একান্ন পীঠ – জ্বালা মুখী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
বাংলার সীমানা ছাড়িয়ে আজকের শক্তিপীঠ পর্ব ভারতের হিমাচল প্রদেশের কাংড়া উপত্যকায় অবস্থিত জ্বালা মুখী শক্তি পীঠ নিয়ে।
এই শক্তি পীঠে দেবতাদের তেজ সম্পন্ন হয়ে একটি অগ্নিশিখা সর্বদা নাকি জ্বলছে সেই থেকেই নাম জ্বালা মুখী।রাজা ভূমিচন্দ্র সেই স্থানের অনেক সন্ধান করেন কিন্তু খুঁজে না পেয়ে নগরকোটের সামনে একটি দেবীর মন্দির নির্মাণ করেন পরে একদিন রাজা এক গোয়ালার কাছে দেবীর অগ্নি শিখার কথা শুনলেন এবং সেই স্থান খুঁজে পেয়ে সেখানেই দেবীর মন্দির নির্মাণ করলেন ।মহাভারত কালে নাকি পঞ্চপাণ্ডব এই স্থানে মন্দির নির্মাণ করেছিলেন এমনটাও শোনা যায়|
ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যেও এই পীঠের উল্লেখ আছে, সেখানে বলা হচ্ছে-
“জ্বালমুখে জিহ্বা তাহে অগ্নি অনুভব
দেবী অম্বিকা নাম উন্মত্ত ভৈরব”
পুরান মতে এখানেই কালীধর পাহাড়ে কোথাও দেবী সতীর জিহ্বা পতিত হয়েছিল।
বহু কিংবদন্তী ও অলৌকিক মহিমা প্রচারিত আছে এই শক্তি পীঠ ঘিরে|এই পীঠের দেবী হলেন- সিদ্ধিদা আর ভৈরব হলেন উন্মত্ত । আবার কারোর মতে এই পীঠের দেবী হলেন অম্বিকা, ভৈরব হলেন উন্মত্ত |মন্দিরের কাছেই এক পাহাড়ে ভৈরব বিরাজমান |
মায়ের মন্দিরে কোনো বিগ্রহ নেই|এক জ্বলন্ত দিব্য অগ্নি শিখাকে দেবী রূপে পূজা করা হয়|মায়ের মন্দিরের উত্তর দিকের দেওয়ালের মাঝে মায়ের মূল জ্যোতি বা আগুনের শিখা বিরাজমানা|বলা হয় এই আগুনের শিখাই হলেন মা জগদম্বা সিদ্ধিদা বা অম্বিকা যা জ্বালামুখী নামেই বেশি বিখ্যাত ভক্তেরা যে যে নামে ডাকবে মা তাদের কে সেই রূপেই কৃপা করবেন । এই আগুনের শিখা অনবরত জ্বলছে| কোনদিন নেভেনি |
বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী এই শক্তি পীঠ| মুঘল সম্রাট আকবর, দেবীর মহিমা প্রত্যক্ষ করতে একবার এই পীঠে আসেন। আবুল ফজলের রচিত ‘আইন- ই – আকবরি’ তেও এই পীঠের কথা উল্লেখ আছে।দেবীর অলৌকিক ক্ষমতার প্রমান পেয়ে আকবর দেবীর মহিমা স্বীকার করেন এবং দেবীর মন্দিরে একটি সোনার ছাতা প্রদান করেন|
ফিরোজ শাহ এই স্থানে নিজের বীরত্ব দেখতে এলে মৌমাছির আক্রমণের স্বীকার হয়েছিলেন বলেও কিংবদন্তী প্রচলিত আছে।কিছু ঐতিহাসিকের মতে ঔরংজেবও এই মন্দির ধ্বংস করতে চেয়ে ব্যর্থ হন|শিখদের দশম গুরু গোবিন্দ সিং এই মন্দিরে তাঁদের ধর্মগ্রন্থ ‘গ্রন্থসাহিব’ নিত্য পাঠ ও দেবীর পূজা করতেন । তিনি ১৮১৫ খ্রীঃ মন্দির সংস্কার করে এক ভব্য মন্দির নির্মাণ করেন|পরবর্তীতে মহারাজা রঞ্জিত সিং দেবীর মন্দিরের চূড়া শোনা দিয়ে বাধিয়ে দেন।
এই শক্তিপীঠে আছে সূর্য্য কুন্ড।সূর্য কুন্ডের পাশ দিয়ে মন্দিরের দিকে যেতে হয় । সূর্য কুন্ড এক অপূর্ব দিব্য অলৌকিক কুন্ড। মানুষের বিশ্বাস এখানে স্নান করলে সর্ব পাপ নাশ হয় । মন্দির প্রাঙ্গনে রয়েছে রুদ্রকুন্ড, গোমুখী, ব্রহ্মকুন্ড নামক তিনটি কুণ্ড| রুদ্রকূন্ডর জল অনবরত ফোটে তবে তাপমাত্রা কম।
অতি প্রাচীন ভগবান রামচন্দ্রের মন্দির দর্শন করতে হয় এবং শেষে উন্মত্ত ভৈরবের পুজো করতে হয়।
এই শক্তি পীঠ নিয়ে লেখা আজ এখানেই শেষ করছি।ফিরে আসবো পরবর্তী শক্তি পীঠ পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
একান্ন পীঠ – জ্বালা মুখী
শক্তি পীঠ – বৈদ্যনাথ
শক্তি পীঠ – বৈদ্যনাথ
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজকের পর্বে এমন একটি শক্তিপীঠ নিয়ে লিখবো যা একইসাথে একান্ন পীঠের অন্যতম পীঠ আবার দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙের মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত।বৈদ্যনাথ ধাম নিয়ে আলোচনা করবো। বৈদ্যনাথ ধাম নামেই বেশি পরিচিত এই শক্তিপীঠ। মন্দিরটি বর্তমানে ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের দেওঘর জেলায় অবস্থিত।
পুরানে আছে একবার রাবন শিবকে স্থায়ী ভাবে লঙ্কায় নিয়ে যেতে কঠোর তপস্যা করেন।তপস্যয় সন্তুষ্ট হয়ে চন্দ্রহাস নামে একটি বিরাট শক্তিশালী অস্ত্রও রাবণকে উপহার হিসেবে প্রদান করেন এবং আত্মলিঙ্গ অর্পণ করে লঙ্কার প্রতিষ্ঠা করতে বলেন তাকে।শর্ত ছিলো কৈলাস থেকে লঙ্কার পথে যাওয়ার সময় কোথাও যদি রাবণ শিবলিঙ্গ কে কোন জায়গায় রেখে দেন, তাহলে তিনি সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে লঙ্কায় যাওয়ার পথে ক্লান্ত এবং তৃষ্ণার্থ রাবন এই স্থানে শিবলিঙ্গ কিছুক্ষনের জন্য নামিয়ে রাখেন আর সেখানেই শিবলিটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। সেই শিব লিঙ্গই বৈদ্য নাথ রূপের এই শক্তি পীঠের ভৈরব রূপে বিরাজ করছে।
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে এখানে সতীর হৃদয় বা হৃৎপিণ্ড পড়েছিল। বৈদ্যনাথ ধামে অধিষ্ঠিত দেবী জয় দুর্গা ও ভৈরব হলেন স্বয়ং শিব যিনি বৈদ্যনাথ রূপে এখানে বিরাজমান।
এটিই একমাত্র শক্তিপীঠ যেখানে বৈদ্যনাথে শিব এবং শক্তি একসাথে বিরাজমান।
প্রাচীন কালে মন্দিরের কিছু দূরে শ্মশান ছিল, যেখানে মায়ের হৃদয় পড়েছে বলে মনে করা হয়, এই জায়গাটি বর্তমানে “চিতাভূমি” নামে পরিচিত সকলের কাছে। মায়ের হৃদয় পতিত হওয়ার এই শক্তিপীঠ “হৃদয় পিঠ” নামেও ডাকা হয়।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী মোঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহ এই বৈদ্যনাথ মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন এবং দেওঘর রাজ্যের রাজা দ্বিধাউর এই মন্দির নির্মাণের কাজে অনেকখানি সহযোগিতা করেছিলেন। পরবর্তী কালে এই মন্দির একাধিক বার সংস্কার করা হয় এমনকি ব্রিটিশ আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিও এই মন্দিরের রক্ষনাবেক্ষনের ভার নিয়ে ছিলো।
শক্তি পীঠ হওয়ায় অমাবস্যা তিথি গুলিতে এখানে ধুমধাম করে পুজো হয় আবার জ্যোতির্লিঙ্গ থাকায় বৈদ্যনাথে বিরাট আকারে পালিত হয় মহা শিবরাত্রি।
আজকের শক্তিপীঠ পর্ব এখানেই শেষ করছি।
দেখা হবে পরের পর্বে থাকবে পরবর্তী শক্তি পীঠ নিয়ে উপস্থাপনা । পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
শক্তি পীঠ – যশোরেশ্বরী
শক্তি পীঠ – যশোরেশ্বরী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
শক্তি পীঠ শুধু বাংলা বা ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একাধিক শক্তি পীঠ অবস্থান করছে বিদেশের মাটিতে যা সারা বিশ্বে সনাতন ধর্মের এককালীন প্রাধান্যকে প্রমাণিত করে।আজকের একান্ন পীঠ পর্বে বাংলা দেশে অবস্থিত শক্তিপীঠ যশোরেশ্বরী নিয়ে লিখবো।
তন্ত্রচূড়ামণিতে বলা হয়েছে—
‘যশোরে পানিপদ্ম দেবতা যশোরেশ্বরী,/চণ্ডশ্চ ভৈরব যত্র তত্র সিদ্ধ ন সংশয়।’
অর্থাৎ যশোরে সতীর পাণিপদ্ম বা করকমল পড়েছে। দেবীর নাম যশোরেশ্বরী, ভৈরব হলেন চণ্ড। এই সতীপীঠে কায়মনোবাক্যে পুজো করলে ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ হয় বলে সর্বসাধারণের বিশ্বাস।
সনাতন ধর্মের একান্ন পীঠের একটি যশোরেশ্বরী মন্দির|দেহত্যাগের পর দেবী সতীর শরীর যে ৫১ খণ্ড হয়ে যায় তার পাঁচটি খন্ড বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে এর মধ্যে এর মধ্যে সাতক্ষীরার ঈশ্বরীপুর গ্রামে সতীর করকমল বা পাণিপদ্ম পতিত হয়|
মনেকরা হয় বহু প্রাচীনকাল থেকেই এখানে এক অজ্ঞাত ব্রাহ্মণ কতৃক নির্মিত যশোরেশ্বরী মন্দির অবস্থিত ছিলো পরবর্তীকালে লক্ষ্মণ সেন ও প্রতাপাদিত্য কর্তৃক তাদের রাজত্বকালে এটির সংস্কার করা হয়েছিল|মুঘল আমলে সেনাপতি মান সিংহ এই স্থানে আসতেন পুজো দিতে।
মন্দির নিয়ে একটি অলৌকিক ও ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখও পাওয়াযায়, কথিত আছে,মহারাজা প্রতাপাদিত্যর আমলে তার সেনাপতি এখানকার জঙ্গল থেকে একটি আলৌকিক আলোর রেখা বের হয়ে মানুষের হাতেরর তালুর আকারের একটি পাথরখণ্ডের উপর পড়তে দেখেন।পরবর্তীতে তিনি ওই স্থানে কালীর পূজা করতে আরম্ভ করেন এবং এই কালী মন্দিরটি নির্মাণ করেন যা আজ যশোরেশ্বরী কালী মন্দির নামে প্রসিদ্ধ|
বর্তমানে মন্দির-বেদির ওপর প্রতিষ্ঠিত মাতৃমূর্তির শুধু মুখমণ্ডলই দৃষ্টিগোচর হয়|মায়ের মাথার ওপর টকটকে লাল রঙের চাঁদোয়া। কণ্ঠে রক্তজবার মালা ও নানা অলংকার। মাথায় সোনার মুকুট। লোলজিহ্বা দেবীর ভীষণা মূর্তি তবে মুখ মন্ডলে এক অদ্ভুত প্রশান্তি ও স্নিগ্ধতা|দেবীর মন্দিরে
বর্তমানে একটি দরজা এবং ছটি জানলা আছে।
প্রত্যেক শনি মঙ্গলবার দেবীর পুজো হয়
যশোরেশ্বরীর পুজো তন্ত্রমতে হয় এবং প্রতিবছর মন্দিরে খুব ধুমধাম করে শ্যামাপুজো হয় যা
দর্শন করতে আসেন অসংখ্য মানুষ
যারা নিজেরদের মনোস্কামনা জানান দেবীর কাছে। বিশ্বাস করা হয় দেবী সবার মনোস্কামনা পূর্ণ করেন।
পরবর্তী শক্তিপীঠ নিয়ে ফিরে আসবো যথা সময়ে
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
শক্তি পীঠ – কালী ঘাট
শক্তি পীঠ – কালী ঘাট
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
বাংলার শক্তি পীঠ গুলির মধ্যে অধিকাংশ অবস্থিত বীরভূমে। তবে কালী ক্ষেত্র কলকাতায় রয়েছে অন্যতম শক্তি পীঠ কালীঘাট যা নানা দিক দিয়ে বিশেষ ভাবে তাৎপর্যপূর্ন আজকের পর্বে লিখবো এই মহা তীর্থ কালীঘাট নিয়ে।
জনশ্রুতি আছে বহু প্রাচীন কালে যখন কলকাতার এই অঞ্চল ছিলো ঘন অরণ্যে ঢাকা তখন এই গঙ্গা তীরবর্তী দুর্গম অঞ্চলে কষ্টি পাথরের দেবী মূর্তি গড়ে তাতে প্রান প্রতিষ্ঠা করেন ব্রহ্মনন্দ গিরি ও আত্মারাম ব্রহ্মচারি নামে দুই সন্ন্যাসী|বর্তমানে আমরা যে কালীঘাট মন্দির টি দেখতে পাই তা নির্মাণ করেন বিখ্যাত সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের শিবদাস চৌধুরী 1809 সালে ও পরবর্তীতে মন্দির টি সংস্কার করেন
এই পরিবারের অন্য আরেক জমিদার শ্রী সন্তোষ চৌধুরী।
কলকাতার ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করা ব্যক্তি দের একটি বড়ো অংশ মনে করেন এই কলকাতা নাম টির উৎপত্তি হয়েছে কালী ক্ষেত্র থেকে আর এই কালী কালী ঘাটের কালী|অর্থাৎ কলকতার নামের পেছনেও আছে এই বিশেষ পীঠ টির অবদান|
বর্তমান মন্দির টি তৈরী হয়েছে এক বিঘের কিছু বেশি পরিমান জমিতে এবং সেই সময়ে আনুমানিক খরচ হয়েছিলো তিন লক্ষ টাকা |মন্দির টির উচ্চতা নব্বই ফুট|পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আদি গঙ্গা ও অদূরে কেওড়া তলা মহা শ্মশান|চার পাশে ছড়িয়ে রয়েছে আরো অনেক গুলি রাধা কৃষ্ণ ও শিবের মন্দির|সব মিলিয়ে সর্বদা এক ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিবেশ বিরাজ করছে এই বিশেষ শক্তি পীঠ কে কেন্দ্র করে।
পীঠ মালা তন্ত্র মতে সতীর ডান পায়ের চারটি আঙ্গুল পতিত হয়েছিলো এই পবিত্র স্থানে|যদিও অন্য একটি মত অনুসারে সতীর একটি মাত্র আঙ্গুল পতিত হয়েছিলো কালীঘাটে।
দেবীর ভৈরব রূপে এখানে বিরাজমান নকুলেশ্বর|দেবী এখানে দক্ষিনা কালী রূপে বিরাজ করছেন।
কালী ঘাট মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেবী মূর্তি কষ্ঠি পাথরে নির্মিত|দেবীর জিভ, দাঁত মুকুট, এমনকি মুন্ড মালাটিও সবই স্বর্ণ দ্বারা নির্মিত |মন্দিরের মধ্যে একটি বিশেষ কক্ষে একটি সুরক্ষিত সিন্দুকে দেবীর প্রস্তরীভূত অঙ্গ টিও স্বজত্নে রক্ষিত আছে যা কখনো জন সমক্ষে আনা হয় না|
এমনিতে প্রায় প্রতিদিনি ভক্ত দের ভিড় উপচে পড়ে কালীঘাটে তবে কিছু বিশেষ বিশেষ তিথিতে বিশেষ পূজাঅর্চনা অনুষ্ঠিত হয় |প্রতি বছর পয়লা বৈশাখ, দুর্গাপূজা ও দীপান্বিতা কালীপূজার দিন মন্দিরে প্রচুর ভক্ত ও পু্ণ্যার্থীর সমাগম ঘটে|
শুধু বাংলা নয় দেশ এবং দেশের বাইরেও কালীঘাট মন্দির বাংলার নাম যশ বৃদ্ধি
করে চলেছে।
আজ কালী ঘাট নিয়ে লেখা এখানেই
থামাচ্ছি ফিরে আসবো আগামী দিনে পরবর্তী শক্তিপীঠ পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
রাসপূর্ণিমার শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন
রাসপূর্ণিমার শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজ সনাতন ধর্মের তথা সারা বিশ্বের বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ রাস পূর্ণিমা বা রাস উৎসব। আক্ষরিক অর্থে রাস শব্দের আরেক অর্থ অনেকের সঙ্গে একসঙ্গে আনন্দঘন নৃত্যবিশেষ যদিও রাস শব্দর উৎপত্তি হয়েছেন ‘ রস’ শব্দ থেকে, এখানে রস মানে আনন্দ, দিব্য অনুভূতি, দিব্য প্রেম বা ভক্তি রস।
শ্রীমদ্ভাগবতে একটি বিশেষ অংশ হল রাসলীলা।
শাস্ত্র মতে রাস মূলতঃ শ্রীকৃষ্ণের ব্রজলীলার অনুকরণে বৈষ্ণবীয় ভাবধারায় অনুষ্ঠিত ধর্মীয় উৎসব। ভগবান কৃষ্ণ কার্তিক মাসের এই পূর্ণিমাতেই বৃন্দাবনে রাধা-সহ সখীদের মেতেছিলেন রাসলীলায়, সেই তিথিকেই পালন করা হয়, রাস পূর্ণিমা রূপে।বাংলায় চৈতন্যদেব রাধাকৃষ্ণের রাস উৎসবের সূচনা করেছিলেন নবদ্বীপে
ভাবার্থ বা রাসের অন্তর্নিহিত অর্থ অনুসারে ঈশ্বরের সঙ্গে আত্মার মহামিলনই রাস, গোপিনী দের সঙ্গে শ্রী কৃষ্ণর এই লীলা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো বৃন্দাবনে, গোপিনীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলো কবে শ্রীকৃষ্ণের কাছ থেকে, তাদের ডাক আসবে, অবশেষে এই পূর্ণিমা তিথিতে কৃষ্ণ তাদের সেই আশা পূর্ণ করেন রাস নৃত্যর মাধ্যমে, একদিক দিয়ে দেখতে গেলে এই উৎসব ভক্ত ও ভগবানের মিলন উৎসব|
আপনাদের সবাইকে জানাই রাস
পূর্ণিমার শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন|ফিরে আসবো ধারাবাহিক কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
শক্তি পীঠ – বিমলা দেবী
শক্তি পীঠ – বিমলা দেবী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
এই সপ্তাহ থেকে ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করছি একান্ন পীঠ নিয়ে। আজ লিখবো জগন্নাথ ধাম পুরীতে অবস্থিত বিমলাদেবীর মন্দির নিয়ে।
শ্রী ক্ষেত্র পুরীর জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গনেই বিরাজ করছে একটি অন্যতম শক্তি পীঠ দেবী বিমলার মন্দির|জগন্নাথ মন্দির চত্ত্বরের দক্ষিণ পশ্চিম কোনে অবস্থান করছে দেবী বিমলার ছোট্ট কিন্তু সুন্দর এই মন্দির টি|সনাতনীদের কাছে এই দেবী ও তার মন্দির অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ|মনে করা হয় দেবী বিমলা প্রভু জগন্নাথের রক্ষাকতৃ|জগন্নাথ দেবের পূজার পূর্বে দেবী বিমলার পূজা হয় এবং জগন্নাথ দেবের প্রসাদ বিমলা দেবীকে নিবেদন করার পর তা মহাপ্রসাদ হিসেবে গণ্য হয়|
বিমলা দেবীর মন্দিরটি জগন্নাথদেবের মন্দিরের থেকেও প্রাচীন|স্থাপত্য শৈলী ও প্রাচীনত্বের দিক থেকে বলা যায় সোমবংশী রাজবংশের রাজা যযাতি কেশরী এই মন্দিরটি নির্মাণ করিয়েছিলেন পরে তা সংস্কার হয় নানা সময়ে|এক কালে শৈব্য ও তান্ত্রিক দের প্রভাব এখানে বেশি ছিলো এমনকি দেবী কে আমিষ ভোগ ও দেয়া হতো পরে তা বন্ধ হয়|যদিও বিশেষ বিশেষ তিথিতে এখনো দেবী বিমলা কে আমিষ ভোগ নিবেদন করা হয়|জগন্নাথের মিনারের পশ্চিম কোনে বেলে পাথর ও ল্যাটেরাইট নির্মিত পূর্ব মুখী মন্দির টি অবস্থিত |মন্দিরটি চারটি অংশে বিভক্ত, সভা কক্ষ,গর্ভ গৃহ,উৎসব কক্ষ ও ভোগ বিতরন কক্ষ |পাশেই রয়েছে রোহিনী কুন্ড।
কালিকা পুরাণ গ্রন্থে তন্ত্র-সাধনার কেন্দ্র হিসেবে যে চারটি প্রধান পীঠের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি ভারতের চার দিকে অবস্থিত। এর মধ্যে পশ্চিম দিকের পীঠটি হল বিমলা দেবী পুরান মতে এখানে দেবী সতীর পা পতিত হয়েছিলো|এই পীঠের ভৈরব স্বয়ং জগন্নাথ কারন এখানে জগন্নাথদেব ও শিব অভিন্ন|এছাড়াও মহাপীঠ নির্ণয় তন্ত্র, বামন পুরান, মৎস পুরান ও দেবী ভাগবত পুরান ইত্যাদি গ্রন্থেও এই শক্তি পীঠের উল্লেখ আছে|তন্ত্রগ্রন্থ কুব্জিকাতন্ত্র মতে, বিমলা ৪২টি সিদ্ধপীঠের একটি| নামাষ্টোত্তরশত গ্রন্থেও দেবী বিমলার নাম পাওয়া যায়|যদিও এই পীঠের স্বরূপ এবং দেবীর দেহের কোন অংশ এখানে পতিত হয়েছিলো তা নিয়ে পন্ডিত দের মধ্যে ও কিছু গ্রন্থের মধ্যে কিঞ্চিৎ মত পার্থক্য ও বিরোধিতা আছে তবে এই শক্তি পীঠের অস্তিত্ব ও গুরুত্ব সর্বত্র স্বীকৃত|আদি শঙ্করাচার্য বিমলা দেবীকে শাস্ত্র মতে প্রতিষ্ঠা করে পুরীতে গোবর্ধন মঠ স্থাপন করেছিলেন|
মন্দিরের কেন্দ্রীয় গর্ভগৃহে রাখা আছে দেবী বিমলার মূর্তিটি। দেবী এখানে চতুর্ভূজা। তাঁর তিন হাতে জপমালা,বরমুদ্রা ও অমৃতকুম্ভ। চতুর্থ হাতের বস্তুটি ঠিক কী, তা এখনো স্পষ্ট নয় | তবে দেবী দুর্গার যে মূর্তি আমরা সচরাচর দেখতে অভ্যস্থ, দেবী বিমলার মূর্তি আদৌ সে রকম নয়। শুধু দেবী পার্বতীর দুই সখি জয়া ও বিজয়াকে দেবী বিমলার দুই পাশে দেখা যায়। মূর্তির উচ্চতা ৪ ফুটের কিছু বেশি।বিমলা মন্দিরের চূড়ার উচ্চতা ৬০ ফুট|
প্রতি বছর আশ্বিন মাসে ষোলো দিন ধরে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হয়|নানান উৎসবের মধ্যে দুর্গাপূজা বিমলা মন্দিরের প্রধান উৎসব|দুর্গাপূজার শেষ দিন, অর্থাৎ বিজয়াদশমীতে পুরীর রাজা প্রথা মেনে বিমলাকে মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গা রূপে পূজা করেন|এই প্রথা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে।
আজ শক্তি পীঠ বিমলাদেবী নিয়ে লেখা
এখানেই শেষ করলাম|ফিরে আসছি আগামী
পর্বে পরবর্তী শক্তিপীঠ নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
শক্তি পীঠ – হিংলাজ
শক্তি পীঠ – হিংলাজ
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
প্রথম শক্তি পীঠ কোনটি এই নিয়ে বহু বিতর্ক আছে। তবে বেশিভাগের মত কে প্রাধান্য দিলে বলতে হয় মরু তীর্থ হিংলাজই প্রথম শক্তিপীঠ।পীঠ নির্ণয় তন্ত্র মতেও হিংলাজ পীঠস্থানটি একান্ন পীঠের প্রথম পীঠ। আজ শক্তি পীঠ হিংলাজ
নিয়ে লিখবো।
পীঠ নির্ণয় তন্ত্র মতে একান্ন পীঠের অন্যতম প্রধান পীঠ হিংলাজ। বর্তমানে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানে।পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশের লাসবেলা জেলায় হিঙ্গোল নদীর ধারে এই শক্তি পীঠটি রয়েছে।
শাস্ত্র মতে রাবন কে বধ করে রামের যখন
ব্রহ্ম হত্যার পাপ হয়েছিলো তখন এই হিংলাজ শক্তি পিঠে এসে দেবীকে দর্শন করে সেই পাপ
দূর হয়েছিলো।
পাকিস্তানে হিন্দুরা ছাড়াও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে দেবীর প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা এবং
ভক্তি দেখা যায় তারা দেবী হিংগুলা বা দেবী কোট্টরা কে ‘নানী’ বলে ডাকে। মন্দিরের দেবীর নামেই পুরো গ্রামটির নাম হয়ে গিয়েছে হিংলাজ গ্রাম।
শাস্ত্র মতে এই স্থানে দেবী সতীর ব্রহ্মরন্ধ্রটি পড়েছিল তাই দেবীকে এখানে “কোট্টারী” রূপে পুজো করা হয়। দেবীর ভৈরবকে এখানে “ভীমলোচন” রূপে পূজা করা হয়।
এক সময়ে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করে মরুভুমির মধ্যে দিয়ে উটের পীঠে চেপে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এই মন্দিরে যেতে হতো। এই কষ্ট সাধ্য যাত্রা নিয়ে একটি সিনেমাও হয়েছে যার নাম মরুতীর্থ হিংলাজ
ওই তীর্থ যাত্রাকে স্থানীয়র বলতো “নানী কি হজ “
দুর্গম অঞ্চলে একটি গুহায় দেবী ও তার ভৈরব অবস্থান করছেন। দীর্ঘ সিঁড়ি অতিক্রম করে সেখানে প্রবেশ করতে হয়। একটি বেদীতে
শিলা রূপে দেবী অধিষ্টান করছেন।
এখানে সিঁদুর দানের রীতি আছে।
বাস্তবে হিংগুলা শব্দের অর্থই সিঁদুর।
বহু ভক্ত এখানে আসেন নিজের মনোস্কামনা নিয়ে এবং বিশ্বাস করেন তাদের সব দুঃখ কষ্ট দূর হবে
দেবীর আশীর্বাদে।
বালোচিস্থান এবং পাকিস্তানে বসবাসকারী হিন্দুদের তো বটেই সমগ্র বিশ্বের সনাতনীদের কাছেই হিংলাজ শক্তিপীঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং
পবিত্র তীর্থ স্থান।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে। সাথে থাকবে অন্য একটি শক্তি পীঠের মাহাত্ম এবং
পৌরাণিক ব্যাখ্যা।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
শক্তি পীঠের ইতিহাস
শক্তি পীঠের ইতিহাস
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
সনাতন ধর্মে বিশেষ করে শাক্তদের মধ্যে শক্তি পীঠ গুলি অতি পবিত্র তীর্থ স্থান। তবে এই শক্তি পীঠ নিয়ে বিশেষ করে তাদের প্রকৃত অবস্থান এবং সংখ্যা সংক্রান্ত বিতর্ক বহু প্রাচীন। শক্তিপীঠ নিয়ে ধারাবাহিক লেখনীর মাধ্যমে এই ইতিহাস এবং পৌরাণিক ব্যাখ্যা গুলি আপনাদের সামনে তুলে ধরবো। থাকবে প্রতিটি শক্তি পীঠ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।আজ শুধু ভূমিকা।
জামাতা মহাদেবকে পছন্দ হয়নি পার্বতীর জনক দক্ষ রাজার। জামাতাকে অপমান করতে যজ্ঞর আয়োজন হয়। নিমন্ত্রণ আমন্ত্রণ পাননি কৈলাশপতি ।সেই অপমানে যজ্ঞের আগুনে আত্মঘাতী হন সতী। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন মহাদেব। সতীর দেহ নিয়ে তান্ডব নৃত্য শুরু করেন শিব।পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার ভয়ে ভগবান বিষ্ণু প্রলয় থামাতে, সুদর্শন চক্র পাঠিয়ে দেন। দেবীর দেহ ৫১টি খণ্ডে বিভক্ত হয়ে মর্তে বিভিন্ন জায়গায় পতিত হয় । এই সব কটি জায়গাকে সতীপীঠ বা শক্তি পীঠ বলা হয়।
বাংলায় রয়েছে তেরোটি শক্তিপীঠ যার অধিকাংশ রয়েছে বীরভূম জেলায়। আবার কিছু শাস্ত্রে আবার একশো আটটি সতী পীঠের উল্লেখ আছে। রয়েছে বেশ কিছু উপপীঠ এবং সিদ্ধ পীঠ।তবে পীঠ নির্ণয় তন্ত্রের একান্নটি সতী পীঠকেই মান্যতা দেয়া হয়েছে।তন্ত্র চূড়ামনি এবং শিব চরিত গ্রন্থতেও একান্ন পীঠের কথা আছে। দেবী ভাগবতে আবার ১০৮ টি পীঠকে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।
আগামী পর্ব গুলিতে ধারাবাহিক ভাবে একেকটি শক্তি পীঠ নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে লিখবো।পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দেবী জগদ্ধাত্রীর শাস্ত্রীয় মাহাত্ম
দেবী জগদ্ধাত্রীর শাস্ত্রীয় মাহাত্ম
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
চলছে জগদ্ধাত্রী পুজো। দেবী একাধারে শাস্ত্রীয় এবং বৈদিক সত্ত্বা নিয়ে সনাতন ধর্মে বিরাজ করছেন। তার আবির্ভাব তার রূপ এবং পুজো পদ্ধতি সবই শাস্ত্র মতে বিশেষ তাৎপর্য পূর্ন। আজ আসুন জেনে নিই সেই শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।
আগেই উল্লেখ করেছি দেবী করীন্দ্রাসুরকে বধ করতে অবির্ভুত হন।জগদ্ধাত্রীর বাহন সিংহ এক হাতির উপর দাঁড়িয়ে, আবার কোথাও পদতলে হাতির কাটা মাথা দেখা যায়।সংস্কৃতে হাতির একটি নাম করী, সেই অনুসারে অসুরটির নাম করীন্দ্রাসুর। তাকে বধ করেন দেবী জগদ্ধাত্রীর তাই তাঁর অপর নাম করীন্দ্রাসুরনিসূদিনী।
শ্রীশ্রীচণ্ডীতে দেবীর উল্লেখ আছে সেখানে বলা হয়, যুদ্ধের সময় মত্ত মহিষাসুর হাতির মায়ারূপ ধরেন।তখন দেবী জগদ্ধাত্রী রূপে চক্রদ্বারা তিনি ছেদন করেন হাতির শুঁড়।
আবার উপনিষদে এবং কাত্যায়নী তন্ত্রে দেবী হৈমবতী রূপে বিরাজ করছেন।বিভিন্ন
পুরানেও শঙ্খ এবং চক্র হাতে দেবী বৈষ্ণবীর যে বর্ণনা পাওয়া যায় তাও মিলে যায় দেবী জগদ্ধাত্রীর সাথে।সব মিলিয়ে বলাই যায় দেবী দূর্গা তথা আদ্যাশক্তির একটি রূপ বিশেষ।
শাস্ত্র মতে দেবী জগদ্ধাত্রীর আরাধনা করুন।
দেবীর কাছের নিজের প্রার্থনা জানান। তিনি
সব কষ্ট দুর করবে।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে। ধারাবাহিক শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক আলোচনা নিয়ে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
জগদ্ধাত্রী পুজো এবং চন্দননগর
জগদ্ধাত্রী পুজো এবং চন্দননগর
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
বর্তমানে সারা বাংলায় জগদ্ধাত্রী পুজোর জনপ্রিয়তা বাড়লেও চন্দন নগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর আলাদা খ্যাতি এবং ইতিহাস আছে। আজও অনেকের কাছেই জগদ্ধাত্রী পুজো মানেই হুগলীর চন্দন নগর।আজ জগদ্ধাত্রী পুজোর সাথে চন্দনগরের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।
একটা মতানুসারে চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন করেন ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী।তিনি ছিলেন ফরাসি সরকারের দেওয়ান। জনশ্রুতি অনুসারে, কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির জগদ্ধাত্রী পুজো দেখে ইন্দ্রনারায়ণ মুগ্ধ হয়েছিলেন তিনি তার ইচ্ছে ছিলো নিজের জমিদারিতে গিয়ে এমন জগদ্ধাত্রী পুজোর আয়োজন করবেন।
কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের ঘনিষ্ঠ ছিলেনএই ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী। তার হাত ধরেই রাজা কৃষ্ণ চন্দ্রের শুরু করা জগদ্ধাত্রী পুজো চন্দননগরে পাকাপাকি স্থান করে নেয় এবং ক্রমেই এই অঞ্চলের প্রধান পুজো এবং উৎসবের রূপ নেয়।
অন্য একটি মত অনুসারে চন্দননগর নয়, ভদ্রেশ্বরে প্রথম জগদ্ধাত্রী পুজোর সূচনা হয়েছিল। আনুমানিক ১৭৬২- সাল নাগাদ মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্রের দেয়ান দাতারামের এক বিধবা মেয়ে তাঁর বাড়িতে জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু করেছিলেন এবং সেটাই সম্ভবত এই জেলার জগদ্ধাত্রী পুজো।
আবার নবাবী আমলে কৃষ্ণনগরের সঙ্গে সেকালের ফরাসডাঙা বা চন্দননগরের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। নদীপথে এই বাণিজ্য চলত। কৃষ্ণনগরের চাল ব্যবসায়ীরা ফরাসডাঙ্গায় আসতেন বাণিজ্য করতে অনেকে মনে করেন সেই ব্যাবসায়ীদের হাত ধরেই হুগলীতে জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু হয়।
শুরু যেভাবেই হোক। আজ চন্দন নগরের জগদ্ধাত্রী পুজো এবং সেই উপলক্ষে আলোক শিল্প গোটা রাজ্যে জনপ্রিয় এবং সমাদৃত।
ফিরে আসবো ধারাবাহিক লেখনী নিয়ে আবার
আগামী পর্বে। থাকবে আরো অনেক তথ্য। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।