সতীপীঠের ভূমি বীরভূমে রয়েছে এক ঐতিহাসিক কালী ক্ষেত্র যা মগনেশ্বরী কালীবাড়ি নামে পরিচিত। এই মন্দিরের সাথে জড়িয়ে আছে এক মহান তন্ত্র সাধিকার নাম এবং বহু অলৌকিক ঘটনা।আজকের পর্বে বীরভূমের মগনেশ্বরী মন্দিরের ইতিহাস।শুরু করবো একটি অলৌকিক ঘটনা দিয়ে।সে বহু বছর আগের কথা বীরভূমের কোনো এক ছোট্ট রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার স্বপ্ন দেখেন, এক মহিলা বিনা টিকিটে আমোদপুরে আসছেন।তার বিপদ হতে পারে তিনি যেনো সাহায্যে এগিয়ে যান।সেই স্বপ্ন অনুযায়ী পরদিন ভোরে এক মহিলাকে খুঁজে পান স্টেশন মাস্টারতাঁর কাছে কোনও টিকিটও ছিল না।জিজ্ঞাসা করে জানা যায় কৈলাসপতি বাবার কাছে। তাঁর কাছ থেকে তিনি দীক্ষা গ্রহণ করবেন।স্টেশন মাস্টার তার সাধ্য মতো সব ব্যাবস্থা করে দেন।সেদিনের এই অজ্ঞাত মহিলা ছিলেন বিখ্যাত তন্ত্র সধিকা মৃণালিনী দেবী। এই মৃণালিনী দেবী ছোট থেকেই প্রচন্ড সংযমী এবং ধার্মিক চরিত্রের ছিলেন তিনি। মাত্র আট বছর বয়সে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে সাধনা করতে চলে যান।শোনা যায় তার জন্মের পর কৈলাসপতি নামে এক সাধক তাঁর পরিবারকে জানান “এই মেয়ে একদিন বিখ্যাত সন্ন্যাসিনী হবে” পরবর্তীতে সেই মেয়ে কৈলাশ পতি বাবার কাছেই দীক্ষা নিয়ে এক সাথে সাধনা করে।তার সন্ন্যাসীনী জীবনে নাম হয় মগনানন্দ।মগনানন্দ সাধক বামাক্ষ্যাপার সমসাময়িক ছিলেন দুজনের দেখাও হয়। দীক্ষা লাভের পর নিজের গ্রাম আমোদপুর ফিরে মৃণালিনী দেবী ওরফে মগনানন্দ ভক্তদের সাহায্যে দক্ষিণেশ্বর কালীর আদলে দেবীর শিলা মূর্তি স্থাপনা করেন।এবং পাকাপাকিভাবে আমোদপুরেই থাকতে শুরু করেন।চলতে থাকে তন্ত্র সাধনা। মাতৃ আরাধনা।শোনা যায় একবার তারাপীঠে বামদেবের সেবা করতে ছুটে যান মগদানন্দ গিরি।সেবা করে তাকে সুস্থ করে তোলেন। তার ভক্তদের মুখে তার একাধিক অলৌকিক শক্তির কথা শোনা যায়। ভক্তদের কাছে তিনি ছিলেন ‘গুরুমা’। ভাল কাজের যেমন বিধান দিতেন, ঠিক তেমনি খারাপ কাজেও শাসন করতেন। তিনি একশো চৌত্রিশ বছর বয়সে দেহত্যাগ করেন এবং তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী, তাঁকে ত্রিবেণী সঙ্গমে সমাধিস্থ করা হয়।গুরুমা মগদানন্দ গিরির নামানুযায়ী তার সাধন স্থল ও সেই সংলগ্ন কালী ক্ষেত্র আজসবার কাছে মগনেশ্বরী কালী মন্দির রূপে পরিচিত।সামনেই রথ যাত্রা এবং অম্বুবাচির মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠান রয়েছে। এই সময় জ্যোতিষ ও তন্ত্র জগতে দুর্লভ সময়। তাৎপর্যপূর্ণ এই সময়ে চলতে থাকবে দেবী মাহাত্ম এবং মন্দির রহস্য নিয়ে বিশেষ বিশেষ পর্বগুলি। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দেবী মাহাত্ম – শেওড়াফুলি রাজবাড়ির পুজো
পন্ডিত ভৃগুশ্রী জাতক
বাংলার প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক পুজো গুলির কথা বলতে হলে কিছু রাজবাড়ির পুজোর কথাও বলতে হয়। এমনই এক পুজো শেওড়াফুলি রাজবাড়ির ঐতিহাসিক পুজো। আজকের পর্বে এই পুজোর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও একটি অলৌকিক ঘটনার কথা বলবো।
শোনা যায় বর্ধমানের নারায়ণপুরে রাজত্ব করতেন এই বংশের আদি পুরুষরা। মোঘল আমলে স্বয়ং সম্রাট আকবর নাকি তাদের জমি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে নদী ভাঙন গ্রাস করেছিল জমিদারি। ভিটে মাটি হারিয়ে বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে শেওড়াফুলি এসে বসবাস করতে শুরু করেন তৎকালীন জমিদার।
বর্ধমানে যখন এই জমিদার বংশের গৌরব ময় সময় চলছে তখন গ্রামে পুকুর খনন করার সময় স্বপ্নাদেশ পান জমিদার মশাই । স্বপ্নাদেশ অনুসারে মাটির তলা থেকে পান দেবী দশভূজার অষ্টধাতুর মূর্তি।
পরবর্তীতে শেওড়াফুলির বাড়িতে এসে গৃহ মন্দিরে দেবী দশভূজার মূর্তিকে সর্বমঙ্গলা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় তিনশো বছর ধরে সেই প্রতিষ্ঠিত মূর্তিতেই চলে আসছে পুজো । নিত্যপূজা হয় কিন্তু শরতের আকাল বোধন ও বসন্তকালের বাসন্তী পুজো এই মন্দিরের প্রধান উৎসব।
এই বছর অম্বুবাচী প্রবৃত্তি অর্থাৎ শুরু হবে ২২ জুন এবং ২৬ জুন নিবৃত্তিঃ অর্থাৎ সমাপ্তি হবে। আগামী সপ্তাহ জুড়ে দেবী মাহাত্ম এবং মন্দির রহস্যর পাশাপাশি অম্বুবাচি নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আপনাদের জানাবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দেবী মাহাত্ম – বড় ঠাকুরানীর পুজো
আসন্ন অম্বুবাচি বিশেষ করে অম্বুবাচি পরবর্তী অমাবস্যা শক্তি সাধনার উপযুক্ত সময়।শুধু তাই নয় এই সময় দেবী মাহাত্ম শোনার শোনানোর জন্য শ্রেষ্ঠ সময়। আজকের পর্বে আপনাদের বাংলার এক অতি প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক দূর্গা মন্দিরের কথা জানাবো।প্রাচীন এই দুর্গা মন্দির রয়েছে বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে।মল্লরাজ শ্রীমন্ত জগৎমল্লদেব বিষ্ণুপুরের গভীর অরণ্যে দেবী দুর্গার স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন। সেই স্বপ্নাদেশমতোই তাঁর রাজধানী তিনি প্রাচীন প্রদ্যুম্নপুর থেকেবিষ্ণুপুরে স্থানান্তরিত করেন।এবং রাজবাড়ির কাছেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন মৃন্ময়ীদুর্গা মন্দির। দেবীর মূল বিগ্রহের মুখ ও অবয়ব গঙ্গার মাটি দিয়ে তৈরি তাই মৃন্ময়ী দূর্গা মন্দির নাম হয়েছে বলে মনে করা হয়।যদিও এই পুজো বড়ো ঠাকুরানীর পুজো নামে খ্যাত। তার একটি বিশেষ কারন আছে।দূর্গা পুজোয় এবং বিশেষ বিশেষ তিথিতে ঘট স্থাপন করে এখানে পটে আঁকা দুর্গার পুজো শুরু হয়। কোনও মূর্তি বিসর্জন হয় না তবে জিতাষ্টমী তিথির পরদিন ছোটনাগপুরের রাজমহল থেকে রুপোর পাত দিয়ে তৈরি মহিষাসুরমর্দিনীকে আনা হয়। সেই মূর্তিকে বলা হয় বড়ঠাকুরানি। কয়েকশো বছরের প্রাচীন রীতি অনুসারে বড় ঠাকুরানি দেবীকে কৃষ্ণবাঁধে নবপত্রিকা-সহ স্নান করিয়ে বোধনের মাধ্যমে দুর্গাপুজোর সূচনা করা হয়।দুই দেবী অর্থাৎ মৃন্ময়ী দেবী ও রাজবাড়ীর গৃহ মন্দিরের দেবী যথাক্রমে মেজঠাকুরানী এবং বড়ো ঠাকুরানী নামে খ্যাত পাশাপাশি পটে আঁকা দেবীকে ছোটো ঠাকুরানী বলা হয়।প্রতিবার মহাষষ্ঠীর দিন বিষ্ণুপুরের রাজা ও রানিকে দেবীপট বা ছোটঠাকুরানির দর্শন করানো হয়। আগে এখানে কামান দেগে সন্ধিপুজো হতো সন্ধিপুজো চব্বিশ মিনিটের মধ্যে শেষ করা হয়।এককালে কলেরার মড়কে মল্লভূম রাজ্যের ও রাজপরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই সন্ধি পুজোর পরে এখানে নিষ্ঠা সহকারে মহামারীর পুজো শুরু হয় এইপুজোর অংশ হিসেবে ঘটের দিকে পেছন ফিরে পুরোহিতরা কিছু বিশেষ মন্ত্র উচ্চারণ করেন এবং সব শেষে বিশেষ কিছু উপাদান দিয়ে নির্মিত ভোগ শুধু মাত্র রাজবাড়ির সদস্যদের খেতে দেয়া হয়।যুগ ধরে বাংলার কতো এমন দূর্গা মন্দির এবং প্রাচীন কালী মন্দিরে এমন অদ্ভুত কতো রীতি চলে আসছে।আগামী দিনে দেবী মাহাত্ম এবং অম্বুবাচি নিয়ে আরো অনেক কথা হবে।থাকবে মন্দির রহস্য নিয়ে নতুন পর্ব।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দেবী মাহাত্ম – খুকীমায়ের পুজো
দেবী কালী শুধু শাস্ত্র সম্মত মহাকালী বাভদ্র কালী রূপে পূজিতা হন তা নয়। তিনি বাংলার ঘরের মেয়ে। আমাদের ঘরের মেয়েকে আমরা যেমন নানা রকম আদরের নাম্বার দিয়ে থাকি তেমনই দেবী কালীও নানা নামে নানা রূপে আমাদের কাছে ধরা দেন। কোথাও তিনিবড়মা আবার কোথাও তিনি পুটে কালী। এমনইএক কালী মন্দির আছে বজ বজে যেখানে দেবীকে খুকীমা নামে ডাকা হয়। আজকের পর্বে খুকীমা কালীর কথা লিখবো।অদ্ভুত এই কালী মূর্তির ইতিহাস। শোনা যায় দয়াল ঠাকুর নামে এক মাতৃ সাধক এক সময়ে এই স্থানে সাধনা করতেন। পাশেই ছিলো শ্মশান এবং আদি গঙ্গা। এক রাতে এক ডাকাত দল এখানে আসে।সাধক কে ডেকে নিয়ে যাওয়ার হয় তাদের সর্দারের কাছে।ডাকাত সর্দারের গা পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে। পানীয় জল ও চিকিৎসারে জন্যই তাই কুটির দেখে দাঁড়িয়ে পড়া শুনশান প্রান্তরে।সেই ফাঁকে হয়ে যাবে ভাগ-বাটোয়ারাও। জানা গেল, সুদূর বর্ধমান থেকে লুঠ করে আসছেন তাঁরা।দয়াল ঠাকুর লুট করা সামগ্রীরে মধ্যে পাথরের তৈরি এক কালী মূর্তি দেখলেন এই মূর্তি যে চুরি করা আনা হয়েছে কোনো রাজবাড়ি থেকে তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল তাঁর কাছে। তার কারণ বিগ্রহের গঠন। অখণ্ড কষ্ঠীপাথরের তৈরি এই মূর্তি বড়ো কোনো পাথর থেকে কেটে বানানো। এমনকি দেবীর গলার নরমুণ্ডের মালাও খোদাই করে তৈরি। এ যে কোনো সাধারণ শিল্পীর হাতের কাজ হতে পারে না তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি তাঁর। তিনি অবহেলায় পড়ে থাকা সেই মূর্তির পুজোর ও ভোগের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিলেন। নির্দেশ পালন করতেই সেরে ওঠেন ডাকাত সর্দার।তারা বিদায় নেয় এবং কালী মূর্তি ওই স্থানেই স্থাপিত হয় এবং খুকিমা নামে আজও তিনি সেখানে স্বমহিমায় বিরাজিতা।পরে জানা যায় এই মূর্তির পুজো করতেন মাতৃ সাধক কমলাকান্ত। বর্ধমান থেকে এই মূর্তি ডাকাতি করে সেই রাতে আনা হয়। এবং হয়তো দেবীর ইচ্ছাতেই এখানে আরেক মাতৃ সাধক সেইমূর্তির পুজোর দায়িত্ব পান।এমন কতো অজানা দৈব ঘটনা কতো অদ্ভুত অলৌকিক লীলা ঘটেছে এই বাংলায়। আগামী পর্ব গুলিতে আরো অনেক এমন ইতিহাস এবং জনশ্রুতি নিয়ে ফিরে আসবো।যারা আসন্ন অম্বুবাচি বা অমাবস্যায় গ্রহ দোষের প্রতিকার চান যোগাযোগ করুন।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।
দেবী মাহাত্ম – দোহালিয়া কালী পুজোর ইতিহাস
আর মাত্র কয়েকদিন পরেই অম্বুবাচি এই সময় আসামের কামাক্ষ্যা থেকে শুরু করে দেশের সমস্ত দেবীস্থানে দরজা বন্ধ থাকে। স্পর্শ করার নিয়ম থাকে না দেবীকে। তারপর অম্বুবাচির নিবৃত্তি ঘটলে যেকোনো শুভ কাজের সূচনা করা যায়। এই সময় তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধরিত্রী যেমন নতুন ভাবে সেজে ওঠে। তেমনই গ্রহ গত দুষ্প্রভাবদূর করে নতুন ভাবে জীবন শুরু করার জন্যও এইসময় শ্রেষ্ঠ। আজ আপনাদের মুর্শিদাবাদের একটি প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক দেবী মন্দিরের কথা জানাবো।বাংলার এক সময়ের রাজধানী মুর্শিদাবাদ জেলায় আছে দোহালিয়া কালী মন্দির।।বহু প্রাচীন এই দেবী মন্দিরের মুল আকর্ষণ ব্যাঘ্র আকৃতিতে দক্ষিণাকালীরে উপস্থিতি।প্রায় একহাজার বছর পুর্বে রাজা লক্ষন সেন ও বল্লাল সেনের আমলে এই কালী ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত হয়।শোনা যায় বহু বছর আগে জঙ্গলের মধ্যে এই মন্দির ছোট্ট একটি মন্দির ছিলো সেখানেএক পরিব্রাজক সন্ন্যাসী ননদী পথে পথে এসে এখানে বসে তপ্যাসা করেছিলেন। তার তপ্যাসায় সন্তুষ্ট হয়ে ব্যাঘ্র রূপী দক্ষিনা কালী দর্শন দেনতখন থেকেই এই ব্যাঘ্র রূপে মা দক্ষিণাকালী এখানে পূজিতা হয়ে আসছেন।একটি শিলা মূর্তিতে ব্যাঘ্র রুপী মা কালী বিরাজ করছেন এখানে।একটি প্রচলিত জনশ্রুতি আছে যে সেই সাধক এইস্থানে একটি সপ্নাদিষ্ট দৈব্য শিকড় লাভ করেন এবং এতে তার হারানো দৃষ্টি শক্তি ফিরে আসে।সেই থেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসেন এবং এই পুকুরে চান করে গাছের শিকর নেন এবং তাতে দৃষ্টি শক্তি ভালো হয় বলে বিশ্বাস।এর কোনো প্রামান্য নথি বা তথ্য যদিও নেই তবে বহু মানুষের আস্থা আছে।দেবীর মন্দিরেরে পাশে একটি পুকুর আছে সেই পুকুরের জল নাকি ছেচে শেষ করা যায়না একবার জল নিষ্কাশন করার চেষ্টা করা হলে মাটি ফেটে গেছিল সেই থেকে এই পুকুরে জল এক ভাবে রাখা আছে ।দোহালিয়া গ্রামে এই একটি মন্দিরেই অমাবস্যায় পূজো হয়।পৌষ মাস উপলক্ষে মেলা বসে।বহু ভক্ত সেই সময় আসেন এখানে।আগামী পর্বে ফিরে আসবো দেবী মাহাত্মর নতুন পর্ব নিয়ে।সামনেই অম্বুবাচি এবং অমাবস্যা। তন্ত্র মতে যারা গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চান এখন থেকেই যোগাযোগ করুন।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দেবী মাহাত্ম – দেবী নগর কালী বাড়ি
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আক্ষরিক অর্থে কালী” মানে কাল অর্থাৎ সময়। এই কলিযুগে তিন দেব-দেবীকে জাগ্রত মনে করা হয় তারা হলেন হনুমান, কালী ও ভৈরব। কালী পূজিতা হন বহু রূপে দক্ষিণা কালী, শ্মশান কালী, ভদ্র কালী ও মহাকালী আমাদের বাংলায় বেশি জনপ্রিয়।শাস্ত্রে আছে দেবী কালীর আরাধনা করলে মানুষের জীবনে জাগতিক সুখ, শান্তি,
শক্তি ও বিদ্যালাভ হয়। আবার সব গ্রহ নক্ষত্ররে অশুভ প্রভাব দূর হয় কালী কৃপায়। তাই হয়তো প্রাচীন বাংলার রাজা বা জমিদাররা কালী পুজোয়
বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। এমনই এক প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী পুজো রায়গঞ্জের দেবী
নগর কালী বাড়ির পুজো।
প্রায় ৫০০ বছরের সুপ্রাচীন পুজো শুরু হয়েছিলো জমিদারী আমল থেকে এবং অদ্ভূত এক রীতি
চলে আসছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জে দেবীনগর কালীবাড়িতে।এখানে সূর্যের মুখ দেখেন না দেবী। সূর্যাস্তের পর দেবীর চক্ষুদান ও পুজো হয় এবং সূর্যোদয়ের আগেই প্রতিমা বিসর্জন হয়।
শোনা যায় এই এলাকা আগে জঙ্গলে ঢাকা ছিল। এখন যেখানে মন্দির তার পিছনে শ্মশান ছিল সেই সময়ে।সেই শ্মশানে দেবী কালীর একটি ছোট্ট তবে সুন্দর মন্দির ছিল। আগে ডাকাতরা ওই থানে কালীপুজো করে ডাকাতি করতে যেত। মাঝে সাঝে কিছু তান্ত্রিক বা কাপালিককে তন্ত্র সাধনায় বসতে দেখা যেতো এই স্থানে।
অদ্ভুত একটি ঘটনা আজও লোক মুখে শোনা যায়।একদিন ঘোড়ার গাড়িতে করে কালী থানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন দিনাজপুরের মহারাজা গিরিজা নাথ রায় বাহাদুর। আচমকাই মহারাজের গাড়ির চাকা আটকে যায়। শত চেষ্টাতেও গাড়ি এগোয়নি। সেদিন রাতে এখানেই রাত কাটান মহারাজ গিরিজা নাথ রায় বাহাদুর। সেই রাতে দেবী কালী রাজাকে এই স্থানে পুজো করার জন্য স্বপ্নাদেশ দেন।স্বপ্নাদেশে দেবী জানিয়েছিলেন, ‘আমার মাথার উপর ছাদ দিবি না। আমি রোদে পুড়ব, জলে ভিজব। আমি সূর্যের মুখ দেখব না। একদিনেই আমার মূর্তি গড়ে পুজো এবং বিসর্জন হবে।’
দেবীর সেই আদেশ মতো ছাদহীন মন্দির নির্মাণ করেন মহারাজা গিরিজা নাথ রায় বাহাদুর। তারপর দীপান্বিতা কালীপুজোর দিন মহারাজার হাত দিয়েই এই মন্দিরের পুজো শুরু হয়।
দেবীর আদেশ মেনেই এখানে কালীপুজোর দিন সকালে মূর্তি তৈরি হয়। সূর্যাস্তের পর দেবীর চক্ষুদান করে রাতে পুজো হয় এবং পরদিন সূর্যোদয়ের আগেই ভোররাতে নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
এমন কতো রহস্য ময় মন্দির রয়েছে বাংলার সর্বত্র
আগামী পর্বে আবার নতুন দেবী মহাত্ম বর্ণনা হবে।
সামনেই অম্বুবাচি এবং অমাবস্যা। তন্ত্র মতে যারা গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চান এখন থেকেই যোগাযোগ করুন। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন।
ধন্যবাদ।
দেবী মাহাত্ম – বর্ধমানের রক্ষা কালী পুজো
দেবী মাহাত্ম বা মন্দির রহস্য পর্বে যতগুলি মন্দির বা প্রাচীন পুজো নিয়ে আলোচনা করেছি তার অনেকগুলিই স্বপ্নাদৃষ্ট বা স্বপ্নে দেখা দেবীর আদেশ এবং নির্দেশ অনুসারে তৈরী হয়েছে।শাস্ত্রে দেবী কালীর দর্শন দেয়া কে নানা ভাবে ব্যাখ্যা করা।যদি স্বপ্নে কালীর মূর্তি দেখা যায় তাহলে স্বপ্নকে খুব ভালো স্বপ্ন বলে মনে করা হয়। যিনি এই স্বপ্ন দেখবেন জীবনে সুখ এবং সমৃদ্ধি থাকবে।তার পরিবারে সুখ বৃদ্ধি পাবে। মনে করা হয় যিনি স্বপ্নে দেবীকে দেখেন তার উপর দেবীর বিশেষ কৃপা আছে। আজকের পর্বে বর্ধমানের এক প্রাচিন রক্ষা কালীর পুজোর কথা জানাবো এবং এই পুজোর সাথেও স্বপ্নের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।আজ থেকে প্রায় দুশো বছরের আগের কথাবর্ধমানের বিস্তীর্ণ অঞ্চল তখন কলেরা প্রকোপে প্রায় জন শুন্য হয়ে পড়েছে। সেই সময়ে বর্ধমানের এক প্রত্যন্ত গ্রামের এক রাখাল বালক জঙ্গলে গরু চরাতে গিয়ে কিশোরী রূপে মায়ের দর্শন পান। সেদিন রাতে স্বপ্নাদেশ পায় ওই কিশোর সেই কিশোরী রূপেই মা কালী তাকে দর্শন দিয়ে শীঘ্রই গ্রামে তাঁর মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পূজা করার আদেশ দেন।মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে সে গ্রামের এক ছোট্ট মাটির কুটিরে মায়ের পুজো শুরু করে গ্রামে মায়ের পুজো শুরু হতেই মহামারী থেকে রক্ষা পায় গ্রাম। মনে করা হয় মহামারি থেকে গ্রামের মানুষ কে রক্ষা করেছিলেন বলেই এখানে মা রক্ষা কালী রূপে পূজিত হন।বহু অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী এই প্রাচীন রক্ষা কালী মন্দির। শোনা যায় একসময় যে জলাশয় থেকে মায়ের জল আনা হত সেটি খরার কারণে জল শূন্য হয়ে পড়ে। তারপর গ্রামবাসীরা একটি বিরাট জলাশয় খনন করেন তবে সেখান থেকে এক ফোঁটাও জল পাওয়া যায়নি। আবার এক গ্রামবাসীর স্বপ্নে দেখা দেন মা কালী মা তাকে রাত্রির নিদিষ্ট একটি সময়ে খনন করা জলাশয়ের নিদ্দিষ্ট একটি স্থানে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয় এবং পরদিন জলাশয়টি জলে পরিপূর্ণ অবস্থায় দেখা যায়।এমন বহু প্রচলিত জনশ্রুতি এই অঞ্চলের মানুষের মুখে আজও শোনা যায়। দেবী রক্ষা কালীর প্রতি সবারই অগাধ আস্থা এবং শ্রদ্ধা।তাই তার কাছে পুজো দিতে এবং মনোস্কামনা জানতে আসেন অসংখ্য মানুষ।সামনেই জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রা তারপর অম্বুবাচি। সব মিলিয়ে আধ্যাত্মিক ভাবে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে আরো নতুন নতুন বিষয় এবং তথ্য নিয়ে চলতে থাকবে এই বিশেষ পর্বগুলি। দেবী মাহাত্মর পরের পর্ব নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
বিশেষ পর্ব – জগন্নাথদেবের স্নান যাত্রা
প্রতিবছর অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে শুরু হয় চন্দনযাত্রা উৎসব এই সময়ে প্রভু জগন্নাথের শরীরে চন্দনের প্রলেপ দেয়া হয় এবং তারপর দেবস্নানা পূর্ণিমা তিথিতেই পালিত হয় মহাপ্রভু জগন্নাথদেবের স্নানের উৎসব আগামী চার তারিখ অর্থাৎ রবিবার এই বছরের স্নান যাত্রার উৎসব পালিত হবে।প্রতিবারের মতো এবারও আমার গৃহ মন্দিরে পালিত হবে স্নান যাত্রা উপলক্ষে প্রভু জগন্নাথের বিশেষ পুজো। যার সরাসরি সম্প্রচার আপনারা দেখেতে পাবেন আমার সোশ্যাল মিডিয়া পেজে।আজ স্নান যাত্রা উপলক্ষে এই বিশেষ পর্বে জগতের নাথ জগন্নাথে স্নান যাত্রা ও তার গজ বেশ নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ইতিহাস আপনাদের জানাবো।দুটি বিশেষ উপাচার ও থাকবে যা আপনারা পালন করে জগন্নাথ কৃপা লাভ করতে পারেন।স্নান যাত্রার উল্লেখ স্কন্দপুরানে আছে। শাস্ত্র মতে পুরীর মন্দির প্রতিষ্ঠার পর পুরি নরেশ ইন্দ্রদ্যুম্নএই অনুষ্ঠান শুরু করেন। যে পূর্ণিমা তিথিতে স্নান যাত্রা অনুষ্ঠিত হয় তাকে বলা হয় দেব স্নান পূর্ণিমা। এই দেবস্নান পূর্ণিমা আবার জগন্নাথদেবের আবির্ভাব তিথি । জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা এবং মদনমোহনের বিগ্রহ শোভাযাত্রা সহকারে মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে পবিত্র স্নানবেদীতে আনা হয় তারপর একশো আট কলস জলে বিগ্রহ স্নান করানো হয়।শুধুমাত্র জগন্নাথ দেবেকে স্নান করানোর জন্য পুরীতে রয়েছে সোনাকুয়া নামের এক বিশেষ ধরনের কুয়া। শোনা যায় এই কুয়াতে নাকি কখনো সুর্যের আলো পড়েনা। স্নানপর্বের পর বিগ্রহ সাজানো হয় গজবেশে।এই গজবেশের ও একটি ইতিহাস আছেবহু শতক আগে পুরীর রাজার রাজদরবারে এসেছিলেন বিখ্যাত পণ্ডিত গণেশ ভট্ট।পুরীর রাজা তাঁকে জহগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা দেখবার জন্য আহ্বান জানান। তবে তা দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলনা গনেশ ভট্টর। কারণ তাঁর আরাধ্য দেবতা ছিলেন গণপতি।কিন্তু স্নানযাত্রায় গিয়ে গণেশ ভট্ট জগন্নাথকে গণেশ রূপেই দেখতে পান।প্রভু জগন্নাথের মায়ায় তিনি অভিভূত হয়ে পড়েন। মনে করা হয় ভক্তের মনবাসনা পূর্ণ করতে স্বয়ং জগন্নাথ গজ বেসে তাকে দেখা দিয়েছিলেন।শাস্ত্র মতে স্নান যাত্রার সময়ে জগন্নাথ দর্শন করলে সব পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় স্নানযাত্রার পরে শুরু হয় অনসর সেই সময়ে অসুস্থতার কারণে ভক্তগণের অন্তরালে গোপন স্থানে চিকিৎসাধীন থাকেন তিনি স্বেচ্ছায় তিনি গৃহবন্দি হন রাজ বৈদ্যরা বিভিন্ন আয়ুর্বেদিক ঔষধদ্বারা তার সেবা সুশ্রশা করেন। এই সময়ে জগতের নাথ প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হন এমনকি তাকে উষ্ণতা দেয়ার জন্য কম্বল চাপা দিয়ে রাখা হয়।তারপর সুস্থ হয়ে রথযাত্রার দিন রাজবেশে সামনে আসেন জগতের নাথ জগন্নাথ।অক্ষয় তৃতীয়ায় চন্দন যাত্রার মধ্যে দিয়ে শুরু হওয়া উৎসব শেষ হয় রথ যাত্রায় রাজ বেশে প্রভু জগন্নাথের মন্দিরে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে।যদি সম্ভব হয় স্নান যাত্রা থেকে রথযাত্রার দিন পর্যন্ত জগন্নাথ ব্রত করুন বাড়িতে নারায়ণ থাকলে তার সামনেও এই ব্রত পালন করতে পারেন। একটি পেতলের বাটিতে একটু আতপ চাল, দুটো কাঁচা হলুদ এবং ১ টাকার একটি কয়েন দিন। এরপর এই বাটিটি জগন্নাথ বা নারায়ণ মূর্তির সামনে রেখে দিন। উল্টো রথের শেষ লগ্নে এই বাটিটি তুলে নিন এবং বাটিতে থাকা উপাদান কোনও মন্দির বা ভিক্ষুককে দান করলেই ব্রত সম্পন্ন হবে এবং মনস্কামনা পূরণ হবে।পাশাপাশি ১০৮টি তুলসী পাতা দিয়ে মালা তৈরী করুন এবং ওই মালা মালা স্নান যাত্রার দিন জগন্নাথদেবের গলায় পরিয়ে দিতে হবে এবং গঙ্গা জল নিবেদন করতে হবে তাহলেও অশেষ পুন্য সঞ্চয় করবেন।আমার গৃহ মন্দিরে স্বমহিমায় বিরাজ করছেন প্রভু জগন্নাথ। চন্দন যাত্রা থেকে রথ যাত্রা পর্যন্ত সবগুলি শাস্ত্রীয় উপাচার নিষ্ঠা সহকারে নিখুঁত ভাবে পালিত হয়। দেখেত এবং জানতে হলে চোখ রাখুন আমার পেজে। ফিরে আসবো দেবী মাহাত্ম নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।
দেবী মাহাত্ম – বৈকুণ্ঠ পুরের বনদুর্গা
শাস্ত্র মতে অম্বুবাচির গুরুত্ব অপরিসীম কারন অম্বুবাচীর পর ধরিত্রী শস্য শ্যামলা হয়ে ওঠেন। অম্বুবাচির আরম্ভ কাল কে বলে অম্বুবাচী প্রবৃত্তিএবং সমাপ্তিকে বলে অম্বুবাচি নিবৃত্তি|অম্বুবাচীর সময় দেবী পূজা বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন রকমতন্ত্র ক্রিয়া ও মন্ত্র শক্তির সাহায্যে আদি শক্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। কারন জগতের সব সৃষ্টির মুলে রয়েছে এই আদি শক্তি। আজ যে তীর্থ ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করবো তার সাথে অম্বুবাচির বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।আজকের পর্বে জলপাইগুড়ির বনদুর্গা।প্রাচীন এই দেবী মন্দির বর্তমানে তিস্তার পারে বৈকুণ্ঠ পুরে অবস্থিত যার সাথে জড়িয়ে আছে দস্যুরানী দেবী চৌধুরানীর নাম। শুধু তাই নয় একাধিক প্রাচীন গ্রন্থে এই তীর্থের উল্লেখ আছে। শোনা যায় প্রতিবছর আষাঢ় মাসে অম্বুবাচির পরের সপ্তাহে তিস্তা নদী দিয়ে বজরায় চেপে বৈকুণ্ঠ পুরে বন দূর্গার মন্দিরে আসতেন দেবী চৌধুরানী। তারপর পুজো দিয়ে নদী পথে ফিরে যেতেন নিজের গোপন ডেরায়। সঙ্গে থাকতো বিরাট বহর। সেই দৃশ্য দেখতে ভিড় জমে যেতো।এই প্রাচীন মন্দির ও দেবীকে কেন্দ্র করে একটি পৌরাণিক ঘটনাও শোনা যায় কথিত আছে একবার কোনো কারণে কৈলাশ ছেড়ে শিব ছদ্মবেশে এই অঞ্চলে আত্ম গোপন করেছিলেন তখন দেবী পার্বতী মেছেনি রুপ ধারন করে এই স্থানে আসেন এবং শিবকে খুঁজে বের করেন।ঠিক কবে এবং কে এই মন্দির ও দেবী মূর্তি স্থাপন করেন তার সুনিদিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়না তবে কয়েকশো বছর ধরে এখানে পুজো হচ্ছেএবং স্থানীয় কৃষকেরা এই পুজো না দিয়ে আমন ধান চাষ করা শুরু করেন না।বিশেষ বিশেষ তিথিতে পুজো উপলক্ষে মেলা বসে।ফিরে আসবো নতুন পর্ব নিয়ে। ধারাবাহিক ভাবে দেবী মাহাত্ম ও মন্দির রহস্য নিয়ে আলোচনা। চলবে।সঙ্গে থাকবে অম্বুবাচি নিয়েঅনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দেবী মাহাত্ম- দেবী কঙ্কালেস্বরীর ইতিহাস
সনাতন ধর্মে পৃথিবীলে মাতৃ শক্তি রূপে দেখা হয়।সেই জীবন্ত মাতৃ শক্তির একটি বিশেষ অবস্থাকেইঅম্বুবাচি বলা হয়।অম্বুবাচী’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল ‘অম্বু’ বা জল ‘বাচি ‘অর্থাৎ সূচনা|অর্থাৎ অম্বুবাচির সময় থেকে প্রকৃতির নব সৃষ্টি কার্যর সূচনা হয়|জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের চতুর্থ পদে অম্বুবাচির সূচনা হয়।এই অম্বু বাচি চলা কালীন দেশের মাতৃ মন্দির গুলিতে কিছু নিষেধাজ্ঞা থাকে। এমনই এক মাতৃ মন্দির হলো কঙ্কালেশ্বরী কালী মন্দির যা বর্ধমানেঅবস্থিত।আজ থেকে কয়েকশো বছর আগে বর্ধমানে থাকতেন কমলানন্দ নামে এক মাতৃসাধক তন্ত্র বিশারদ হিসেবে তার বেশ খ্যাতি ছিলো। শোনা যায় তিনি একবার মায়ের স্বপ্নাদেশ পান। স্বপ্নে আদেশ হয় যে দামোদর নদে শীল রূপে দেবী কালী অবস্থান করছেন এবং তিনি যেনো ওই মাতৃ মূর্তি উদ্ধার করে আনেন এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা করে সেই মূর্তি স্থাপন করে পুজো শুরু করেন।স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী তিনি দামোদরের তীরে গিয়ে কৃষ্ণ বর্ণের সেই পাথরটি উদ্ধার করেন। সেই পাথরে দেবী মূর্তি খোদাই করা ছিলো । পাথরের এই দেবী মূর্তি পেয়ে তিনি বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজ বিজয়চাঁদ মহাতাবকে খবর দেন।তারপর রাজার উদ্যোগে সেই মূর্তি মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইতিহাস অনুসারে নবরত্ন শৈলীতে নির্মিতদেবীর মন্দির আগে থেকেই তৈরী ছিলো। যেনো দেবীর আগমনের অপেক্ষায় ছিলো বহুদিন।পাথরে খোদাই দেবী কঙ্কালের মতো দেখতে। নাম তাই কঙ্কালেশ্বরী কালী। দেবী এখানে অষ্টভূজা। শায়িত শিবের নাভি থেকে উৎপত্তি হয়েছে পদ্মের। সেই পদ্মার ওপর দেবী বিরাজমানা।দেবী মূর্তির সাথে একটি হাতিও লক্ষ্য করা যায়।সব থেকে আশ্চর্য জনক বিষয় পাথরের কালী মূর্তিতে মানব শরীরের সব শিরা উপশিরা এবং প্রত্যেকটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নিখুঁত ভাবে খোদাই করা।প্রতি কালীপুজোয় এখানে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয়। প্রায় কুড়ি হাজার ভক্ত অন্নভোগ গ্রহণ করেন। চামুণ্ডা মতে পুজো হয় এখানে। তবে গোড়া থেকেই বলি প্রথা নেই।অম্বুবাচিতে দেবী পুজো এবং প্রতিমা দর্শন নিষিদ্ধ।তবে অম্বুবাচি পরবর্তী সময়ে বিশেষ পুজো হয়।দেবী মাহাত্ম নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্ব গুলিতে ।থাকবে বহু রহস্যময় মন্দিরের কথা কথা এবং অম্বুবাচি নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।