চলছে শ্রাবন মাস। ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করছি শিব সংক্রান্ত নানা পৌরাণিক বিষয় এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে। আজ জানাবো শিবের তৃতীয় নয়নের অদ্ভুত কিছু রহস্য।শেষে থাকবে একটি শিব কেন্দীক শাস্ত্রীয় উপদেশ।শিবের সর্বাধিক প্রচলিত রূপ- মাথায় জটা, হাতে-গলায় রুদ্রাক্ষ এবং গলায় জড়িয়ে থাকা সাপ। আর কপালে ত্রিনয়ন। শিবের তৃতীয় চক্ষুর ব্যাপারে অনেক রকম ব্যাখ্যা হয়।একটি পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে একদা কৈলাসে নিছক মজার ছলে পার্বতী দুহাতে শিবের দু চো ঢেকে দিয়েছিলেন প। তাতে গোটা দুনিয়া অন্ধকারময় হয়ে যায়। সৃষ্টিকে বাঁচাতে তৃতীয় নয়ন মেলেন শিব। গোটা দুনিয়ায় তখন আলোর প্রকাশ ঘটে সৃষ্টি রক্ষা পায়।মনে করা হয় শিবের এই তৃতীয় চোখ সূর্যের সমান। তেজ ও শক্তির আধার।আর একটি পৌরাণিক ঘটনা অনুযায়ী প্রজাপতি দক্ষ যখন যজ্ঞ নিজের অনুষ্ঠানে সতীর সামনেই শিবকে অপমানিত করেন অপমানে আত্মদাহ করেন সতী। এই ঘটনার পর ভেঙে পড়েছিলেন ভোলেনাথ। কয়েক বছর ধরে চলে গিয়েছিলেন গভীর তপে। তন্মধ্যে সতীর পুনর্জন্ম হয় হিমালয়পুত্রী হিসেবে। কিন্তু শিব ধ্যানে মগ্ন। জাগতিক কোনও ব্যাপারেই তাঁর আগ্রহ নেই। সকল দেবতা চাইছিলেন, শীঘ্রই মিলন হোক মহাদেব ও শক্তির। কিন্তু শিবের ধ্যান ভাঙানোর সব চেষ্টাই বিফল হয়। তখন কামদেবের সাহায্য নেন দেবতারা। কাম দেব বান নিঃক্ষেপ করে মহাদেবের ধ্যান ভাঙ্গায়। ক্রোধে তৃতীয় নয়ন সৃষ্টি হয় এবং মহাদেবে সেই নয়ন দিয়ে কাম দেবকে ভস্ম করেন।একটি ব্যাখ্যা অনুযায়ী শিবের তৃতীয় নয়ন আসলে তাঁর দিব্য দৃষ্টি। এই দিব্য দৃষ্টি থেকে কোনও কিছুই বাদ পড়ে না। ভোলানাথের তৃতীয় নয়নকে জ্ঞানচক্ষুও বলা হয়। এই নয়ন আত্মজ্ঞানের প্রতীক। স্বর্গ মর্ত পাতাল এই তিন লোকের গতিবিধির উপর নজর রাখতে পারেন তিনি। তৃতীয় চোখ দিয়ে সমস্ত বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন শিব । তৃতীয় নয়ন তাঁর শক্তি কেন্দ্রও। তাই মনে করা হয় যে শিব তৃতীয় চোখ খুললেই ভষ্মীভূত হয়ে যাবে গোটা সৃষ্টি।যারা শিব লিঙ্গ ব্যাতিত শিবের অন্য রুপ গৃহে রেখে পুজো করতে চান তারা ধ্যান মগ্ন রূপ না রেখে শিব পার্বতী ও তাদের কন্যা সন্তান সহ ছবি একসাথে রাখুন। গৃহের কল্যাণ হবে।আগামী পর্বে আবার কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদে সামনে।থাকবে এমনই গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় উপদেশ। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
শিব লিঙ্গের রহস্য
শিব হলেন, সর্বোচ্চ স্তরে, সর্বোৎকর্ষ, অপরিবর্তনশীল পরম ব্রহ্ম ।একদিকে যেমন শিবের অনেকগুলি সদাশয় ও ভয়ঙ্কর মূর্তিও আছে। আবার তিনি একজন সর্বজ্ঞ যোগী স্বর্ব ত্যাগী সন্যাসী । তিনি কৈলাস পর্বতে সন্ন্যাসীর জীবন যাপন করেন।আবার গৃহস্থ রূপে তিনি পার্বতীর স্বামী। শিব লিঙ্গের ও নিজস্ব ব্যাখ্যা আছে আজ শিব লিঙ্গের রহস্য জানবো। শেষে থাকবে শিব লিঙ্গ সংক্রান্ত কিছু বিধি নিষেধ।শিব পূরাণ মতে এক সময় ভগবান বিষ্ণু এবং ব্রহ্মার মধ্যে নিজেদের শ্রেষ্টত্ত প্রমান করার জন্য বিবাদ দেখা দিয়েছিল। লড়াই প্রায় বাঁধে বাঁধে। সেই সময় দুই দেবাতার মাঝে আর্বিভাব হয় আদি শিব লিঙ্গএই স্তম্ভ হঠাৎ করে এল কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর।এর শুরু ও শেষ কোথায় তা খুঁজতে ব্রহ্মা ঠিক করেন পিলারের উপরের দিকে গিয়ে দেখবেন কোথায় এর শেষ, আর বিষ্ণু দেব যাবেন নিচের দিকে এর শুরু কোথায়।দুজনেই ব্যার্থ হয়। কারন আদি শিব লিঙ্গ আদি ও অন্ত হীন।তাই শিব দেবতাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং দেবতাদের আরাধ্য।আবার তিনি পরম বৈষ্ণব এবং সদা হরির ধ্যানে তিনি মগ্ন থাকেন।শিব লিঙ্গের মধ্যে উপস্থিত রয়েছে এ জগতের অনন্ত শক্তি। আর এত মাত্রায় শক্তি যেখানে মজুত রয়েছে তাকে ঠান্ডা রাখতে না পারলে যে বিপদ! আর ঠিক এই কারণেই শিব লিঙ্গের মাথায় জল ঢালার প্রথা শুরু হয়। যেখানে অনন্ত শক্তি বিরাজমান সেই শক্তির উৎস স্থান কে ঠান্ডা রাখা, শান্ত রাখাই মূল উদেশ্য।আবার সমুদ্র মন্থন কালে বিষ পান করার পরে দেবতারা মহাদেবকে বেলপত্র খাওয়ান কেননা বেলপত্র বিষের প্রভাবকে কম করে দেয়। শিব লিঙ্গ মানে ‘শিবের আবাস’ মানে, বাসস্থান। অর্থাত্ শিবঠাকুর যেখানে বাস করেন বা বিরাজ করেন। শিবের মাথায় জল ঢালার পর যে যে স্থান দিয়ে জল প্রবাহিত হয়ে যায় সেটা পার্বতীর পিঠ। পুরাণ মতে জ্ঞাণের বিকাশ হয় শক্তির পিঠের উপর। শিব লিঙ্গে যে তিনটি দাগ থাকে তা আসলে ত্রিপুন্ড বা শিবের মাথার তিলক যা প্রত্যেক শৈব্যর মাথায় ও বিরাজমান।এবার আসি বিধি নিষেধের দিকে।বাড়িতে শিব লিঙ্গ রাখলে তার উচ্চতা খুব কম হওয়া উচিৎ। ঈশান কোনে শিব লিঙ্গ রাখুন এবং শিবলিঙ্গের বেদীর মুখ উত্তর দিকে হওয়া উচিত।গৃহে একের বেশি শিবলিঙ্গ একসাথে রাখা উচিৎ নয়।পাথরে পরিবর্তে ধাতুর শিব লিঙ্গ গৃহের জন্য বেশি শুভ।শ্রাবন মাস জুড়ে চলতে থাকবে শিব নিয়ে আলোচনা আগামী পর্বে আবার কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদে সামনে। থাকবে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
শিবের ত্রিশূলের রহস্য
দেবাদিদেব মহাদেবেকে নিয়ে আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যায় যদি তার চির সঙ্গী ত্রিশূলের কথা না বলা হয়। সংহার কর্তা মহাদেবের প্রধান অস্ত্রতার ত্রিশূল। আবার এই ত্রিশূলই তিনি তুলে দেন দেবী দুর্গার হাতে মহিষাসুর বধের সময়ে।শুধু অস্ত্র নয় শুভ শক্তির প্রতীক এই ত্রিশূল বাস্তু এবং জ্যোতিষ শাস্ত্রেও ব্যবহার হয়। সে বিষয়ে পরে আসছি আগে ত্রিশূলের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা টা জেনে নেয়া প্রয়োজন।পুরান অনুসারে শিব হলেন স্বয়ম্ভু তার আদি অন্ত কিছুই নেই। তার সৃষ্টি নেই তার বিনাশ ও নেই।নিজের চেতনায় নিজ ইচ্ছায় সৃৃষ্ট হন এবং যাকিছু অশুভ বা সৃষ্টির জন্যে বিপদজনক তা সংহার করার দায়িত্বে থাকেন তিনি। কিন্তু সংহার কর্তার এই সংহার লীলার জন্যে প্রয়োজন অস্ত্র, এই অস্ত্র নির্মাণের ভার স্বাভাবিক ভাবেই গিয়ে পরে দেব শিল্পী বিশ্বকর্মার উপর|বিষ্ণুপুরান অনুসারে সূর্যের তেজ ও রশ্মির ব্যবহার করে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা ত্রিশূল নির্মাণ করেন এবং তা শিবকে প্রদান করেন|এতে শিব ও তার অস্ত্র পান এবং সূর্যের তেজ কিছুটা কমে তাতে বিশ্বকর্মার কন্যা এবং সূর্যর পত্নী সংজ্ঞা স্বামীর অতিরিক্ত তেজ থেকে কিছুটা স্বস্তি পান|এখানে ত্রিশুল একসাথে দুটি সমস্যার সমাধান করে।আগেই বলেছি ত্রিশূল শুধু শিবের নয় দেবী দূর্গারও অস্ত্র কারন মহিষাসুর বধের জন্য বিভিন্ন দেবতা যখন দেবীকে বিভিন্ন অস্ত্রদান করেন তখন ভগবান শিব তাকে এই ত্রিশূলটি দান করেছিলেন,দেবী মহিষাসুরকে ত্রিশূল দিয়েই বধ করেন|আবার ত্রিশূল দিয়ে শিব দ্বারা গণেশের মুন্ড ছেদের ঘটনারও উল্লেখ আছে শাস্ত্রে|ত্রিশূল শুধু অস্ত্র নয় সনাতন ধর্মে ত্রিশূল সমৃৃদ্ধির প্রতীক আবার ত্রিশূলের তিনটি ফলার আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা ও তাৎপর্য রয়েছে|মনে করা হয় তিনটি ফলা যথাক্রমে সৃষ্টি-স্থিতি-বিনাশ কে চিহ্নিত করে আবার অন্য একটি বাখ্যা অনুসারে তিনটি ফলার অর্থ যথাক্রমে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত যা শিব তথা মহাকালের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে|শিবের ত্রিশূলে সব সময় বাঁধা থাকে ডমরু। এই ডমরু বেদ এবং তার উপদেশের প্রতীক যা আমাদের জীবনে এগিয়ে চলার রাস্তা দেখায়|শুধু হিন্দু নয় বৌদ্ধ ধর্মেও ত্রিশূল একটি পবিত্র প্রতীক হিসেবে সমাদৃত|এবার আসি বৈদিক বাস্তু শাস্ত্রের দিকে, অশুভ শক্তিকে দূরে রাখতে ত্রিশূল ব্যাবহার হয়|বাস্তু শাস্ত্র মতে গৃহের প্রধান ফটকে ত্রিশূল চিহ্ন বা ত্রিশূল রাখলে গৃহে অশুভ শক্তি প্রবেশ করেনা ও গৃহে সুখ ও সমৃদ্ধি বিরাজ করে|জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে শ্রাবন মাসে শিবকে ত্রিশূল অর্পণ করলে শিব সন্তুষ্ট হন এবং মনোস্কামনা পূর্ণ করেন।কবচ আকারে পবিত্র ত্রিশুল ধারন করলেও ভালো ফল পাওয়া যায় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।শ্রাবন মাস জুড়ে চলতে থাকবে শিব নিয়ে আলোচনা আগামী পর্বে আবার কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদে সামনে|পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।
শিবের মাথায় চন্দ্র কেনো শোভা পায়
দেবাদিদেবের জটায় যেমন গঙ্গা বিরাজ করছে তেমনই তার মাথায় অর্ধচন্দ্রও শোভা পায়এর ব্যাখ্যা বিভিন্ন পুরাণে বিভিন্ন রকম।আজকের পর্বে আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই সব পৌরাণিক ব্যাখ্যা।শেষে থাকবে একটি বিশেষ শাস্ত্রীয় উপাচার।তাই পুরোটা পড়তে হবে।ব্রহ্মাপুত্র প্রজাপতি দক্ষ তার ২৭ জন কন্যা অর্থাৎ ২৭ টি নক্ষত্রের সঙ্গে চন্দ্রদেবের বিবাহ দিয়েছিলেন। সেই নক্ষত্রদের মধ্যে চন্দ্রদেবের প্রিয় ছিলেন রোহিণী। বাকি কন্যারা একবার রোহিনীর বিরুদ্ধে দক্ষর কাছে দুর্ব্যবহার এর অভিযোগ করেন তাতে রেগে গিয়ে দক্ষ চন্দ্রদেবকে অভিশাপ দেন যে ধীরে ধীরে চন্দ্রের ঔজ্জ্বল্য কমে যাবে। ক্রমশঃ তাই হতে থাকে শেষে চন্দ্রদেবের মাত্র একফালি অংশই উজ্বল ছিল সেই সময়ে দেবতাদের অনুরোধে চন্দ্রকে নিজের জটায় স্থান দেন পাশাপাশি তিনি সঙ্গে চন্দ্রদেবকে বর প্রদান করেন যে ১৫ দিন চন্দ্রের উজ্বলতা হ্রাস পাবে। তবে পরবর্তী ১৫ দিনে তা আবার ফিরে আসবে। পৌরাণিক মতে, এই কারণেই প্রত্যেক মাসে চাঁদের আলোর হ্রাস-বৃদ্ধি হয়।আবার শিব পুরাণে অনুসারে সতীর দেহ ত্যাগের পর ক্ষুব্ধ মহাদেবের ক্রোধ শান্ত করতে বিষ্ণু নিজের সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ ৫১টি অংশে খণ্ডিত করে দেয়ার পর শিবের ক্রোধ কিছুটা কমলেও রুদ্রতেজ পুরোপুরি শান্ত হয়নি হয়নি। সেই তেজ কমানোর উপায় খুঁজতে দেবতারা ব্রহ্মার স্মরণে যায়। ব্রহ্মা তাঁদের একটাই উপান বলেছিলেন, তা হল অমৃতের কলস এবং ষোলকলাময় চন্দ্র।অমৃত পান করে শান্ত হলেন মহাদেব কিন্তু কলসে থাকা চন্দ্র তার হাতের আঘাতে দ্বিখণ্ডিত হলো।অমৃত পান করে প্রসন্ন এবং শান্ত হয়ে চন্দ্রকে পুনরায় ষোলকলা ফিরে পাওয়ার বর দিলেন শিব এবং নিজের মাথায় ধারণ করলেন।তারপর থেকেই মহাদেবের মাথায় শোভা পায় অর্ধচন্দ্র।অন্য একটি ব্যাখ্যা অনুসারে সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের সঙ্গে বিষ উঠে এসেছিল যা মহাদেব নিজের কণ্ঠে ধারণ করেছিলেন। সেই তীব্র বিষ ধারণ করার ফলে মহাদেবের শরীরের তাপমাত্রা ভীষণভাবে বেড়ে যায়।সেই তাপ হ্রাস করতেই শিব মাথায় চন্দ্রকে ধারণ করেছিলেন।জ্যোতিষ মতে চন্দ্র শীতল এবং জলতত্ত্ব দিয়ে গঠিত তাই শিব শীতলতা লাভ করেছিলেন চন্দ্রের স্পর্শে।শ্রাবন মাসে যদি শিবকে সন্তুষ্ট করতে চান তাকে ধাতব অর্ধ চন্দ্র নিবেদন করতে পারেন এতে আপনার মনোস্কামনা দ্রুত পূরণ হবে।শ্রাবন মাস জুড়ে চলতে থাকবে শিব নিয়ে আলোচনা আগামী পর্বে আবার কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদে সামনে|থাকবে নতুন শাস্ত্রীয় উপাচার।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।
আদি অঘোরী শিব এবং তন্ত্র
শিবের অনেক রূপ তার অনেক ব্যাখ্যা তার মধ্যে সব থেকে রহস্যময় রূপ হলো তার অঘোরী রূপ।আজকের পর্বে লিখবো এই বিশেষ সাধন মার্গ এবং তার অন্তর্নিহিত অর্থ নিয়ে।যুগ যুগ ধরে অঘোরীদের জীবনধারা এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন সব সময়ই ব্যাপক কৌতূহলের বিষয় কারন তাঁদের জীবন অনেকটাই রহস্যে মোড়া। সাধারণত এঁরা শ্মশানে থাকেন, ধ্যান করেন। মৃতদেহকেই তাঁদের আধ্যাত্মিক সাধনার মূল ভিত্তি করে তোলেন। শুধু মৃতদেহ নয় সাধারন মানুষের কাছে যা তথাকথিত ঘৃণ্য এবং পরিত্যায্য তাই তাদের সাধনার উপাদান কাশীসহ দেশের অনেক জায়গায় তাঁদের মঠ রয়েছেকুম্ভ মেলা গঙ্গা সাগর মেলায় তাদের দেখা গেলেও তাঁদের আবির্ভাব এবং হঠাৎ অন্তর্ধান সব সময়ই এক রহস্যময় বিষয়।যদিও তাদের সাধন পক্রিয়া গোপন একটি বিষয় তবু এটুকু জানা যায় যে অঘোরীরা নিজেদের সম্পূর্ণরূপে শিবের মধ্যে মিশিয়ে দিতে চান। অঘোর হল শিবের পাঁচটি রূপের একটি।অঘোর পন্থায় শিবের উপাসনা করার উপচার হিসেবে অঘোরীরা শব-সাধনার পথ বেছে নেন।অন্ত্যন্ত কঠিক এই সাধন পক্রিয়ায় একজন অঘোরী মৃতদেহের উপর বসে সাধনা করেন। ‘শব থেকেই শিব প্রাপ্তি’ এই হল তাঁদের দর্শন।অঘোরীরা মূলত তিনটি ধাপে সাধনা করেন।প্রথম শব সাধনা এখনে শবকে মাধ্যম করে সাধনা করা হয়।দ্বিতীয় শিব সাধনা এখানে শিবকে আদি অঘোরী রূপে মেনে তার ধ্যান করা হয়।তৃতীয় শ্মশান সাধনা যেখানে শ্মশান ভূমিতে তান্ত্রিক পদ্ধতিতে হোম যজ্ঞাদি সম্পন্ন করা হয়।আসলে অঘোরীরা বিশ্বাস করেন প্রতিটি মানুষই অঘোরী হিসেবে জন্মগ্রহণ করে। তাঁদের দার্শনিক ব্যাখ্যা বলে, একটি ছোট অবোধ শিশু যেমন তার বর্জ্য ও খাদ্যের মধ্যে কোনও পার্থক্য করতে পারে না তেমনই করেন না অঘোরীরাও ভেদাভেদ করেননা। তাদের অহং বোধ নেই শরীরের কোনো অস্তিত্ব নেই তাই পোশাকের কোনো প্রয়োজন নেই।তাদের চোখে ভাল বা খারাপের কোনও প্রভেদ নেই আছেন শুধু পরম পিতা যার কাছে সবাই সমান।শিবের মাস শ্রাবন মাস তন্ত্র ক্রিয়ার জন্য আদর্শ। তাই যারা শাস্ত্র মতে হোম যজ্ঞর দ্বারা গ্রহের প্রতিকার চান তারা এই সময়কে কাজে লাগাতে পারেন।শ্রাবন মাসে ধারাবাহিক ভাবে চলবে এইশিব মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা। থাকবে এমনবহু শাস্ত্রীয় বিষয়। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
শিব পুজোয় কেনো চম্পা ফুল নিষিদ্ধ
শিব পুজোয় কি অর্পণ করা যায় কি অর্পণ করা যায় না এই আগেও আলোচনা করেছি। হয়তো আপনারা জানেন চম্পা ফুল শিব পুজোয় ব্যবহৃত হয়না। কিন্তু কেনো তা জানেন কি? তার কারন জানতে হলে একটি পৌরাণিক ঘটনা জানতে হবে।দাক্ষিণ ভারতের গোকর্ণপুর নামক স্থানে শিব বিরাজ করতেন ‘গোকর্ণেশ’ রূপে। শোনা যায়সেই শিব লিঙ্গ দর্শনেই সমস্ত পাপ স্খলন হয়।একবার ছদ্মবেশে নারদমুনি এলেন শিব লিঙ্গ দর্শননে।তিনি দেখলেন মন্দিরের রাস্তার দুধারে আকন্দ আর কলকের বন তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে যাচ্ছে চাঁপাফুলের সৌন্দর্য আর সুগন্ধ ।নারদ গাছের সামনে এক ব্রাহ্মণকে দেখেন এবং তার হাতে ফুলের সাঁজি দেখে নারদ জিজ্ঞেস করলেন সে কি ফুলের সংগ্রহের জন্যই দাঁড়িয়ে? ব্রাহ্মণ জানায় না ভিক্ষার উদ্দেশ্যেই তিনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। নারদ সরল মনে তা বিশ্বাসও করেন। মন্দির থেকে ফেরার পথে আবার সেই ব্রাহ্মণের সাথে দেখা এবার তার সাঁজি তাও আবার পাতা ঢাকা। নারদ সাঁজিতে কি আছে জানতে চাইলে সে অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে। এবারেও এক কথা জানায় সাঁজিতে সামান্য ভিক্ষেই আছে। কিন্তচাঁপাগাছের সামনে পৌঁছে নারদ রীতিমতো অবাক। গাছে একটিও ফুল নেই। নারদ বুঝতে পারেন ব্রাহ্মণ মিথ্যে বলছেন। চাঁপা গাছকে জিজ্ঞাসা করেও দেবঋষি কোনো সদুত্তর পাননা।যখন কৌতূহল বসত তিনি মন্দিরে ফিরে গেলেন দেখলেন শিবলিঙ্গের সামনে কেউ ১০৮ টি চাঁপাফুলে দিয়ে পুজো দিয়েছেন । পূজারীকে জানতে চাইলে তিনিই সবটা খুলে বলেন। তিনি জানান ও এক ভন্ড ব্রাহ্মণ। ইচ্ছে করেই সব ফুল আগে তুলে নেয় রোজ। যাতে সে ছাড়া আর কেউ চাঁপাফুলে মহাদেবকে সন্তুষ্ট করতে না পারে। চাঁপাগাছটিকেও তার বশেই রেখেছে।শুধু তাই নয় ব্রাহ্মণ সন্তান হয়েও তিনি নির্দয় এবং মিথ্যার আশ্রয় নেন সুযোগ পেলে দরিদ্র মানুষদের প্রতারণা করতেও তার বাঁধে না।প্রচন্ড রাগে নারদ মহাদেবের সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করলেন যে এমন ধূর্ত লোককে কেন কৃপা করছেন তিনি!শিব জানান চাঁপা তাঁর পছন্দের ফুল। এই ফুলে তিনি সহজেই সন্তুষ্ট হয়ে যান এমনকি বশীভূত হয়ে পড়েন। তবে ব্রাহ্মণ যে ব্রাহ্মণ যে অন্যায় করেছেন তাও সত্যি এবং তার শাস্তি পাওয়া উচিৎ বলে তিনি নারদ বলেন।নারদ তখন সেই ব্রাহ্মণকে অভিশাপ দেন যে পরজন্মে রাক্ষস কূলে তার জন্ম হবে। সত্য গোপন করা এবং ব্রাহ্মণকে সাহায্য করার জন্য চাঁপাগাছকেও তিনি অভিশাপ দেন যেএই ফুল আর কোনোদিন মহাদেব গ্রহণ করবেন না। সেই থেকে চাঁপাফু শিব পুজোয় নিষিদ্ধ।শ্রাবন মাসে ধারাবাহিক ভাবে চলবে এই শিব মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা। থাকবে এমন বহু জানা অজনা পৌরাণিক ঘটনা।তার ব্যাখ্যা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
শিব এবং মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রের রহস্য
মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র শিবের একাধিক মন্ত্রের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।শ্রাবন মাসে কিছু শাস্ত্রীয় রীতি মেনে মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ করলে বা শাস্ত্র মতে নিয়ম মেনে জপ করলে অকাল মৃত্যুরোধ হয়ে যায় এবং রোগ যন্ত্রনা লাঘব হয় কিন্তু এই মন্ত্র কেনো এত শক্তিশালী তা জানতে হলে জানতে হবে এক পৌরাণিক ঘটনা|শিবের পরম ভক্ত ছিলেন শ্রীখণ্ড ঋষি। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান|সন্তানলাভের উদ্দেশ্য তিনি মহাদেবের আরাধনা শুরু করেন। শ্রীখণ্ডের প্রচণ্ড তপস্যায় খুশি হয়ে মহাদেব তাকে সন্তানসুখ দান করেন |কিন্তু এই আনন্দের সঙ্গে তাঁর জীবনে শোকও আসবে বলে জানান শিব। এরপর মার্কণ্ডেয় নামে শ্রীখণ্ডের একটি পুত্রসন্তান হয়। কিন্তু তাঁর ভাগ্য গণনা করে ঋষি দেখেন যে অসাধারণ প্রতিভাধর এই সন্তানের আয়ু মাত্র বারো বছর পর্যন্ত।তারপর মার্কণ্ডেয় ধীরে ধীরে বড় হতে লাগল।তাঁর মা ছেলের মৃত্যুর সময় এগিয়ে আসছে এই ভেবে সব সময় শোকে কাতর হয়ে থাকতেন।শ্রীখণ্ড তাঁর স্ত্রীকে এই বলে স্বান্তনা দেন, যে শিব স্বয়ং মার্কণ্ডেয়কে তাঁদের কোলে দিয়েছেন, তিনিই তাঁকে রক্ষা করবেন।যখন চিরবিদায় নেয়ার সময় আসন্ন তখন মাবাবাকে পুত্র শোক থেকে বাঁচানোর জন্য মার্কণ্ডেয় একটি শিব মন্দিরে গিয়ে শিব লিঙ্গ জড়িয়ে ধরে স্বরচিত মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র পাঠ করতে লাগলেন তিনি।বারো বছর সম্পূর্ণ হওয়ার মুহর্তে যমরাজ নিজে ধৰ্মরাজ বেশে মার্কণ্ডেয়কে নিতে আসেন। যম মার্কণ্ডেয় আত্মা হরণ করতে যাওয়ার চেষ্টা করলে শিবলিঙ্গ থেকে আত্মপ্রকাশ করেন স্বয়ং মহাদেব।যমের দিকে ত্রিশুল উঁচিয়ে তিনি জিজ্ঞেস করেন যে তাঁর ধ্যানে মগ্ন ভক্তকে তিনি টেনে নিয়ে যাওয়ার সাহস কোথা থেকে পান?ধৰ্মরাজ যখন জানান যে তার আয়ু পূর্ণ হয়েছে শিব স্বয়ং তার জীবনের একটি বছর মার্কণ্ডেয়কে দান করেন সেই একটি বছর এত দীর্ঘ সময় যে বিশ্বাস করা হয় আজও স্বশরীরে মার্কেন্ডেয় ঋষি পৃথিবীতে ধ্যানমগ্ন ভাবে বিরাজ করছেন।সেই থেকে মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র যিনি জপ করেনতাঁকে অকালে মৃত্যু স্পর্শ করেনা।শাস্ত্র মতে, সপ্তাহের শুরুর দিন অর্থাৎ সোমবার এই মন্ত্র জপ করলে, মহাদেব সন্তুষ্ট হন এবং জরা ব্যাধি থাকে না। এই মন্ত্র ১০৮ বার পাঠ করতে হয়।শ্রাবনের সোমবার এই মন্ত্র পাঠের জন্য শ্রেষ্ঠ সময়।আগামী পর্বে আবার কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদে সামনে। শ্রাবন মাসে ধারাবাহিক ভাবে চলবে এই শিব মাহাত্ম নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
শিবের জটায় গঙ্গা কেনো
শিবকে নিয়ে রহস্যর শেষ নেই। তার রূপ, তার সাজসজ্জা সবই রহস্যময়। শিবের ত্রিশূল, ডমরু, ব্যাঘ্রছাল, বাসুকি নাগ, ভস্ম সবারই অন্তরনিহিত অর্থ আছে যা নিয়ে আগে অল্পবিস্তর আলোচনা করেছি। শ্রাবনের এই বিশেষ পর্বে আজ শিবের জটায় বিরাজমান চন্দ্র নিয়ে বলবো।শেষে থাকবে একটি বিশেষ উপাচার সেখানেও থাকবে মা গঙ্গার উপস্থিত তাই পুরোটা পড়তে হবে। পুরাণ সূর্য বংশের রাজা ভগীরথ তার পূর্বপুরুষদের কপিল মুনির অভিশাপ থেকে পরিত্রাণের জন্য মা গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে আনার সিদ্ধান্ত নেন এবং এর জন্য কঠোর তপসা করেন । ভগীরথের তপস্যায় খুশি হয়ে মা গঙ্গা পৃথিবীতে আসতে রাজি হলেন।তবে মা গঙ্গা ভগীরথকে বললেন যে পৃথিবীতার এই প্রবল গতি সহ্য করতে পারবেনা এবং পাতালে চলে যাবে।ভগীরথ ব্রহ্মাজীর কাছে গিয়ে তার সমস্যার কথা বলেন।ব্রহ্মাজী ভগীরথকে শিবকে খুশি করতে বললেন।কারন একমাত্র শিবই পারেন এই সমস্যার সমাধান করতে।ভগীরথ কঠোর তপস্যা করে শিবকে খুশি করেন। এরপর শিব তাকে বর দিতে চাইলে তিনি তার সমস্যার কথা বলেন। গঙ্গার বেগে পৃথিবীকে বাঁচাতে ভগবান শিব তখন তার জটায় গঙ্গাকে ধারন করেন। কিন্তু আবার এক সমস্যা দেখা দেয় শিবের জটায় সম্পূর্ণ ভাবে আবদ্ধ হয়ে পরেন গঙ্গাএদিকে তার মর্তে আগমন না হলে ভগীরথের পূর্ব পুরুষরা উদ্ধার পাবেন না তাই তার অনুরোধ শিব তার জটার কিছুটা অংশ খুলে দেন এবং এইভাবে মা গঙ্গা দেবলোক থেকে শিবের হয়েপৃথিবীতে আসেন।ভগীরথের পূর্বপুরুষরা মা গঙ্গার স্পর্শে মোক্ষলাভ করেন।শিবের জটায় গঙ্গা বিরাজমান তাই শিবের আরেক নাম গঙ্গাধর। পবিত্র এই শ্রাবন মাসে তামার ঘটিতে গঙ্গা জল নিন তাতে কাঁচা দুধ মেশান এবং এই মিশ্রণ দিয়ে শিব লিঙ্গের অভিষেক করুন। এতে আপনার পরিবারের অশান্তি ও অভাব অভিযোগ দূর হবে এবং মহাদেবের অসীম কৃপা লাভ করবেন।এই শ্রাবন মাস জুড়ে থাকছে শিব নিয়ে নানা তথ্য। এমন সব পৌরাণিক ঘটনা এবং বিশেষ কিছু শাস্ত্রীয় উপাচার। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
গ্রহ শান্তির জন্য শিব লিঙ্গে কি অর্পণ করবেন
শ্রাবনের আরো এক সোমবারে আপনাদের স্বাগত।আজকের পর্বে আসুন জেনে নিই এই পবিত্র শ্রাবন মাসে শিব লিঙ্গে কোন বস্তু অর্পণ করলে কোন গ্রহের দোষ বা অশুভ প্রভাব দূর হয়।তামার ঘটিতে মধু নিয়ে শিব লিঙ্গে অর্পণ করুনএতে রবি গ্রহ সংক্রান্ত সব দোষ দূর হবে।ধুতরো ফল শিবের মাথায় অর্পণ করলে শিব খুব সন্তুষ্ট হন এবং পীড়িত শুক্রের অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।ধুতরো ফুলও মহাদেবের অন্যতম পছন্দের জিনিসশ্রাবনের সোমবার শিব লিঙ্গে ধুতরো ফল নিবেদন করলে বুধ গ্রহের দোষ দূর হয় এবং অর্থনৈতিক ভাবে শুভ ফল পাওয়া যায়।শ্রাবন মাসে শিবের মাথায় গঙ্গাজল অবশ্যই ঢালতে হবে এতে চন্দ্র গ্রহের অশুভ প্রভাব দূর হয়যাদের বৃহস্পতি পীড়িত বা অশুভ অবস্থায় আছে তারা আখের রস মহাদেবকে অর্পণ করলে গ্রহ দোষ থেকে মুক্তি পাবেন।শ্রাবন তিনটি পত্রযুক্ত নিখুঁত বেলপাতা শিবলিঙ্গের মাথায় দিতে হবে এতে মঙ্গল গ্রহ সংক্রান্ত দোষ দূর হয়।তামা বা রুপোর সাপ শিব লিঙ্গে অর্পণ করতে পারেন যদি কালসর্প যোগ থাকে তাহলে নিশ্চিত সুফল পাবেন।ভাং বা সিদ্ধি শিবের খুব প্রিয় বলে মানা হয়। শিব পুজোর সময় একটি ভাং পাতা বা ভাং বেটে সেটা দুধ ও গঙ্গাজলে মিশিয়ে অভিষেক করলে রাহু এবং কেতুর অশুভ প্রভাব থেকে মুক্তি পাবেনযাদের জন্ম ছকে গ্রহ রাজ শনি পীড়িত বা অশুভ প্রভাব দিচ্ছে তারা সাতমুখী রুদ্রাক্ষ শিব লিঙ্গে নিবেদন করে কালো সুতোয় ধারন করুন। গ্রহরাজের অশুভ প্রভাব দূর হবে।এই শ্রাবন মাস শিব কৃপা লাভ করার জন্য শ্রেষ্ঠ সময় এই সময় কে সঠিক ভভাবে ব্যাবহার করুন। ফিরে আসবো এমনই কোনো কার্যকরী এবং প্রয়োজনীয় শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
শ্রাবন মাসে শিবের রুদ্রাভিষেকের বিশেষ পদ্ধতি
শ্রাবণ মাসে রুদ্রাভিষেক করলে শুভ ফল পাওয়া যায়। এ ছাড়া, কষ্ট ও গ্রহপীড়া দূর করার জন্যও রুদ্রাভিষেক কার্যকরী ভূমিকা নেয়।আসুন আজকের পর্বে জেনে নিই কোন বস্তু দিয়ে অভিষেক করলে কি ফল লাভ হয়আখের রস দিয়ে অভিষেক করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়, দুর্ভাগ্য নষ্ট হয়।ঘিয়ের ধারায় অভিষেক করলে বংশ বিস্তার হয়।চিনি মিশ্রিত দুধের অভিষেক ব্যক্তিকে বিদ্বান করে।মধু দিয়ে অভিষেক করলে পুরনো রোগ নষ্ট হয়।গোরুর দুধের অভিষেক করলে আরোগ্য লাভ হয়।ভস্ম দিয়ে অভিষেক করলে ব্যক্তি মোক্ষ-মুক্তি প্রাপ্ত করে।সর্ষের তেল দিয়েও শিবের অভিষেক হয়। তাতে শত্রুতা দমন হয়।চিনি-জল দিয়ে অভিষেক করলে সন্তান প্রাপ্তি সহজ হয়।তবে মনে রাখবেন, মন্দিরে গিয়ে রুদ্রাভিষেক করা শ্রেষ্ঠ। তবে বাড়িতে পার্থিব শিবলিঙ্গেও অভিষেক করা যেতে পারে। বাড়ির তুলনায় মন্দিরে, আবার মন্দিরের তুলনায় নদী তীর ও নদী তীরের তুলনায় পর্বতে রুদ্রাভিষেক বেশি ফলদায়ী।শ্রাবন মাস জুড়ে থাকছে শিব নিয়ে নানা তথ্য। পৌরাণিক ঘটনা এবং এমন সব কার্যকরী শাস্ত্রীয় বিষয়।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।