দেবী মাহাত্ম- দেবী কঙ্কালেস্বরীর ইতিহাস

67

সনাতন ধর্মে পৃথিবীলে মাতৃ শক্তি রূপে দেখা হয়।সেই জীবন্ত মাতৃ শক্তির একটি বিশেষ অবস্থাকেইঅম্বুবাচি বলা হয়।অম্বুবাচী’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল ‘অম্বু’ বা জল ‘বাচি ‘অর্থাৎ সূচনা|অর্থাৎ অম্বুবাচির সময় থেকে প্রকৃতির নব সৃষ্টি কার্যর সূচনা হয়|জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের চতুর্থ পদে অম্বুবাচির সূচনা হয়।এই অম্বু বাচি চলা কালীন দেশের মাতৃ মন্দির গুলিতে কিছু নিষেধাজ্ঞা থাকে। এমনই এক মাতৃ মন্দির হলো কঙ্কালেশ্বরী কালী মন্দির যা বর্ধমানেঅবস্থিত।আজ থেকে কয়েকশো বছর আগে বর্ধমানে থাকতেন কমলানন্দ নামে এক মাতৃসাধক তন্ত্র বিশারদ হিসেবে তার বেশ খ্যাতি ছিলো। শোনা যায় তিনি একবার মায়ের স্বপ্নাদেশ পান। স্বপ্নে আদেশ হয় যে দামোদর নদে শীল রূপে দেবী কালী অবস্থান করছেন এবং তিনি যেনো ওই মাতৃ মূর্তি উদ্ধার করে আনেন এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা করে সেই মূর্তি স্থাপন করে পুজো শুরু করেন।স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী তিনি দামোদরের তীরে গিয়ে কৃষ্ণ বর্ণের সেই পাথরটি উদ্ধার করেন। সেই পাথরে দেবী মূর্তি খোদাই করা ছিলো । পাথরের এই দেবী মূর্তি পেয়ে তিনি বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজ বিজয়চাঁদ মহাতাবকে খবর দেন।তারপর রাজার উদ্যোগে সেই মূর্তি মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ইতিহাস অনুসারে নবরত্ন শৈলীতে নির্মিতদেবীর মন্দির আগে থেকেই তৈরী ছিলো। যেনো দেবীর আগমনের অপেক্ষায় ছিলো বহুদিন।পাথরে খোদাই দেবী কঙ্কালের মতো দেখতে। নাম তাই কঙ্কালেশ্বরী কালী। দেবী এখানে অষ্টভূজা। শায়িত শিবের নাভি থেকে উৎপত্তি হয়েছে পদ্মের। সেই পদ্মার ওপর দেবী বিরাজমানা।দেবী মূর্তির সাথে একটি হাতিও লক্ষ্য করা যায়।সব থেকে আশ্চর্য জনক বিষয় পাথরের কালী মূর্তিতে মানব শরীরের সব শিরা উপশিরা এবং প্রত্যেকটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নিখুঁত ভাবে খোদাই করা।প্রতি কালীপুজোয় এখানে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয়। প্রায় কুড়ি হাজার ভক্ত অন্নভোগ গ্রহণ করেন। চামুণ্ডা মতে পুজো হয় এখানে। তবে গোড়া থেকেই বলি প্রথা নেই।অম্বুবাচিতে দেবী পুজো এবং প্রতিমা দর্শন নিষিদ্ধ।তবে অম্বুবাচি পরবর্তী সময়ে বিশেষ পুজো হয়।দেবী মাহাত্ম নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্ব গুলিতে ।থাকবে বহু রহস্যময় মন্দিরের কথা কথা এবং অম্বুবাচি নিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।