সাধারণত যে বনেদি বাড়ির দূর্গাপুজো নিয়ে বেশি আলোচনা হয় সেগুলি হয় কোনো ধনী জমিদার বা সেকালের কোনো রাজা মহারাজার বাড়ির পুজো আজ যে পূজো নিয়ে আলোচনা করবো তা সেই অর্থে বনেদি না হলেও আভিযাত্য বা প্রাচীনত্বের বিচারে কোনো অংশে কম নয়।পূজোর সূচনা হয়ে ছিলো দেবীর স্বপ্নাদেশে দেবী স্বয়ং বলে দিয়েছিলেন পূজোর রীতি নীতি এমনিকি পূজোর ব্যাতিক্রমী ভোগ ও দেবী নিজেই ঠিক করে দিয়েছিলেন। সেই আলোচনায় পরে আসছি তার আগে এই পূজোর সূচনার ইতিহাস এবং পটভূমি জেনে নেয়া প্রয়োজন।আজ থেকে প্রায় দুশো বছর আগে বাঁকুড়া জেলার জয়পুর থানার রাউৎখন্ড নামক প্রাচীন জনপদ ছিল তৎকালীন বর্ধমান রাজা মাহাতব চাঁদের অধীনে। এই রাউৎখণ্ড এলাকার সমস্ত খাজনা আদায় করে নৌকায় চাপিয়ে তা বর্ধমান রাজ পরিবারে পৌঁছে দিতো এক পরিবার।রাজামশাই ওই বাগদী পরিবারের পদবী দিয়েছিলেন আটপৌরি। সেই থেকে ওই গ্রামের নামও হয় আটপৌরি। পরবর্তীতে এলাকাটি বাগদীপাড়া নামে পরিচিত।একটি অলৌকিক ঘটনা এই পুজো কে কেন্দ্র করে আজও শোনা যায়। জনশ্রুতি মতে একবার সেই বাগদী পরিবারের কর্তা গ্রামের কাছেই একটি জলাশয়ে মাছ ধরতে যান। ঝড় বৃষ্টি শুরু হয় এবং তিনি কিছুতেই তাঁর মাছ ধরার জাল একা সামলাতে পারছিলেন না। তখনই এঅপরূপাসুন্দরী রমণীর আবির্ভাব হয় এবং তিনি সেই তাকে মাছ ধরায় সাহায্য করেন।বাগদী পরিবারের ওই কর্তা আগন্তুক রমণীকে তার পরিচয় জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান যে তিনি তার বাড়ির মেয়ে এবং সেই মুহূর্তে তিনি তার সঙ্গে বাড়িও আসতে চান।বাগদী পরিবারের ওই কর্তা প্রথমে রাজি না হলেও পরে রাজী হয়ে যান তাঁকে বাড়ি আনতে। দুজনে গল্প করতে করতে গ্রামের দিকে রওনা হন। সেই রমণী পেছনে এবং কর্তা আগে হাঁটতে শুরু করেন।গ্রামের কাছাকাছি পৌঁছে বাগদী পরিবারের কর্তা। পিছনে ফিরে দেখেন ওই রমণী অদৃশ্য হয়ে গিয়েছেন। মন ভারাক্রান্ত করে বাড়ি ফিরে আসেন বাগদী পরিবারের কর্তা। অলৌকিক ভাবে সেই রাতেই দেবী স্বপ্নে দেখা দেন বাগদি পরিবারের কর্তাকে এবং তাঁকে বাড়িতে দূর্গা রূপে প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করার নির্দেশ দেন। বাগদি পরিবারের কর্তা মাকে তাদের আর্থিক অভাবের কথা জানালে দেবী নির্দেশ দেন প্রতিদিন বাড়িতে যে আহার হয় তা দিয়েই যেন ভোগ নিবেদন হয়। সেই শুরু। বাড়ির সাধারণ খাবার দিয়েই ভোগ নিবেদন হয় এখানে । দেবীর নির্দেশ মেনেআজও পোড়া রুটি ও পান্তা ভাতে পুজিতা হন বাগদী পাড়ার দেবী দুর্গা। দেবী এখানে চতুর্ভুজা এবং বৈষ্ণবী রূপে বৈষ্ণব মতে পূজিতা হন।ফিরে আসবো ঐতিহাসিক দূরে পূজো নিয়ে আগামী পর্বে। থাকবে এমনই কোনো প্রাচীন দূর্গা পূজোর কথা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে বিশেষ পর্ব – গণেশ পূজোর শাস্ত্রীয় বিধি
আজ সারা দেশ জুড়ে পালিত হচ্ছে গণেশ চতুর্থী। পিছিয়ে নেই বাংলা।ইদানিং পশ্চিমবঙ্গে গণেশ আরাধনা নিয়ে উন্মাদনা বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে এনিয়ে আপনারও হয়তো সহমত হবেন।ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থী তিথিতে অনুষ্ঠিত এই গণেশ চতুর্থী শাস্ত্র মতে পালন করতে পারলেদুর্ভাগ্য, দারিদ্রতা এবং মানসিকত ও শারীরিক কষ্ট লাঘব হয় এবং সুখ ও সমৃদ্ধি আসে বলে শাস্ত্রে আছে।গণেশ চতুর্থীতে গণেশ পূজা করার আগে আসুন জেনে নিই কী ভাবে গণেশ পূজা করলে আপনার জীবনে আসবে সুখ ও সমৃদ্ধি।যাঁরা গণেশ চতুর্থীর আগেই বাড়িতে মূর্তি নিয়ে এসেছেন তাঁরা নির্দিষ্ট তিথি শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত নতুন কাপড়ে বিগ্রহের মুখ ঢেকে রাখলে ভালো করবেন । যাদের বাড়িতে গণেশ বিগ্রহ আছে এবং নিত্য পুজো হয় তাদের অবশ্য এই নিয়ম মানার প্রয়োজন নেই।গণেশ পূজোর আগে বিগ্রহের সম্মুখে চাল ছড়াতে ভুলবেন না। মূর্তি স্থাপনের আগেও চার পাশে ছড়িয়ে দিন চাল সাথে দিন সুপুরি, কাঁচা হলুদ, লাল কুমকুম ও কয়েকটি কড়ি।পুজোর মূল পর্বের প্রয়োজনীয় সামগ্রী হল লাল ফুল, দূর্বা ঘাস, মোদক, নারকেল, লাল চন্দন, ধুনো ও ধূপ।প্রথমে এই গণেশ প্রণাম মন্ত্র দিয়ে তার স্তুতি করতে পারেন।একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদর গজাননম।বিঘ্নবিনাশকং দেবং হেরম্বং পনমাম্যহম।।অর্থাৎ,যিনি একদন্ত, মহাকায়, লম্বোদর, গজানন এবং বিঘ্ননাশকারী সেই হেরম্বদেবকে আমি প্রণাম করি। তারপর ধূপ ও প্রদীপ জ্বালিয়ে শুরু করুন আরতি।গণেশ আরতির সময়ে – ” ওম গণ গণপতায় নমঃ’ মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে সহজেই গণেশকে সন্তুষ্ট করে তার কৃপা লাভ করতে পারেন।সাধারণত ষোড়শপচারে গণেশ আরাধনা হয় । গণেশ বন্দনার ১৬টি রীতির নামই ষোড়শপচার। এরপর ২১টি দূর্বা ঘাস, ২১টি মোদক ও লাল ফুল গণেশের সামনে সাজিয়ে রাখতে হবে । মূর্তির মাথায় আঁকুন লাল চন্দনের টিকা। এরপর গণেশ মূর্তির সামনে নারকেল ভেঙে অশুভ শক্তিকে দূর করুন। যদি সম্ভব হয় গণেশের ১০৮ নাম জপ করুন। মূর্তির সামনে করজোড়ে প্রার্থনা করুন পরিবারের সুখ, সমৃদ্ধির জন্য।অন্তর দিয়ে গণপতিকে ডাকলে তিনি কাউকেই খালি হাতে ফেরান না।সবাইকে জানাই গণেশ চতুর্থীর শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। বিঘ্নহর্তা গণেশর আশীর্বাদে আপনাদের সব অভাব অভিযোগ দূর হবে। ফিরে আসবো আগামী পর্বে বনেদি বাড়ির দূর্গাপূজোর ইতিহাস নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
কালী কথা – শ্যামা রুপী শ্যাম সুন্দরের পুজো
তিথি অনুসারে এবছর প্রায় দুদিন থাকছে জন্মাষ্টমী। আগের পর্বে আপনাদের কৃষ্ণ কালীর কথা বলেছি।এই কৃষ্ণ কালীর আবির্ভাবের পেছনে আরো একটি পৌরাণিক ঘটনা আছে।আজ জানাবো সেই কথা। সাথে থাকবে একটি প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক পূজোর কথা যেখানে
শতাধিক বছর ধরে কৃষ্ণকালী রূপের পুজো হচ্ছে।
ত্রেতা যুগে নারায়ণের দর্শন পেতে ঘোর তপস্যা শুরু করেন ঋষি আয়ান। দীর্ঘ তপস্যার ফলে নারায়ণ দর্শন দেন।আয়ানকে বর চাওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে আয়ান স্বয়ং লক্ষ্মীদেবীকে পাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন ।প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নারায়ণ সম্মতি দেন। সেই সঙ্গে আয়ানকে বর দেন , দ্বাপরযুগে দেবী লক্ষ্মীকে স্ত্রী হিসেবে পাবেন আয়ান। তবে তখন তাঁর নাম থাকবে রাধিকা। একই সঙ্গে আয়ান ক্লীব হয়ে জন্মাবেন। দ্বাপরযুগে রাজা বৃষভানুর কন্যা রাধিকার জন্ম হয় যিনি স্বয়ং মহালক্ষী।একসময় রাধিকার সঙ্গে কালীভক্ত আয়ানের বিয়ে হয়ে যায়। পরবর্তীতে রাধা কৃষ্ণের এক অদ্ভুত লীলার মাধ্যমে আয়ান দেবী কালীকে সাক্ষাৎ দর্শন করে তার জীবন সার্থক করেন।
এই কৃষ্ণ কালী রূপে প্রায় চারশো বছর ধরে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর স্মৃতিবিজরিত খড়দহের শ্রীপাদে চলছে শ্যামসুন্দরের পুজো। জন্মাষ্টমী বা কালী পুজো প্রতি বিশেষ তিথিতে শ্যামের সজ্জাপর্ব চলে নিখুঁত ভাবে সজ্জা পর্ব শেষ হওয়ার পর শ্যামা হয়ে ওঠেন শ্যামা। সজ্জার পর শুরু হয় পুজো।
এই পুজোর ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম কারন আনুমানিক ১৫২২ খ্রিস্টাব্দে চৈতন্য মহাপ্রভুর নির্দেশেই নবদ্বীপ ছেড়ে খড়দহে চলে এসেছিলেন তার অন্যতম শিষ্য নিত্যানন্দ প্রভু । বিবাহের পর সেখানেই বসতি স্থাপন করেন। খড়দহের পুরন্দর পণ্ডিতের দান করা ২৬ বিঘা জমিতে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর নামে ছেলে বীরভদ্র মহাপ্রভু কুঞ্জবাটিতে শ্যামসুন্দরের প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর মন্দির প্রতিষ্ঠার পর সেখানেই নিত্য পুজো পাচ্ছেন শ্যামা রুপী শ্যামসুন্দর।তার অগণিত ভক্ত ভিড় করেন এই পুজোয়।
সবাইকে আরো একবার জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানাই। কালী কথা নিয়ে আবার আগামী পর্বে
ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
কালীকথা – মহিষখাগী কালীর পুজো
শান্তিপুর তথা নদিয়ার প্রাচীন কালীপুজোগুলির মধ্যে অন্যতম মহিষখাগীর পুজো।দেবীর এই অদ্ভুত নামের কারন এক অলৌকিক ঘটনা।আজকের কালীকথায় জানাবো এই মহিষ খাগী নামক কালী পূজোর অলৌকিক বৃত্তান্ত।সময়টা আনুমানিক সাড়ে পাঁচশো বছর আগের কোনও এক সময়।বাংলায় তখন নবাবী আমল চলছে। নদীয়া রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তখন সিংহাসনে।শান্তি পুরে এক তান্ত্রিক পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে সাধনা করতে করতে মায়ের দর্শন পান।স্বপ্নে দেবী সেই তান্ত্রিককে মহিষের রক্ত দিয়ে তাঁকে পুজো করতে নির্দেশ দেন। অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয় সেই নির্দেশ।সেই থেকেই দেবীর নাম এখানে ‘মহিষখাগী’।দেবীর কাছে করা সব মনোস্কামনা সত্যি হয় এই কথা শুনে এক বার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র আটটি মহিষ বলি দিতে এসেছিলেন মায়ের কাছে। সেই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে রাত গড়িয়ে ভোর হয়ে যায়। তাই পুজোকে দুই পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছিল। বলির আগে পর্যন্ত পুজোর প্রথম পর্ব। আর বলির পরবর্তী সময়ে পুজোর দ্বিতীয় পর্ব।তবে মহিষবলী দিয়ে পুজো সম্পন্ন করে ফিরে যান মহারাজ।এই মহিষখাগীর পুজোয় একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য আছে।এখানে বিয়ের রীতি মেনে মহিষখাগীর পুজো হয়। প্রথম পাটে ওঠানোর দিনে থাকে বিভিন্ন নিয়মরীতি। পাটে ওঠানোর পর মন্দির প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করে সেই দিনই ভোররাতেই বিবাহের ন্যায় দধিমঙ্গল হয়। অমাবস্যা শুরু হলে বিয়ের রীতি মেনে পুজো হয়। আবার পরের দিন বাসি বিয়ের রীতিতে পুজো হয়।সকালে পান্তাভাত এবং খয়রা মাছের রান্না দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়।পুজো শেষে কাঁধে করে বিসর্জনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় প্রতিমা।এই রীতিই এখানে পাঁচশো বছর ধরে চলে আসছে।স্বপ্নাদেশ পাওয়া ওই তান্ত্রিকের মৃত্যুর পর স্থানীয় একটি ব্রাহ্মণ পরিবার এই পুজোর ভার নেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা এই পুজোর দায়িত্ব নেয় এবং তারাই বর্তমানে মহিষখাগী মায়ের পুজো সুন্দর ভাবে পরিচালনা করছে।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।এমনই কালী কথা নিয়ে।থাকবে এমন সব অলৌকিক ঘটনা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
কালী কথা – রামানন্দ গোস্বামীর পুজো
বাংলা জুড়ে যে সব কালীক্ষেত্র গুলি অবস্থান করছে তাদের মধ্যে বেশ কিছু মন্দিরে সাথে জড়িত আছে প্ৰখ্যাত সব সব তন্ত্র সাধকদের নামযেমন তারাপীঠে বামা ক্ষেপা, দক্ষিনেশ্বরের ঠাকুর রামকৃষ্ণে।তেমনই বর্ধমামানের মানকরের শতাব্দী প্রাচীন কালী পূজোর সাথে জড়িয়ে আছেএক সময়ের প্রসিদ্ধ তন্ত্র সাধক রামানন্দগোস্বামীর নাম।প্রায় সাতশো বছর আগে কালী পূজা শুরু করেন রামানন্দ গোস্বামী ।তাঁর সাধনার স্থান ছিল কাশ আর বেতবনে ঘেরা শ্মশান।তিনি ছোটবেলা থেকে কালী মায়ের একনিষ্ঠ সাধক ছিলেন । যদিও রামানন্দ গোস্বামীর পিতা কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ার জন্য পুত্রের কালী-মা ভক্তি মোটেই পছন্দ করতেন না ।দীর্ঘ সময় কঠোর সাধনা করে মায়ের দর্শন পেয়ে ছিলেন রামানন্দ গোস্বামী । মায়ের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন ঠাকুর রামানন্দ।সেই শ্মশানের মধ্যে পঞ্চমুন্ডীর আসন প্রতিষ্ঠা করে মায়ের মন্দির তৈরী করেছিল। সেই পুজোই আজ বিখ্যাত এই কালী পূজোর আকার নিয়েছে।তার শৈশবের সময় থেকেই বহু অলৌকিক ঘটনার কথা শোনা যায়। একবার সাধক রামানন্দ যখন সেই শ্মশানে ধ্যানে মগ্ন তখন পাড়ার কেউ তাঁর বাবাকে এই খবর দিয়েছেন । তাঁর কৃষ্ণভক্ত বাবা সাথে সাথে শ্মশানে আসেন কিন্তু শুধু কৃষ্ণ ছাড়া তিনি আর কিছুই দেখতে পাননি । একটি শাঁখারী পরিবারের বংশধরেরা এখানে নিয়মিত মায়ের পুজোয় শাঁখা দিয়ে যায়। তারও একটি বিশেষ কারন আছে।শোনা যায় একদিন এক শাঁখারী মায়ের পুকুর পাড় দিয়ে যাচ্ছেন । এমন সময় একটি বাচ্চা মেয়ে তাঁর কাছে শাঁখা পরতে চায় । শাঁখারী দু-হাতে শাঁখা পরিয়ে টাকা চায় । মেয়েটি তখন উত্তরে জানায়,’ মন্দিরের কুলুঙ্গিতে বেলপাতা ঢাকা দু-টাকা রাখা আছে বাবাকে দিতে বলবি ‘ শাঁখারী তাঁর কথা মতো পুরোহিতের কাছে সমস্ত কথা বলেন । পুরোহিত অবাক হয় এবং পরে সেখানে দুটি টাকা পাওয়া যায়। তিনি দু-টাকা সেখান থেকে নিয়ে শাঁখারীকে দিয়ে বলেন যে তার তো কোনো মেয়ে নেই । দুজনে সেই স্থানে ফিরে গেলেও মেয়েটিকে আর দেখতে পাওয়া যায়নি । তখন ঠাকুর বুঝতে পেরে পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়েই মাকে শাঁখা দেখানোর অনুরোধ করেন । সন্তানের অনুরোধে মা কালী স্বয়ং পুকুরের মাঝে তার হাত তুলে শাঁখা দেখায় ।কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এখানে রাত্রে মায়ের প্রতিমা তৈরীর কাজ নিষিদ্ধ ।কথিত আছেবহু বছর আগে একবার এক প্রতিমাশিল্পী রাত্রে মায়ের চক্ষুদান করছেন । ওই সময় এক অদৃশ্য হাত শক্তি তাকে মন্দিরে বাইরে বের করে দিয়েছিলো। পরের দিন সকালে তাকে আহত অবস্থায় মন্দিরের বাইরে উদ্ধার করা হয় ।অন্যদিকে মায়ের মুর্তিতে ছিন্নভিন্ন রক্তের দাগ দেখতে পায় । তখন থেকে আজও মায়ের প্রতিমা দিনেই তৈরী করা হয় ।প্রতি অমাবস্যায় এখানে তন্ত্র মতে বিশেষ পুজো অর্চনা হয়। বহু মানুষ আসেন পুজো দেখতে।প্রতি বারের ন্যায় আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যায় রীতি মেনে মায়ের পুজো হবে।ভুলবেন নে এই কৌশিকী অমাবস্যা তন্ত্র মতে যেকোনো গ্রহ দোষ খন্ডনের শ্রেষ্ঠ তিথি। যা আপনারাও চাইলে কাজে লাগাতে পারেন।ফিরে আসবো আগামী পর্বেএমনই কালী কথা নিয়ে।থাকবে এমন সব অলৌকিক ঘটনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
কালী কথা – ক্ষেপী কালী মায়ের পুজো
আজথেকে প্রায় ৫০০ বছর আগে কাটোয়ায় ছিলো ঘন জঙ্গল। সেই জঙ্গল লাগোয়া গ্রামে ছিলো মালো জাতির বাস। পেশায় তারা ছিলো জেলে। এই জেলেদের সর্দার নরেন ক্ষেপা ছিলো কালী সাধক। তিনি স্বপ্নে দেখে জঙ্গল থেকে উদ্ধার করেন এক কালী মূর্তি। সেই মূর্তি স্থাপিত হয় জঙ্গলে। নরেন ক্ষেপার সেই কালী মা পরবর্তীতে ক্ষেপী কালী নামেই প্রসিদ্ধ হয়।কাটোয়ার ক্ষেপী মায়ের মন্দির যে স্থানে আছে সেই স্থান গঙ্গার ঘাট থেকে পাঁচশো মিটার দূরে অবস্থিত।স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম কারন এই স্থানেই কেশবভারতীর কাছে দীক্ষা নিয়েছিলেন চৈতন্য দেব। সেই সময়ে এই স্থানে বৈষ্ণব প্রাধান্য ছিলো লক্ষ্যনীয়। তবুও নরেন ক্ষেপার কালী পুজো বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে।দেবীর ক্ষেপীমা নামের দুটি ব্যাখ্যা আছে। প্রথমত নরেন ক্ষেপা এলাকায় ক্ষেপা নামেই পরিচিত ছিলো অনেকে মনে করেন ক্ষেপা ছেলের মা মা হিসাবে দেবীর ক্ষেপী মা নাম হয়। আবার অনেকে বলেন। কোনো এক সময়ে এক তন্ত্র সাধিকা এখানে মায়ের সাধনা করতেন। তিনি ক্ষেপী নামে এলাকায় সুপরিচিত ছিলেন। তার নাম থেকেই দেবীকে ক্ষেপী নামে ডাকার সূচনা হয়।এখানে পূজোর একটি প্রাচীন এবং অদ্ভুত রীতি আছে।এখানে মালোদের স্পর্শ ছাড়া পুজো পক্রিয়া শুরু হয়না। প্রতি পূজোর আগে মালো জাতির লোকেরা এসে দেবীকে বেদিতে স্থাপন করেন। এবং কিছু শাস্ত্রীয় উপাচারের পর শুরু হয় পুজো।শোনা যায় ক্ষেপিমার কাছে কিছু চাইলে খালি হতে ফেরত যেতে হয়না।ভক্তদের এমনই বিশ্বাস ক্ষেপী মায়ের প্রতি । মায়ের অগণিত ভক্তরা মাকে সাজিয়েছে সাড়ে তিন কেজির বেশি সোনার গয়নায়। কৌশিকী অমাবস্যায় ভোর চারটে থেকে শুরু হয় পুজো। মঙ্গল আরতি দিয়ে ক্ষেপি মাকে আহ্বান করে। ক্ষেপি মা-র দর্শনে দিনরাত ভক্তদের সমাগম হয়।আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা।ফিরে আসবো এমনই কোনো ঐতিহাসিক পুজোর কথা নিয়ে।থাকবে বহু অলৌকিক ঘটনা।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।
কালী কথা – ঋষিপুরের বড়মার পুজো
আজকের কালী কথা পর্বে আপনাদের স্বাগত জানাই।নৈহাটির বড়মাড় কথা আপনারা জানেন। আজ আপনাদের অন্য এক বড়মাড় কথা জানাবো। মুর্শিদাবাদের ঋষিপুর গ্রামে হয় এই বড়মার পুজো।প্রায় পাঁচশো বছর আগে মুর্শিদাবাদের এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল ছিলো ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জঙ্গলে ছিলো এক কালী মন্দির এবং মন্দিরের সামনে ছিলো বিশাল বিল। বিলের জলে জেলেরা মাছ ধরতে নামার আগে দেবী কালিকাকে তুষ্ট করে তবে নামত জলে।রাতের বেলায় ডাকাত রা এসে এখানে কালী পুজো করে ডাকাতি করতে যেতো।সেই সময় থেকেই এই খানে পুজোয় এক অদ্ভুত রীতি অনুসরণ করা হয়। এক রাতের মধ্যে মূর্তি তৈরি করে রাতেই বিসর্জন দেওয়া হতো বিলের জলে। সকালে গ্রামবাসীরা প্রাচীন বট গাছের নীচে ফুল, বেলপাতা, সিঁদুর পড়ে থাকতে দেখেছেন। কিন্তু, মুর্তি কেউ দেখতে পাননি।এই দেবী বর্তমানে ঋষি পুরের বড়মা নামে প্রসিদ্ধ। সেই জেলেরাও নেই সেই ডাকাতরাও নেই। এখন পূজোর ভার গ্রামবাসি দের উপর। তারাই পরম ভক্তিতে সব রীতি মেনে বড়মার পুজো করে।বড়মা রূপে দেবী কালীই পূজিত হন।কৌশিকী অমাবস্যা সহ প্রতি অমাবস্যায় বড়মার বিশেষ পূজোর আয়োজন করা হয় । কোনও আড়ম্বর শোভাযাত্রা ছাড়া গভীর রাতে বিলের জলে বিসর্জন দেওয়া হয় ঋষিপুরের বড়মাকে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী দেবীর গায়ের গয়না-সহই বিসর্জন হয়।এখানে কারুর মনোস্কামনা পূরণ হলে তিনি কালী মূর্তি প্রদান করেন তাই বহু কালী মূর্তি একসাথে জমা হয় এবং ঋষিপুরে কালীপুজোর রাতে এক সঙ্গে পুজো হয় একাধিক মূর্তির। যদিও মূল মূর্তি বড়মা।বাকি মূর্তিগুলি তারসাথেই তার পুজো হয়।সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতী এই পূজোর অন্যতম বৈশিষ্ট জনশ্রুতি অনুযায়ী এক মুসলিম গুড় বিক্রেতা একবার এইখানে বটগাছ তলায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। সে সময় স্বপ্নাদেশ পান বড়মা গুড় খেতে চেয়েছেন। তিনি গুড় অর্পণ করেন দেবীর উদ্দেশ্যে তারপর থেকে আজও সেই মুসলিম পরিবার আখের গুড় পাঠায় পুজোর সময়। উভয় সম্প্রদায় পুজোয় অংশগ্রহণ করেন।বড়মা সম্পর্কে আরো একটি অলৌকিক ঘটনার কথা শোনা যায়, এক বছর বিসর্জনের সময় দেবী মূর্তির গা থেকে গয়না খুলে নিতে গিয়েছিলেন পুরহিত। সে সময় কালী মূর্তিতে আগুন ধরে যায়। তারপর থেকে আর অলংকার খোলা হয়না সোনার অলংকার সহ বিসর্জন হয় আবার অলংকার তৈরী করা হয় নতুন করে। বহু বছর ধরে এই রীতি চলছে বড়মার পুজোয়।আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা গ্রহ দোষ খন্ডনের শ্রেষ্ঠ তিথি। এই কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ
কালী কথা – বাহাদুরপুরের খ্যাপামা
আজ বর্ধমানের এমন এক প্রাচীন কালী পুজো নিয়ে লিখবো যেখানে আজও পঞ্চমুণ্ডির আসনে পূজিত হন দেবী কালী। বর্ধমানের গ্ বাহাদুরপুর গ্রামের এই কালী খ্যাপামা নামেই বেশি জনপ্রিয়।প্রায় তিনশো বছর আগে এই অঞ্চলে ঘন জঙ্গলের ভিতরে শ্মশানে বাস করতেন এক সাধক। তিনিই জঙ্গলের ভিতর খ্যাপামার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পঞ্চমুণ্ডির আসনে রেখে দেবীর পুজো হত। তার অবর্তমানে তার নির্দেশেই এক শিষ্য পুজোর দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে সেই সাধক খ্যাপামাকে বাহাদুরপুর গ্রামে এনে তার পুজো শুরু করেছিলেন।যার মাধ্যমে দেবীর বাহাদুর পুরে আগমন সেই সাধকের পরিবারের এক সদস্য খ্যাপামার পুজোর জন্য নয় বিঘা জমি দান করেছিলেন।জন্ম সূত্রে সেই সাধকের পরিবার হল এই পুজোর বর্তমান সেবাইত।ইতিহাস অনুসারে বাহাদুরপুরে আনার পর একটি গাছের তলায় প্রথমে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তার পর মাটির মন্দির তৈরি করে সেখানে দেবীর পুজো শুরু হয় । পরবর্তীতে অন্যত্র মন্দির স্থানান্তরিত হয় তবে যে জায়গায় দেবীকে প্রথম এনে রাখা হয়েছিল সেখানে এখনও ঘট এনে প্রথম পুজো করা হয়। তার পর মূল মন্দিরে পুজো শুরু হয়।প্রাচীন রীতি মেনে আজও পঞ্চমুণ্ডির আসনে পুজো হয় বাহাদুরপুরের খ্যাপামার।দেবীর কাছে অনেকে অনেকে মানত করেন এবং দেবী খুবই জাগ্রতা। তিনি ভক্তদের সব মনোস্কামনা পূর্ণ করেন বলে বিশ্বাস।কৌশিকী অমাবস্যা সহ প্রতি অমাবস্যায় গভীর রাতে দেবীর পুজো হয়।এখানে বলী প্রথা আছে।পুজোয় যে ছাগ প্রথমে বলি দেওয়া হয় সেই ছাগের মাংসের কিছুটা অংশ রান্না করে দেবীকে ভোগ দেওয়া হয়। এই প্রথা এখনও চলে আসছে।খ্যাপামার পুজোয় এক কুইন্টাল পাঁচ কেজি আতপ চালের নৈবেদ্য দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে পাঁচ কেজি চালের ভাত, বিভিন্ন পদের রান্না দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। সঙ্গে ৫ কেজি আটার লুচি দিয়ে ভোগে দেওয়া হয়। পুজোয় লাগে বেসনের ফুলুরি, মুড়কি, নাড়ু ইত্যদি।পুজোর দিন তিন হাজার মানুষকে পদ্ম পাতায় ভোগ খাওয়ানোর রেওয়াজ এখনও রয়েছে।আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা।মনে রাখবেনএই কৌশিকী অমাবস্যা গ্রহ দোষ খন্ডনের শ্রেষ্ঠ তিথি। ফিরে আসবো আগামী দিনে।নতুন পর্ব নিয়ে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
কালী কথা – চাঁচলের ঐতিহাসিক কালী দৌড়
কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে ধারাবাহিক ভাবে চলছে কালী কথা। আজ অবধি এই কালী কথা অনুষ্ঠানে বহু ঐতিহাসিক কালী মন্দির এবং অলৌকিক ঘটনার কথা বলেছি। আজ এমন এক কালী পুজোর কথা লিখবো যা বিখ্যাত একটি অদ্ভুত রীতির জন্য যাকে লোকে বলে কালী দৌড়।সে প্রায় তিনশো বছর আগেকার কথা।মালদার চাঁচল রাজার উদ্যোগে মালতীপুরে শুরু হয় কালীদৌড়। আগে এখানে কালীপুজো হত দুটি। একটি পুজো হত স্থানীয় জমিদারের উদ্যোগে। অন্যটি মিলিতভাবে করতেন গোটা এলাকার বাসিন্দারা। একসময় রাজার খেয়াল হল ওই দুই কালীপুজোর উদ্যোক্তাদের কাঁধে দেবী প্রতিমাকে নিয়ে দৌড়তে হবে। আর রাজা বসে সেই দৌড় দেখবেন। দেবী প্রতিমাকে নিয়ে দৌড়ে যারা জয়ী হবেন তাদের পুরস্কৃত করবেন স্বয়ং রাজা। সেই থেকে শুরু।আজও চলছে কালীদৌড় প্রথা।তবে অনেকের মতে এই রীতির পিছনে লুকিয়ে আছে এক ভিন্ন ইতিহাস। আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে মালদার চাঁচলের তৎকালীন রাজা শরৎচন্দ্র রায় চৌধুরী চালু করেছিলেন এই কালী দৌড় প্রতিযোগিতা কারন সেই সময় মালদার মালতীপুর এলাকায় পুকুরের সংখ্যা ছিল একটিমাত্র।সেই পুকুরে বিসর্জন দেওয়া হত একাধিক কালী প্রতিমাকে।কার প্রতিমা আগে বিসর্জন হবে সেই নিয়ে বিতর্ক লেগেই থাকতোতাই রাজা শরৎচন্দ্র রায় বাহাদুর সুষ্ঠুভাবে প্রতিমা নিরঞ্জন প্রক্রিয়া করার জন্য শুরু করেছিলেন এই প্রতিযোগিতা।এক দীপান্বিতা অমাবস্যার পরের দিন সন্ধ্যার সময় মালতিপুর বাজারে একটি কালী দৌড় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন তিনি। এই প্রতিযোগিতার নিয়ম ছিল এই কালী দৌড়ে যার কালী প্রতিমা অক্ষুন্ন থাকবে সেই প্রতিমাকেই প্রথম বিসর্জন দেওয়া হবে কালী দিঘিতে। সেই দৌড়ের রীতি চলে আসছে আজও।বর্তমানে এই এলাকায় ছোটো বড়ো মিলিয়ে মোট আটটি কালী পুজো হয়। পুজো কমিটি এবং এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে কালী প্রতিমাকে কাঁধে নিয়ে ছোটেন ঘাটের দিকে।নিদ্দিষ্ট সময়ে পূর্ব নির্ধারিত মালতিপুর কালীবাড়ি লাগোয়াপ্রাচীন কালী দীঘিতে বিসর্জন হয় ।এই প্রতিযোগিতার আবহ উপভোগ করতে ভিড় বহু দর্শণার্থী।নিঃসন্দেহে ব্যাতিক্রমী এবং ঐতিহ্য সম্পন্ন এই প্রতিযোগিতা এই কালী পুজোয় অন্যএক মাত্রা যোগ করে এবং অদ্ভুত এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়।আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা।মনে রাখবেনএই কৌশিকী অমাবস্যা গ্রহ দোষ খন্ডনের শ্রেষ্ঠ তিথি। ফিরে আসবো আগামী দিনে।নতুন পর্ব নিয়ে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।
কালী কথা – গগন ডাকাতের কালী পুজো
বাংলার প্রাচীন কালী পুজো গুলির মধ্যে
বেশ কিছু পূজোর সাথে জড়িয়ে আছে এক কালের দুর্ধর্ষ ডাকাতদের নাম। এমনই এক ঐতিহাসিক পুজো হুগলীর গগন ডাকাতের পুজো।
আজকের পর্বে এই গগন ডাকাতের পুজো
নিয়ে।
সময় টা স্বাধীনতার অনেক আগের তখন ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল হুগলী জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল সেই জঙ্গল দাপিয়ে বেড়াতো ডাকাত আর বন্যা হিংস্র জন্তু। এই জঙ্গলে ডাকাতরা ঘট প্রতিস্থাপন করে মা কালী পুজো করতেন। তখনো দেবী কালীর পুজো সেই ভাবে মধ্য বিত্ত গৃহস্ত বাঙালি বাড়িতে সেই জনপ্রিয়তা পায়নি।দেবী কালীর পুজোর করতো তন্ত্র সাধকরা এবং দুস্যু দল।
ডাকাত গগনের ছিলো বিরাট দল। সে ছিলো বেজায় কালী ভক্ত। প্রতিটি ডাকাতির আগে সে ভক্তিভরে কালী পুজো করতো।
স্বাধীনতা পরবর্তীতে ডাকাত দলের দাপট কমে এবং ডাকাত দের কালী পুজোও কমে আসে। শোনা যায় কিছুকাল পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকার পর দেবী একই সাথে প্রায় একই সময়ে স্বপ্নাদেশ দেন স্থানীয় দুজনকে একজনকে বলেন মূর্তি তৈরি করতে ও অন্যজনকে বলেন মন্দির তৈরি করতে। মন্দির তৈরি করতে বলেন বর্ধমানের মহারাজা কে আর মূর্তি করতে বলেন এক প্রভাবশালী মোড়লকে।স্বপ্নাদেশ অনুসারে মন্দির তৈরী করে দেবী মূর্তি স্থাপন করে আবার ধুমধাম করে শুরু হয় কালী পুজো।
শোনা যায় গগন ডাকাতের সময়ে এখানে স্বয়ং মা সারদার পদধূলি পড়েছিলো। ডাকাত দল সারদাদেবীকে চাল কলাই ভাজা খেতে দেয়। পরিবর্তিতে সারদার মধ্যে তারা মা কালীকেও দর্শন করেন এবং তাকে প্রণাম করে তার আশীর্বাদে পায় এবং নিজেরা গিয়ে তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়।
গগন ডাকাতের কালী পুজোয় চার প্রহরে চারবার পুজো হয় ।রয়েছে পশু বলি প্রথা। মায়ের ঘটে জল বছরে একবারই পাল্টানো হয়। বাগদীদের দেওয়া জল মায়ের ঘটে দেওয়া হয়। ঘট পাল্টানোর সময় কোন মহিলা মন্দিরের ভেতর থাকে না শুধুমাত্র পুরুষেরাই থাকেন।
প্রত্যেক অমাবস্যায় বিশেষ হোম যজ্ঞ এবং বিশেষ
পুজোর ব্যাবস্থা হয়। যার মধ্যে কৌশিকী অমাবস্যা অন্যতম। কৌশিকী অমাবস্যার আর বেশি দেরি নেই। নতুন সাজে সেজে উঠবে বাংলার এই
প্রাচীন কালী ক্ষেত্রে।
আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা।ফিরে আসবো এমনই কোনো ঐতিহাসিক পুজোর কথা নিয়ে।
থাকবে কিছু অলৌকিক ঘটনা।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।