কালী কথা – মহাপ্রভুর মামার বাড়ির পুজো

81

সনাতন ধর্মের দুটি শাখা বৈষ্ণব এবং শাক্ত।এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্য কিঞ্চিৎ বিরোধ এবং সাধন পক্রিয়া নিয়ে মত পার্থক্য বহু পুরোনো কাল থেকে চলে আসছে। বৈষ্ণবরা মনে করেন একমাত্র বিষ্ণুর উপাসনাই জাগতিক মোহ মায়া থেকে মুক্ত করে ভগবত লাভ করাতে পারে। আবার শাক্ত দের ধারণা আদ্যা শক্তি মহামায়া সব শক্তির আধার তারই রূপ দেবী কালী বা দেবী চন্ডী যার পুজো করলে সব অসম্ভব সম্ভব।বৈষ্ণব দের পরম আরাধ্য মহাপ্রভুর শ্রী চৈতন্যদেবের পূর্ব পুরুষ দের মধ্যেও কালী পূজোর চল ছিলো এবং মামার বাড়ি অর্থাৎ নদিয়ার বেলপুকুরের বাচস্পতিপাড়ায় ধুম ধাম করে আজও কালী পুজো হয়।শোনা যায় এককালে বৈষ্ণব ধর্মের প্রসারকে রুখতে তাঁর মামার বাড়ির গ্রামে এই পুজোশুরু হয়। ইতিহাস বলছে, শ্রীচৈতন্যের মা শচীদেবী নদিয়ার ধুবুলিয়া থানার বেলপুকুরের বাচস্পতি পাড়াতেই জন্ম নেন। সে সূত্রেই ছোট থেকে মামার বাড়িতে যাতায়াতও ছিল নিমাইয়ের।একসময় বৈষ্ণব ধর্মের প্রচারের মুখ হয়ে ওঠেন মহাপ্রভু।সেই সময়ে বৈষ্ণব ধর্মের বাড়বাড়ন্ত ভালভাবে মেনে নিতে পারেননি নদিয়ার নদিয়ার তৎকালীন রাজা রুদ্র রায়। কীভাবে বৈষ্ণব ধর্মের প্রসার রোখা যায় সেই ভাবনাচিন্তা শুরু করেন তিনি।ঠিক নদিয়ার বেলপুকুর গ্রামে আসেন ঢাকার বিক্রমপুরের কালীসাধক রামচন্দ্র ভট্টাচার্য। তিনি পঞ্চমুন্ডের আসনে বসে মাতৃ সাধনা করতেন। তার আগমন শুনে রাজা তার সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাকে কালীমন্দির তৈরি করতে জমি দান করেন। বৈষ্ণব ধর্মের বাড়বাড়ন্তর সময়ে তাঁর হাত ধরেই গ্রামে কালীপুজো শুরু হয়।অমাবস্যার রাতে বিশেষ তন্ত্র ক্রিয়ায় মাধ্যমে তৈরী দেবীর মহাশঙ্খের মালা এবং নর মুন্ডমালা আজও এখানে রয়েছে । সারা বছর তা গোপন রাখা হয় এবং কালী পূজোর সময়ে প্রকাশ্যে আনা হয়।এই পুজো হয় তান্ত্রিকমতে তাই পশু বলির প্রচলন আজও রয়েছে। ভোগে শোল মাছের চাটনি, ইলিশ, মাংস দেওয়া হয়। অমাবস্যা তিথিতেএই মায়ের আরাধনায় এলাহি আয়োজনে গ্রামবাসীরা সামিল হন।কথিত আছে দেবীশুন্য হাতে কাউকে ফেরাননা। সবার সব আশাপূর্ণ হয়।বাংলার বহু এমন ঐতিহাসিক কালীপুজো এবং অলৌকিক ঘটনানিয়ে চলতে থাকবে কালী কথা।থাকবে গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় উপাচার।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।