স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিশেষ পর্ব : স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কালী পুজো

130

এককালে স্বাধীনতা সংগ্রামী দের সঙ্গে থাকতো গীতা। স্বামী বিবেকানন্দর বই এবং আনন্দ মঠ।তারা অনেকেই কালী পুজোয় করতেন। মাতৃ আরাধনার মাধ্যমে শক্তি সঞ্চয় করে দেশমাতৃকার পরাধীনতা ঘোচানোই ছিলো প্রধান উদ্দেশ্য।আজ এমনই দুটি পূজোর কথা লিখবো। যার মধ্যেএকটি কলকাতার এবং একটি জেলার পুজো।প্রথমে বলবো পাথুরিয়াঘাটা ব্যায়াম সমিতির পুজো। এই সমিতি প্রতিষ্ঠা হয় ইংরেজির ১৯২৪ সালে বিখ্যাত লাঠিয়াল অতুলকৃষ্ণ ঘোষের আদর্শে  তৈরি হয় এই অনুশীলন সমিতি।স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন তিনি। এই সমিতির সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত ছিলেন বাঘা যতীন। তখনকার দিনে অনুশীলন সমিতি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ঘাঁটি ছিল। স্বাভাবিক ভাবেই পদার্পণ করেছেন বহু স্বনামধন্য মানুষ।পরবর্তীতে বিপ্লবী সদস্যরা মিলে ‘বড় কালী’র পুজো আরম্ভ করেন। বহু স্বাধীনতা সংগ্রামী এবং গুণীজন এই পূজোর সাথে যুক্ত ছিলেন এবং ১৯৩০ সালে এই পুজোর সভাপতিত্ব করেন স্বয়ং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। আজও পরম্পরা মেনে এই কালী পুজো হয়।শুধু কলকাতা নয় জেলা জেলায় বিপ্লবীরা কালী পুজো শুরু করেন।সালটা ১৯৩৯। স্বাধীনতা আন্দোলনের আগুন জ্বলছে সারা দেশে। মেদিনীপুরে আন্দোলনের পথ দেখাচ্ছেনবিমল দাশগুপ্ত, কিষাণ সাহা। আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ছে বহু তরতাজা প্রাণ।মেদিনীপুর শহরের কাছেই লাল দীঘি।দুধারে আদিবাসী জনবসতি,শ্মশান আর ঝোপঝাড়। সেখানেই ছিল বিমল দাশগুপ্তদের গুপ্ত ডেরা। আনাগোনা লেগে থাকতো তরুণদের। গোপনে চলতো ভারতমাতার সন্তানদের দীক্ষা দেওয়া। সেসময়ই বাঁদিকে এক জায়গায় গড়ে তোলা হোল অস্থায়ী বেদী। ঘট প্রতিষ্ঠা করা হলো দেবী কালীর। সামনে চলতে থাকল দেবীরপুজো আর গোপনে অস্ত্র শিক্ষা। স্বাধীনতা পাওয়ার পরও বিমল দাশগুপ্তরা নিয়ম করে আসতেন এই স্থানে। স্বাধীনতার পরে ১৯৬৮ সালে দক্ষিণাকালী প্রতিমা উপাসনার সূচনা। কার্তিক মাসের অমাবস্যায় পুজোর সময় এখন বড়ো করে পুজো হয় শ্রদ্ধা জানানো হয় স্বাধীনতা সংগ্ৰামিদের।সারা বাংলায় এমন বহু পুজো আছে যা স্বাধীনতা সংগ্রামীরা শুরু করেছিলেন। আজও চলছে। আজ সময়ের অভাবে শুধু দুটো পূজোর কথাই বললাম। সামনেই কৌশিকী অমাবস্যা তাই আগামী দিনে দেবী কালী কালী বাংলার পুজোর ইতিহাস প্রসঙ্গে আরো আলোচনা হবে।থাকবে নানা পৌরাণিক ব্যাখ্যা। আজ ১৫ ই আগস্ট উপলক্ষে এই বিশেষ পর্বে বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জানাই আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য এবং প্রণতি। আপনাদের সবাইকে আজ স্বাধীনতা দিবসের অসংখ্য শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। বন্দে মাতারাম। জয় হিন্দ।ভালো থাকুন। পড়তে থাকুন। ধন্যবাদ।