Home Blog Page 9

দেবী জগদ্ধাত্রীর পৌরাণিক ব্যাখ্যা

দেবী জগদ্ধাত্রীর পৌরাণিক ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরান মতে মা দুর্গা মর্ত্য থেকে কৈলাসে ফিরে যাওয়ার পর আবার মর্ত্যে ফেরেন দেবী জগদ্ধাত্রী রূপে।কিন্তু এই দেবীর উৎপত্তি ও তার পুজোর কারন নিয়ে একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যাও আছে|

 

শাস্ত্র মতে মা দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করার পর দেবতারা আবার নিজেদের পুরানো গর্বে অভিভূত অবতারে ফিরে যান। নিজেদের ক্ষমতার অহংয়ে তারা আবার অন্ধ হয়ে পড়েন। যেন তাঁরাই দণ্ডমুণ্ডের কর্তা, তাঁরা ছাড়া আর কারও কোনও শক্তিই নেই আর কী!দেবতাদের এই অহংকার দেখে ভারী ক্রুদ্ধ হয়ে যান ব্রহ্মা।

 

তিনি দেবতাদের একে একে ডেকে পাঠান। একটি সামান্য ঘাসকে রেখে তিনি পবনদেবকে বলেন তা নিজ ক্ষমতায় সরিয়ে দেখাতে। পবনদেব হাজারো চেষ্টার পরেও বিফল হন। এরপর বরুনদেবকে ডেকে পাঠানো হয় এবং বলা হয় ঘাসটিকে ভিজিয়ে দেখাতে। তিনিও অসফল হন। তারপরে ডাক পরে অগ্নিদেব, তিনিও ঘাসটিকে জ্বালাতে সক্ষম হন না।এই ভাবে দেবতাদের অহংকার চূর্ণ হয়|

 

প্রত্যেকে অসফল হওয়ার পর নিজরূপে হাজির হন ব্রহ্মা। এবং তিনি দেবতাদের বোঝান যে সবার ওপরে ব্রহ্মাই সত্যি। তাহার ওপর কেহ না। তিনি আরও বলেন, দেবতাই হোক কিংবা মানব অথবা দৈত্য, এই জগতে সবচেয়ে বড় একটি অসুরের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই করতে হবে আর সেটি হল তাঁদের মানসিক অহংয়ের অসুর।করিন্দ্রাসুর আসলে এই অহং বোধের প্রতিফলন|আর এই অসুরকে বধ করতেই পরম ব্রহ্ম যে দেবীর রূপ নেন, তিনিই জগদ্ধাত্রী।

 

আপনাদের সবাইকে আরো একবার জগদ্ধাত্রী পুজোর শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন|দেবী জগদ্ধাত্রী সংক্রান্ত আরো অনেক তথ্য থাকবে পরবর্তী পর্ব গুলিতে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলায় জগদ্ধাত্রী পুজোর ইতিহাস

বাংলায় জগদ্ধাত্রী পুজোর ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দুর্গা পুজো, লক্ষী পুজো এবং সর্বপরি কালী পুজোর পর বঙ্গবাসি জগদ্ধাত্রী রূপে মা আদ্যা শক্তির আরাধনা করে। জগদ্ধাত্রী পুজোর শাস্ত্রীয় এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম।

 

জগদ্ধাত্রী পূজার ইতিহাস বেশ প্রাচীন এবং পৌরানিক দৃষ্টি কোন থেকে বেশ তাৎপর্য পূর্ন তবে আজ বাংলার জগদ্ধাত্রী পুজোর ইতিহাস নিয়ে লিখবো।

 

নদীয়া জেলার সদর কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনা করেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়। কিংবদন্তী অনুসারে নবাব আলীবর্দী তার রাজত্বকালে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রর কাছ থেকে বারো লক্ষ টাকা নজরানা দাবি করেন।টাকা না দেয়ায় নবাব রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে মুর্শিদাবাদ এ নিয়ে যান এবং কিছুদিন বন্দী করে রাখেন।তারপর মুক্তির পর নদীপথে যখন কৃষ্ণনগরে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় নিজের রাজ্যে প্রত্যাবর্তন করেন সেই সময় ঘাটে বিজয়া দশমীর বিসর্জনের বাজনা শুনে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি দুর্গাপূজার সময় অতিক্রম করে এসেছেন। এবছর তিনি দুর্গাপুজো দেখতে পেলেন না, দূর্গা পূজার আয়োজন করতে না পেরে অত্যন্ত দুঃখিত হয়েছিলেন।সেই রাতে দেবী দুর্গা জগদ্ধাত্রী রূপে রাজাকে স্বপ্নে দেখা দেন এবং পরবর্তী শুক্লা নবমী তিথিতে জগদ্ধাত্রী দুর্গার পূজা করার আদেশ দেন সেই মত কৃষ্ণনগরে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনা করেন।

 

প্রথমে রাজ পরিবারের পরবর্তীতে বনেদি বাড়িগুলিতে শুরু হওয়া জগদ্ধাত্রী ধীরে ধীরে বাংলায় বারোয়ারী পুজোর রূপ নেয় এবং বর্তমানে বাংলার বিভিন্ন স্থানে এবং বিশেষ করে হুগলীর চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজো ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

 

জগদ্ধাত্রী পুজো উপলক্ষে আগামী পর্ব গুলিতে দেবী জগদ্ধাত্রী সংক্রান্ত পৌরাণিক ঘটনা এবং শাস্ত্রীয় নানা দিক নিয়ে লিখবো।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণের জন্ম বৃত্তান্ত

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণের জন্ম বৃত্তান্ত

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মে দেবতা অনেক তবে স্বয়ং ভগবান একমাত্র শ্রী কৃষ্ণ। অধর্ম নাশ করতে ধর্ম পুনঃরস্থাপন করতে পৃথিবীতে তার আগমন।

 

ভাদ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মথুরায় জন্ম হয় তাঁর। সেই সময় মথুরার রাজা ছিলেন দেবকীর ভাই কংস। তাঁকে ভবিষ্যবাণী করা হয়েছিল, দেবকী ও বাসুদেবের অষ্টম পুত্র তাঁকে হত্যা করবে।

 

কথিত আছে, কংস তাঁর বোন ও ভগ্নি-পতীকে ভালোবাসতেন। কিন্তু, তাঁদের অষ্টম পুত্র তাঁকে হত্যা করবে, এই ভবিষ্যবাণী শোনার পর তাঁদের সব সন্তানকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন কংস। প্রথম ছয় সন্তানকে হত্যা করতে সক্ষমও হন। সপ্তম সন্তানের হদিশ পাননি কংস। অষ্টম সন্তান, অর্থাৎ কৃষ্ণের জন্মের সময় গোটা রাজ্য ঘুমিয়ে পড়েছিল। বাসুদেব গোপনে সেই সন্তানকে বৃন্দাবনের নন্দ বাবা ও যশোধাকে হস্তান্তরিত করেন।তার পরিবর্তে এক কন্যাসন্তানকে নিয়ে আসনে বাসুদেব ও দেবকী। যাতে তাঁদের অষ্টম সন্তান কৃষ্ণের কোনও খোঁজ না পান কংস। ওই কন্যাসন্তানকে নিয়ে এসে অসুরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু, তিনি যখন তাকে হত্যা করতে উদ্যত হন, সেই সময় ওই কন্যাসন্তান দেবী দুর্গায় রূপ ধারণ করেন। তিনি কংসকে সব কুকর্মের জন্য সতর্ক করে দেন।এদিকে বৃন্দাবনে বেড়ে ওঠেন কৃষ্ণ। সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর কোনও ধারণা ছিল না। যখন আরও বড় হয়ে ওঠেন, গোটা বিষয়টি তিনি শোনেন। তার পর সোজা মথুরা চলে আসেন। এখানে এসে কংসকে হত্যা করেন। দেখা হয় মা বাবা দেবকী ও বাসুদেবের সঙ্গে।পরবর্তীতে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে তার ভূমিকা ও দ্বারকায় জীবনের শেষ অধ্যায় নিয়ে শাস্ত্রে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আছে। আছে দ্বারকা নগরীর দিব্য উপস্থিতি।

 

দামোদর মাস উপলক্ষে শ্রী কৃষ্ণ সংক্রান্ত নানা ঘটনা এবং ব্যাখ্যা আপনাদের সামনে তুলে ধরেছি আগামী দিনেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ছট পুজোর শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন 

ছট পুজোর শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ ছট পুজো। ছট পুজো বা ছট উৎসব সনাতনী দের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক শাস্ত্রীয় উৎসব।আজ ছট পুজো নিয়ে কিছু আধ্যাত্মিক কথাবার্তা এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাচার আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো।

 

কার্তিক শুক্লা চতুর্থী থেকে কার্তিক সপ্তমী পর্যন্ত চারদিন ধরে চলে ছটপুজো।ধন, বৈভব, যশের কামনা করে থাকলে ছট পুজোর দিন প্রত্যক্ষ দেবতা সূর্যের সাধনা করতে ভুলবেন না। এদিন, বিধি অনুযায়ী পুজো ও উপোস করলে সমস্ত বাধা দূর হয় ও সরকারি চাকরি ও ব্যবসায় সাফল্য হাতে আসে।

 

আজকের দিনে স্নান করে সূর্যকে জলের অর্ঘ্য দেওয়া উচিত। রোজ এই অর্ঘ্য দেওয়া যেতে পারে। ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা অনুযায়ী, নিয়মিত জলের অর্ঘ্য দিলে সূর্য দেব খুশি হন।

 

ছট পুজোর দিন সূর্য্য প্রনাম, গঙ্গা স্নান এবং ফুল ফল সহযোগে নানা বিধ মিষ্টান্ন সূর্য্য দেবকে অর্ঘ্য রূপে নিবেদন করতে পারেন।

 

সূর্যকে প্রসন্ন করার জন্য ছট পুজোর দিন গুড় দান করা উচিত। এদিন দান করার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ব্যক্তি নিজের ইচ্ছানুযায়ী দান করতে পারেন।

 

আপনাদের সবাইকে জানাই ছট পুজোর শুভেচ্ছা। ফিরে আসবো কৃষ্ণ কথা নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

কৃষ্ণ কথা – গীতা মাহাত্ম 

কৃষ্ণ কথা – গীতা মাহাত্ম

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রী কৃষ্ণ রূপে ভগবান বিশ্বকে যে অমূল্য জ্ঞান প্রদান করেছিলেন তার সমস্তটাই সমাহিত আছে গীতায়। এই দামোদর মাসে গীতা শ্রবণ বা গীতা পাঠের বিশেষ মাহাত্ম আছে।

 

গীতা কোনো ধর্মীয় পুস্তক নয়, গীতা আধ্যাত্মিক জ্ঞানের ভান্ডার এবং পৃথিবীর শ্রেষ্ট মোটিভেশনাল বুক যা মানব সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসতে পারে।

 

গীতা কি? এক কথায় এর উত্তর কুরুক্ষেত্র ময়দানে অর্জুনকে ভগবান কৃষ্ণ প্রদত্ত জ্ঞান|গীতায় ভগবান কৃষ্ণ প্রায় ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এই জ্ঞান দিয়েছিলেন তিনি।গীতায় মোট 18 টি অধ্যায় ও 700 শ্লোক আছে যার মধ্যে কৃষ্ণ ৫৭৪, অর্জুন ৮৫, সঞ্জয় ৪০ ও ধৃতরাষ্ট্র ১টি শ্লোক বলেছিলেন।

প্রতিটি শ্লোক এবং অধ্যায়ের রয়েছে বিশেষ তাৎপর্য।

 

পৃথিবীর সমস্ত আধ্যাত্মিক গ্রন্থের মধ্যে শ্রীমদ্ভগবত গীতাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। এতে জীবনের সার নিহিত রয়েছে। আবার দ্বাপর যুগে কৃষ্ণের সমস্ত লীলার বর্ণনাও পাওয়া যায় গীতায়। অর্জুন ও কৃষ্ণ সম্বাদ গীতায় স্থান পেয়েছে। গীতায় জ্ঞানযোগ, কর্মযোগ, ভক্তিযোগ, রাজযোগ, একেশ্বরবাদ ইত্যাদির আলোচনা করা হয়েছে। ব্যক্তিকে কর্মের গুরুত্ব বোঝায় গীতা। এমনকি শ্রেষ্ঠ মানব জীবনের সার রয়েছে এই গীতার মধ্যে। ও জীবনের সঙ্গে জড়িত প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর এবং সমস্যার সমাধান পাওয়া যেতে পারে|

 

পবিত্র দামোদর মাসে গীতাকে জানুন। ভগবানেকে জানা সহজ হবে। পরম আধ্যাত্মিক প্রাপ্তি হবে।

 

ফিরে আসবো কৃষ্ণ কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণের বিবাহ

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণের বিবাহ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দামোদর মাস উপলক্ষে শুরু করছি কৃষ্ণ কথা।

আজকের পর্বে শ্রী কৃষ্ণের প্রেম এবং

বিবাহ প্রসঙ্গে আলোচনা করবো।

 

শ্রী কৃষ্ণের যে ষোলো হাজার গোপিনীর কথা বলা হয় তারা আসলে নরকাসুরের বন্দিনী। নরকাসুরকে বধ করে শ্রী কৃষ্ণ তাদের উদ্ধার করেন এবং সামাজিক মর্যাদা দিতে তাদের বিবাহ করেন।

 

আবার অন্যদিকে রুক্মিণী ছিলেন বিদর্ভরাজ ভীষ্মকের কন্যা।রুক্মিণীকে লক্ষ্মীর অবতার হিসেবে গণ্য করা হয় এবং তিনি শ্রীকৃষ্ণের প্রধান মহিষী ছিলেন।

 

শ্রী কৃষ্ণের প্রেম লীলা নিয়ে এবং শ্রী রাধার সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে যতটা আলোচনা হয় তাদের বিবাহ নিয়ে ততটা আলোচনা হয়না কারণ অনেকই মনে করেন বিষয়টি বিতর্কিত এবং শাস্ত্রে নানা রকম যুক্তি এবং ব্যাখ্যা আছে।

 

যারা মনে করেন কৃষ্ণ রাধাকে বিবাহ করেননি তাদের মত শ্রী কৃষ্ণ এবং রাধা এক এবং অভিন্ন একই শক্তির দুই রূপ তাই তাদের বিবাহর প্রয়োজন নেই। তবে শাস্ত্রে রাধা কৃষ্ণর বিবাহের কথা আছে। সে বিষয়ে পরে আসছি আগে রাধার সাথে আয়ান ঘোষের বিবাহ নিয়ে বলা প্রয়োজন।

 

আয়ানের আসল নাম অভিমন্যু। গোকুলের বাসিন্দা আয়ান পেশায় ছিলেন দুধের ব্যবসায়ী। সম্পর্কে কৃষ্ণের পালিকা মা যশোদার তুতো ভাই ছিলেন আয়ান। তাঁর সঙ্গে রাধার বিয়ের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন কৃষ্ণের পালক পিতা নন্দ। কালী-ভক্ত আয়ান পুজো-অর্চনা নিয়েই থাকতেন। অন্য কোনও বিষয়ে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল না।

তাই বিবাহ হলেও রাধা এবং আয়ান ঘোষের মধ্যে দাম্পত্য জীবন সেই ভাবে গড়ে ওঠেনি।

 

শ্রী রাধা এবং কৃষ্ণের প্রেম পবিত্র এবং তা পূর্ব নির্ধারিত কারণ কৃষ্ণ আসলে নারায়ণের একটি রূপ এবং রাধা লক্ষ্মীর রূপ। রাধা-কৃষ্ণের প্রেম যুগ যুগ ধরে চলে আসছে রাধা-রূপী লক্ষ্মী কৃষ্ণের সঙ্গীনি হতেই মর্ত্যে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

 

আবার শাস্ত্রে এও আছে যে ছোটবেলায় খেলার ছলে রাধা কৃষ্ণের বিবাহ সম্পন্ন হয় এবং সেই বিয়ের আচার সম্পূর্ণ করেন স্বয়ং ব্রহ্মা।

বিয়ের সাক্ষী ছিলেন সব দেবতাগণ। কৃষ্ণের সঙ্গে আগেই বিয়ে হয়ে যাওয়ায় আয়ানের সঙ্গে রাধার বিয়ে বৈধ নয় এবং রাধা কৃষ্ণের সম্পর্ক বিবাহ বহির্ভূত নয়। শাস্ত্র সম্মত।

 

ফিরে আসবো কৃষ্ণ কথা নিয়ে আগামী পর্বে।

শ্রী কৃষ্ণ কে নিয়ে আরো অনেক আলোচনা

বাকি আছে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দামোদর মাসের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

দামোদর মাসের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মে কার্তিক মাস বিষ্ণুর মাস। এই মাস দামোদর মাস রূপে গোটা বিশ্বের সনাতনীরা খুবই নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করেন।আজ আপনাদের দামোদর মাসের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য শোনাবো।

 

শাস্ত্রে বলা হয় কৃষ্ণ যা পছন্দ করতেন তা যদি এই মাসে করা হয় তাহলে খুব ভালো ফল পাওয়া যায়।|দামোদর মাসেই ভীষ্মপঞ্চক ব্রতের কথা বলা হয়। গড়ুরপুরাণে এই ব্রতের কথা বলা হয়েছে। একাদশীর থেকে শুরু হয় এই ব্রতের। তবে কার্তিক মাসের শেষ পাঁচদিন এই ব্রত পালন করলেই হবে।

 

ভীষ্ম যখন শরশয্যায় ছিলেন, তখন তিনি বাসুদেবের কাছে প্রার্থনা করে এই ব্রত পালন করেছিলেন এবং শরশয্যাতেই রাজধর্ম, মোক্ষধর্ম, দানধর্ম ও কীর্তন করেন। পান্ডবরা তখন ভীষ্মের এই কীর্তন শুনেছিল। এমনকী শ্রীকৃষ্ণও তা শুনেছিলেন।আর ভীষ্মের সেই কীর্তন শুনে কৃষ্ণ মনে মনে বলেছিলেন, ‘হে ভীষ্ম, তুমিই ধন্য; কেননা, তুমি আজ আমাদের শ্রেষ্ঠ ধর্ম শ্রবণ করিয়েছো‘।

 

শাস্ত্র মতে কার্তিক মাসে এই ব্রত পালন করলে সব মনবাঞ্ছা পূরণ হয়। যার যেটুকু সাধ্য রয়েছে, সেই মতো আরাধনা করলেই কৃষ্ণ খুশি হন।যাদের বাড়িতে গোপাল রয়েছে তাঁরা একদিন গোপালের প্রিয় পদ রান্না করে নিবেদন করুন। যাঁদের আর্থিক সামর্থ রয়েছে তাঁরা যদি কাউকে নতুন বস্ত্রদান করতে পারেন, তাহলেও মনবাঞ্ছা পূরণ হয়। মন খুলে পুজো করুন। সেই সঙ্গে সবার জন্য কিছু না কিছু ভালো করার চেষ্টা করুন। পাঁচদিন ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালানোর কথা বলা হয়েছে। সম্ভব হলে প্রতিদিন একটি করে পদ্ম কৃষ্ণকে নিবেদন করুন।এই কার্তিক মাসে যে কারণে মন্দিরে কিংবা তুলসী তলায় সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালার কথা হয়। এছাড়াও বলা হয় এই মাসে সাত্ত্বিক আহার করতে হয়।

শিম, কলমী শাক, বরবটি, বেগুন, পটল ইত্যাদি বর্জন করতে পারলে ভালো।

 

এই মাসে বাড়িতে কৃষ্ণ, গোপাল বা বিষ্ণুর আরাধনা করুন। ফল, মিষ্টি আর নারকেল নাড়ু দিয়ে কৃষ্ণের পুজো দিন। যে কোনও একদিন সিন্নি প্রসাদও দিতে পারেন।বহু স্থানে কার্তিক মাসের সংক্রান্তিতে হয় গরুর বিশেষ পুজো। বলা হয় এদিন শ্রীকৃষ্ণ নিজে গোয়াল ঘর দেখতে আসেন। যে কারণে এদিন গোয়াল ঘর পরিস্কার করে গোরুর পুজো করা হয়। নিবেদন করা হয় কৃষ্ণের প্রিয় খাবার|এই মাসে নগরকীর্তনের চল এখনও রয়েছে গ্রাম বাংলায়। শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলার গান গাইতে গাইতে কার্তিক মাসে সকলকে ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন বৈষ্ণব ভক্তরা । এরপর তাঁরা সারা গ্রাম পরিক্রমা করতেন। সেই গানের মধ্যে দিয়েই বর্ণিত হত কৃষ্ণ মাহাত্ম্য। সব দিক দিয়ে তাৎপর্য পূর্ন ও গুরুত্বপূর্ণ দামোদর মাস

 

দামোদর মাসে শ্রী কৃষ্ণর মহিমা বর্ণন এবং শ্রবনের যথেষ্ট গুরুত্ব আছে। তাই এই মাসের বাকি কয়েকটি দিন কৃষ্ণ কথা নিয়ে লিখবো। ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভাইফোঁটার শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক ব্যাখ্যা

ভাইফোঁটার শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ ভাই ফোঁটা।আজ আপনাদের জানাবো ভাই ফোঁটার পৌরাণিক ব্যাখ্যা এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।

 

ভাই ফোঁটা সংক্রান্ত একটি পৌরাণিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় ভাইফোঁটা নিয়ে যেখানে বর্ণনা আছে আজকের তিথিতে যমরাজ গিয়েছিলেন বোন যমুনার সঙ্গে দেখা করতে । যমুনা কপালে তিলক পরিয়ে তার অগ্রজকে বরণ করে নিয়েছিলেন দিনে এবং তার মঙ্গল কামনা করেছিলেন।সেই থেকে সহোদরের মঙ্গলকামনায় পালিত হয়ে আসছে ভ্রাতৃদ্বিতীয়া।

 

আবার পুরান অনুসারে ধনত্রয়োদশীর পরের দিন চতুর্দশী তিথিতে নরকাসুরকে বধ করলেন কৃষ্ণ। তার পর প্রাগজ্যোতিষপুর থেকে দ্বারকায় ফিরে এলেন এই দ্বিতীয়া তিথিতে। কৃষ্ণকে দেখে তার বোন সুভদ্রার উচ্ছ্বাস বাধা মানল না। তিনি বরাবরই কৃষ্ণের আদরের বোন। এই কয়েকদিন তিনি দাদাকে দেখতে পাননি। তার উপর আবার খবর পেয়েছেন সুভদ্রা যে নরকাসুরের অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন কৃষ্ণ। সেই থেকেই তিনি ভাইয়ের সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত এবং উদ্বিগ্ন।দ্বারকা পৌঁছতেই কৃষ্ণকে তিনি বসালেন আসনে। তাঁর কপালে পরিয়ে দিলেন বিজয়তিলক এবং নানাবিধ মিষ্টান্ন দিয়ে তাকে আপ্যায়ন করলেন। সেই প্রথাই স্বীকৃত হল ভ্রাতৃদ্বিতীয়া বা ভাইফোঁটা নামে।

 

পৌরাণিক বা শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা যাই হোক। ভাই ফোঁটার আসল উদ্দেশ্য বোন বা দিদি কতৃক ভাইয়ের মঙ্গল কামনা।

 

আজ প্রত্যেক বোনই তার ভাইয়ের কল্যানে তার কপালে তিলক পড়িয়ে দেন, মিষ্টি মুখ করান, এবং প্রার্থনা করেন যেনো তার ভাইয়ের থেকে দুরে থাকে সব বিপদ|প্রত্যেক বোন ও তার ভাইয়ের সম্পর্ক যেনো সুদৃঢ় হয় এই কামনাই করি। সবাইকে জানাই ভাতৃদ্বিতীয়ার অনেক শুভেচ্ছা|

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে দামোদর মাস নিয়ে বিশেষ ধারাবাহিক আলোচনায়।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

গোবর্ধন পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য 

গোবর্ধন পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চলছে পবিত্র দামোদর মাস। আজ গোবর্ধন পুজো। আমার গৃহ মন্দিরেও শাস্ত্র মতে গোবর্ধন পুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।আসুন আজ জেনে নিই এই উৎসবের এবং গিরিরাজ গোবর্ধনের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য

 

শ্রী কৃষ্ণের শৈশবের সাথে জড়িয়ে আছে গিরিরাজ গোবর্ধন পর্বতের কথা যে পর্বত আজও প্রতিটি কৃষ্ণ ভক্তের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। বৃন্দাবনের দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে এটি একটি।

 

পুরাণের কাহিনিতে মতে ভালো বৃষ্টি হয়ে যাতে ফলন ভালো হয়, তার জন্য দেবরাজ ইন্দ্রের পুজো করতেন বৃন্দাবনবাসী।কারন গবাদী পশু পালন এবং কৃষি কাজের জন্য জলের উপর নির্ভর করতে হতো।

 

কিন্তু ইন্দ্রের আরাধনায় গরীব বৃন্দাবনবাসীর বিপুল খরচ হতো। এই বিপুল ব্যয় পছন্দ করেননি শ্রীকৃষ্ণ। তাই তিনি সেই খাবার ইন্দ্রকে না দিয়ে ছোট ছেলেমেয়েদের খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। শ্রীকৃষ্ণের কথা মেনে বৃন্দাবনের অধিবাসীরা ইন্দ্রের পুজো না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন দেবরাজ তিনি প্রচণ্ড রেগে গিয়ে বৃন্দাবনে প্রবল বৃষ্টি নামান।ভারী দুর্যোগ দেখা দেয়।

 

দেবরাজ ইন্দ্রের রোষে বন্যা গোটা বৃন্দাবন প্রায় ভেসে যায়। কৃষ্ণের কারণেই তাঁদের এই বিপদ বলে অভিযোগ করেন বৃন্দাবনবাসী। তারা কৃষ্ণকে সাহায্য করতে বলেন।তখন তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন কিশোর শ্রীকৃষ্ণ। নিজের কনিষ্ঠ আঙুলের ডগায় বৃন্দাবনের গোবর্ধন পর্বত অনায়াসে তুলে ফেলেন শ্রীকৃষ্ণ।

 

প্রবল বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে তার নীচে আশ্রয় নেয় বৃন্দাবনের সকল মানুষ ও গবাদি পশু। টানা সাত দিন শ্রী কৃষ্ণ আঙুলের ডগায় গোবর্ধন পাহাড় তুলে অটল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।তার এই দিব্য লীলা দেখে বৃন্দাবনবাসীরা ধন্য হয়।

 

অবশেষে দেবরাজ ইন্দ্র নিজের ভুল বুঝতে পেরে সেই প্রবল বৃষ্টি বন্ধ করেন।রক্ষা পায় বৃন্দাবন।আজকের তিথিতে শ্রী কৃষ্ণ গোবর্ধনকে নিজ আঙ্গুলে ধারণ করেন।তাই আজ পালন হয় গোবর্ধন পুজো।

 

সবাইকে গোবর্ধন পুজোর শুভেচ্ছা জানাই।

ফিরে আসবো দামোদর মাস উপলক্ষে শ্রী কৃষ্ণকে নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনায়

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – কৃষ্ণ কালীর পুজো

কালী কথা – কৃষ্ণ কালীর পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

দীপান্বিতা অমাবস্যায় আমার গৃহ মন্দিরে প্রথা মেনে শ্রী কৃষ্ণকে কালী রূপে সাজিয়ে
পুজো হয়েছে।এই রূপের বিশেষ মাহাত্ম এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা আছে।আজ শ্রী কৃষ্ণের এমন এক লীলার কথা আপনাদের বলবো যেখানে শ্রী কৃষ্ণ স্বয়ং দেবী কালীর রূপ ধরে ছিলেন।

বৃন্দাবনের কুঞ্জবনে কৃষ্ণের বাঁশি শুনে ঘর ছেড়ে রোজ বেরিয়ে যান রাধা। নীরবে ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে মিলিত হন কৃষ্ণের সঙ্গে। কেউ কিছু জিগেস করলে বলতেন তিনি কালিন্দী নদীর ধরে শ্যামা মায়ের পুজো করতে যান। প্রসঙ্গত বলে রাখি এই শ্যামা মা অর্থাৎ দেবী কালী রাধার স্বামী আয়ানের পরিবারের ইষ্ট দেবী। তাই তারাও বিষয়টি সহজ ভাবে মেনে নেন।

কিন্তু একদিন রাধার দুই সহচরি জটিলা কুটিলা
আসল কথাটা তুলে দিল রাধার স্বামী আয়ানের কানে। ক্রুদ্ধ আয়ান রাধাকে হাতেনাতে ধরতে চাইলেন। তিনি তক্কে তক্কে থাকলেন সেদিন রাধা বেরোলেই তিনি তাঁর পিছু নেবেন। হলো ও তাই।

কিন্তু ভগবান কৃষ্ণ সর্ব জ্ঞানী। তার কাছে আয়ানের এই আগমন বার্তা গোপন রইল না। তিনি সেদিন রাধা আসতেই তাঁকে বললেন, যা বলছি করো, তুমি দ্রুত আমাকে লতাপাতা ফুল-ফল দিয়ে সাজিয়ে দাও। আর আমার পায়ের কাছে ভক্তের মতো বিনীত ভাবে বসে থাকো।

আশ্চর্য হলেও রাধা প্রশ্ন না করে কৃষ্ণর কথা মতো দ্রুত সবটা করলেন।তারপর চোখের পলকে শ্যাম পরিবর্তিত হলেন শ্যামায়।তার নিজের দ্বিভুজ দেহ একেবারে চতুর্ভুজ রূপ হয়ে গেল। তার উন্মুক্ত কেশ রাশি দুলতে আরম্ভ করলো । তাঁর গলায় থাকা পদ্মের মালা খানি নৃমুণ্ড মালার রূপ নিলো।বাঁশি হল অসি এবং কপালের তিলক চন্দ্র রূপে শোভা পাচ্ছিলো।তিনি কৃষ্ণ থেকে কালীতে সম্পূর্ণ ভাবে রূপান্তরিত হয়েছেন।

আয়ান এসে দেখলেন ঘন বনের মধ্যে এসে তাঁর বউ রাধা তাঁরই ইষ্টের আরাধনা করছেন! তাঁর মনটা আনন্দে ভরে গেল। তিনি রাধার আচরণে খুশিই হলেন এবং নিজের ইষ্ট দেবী শ্যামাকে দর্শন
করে ধন্য হলেন।সেই দিনের এই রুপই
শাস্ত্রে উল্লেখিত কৃষ্ণ কালী রুপ।

সনাতন ধর্মে বৈষ্ণব এবং শাক্ত দুই দর্শনের মধ্যে বিরোধ বহু প্রাচীন কাল থেকে চলে আসছে।
বৈষ্ণবরা একমাত্র কৃষ্ণের উপাসনায় বিশ্বাস করেন
অন্য দিকে শাক্তরা কালী সাধনা বা শক্তি সাধনা নিয়ে থাকেন।এই বিশেষ কালী রূপ বৈষ্ণব এবং শাক্ত দর্শনের অপূর্ব সমম্মিলিত রূপ।এই কৃষ্ণ কালী রূপ প্রমান করে দেয় যে যিনি কৃষ্ণ তিনিই কালী ভক্তের কাছে তিনি ভক্তের সাধনা অনুযায়ী ধরা দেন মাত্র।

সবাইকে জানাই দীপাবলীর শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। আজ এই পর্ব এখানেই শেষ করছি। আবার ফিরে আসবো পরবর্তী পর্ব নিয়ে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।