Home Blog Page 9

শক্তি পীঠ – দেবী শিবানী

শক্তি পীঠ – দেবী শিবানী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

মধ্যপ্রদেশের নাগ পুরের কাছে রামগিরিতে চিত্রকুট পর্বতে অবস্থিত শক্তি পীঠ শিবানী।
আজকের শক্তি পীঠ পর্বে শিবানী নিয়ে লিখবো।

ভরতচন্দ্রের অন্নদা মঙ্গল, বাল্মীকি রামায়ণ,কালীকা পুরানে সহ একাধিক প্রাচীন
গ্রন্থে এই শক্তি পিঠের উল্লেখ আছে।

পুরান অনুসারে এই স্থানে সতীর ডান বক্ষ পড়েছিল।আবার মতান্তরে এই স্থানে পড়েছিলো দেবীর জানু দেশ।এখানে অধিষ্ঠিত দেবীর নাম শিবানী এবং ভৈরব হলেন চন্ড।

রামায়কের কালে রাম, সীতা এবং লক্ষণ যখন তাদের চোদ্দ বছরের বনবাস কাটাচ্ছিলেন, তার মধ্যে সাড়ে এগারো বছর সময় অতিবাহিত করে ফেলেছিলেন এই শক্তি পীঠ সংলগ্ন চিত্রকূট পাহাড়ে।

আবার মহাভারতের সময়ে শ্রীকৃষ্ণের নির্দেশে অর্জুন রামগিরি পর্বতে এসে সাধনা করেছিলেন এবং দেবী যোগ মায়া তাকে দেখা দিয়ে নিজের দিব্য শীলরূপটি কোথায় আছে তার নির্দেশ দেন। তারপর অর্জুন নিজে মাটি খুঁড়ে মাতা শিবানীকে শীলা রূপে উদ্ধার করে এই স্থানে মন্দির বানিয়ে স্থাপন করেন এবং তার অনুপস্থিতি তে স্থানীয় ফুলবাহক দের দেবীর নিত্য পুজোর আদেশ দেন।

এক সময় এই প্রাচীন মন্দির কালের নিয়মে
ধ্বংস হলে রাজা দ্বিতীয় রঘুজি ভোসলে নতুন ভাবে দেবী শিবানীর মন্দির বানিয়ে দেন।

বর্তমানে সাদা পাথরের তৈরি এই মন্দিরে দেবী শিবানীর শীলা রূপ টি কষ্টি পাথর এবং রুপো দিয়ে ঢাকা তার পাশাপাশি বহু দেবদেবীর মূর্তি খোদাই করা আছে। অনেকগুলি সিঁড়ি পেরিয়ে তারপরে একেবারে মন্দিরের প্রধান ফটকে উঠে আসতে হয়। তারপর এই মন্দিরের মূল অংশ শুরু হয়।
যাত্রাপথ বেশ দুর্গম এবং কষ্টসাধ্য।

অশ্বিন ও চৈত্র মাসের একটি বিশেষ সময়ে এখানে বিশেষ পুজো হয় এবং সেই সময়ে মায়ের প্রকৃত রূপ ভক্তরা দেখতে পান।

আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে।সাথে নিয়ে অন্য এক শক্তি পীঠের কথা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

মা সারদার জন্মতিথিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

মা সারদার জন্মতিথিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের দিনটি রামকৃষ্ণ ও মা সারদার অনুরাগী দের কাছে একটি স্মরণীয় দিন, আজ দেবী সারদার তিথি|আজ মা সারদার ব্যাক্তিত্বের একটি বিশেষ দিক আলোচনা করে তাকে শ্রদ্ধা জানাবো,তার দিব্য চরনে আমার প্রনাম নিবেদন করবো।

 

একবার মা তার ভক্ত আমজাদকে নিজের হাতে খেতে দিয়েছিলেন, এমনকী খাওয়া শেষে এঁটো থালা পরিষ্কার করতেও তাঁর কোনও দ্বিধা ছিল না। আমজাদের পরিচয় সম্পর্কে মাকে মনে করিয়ে দেওয়ায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমার শরৎ যেমন ছেলে, ওই আমজাদও তেমন ছেলে’, এখানে শরৎ, অর্থাৎ পরবর্তী কালে স্বামী সারদানন্দ মহারাজ।এই সামান্য ঘটনাটির তাৎপর্য মোটেও সাধারণ নয়। আজকের এই জটিল আর্থ-সামাজিক দুনিয়ায়, যেখানে অসহিষ্ণুতার একটা বিষময় বাতাবরণ, সেখানে মা সারদার এই সহজ অভিব্যক্তিটা খুব বেশি প্রাসঙ্গিক বলে মনে করি। আজও আমরা সর্বস্তরে জাতপাতের সীমানা লঙ্ঘন করতে পারছি না। আমরা সবাই এক এবং অভিন্ন, এই শাশ্বত বোধ আমাদের সবার মধ্যে আসছে না|কিন্তু পথ দেখাতে পারেন মা সারদা ও তার ত্যাগ এবং আদর্শ যিনি সেই যুগে দাঁড়িয়ে প্রকৃত সমাজসেবী হিসেবে এক বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দিয়েছিলেন, ভেঙে দিতে চেয়েছিলেন, ‘আমরা ওরা’র বন্ধন।মা সারদা প্রকৃত অর্থেই হয়ে উঠেছিলেন সৎ এর ও মা আবার অসৎ এর ও মা|

তার কাছে নরেন ও যা রঘু ডাকাত ও তাই|

 

প্রতিটি মানুষকে নিজের মধ্যে দেবতাজ্ঞানে গ্রহণ করতেন। সাড়া দিয়েছেন সবার ডাকে, এমনকী পশুপাখিদেরও সন্তানস্নেহে আপ্লুত করেছেন। তার অলৌকিক সত্ত্বা ভক্তদের থেকে আড়ালে থাকতো।

 

এক বার এক সহজ সরল ভক্ত নিজেকে সংযত করে রাখতে না পেরে মাকে সরাসরি প্রশ্ন করলেন, মা, আপনি কি সাক্ষাৎ মা কালী? সারদা দেবী মৃদু হেসে বলেছিলেন – ওই, লোকে বলে কালী’!

 

ভক্তদের কাছে মা সারদা ছিলেন সাক্ষাৎ জগৎজননী। ঠাকুর রামকৃষ্ণর যদি অবতার হন তাহলে মা সারদা ছিলেন ভগবানের লীলা সঙ্গিনী।

 

আজ জন্মতিথিতে বিশ্ব জননী, সংঘ জননী মা সারদার চরনে আমার শত কোটি প্রনাম এবং শ্রদ্ধাঞ্জলি।জয় মা সারদা।

শক্তি পীঠ – দেবী বহুলা 

শক্তি পীঠ – দেবী বহুলা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ আপনাদের একটি রহস্যময় শক্তি পীঠের কথা বলবো যা বাহুলা বা বহুলা নামে পরিচিত।

পীঠনির্ণয় তন্ত্রে এবং শিবচরিত গ্ৰন্থে এই পীঠের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পীঠনির্ণয়তন্ত্র অনুসারে কেতুগ্রামে ভগবান বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র দ্বারা খণ্ডিত খন্ডিত সতীর বাম বাহু পতিত হয়।সেই স্থানে দেবী বহুলা মন্দিরটি গড়ে ওঠে।কেতুগ্ৰামের ভিতরে অজয় নদীর তীরে অবস্থিত মায়ের ধামটি।এই পীঠে দেবীর ভৈরবের নাম ভীরুক বা ভূতনাথ।

 

রায়গুণাকর কবি  ভারতচন্দ্র রায় অন্নদামঙ্গল কাব্যে লিখেছেন:

 

–“বহুলায় বামবাহু ফেলিল কেশব।বহুলা চন্ডিকা তায় ভীরুক ভৈরব।”

 

এককালে দেবী বহুলার নামেই ছিলো এই এলাকার নাম। পরে রাজা চন্দ্রকেতুর নাম অনুসারে হয় কেতুগ্রাম।

 

দেবী বহুলা চন্ডীরর এক রূপ এবং তিনি এই গ্রামের আরাধ্যা দেবী।এই কেতুগ্ৰামে অজয় নদের তীরে দেবীর প্রথম মন্দির কবে তৈরী হয় এবং কে তৈরী করেন তার কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায়না তবে আধুনিক সময়ে নতুন করে দেবীমন্দির ও নাট মন্দির সংস্কার করা হয়েছে। নতুন মন্দিরে আছে কষ্টিপাথরে নির্মিত দেবী বহুলার প্রাচীন মূর্তিটি। এখানে দেবীর ডানপাশে অষ্টভুজ গনেশ। সম্ভবতঃ রাজা চন্দ্রকেতুই কার্তিক এবং গণেশসহ দেবীর পাথর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

এই অষ্টভুজ গণেশ মূর্তি সারা ভারতে মোট চারটি মন্দিরে রয়েছে।দেবীর অন্য দিকে রয়েছেন তাঁর পুত্র কার্তিক। প্রতিদিন মাকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয়।দেবীর মন্দিরের ঠিক পাশে রয়েছে একটি পুকুর। বহু ভক্তের বিশ্বাস, এই পুকুরে স্নান করলে পুন্য লাভ হয় এবং মনের বাসনা পূর্ণ হয়।

 

বহুলা কে বলা হয় যুগ্ম পীঠ কারন প্রায় পাশাপাশি রয়েছে আরো একটি শক্তি পীঠ। শাস্ত্র মতে এখানে দেবীর ডান কনুই পড়েছিল। এই স্থানটির অপর নাম রণখণ্ড। দেবীর নাম বহুলাক্ষী। এবং দেবীর ভৈরব হলেন মহাকাল শিব।

 

এই পীঠ সম্পর্কে বহু অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় অনেকের মতে এখানে নাকি রাত দুপুরে দেবীর নূপুরের শব্দ শোনা যায়। বহু তন্ত্রসাধকদের আগমন ঘটে এই সতীপীঠে। মূর্তি ছাড়াই মা’কে পুজো করা হয় কালিকা পুরাণে রচিত দেবীর বীজমন্ত্র সহ। বহু বছর ধরে এই যুগ্ম পীঠে আদ্যা শক্তি মহামায়া মা কালী এবং মা দুর্গা রূপেই পূজিতা হয়ে আসছেন।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে।অন্য একটি

শক্তি পীঠের কথা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তি পীঠ – প্রয়াগ 

  • শক্তি পীঠ – প্রয়াগ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রয়াগে গঙ্গা, যমুনা এবং সরস্বতী নদীর মিলন স্থলে অবস্থিত শক্তিপীঠ প্রয়াগ শক্তিপীঠ নামেই বিখ্যাত।সারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত একান্ন

পীঠের অন্যতম শক্তি এটি।

 

পুরান অনুসারে এখানে সতীর হাতের দশটি আঙুল পতিত হয়েছিল। এখানে অধিষ্ঠিত দেবীকে অলোপি মাতা বা ললিতা রূপে পুজো করা হয়।

অলোপী কথার অর্থ হল লুপ্ত না হওয়া।সতীর দেহ যখন বিষ্ণুর সুদর্শন চক্রের আঘাতে খন্ড-বিখন্ড হয়ে যাওয়ার পরেও দেবীর অস্তিত্ব রক্ষিত ছিল তার দেহ খণ্ড গুলির মধ্যেই। তাই লুপ্ত হয়ে লোপ না পাওয়ায় দেবীর নাম হয় অলোপি।

দেবীর ভৈরব হলেন ভব যিনি অনেকের কাছে বেনীমাধব।

 

পুরান মতে সত্য যুগে ভন্ডাসুর নামে এক অসুর শিবের বর পেয়ে দেবতাদের হেনস্থা করতে শুরু করে।স্বর্গ অধিকার করে নেয়ার উপক্রম দেখা দিলে ইন্দ্র এবং আরও অন্যান্য দেবতারা যজ্ঞের মাধ্যমে মহাশক্তির জাগরণ ঘটান।তখনই যজ্ঞের আগুন থেকে রক্ত বস্ত্র পরিহিতা চতুর্ভূজা দেবী ললিতার আবির্ভাব ঘটে। ভন্ডাসুর এর সঙ্গে যুদ্ধ করে সর্বলোক পুনরায় অসুর মুক্ত করে দেন।

দেবীর সেই ললিতা রূপেই এই শক্তিপীঠে

পূজিতা হন।

 

প্রাচীনকালে এই ত্রিবেণী সঙ্গম অঞ্চল ঘন বন জঙ্গলে ঢাকা ছিল, আর সেই সব ঘন জঙ্গলে থাকতো দুর্ধর্ষ সব ডাকাত। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে যখনই কোন বিবাহ যাত্রীর দল যেত, ডাকাতরা তাদেরকে আটক করে সর্বস্ব লুট করে নিত।

সেই সময়ে দেবী ললিতা রূপে এই অঞ্চলের রক্ষাকত্রী রূপে দেখা দেন।

 

প্রয়াগ শক্তিপীঠে মূলত তিনটি মন্দির আছে, অক্ষয়বট, মীরাপুর এবং অলোপি।

এই মন্দিরের বিশেষত্ব হলো এখানে একটি পালকিকে দেবী রূপে পূজা করা হয়।তার একটি কারন হলো দেবী পালকিতে করে নববধূ রূপে এখানে আবীরভূতা হয়েছিলেন বলে মনে করা হয়।

 

যদিও পালকির পাশাপাশি দেবীর নব দুর্গা রূপের পুজোও হয় দেবীর বেদির নিচে একটি গর্ত তে জল আছে। মনে করা হয় যে, এই জল আসলে স্বয়ং মা গঙ্গার। অক্ষয় বটের নিচে দেবীর

ভৈরবের মন্দির রয়েছে।

 

প্রয়াগ এই জায়গাটি সাধারণভাবে কুম্ভ মেলার জন্য বিখ্যাত হলেও প্রয়াগ শক্তি পীঠে নবরাত্রি উৎসব খুবই জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে পালন করা হয়।নবরাত্রীর সময় এখানে প্রচুর লোক জমা হয়, নিয়ম মত নারকেল ফাটিয়ে নারকেলের জল দেবীকে অর্পণ করে অর্ধেক নারকেল মন্দিরের সমর্পণ করেন ভক্তরা।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য একটি শক্তিপীঠের কথা নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তি পীঠ – বরাহী দেবী

শক্তি পীঠ – বরাহী দেবী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ শক্তি পীঠ বারাহী বা বরাহী নিয়ে লিখবো। পীঠ নির্ণয় তন্ত্র মতে এটি চৌত্রিশ

তম সতী পীঠ।দেবীর ভৈরব হলেন মহারুদ্র।

 

পুরান অনুসারে দেবী সতীর নিচের পাটির দাঁত

সমুহ পরে ছিলো হরিদ্বার এর কাছে

পঞ্চসাগরে এই সতী পীঠে।

 

সনাতন ধর্মে যে সাত আট জন মাতৃ দেবীর কল্পনা করা হয়, তার মধ্যে দেবী বরাহী হলেন অন্যতম। দেবীর রূপ শূকরের মত। তার এক হাতে রয়েছে চক্র এবং অন্য আরেক হাতে রয়েছে তলোয়ার।

 

পুরান , মহাভারত সহ একাধিক শাস্ত্রে এই পীঠের উল্লেখ আছে।পুরান মতে নিশাচর নামে এক দৈত্যকে হত্যার জন্য স্বয়ং বিষ্ণু বরাহী কে সৃষ্টি করেছিলেন।বরাহী হলেন বিষ্ণুর নারী শক্তি।

 

এই পীঠ বহুকাল অজ্ঞাত ছিলো তারপর মহাভারতের যুগে পান্ডবরা যখন বনবাসে দিন কাটাচ্ছিলেন তখন গভীর এবং দুর্গম স্থানে এই দেবীর পীঠ স্থান সন্ধান করেছিলেন কুন্তী পুত্র ভীম। তিনি সেই গভীর জঙ্গলে মা বরাহীর তপস্যা করলেন, মা বরাহী ভীমকে দর্শন দিলেন এবং তাকে রক্ষা করার আশীর্বাদ দিলেন।

 

তারপর মহাভারত পরবর্তী সময়ে আবার এই সতী পীঠ লোক চক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। দেশ স্বাধীন হওয়ার কিছুকাল পরে সালে জনৈক প্রভুচন্দ্র নামের একজন মাতৃ সাধক মায়ের এই পীঠ স্থান আবিষ্কার ও সংস্কার করেন।আবার এই সতী পীঠ সবার কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং বহু তীর্থ যাত্রী আসতে শুরু করেন।

 

অনেকে আবার মনে করেন বৌদ্ধ দেবতা বজ্র বারাহি ও মরিচির মিশ্রনে এই বরাহী দেবী

সৃষ্টি হয়েছেন। দেবী বরাহীকে অনেক জায়গায় মহিষবাহনা হিসেবেও দেখানো হয়

আবার রক্ত বীজের কাহিনীতে দেখা যায় যে, একটি মৃতদেহের উপর বসে শূকরের বেশ ধরে দাঁত দিয়ে বরাহী দেবী শত্রু নিধন করছেন।

 

সনাতন এবং বৌদ্ধ ধর্মে বহু জটিল রহস্য

জড়িয়ে আছে দেবী বরাহীর সাথে।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য একটি

শক্তি পীঠ এবং তার ইতিহাস নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তি পীঠ – বক্রেশ্বর

শক্তি পীঠ – বক্রেশ্বর

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ শক্তিপীঠ বক্রেশ্বর নিয়ে লিখবো।

পীঠমালা, কালিকাপুরাণ ও তন্ত্রচূড়ামণি গ্রন্থে বক্রেশ্বরের উল্লেখ আছে।

 

এই শক্তিপীঠে সতীর ভ্রুসন্ধি বা মনঃস্থান পড়েছিল বলে, ভারতবর্ষের একান্ন পীঠের মধ্যে বক্রেশ্বরকে মহাপীঠ হিসেবে গণ্য করা হয়। তন্ত্রের ভাষায় ওই মনঃস্থানকে আজ্ঞাচক্র বলে।বক্রেশ্বরে দেবীর ভৈরব হলেন বক্রনাথ এবং দেবী এখানে মহিষ মর্দিনী রূপে পূজিতা হন।

 

বক্রেশ্বরের সঙ্গে জড়িয়ে ঋষি অষ্টাবক্রের কাহিনি। কথিত আছে, অষ্টাবক্র মুনি প্রথমে কাশীতে উপাসনার সংকল্প নেন। কিন্তু কাশীর বিশ্বনাথ স্বয়ং তাঁকে গৌড়দেশের গুপ্তকাশী বক্রেশ্বরে গিয়ে সাধনা করতে বলেন।

 

আজ থেকে পাঁচশো বছর আগে বক্রেশ্বর ছিল ঘন জঙ্গলে ঘেরা নির্জন ভূমি। চৈতন্য ভাগবতে তার প্রমাণ মেলে। কাটোয়ায় সন্ন্যাস গ্রহণের পর মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য বলেছিলেন, ‘বক্রেশ্বর আছেন যে বনে, তথায় যাইনু মুঁঞ্চি থাকিমু নির্জনে।’ সেই সময়টায় তান্ত্রিক, ভৈরবী, অঘোরপন্থীদের দাপট ছিল বক্রেশ্বরে।

 

পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক তথ্যের নিরিখে আজকের বক্রনাথের মন্দির সাতশো বছরের বেশি পুরনো। নির্মাণ করিয়েছিলেন রাজা নরসিংহ দেব। বাংলায় সুলতানি শাসনে মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রাজা দর্পনারায়ণ সতেরোশো একষট্টি খ্রিস্টাব্দে তা সংস্কার করেন।

 

মহাপীঠ বক্রেশ্বরকে বেষ্টন করে রয়েছে সাতটি উষ্ণ প্রস্রবণ এবং একটি শীতল জলের কুণ্ড। মাটির নিচ থেকে জলের নিরন্তর বিচ্ছুরণ হয়ে চলেছে অলৌকিক ভাবে যা এখানে আসা পর্যটক এবং তীর্থ যাত্রীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ।

 

বক্রনাথের মন্দিরে ভগবানের চেয়েও উচ্চাসনে রয়েছেন তাঁর ভক্ত। গর্ভৃগৃহে পিতলের ধাতু মণ্ডিত উঁচু যে শিলা রয়েছে তা অষ্টাবক্র মুনির। এর ঠিক পাশেই কিছুটা নিচে বক্রেশ্বর মহাদেবের ছোট শিলা।

 

দেবীমন্দিরে বেদীর ওপরে ভ্রুসন্ধির প্রস্তুরীভূত রূপটি রক্ষিত আছে। জনশ্রুতি আছে যে খাকি খাকিবাবা নামে খ্যাত এক সিদ্ধ সন্ন্যাসী শাস্ত্র মতে বহু যুগ আগে বেদীতে এটির প্রতিষ্ঠা করেন।

 

প্রায় প্রত্যেক অমাবস্যায় এই বক্রেশ্বর পীঠে অসংখ্য দর্শণার্থী আসেন। তন্ত্র মতে পুজো এবং হোম যজ্ঞ হয়।

 

পরবর্তী শক্তিপীঠ নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তিপীঠ – শোনদেশ

শক্তিপীঠ – শোনদেশ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজকের পর্বে লিখবো একান্নপীঠ শোনদেশ নিয়ে।পুরান অনুসারে এখানে দেবী সতীর ডান নিতম্ব পড়েছিল। এই শক্তি পীঠে নর্মদা রূপে বিরাজ করছেন। দেবীর ভৈরব হলেন ভদ্রসেন।
দেবীর মন্দিরটি মধ্যপ্রদেশের অমরকন্টকে অবস্থিত।

মহাভারতের বনপর্বে এই পীঠের উল্লেখ আছে।
ঋষি পুলস্থ রাজা যুধিষ্টিরকে বলেছিলেন এই পবিত্র স্থানে নর্মদা নদীতে স্নান করলে অশ্বমেধ যজ্ঞের ফল লাভ হয়।আজও বিশ্বাস করা হয় যে অমরকন্টক এই জায়গাটিতে দেবতাদের বাসস্থান তাই এখানে যার মৃত্যু হবে সে সরাসরি বৈকুণ্ঠ যাত্রা করবে।

পুরানে মতে মহাদেব যখন ত্রিপুর অর্থাৎ তিনটি প্রাচীন নগরীকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ভষ্মিভূত করেছিলেন সেই সময় কিছু ভস্ম অথবা ছাই পড়েছিল কৈলাসে। কিছুটা পড়েছিল অমর কণ্ঠকে আর কিছুটা ছাই মহাদেব নিজে স্বর্গে সঞ্চিত রেখেছিলেন। এছাড়াও মনে করা হয় যে, যে ভস্ম অর্থাৎ ছাই অমর কন্ঠকে পড়েছিল তা থেকে পরে কোটি কোটি শিবলিঙ্গ সৃষ্টি হয়েছে।তাই এই পীঠটি একাধারে শক্তি পীঠ আবার শৈব্য তীর্থ।

শোন্দেশ শক্তি পীঠ তথা নর্মদা মন্দিরটি আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ছয় হাজার বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল। মন্দিরের ভিতরের বেদীতে দেবী বিরাজ করছেন। সুন্দর এই বেদীটি রূপা দিয়ে তৈরি।

প্রাচীন কালে তৈরী এই মন্দিরের কারুকার্য এবং ভাস্কর্য আজও বিস্ময় জাগায়।মন্দিরের চারপাশে ছোট ছোট আরও অনেকগুলি পুষ্করিণী অথবা পুকুর আছে।মন্দিরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে নর্মদা নদী এবং কাছেই বিন্ধ্য পর্বত আর সাতপুরা পর্বত একসাথে মিশেছে।সব মিলিয়ে ওই শক্তি পীঠ সংলগ্ন প্রাকৃতিক পরিবেশ অতি মনোরম।

এই মন্দিরের পাশেই রয়েছে মাঈ কি বাগিয়া অর্থাৎ দেবী মায়ের বাগান। জনশ্রুতি আছে যে এই বাগানে নাকি দেবী নর্মদা নিত্য লীলা করেন এবং নিয়মিত ফুল তুলতে আসেন।

শোনদেশ শক্তি পীঠে সারা বছরই পূজা হয়
এবং প্রতিদিন ভক্তদের ভিড় লেগে থাকে।
তাছাড়া এই শক্তিপীঠ মহাশিবরাত্রি পালনের জন্য খুবই বিখ্যাত।

আগামী পর্বে আবার ফিরে আসবো অন্য একটি শক্তি পীঠের কথা নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তি পীঠ – উজানী

শক্তি পীঠ – উজানী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলায় অবস্থিত একান্ন পীঠের অন্যতম সতীপীঠ উজানি প্রসঙ্গে আজকের একান্ন পীঠ পর্ব।পীঠনির্ণয় তন্ত্র মতে উজানী হলো ত্রয়োদশ সতীপীঠট।পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার কোগ্রামে এই শক্তি পীঠ অবস্থিত।

 

দেবী উজানী বা মঙ্গল চন্ডী এই অঞ্চলে অত্যান্ত জাগ্রত এবং দয়াময়ী। তার কৃপা পেতে বহু দূর থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসেন। দেবীর মন্দিরে জ্যৈষ্ঠ মাসের প্রতি মঙ্গলবার বিশেষ পুজো হয়।কোগ্রামের অন্যতম বিখ্যাত উৎসব হচ্ছে উজানির মেলা।এছাড়াও সারাবছরই এখানে দুর্গাপূজা , কালীপুজো সবই হয়।তবে কোনো আলাদা মূর্তি হয় না ।সারাবছর দেবীর অন্ন, ভাজা,

ডাল, পায়েস , মাছ ইত্যাদি সহকারে নিরামিষ ভোগ হয়।শুধু মাত্র দুর্গাষ্টমীর দিন দেবীকে নিরামিষ ভোগ দেওয়া হয়।

 

শাস্ত্র অনুসারে উজানীতে সতীর বাঁ হাতের কনুই পড়েছিল। এখানে দেবী মঙ্গলচন্ডী রূপে পূজিতা হন এবং দেবীর ভৈরব হলেন কপিলেশ্বর।

 

অন্নদা মঙ্গল গ্রন্থ অনুসারে ধনপতি সওদাগর ছিলেন শিবভক্ত তিনি মঙ্গলচন্ডীর পূজা করতে অস্বীকার করেন।একবার বাণিজ্যে বেরোবার আগে তিনি মায়ের ঘটে লাথি মেরে বাণিজ্যে গিয়েছিলেন। দেবীর আক্রোশে তিনি আর উজানি নগরে ফিরে আসেননি।সওদাগরের স্ত্রী খুল্লনা মা মঙ্গলচন্ডীকে পুজোয় সন্তুষ্ট করে তার স্বামীর ফিরে আসবার জন্য প্রার্থনা করতেন।সবাই যখন সওদাগরের ফিরে আসার আশা প্রায় ছেড়ে দিয়েছে মা মঙ্গল চন্ডীর কৃপায় অলৌকিক ভাবে সওদাগর একদিন ফিরে আসেন। সেই থেকে মর্তে মঙ্গলচণ্ডীর পুজোর প্রচলন হয় ।

 

অজয় নদের পাড়ে অবস্থিত মূল মন্দিরটিতে প্রথমে একটি বারান্দা আছে। তার ভিতরে আয়তাকার গর্ভগৃহ। এই গর্ভগৃহের মধ্যে মা মঙ্গলচণ্ডীর ছোটো কালো কষ্টি পাথরের দশভূজা মূর্তি রয়েছে। দেবী মঙ্গল চন্ডীর মূল মন্দিরের সামনে একটি ছোট নাটমন্দির রয়েছে ।

দেবীর ভৈরব কপিলাম্বর শিব লিঙ্গ আছে মন্দির চত্বরে শিবলিঙ্গের সামনে নন্দীর কালো পাথরের একটি ছোট মূর্তিও আছে।

 

আবার আগামী পর্বে ফিরে আসবো অন্য একটি শক্তি পীঠের ইতিহাস এবং পৌরাণিক ব্যাখ্যা

নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তি পীঠ – কুরুক্ষেত্র

শক্তি পীঠ – কুরুক্ষেত্র

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের শক্তি পীঠ কুরুক্ষেত্র।শক্তি পীঠ কুরুক্ষেত্রকে সাবিত্রীপীঠ ও বলা হয় কারন দেবী এখানে স্বাবিত্রী রূপে বিরাজ করছেন।

দেবীর ভৈরবের নাম থানেশ্বর।পুরান মতে দেবীর ডান পায়ের গোড়ালি এখানে পড়েছিল।

 

পীঠ নির্ণয় গ্রন্থ মতে এটি একান্ন পীঠের পঞ্চাশ

তম শক্তিপীঠটি অন্নদা মঙ্গল এবং শিব চরিতেও এই সতী পীঠের উল্লেখ আছে।হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র জেলায় দ্বৈপায়ন হ্রদের মনোরম এবং আধ্যাত্মিক পরিবেশে মা স্বাবিত্রীর

এই মন্দির অবস্থিত।

 

একাধিক পৌরাণিক ঘটনার পটভূমি এই শক্তি পীঠ ক্ষেত্র।পুরান মতে পরশুরাম ধরিত্রীকে ক্ষত্রিয় শুন্য করার পরে এই হ্রদের জলে পিতৃ পুরুষের উদ্দেশ্যে তর্পন করেছিলেন।

 

এই কুরুক্ষেত্র ময়দানে মহাভারতের পান্ডব এবং কৌরব দের যুদ্ধ হয়েছিলো এবং কথিত আছে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শুরুর আগে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে পঞ্চপাণ্ডব এখানে এসেই দেবীর আরাধনা করেছিলেন। স্মারক হিসেবে নিজেদের ঘোড়াগুলিও দান করেন। আর সেই থেকেই এখানে কোনও কিছু মানত করার আগে ধাতব ঘোড়া দান করার রীতি শুরু হয় যা আজও চলছে।

 

 

শাস্ত্র মতে দেবী সাবিত্রী সূর্য্য কন্যা এবং তিনিই গায়েত্রী মন্ত্রের অধীস্টাত্রী দেবী। তার আশীর্বাদে বৈকুণ্ঠ লাভ হয় বলেও বিশ্বাস।

এখানে মায়ের ‘কঠোর রূপ’ বা উগ্র রূপ দেখা যায়।দেশের প্রাচীনতম মন্দিরগুলির মধ্যে এটি একটি। মন্দিরে ঢোকার আগে শ্বেতপাথরের পা এর একটি অবয়বও রাখা আছে।

 

ভক্তরা আগে সেখানে পুজো করে তারপর মন্দিরে প্রবেশ করেন।সারা বছরই এখানে নিত্যপুজোর ব্যবস্থা থাকলেও কালীপুজোর তিথি ধরে এখানে হয় দেবীশক্তির আরাধনা। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, পবিত্র মনে কালিকাদেবী মায়ের কাছে যা চাওয়া হয় মা সেই মনস্কামনাই পূরণ করেন।

 

আজ এই শক্তি পীঠ নিয়ে এইটুকুই।ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য একটি শক্তি পীঠ নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তি পীঠ – কামাখ্যা

শক্তি পীঠ – কামাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের শক্তি পীঠ পর্বে লিখবো

অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শক্তি পীঠ কামরুপ

কামাখ্যা নিয়ে।

 

পীঠ নির্ণয় তন্ত্র মতে সিদ্ধ পীঠ কামরূপে মাতৃ যোনি পতিত হয়েছিল কামাখ্যাকে বলা হয় তীর্থচূড়ামণি। তীর্থচূড়ামনির অর্থ হলো সব তীর্থের মধ্যে সেরা তীর্থ স্থান।

 

মহাভারতের যুগে এই স্থনের নাম ছিল প্রাগজ্যোতিষ। পাল রাজারা এককালে শাসন করতো এই প্রদেশ|এই আসামেরই কামরুপ জেলার নীলকন্ঠ পাহাড়ের চূড়ায় প্রাচীন মন্দিরটি অবস্থিত।

 

কামরুপ কামাখ্যা তন্ত্রের জন্য জগৎ বিখ্যাত। এখনো জাদুবিদ্যা সাধনার জন্য বেছে নেওয়া হয় কামাখ্যা মন্দিরকেই। কামরূপ কামাখ্যার আশপাশের অরণ্য আর নির্জন পথে নাকি ঘুরে বেড়ায় ভালো-মন্দ আত্মারা। এমনকি এক কালে বৈদেশিক শত্রুরা বিশ্বাস করতো কামরূপ-কামাখ্যার অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন মায়াবী নারীরা পুরুষদের মন্ত্রবলে ভেড়া বানিয়ে রাখতো|তাই অনেকেই এই পথ মাড়াতে চাইতো না সহজে।

 

যেখানে সতীর যোনি মন্ডল পতিত হয়েছিল সেই জায়গাটাকে বলে কুব্জিকাপীঠ।কথিত আছে যোনিরূপ যে প্রস্তরখণ্ডে মা কামাক্ষা অবস্থান করছেন, সেই শিলা স্পর্শ করলে মানুষ মুক্তিলাভ করে। কালিকাপুরাণে বলা হয়েছে সতীর অঙ্গ পতিত হওয়ার পর এই উচ্চ পর্বত মহামায়ার শ্রী অঙ্গের ভার সহ্য করতে না পেরে কেঁপে উঠলো এবং ক্রমশঃ পাতালে প্রবেশ করতে লাগলো। তখন দেবতাদের অনুকম্পায় এই পর্বত পাতালে প্রবেশ থেকে রক্ষা পায়। কিন্তু মতৃ যোনি পতিত হওয়ার ফলে পর্বতের রং নীল বর্ণ ধারণ করেছিল তাই পর্বতের নাম হলো নীলকণ্ঠ বা নীলচল পর্বত।

 

এই স্থানে নরকাসুর এবং দেবী কামাখ্যাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন বশিষ্ট দেব। এই স্থানেই শিবের অভিশাপে নিজ রূপ হারিয়ে পুনরায় নিজের স্বরূপ ফিরে পেয়েছিলেন কামদেব।

 

এই মন্দির চত্বরে দশমহাবিদ্যার মন্দিরও বিদ্যমান।

দেবীর ভৈরব একজন নয় নয়জন।তাই মনে করা হয় সুদূর অতীতে কোনো এক সময়ে হয়তো এখানে নয়টি শক্তিপীঠ ছিলো। যদিও এখন একটি শক্তিপীঠ ই জনসমক্ষে অবস্থিত।

 

মনেকরা হয় মূল কামাখ্যার মন্দিরটি নাগারা স্থাপত্যশৈলীর মন্দির ছিল। বর্তমান কামাখ্যা মন্দিরে গর্ভগৃহ ও তিনটি মণ্ডপ সম্বলিত চারটি কক্ষ রয়েছে যেগুলোর স্থানীয় নাম চলন্ত, পঞ্চরত্ন এবং নাটমন্দির। গর্ভগৃহটি পঞ্চরথ স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত।বর্তমান মন্দিরটি সংস্কার করেছিলেন কোচ বিহারের রাজা নরনারায়ণ।

 

অম্বুবাচি কামাখ্যা মন্দিরের প্রধান উৎসব। অম্বু বাচির সময়ে দেশ বিদেশথেকে মাতৃ সাধক এবং তীর্থযাত্রীরা এখানে আসেন।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে আরো একটি শক্তিপীঠ সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।