Home Blog Page 8

কালী কথা – রাজবল্লভী কালী 

কালী কথা – রাজবল্লভী কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথার এই পর্বে

আপনাদের হুগলি জেলার অন্তর্গত রাজবলহাটের দেবী রাজবল্লভী মন্দিরের কথা লিখবো।

 

বহু ঐতিহাসিক মনে করেন রাজবল্লভী মায়ের নামেই রাজবল হাট নাম হয়েছে এই স্থানের।শোনা যায়, বহুকাল আগে যখন এই অঞ্চলের পাশ দিয়ে কংসাবতী নদী বয়ে যেত, তখনই এক সদাগর দেবীর দেখা পান। তিনিই এখানে মন্দির তৈরি করেন। তবে এটি নিছক জনশ্রুতি হতে পারে কারন ইতিহাস অন্য কথা বলছে।রাজবলহাট তথা দেবী রাজবল্লভীর প্রতিষ্ঠা করেন রাজা

সদানন্দ রায়।

 

স্থানীয় রাজা সদানন্দ রায় একবার দামোদর ও রণ নদীর মধ্যবর্তী জঙ্গলাকীর্ণ স্থানে মৃগয়া করতে গিয়েছিলেন। সেখানে থেকে ফিরে প্রাণীহত্যার জন্য গভীর মনস্তাপে পড়ে যান। পরবর্তীতে সেই মনোস্তাপ থেকে মুক্তি পেতে গুরুর নির্দেশে গভীর অরণ্যে মাতৃ সাধনা শুরু করেন এবং দ্বিভূজা, ষোড়শীর বেশে রাজাকে দর্শন দিয়ে দেবী নির্দেশ করেন, এই জঙ্গলেই যেন তার মূর্তি প্রতিষ্ঠা এবং নিত্য পুজোর ব্যবস্থা করা হয়। আর রাজা যেন নিজের রাজ্যে ফিরে গিয়ে পুনরায় রাজধর্ম পালনে ব্রতী হন।সেই আদেশ অনুসারে স্থাপিত হয় রাজবল্লভী মায়ের মন্দির।

 

দেবী রাজবল্লভী দ্বিভূজা। তাঁর ডান হাতে একটি ছুরি আর বাঁ হাতে ধরা সিঁদুরের পাত্র। কটিদেশে ছোট ছোট হাতের কোমরবন্ধ, গলায় নরমুণ্ডের মালা‌। সব মিলিয়ে দেবী কালিকার সঙ্গে রাজবল্লভীর কিছু মিল আছে তবে গায়ের রং সাদা।দেবীর পায়ের নিচে একটি নয়, বরং দুটি শিবমূর্তি দেখতে পাওয়া যায়। ডান পা রয়েছে কালভৈরবের বুকের উপরে। আর বাম পা রাখা আছে বিরূপাক্ষ শিবের মাথায়।

 

সম্ভবত ব্রাহ্মণ বা উচ্চবর্ণের রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতা পান বলেই দেবীর নাম রাজবল্লভী।

আজও পূজার্চনার রীতিনীতিতে নানা তান্ত্রিক ক্রিয়াকলাপ দেখা যায়। রাজবল্লভী দেবীর স্বভাবও রাজকীয়। তিনি প্রতি রাত্রে কাঠের পালঙ্কে নিদ্রা যান। রাতে হঠাৎ তামাক সেবনের ইচ্ছাও হয় মাঝে মাঝে। তাই মন্দিরের এক কোণেই প্রস্তুত রাখা থাকে গড়গড়া। তবে খাবারের বিষয়ে তাঁর কোনো আড়ম্বর নেই। কোনোরকম সম্বরা না দিয়ে প্রতিদিন সিদ্ধ ভোগ রান্না হয় মন্দিরের লাগোয়া রন্ধনশালায়। বহু ভক্তকে সেই ভোগ পরিবেশন করা হয়।

 

ফিরে আসবো কালী কথার পরের পর্বে অন্য একটি কালী মন্দির নিয়ে

শাস্ত্রীয় উপস্থাপনায়। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বকুলতলার কালী 

কালী কথা – বকুলতলার কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে আবার ফিরে এলাম ধারাবাহিক কালী কথা নিয়ে। বিভিন্ন কালী মন্দিরের ইতিহাস এবং অলৌকিক ঘটনা দিয়ে সাজানো থাকবে এই পর্ব গুলি। আজ

বর্ধমানের বকুলতলার কালী দিয়ে শুরু করছি।

 

কাটোয়ার মুস্থূলী গ্রামে প্রায় তিনশো বছর ধরে চলে আসছে বকুলতলার কালীর পুজো। কথিত আছে বহু বছর আগে এক সাধক এলাকায় একটি বকুল গাছের নীচে এই কালীর পুজো শুরু করেন।

সেই থেকেই এই রূপ নামকরণ।

 

বকুলতলার কালী এলাকায় সর্বাধিক জাগ্রত কালী। তবে দেবী এখানে এলাকা বাসীর ঘরের মেয়ে তিনি এবং ‘মেজঠাকরুন’ নামেই বেশি পরিচিত।

 

যিনি পুজো শুরু করেছিলেন সেই মাতৃ সাধকের মৃত্যুর পর তাঁর ইচ্ছানুযায়ী মন্দিরের কাছেই সমাধিস্থ করা হয়েছে তাঁকে।সাধকের মৃত্যুর পর প্রথমে এলাকার জমিদার, পরে এলাকারই এক বাসিন্দাকে পুজোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে গ্রামবাসীরা এই পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

অমাবস্যার রাতে পুজো শুরু হয় রাত বারোটার পর। প্রতিমা রঙ করা হয় পুজোর দিন রাতেই। পুজো হয় তন্ত্রমতে। পুজোয় পশু বলিও হয়।পুজো উপলক্ষে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন স্থানীয় মহিলারা

 

দেবীর বিসর্জন এই পুজোর অন্যতম মুখ্য আকর্ষণ।বিসর্জনের সময় প্রতিমা মন্দির থেকে বার করার পরই গ্রামের সমস্ত আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। দেবীর ভক্তদের হাতে হাতে জ্বলে ওঠে মশাল। কাঁধে তুলে নেওয়া হয় দেবীকে। তার পরই দেবীকে কাঁধে নিয়ে শুরু হয় দৌড়। দেবীর সঙ্গে ছুটতে থাকে সারি সারি মশালের আলো। সেই সঙ্গে চলে দেবীর জয়ধ্বনি। হেঁটে হেঁটে নিয়ে যাওয়া যায় না দেবীকে, কাঁধে প্রতিমা নিয়ে ছোটাই এই পুজোর নিয়ম। প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় পাশের গ্রাম আমডাঙায়। সেখানে আছেন বুড়ো শিব। বুড়ো শিবের সঙ্গে দেখা করেন দেবী। দেখা করার পর্ব মিটলে আবার একই ভাবে দৌড়ে গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয় দেবীকে। পরে মন্দিরের পাশের একটি পুকুরে বিসর্জন করা হয় প্রতিমা।

বছরের পর বছর এই নিয়ম চলে আসছে।

 

আবার পরের পর্বে আরেকটি প্রাচীন কালী

পুজোর বর্ণনা এবং তার ইতিহাস নিয়ে

ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বন্দে মাতরম

বন্দে মাতরম

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

সম্প্রতি বঙ্কিম চন্দ্র রচিত বন্দে মাতরম তার একশো পঞ্চাশ বছর পূর্ণ করলো। আজ আশিতম স্বাধীনতা দিবসে আসুন এই গানের ইতিহাস, তার প্রেক্ষাপট এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে জেনে নিই।

বাংলার মাটিতে জন্ম নেওয়া এই গান একসময় কোটি কোটি ভারতবাসীর হৃদয়ে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছিল।দেশমাতৃকার বন্দনা থেকে জাতীয় চেতনার প্রতীক এই গান।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে “বন্দে মাতরম” শুধু একটি গান নয়—এটি দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ ও মাতৃভূমির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার এক অনন্য উপস্থাপনা।

 

“বন্দে মাতরম”-এর রচয়িতা ছিলেন সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। গানটির প্রকাশ ঘটে ৭ নভেম্বর ১৮৭৫ সালে, বঙ্কিমচন্দ্র সম্পাদিত বঙ্গদর্শন পত্রিকায়। পরবর্তীকালে এটি তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস ‘আনন্দমঠ’, যা ১৮৮২ সালে প্রকাশিত হয়, তার অন্তর্ভুক্ত হয়।

গানটির মূল ভাবনা ছিল দেশকে মাতৃরূপে এবং দেবীরূপে কল্পনা করে তাঁর বন্দনা করা।

 

স্বাধীনতা আন্দোলনের কালে উনিশ শতকের শেষভাগে গানটি ধীরে ধীরে জাতীয় চেতনার অন্যতম প্রধান প্রতীকে পরিণত হয়। দুবার সুর করা হয়। প্রথমে যদুনাথ ভট্টাচার্য পরে ১৮৯৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর “বন্দে মাতরম” গানটি পরিবেশন করেন সুর কিছুটা পাল্টে।এর ফলে গানটি বৃহত্তর জাতীয় পরিসরে বিশেষ পরিচিতি লাভ করে।

 

পরবর্তীতে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী স্বদেশী আন্দোলনের সময় “বন্দে মাতরম” হয়ে ওঠে প্রতিবাদ ও দেশপ্রেমের এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। মিছিল, সভা ও সমাবেশে মানুষ এই গান গেয়ে নিজেদের ঐক্য ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করত। ধীরে ধীরে “বন্দে মাতরম” স্বাধীনতার স্লোগান এবং আন্দোলনকারীদের এক অনুপ্রেরণাদায়ক মন্ত্রে পরিণত হয়।

 

বিতর্কও কিছু কম হয়নি এই গানকে নিয়ে ব্রিটিশ আমলে “বন্দে মাতরম” এবং ‘আনন্দমঠ’কে ঘিরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি কিছু সাম্প্রদায়িক কারণেও গানটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেছে। সে বিতর্ক আজ বাদই দিলাম তবে নিষেধাজ্ঞা বা বিতর্ক গানটির জনপ্রিয়তা কমাতে পারেনি বরং অনেকের কাছে এটি হয়ে ওঠে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে

প্রতিরোধের প্রতীক স্বরূপ।

 

স্বাধীনতার প্রাক্কালে “বন্দে মাতরম”-এর মর্যাদা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি জাতীয় সমাবেশে গানটির প্রথম দুটি স্তবক গাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে গানটির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

অবশেষে ২৪ জানুয়ারি ১৯৫০ সালে, স্বাধীন ভারতের সংবিধান সভা “জনগণমন”-কে জাতীয় সংগীত এবং “বন্দে মাতরম”-কে জাতীয় স্তোত্র হিসেবে গ্রহণ করে এবং উভয়কেই মর্যাদার দিক থেকে বিশেষ স্থান দেওয়া হয়।

 

বাঙালির আলাদা করে গর্ব হওয়া উচিৎ কারন সাহিত্য সম্রাট বঙ্গ সন্তান বঙ্কিমচন্দ্রের কলমে জন্ম নেওয়া “বন্দে মাতরম” দেশের ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে।

 

বন্দে মাতরম আমাদের শেখায় মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা শুধু আবেগ নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দায়িত্ব, সম্মান ও আত্মত্যাগের আদর্শ।

“বন্দে মাতরম” আজও ভারতীয় জাতীয় চেতনার এক অমর উচ্চারন মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার এক চিরন্তন বন্দনা স্বরূপা।

 

সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।

বন্দে মাতরম। জয় হিন্দ।

গুরু কথা – শ্রী শ্রী মা সারদা

গুরু কথা – শ্রী শ্রী মা সারদা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের গুরু কথার এই পর্বে লিখবো মা সারদাকে নিয়ে।গুরু শব্দের অর্থ অজ্ঞানতার অন্ধকার দুর করে জ্ঞানের আলো দান করেন এমন ব্যক্তিকে বোঝায়। সেই অর্থে সারদা মা ছিলেন

প্রকৃত গুরু। যদিও বিশ্বের কাছে তিনি গুরু পত্নী বা সংঘ জননী হিসেবেই বেশি পরিচিতা।

 

মা সারদা বলতেন আমি কথার কথা মা নই আমি সত্য জননী। বাস্তবেও ছিলো তাই। তা ঘটনা থেকে প্রমাণিত হয়।

 

একবার মা তার ভক্ত আমজাদকে নিজের হাতে খেতে দিয়েছিলেন, এমনকী খাওয়া শেষে এঁটো থালা পরিষ্কার করতেও তাঁর কোনও দ্বিধা ছিল না। আমজাদের পরিচয় সম্পর্কে মাকে মনে করিয়ে দেওয়ায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার শরৎ যেমন ছেলে, ওই আমজাদও তেমন ছেলে’, এখানে শরৎ, অর্থাৎ পরবর্তী কালে স্বামী সারদানন্দ মহারাজ।এই সামান্য ঘটনাটির তাৎপর্য মোটেও সাধারণ নয়। আজকের এই জটিল আর্থ-সামাজিক দুনিয়ায়, যেখানে অসহিষ্ণুতার একটা বিষময় বাতাবরণ, সেখানে মা সারদার এই সহজ অভিব্যক্তিটা খুব বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মনে হয়।

 

আজও আমরা সর্বস্তরে জাতপাতের সীমানা লঙ্ঘন করতে পারছি না। আমরা সবাই এক এবং অভিন্ন, এই শাশ্বত বোধ আমাদের সবার মধ্যে আসছে না|কিন্তু পথ দেখাতে পারেন মা সারদা ও তার ত্যাগ এবং আদর্শ যিনি সেই যুগে দাঁড়িয়ে প্রকৃত সমাজসেবী হিসেবে এক বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন, ‘আমরা ওরা’র বন্ধন।মা সারদা প্রকৃত অর্থেই হয়ে উঠেছিলেন সৎ এর ও মা আবার অসৎ এর ও মা|

তার কাছে নরেন ও যা রঘু ডাকাত ও তাই|

 

প্রতিটি মানুষকে নিজের মধ্যে দেবতাজ্ঞানে গ্রহণ করতেন। সাড়া দিয়েছেন সবার ডাকে, এমনকী পশুপাখিদেরও সন্তানস্নেহে আপ্লুত করেছেন। তার অলৌকিক সত্ত্বা ভক্তদের থেকে আড়ালে থাকতো।

 

এক বার এক সহজ সরল ভক্ত নিজেকে সংযত করে রাখতে না পেরে মাকে সরাসরি প্রশ্ন করলেন, মা, আপনি কি সাক্ষাৎ মা কালী? সারদা দেবী মৃদু হেসে বলেছিলেন – ওই, লোকে বলে কালী’!

 

ভক্তদের কাছে মা সারদা ছিলেন সাক্ষাৎ জগৎজননী। ঠাকুর রামকৃষ্ণর যদি অবতার হন তাহলে মা সারদা ছিলেন ভগবানের লীলা সঙ্গিনী।

স্বয়ং রামকৃষ্ণ তাকে আদ্যাশক্তি মহা মায়া রূপে দক্ষিনেশ্বরে পূজো করেছিলেন এক ফল হারিণী অমাবস্যা তিথিতে।

 

বিবেকানন্দ সহ অন্যান্য গুরু ভাইরাও মনে করতেন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব যেমন তার অলৌকিক সত্ত্বাকে গোপন করতে পারতেন

তেমনটা সারদা মা পারতেন না বার বার তাঁর অলৌকিক সত্ত্বা প্রকাশিত হতো।

 

স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে আজ মা সারদাকে স্মরণ করার আলাদা তাৎপর্য আছে কারন সরাসরি স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ না দিলেও সে যুগে বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীর কাছে তিনি ছিলেন আদর্শ এবং বহু বিপ্লবীর স্নেহের আশ্রয়।

 

আজ গুরু কথায় বিশ্ব জননী, সংঘ জননী মা সারদার চরনে আমার শত কোটি প্রনাম এবং শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাই। ফিরে আসবো

গুরু কথার আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

গুরু কথা – শ্রী শ্রী পাহাড়ি বাবা

গুরু কথা – শ্রী শ্রী পাহাড়ি বাবা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ভারতের আধ্যাত্মিক জগতে অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র পাহাড়ি বাবা।তাঁর আসল পরিচয় স্পষ্ট ভাবে জানা যায়না।তবে তার জীবনের কিছু অলৌকিক ঘটনা আজও লোকের মুখে মুখে

ফেরে যার মধ্যে দুয়েকটি আজ

আপনাদের জানাবো।

 

পাহাড়ি বাবা তার সন্ন্যাস জীবনে লোক মুখে প্রচারিত নাম।সর্বদা হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে ধ্যান মগ্ন থাকার জন্য বাবার নাম হয় পাহাড়ি বাবা।শোনা যায় একদিন শ্রী শুকদেব বাবাজির স্বপ্নে আবির্ভূত হয়ে বললেন, “এই জায়গার নীচে আমার একটি প্রাচীন বিগ্রহ আছে, এটি আবিষ্কার করুন এবং এটি স্থাপন করুন।” জেগে উঠে বাবা জায়গাটি খনন করেছিলেন এবং সেদিন ছিলো বৈশাখ অমাবস্যা বাবা খাক চক নামক সেই স্থানে শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে শ্রী শুকদেবের শ্রীবিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন।

 

শোনা যায় পাহাড়ি বাবা একবার এক ভক্তের সাথে গঙ্গাসাগর যাত্রা করেছিলেন জল পথে জাহাজে পৌঁছতে হয় সাগর দ্বীপে তখন বাবার বয়স ছিল একশোর বেশি তার সাথে ক্ষীণকায় শরীর । এই দেখে জাহাজের ক্যাপ্টেন তার বয়স এবং শারীরিক কাঠামোর কথা বলে বাবাকে জাহাজে চড়তে নিষেধ করেছিলেন।সেই সময়ে গঙ্গা নদী

তীরবর্তী সৈকতে পড়ে ছিল বটবৃক্ষের বিশাল কাণ্ড। বাবা সেই বিশাল কাণ্ডটা মাথায় তুলে নিয়ে ক্যাপ্টেনকে জিজ্ঞেস করলেন, “আমাকে বলুন, এটা কোথায় রাখব?” ক্যাপ্টেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছেন না।কিভাবে এক বৃদ্ধ সাধু এই বিশাল কান্ড এই ভাবে তুলতে পারে তা তার বোধ গম্য হয়নি। তবে তিনি বোঝেন বাবা কোনো সাধারণ ব্যাক্তি নন তিনি সাথে সাথে বাবার চরণে আত্মসমর্পণ করলেন। বাবা তাকে ক্ষমা করেন এবং বলেন “কোনও সাধুকে তার বার্ধক্য বা দুর্বলতার জন্য উপহাস করবেন না, তিনি শ্রী রামের শক্তিতে চলেন”।

 

আরেকবারে কথা বাবা তখন বৃন্দাবনে একবার একজন ভক্ত দীক্ষা নেয়ার আশায় বাবার কাছে আসছিলো । কিন্তু বৃন্দাবনে পৌঁছানোর আগেই বাবা সমাধি গ্রহণ করেন । বৃন্দাবন এসে সব শুনে মনের দুঃখে সেই ভক্ত খাক চকে বাবার সমাধিতে অন্ন-জল ছাড়াই বসে রইলেন। এই ভাবে তিন দিন অতিক্রান্ত হয় চতুর্থ দিনে বাবা অলৌকিকভাবে সমাধি থেকে আবির্ভূত হন এবং সেই ভক্তকে সম্পূর্ণ শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে দীক্ষা দেন।

 

বাবার অসংখ্য ভক্ত শিষ্য আজও রয়েছে। পাহাড়ি বাবার প্রয়াণের পর তার তারা বাবার সাধন মার্গ অনুসরণ করেন এবং আজও পাহাড়ি বাবা তার শিষ্য ও ভক্ত দের সব বিপদ ও প্রতিকূলতা

থেকে রক্ষা করেন বলে তাদের বিশ্বাস।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে।অন্য কোনো

গুরুর জীবনী এবং অলৌকিক ঘটনায়

সমৃদ্ধ উপস্থাপনা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

গুরু কথা – তোতাপুরী মহারাজ

গুরু কথা – তোতাপুরী মহারাজ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ ভারতের আধ্যাত্মিক গুরুদের নিয়ে এই ধারাবাহিক উপস্থাপনায় বলবো ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের দীক্ষা গুরু তোতাপুরী মহারাজকে নিয়ে।জানাবো

তার অলৌকিক জীবন কাহিনী।

তোতাপুরীর সন্ন্যাস পূর্ব জীবন,তার জন্ম কাল জন্মস্থান ও পরিবার সম্পর্কে সঠিক তথ্য কমই পাওয়া যায় তায় সেই দিকে না গিয়ে তার অলৌকিক ব্যাক্তিত্ব ও রহস্যময় সন্ন্যাস জীবনর কথাই বলবো।

তোতাপুরী লম্বা-চওড়া সুদীর্ঘ পুরুষ ছিলেন।দীর্ঘ সময় ধ্যান ও যোগ সাধনার মাধ্যমে তিনি সাধনার অত্যন্ত উচ্ছ পর্যায়ে আরোহন করেছিলেন, পুরী সম্প্রদায় ভুক্ত এই নাগা সন্ন্যাসী ছিলেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণর দীক্ষা গুরু তা আগেই বলছি।তোতাপুরী তিন দিনের বেশি কোথাও থাকতেননা কিন্তু ব্যতিক্রম হয়েছিলো দক্ষিনেশ্বর এসে|এখানে বেশ দীর্ঘ সময় তিনি কাটিয়েছিলেন রামকৃষ্ণর সান্নিধ্যে|গুরুর নাম গ্রহণ করা শাস্ত্রমতে বারণ তাই শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে ‘ল্যাংটা’ বা ‘ন্যাংটা’ বলে উল্লেখ করতেন|গঙ্গার ধারে পঞ্চবটি উদ্যানে ধুনী জ্বালিয়ে তিনি সাধনা করতেন এখানেই তার কাছে দীক্ষা নিয়ে নিয়ে ছিলেন স্বয়ং রামকৃষ্ণ আবার আশ্চর্য জনক ভাবে ঠাকুরের অলৌকিক ক্ষমতা ও তার অগাধ জ্ঞানের পরিচয় পেয়ে গুরু তোতাপুরী বিদায় নেয়ার আগে শিষ্য রামকৃষ্ণর কাছে দীক্ষা নিয়ে যান|

তোতাপুরীর মতে সকলই ছিল মায়া। দেব-দেবীর মূর্তিপূজাকেও তিনি উপহাস করতেন। বিশ্বাস করতেন এক ও অদ্বিতীয় ব্রহ্মে কিন্তু রামকৃষ্ণ তার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেন, এক্ষেত্রে এক অলৌকিক ঘটনার ও উল্লেখ পাওয়া যায়, একবার দক্ষিনেশ্বরে থাকা কালীন পেটের যন্ত্রনায় কাবু তোতাপুরী গভীর রাতে গঙ্গায় প্রান বিসর্জন দিতে গিয়ে দেখলেন কোথাও ডুবজল নেই, হেঁটেই পার হওয়া যায় গঙ্গা, তিনি উপলব্ধি করলেন ভবতারিনীর লীলা, সাক্ষাৎ করলেন স্বয়ং মা জগদম্বাকে, শরীরের সব যন্ত্রনা মুহূর্তে গায়েব হয়ে গেলো|

শিষ্য কে বললেন সব কথা।মেনে নিলেন মায়ের উপস্থিতি।মেনে নিলেন ঠাকুর রামকৃষ্ণের শ্রেষ্ঠত্ব পাল্টা দীক্ষাও নিলেন তার কাছে,গুরুকে পাল্টা দীক্ষা দানের এই ঘটনা ভারতের আধ্যাত্মিক জগতে এবং গুরু শিষ্য পরম্পরায়

বিরলতম ঘটনা।

আজকের পর্ব এই মহান গুরুকে প্রনাম জানিয়ে শেষ করলাম।আবার আগামী পর্বে দেখা হবে

গুরু কথায়। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

গুরু কথা – মহাবতার বাবাজি

গুরু কথা – মহাবতার বাবাজি

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

সাধনার জোরে অমরত্ত্ব লাভ করেছেন এমন নজির খুব কমই আছে জগতে। মহাবতার বাবাজি এমনই একজন সিদ্ধ যোগী।আজকের গুরু কথার এই পর্বে ভারতের এই অন্যতম রহস্যময় এবং মহানতম যোগী পুরুষ মহাবতার বাবাজির অলৌকিক জীবন এবং সাধনা নিয়ে লিখবো।

শ্রদ্ধেয় মহাবতার বাবাজি কে নিয়ে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য গল্প, কিংবদন্তি এবং রহস্য|কেউ কেউ মনে করেন ক্রিয়া যোগের মাধ্যমে তিনি অমরত্ব লাভ করেছেন|কঠোর সাধনার মাধ্যমে তিনি সময় কে জয় করে জন্ম মৃত্যুর বন্ধন থেকে মুক্তি লাভ করেছেন এবং আশ্চর্য জনক ভাবে হাজার হাজার বছর ধরে স্বশরীরে বিরাজ করছেন এই পৃথিবীতে| একাধিক বার তার সাক্ষাৎ লাভ করে ধন্য হয়েছেন একাধিক সাধক|শোনা যায় হিমালয়ের এক দুর্গম স্থানে শ্যামাচরণ লাহিড়ী মহাশয় কে দীক্ষা দিয়েছিলেন স্বয়ং মহাবতার বাবাজি|পরমহংস যোগানন্দ তার ” অটো বায়োগ্রাফি অফ এ যোগী ” বইয়ে তার মহাবতার বাবাজির দর্শনের কথা বলেছেন|একাধিক বার সামনে এসেছে হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে তার রহস্যময় উপস্থিতির কথা|

বাবাজির জন্ম বৃত্তান্ত নিয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না তবে মনে করা হয় তামিলনাড়ুর কোনো গ্রামে তার জন্ম হয়েছিলো, তার সঠিক বয়স নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে|কারুর মতে 5000 তো কারুর মতে 2000 বছরের কিছু বেশি তার বয়স|যোগ বলে তিনি তারুণ্য কে ধরে রেখেছেন তাই দেখলে মনে হয় এক যুবক|বাবাজির ইচ্ছে না থাকলে তাকে দর্শন করা যায়না|তিনি ঝড়ের গতিতে প্রকট হন আবার মহাশূন্যে মিলিয়ে যান|একটি প্রচলিত বিশ্বাস মতে হিমালয়ের কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে রয়েছে জ্ঞানগঞ্জ নামে এক রহস্যময় মঠ, যেখানে সিদ্ধ পুরুষ ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারেনা, বাবাজির সেই মঠেই থাকেন, শুধু তাই নয় তিনি জ্ঞান গঞ্জের আচার্য|সুক্ষ দেহে তিনি সর্বত্র বিচরণ করেন আবার প্রয়োজন হলে নিজ দেহ ধারন করে প্রকট হন, তবে তার দর্শন করে অতি দুর্লভ ঘটনা, এবং সৌভাগ্যর হাতে গোনা কয়েকজন আজ অবধি তার দর্শন করতে পেরেছেন|

বর্তমানে হিমালয়ের দুর্গম এক স্থানে অবস্থিত একটি গুহাকে মহাবতার বাবাজির গুহা হিসেবে
চিহ্নিত করা হয়েছে। শোনা যায় এটি তার সাধনার স্থল এবং এখানে তিনি মাঝে মাঝে আসতেন। আজ বহু মানুষ এই দুর্গম পথ পেরিয়ে আসেন বাবাজির এই গুহা দর্শন করতে এবং তাদের কাছে এই স্থান অতি পবিত্র এক মন্দির স্বরূপ।

মহাবতার বাবাজিকে বলা হয় গুরুদের গুরু বা জগৎ গুরু|ক্রিয়া যোগের তিনি প্রান পুরুষ|ধ্যান, আধ্যাত্মিকতা এবং যোগাসন কে তিনি এক সূত্রে গেথেছেন কয়েক হাজার বছর আগে|পরবর্তীতে তার পথ অনুসরণ করে আধ্যাত্মিক পথে এগিয়েছেন তার সুযোগ্য শিষ্যরা যার মধ্যে শ্যামাচরণ লাহিড়ী, যুক্তেশ্বর গিরি, পরমহংস যোগানন্দ প্রমুখ।

আগামী পর্ব গুলিতে
এরকম আরো অনেক রহস্যময়
আধ্যাত্মিক গুরুদের জীবন এবং সাধনা
সম্পর্কে নানা তথ্য আপনাদের সামনে নিয়ে আসবো।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

গুরু কথা – শ্রী প্রেমানন্দ মহারাজ

গুরু কথা – শ্রী প্রেমানন্দ মহারাজ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

এই মুহূর্তে যে কয়জন প্রকৃত সাধু ভারতের পুন্য ভূমিতে স্বশরীরে বিরাজ করছেন এবং আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে অসংখ্য মানুষকে প্রতিদিন আধ্যাত্মিক মার্গে চলার পথ দেখাচ্ছেন বৃন্দাবনের প্রেমানন্দ বাবা তাদের মধ্যে অন্যতম।আজকের গুরু কথায় এই মহান গুরুর কথা লিখবো।

প্রেমানন্দ জী রাধারানীর ভক্ত এবং রাধাবল্লভ সম্প্রদায়ের সন্ন্যাসী।বিহারের এক দরিদ্র
কৃষক পরিবারে জন্মানো অনিরুদ্ধ পান্ডে শুরু থেকে ছিলেন শিব ভক্ত।ছোটবেলায়, তিনি ঘন্টার পর ঘন্টা ধ্যান এবং প্রার্থনায় মগ্ন থাকতেন , প্রায়শই ভক্তিমূলক স্তোত্রের সুরে নিজেকে হারিয়ে ফেলতেন।কৈশোরে গৃহ ত্যাগ করে তিনি পথে ঘুরে বেড়াতেন এবং আশ্রয় নিতেন শিব মন্দিরে। দীর্ঘ দিন তিনি কাশীর বিভিন্ন ঘাটে ঘাটে অভুক্ত অবস্থায় অসুস্থ্য শরীরে কাটিয়েছেন তার পর একদিন নিছক রাস উৎসব দেখতে যান বৃন্দাবনে এখানেই ঘটে যায় তার জীবনের সব থেকে বর পরিবর্তন। তিনি নিজের জীবনের আসল উদ্দেশ্য খুঁজে পান। নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পিত করেন রাধা রানীর চরণে।হয়ে ওঠেন পরম পূজনীয়
প্রেমানন্দ মহারাজ।

বর্তমানে শ্রী প্রেমানন্দ জি মহারাজ রাধাজীর সেবায় এবং ঐশ্বরিক প্রেমের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন তিনি প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা প্রার্থনা এবং ধ্যানে কাটান।রাধাজির ঐশ্বরিক উপস্থিতিতে নিজেকে নিমজ্জিত করে রেখেছেন।

শ্রী প্রেমানন্দ জি মহারাজ বিশ্বাস করেন যে ভক্তির পথ কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় ঐতিহ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি শিখিয়েছেন যে ঈশ্বরের প্রতি ভালবাসা সর্বজনীন এবং জীবনের সকল স্তরের ব্যক্তিরা এটি অনুভব করতে পারে। তাই আজ তার অনগিত ভক্ত ভর রাত থেকে তার দর্শন পাওয়ার জন্য এবং তার বাণী শোনার জন্য প্রতীক্ষা করেন।
বহু বিখ্যাত মানুষ তার দর্শন পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করেন।

তার গোটা জীবনটাই অলৌকিক এবং
বিস্ময়কর কারন যার আজ থেকে কয়েক দশক আগে না ছিলো আশ্রয় না কোনো অন্নসংস্থান তিনিই আজ বহু মানুষের একমাত্র আশ্রয়। অনেকে বলেন তিনি ভগবত প্রাপ্ত সিদ্ধ পুরুষ তা নাহলে কোনো সাধারণ মানুষের পক্ষে এতো অসুস্থ শরীর নিয়ে এতো জপ তপ এবং সাধনা অসম্ভব।

নিজের অসংখ্য ভক্ত শিষ্যদের তিনি সাত্ত্বিক জীবন
জাপন এবং নিরন্তর রাধা নাম জপার পরামর্শ
দিয়ে থাকেন।

আবার গুরু কথার পরবর্তী পর্বে এমন কোনো আধ্যাত্মিক গুরুর জীবন এবং সাধনার কথা নিয়ে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

গুরু কথা – স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী

গুরু কথা – স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ গুরু কথায় আর্য সমাজের প্রতিষ্ঠাতা স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীকে নিয়ে লিখবো।

 

সমগ্র হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।উনবিংশ শতকের এই মহান কর্মযোগী দার্শনিক এবং সনাতন ধর্মের প্রচারক

ভারতে সামাজিক এবং শিক্ষামূলক বিভিন্ন

সংস্কার মূলক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

 

স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী জন্মগ্রহণ করেন ১৮২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি।বর্তমান গুজরাটের কাঠিয়ার নামক স্থান ছিল তাঁর জন্মস্থান।বাল্যকালে তাঁর নাম ছিল শঙ্কর তেওয়ারি। কর্শানজি লালজি তিওয়ারি ছিলেন তাঁর পিতা এবং মাতার নাম ছিল যশোদাবাঈ।

 

মাত্র ২২ বছর বয়সেই তিনি জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফেলেন।পরবর্তী সময়কাল সত্যের সন্ধানে একজন সন্ন্যাসী হয়ে কাটান। সন্ন্যাস জীবনে গুরু হিসাবে তিনি সান্নিধ্য লাভ করেন ব্রিজানন্দর এবং গুরুদক্ষিণা হিসেবে তিনি সনাতন সমাজে বেদের আদর্শকে পুনঃস্থাপনের ব্রত নেন।

 

স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীর মূল বাণী ছিল, ‘বেদের যুগে ফিরে চলো’। এই আদর্শেই তিনি জীবন অতিবাহিত করেছেন।তাছাড়া আর্য সমাজের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই। তিনি শুদ্ধি আন্দোলনও শুরু করেছিলেন। যে সমস্ত হিন্দুরা নানা কারণে ধর্মান্তরিত হতেন, শুদ্ধি আন্দোলনের মাধ্যমে পুনরায় তাঁদের হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনা হত।এই ভাবে বহু সনাতনীর পুনরুদ্ধার করেন স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতি এবং তার আর্য্য সমাজ।

 

বৈদিক সাহিত্যের প্রচারের জন্য তিনি স্কুল এবং কলেজ স্থাপন করেন, ‘সত্যার্থ প্রকাশ’ নামে একটি পত্রিকা বের করেন।পত্রিকার মাধ্যমে সামাজিক এবং বিভিন্ন ধর্মীয় কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তিনি আওয়াজ তুলতেন।

 

নারী স্বাধীনতা এবং সমাজের বঞ্চিত শ্রেণির ক্ষমতায়নের পক্ষেও তিনি বহু কাজ করেন।

স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতী মনে করতেন, বৈদিক শিক্ষার মাধ্যমেই ভারতের সমাজ এবং সভ্যতার পুনর্জাগরণ সম্ভব। এজন্য তিনি অসংখ্য গুরুকুল স্থাপন করেন। পুরুষ-নারীদের আলাদা আলাদা গুরুকূল তিনি স্থাপন করেছিলেন।

 

তৎকালীন পরাধীন ভারতে রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্যও তিনি সক্রিয় ছিলেন । তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি স্বরাজ কথাটি সর্ব প্রথম ব্যবহার করেছিলেন।ঊনবিংশ শতকের এই মহান কর্মযোগী মাত্র ৫৯ বছর বয়সে ৩০ অক্টোবর ১৮৮৩ সালে প্রয়াত হন।

 

আজও তার আদৰ্শ এবং কর্ম কান্ড নিয়ে এগিয়ে

চলেছে তাঁর আর্য্য সমাজের ভক্ত শিষ্যরা। আজ

এই মহান গুরুকে প্রনাম জানাই।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে আবার গুরু কথা

নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

গুরু কথা – মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য দেব 

গুরু কথা – মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য দেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ভারতের মহান আধ্যাত্মিক গুরুদের কথা লেখা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে যদি বাংলার নবজাগরনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও মহান বৈষ্ণব সাধক শ্রী চৈতন্যদেবের কথা না বলা হয়।আজকের পর্বে

মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেব।

 

১৪৮৬ সালের এক দোল পূর্ণিমায় বাংলার শিক্ষা ও সংস্কৃতি চর্চার তৎকালীন পীঠস্থান নবদ্বীপে জন্মে ছিলেন গৌরাঙ্গ।নিম গাছের ছায়ায় তিনি জন্মে ছিলেন তাই নাম রাখা হয়ে ছিলো নিমাই।তার জন্মের বহু পূর্বেই একাধিক প্রাচিন শাস্ত্রে তার আবির্ভাব সম্পর্কে ভবিষ্যতবাণী করা হয়েছে।

পরবর্তীতে তিনি কৃষ্ণ সাধনায় নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে বিলিয়ে দিয়ে হয়ে উঠলেন মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্য|

 

টোলে অধ্যাপনা ছেড়ে, সংসার ছেড়ে নিমাই যখন কৃষ্ণ প্রেমে মজেছেন তখন তার কৃষ্ণনাম এবং নগর সংকীর্তন সেই সময়ে অসংখ্য যুবককে আকর্ষণ করে এবং তারা মহাপ্রভুর শিষ্যত্ত গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে শ্রী ক্ষেত্রে মহাপ্রভু মহা প্রভু

হয়ে ওঠেন অসংখ্য বৈষ্ণবের গুরু এবং পরম আশ্রয়।

 

বৈষ্ণবরা মহাপ্রভুকে বিষ্ণুর অংশ হিসেবেই দেখেন এবং তার সাথে নৃসিংহ অবতারের তুলনাও করা হয়। যুক্তি হিসেবে বলা হয় মহাপ্রভু সিংহ রাশিতে জন্মে ছিলেন। তার দেহের রঙ্গ ছিলো সিংহের ন্যায় সোনালী এবং উজ্জ্বল। তার কেশরাশি এবং হাঁটা চলার সাথেও সিংহের তুলনা করা হয়। সর্বোপরি তার ব্যাক্তিত্ব ছিলো রাজকীয়।

 

একবার মহপপ্রভু শ্রীনিবাস ঠাকুরেরর বাড়িতে এক অপূর্ব অলৌকিক লীলা প্রদর্শন করেন। তখন প্রবলভাবে সংকীর্তন হচ্ছিল। তিনি ভক্তদের জিজ্ঞাসা করলেন যে, তাঁরা কি খেতে চান, এবং তাঁরা জানালেন যে, তাঁরা আম খেতে চান, তখন তিনি আমের আটি চাইলেন। তখন আমের সময় ছিল না, আঁটিটি যখন তাঁর কাছে আনা হল, তখন তিনি সেটি শ্রীনিবাস ঠাকুরের অঙ্গনে পুঁতলেন এবং তৎক্ষণাৎ সেই আঁটিটি অঙ্কুরিত হয়ে ক্রমন্বয়ে বর্ধিত হতে লাগল। অচিরেই সেটি একটি আম গাছে পরিণত হল এবং সেই গাছে এত সুপক্ব আম ধরল যে, ভক্তরা তা খেয়ে শেষ করতে পারলেন না। গাছটি শ্রীনিবাস ঠাকুরের অঙ্গনেই রইল এবং ভক্তরা সেটি থেকে তাঁদের যত ইচ্ছে আম নিয়ে খেল। ভক্তরা মহাপ্রভুর এই অপ্রাকৃত লীলা দেখে মুগ্ধ হল।এখনও সেই গাছ শ্রীনিবাস গৃহের উঠোনে বর্তমান।

 

শোনা যায় মহাপ্রভু যখন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে হরি নাম করতে করতে এগোতেন তখন বনেরা হিংস্র পশুরাও তার হিংসা ভুলে মোহিত হয়ে তার নাম সংকীর্তন শুনতো।

 

সারা বিশ্ব কে তিনি দিয়েগেছেন কৃষ্ণ নাম যে

নাম আজ ছড়িয়ে পড়ছে দাবানলের মতো সারা পৃথিবীতে|জাতী ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মহা প্রভু সবাইকে আপন করে নিয়ে ছিলেন|তার সাধনা ছিলো একটাই মানুষকে ভালো বাসা, আর কৃষ্ণের চরণ যুগলে নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে সপেঁ দেয়া, তার সাধনার পদ্ধতিও ছিলো সরল মৃদঙ্গ ও হরে কৃষ্ণ মহা মন্ত্র|আজও গুরু পরম্পরার মধ্যে দিয়ে গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজ এবং ইস্কন মহাপ্রভুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কৃষ্ণ নাম কে জগতের সর্বত্র পৌঁছে দিচ্ছে।

 

গুরু কথায় এখনো অনেক এমন মহান

আধ্যাত্মিক গুরুদের নিয়ে আলোচনা

বাকি আছে।ফিরে আসবো

আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।