Home Blog Page 79

বাংলার শিব – খড়দার ছাব্বিশ শিব মন্দিরের ইতিহাস 

বাংলার শিব – খড়দার ছাব্বিশ শিব মন্দিরের ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ আপনাদের নবাবী আমলে গড়ে ওঠা প্রাচীন এক শিব মন্দিরের ইতিহাস জানাবো। তবে শিব মন্দির ঠিক একটি নয় ছাব্বিশটি এবং এটাই এই শিব মন্দিরের বিশেষত্ব। কিভাবে এই ছাব্বিশ শিব মন্দির তৈরী হয় এবং কে করেন এই ঐতিহাসিক নির্মাণ সব জানতে গেলে পুরোটা দেখতে হবে।

 

অভিভক্ত বাংলা বিহার উড়িষ্যায় পলাশী যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে নবাব বংশের সূর্য যখন অস্তমিত তখন সেই সময়ে এক শ্রেণীর মানুষ ব্রিটিশদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপন করে প্রচুর ধন সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন। তাদের মধ্যে অনেকেই পরে হয়ে উঠলেন এক একজন

ধনী জমিদার।

 

এমনই এক উঠতি জমিদার ছিলেন রামহরি বিশ্বাস যিনি ব্রিটিশ কোম্পানির হয়ে দেওয়ানী করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেন। দানবীর ও ধর্মীয় কাজে উৎসাহী হিসাবে নাম হয় তার।

তিনি এক সময়ে খড়দায় বিরাট এক প্রাসাদ

নির্মাণ করে বাস করতে শুরু করেন। এই জমিদার ছিলেন শিব ভক্ত। তিনি খড়দায় বারোটি

আটচালা শিব মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

 

পরবর্তীতে ১৮০৩ সালে জমিদার রামহরি

বিশ্বাস মারা যাওয়ার পর তাঁর দুই পুত্র প্রাণকৃষ্ণ বিশ্বাস ও জগমোহন বিশ্বাস জমিদারি দেখা শোনা করতেন তারাও ছিলেন ধার্মিক।শোনা যায় এলাকায় তীর্থযাত্রীদের তীর্থ কর দিতে হতো। জগমোহন বিশ্বাস এককালীন দু লক্ষ টাকা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঘরে জমা দিয়ে সেই কর চিরদিনের মতো মুকুব করিয়ে দেন।

 

প্রাণকৃষ্ণ বিশ্বাসের তন্ত্র চর্চার অভ্যাস ছিল।পাশাপাশি শিবের উপাষক ছিলেন। তিনি পিতার তৈরি দ্বাদশ শিবমন্দিরের পরে আরও চোদ্দটি আটচালার শিব মন্দির তৈরী করেন। সেই নিয়ে খড়দহতে তাদের জমিদারিতে মোট ছাব্বিশটি মন্দির স্থাপিত হয়।একত্রে ছাব্বিশ শিব মন্দির বাংলা তথা গোটা দেশে আর আছে বলে শোনা যায়না।

 

জনশ্রুতি আছে প্রাণকৃষ্ণ বিশ্বাস তাদের শিব মন্দিরে শ্রীক্ষেত্র পুরীর মতো একটি ‘রত্নবেদী’ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। সেই জন্য তিনি

আশি হাজার শালগ্রাম শিলা ও কুড়ি হাজার বাণলিঙ্গ সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু ১৮৩৫

সালে অকাল প্রয়াণের পর সেই প্রক্রিয়া

অসম্পূর্ন থেকে যায়।

 

আজও বাংলার এই ঐতিহাসিক শিব মন্দির একটি অপূর্ব পুড়াতাত্ত্বিক এবং ধর্মীয়

নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে স্বমহিমায়।

 

ফিরে আসবো এমনই কোনো এক প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক শিব মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে যথা সময়ে আবার ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – চন্দনেশ্বর শিব মন্দিরের ইতিহাস

বাংলার শিব – চন্দনেশ্বর শিব মন্দিরের ইতিহাস

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলার কাছেই ওড়িশার চন্দনেশ্বর মন্দির অত্যন্ত জাগ্রত ব্যাপারে। একাধিক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় এই শিব মন্দিরকে কেন্দ্র করে।

পাতাল ফুঁড়ে উঠে আসায় এখানে শিব স্বয়ম্ভূ। বর্গী আমলে তৈরী এই মন্দিরের বয়স প্রায় তিনশো বছরের কাছাকাছি। আগে এখানে ছিল হোগলা বনের জঙ্গল আর কাজুর গাছ।হিংস্র জীব,বিষাক্ত সাপ এবং ডাকাত দের স্বর্গ রাজ্য ছিলো এই এলাকা।

শোনা যায় লক্ষ্মী নামে এক অসহায় মহিলা শিবলিঙ্গটির দর্শন পান।প্রতিদিন তিনি গোরু চরাতে বের হতেন। কিন্তু, সেই গোরু ঠিকমতো দুধ নাদেওয়ায় পরিবারের লোকজন লক্ষ্মীকেই বাড়িছাড়া করেছিল। সেই সময়ই লক্ষ্মী নিজের গোরুর পিছু নিয়ে দেখতে পান জঙ্গলের মধ্যে গোরুটি এক চম্পক গাছের তলায় শিবলিঙ্গের সামনের বসে আছে। ঠিক যেনো শিবের সামনে রাখা নন্দী মূর্তি আর সেই শিবলিঙ্গে কোথা থেকে যেন ফুল, জল বেলপাতা নিজে থেকেই পড়ছে।তারপর পুজো শেষে মাটির তলায় চলে যাচ্ছে ওই শিবলিঙ্গ।এও অলৌকিক দৃশ্য দেখে সেই মহিলা তা সবাইকে জানায়। ধীরে ধীরে লোক মুখে এই শিবের মহিমা প্রচারিত হয়। তৈরী হয় চন্দনেশ্বর শিব মন্দির।

ভক্তদের রোগব্যাধি দূর করা। বিভিন্ন মনস্কামনা পূরণ। সংস্কারে শান্তি ফেরানো। এমন হাজারো সমস্যায় এই চন্দনেশ্বর মন্দির অঞ্চলের শিব ভক্তদের ভরসাস্থল। দূর-দূরান্ত থেকে চৈত্র এবং শ্রাবন মাসে বিশেষ পুজো উপলক্ষে বহু ভক্ত আসেন এই শিব মন্দিরে।নিজ নিজ মনোস্কামনা নিয়ে।ভক্তবৎসল চন্দনেশ্বর সবার মনোস্কামনা পূরণ বলে বিশ্বাস।

আরো একটি অলৌকিক ঘটনা এই মন্দির চত্বরে কান পাতলেই শোনা যায়।এই মন্দিরে একটি পুকুর আছে। সেখানে চড়কের সময় তিনটি কাঠ পাওয়া যায়। চড়কের প্রধান সন্ন্যাসী তিনটি কাঠের মধ্যে একটিকে সিঁদুর দিয়ে পুজো করেন। তারপর যথা সময়ে সেই কাঠ নিজে থেকেই অদৃশ্য হয়ে যায়। এমনটা প্রতিবছর ঘটছে বলেই ভক্তরা দাবী করেন।

ফিরে আসবো বাংলার শিবের পরবর্তী পর্ব নিয়ে আগামী দিনে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দোল পূর্ণিমার আধ্যাত্মিক এবং পৌরাণিক ব্যাখ্যা

দোল পূর্ণিমার আধ্যাত্মিক এবং পৌরাণিক ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ এই বিশেষ পর্বের শুরুতেই সবাইকে জানাই

দোল পূর্ণিমার শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।

দোল পূর্ণিমার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিয়ে আজ আলোচনা করবো।

 

এই ফাল্গুনী পূর্ণিমা বা দোল পূর্ণিমায় ‘দোলযাত্রা’ আয়োজিত হয়। আর ‘হোলি’ পালিত হয় তারপরের দিন।ফাল্গ‌ুনী পূর্ণিমা বা দোলপূর্ণিমার দিন বৃন্দাবনে শ্রীকৃষ্ণ আবির বা গুলাল নিয়ে রাধিকা ও অন্যান্য গোপীগণের সঙ্গে রং খেলায় মেতেছিলেন।মনে করা হয় সেই ঘটনা থেকেই

দোল খেলার উৎপত্তি হয়েছে।

 

শ্রীকৃষ্ণের জন্মভূমি হিসেবে পরিচিত মথুরা ও রাধার জন্মস্থান বৃন্দাবনে ষোলো দিন ধরে এই

দোল উৎসব পালিত হয়। এই তিথিতেই শ্রীকৃষ্ণ রাধিকাকে প্রেম নিবেদন করেছিলেন।তাই দোল পূর্ণিমা মূলত রাধা কৃষ্ণের প্রেম

উদযাপনের উৎসব।

 

আবার হোলির উৎপত্তি এক পৌরাণিক ঘটনা থেকে।রাজা হিরণ্যকশিপুর পুত্র ছিল প্রহল্লাদ। সে ছিল একজন ধর্মপ্রাণ বালক। বিষ্ণুর শত্রু হিরণ্য কশিপু এই প্রহল্লাদকে আগুনে পুড়িয়ে মারার প্রচেষ্টা করেন। হিরণ্যকশিপুর বোন হোলিকা সেই উদ্দেশে প্রহল্লাদকে নিয়ে আগুনে ঝাঁপ দেন । হোলিকা ভেবেছিলেন তিনি তাঁর মায়াবী ক্ষমতাবলে বেঁচে যাবেন এবং পুড়ে ছাই হয়ে যাবে প্রহল্লাদ। কিন্তু আদতে দেখা যায় তার উল্টোটাই হয়। বিষ্ণুভক্ত বালকের গায়ে আগুনের এতটুকু আঁচও লাগেনি। অন্যদিকে আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয় হোলিকার কন্যার। তারপর থেকেই এই অশুভ শক্তির পরাজয় ও শুভ শক্তির জয়কে উদযাপন করতে পালিত হয় হোলি উৎসব।

 

তবে বাংলার দোল একটু আলাদা শাস্ত্রের পাশাপাশি এ এক মিলনা উৎসব যা বসন্ত উৎসব নামে পালন হয়। যেখানে জাতী ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ এক রঙে মেতে ওঠে। আবার চৈতন্যদেবের সাথেও ও দোল পূর্ণিমার সম্পর্ক আছে কারন এই দোল পূর্ণিমা তিথি শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথি।পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার নবদ্বীপ, মায়াপুর, কৃষ্ণনগরে এই তিথি উপলক্ষে বিশেষ পুজো ও উৎসবের আয়োজন করা হয়। ওড়িশাতেও ধুমধাম করে পালিত হয় শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মতিথি।

 

দোল বলুন আর হোলি বলুন দুটোই নিজেকে রাঙিয়ে নেয়ার উৎসব।তারুণ্যর উৎসব|অশুভ শক্তিকে বিদায় জানিয়ে শুভ শক্তিকে স্বাগত জানানোর উৎসব।নতুনের রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নেয়ার উৎসব।সবাইকে আরো একবার জানাই দোল পূর্ণিমার শুভেচ্ছ ও অভিনন্দন।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – জলেস্বর শিব মন্দিরের ইতিহাস

  • বাংলার শিব – জলেস্বর শিব মন্দিরের ইতিহাস

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ বাংলার আরেকটি প্রাচীন ও প্রসিদ্ধ শিবমন্দিরের কথা আপনাদের বলবো।

আজকে পর্বে নদিয়ার জলেস্বর শিব মন্দির।

 

নদিয়ার শান্তিপুরে ‘জলেশ্বর শিব মন্দির’ বাংলার অন্যতম প্রাচীন শৈবতীর্থ। এখানে রয়েছে কষ্টিপাথরের বিশাল আকারের শিবলিঙ্গ। মন্দিরকে কেন্দ্র করে রয়েছে অসংখ্য অলৌকিক কাহিনী|শোনা যায় এক বছর খরায় চাষের কাজ বন্ধ হয়ে যায়, প্রায় দুর্ভিক্ষ হওয়ার উপক্রম,প্রচণ্ড সমস্যায় পড়ে শান্তিপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ|গ্রামের চাষিরা এক শিবলিঙ্গের মাথায় প্রচুর জল ঢালেন বৃষ্টির প্রার্থনায়। অলৌকিক ভাবে তার পরেই বৃষ্টি নামে। শস্য-শ্যামলা হয়ে ওঠে ধরিত্রী। সেই থেকেই মন্দিরের নাম হয় ‘জলেশ্বর’|

 

এই মন্দিরের ইতিহাস খুব প্রাচীন তবে জলেশ্বর মন্দিরে কোনও প্রতিষ্ঠালিপি নেই।তাই সঠিক দিনক্ষণ জানা যায়না তবে ‘নদিয়া গেজেটিয়ার’ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় চারশো বছরের প্রাচীন এই মন্দির, নির্মাণ করেছিলেন তৎকালীন নদিয়া রাজ রাঘব রায়। তাঁর রাজত্বকাল ছিল আনুমানিক ১৬৩২ থেকে ১৬৮৩ খ্রিস্টাব্দ। সেই সূত্রেই মনে করা হয় ওই সময়ের মধ্যেই মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়|

 

সারা বছরই শিব ভক্তদের আনাগোনা লেগে থাকে এই মন্দিরে তবে চৈত্র মাসে এবং শ্রাবণ মাস জুড়ে এই মন্দিরে প্রচুর মানুষ পুজো দেন। পাশাপাশি শিবের মাথায় জল ঢালতেও প্রতি দিন ভক্ত সমাগম হয়। আর শ্রাবণের শেষ সোমবারে ভক্তদের ভিড় কার্যত উপচে পড়ে|চৈত্র মাস এবং নীল ষষ্ঠীতেও এখানে বিশেষ পুজো উপলক্ষে

বহু শিব ভক্ত আসেন।এই চৈত্র মাসে আসন্ন নীল সময়ে আপনারাও পারলে অবশ্যই দর্শন করবেন জলেস্বর শিব মন্দির|

 

আজ এখানেই শেষ করলাম বাংলার শিব চলতে থাকবে আমার এই ধারাবাহিক অনুষ্ঠান। ফিরে আসবো বাংলার শিব নিয়ে পরের পর্বে।

সঙ্গে থাকুন। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – একশো আট শিব মন্দির

বাংলার শিব – একশো আট শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

একটি দুটি এমনকি ছাব্বিশ টি শিব মন্দির একত্রে এই বাংলায় দেখা যায় কিন্তু একসাথে একশো আটটি শিব মন্দির বাংলা কেনো গোটা দেশের মধ্যেই অত্যন্ত বিরল নিদর্শন। আজকের পর্বে আপনাদের এমনই এক শিব মন্দিরের কথা জানাবো ।

 

সারা ভারতে ১০৮ শিবমন্দির মাত্র দু’টি জায়গায় আছে। এবং এই দু’টি জায়গাই বাংলায়, পূর্ব বর্ধমানে। প্রথমটি বর্ধমান শহরের উপকণ্ঠে নবাবহাটে এবং দ্বিতীয়টি কালনাতে|

 

সারা দেশে ১০৮ শিবমন্দির রূপে প্রচারিত হলেও কালনার এই মন্দিরের প্রকৃত নাম ‘নবকৈলাস মন্দির।বর্ধমানের রাজা তেজচন্দ্র ১৮০৯ সালে কালনার এই মন্দিরটি নির্মাণ করান যেখানে সাদা ও কালো শিব লিঙ্গের বৈচিত্রপূর্ণ সমাহার লক্ষ্য করা যায়, মনে করা হয় সাদা রং ত্যাগের প্রতীক এবং কালো ভোগের প্রতীক|

 

এই প্রসঙ্গে বলে রাখি বাড়িতে স্বেত বর্ণের শিব লিঙ্গ রাখার নিয়ম নেই। স্বেত বর্ণের শিব লিঙ্গ রাখলে তা মন্দিরে রাখতে হয় এবং নিত্য পুজো করতে হয়।

 

এই কালনা রাজবাড়ি চত্বরের দক্ষিণ দিকে এই ১০৮ শিবমন্দির দু’টি বৃত্তকে কেন্দ্র করে নির্মিত। 

মোট ৭১টি সাদা ও ৩৭টি কালো শিবলিঙ্গ নিয়ে এই মন্দির অবস্থান করছে ভিতরের বৃত্তের মাঝখানে রয়েছে একটি বিরাট কূপ। অনেকেই মনে করেন মন্দিরের পুজোর কাজে জলের চাহিদা মেটানোর জন্যই এই কূপ খনন করা হয়।আবার অন্য মতে এই বৃহৎ কূপটি শূন্য তথা নিরাকার ব্রহ্মস্বরূপ পরম শিবের প্রতীক|এই কূপ ঘিরেও তাই রহস্যর শেষ নেই।

 

সেই রাজাও আর নেই কোনো রাজকীয় রীতি নীতি তবে নব কৈলাশ শিব মন্দির একাধারে ঐতিহাসিক এবং ধার্মিক স্থল হিসেবে স্বমহিমায় বিরাজমান।

 

দেশ বিদেশের বহু তীর্থযাত্রী প্রায় সারা বছরই আসেন এই অপূর্ব শিব মন্দির দর্শন করতে চৈত্র সংক্রান্তি এবং মহা শিব রাত্রি উপলক্ষে এখানে বহু শিব ভক্তের ভিড় হয়।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে বাংলার আরো একটি শিব মন্দিরের কথা নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – রাজরাজেশ্বর শিব

বাংলার শিব – রাজরাজেশ্বর শিব

 

পন্ডিত ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র মাস উপলক্ষে শুরু করেছি বাংলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত প্রাচীন শিব মন্দির নিয়ে আলোচনা আজকের পর্বে লিখবো পূর্ব ভারতে সবচেয়ে

বড় কালো পাথরের শিবলিঙ্গ নিয়ে।

 

বাংলার নদিয়া জেলার মাজদিয়ার কাছে শিবনিবাস গ্রাম আর এই গ্রামেই রয়েছে এই সর্ববৃহৎ ও অন্যতম প্রাচীন শিব লিঙ্গ টি যার নাম রাজ রাজেশ্বর শিব।

 

বাংলার ইতিহাস বলছে নবাবী আমলে কৃষ্ণচন্দ্র বাংলায় বর্গী আক্রমণের সময় তাঁর রাজধানী কৃষ্ণনগর থেকে মাজদিয়ায় সরিয়ে আনেন।শিবের নামে তার রাজধানীর নামকরণ করেন শিবনিবাস৷ এখানে তিনি এক সুন্দর রাজপ্রাসাদ এবং কয়েকটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন৷ তারমধ্যে তিনটি মন্দির এখনও অবশিষ্ট হয়েছে৷ এরমধ্যে সবচেয়ে পুরোনো মন্দিরটি হল রাজরাজেশ্বর শিবমন্দির।শিব এখানে রাজরাজেশ্বর নামে পরিচিত|

 

মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্র কতৃক ১৭৫৪ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয় মন্দিরটি৷ লোকমুখে বুড়ো শিবের মন্দির বলে খ্যাত এই মন্দির, চুড়ো সমেত এই মন্দিরের উচ্চতা ১২০ ফুট যা বাংলার মধ্যে অন্যতম, মন্দিরের ভিতর কালো শিবলিঙ্গ, উচ্চতা ১১ ফুটের বেশি বেড় ৩৬ ফুট। সিঁড়ি দিয়ে উঠে শিবের মাথায় জল ঢালতে হয়।

 

শিব মন্দির প্রাঙ্গনে রাজ পরিবার কতৃক নির্মিত রামসীতার মন্দির ও আছে।তবে এই শিব খেত্রের সব থেকে বড়ো আকর্ষণ নিঃসন্দেহে এই রাজ রাজেশ্বর শিব লিঙ্গ।

 

পূর্ব ভারতে এতো বড় শিবলিঙ্গ আর নেই।স্বাভাবিক ভাবেই এই বৃহৎ আকৃতির শিব লিঙ্গ নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। তবে সব কিছু কে ছাপিয়ে যায় ভক্তি আর আস্থা।এই চৈত্র মাস এবং শ্রাবন মাসে বাংলার বহু শিব ভক্তের গন্তব্য হয় এই রাজ রাজেশ্বর শিবের মন্দির।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। চৈত্র মাস ধরে চলতে থাকবে বাংলার প্রাচিন শিব মন্দির গুলি নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – এক্তেশ্বর শিবের পুজো

বাংলার শিব – এক্তেশ্বর শিবের পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ বাংলার মন্দির নগরী বা বিষ্ণুপুরের কাছেই বাঁকুড়ার একটি প্রসিদ্ধ শিব মন্দিরের কথা আপনাদের জানাবো |এই মন্দিরে স্থাপিত শিব এক্তেশ্বর নামে খ্যাত|এই মন্দির ও শিব লিঙ্গ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে অসংখ্য লোককাহিনী এবং অলৌকিক ঘটনা|

 

বর্তমানে ল্যাটেরাইট তৈরি সুগঠিত পশ্চিমমুখী মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। ভক্তদের একাংশের ধারণা সেই দ্বাপর যুগ থেকে এই শিব এখানে বিরাজ করছেন এই মন্দিরটি দ পাণ্ডবদের সময় নির্মিত হয়েছিল। যা তৈরি করেছিলেন স্বয়ং দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা। মন্দিরের গর্ভগৃহের মধ্যে রয়েছে কুণ্ড। যার মধ্যে রয়েছে শিবলিঙ্গ। অনেকের মধ্যে শিবলিঙ্গ নিয়ে এসে এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দৈত্যগুরু শুক্রাচার্য।পৌরাণিক ব্যাখ্যা যাই হোক এই অঞ্চলের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে এই শিব মন্দির।

 

প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে যে জনগোষ্ঠী বাস করতো তাঁরা নিজেদের সূর্যের সন্তান বলে প্রচার করতেন। এই আদিবাসীরা ছিলেন একেশ্বরবাদী অনেকে মনে করেন একঈশ্বর থেকে এক্তেশ্বর নামটি সৃষ্টি হয়েছে|বর্তমানে বাঁকুড়া শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে দ্বারকেশ্বর নদের বাম তীরে এই প্রাচীন শিব মন্দির অবস্থিত|মন্দিরের কুণ্ডের মধ্যে যে শিবলিঙ্গটি রয়েছে সেটি কিছুটা বাঁকা ভাবে অবস্থান করছে|অনেকে মনে করেন এই কিঞ্চিৎ বাঁকা শিবলিঙ্গ থেকেই বাঁকুড়া

নামের উৎপত্তি|

 

একটি প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজার সঙ্গে ছাতনার সামন্তভূমের রাজার রাজ্য সীমানা নিয়ে বিবাদ চরম আকার নিলে তার মীমাংসা করতে আসেন স্বয়ং শিব পরবর্তীতে বিবাদিত অঞ্চলের সীমানার সংযোগস্থলে একতার প্রতীক হিসেবে এই এক্তেশ্বর মন্দির স্থাপিত হয়|

 

শুধু বাঁকুড়া বা বাংলা নয় সারা বিশ্বের শিব ভক্ত দের কাছে একটি প্রসিদ্ধ তীর্থক্ষেত্র এই এক্তেশ্বর শিব মন্দির|শ্রাবন এবং চৈত্র মাস উপলক্ষে এখানে কয়েক হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়।সেই সময়ে এই শিব পুজোকে কেন্দ্র করে মেলাও বসে|

 

আবার পরবর্তী পর্বে অন্য কোনো প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|

সঙ্গে থাকুন। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – তারকেশ্বর শিবমন্দিরের ইতিহাস

বাংলার শিব – তারকেশ্বর শিবমন্দিরের ইতিহাস

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলার শৈব্য তীর্থ ক্ষেত্র গুলির মধ্যে
অন্যতম হুগলীতে অবস্থিত তারকেশ্বর শিব মন্দির দেশ বিদেশের শিব ভক্ত দের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থ ক্ষেত্র এই স্থান। আজকের বাংলার শিব পর্বে এই শিবমন্দিরের কথা লিখবো।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে ষোড়শ শতাব্দীর শেষ দিকে এই অঞ্চলে বিষ্ণুদাস নামে এক স্থানীয় ক্ষত্রিয় রাজা রাজত্ব করতেন।রাজার ভাই ভারমল্ল রোজ বনে যেতেন ফলমূল ও মধু সংগ্রহ করতে।
তিনি ছিলেন যোগী পুরুষ এবং একজন একনিষ্ট শিব ভক্ত। তিনি প্রায়ই তিনি লক্ষ করতেন একটি বড় কালো রঙের শিলাখণ্ডের ওপর গাভীরা এসে নিয়মিত দুধ দিয়ে য়ায়। এই অদ্ভুত ঘটনা তিনি তাঁর দাদাকে বলেন। বিষ্ণুদাস নিজেও ছিলেন
শিবের উপাষক বনে এসে এই দৃশ্য দেখে শিহরিত হন। তৎক্ষণাৎ রাজা ভারামল্ল তখন ঐ শিলাস্তম্ভকে শিব লিঙ্গরূপে রাজ প্রাসাদের কাছে শিব মন্দির বানিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হলেন। বহু মাটি খুঁড়েও সেই পাথরের উৎস খুঁজে পাওয়া গেল না।

তারপর রাজা যখন বাধ্য হয়ে হাল ছেড়ে দিলেন তখন এক রাতে রাজার ভাই ভারামল্ল স্বপ্ন দেখলেন, স্বয়ং শিব তাঁকে জানাচ্ছেন যে, তিনি তারকেশ্বর শিব। তিনি ঐ স্থান থেকে গয়া ও কাশী পর্যন্ত ছড়িয়ে আছেন। সুতরাং তাঁকে সেই
জঙ্গল থেকে উচ্ছেদ না করে ওখানেই তাঁকে প্রতিষ্ঠা করা হোক।

তারপরে রাজার আদেশে বন কেটে পরিষ্কার সেই স্থানেই সেই প্রস্তর স্তম্ভের উপর একটি মন্দির নির্মাণ হয় এবং শিবের সেবা পুজো করবার জন্য এক জন সেবক নিয়োগ করা হয়।ধীরে ধীরে তারকেশ্বর শিবের মহিমা সারা রাজ্যে তথা দেশে চড়িয়ে পড়ে বহু শিব ভক্ত আসতে শুরু করেন শোনা যায় তারকেশ্বর শিব সবার সব মনোস্কামনা পূর্ণ করেন

তারকেশ্বর শিব মন্দিরটি বাংলা আটচালা শৈলীতে তৈরী মন্দির। মন্দিরের সামনে একটি
নাটমন্দির অবস্থিত এবং কাছেই দেবী এবং লক্ষী নারায়ণের দুটি মন্দির রয়েছে। মন্দিরের উত্তরে অবস্থিত পুকুরটির নাম দুধপুকুর। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই পুকুরে স্নান করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয় বিশেষ বিশেষ তিথিতে অসংখ্য মানুষ এই পুকুরে স্নান করেন।চৈত্র মাস এবং শ্রাবন মাসে
বহু শিব ভক্ত আসেন এই পবিত্র স্থানে।

ফিরে আসবো আরো একটি শিব মন্দিরের প্রাচীন ইতিহাস এবং অলৌকিক ঘটনা নিয়ে।
আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – শেকলে বাঁধা শিব

বাংলার শিব – শেকলে বাঁধা শিব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার বিশেষ করে কলকাতার কালী মন্দির নিয়ে অনেক অনুষ্ঠান করছি আজ আপনাদের কলকাতার এক আজব শিব মন্দিরের কথা জানাবো । কেনো আজব বলছি তা পুরোটা

পরলে বুঝবেন।

 

দক্ষিণ কলকাতার নিমতলা স্ট্রিট এলাকায় ১৬ নম্বর মহম্মদ রমজান লেনে অবস্থিত বহু পুরনো বুড়ো শিব মন্দির বা মোটা শিব মন্দির দর্শনার্থীদের কাছে একটি অন্যতম আকর্ষণীয় জায়গা। প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতা, ২৪ ফুট লম্বা এবং ৩০ ফুট চওড়া এই সুবিশাল প্রাচীন ভাঙাচোরা মন্দিরটি বাংলার আটচালা মন্দিরের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মন্দিরের মাথা থেকে গা পর্যন্ত নেমে এসেছে বটের ঝুরি, যা দেখতে অনেকটা শিবের জটার মত। প্রায় পাশ দিয়ে বয়ে গেছে গঙ্গা।

 

ব্রিটিশ শাসিত কলকাতার অন্যতম গণ্যমান্য ব্যক্তি হাটখোলার দত্ত পরিবারের মদনমোহন দত্তের দুই পুত্র রসিকলাল দত্ত এবং জহরলাল দত্ত আনুমানিক ১৭৯৪ সালে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২২৭ বছরের পুরনো এই ভগ্নপ্রায় আটচালা মন্দির সম্পর্কে বেশ কিছু লোককথা কথিত আছে সে নিয়ে পরে বলবো আগে শিব লিঙ্গের কথা বলি।

 

মন্দিরের ভিতরে রয়েছে কালো পাথরের তৈরি প্রায় ১০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একটি শিবলিঙ্গ যার পোশাকি নাম দুর্গেশ্বর শিব। তবে এই শিবলিঙ্গের বিরাট আকার দেখে ভক্তরা এনাকে মোটা শিব নামে সম্বোধন করেন।শিবলিঙ্গ এতটাই চওড়া এবং উঁচু যে বিভিন্ন পূজা অনুষ্ঠানে শিবলিঙ্গে জল ঢালার জন্য ব্যবহার হয় একটি বড় লোহার সিঁড়ি।

 

এবার সেই লোককথা প্রসঙ্গে আসি।শোনা যায়, বহুকাল আগে এই মন্দিরের একজন পুরোহিত রাত্রিবেলা পুজো শেষ করে মন্দিরের দরজা বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যান। পরদিন সকালে এসে মন্দিরের দরজা খুলতেই তিনি দেখেন মন্দির শূন্য। শিবলিঙ্গ সেখানে নেই। বহু খোঁজার পর সেই শিবলিঙ্গকে তারা পাশে অবস্থিত গঙ্গা নদীর তীরে খুঁজে পান এবং তাঁকে আবার মন্দিরে নিয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন। এইভাবে শিবলিঙ্গ যাতে ঘুরে বেড়াতে না পারেন সেটি বন্ধ করার জন্যই এই মোটা শিবকে পরবর্তীতে শিকল দিয়ে আবদ্ধ করা হয়।

 

বাংলায় কিছু কালী মন্দিরে কালী মূর্তিকে শেকলে বেঁধে রাখার রীতি আছে তবে শেকল দিয়ে শিব লিঙ্গ বেঁধে রাখার অদ্ভুত এই রীতি বোধ হয় শুধু এখানেই দেখা যায়।

 

পরের পর্বে বাংলার আরো এক শিব মন্দিরের কথা নিয়ে আবার ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব- জটেশ্বর শিবের পুজো 

বাংলার শিব- জটেশ্বর শিবের পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রীজাতক

 

আজকের বাংলার শিব পর্বে উত্তর বঙ্গের আলিপুরদুয়ারে অবস্থিত জটেশ্বর শিব মন্দির নিয়ে লিখবো । এই শিব মন্দির নিয়ে আছে অদ্ভুত এবং অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ।

 

জটেশ্বর শিব মন্দিরের বয়স আনুমানিক প্রায় দুশো বছর এই দীর্ঘ সময়ে একাধিকবার মন্দিরের সংস্কার হয়েছে এবং জটেশ্বর শিব কে নিয়ে মানুষের কৌতূহল ও অগাধ ভক্তি রয়েছে

অনেক রহস্যময় এবং অলৌকিক জনশ্রুতি প্রচলিত আছে এই মন্দির নিয়ে যার মধ্যে অন্যতম এই এই শিব লিঙ্গের আবিষ্কারের ঘটনাটি।

 

শোনা যায় একবার মন্দির সংলগ্ন কাঠালবাড়ি গ্রামের গ্রামবাসীরা লক্ষ্য করেন জঙ্গলের ভিতর একটি দুগ্ধবতীর আবির্ভাব হয় মাঝে মাঝে।

একদিন গ্রামবাসিরা লক্ষ করেন সেই গাভীর বাঁট থেকে অনবরত দুধ পড়ে যাচ্ছে এবং সেই দুধ কোনো একটি বস্তুর উপরে গিয়ে জমা হচ্ছে কৌতুহলী গ্রামবাসীগণ খানিকটা এগিয়ে গিয়ে এক অলৌকিক দৃশ্য দেখলেন তারা সামনে গিয়ে দেখতে পান মাটি ভেদ করে একট শিব

লিঙ্গ উঠে আছে এবং সেই শিব লিঙ্গে গাভীর দুধ অনবরত পড়ছে |লোক মুখে এই অলৌকিক ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লো সর্বত্র|

 

পরবর্তীতে স্থানীয় জমিদারের আদেশে লোক জন গিয়ে শয়ম্ভু শিব লিঙ্গটি উদ্ধার করে এবং সেটি বহন করে জমিদার বাড়িতে আনার সময় পথে এক স্থানে তা নামিয়ে রাখলেন বিশ্রামের জন্যে। অলৌকিক ভাবে পরে সেই স্থান থেকে শিব লিঙ্গকে ওঠানো আর সম্ভব হয়নি, এমনকি জমিদারের হাতিও ওই স্থান থেকে শিব লিঙ্গ এক চুল নাড়াতে পারেনি। সবাই বোঝেন এই স্থানেই বাবা মহাদেব বিরাজ করতে চান। পরে ঐখানেই ছোট শিব মন্দির বানিয়ে পুজো শুরু হয়|

 

এর পর দীর্ঘ সময় কেটে যায়|একদিন হঠাত্‍ করে এক দিগম্বর সাধুর আবির্ভাব ঘটলো ওই স্থানে সাধু দীর্ঘদিন পুজো দিয়েছিলন এই শিব মন্দিরে তারপর একদিন তিনি অন্তর্ধান হন |এরপর একদিন মিথিলা থেকে এক পুরোহিত এলেন

তিনি এসে স্থানীয়দের জানালেন তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়েছেন এখানে আসার জন্য এবং এই স্থানে তিনি এসে দেখেন স্বপ্নে যা যা দেখেছেন সব একশো শতাংশ সত্যি। তিনি স্থানীয় লোকেদের সাথে কথা বলে নিয়মিত পুজোর ব্যাবস্থা করেন তৈরি হয় সুন্দর এক বৃহৎ শিব মন্দির|

জটেশ্বর মহাদেব নামে এখানে পূজিত হন শিব|

আজও সেই শুরুর দিনের মতো শাস্ত্র মতে এখানে পুজো হয়। বাবার বহু ভক্ত আসেন নিজের নিজের মনোস্কামনা নিয়ে। বাবার দয়ায় সবার মনোস্কামনা পূর্ণ হয়।

 

বাংলায় শিব মন্দিরের সংখ্যা অসংখ্য। অলৌকিক ঘটনার সংখ্যাও প্রচুর।আবার পরের পর্বে বলবো অন্য কোনো প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা

সঙ্গে থাকুন।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।