দেবী মাহাত্ম – দোহালিয়া কালী পুজোর ইতিহাস

119

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই অম্বুবাচি এই সময় আসামের কামাক্ষ্যা থেকে শুরু করে দেশের সমস্ত দেবীস্থানে দরজা বন্ধ থাকে। স্পর্শ করার নিয়ম থাকে না দেবীকে। তারপর অম্বুবাচির নিবৃত্তি ঘটলে যেকোনো শুভ কাজের সূচনা করা যায়। এই সময় তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধরিত্রী যেমন নতুন ভাবে সেজে ওঠে। তেমনই গ্রহ গত দুষ্প্রভাবদূর করে নতুন ভাবে জীবন শুরু করার জন্যও এইসময় শ্রেষ্ঠ। আজ আপনাদের মুর্শিদাবাদের একটি প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক দেবী মন্দিরের কথা জানাবো।বাংলার এক সময়ের রাজধানী মুর্শিদাবাদ জেলায় আছে দোহালিয়া কালী মন্দির।।বহু প্রাচীন এই দেবী মন্দিরের মুল আকর্ষণ ব্যাঘ্র আকৃতিতে দক্ষিণাকালীরে উপস্থিতি।প্রায় একহাজার বছর পুর্বে রাজা লক্ষন সেন ও বল্লাল সেনের আমলে এই কালী ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত হয়।শোনা যায় বহু বছর আগে জঙ্গলের মধ্যে এই মন্দির ছোট্ট একটি মন্দির ছিলো সেখানেএক পরিব্রাজক সন্ন্যাসী ননদী পথে পথে এসে এখানে বসে তপ্যাসা করেছিলেন। তার তপ্যাসায় সন্তুষ্ট হয়ে ব্যাঘ্র রূপী দক্ষিনা কালী দর্শন দেনতখন থেকেই এই ব্যাঘ্র রূপে মা দক্ষিণাকালী এখানে পূজিতা হয়ে আসছেন।একটি শিলা মূর্তিতে ব্যাঘ্র রুপী মা কালী বিরাজ করছেন এখানে।একটি প্রচলিত জনশ্রুতি আছে যে সেই সাধক এইস্থানে একটি সপ্নাদিষ্ট দৈব্য শিকড় লাভ করেন এবং এতে তার হারানো দৃষ্টি শক্তি ফিরে আসে।সেই থেকে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসেন এবং এই পুকুরে চান করে গাছের শিকর নেন এবং তাতে দৃষ্টি শক্তি ভালো হয় বলে বিশ্বাস।এর কোনো প্রামান্য নথি বা তথ্য যদিও নেই তবে বহু মানুষের আস্থা আছে।দেবীর মন্দিরেরে পাশে একটি পুকুর আছে সেই পুকুরের জল নাকি ছেচে শেষ করা যায়না একবার জল নিষ্কাশন করার চেষ্টা করা হলে মাটি ফেটে গেছিল সেই থেকে এই পুকুরে জল এক ভাবে রাখা আছে ।দোহালিয়া গ্রামে এই একটি মন্দিরেই অমাবস্যায় পূজো হয়।পৌষ মাস উপলক্ষে মেলা বসে।বহু ভক্ত সেই সময় আসেন এখানে।আগামী পর্বে ফিরে আসবো দেবী মাহাত্মর নতুন পর্ব নিয়ে।সামনেই অম্বুবাচি এবং অমাবস্যা। তন্ত্র মতে যারা গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চান এখন থেকেই যোগাযোগ করুন।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।