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেন যে এমন ধূর্ত লোককে কেন কৃপা করছেন তিনি!শিব জানান চাঁপা তাঁর পছন্দের ফুল। এই ফুলে তিনি সহজেই সন্তুষ্ট হয়ে যান এমনকি বশীভূত হয়ে পড়েন। তবে ব্রাহ্মণ যে ব্রাহ্মণ যে অন্যায় করেছেন তাও সত্যি এবং তার শাস্তি পাওয়া উচিৎ বলে তিনি নারদ বলেন।নারদ তখন সেই ব্রাহ্মণকে অভিশাপ দেন যে পরজন্মে রাক্ষস কূলে তার জন্ম হবে। সত্য গোপন করা এবং ব্রাহ্মণকে সাহায্য করার জন্য চাঁপাগাছকেও তিনি অভিশাপ দেন যেএই ফুল আর কোনোদিন মহাদেব গ্রহণ করবেন না। সেই থেকে চাঁপাফু শিব পুজোয় নিষিদ্ধ।শ্রাবন মাসে ধারাবাহিক ভাবে চলবে এই শিব মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা। থাকবে এমন বহু জানা অজনা পৌরাণিক ঘটনা।তার ব্যাখ্যা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব এবং মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের রহস্য

মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র শিবের একাধিক মন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।শ্রাবন মাসে কিছু শাস্ত্রীয় রীতি মেনে মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ করলে বা শাস্ত্র মতে নিয়ম মেনে জপ করলে অকাল মৃত্যুরোধ হয়ে যায় এবং রোগ যন্ত্রনা লাঘব হয় কিন্তু এই মন্ত্র কেনো এত শক্তিশালী তা জানতে হলে জানতে হবে এক পৌরাণিক ঘটনা|শিবের পরম ভক্ত ছিলেন শ্রীখণ্ড ঋষি। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান|সন্তানলাভের উদ্দেশ্য তিনি মহাদেবের আরাধনা শুরু করেন। শ্রীখণ্ডের প্রচণ্ড তপস্যায় খুশি হয়ে মহাদেব তাকে সন্তানসুখ দান করেন |কিন্তু এই আনন্দের সঙ্গে তাঁর জীবনে শোকও আসবে বলে জানান শিব। এরপর মার্কণ্ডেয় নামে শ্রীখণ্ডের একটি পুত্রসন্তান হয়। কিন্তু তাঁর ভাগ্য গণনা করে ঋষি দেখেন যে অসাধারণ প্রতিভাধর এই সন্তানের আয়ু মাত্র বারো বছর পর্যন্ত।তারপর মার্কণ্ডেয় ধীরে ধীরে বড় হতে লাগল।তাঁর মা ছেলের মৃত্যুর সময় এগিয়ে আসছে এই ভেবে সব সময় শোকে কাতর হয়ে থাকতেন।শ্রীখণ্ড তাঁর স্ত্রীকে এই বলে স্বান্তনা দেন, যে শিব স্বয়ং মার্কণ্ডেয়কে তাঁদের কোলে দিয়েছেন, তিনিই তাঁকে রক্ষা করবেন।যখন চিরবিদায় নেয়ার সময় আসন্ন তখন মাবাবাকে পুত্র শোক থেকে বাঁচানোর জন্য মার্কণ্ডেয় একটি শিব মন্দিরে গিয়ে শিব লিঙ্গ জড়িয়ে ধরে স্বরচিত মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ করতে লাগলেন তিনি।বারো বছর সম্পূর্ণ হওয়ার মুহর্তে যমরাজ নিজে ধৰ্মরাজ বেশে মার্কণ্ডেয়কে নিতে আসেন। যম মার্কণ্ডেয় আত্মা হরণ করতে যাওয়ার চেষ্টা করলে শিবলিঙ্গ থেকে আত্মপ্রকাশ করেন স্বয়ং মহাদেব।যমের দিকে ত্রিশুল উঁচিয়ে তিনি জিজ্ঞেস করেন যে তাঁর ধ্যানে মগ্ন ভক্তকে তিনি টেনে নিয়ে যাওয়ার সাহস কোথা থেকে পান?ধৰ্মরাজ যখন জানান যে তার আয়ু পূর্ণ হয়েছে শিব স্বয়ং তার জীবনের একটি বছর মার্কণ্ডেয়কে দান করেন সেই একটি বছর এত দীর্ঘ সময় যে বিশ্বাস করা হয় আজও স্বশরীরে মার্কেন্ডেয় ঋষি পৃথিবীতে ধ্যানমগ্ন ভাবে বিরাজ করছেন।সেই থেকে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র যিনি জপ করেনতাঁকে অকালে মৃত্যু স্পর্শ করেনা।শাস্ত্র মতে, সপ্তাহের শুরুর দিন অর্থাৎ সোমবার এই মন্ত্র জপ করলে, মহাদেব সন্তুষ্ট হন এবং জরা ব্যাধি থাকে না। এই মন্ত্র ১০৮ বার পাঠ করতে হয়।শ্রাবনের সোমবার এই মন্ত্র পাঠের জন্য শ্রেষ্ঠ সময়।আগামী পর্বে আবার কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদে সামনে। শ্রাবন মাসে ধারাবাহিক ভাবে চলবে এই শিব মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিবের জটায় গঙ্গা কেনো

শিবকে নিয়ে রহস্যর শেষ নেই। তার রূপ, তার সাজসজ্জা সবই রহস্যময়। শিবের ত্রিশূল, ডমরু, ব্যাঘ্রছাল, বাসুকি নাগ, ভস্ম সবারই অন্তরনিহিত অর্থ আছে যা নিয়ে আগে অল্পবিস্তর আলোচনা করেছি। শ্রাবনের এই বিশেষ পর্বে আজ শিবের জটায় বিরাজমান চন্দ্র নিয়ে বলবো।শেষে থাকবে একটি বিশেষ উপাচার সেখানেও থাকবে মা গঙ্গার উপস্থিত তাই পুরোটা পড়তে হবে। পুরাণ সূর্য বংশের রাজা ভগীরথ তার পূর্বপুরুষদের কপিল মুনির অভিশাপ থেকে পরিত্রাণের জন্য মা গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে আনার সিদ্ধান্ত নেন এবং এর জন্য কঠোর তপসা করেন । ভগীরথের তপস্যায় খুশি হয়ে মা গঙ্গা পৃথিবীতে আসতে রাজি হলেন।তবে মা গঙ্গা ভগীরথকে বললেন যে পৃথিবীতার এই প্রবল গতি সহ্য করতে পারবেনা এবং পাতালে চলে যাবে।ভগীরথ ব্রহ্মাজীর কাছে গিয়ে তার সমস্যার কথা বলেন।ব্রহ্মাজী ভগীরথকে শিবকে খুশি করতে বললেন।কারন একমাত্র শিবই পারেন এই সমস্যার সমাধান করতে।ভগীরথ কঠোর তপস্যা করে শিবকে খুশি করেন। এরপর শিব তাকে বর দিতে চাইলে তিনি তার সমস্যার কথা বলেন। গঙ্গার বেগে পৃথিবীকে বাঁচাতে ভগবান শিব তখন তার জটায় গঙ্গাকে ধারন করেন। কিন্তু আবার এক সমস্যা দেখা দেয় শিবের জটায় সম্পূর্ণ ভাবে আবদ্ধ হয়ে পরেন গঙ্গাএদিকে তার মর্তে আগমন না হলে ভগীরথের পূর্ব পুরুষরা উদ্ধার পাবেন না তাই তার অনুরোধ শিব তার জটার কিছুটা অংশ খুলে দেন এবং এইভাবে মা গঙ্গা দেবলোক থেকে শিবের হয়েপৃথিবীতে আসেন।ভগীরথের পূর্বপুরুষরা মা গঙ্গার স্পর্শে মোক্ষলাভ করেন।শিবের জটায় গঙ্গা বিরাজমান তাই শিবের আরেক নাম গঙ্গাধর। পবিত্র এই শ্রাবন মাসে তামার ঘটিতে গঙ্গা জল নিন তাতে কাঁচা দুধ মেশান এবং এই মিশ্রণ দিয়ে শিব লিঙ্গের অভিষেক করুন। এতে আপনার পরিবারের অশান্তি ও অভাব অভিযোগ দূর হবে এবং মহাদেবের অসীম কৃপা লাভ করবেন।এই শ্রাবন মাস জুড়ে থাকছে শিব নিয়ে নানা তথ্য। এমন সব পৌরাণিক ঘটনা এবং বিশেষ কিছু শাস্ত্রীয় উপাচার। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

গ্রহ শান্তির জন্য শিব লিঙ্গে কি অর্পণ করবেন

শ্রাবনের আরো এক সোমবারে আপনাদের স্বাগত।আজকের পর্বে আসুন জেনে নিই এই পবিত্র শ্রাবন মাসে শিব লিঙ্গে কোন বস্তু অর্পণ করলে কোন গ্রহের দোষ বা অশুভ প্রভাব দূর হয়।তামার ঘটিতে মধু নিয়ে শিব লিঙ্গে অর্পণ করুনএতে রবি গ্রহ সংক্রান্ত সব দোষ দূর হবে।ধুতরো ফল শিবের মাথায় অর্পণ করলে শিব খুব সন্তুষ্ট হন এবং পীড়িত শুক্রের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।ধুতরো ফুলও মহাদেবের অন্যতম পছন্দের জিনিসশ্রাবনের সোমবার শিব লিঙ্গে ধুতরো ফল নিবেদন করলে বুধ গ্রহের দোষ দূর হয় এবং অর্থনৈতিক ভাবে শুভ ফল পাওয়া যায়।শ্রাবন মাসে শিবের মাথায় গঙ্গাজল অবশ্যই ঢালতে হবে এতে চন্দ্র গ্রহের অশুভ প্রভাব দূর হয়যাদের বৃহস্পতি পীড়িত বা অশুভ অবস্থায় আছে তারা আখের রস মহাদেবকে অর্পণ করলে গ্রহ দোষ থেকে মুক্তি পাবেন।শ্রাবন তিনটি পত্রযুক্ত নিখুঁত বেলপাতা শিবলিঙ্গের মাথায় দিতে হবে এতে মঙ্গল গ্রহ সংক্রান্ত দোষ দূর হয়।তামা বা রুপোর সাপ শিব লিঙ্গে অর্পণ করতে পারেন যদি কালসর্প যোগ থাকে তাহলে নিশ্চিত সুফল পাবেন।ভাং বা সিদ্ধি শিবের খুব প্রিয় বলে মানা হয়। শিব পুজোর সময় একটি ভাং পাতা বা ভাং বেটে সেটা দুধ ও গঙ্গাজলে মিশিয়ে অভিষেক করলে রাহু এবং কেতুর অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি পাবেনযাদের জন্ম ছকে গ্রহ রাজ শনি পীড়িত বা অশুভ প্রভাব দিচ্ছে তারা সাতমুখী রুদ্রাক্ষ শিব লিঙ্গে নিবেদন করে কালো সুতোয় ধারন করুন। গ্রহরাজের অশুভ প্রভাব দূর হবে।এই শ্রাবন মাস শিব কৃপা লাভ করার জন্য শ্রেষ্ঠ সময় এই সময় কে সঠিক ভভাবে ব্যাবহার করুন। ফিরে আসবো এমনই কোনো কার্যকরী এবং প্রয়োজনীয় শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শ্রাবন মাসে শিবের রুদ্রাভিষেকের বিশেষ পদ্ধতি

শ্রাবণ মাসে রুদ্রাভিষেক করলে শুভ ফল পাওয়া যায়। এ ছাড়া, কষ্ট ও গ্রহপীড়া দূর করার জন্যও রুদ্রাভিষেক কার্যকরী ভূমিকা নেয়।আসুন আজকের পর্বে জেনে নিই কোন বস্তু দিয়ে অভিষেক করলে কি ফল লাভ হয়আখের রস দিয়ে অভিষেক করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়, দুর্ভাগ্য নষ্ট হয়।ঘিয়ের ধারায় অভিষেক করলে বংশ বিস্তার হয়।চিনি মিশ্রিত দুধের অভিষেক ব্যক্তিকে বিদ্বান করে।মধু দিয়ে অভিষেক করলে পুরনো রোগ নষ্ট হয়।গোরুর দুধের অভিষেক করলে আরোগ্য লাভ হয়।ভস্ম দিয়ে অভিষেক করলে ব্যক্তি মোক্ষ-মুক্তি প্রাপ্ত করে।সর্ষের তেল দিয়েও শিবের অভিষেক হয়। তাতে শত্রুতা দমন হয়।চিনি-জল দিয়ে অভিষেক করলে সন্তান প্রাপ্তি সহজ হয়।তবে মনে রাখবেন, মন্দিরে গিয়ে রুদ্রাভিষেক করা শ্রেষ্ঠ। তবে বাড়িতে পার্থিব শিবলিঙ্গেও অভিষেক করা যেতে পারে। বাড়ির তুলনায় মন্দিরে, আবার মন্দিরের তুলনায় নদী তীর ও নদী তীরের তুলনায় পর্বতে রুদ্রাভিষেক বেশি ফলদায়ী।শ্রাবন মাস জুড়ে থাকছে শিব নিয়ে নানা তথ্য। পৌরাণিক ঘটনা এবং এমন সব কার্যকরী শাস্ত্রীয় বিষয়।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

শ্রাবন মাসে শিবলিঙ্গে দুধ কেনো দেবেন

চলছে শ্রাবন মাস। আর কিছুদিন পরেই শিবরাত্রিতে মহিলারা শিবপূজা করবেন এবং শিবের মাথায় জল এবং দুধ অর্পণ করেন ।ঠিক কেনো শিবের মাথায় দুধ ঢালা হয় তার পৌরাণিক এবং সমাজতাত্ত্বিক কারন আছে।আসুন জেনে নিই।পৌরাণিক কালে দেবতা ও অসুরেরা মন্দার পর্বতের সাহায্যে সমুদ্র মন্থন করেন। এই সময় সমুদ্র থেকে উঠে আসে প্রচুর ধনরত্ন। কিন্তু তার সাথে প্রচুর পরিমানে গরলও উঠে আসে, যা পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর ছিল। কোন দেবতা যখন সেই গরলের ভাগ নিতে নারাজ ছিলেন, সেই সময় মহাদেব তাঁর কণ্ঠে সমস্ত বিষ ধারণ করে নেন। এবং পরিবেশকে বিষের প্রকোপ থেকে রক্ষা করেন। এই ঘটনার পর তাঁর সারা শরীরের তাপমাত্রা কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছিল। মহাদেবকে বিষের জ্বালা থেকে বাঁচাতে দেবী তারা প্রকট হয়ে শিবকে স্তন্য পান করান। সেই কারণেই এখনও শিবের বিষের জ্বালা কমাতে তাঁকে দুধ দিয়ে স্নান করানো হয়।আয়ুর্বেদ অনুসারে বৈজ্ঞানিকরা মনে করেন, বর্ষাকালে ঘাস খাওয়ার সময় গোরু ঘাসের সাথে বিভিন্ন রকমের ব্যাক্টেরিয়া খেয়ে ফেলে। যার ফলে দুধে বিষক্রিয়া থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তাই বর্ষাকালের দুধ পান না করে শিবলিঙ্গে ঢালা হয়।শিব যেহেতু সমুদ্র মন্থনের সময় উৎপন্ন গরল নিজের কন্ঠে পান করে ছিলেন তাই তিনি বিষের প্রভাব থেকে মুক্ত।আসলে আরাধ্য দেবাদিদেবকে যা অর্পণ করা হবে তা আমাদের জীবনেই আশীর্বাদ নিয়ে আসবে তাই যারা প্রার্থনা করেন আমার সন্তান যেনো থাকে দুধে ভাতে তারা শিব লিঙ্গে দুধ অর্পণ করেন। দুধ এক্ষেত্রে সমৃদ্ধি এবং ঐশর্যর প্রতীক স্বরূপ।ফিরে আসবো আগামী পর্বে। শ্রাবন মাস জুড়ে থাকবে এমনই সব গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

শিব ও বারোটি রাশি

শাস্ত্র মতে হোম যজ্ঞ ও বিশেষ পূজা পাঠের মাধ্যমে গ্রহ দোষ খণ্ডনের ক্ষেত্রে শ্রাবন মাসে অতি উত্তম সময়|আবার রাশি সাপেক্ষেও দেবাদিদেবমহাদেবের সাথে জ্যোতিষ শাস্ত্রের সম্পর্ক রয়েছে|আজকের পর্বে আসুন জেনে নিই কোন রাশির জাতক জাতিকারা শ্রাবন মাসে মহাদেবকে সন্তুষ্ট করে কি পাবেন।মেষ রাশির জাতক-জাতিকারা মহাদেবের উপাসনার ফলে আয় ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে সক্ষম হবেন। শরীরে কোনও অসুস্থতা থাকলে তা খুব দ্রুত দূর হবে।বৃষ রাশির জাতক যদি শিবের উপাসনা করে, তা হলে সকল কাজে বিনা বাধায় এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে। কর্মক্ষেত্রে উন্নতি করতে পারবে। শরীর খুব ভাল থাকবে এবং বন্ধু ও পরিবারের মানুষদের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় থাকবে।মহাদেবের কৃপায় মিথুন রাশির আটকে থাকা কাজ উদ্ধার হতে পারে। প্রতিযোগিতামূলক কাজেও অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাবে। শারীরিক অসুস্থতার দিকে বেশ কিছুটা উন্নতি হবে।মহাদেবের কৃপায় কর্কট রাশির জাতক জাতিকাদের প্রেম এবং দাম্পত্য জীবনের সব বাধা কেটে যাবে।মহাদেবের উপাসনা করলে সিংহ রাশির শরীর স্বাস্থ্য ভাল যাবে। কর্মে উন্নতি লক্ষ্য করা যাবে এবং প্রেমের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।যাদের কন্যা রাশি আপনাদের শ্রাবন মাসে মহাদেবের পুজো করা উচিত এবং শিবলিঙ্গে জল ঢালা উচিত। এর সঙ্গে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করতে হবে। এর ফলে তাঁদের ভাগ্য আরও উজ্জ্বল হবে এবং জীবনে অনেক উন্নতি সম্ভব হবে।তুলা রাশি মহাদেবের পুজো করলে উচ্চ শিক্ষা লাভ হবে ও কর্মের বাঁধা দূর বৃশ্চিক রাশির জাতক অবশ্যই শিবের উপাসনা করুন। এতে শারীরিক উন্নতির সঙ্গে দাম্পত্য জীবন ও কর্মেও উন্নতি লক্ষ্য করা যাবে।যাদের ধনু রাশি তারা মহাদেবের পুজো করলে শত্রুতা থেকে মুক্তি লাভ করবেন।মকর রাশির অধিপতি হলেন শনি। মহাদেবের পুজো করলে শনি তুষ্ট থাকেন। মহাদেবের আশীর্বাদধন্য হওয়ায় মকর রাশির জাতকরা জীবনের অনেক সংকট সহজে পেরিয়ে আসতে পারেন।কুম্ভ কুম্ভ রাশির জাতকদেরও অধিপতি হলেন শনি। মহাদেবের কৃপায় এরা সমাজে মান-সম্মান, খ্যাতি ও প্রতিপত্তি লাভ করেন। কুম্ভ রাশির জাতকরা খারাপ সময় কাটিয়ে উঠতে প্রতিদিন ‘ওম নমঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করুন।মীন রাশির জাতক-জাতিকারা মহাদেবের উপাসনার ফলে আয় ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করতে সক্ষম হবেন। শরীরে কোনও অসুস্থতা থাকলে তা খুব দ্রুত দূর হবে।উল্লেখিত রাশিগুলিরা পাশাপাশি যেকোনো রাশির জাতক রা শ্রাবন মাসে দেবাদিদেব মহাদেবের পূজা করে তাকে সন্তুষ্ট করতে পারেন বিশেষ করে যাদের অশুভ গ্রহ দোষ রয়েছে তারা শ্রাবন মাসে শাস্ত্র মতে গ্রহদোষ খণ্ডন করান।ফিরে আসবো পরের পর্বে। শিব বিষয়ে আরো অনেক শাস্ত্রীয় আলোচনা বাকি আছে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব ও তন্ত্র

শ্রাবন মাস উপলক্ষে শিব কে নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করছি আজ শিবের সাথে তন্ত্রের কি সম্পর্ক তা নিয়ে লিখবো ।

প্রথমে তন্ত্র নিয়ে ছোটো করে বলে নেয়া যাক।
তন্ত্র – ছোট্ট একটি শব্দ। তন্ত্র হল এক বৃহৎ ও অতিপ্রাচীন গুপ্ত বা লুপ্তপ্রায় সাধন বিষয়। মুক্ত বিশ্বকোষে বলা আছে, তন্ত্র হিন্দুসমাজে প্রচলিত ঈশ্বর উপাসনার একটি পথবিশেষ। আসলে শিব ও মহাশক্তির উপাসনা সংক্রান্ত শাস্ত্রগুলিকেও তন্ত্র সাধনা নামে অভিহিত করা হয়।তন্ত্রশাস্ত্র অনুযায়ী, এই মহাবিশ্ব হল শিব ও মহাশক্তির দিব্যলীলা।যদিও তন্ত্র শব্দটির অর্থ ব্যাপক। তবে সংক্ষেপে তন্ত্র হচ্ছে “সৃষ্টির পরিচালনার নিয়ম”।

তন্ত্রে যেসব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও রীতি-নীতির বর্ণনা রয়েছে তার উদ্দেশ্যই হল মানুষকে অজ্ঞানতা ও পুনর্জন্মের হাত থেকে মুক্তি দেওয়া।তন্ত্রের সঙ্গে মহাদেবের সম্পর্ক অতি গভীর বলা ভালো মহাদেব থেকেই তন্ত্রের উৎপত্তি কারন শিবের ডমরু থেকে তন্ত্রের জন্ম হয়েছে ডমরু মহাদেবের অন্যতম প্ৰিয় বস্তু।

আবার সতী বা দেবী দুর্গার দশ হাতে আছেন দশ মহাবিদ্যা। এই দশমহাবিদ্যার উপর ভিত্তি করেই তন্তশাস্ত্রর ব্যাবহারিক দিকটি গড়ে উঠেছে।জ্যোতিষ শাস্ত্রে প্রতিটি গ্রহ দশ মহাবিদ্যার একেকটি বিদ্যার অধীনে আছে।

সংক্ষেপে তাই বলাই মহাদেব ও আদ্যা শক্তি মহামায়া এই দুই অনন্ত ও অসীম শক্তি তন্ত্রের আধার।

ভারতের আদি ও অকৃত্রিম তন্ত্র সাধনার জায়গা হল নীলাচল পর্বত। যা ‘কামাখ্যাধাম’ নামে পরিচিত।তেমনই মহাদেবের বাস কৈলাশ পর্বতেও বহু অলৌকিক শক্তির উপস্থিতি আছে যাকে অনেকেই তন্ত্রশক্তির সাথে তুলনা করেন।

তন্ত্র এমনই একটি শাস্ত্র যার মাধ্যমে নিজেকে অনুসন্ধান করা যায়। নিজের অন্তরের ঈশ্বরকে খুঁজে পাওয়া যায়।স্বয়ং দেবাদিদেব মহাদেব কে প্রসন্ন করা যায়।

তন্ত্র জ্ঞানচক্ষু উম্মোচন করে। সৃষ্টির কারন বুঝতে সাহায্য করে তন্ত্র। তন্ত্র সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশের পরিচালনা শক্তি। ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বর এই তিন শক্তির সমন্বয়ে সাধিত হয় তন্ত্র শক্তির অদৃশ্য বৃত্ত যা আমাদের জীবন ও সমগ্র সৃষ্টিকে পরিচালনা ও প্রভাবিত করে

যে অঘোরো পন্থা তন্ত্রের একটি পথ সেই পন্থায় বিশ্বাসীরা শিবকেই আদি অঘোরী বলে মানে।

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে শিব ও তন্ত্র দুটি পরস্পরের সাথে সম্পর্ক যুক্ত। যারা তন্ত্র মতে এবং শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে জীবনের অন্ধকার দূর করতে চান বা গ্রহগত কু প্রভাব কাটিয়ে জীবনে জয়ী হতে চান তারা এই শ্রাবন মাস এবং বিশেষ করে আসন্ন শিব রাত্রিকে বেছে নিতে পারেন গ্রহ দোষ খন্ডনের জন্য।

ফিরে আসবো পরের পর্বে। শিব বিষয়ে আরো অনেক কথা বলার আছে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।