Home Blog Page 79

কালী কথা – গুপ্ত সতিপীঠ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক বাংলায় শক্তিপীঠের সংখ্যা নেহাত কম না। তারমধ্যে বেশিভাগ শক্তি পীঠ রয়েছে বীরভূমে যেগুলি নিয়ে বহুবার আলোচনা করেছি।আবার বহু শক্তি পীঠ আছে যেগুলির সঠিক অস্তিত্বর খোঁজ পাওয়া যায়না। সেগুলিকে বলা হয়গুপ্ত শক্তি পীঠ। এমনই এক গুপ্ত শক্তিপীঠ আছেদক্ষিণ দিনাজপুরে। আজকের পর্ব এই কালী ক্ষেত্র নিয়ে।দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের বুড়া মা বা বুড়ি মা কালী মন্দির খুবই জাগ্রত ।শোনাযায় কোনো এক তন্ত্র সাধক আত্রেয়ী নদীর জলে প্রথম দেখা পান এক বিগ্রহের। তিনি সেটিকে স্থাপন করেন আত্রেয়ী নদীর ধারেই। তবে সেই ইতিহাস কবেকার তা কেউ ঠিক মনে করতে পারেন না।তবে আনুমানিক কয়েকশো বছর ধরে এখানে বুড়ি মা পূজিতা হয়ে আসছেন।আবার মন্দির সৃষ্টির সাথে জড়িয়ে আছে এক অলৌকিক ঘটনা। কথিত আছে, বহু বছর আগে জনৈক এক বাসিন্দার গাভী হারিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পরেও সেটিকে পাওয়া যায় না। পরে বৃদ্ধারূপী মা কালী তাঁকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে নির্দেশ দেন আত্রেয়ী নদী পাড়ের জঙ্গলে গিয়ে খুঁজতে। তাঁর দেখানো দিক-নির্দেশ অনুযায়ী সেই ব্য়ক্তি যান। গিয়ে দেখেন, জঙ্গলের ভিতর বালির মধ্যে পড়ে থাকা একটি পাথরের খণ্ডকে গরুটি নিজে থেকে দুধ ঝরিয়ে স্নান করিয়ে দিচ্ছে। এর পরেই তিনি পাথরটি স্বযত্নে এনে আত্রেয়ীর পাড়েই সেটিকে প্রতিষ্ঠা করে মা বুড়িমা কালীর পুজো শুরু করেন।যা দিনে দিনে জনপ্রিতা লাভ করে এবং আজও সেই পরম্পরা চলছে।ভক্তদের বিশ্বাস এই কালী মন্দির আসলে সতীর একান্ন পীঠের কোনও গুপ্তপীঠ। দেবী এখানে স্বয়ম্ভূ। কালো পাথরের খণ্ডকেই এখানে দেবী রূপে পুজো করা হয়।তবে পুজোর দিন সেই শিলা খন্ডকে পড়ানো হয় সোনার মুখাবয়ব। সঙ্গে বিগ্রহ সাজানো হয় সোনা-রূপোর বিভিন্ন অলঙ্কারে। মনে করা হয়, দেবী ডাকড়া চন্ডী,বয়রা কালী এবং বুড়িমা তিন বোন এবং প্রতি বছর ডাকড়া চন্ডী আত্রেয়ীতে বিসর্জন পূর্বে দেখা করে যান তাঁর দুই বোনের সঙ্গে। এই রীতি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে।গোটা জেলা তথা উত্তর বঙ্গের মানুষের কাছেতাদের বুড়িমা কালী পরম আস্থার স্থান।দেবী কালিকার ভয়াল রূপের অন্তরালে যে ব্রহ্মময়ী মাতৃরূপ তাতেই আস্থা রেখে বুড়িমা ঈশ্বর এবং ভেদাভেদ কাটিয়ে যেন হয়ে উঠেছে এলাকাবাসীর আপন মা। সারা বছর সকাল-সন্ধ্যে পুজো হয়। আর, শ্যামাপূজার দিন বিশেষ পুজো হয়। লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হয় ওই দিন। কৌশিকী অমাবস্যা তিথিতেও দেবীর বিশেষ পূজোর আয়োজন হয়।আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা।ফিরে আসবো আগামী দিনে।নতুন পর্ব নিয়ে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – কোচবিহারের রক্ত বর্ণা দেবীর পুজো

আজকের কালী কথায় কোচবিহারের বড়ো দেবীর পুজোর কথা বলবো যে পূজোর বয়স প্রায় পাঁচশো বছর। এই ‘বড় দেবী’ দেবী কে রক্ত বর্ণা দেবীও বলা হয়।কেনো এই নাম তার কারন পরে জানাবো আগে এই পূজোর প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে জানাই।শতাধিক বছর আগে কোচবিহার রাজ বংশের অন্যতম রাজা মহারাজা নরনারায়ণ স্বপ্নে ওই এই দেবীকে দেখেছিলেন সেই রূপেই আজও এখানে পূজিত হন দেবী।প্রথাগত প্রতিমার থেকে এই প্রতিমা সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে দেবী রক্তবর্ণা এবং উগ্ররূপে তিনি বিরাজ করছেন । সঙ্গে থাকেন দুই সখী জয়া এবং বিজয়া। দেবীর বাহন বাঘ এবং সিংহ উভয়।তবে একদম শুরুতে দেবীর এই রূপ ছিলোনা।প্রায় পাঁচশো বছর আগে এই রাজ বংশের বিশ্ব সিংহ এবং তাঁর ভাই শীষ্য সিংহ খেলার ছলে দেবীর আরাধনা শুরু করেন। ময়নার ডালকেই দেবীরূপ দিয়ে পুজো করেন তাঁরা। পরবর্তীতে সেই কাঠ ‘বড় দেবী’র মন্দিরে এনে, তাকে কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করে তার উপর শুরু হয় প্রতিমা তৈরির কাজ।জনশ্রুতি আছে ‘বড় দেবী’র পুজোয় একফোঁটা হলেও প্রাণীর রক্তর প্রয়োজন হয় এবং আজও নাকি তাজা রক্ত সংগ্রহ করে দেবীকে উৎসর্গ করা হয়।এই অদ্ভুত রীতি নিয়ে একটি কিংবদন্তী প্রচলিত আছে। শোনা যায় একবার মহারাজা বিশ্ব সিংহ খেলার ছলে এক সাথীকে তরোয়াল দিয়ে আঘাত করেন। সঙ্গে সঙ্গে সেই বালকের মাথা আলাদা হয়ে যায় ধড় থেকে। সেই মাথা দেবীকে নিবেদন করেন বিশ্ব সিংহ।  সেই থেকেই এই রীতির প্রচলন।বর্তমানে বর্তমানে পুজোর আয়োজন করে রাজ্য পর্যটন দফতরের অধীনস্থ কোচবিহার দেবত্র ট্রাস্ট। আজও পুজোতে পশুবলি হয়। অষ্টমীতে মহিষ, দশমীতে শূকর বলির প্রথা চালু রয়েছে এখনও।এখানে দূর্গা পুজোয় ধুম ধাম করে দেবী আরাধনা হয় এবং বিসর্জনের সময় যমুনা দীঘিতে নিয়ে যাওয়া হয় মৃন্ময়ী প্রতিমা যা খণ্ডিত করে বিসর্জন দেওয়া হয়। বাংলার বহু এমন ঐতিহাসিক কালীপুজো এবং অলৌকিক ঘটনানিয়ে চলতে থাকবে কালী কথা।থাকবে গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় উপাচার। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – মহাপ্রভুর মামার বাড়ির পুজো

সনাতন ধর্মের দুটি শাখা বৈষ্ণব এবং শাক্ত।এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্য কিঞ্চিৎ বিরোধ এবং সাধন পক্রিয়া নিয়ে মত পার্থক্য বহু পুরোনো কাল থেকে চলে আসছে। বৈষ্ণবরা মনে করেন একমাত্র বিষ্ণুর উপাসনাই জাগতিক মোহ মায়া থেকে মুক্ত করে ভগবত লাভ করাতে পারে। আবার শাক্ত দের ধারণা আদ্যা শক্তি মহামায়া সব শক্তির আধার তারই রূপ দেবী কালী বা দেবী চন্ডী যার পুজো করলে সব অসম্ভব সম্ভব।বৈষ্ণব দের পরম আরাধ্য মহাপ্রভুর শ্রী চৈতন্যদেবের পূর্ব পুরুষ দের মধ্যেও কালী পূজোর চল ছিলো এবং মামার বাড়ি অর্থাৎ নদিয়ার বেলপুকুরের বাচস্পতিপাড়ায় ধুম ধাম করে আজও কালী পুজো হয়।শোনা যায় এককালে বৈষ্ণব ধর্মের প্রসারকে রুখতে তাঁর মামার বাড়ির গ্রামে এই পুজোশুরু হয়। ইতিহাস বলছে, শ্রীচৈতন্যের মা শচীদেবী নদিয়ার ধুবুলিয়া থানার বেলপুকুরের বাচস্পতি পাড়াতেই জন্ম নেন। সে সূত্রেই ছোট থেকে মামার বাড়িতে যাতায়াতও ছিল নিমাইয়ের।একসময় বৈষ্ণব ধর্মের প্রচারের মুখ হয়ে ওঠেন মহাপ্রভু।সেই সময়ে বৈষ্ণব ধর্মের বাড়বাড়ন্ত ভালভাবে মেনে নিতে পারেননি নদিয়ার নদিয়ার তৎকালীন রাজা রুদ্র রায়। কীভাবে বৈষ্ণব ধর্মের প্রসার রোখা যায় সেই ভাবনাচিন্তা শুরু করেন তিনি।ঠিক নদিয়ার বেলপুকুর গ্রামে আসেন ঢাকার বিক্রমপুরের কালীসাধক রামচন্দ্র ভট্টাচার্য। তিনি পঞ্চমুন্ডের আসনে বসে মাতৃ সাধনা করতেন। তার আগমন শুনে রাজা তার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে কালীমন্দির তৈরি করতে জমি দান করেন। বৈষ্ণব ধর্মের বাড়বাড়ন্তর সময়ে তাঁর হাত ধরেই গ্রামে কালীপুজো শুরু হয়।অমাবস্যার রাতে বিশেষ তন্ত্র ক্রিয়ায় মাধ্যমে তৈরী দেবীর মহাশঙ্খের মালা এবং নর মুন্ডমালা আজও এখানে রয়েছে । সারা বছর তা গোপন রাখা হয় এবং কালী পূজোর সময়ে প্রকাশ্যে আনা হয়।এই পুজো হয় তান্ত্রিকমতে তাই পশু বলির প্রচলন আজও রয়েছে। ভোগে শোল মাছের চাটনি, ইলিশ, মাংস দেওয়া হয়। অমাবস্যা তিথিতেএই মায়ের আরাধনায় এলাহি আয়োজনে গ্রামবাসীরা সামিল হন।কথিত আছে দেবীশুন্য হাতে কাউকে ফেরাননা। সবার সব আশাপূর্ণ হয়।বাংলার বহু এমন ঐতিহাসিক কালীপুজো এবং অলৌকিক ঘটনানিয়ে চলতে থাকবে কালী কথা।থাকবে গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় উপাচার।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – দেবী রাজরাজেশ্বরীর পুজো

আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যাকে উপলক্ষ করে আবার শুরু করেছি কালী কথা। আজকের পর্বে আলোচনা করবো একদা বাংলা বিহার উড়িষ্যার রাজধানী মুর্শিদাবাদের প্রসিদ্ধ রাজরাজেশ্বরী দেবীর পুজো নিয়ে।অতীতে এই পুজো ছিলো মূলত লালগোলা রাজবাড়ির পুজো।দেবী কালী এখানে রাজ রাজেশ্বরী নামে খ্যাত।রাজরাজেশ্বরী কালী পুজোর শুরু ঠিক কবে হয়েছিল, সে নিয়ে কোনও স্পষ্ট ধারণা নেই। তবে, কথিত রয়েছে এই পুজো প্রায় সাড়ে তিনশো বছর পুরনো।শোনা যায় এই কালীপুজোর শুরু করেছিলেনপ্রবল প্রতাপশালী জমিদার রাম শঙ্কর রায়। তিনি একদিন স্বপ্নদেশ পান, লালগোলার কলকলির চরে দেবী রাজরাজেশ্বরী অবস্থান করছেন এবং তাকে দেবীকে রাজবাড়ী এনে সেখানে প্রতিষ্ঠা করে পুজো করতে হবে।তারপর জমিদার রাম শঙ্কর রায় রাজপুরোহিতকে সঙ্গে নিয়ে দেবীকে উদ্ধার করে এনে রাজপ্রাসাদের সামনে পাকা দালানবাড়ি তৈরি করে সেখানে প্রতিষ্ঠা করেন তারপর থেকে শুরু হয় পুজো যা আজও চলছে।মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক এই পুজোর সাথে জড়িত আছে সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর নাম। আনুমানিক প্রায় তিন মাস তিনি লালগোলা রাজ বাড়িতে ছিলেন। কারণ লালগোলার রাজা যোগীন্দ্রনারায়ণ রায়ের সঙ্গে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটা ভালো সম্পর্ক ছিল। এ ছাড়াও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, লালগোলা রাজবাড়ির কালী মন্দিরের সঙ্গে কাজি নজরুল ইসলামের সম্পর্ক ছিল।যদিও সেই সম্পর্কে কোনো নিদ্দিষ্ট তথ্য প্রমান পাওয়া যায়নি।প্রথাগত কালী মূর্তি থেকে রাজরাজেশ্বরী কালি মুর্তি কিছুটা আলাদা। এখানে কালী মূর্তির পাশে রয়েছে লক্ষ্মী, সরস্বতী। শিবের ওপর এক পা দিয়ে ও এক পা তুলে নৃত্য রত অবস্থায় রয়েছে কালী। জমিদারি আমল থেকেই কালীপুজোয় অন্ন ভোগ দেওয়া হয় সঙ্গে পুরনো রীতি মেনে ইলিশ মাছের ভোগও দেওয়া হয়।পুজো তন্ত্র মতে হয়। বলী প্রথা আছে তবে তা বেশ অভিনব।পাঁঠাকে উৎসর্গ করে ছেড়ে দেওয়া হয়।ধারাবাহিক ভাবে চলবে কালী কথা। থাকবে এমনই সব কালী মন্দির এবং ঐতিহ্যপূর্ণবাংলার কালী পূজোর ইতিহাস।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা : সুন্দর বনের জমিদার বাড়ির কালী পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

একসময় প্রত্যন্ত সুন্দরবন এলাকার কয়াল বাড়িতেই জাঁকজমক করে হতো দুর্গাপূজা। কিন্তু কালের নিয়মে বন্ধ হয়ে যায় সেই পূজা, অবসান ঘটে জমিদারীত্বের আর তারপর থেকেই স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরই শুরু হয় শ্যামা মায়ের আরাধনা।
আজ সুন্দর বনের এই প্রাচীন এই কালীপুজো নিয়ে লিখবো

এই পুজো সুন্দরবনের মথুরাপুরের জমিদার বাড়ি অর্থাৎ কয়াল বাড়ির পারিবারিক কালীপুজো। এই পুজোর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জমিদার যদু কয়াল।

বহু আগে জমিদারীত্ব সময় জমিদার কয়াল বাড়িতে  দুর্গাপুজো হত। পরবর্তীকালে নানা বাধার কারণে বন্ধ হয়ে যায় দুর্গাপুজো। তারপর পরিবারের এক সদস্যর স্বপ্নাদেশে আবার শুরু হয় পুজো। সেই শুরু কালীপুজোর যা আজও চলছে।

প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো কয়াল বাড়ির এই পুজো। এখানেও কালী মা দক্ষিনা কালী রূপে পূজিত হন। রীতি মেনে পুজোর দিনের গহনায়
তাঁর গা ভরিয়ে দেওয়া হয়।

ছোট থেকে বড়, সবাই এই পুজোতে অংশগ্রহণ করে। পুজোতে একসময় পশু বলি হতো, কিন্তু কালের নিয়মে সে পাঠা বলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই পুজোর আরও একটি বৈশিষ্ট্য আছে। আজ থেকে ২০০ বছর আগে শুরুতেই প্রতিমার যে দৈর্ঘ্য ছিল, এখনও সেই দৈর্ঘ্যেই প্রতিমা তৈরি বানানো হয়।কোনো পরিবর্তন হয়নি।

পুজোকে ঘিরে নানা অনুষ্ঠানও হয়। কাজের সূত্রে দূর দূরান্ত থেকে পরিবারের সদস্যরা, কালী পুজোর দিনে একসঙ্গে মিলিত হয়। আজও নিয়ম করে মায়ের ভোগ তৈরি হয়। এখন জমিদারীত্ব না থাকলেও পুজোর ঐতিহ্য নিষ্টার সঙ্গে পালন করে আসছে এই কয়াল পরিবার।

জলে কুমির এবং ডাঙায় বাঘ বেষ্টিত সুন্দর বোনে এই পুজো নিয়ে সাধারণ মানুষের খুব আগ্রহ এবং আস্থা আছে।

সামনে কৌশিকী অমাবস্যা
আগামী দিনে ধারাবাহিক ভাবে কালী কথায়
দেবী কালী প্রসঙ্গে আরো অনেক আলোচনা হবে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশেষ পর্ব : স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কালী পুজো

এককালে স্বাধীনতা সংগ্রামী দের সঙ্গে থাকতো গীতা। স্বামী বিবেকানন্দর বই এবং আনন্দ মঠ।তারা অনেকেই কালী পুজোয় করতেন। মাতৃ আরাধনার মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে দেশমাতৃকার পরাধীনতা ঘোচানোই ছিলো প্রধান উদ্দেশ্য।আজ এমনই দুটি পূজোর কথা লিখবো। যার মধ্যেএকটি কলকাতার এবং একটি জেলার পুজো।প্রথমে বলবো পাথুরিয়াঘাটা ব্যায়াম সমিতির পুজো। এই সমিতি প্রতিষ্ঠা হয় ইংরেজির ১৯২৪ সালে বিখ্যাত লাঠিয়াল অতুলকৃষ্ণ ঘোষের আদর্শে  তৈরি হয় এই অনুশীলন সমিতি।স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন তিনি। এই সমিতির সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ছিলেন বাঘা যতীন। তখনকার দিনে অনুশীলন সমিতি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ঘাঁটি ছিল। স্বাভাবিক ভাবেই পদার্পণ করেছেন বহু স্বনামধন্য মানুষ।পরবর্তীতে বিপ্লবী সদস্যরা মিলে ‘বড় কালী’র পুজো আরম্ভ করেন। বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং গুণীজন এই পূজোর সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৩০ সালে এই পুজোর সভাপতিত্ব করেন স্বয়ং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। আজও পরম্পরা মেনে এই কালী পুজো হয়।শুধু কলকাতা নয় জেলা জেলায় বিপ্লবীরা কালী পুজো শুরু করেন।সালটা ১৯৩৯। স্বাধীনতা আন্দোলনের আগুন জ্বলছে সারা দেশে। মেদিনীপুরে আন্দোলনের পথ দেখাচ্ছেনবিমল দাশগুপ্ত, কিষাণ সাহা। আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ছে বহু তরতাজা প্রাণ।মেদিনীপুর শহরের কাছেই লাল দীঘি।দুধারে আদিবাসী জনবসতি,শ্মশান আর ঝোপঝাড়। সেখানেই ছিল বিমল দাশগুপ্তদের গুপ্ত ডেরা। আনাগোনা লেগে থাকতো তরুণদের। গোপনে চলতো ভারতমাতার সন্তানদের দীক্ষা দেওয়া। সেসময়ই বাঁদিকে এক জায়গায় গড়ে তোলা হোল অস্থায়ী বেদী। ঘট প্রতিষ্ঠা করা হলো দেবী কালীর। সামনে চলতে থাকল দেবীরপুজো আর গোপনে অস্ত্র শিক্ষা। স্বাধীনতা পাওয়ার পরও বিমল দাশগুপ্তরা নিয়ম করে আসতেন এই স্থানে। স্বাধীনতার পরে ১৯৬৮ সালে দক্ষিণাকালী প্রতিমা উপাসনার সূচনা। কার্তিক মাসের অমাবস্যায় পুজোর সময় এখন বড়ো করে পুজো হয় শ্রদ্ধা জানানো হয় স্বাধীনতা সংগ্ৰামিদের।সারা বাংলায় এমন বহু পুজো আছে যা স্বাধীনতা সংগ্রামীরা শুরু করেছিলেন। আজও চলছে। আজ সময়ের অভাবে শুধু দুটো পূজোর কথাই বললাম। সামনেই কৌশিকী অমাবস্যা তাই আগামী দিনে দেবী কালী কালী বাংলার পুজোর ইতিহাস প্রসঙ্গে আরো আলোচনা হবে।থাকবে নানা পৌরাণিক ব্যাখ্যা। আজ ১৫ ই আগস্ট উপলক্ষে এই বিশেষ পর্বে বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জানাই আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য এবং প্রণতি। আপনাদের সবাইকে আজ স্বাধীনতা দিবসের অসংখ্য শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। বন্দে মাতারাম। জয় হিন্দ।ভালো থাকুন। পড়তে থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব ও বাসুকি নাগ

ভগবান শিব কে আমরা যখনি দেখি, তার জটায় দেখতে পাই গঙ্গা আর তার পাশে বাসুকি নাগ, গঙ্গা কিভাবে শিবের জটায় স্থান পেলো সেই পৌরাণিক ঘটনা আমাদের অনেকেরই জানা কিন্তু বাসুকি নাগ কেনো সদা শিবের মাথায় সেই রহস্য অনেকের কাছেই রহস্য|আজ লিখবো এই রহস্য নিয়ে|

বহু উল্লেখযোগ্য পৌরাণিক ঘটনার সাথে জড়িয়ে আছেন এই বাসুকি নাগ |
কশ্যপ ও তার স্ত্রী কদ্রুর পুত্র হলেন বাসুকি। পরবর্তীতে পাতালের নাগগণ তাকে নাগরাজ বাসুকিরূপে বরণ করেন।

বাসুকীর বিশেষ অবদান ছিলো সমুদ্র মন্থন এর ক্ষেত্রে আবার কারাগারে জন্ম নেয়া কৃষ্ণ কে যখন পিতা বাসুদেব নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিচ্ছিলেন তখন নদী মধ্যে প্রবল বৃষ্টি পাত থেকে বাসুকি তার বিশাল ফনা দিয়ে শ্রী কৃষ্ণ কে রক্ষা করেছিলেন |

এই প্রবল পরাক্রমী বাসুকি কিভাবে শিবের মাথায়
স্থান পেলো তাই নিয়ে ভবিষ্য পুরানে বলা হচ্ছে যে নাগেরাই প্রথম শিব পূজা শুরু করে এবং নাগ রাজা হিসেবে বাসুকি শিবের তপস্যা করেন ও শিব কে তুষ্ট করে বরদান পান যে তিনি শিবের কণ্ঠে স্থান পাবেন ও সারা জীবন শিবের সবথেকে কাছে থেকে তার স্তুতি করবেন |তাই তিনি শিবের গলায় স্থান পান।

আরেকটি কাহিনী অনুসারে সমুদ্র মন্থন করে অমৃত সন্ধানের সময়ে বাসুকি রজ্জু হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে ছিলেন ও তার পরবর্তীতে শিব যখন হলা হল পান করেন তখনোও বাসুকি শিবের পাশে থেকে তার প্রতি নিজের অনুগত্য প্রকাশ করেন | বাসুকীর এই ভক্তি দেখে শিব সন্তুষ্ট হন ও বাসুকি কে তার শরীরে আশ্রয় দেন |

শিব ও বাসুকি কে নিয়ে আরো একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় | মনে করা হয় শিব ও পার্বতীর বিবাহের সময় যখন শিবের অঙ্গ সজ্জার প্রয়োজন হয় তখন বাসুকি তার কণ্ঠে জড়িয়ে যান | শিব এতে এতটাই খুশি হন যে সদা সর্বদা তিনি বাসুকি কে ওই স্থানে ধারণ করে থাকেন|

এই পবিত্র শ্রাবন মাসে শিবকে সন্তুষ্ট করার একটি সহজ উপায় হলো শিবের উদ্দেশ্যে ধাতব নাগ অর্পণ করা। যদি তামার নাগ হয় তবে সব থেকে ভালো হয়।

শ্রাবন মাস জুড়ে থাকছে শিব নিয়ে নানা তথ্য। পৌরাণিক ঘটনা এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।
পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

নন্দী ভৃঙ্গীর কথা

দেবাদিদেব মহাদেব কে নিয়ে আলোচনা হলে স্বাভাবিক ভাবেই তার দুই বিশ্বস্ত অনুচর নন্দী
এবং ভৃঙ্গীর প্রসঙ্গ এসে যায়।আজ এদের নিয়ে আলোচনা করবো। শেষে থাকবে এই সংক্রান্ত একটি উপাচার।

শিব মহাপুরাণ মতে, নন্দী শিলাদ মুনির পুত্র। শিলাদ ছিলেন ভগবান শিবের পরম ভক্ত এবং শিবের আশীর্বাদেই নন্দীর জন্ম হয়েছিলো এবং শিব স্বয়ং তাকে চিরঞ্জীবী হওয়ার বর দেন ও নিজের বাহন হিসেবে স্থান দেন|রামায়ণেও নন্দীর উল্লেখ পাওয়া যায় যেখানে অহংকারী রাবন কৈলাশ এসে নন্দীকে তার চেহারার জন্যে অপমান করেন ও বানর বলেন, নন্দী তাকে অভিশাপ দিয়েছিলো যে এক বানর তার পতন ডেকে আনবেন, পরে তাই হয়েছিলো|

নন্দী ও ভৃঙ্গী কে নিয়ে পুরানে অনেক কথাই বলা আছে কূর্মপুরাণে নন্দী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, মহাদেবের এই প্রধান অনুচরটি করালদর্শন, বামন, বিকটাকার, মুণ্ডিতমস্তক, ক্ষুদ্রবাহু ও মহাবল।পূর্বে নন্দী মহারাজ পৃথক দেবতা হিসেবেও পূজিত হতেন পরবর্তীতে তিনি শিবের বাহন হিসেবে স্থান পান|

নন্দীর ন্যায় ভৃঙ্গীও শিবের অনুচর। নন্দী যেমন হৃষ্টপুষ্ট, ভৃঙ্গী তেমনই রুগ্ন , কঙ্কালসার। ভৃঙ্গী আগে ছিলেন এক মশিবের উপাসক। তিনি শিবের সাথে একত্রে পার্বতীর পুজোয় কিছুতেই রাজি নন জেনে ক্রুদ্ধ পার্বতী ভৃঙ্গী কে অভিশাপ দিলেন। সেই অভিশাপে ভৃঙ্গী কঙ্কালে পরিণত হলেন। দু’পায়ে আর দাঁড়াতে পারেন না তিনি, তখন শিবের আশীর্বাদে তাঁর তৃতীয় চরণের সৃষ্টি হল। কিন্তু তবু ভৃঙ্গী পার্বতীর পুজো করবেন না। তখন শিব তাঁকে নিজের অর্ধনারীশ্বর রূপ দেখালেন, যাতে তিনি বুঝতে পারেন যে পার্বতী শিবেরই অংশ। পরবর্তীতে তিনিও হয়ে উঠলেন শিবের অনুচর, একত্রে উচ্চারি হতে শুরু হয় নন্দী ও ভৃঙ্গীর নাম|

শ্রাবন মাসে শিবের পাশাপাশি নন্দী ও ভৃঙ্গীর পুজো করলে শিব তাড়াতাড়ি সন্তুষ্ট হন এবং বাস্তু শাস্ত্র মতে বাড়িতে নন্দী মূর্তি থাকলে বাস্তু দোষ দূর হয়।

আগামী পর্বে আবার কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদে সামনে।থাকবে এমনই গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় উপদেশ। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব পুজোয় বেলপাতা কেনো লাগে

বেল পাতা শিবের খুব প্রিয়। শাস্ত্র মতে বেল পাতা ছাড়া শিবের পুজো সম্পন্ন হয় না। তাই শিব পুজোয় বেলপাতার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে, পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে। সব বলবো। তারসাথে জানাবো বেলপাতা নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ।পুরান অনুসারে সখি জয়া ও বিজয়া সহ এক পর্বতে ভ্রমন করার সময়ে পার্বতীর কপালের ঘাম মাটিতে পরে তৈরী হয় বেলগাছের। দেবী স্বয়ং গিরিজা রূপে শিকড়ে।কাত্যায়নী রূপে ফলে এবং দুর্গা রূপে বেল গাছে বিরাজ করেন।আবার সমুদ্র মন্থনে প্রাপ্ত হলাহল পান করার পর মহাদেবেকে বিশেষর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে দেবতারা প্রথম তাকে বেলপাতা অর্পণ করেন কারন বেলপাতা বিষের প্রভাব নষ্ট করে। অন্য একটি ব্যাখ্যা অনুসারে শিবলিঙ্গ পরম তেজোময় তাই তাকে জ্যোতির্লিঙ্গ বলা হয় শিবলিঙ্গ অফুরন্ত তেজ ধারণ করে নিজের মধ্যে। তাই শিবলিঙ্গের পুজোর সময়স্নান করিয়ে শীতল করা হয় । বেলপাতার ভেষজ গুন মহাদেবকে শান্ত আর শীতল রাখে।তিন পাতা বিশিষ্ট বেলপাতা শ্রেষ্ঠ।আমাদের শাস্ত্রে তিনের খুব গুরুত্ব। আমাদের গুণ তিনটি- স্বত্বঃ, রজঃ আর তমঃ। আমাদের পরম দেবতাও তিনজন- ব্রহ্মা, বিষ্ণু আর মহেশ্বর। আমাদের তিনটে লোক- স্বর্গ, মর্ত্য আর পাতাল।মনে করা হয় তিনটি পাতা সৃষ্টি কর্তা, পালন কর্তা এবং সংহার কর্তা কে বোঝায়।শিব লিঙ্গে বেলপাতা অর্পণ করার কিছু বিধি নিষেধ আছে। চতুর্থী, অষ্টমী, নবমী, চতুর্দশী, অমাবস্যা, সংক্রান্তি ও সোমবার বেলপাতা তুলতে নেই।শুধু বেলপাতা অর্পণ করবেন না বেলপাতার সঙ্গে জলধারাও অর্পণ করবেন।পাতা বিশিষ্ট বেলপাতা অর্পণ করা উচিত১ বা দুই পাতা বিশিষ্ট খুঁত যুক্ত পাতা কখনও অর্পণ করবেননা।বেলপাতার মধ্যবর্তী পাতাটি ধরে অর্পণ করতে হয়।যাদের বিবাহে বাঁধা আসছে তারা ১০৮ টি বেলপাতা নিয়ে তাতে লাল চন্দন দিয়ে ত্রিপুন্ড বানান তার পর ওম নমঃ শিবায় বলে একটি একটি করে বেলপাতা শিবলিঙ্গে অর্পণ করতে থাকুন এই ভাবে ১০৮ টি পাতা নিবেদন করুন। বিবাহের বাঁধা দূর হবে।আগামী পর্বে আবার কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদে সামনে।থাকবে এমনই গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় বিধি নিষেধ। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরের প্রতিষ্ঠা দিবস এবং বাৎসরিক উৎসব

আজ আমার জীবনের এবং মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের প্রতিটি ভক্তের জন্য একটি বিশেষ দিন।তিথি অনুযায়ী আজ আমাদের আরাধ্যা দেবী মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের প্রতিষ্ঠা দিবস এবং বাৎসরিক উৎসব।ব্যাক্তিগত ভাবে আমি নিজে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে মা সর্ব মঙ্গলার সেবক এবং উপাসক হিসেবে মা সর্বমঙ্গলা আরাধনায় নিয়োজিত রয়েছি|তবে অনুষ্ঠানিক ভাবে বেশ কয়েক বছর আগে এক ফল হারিনী অমাবস্যার পুন্য তিথিতে আপনাদের হৃদয়েশ্বরী সর্ব মঙ্গলা মন্দিরের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছিলো সর্ব সাধারণের জন্যে আমার হৃদয়পুর স্থিত বাস ভবনে। পরবর্তীতে মন্দির স্থানীনান্তরিত হয়। এবং নব রূপে সংস্কার ও শাস্ত্র মতে পুনয়ার পূজোআরম্ভ হয়।আজ দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে প্রতিষ্ঠা দিবস পালন এবং বাৎসরিক পুজোর আয়োজন করা হয়েছে।দেবী সর্বমঙ্গলা শক্তিস্বরূপা,তার পুজোয় ভক্তের সার্বিক উন্নতি হয়, মঙ্গল হয় তাই তিনি সর্ব মঙ্গলা, আর আমার ইষ্ট দেবী হৃদয়েশ্বরী মা সর্ব মঙ্গলা অত্যান্ত জাগ্রত ও ভক্তের মনোস্কামনা পুরুন করতে তার কোনো জুড়ি নেই। বিগত বছর গুলিতে তার চরনে রাখা প্রত্যেকের মনোস্কামনা তিনি পূর্ণ করেন প্রতিটি বিশেষ তিথিতে তার দরবারে অনুষ্টিত হোম যজ্ঞ ও দোষ খণ্ডন সব দিক দিয়ে সার্থক ও সফল হয়েছে|যেমন টা আপনারা ছবিতে বা ভিডিওতে দেখেছেন দেবী সর্বমঙ্গলা অষ্টাদশভূজা সিংহবাহিনী ‘মহিষমর্দিনী’ মহালক্ষীরূপিণী|কষ্টি পাথরে নির্মিত হওয়ায় দেবী মূর্তি স্বাভাবিক ভাবেই ঘোর কৃষ্ণবর্ণের |তাছাড়া তিনি আদ্যা শক্তি মহামায়ার রূপ বিশেষ তাই করল বদনা হওয়াটাই স্বাভাবিক|আমার গৃহমন্দিরে স্থাপিত হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার রূপ সৃষ্টির খেত্রে তার আদি ও প্রাচীনতম প্রচলিত রূপকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছে| তিনি দূর্গা ও কালীর সম্মিলিত রূপ|প্রতিটি অমাবস্যায় হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার মন্দিরে পুজো হয় তন্ত্র মতে, শাস্ত্রীয় উপাচার অনুসরণ করে, হোম যজ্ঞ, চন্ডী পাঠ সবাই হয়, এই দিন ভোগ রান্না থেকে শুরু করে প্রসাদ বিতরণ হয় নিষ্ঠার সাথে তবে বলি প্রথার কোনো স্থান নেই মন্দিরে|আপনারা হয়তো জানেন জ্যোতিষ সংক্রান্ত সমস্যার প্রতিকার যেমন রত্ন বা কবজ ধারনের মাধ্যমে হয় তেমনি সঠিক পদ্ধতিতে মন্ত্র উচ্চারণ পূজা পাঠ ও হোম যজ্ঞের মাধ্যমে গ্রহদোষ খণ্ডনের মাধ্যমেও হয়|সেক্ষেত্রে হৃদয়েস্বরী সর্ব মঙ্গলা মায়ের মন্দিরে আমি নিজে উপস্থিত থেকে প্রতি অমাবস্যায় শাস্ত্র মতে এই আধ্যাত্মিক কর্মকান্ড সম্পন্ন করি।আজ অবধি অসংখ্য মানুষ উপকৃত হয়েছেন এই সর্ব মঙ্গলা মায়ের মন্দিরে গ্রহ দোষ খণ্ডন করিয়ে। অনেকের জীবনের অনেক বাঁধা বিপত্তি দূর হয়ে জীবনে সাফল্য, সুখ ও সমৃদ্ধি এসেছে, অনেকেই এর কৃতিত্ব আমাকে দেন , তবে আমি বলি আমি নিমিত্ত মাত্র, এই মন্দিরের সাথে যুক্ত হওয়া ও এই আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা সবটাই মা হৃদয়েশ্বরীরে ইচ্ছে, আপনারা আসুন , যুক্ত হন, নিজের যেকোনো সমস্যা মাকে জানান, অসংখ্য মানুষ উপকৃত হয়েছেন, মায়ের কৃপা লাভ করেছেন, আপনারাও পারবেন মনে ইচ্ছা ও ভক্তি থাকলেই হবে|বিশেষ বিশেষ তিথিতে মন্দিরে পূজা পক্রিয়া এবং সব তথ্য সর্বমঙ্গলা মন্দিরে ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া পেজে পাবেন।এবার ও তার ব্যাতিক্রম হবেনা। অনলাইনে এবং অফলাইন আপনার আপনারা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলা মায়ের মন্দিরে সাথে যুক্ত হতে পারেন।সবাইকে জা নাই স্বাগত।জয় মা হৃদয়েশ্বরী সর্বমঙ্গলার জয়|পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।