কালী কথা : সুন্দর বনের জমিদার বাড়ির কালী পুজো

180

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

একসময় প্রত্যন্ত সুন্দরবন এলাকার কয়াল বাড়িতেই জাঁকজমক করে হতো দুর্গাপূজা। কিন্তু কালের নিয়মে বন্ধ হয়ে যায় সেই পূজা, অবসান ঘটে জমিদারীত্বের আর তারপর থেকেই স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরই শুরু হয় শ্যামা মায়ের আরাধনা।
আজ সুন্দর বনের এই প্রাচীন এই কালীপুজো নিয়ে লিখবো

এই পুজো সুন্দরবনের মথুরাপুরের জমিদার বাড়ি অর্থাৎ কয়াল বাড়ির পারিবারিক কালীপুজো। এই পুজোর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জমিদার যদু কয়াল।

বহু আগে জমিদারীত্ব সময় জমিদার কয়াল বাড়িতে  দুর্গাপুজো হত। পরবর্তীকালে নানা বাধার কারণে বন্ধ হয়ে যায় দুর্গাপুজো। তারপর পরিবারের এক সদস্যর স্বপ্নাদেশে আবার শুরু হয় পুজো। সেই শুরু কালীপুজোর যা আজও চলছে।

প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো কয়াল বাড়ির এই পুজো। এখানেও কালী মা দক্ষিনা কালী রূপে পূজিত হন। রীতি মেনে পুজোর দিনের গহনায়
তাঁর গা ভরিয়ে দেওয়া হয়।

ছোট থেকে বড়, সবাই এই পুজোতে অংশগ্রহণ করে। পুজোতে একসময় পশু বলি হতো, কিন্তু কালের নিয়মে সে পাঠা বলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই পুজোর আরও একটি বৈশিষ্ট্য আছে। আজ থেকে ২০০ বছর আগে শুরুতেই প্রতিমার যে দৈর্ঘ্য ছিল, এখনও সেই দৈর্ঘ্যেই প্রতিমা তৈরি বানানো হয়।কোনো পরিবর্তন হয়নি।

পুজোকে ঘিরে নানা অনুষ্ঠানও হয়। কাজের সূত্রে দূর দূরান্ত থেকে পরিবারের সদস্যরা, কালী পুজোর দিনে একসঙ্গে মিলিত হয়। আজও নিয়ম করে মায়ের ভোগ তৈরি হয়। এখন জমিদারীত্ব না থাকলেও পুজোর ঐতিহ্য নিষ্টার সঙ্গে পালন করে আসছে এই কয়াল পরিবার।

জলে কুমির এবং ডাঙায় বাঘ বেষ্টিত সুন্দর বোনে এই পুজো নিয়ে সাধারণ মানুষের খুব আগ্রহ এবং আস্থা আছে।

সামনে কৌশিকী অমাবস্যা
আগামী দিনে ধারাবাহিক ভাবে কালী কথায়
দেবী কালী প্রসঙ্গে আরো অনেক আলোচনা হবে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।