একটি খুব প্রচলিত জনপ্রিয় ছড়া হয়তো আপনারা সবাই শুনেছেন। এই ছড়া টির কথা বলছি – “আইকম বাইকম তাড়াতাড়িযদু মাষ্টার শ্বশুরবাড়িরেল কম, ঝমা ঝমপা পিছলে আলুর দমআজকের বনেদিবাড়ির দূর্গাপুজোর এই পর্বের সাথে এই ছড়ার সম্পর্ক আছে।আজ আলোচনা করবো চুঁচুড়ার আঢ্য বাড়ির পুজো নিয়ে যা প্রায় তিনশো বছরের পুরোনো একটি বিখ্যাত পুজো।এই পরিবারের একজন অন্যতম প্রাণপুরুষ, ছিলেন যোগীন্দ্রলাল আঢ্য ওরফে যগু মাস্টার।যখন বাংলায় প্রথম রেলগাড়ি চলতে শুরু হয়সেই সময় হুগলি স্টেশনের স্টেশন মাস্টার ছিলেন যগুবাবু। লোক মুখে বিকৃত হয়ে পরবর্তীতে তিনি যদু মাস্টার উচ্চারিত হন এবং তিনিই এই ছড়ার যদু মাস্টার।তার হাত ধরেই এই পুজোর সূচনা। তারপর থেকে বংশানুক্রমে আঢ্য বাড়িতে হয়ে আসছে পুজো আজও চলছে সেই পুজো।এখানে প্রতিমা শিল্পী থেকে শুরু করে পুরোহিত, রান্নার বামুন ঠাকুর প্রত্যেকেই বংশানুক্রমিকভাবে যুক্ত রয়েছেন আঢ্য বাড়ির পুজোর সঙ্গে। কুমারী পুজোতে যে মেয়েটি বর্তমানে পূজিতা হয়, সেও প্রথম যুগের কুমারী মেয়েটির বংশেরই কন্যা।আঢ্য বাড়িতে দেবী দূর্গা দশভুজা নন তিনি দ্বিভুজা। তিনি এখানে শিবের কোলে অধিষ্ঠাতা। তবে শিবদুর্গার সঙ্গে তাদের পুত্র কন্যারাও থাকেন।আঢ্য বাড়িতে বৈষ্ণব মতে পুজো হয় তবে কুমারীপুজো, যজ্ঞ এবং চণ্ডীপাঠ পালন করা হয় শাক্ত মতে। এই বাড়ির পুজোর আরেকটি বৈশিষ্ট্য মিষ্টি৷ পুজোর ফলমূল আর মিষ্টি পরিবেশন করা হয় কাঠের বিশাল তেপায়াতে করে।সেই পাত্রের নাম লটকান।আঢ্য বাড়িতে মহালয়ার দিন থেকেই প্রতি সদস্য নিরামিষ আহার করেন। দশমীর দিন পুজো শেষে বাড়ির বিবাহিত মহিলারা আরশিতে মায়ের প্রতিবিম্ব দেখার পর খাওয়া হয় আমিষ । সুদূর অতীতে এই পরিবারে কাঙালি ভোজন এবং বিদায়ের রেওয়াজ ছিল। দূর-দূরান্ত থেকে আসতেন প্রচুর দরিদ্র মানুষ। এলাহী আয়োজন থাকতো তাদের জন্য। বর্তমানে সেই প্রথা নেই।তবে বাকি সব রীতি নীতি আজও মানা হয়।বনেদি বাড়ির দূর্গা পূজোর পরের পর্ব নিয়েফিরে আসবো যথা সময়ে। থাকবে অন্য কোনো বনেদি বাড়ির দূর্গাপূজোর কথা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দূর্গা কথা – বর্ধমানের মুখোপাধ্যায় বাড়ির পুজো
বাংলার প্রায় প্রতি জেলায় আছে কিছু ঐতিহাসিক পুজো যার মধ্যে প্রায় বেশি ভাগই কোনো না কোনো অভিজাত বাড়ির পুজো। তেমনই বর্ধমানের সোঁয়াই গ্রামে মুখোপাধ্যায় বাড়ির প্রায় সাড়ে তিনশো বছরেরও বেশি পুরনো দুর্গাপুজোর নিজস্ব ইতিহাস আছে।সেই ইতিহাস জানাবো আজকের পর্বে।বর্ধমানের সোঁয়াই গ্রামের মুখোপাধ্যায় পরিবারের বাসুদেব মুখোপাধ্যায় আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে একদিন হঠাৎই স্বপ্নাদেশ পান। স্বপ্নাদেশে মা দুর্গা তাঁকে বলেন তিনি অপূজিত অবস্থায় ফরিদপুরে পড়ে আছেন। এই স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর আর সময় নষ্ট করেননি বাসুদেববাবু স্বপরিবারে সোজা চলে যান তাদের আদি বাস ভূমি ফরিদপুরে তাঁর পৈতৃক ভিটেয়। তারপর তাঁর পারিবারিক দুর্গার কাঠামো কাঁধে করে সোঁয়াই গ্রামে ফিরে আসেন।ফেরার পথে যখন প্রায় সোঁয়াই গ্রামের কাছে পৌঁছে গেছেন তাঁরা। সে সময়ে যে রাস্তা ধরে তাঁরা আসছিলেন সেই রাস্তার উল্টোদিক থেকে বর্ধমানের মহারাজা ভ্রমণ সেরে ফিরছিলেন। রাজা যে পথে যাবেন সেই পথ আগলে কারা এভাবে আসছে তা দেখতে রাজার পাইক, বরকন্দাজ ছোটে। তারা বাসুদেব মুখোপাধ্যায়কে রাস্তা ছেড়ে সরে দাঁড়াতে বলে। কিন্তু বাসুদেববাবু জানিয়ে দেন মায়ের কাঠামো নিয়ে তাঁরা রাস্তা ছাড়বেন না। বরং রাজা সরে দাঁড়ান। মা যাবেন। শুরু হয় বাগ বিতন্ডা সব শুনে রাজা এবার স্বয়ং এগিয়ে আসেন। ধর্মপ্রাণা রাজা যেই শোনেন যে মা দুর্গার কাঠামো যাচ্ছে তিনি তৎক্ষণাৎ রাস্তা ছেড়ে সরে দাঁড়ান।শুধু তাই নয় নয়, এই পুজো যাতে ধুমধাম করে হতে পারে সেজন্য মুখোপাধ্যায় পরিবারকে প্রচুর জমি, পুকুর, সম্পত্তি দান করেন রাজা।হয়তো মহারাজা ব্রাহ্মণ সন্তানের ভক্তি ও প্রতিবাদী চরিত্র দেখে খুশি হয়ে ছিলেন।যায় হোক সে বছরই সেই কাঠামোয় মাটি লেপে তাতে রং করে প্রতিমাকে মৃন্ময়ী রূপ দেওয়া হয়। শুরু হয় পুজো। সেই যে পুজো শুরু হয়েছে তা আজও চলছে । এখনো চিরাচরিত রীতি মেনে, পুরনো পারিবারিক পুঁথি অনুসরণ করে হয় পুজো।মহানবমীতে পশু বলি হয়। সেই বলির পর মৃত এবং বলী প্রদত্ত পশুটি নিয়ে স্থানীয় আদিবাসীরা চলে যান। এটাই এখানকার রীতি। এই মুখোপাধ্যায় পরিবারে পুজোর তিন দিন একটি মহাপ্রদীপ প্রজ্বলিত থাকে। যা ঘি দিয়ে জ্বালিয়ে রাখা হয়। প্রদীপের দীপশিখা কখনও নিষ্প্রদীপ হয়না এই তিন দিনে। প্রতিদিন এই প্রদীপকে নিরন্তর জ্বালিয়ে রাখার দায়িত্ব পড়ে পরিবারের এক এক জন সদস্যের ওপর।এই পুজোর বিসর্জনের রীতি ও একটু আলাদা প্রতি বছর বিসর্জনের পর তুলে আনা হয় মায়ের কাঠামো। রেখে দেওয়া হয় সযত্নে। পরের বছর ফের তাই দিয়েই নির্মাণ হয় নতুন প্রতিমা।ফিরে আসবো অন্য কোনো বনেদি বাড়ির দূর্গা পূজো নিয়ে আগামী পর্বে। থাকবে এমনই কোনো প্রাচীন দূর্গা পূজো সম্পর্কে ঐতিহাসিক কিছু তথ্য।থাকবে অলৌকিক কিছু ঘটনা। পড়তে থাকুন ।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দূর্গা কথা – ভাঙ্গর জমিদারবাড়ির দূর্গা পুজো
ধারাবাহিক এই লেখায় ইতিমধ্যে উত্তর বঙ্গের বেশ কয়েকটি বিখ্যাত জমিদার বাড়ির পুজো নিয়ে আলোচনা করেছি।দক্ষিণ বঙ্গের অন্যতম পুরোনো ভাঙ্গর জমিদার বাড়ির পুজো নিয়েআজকের পর্বে লিখবো।ভাঙড়ের স্বস্ত্যয়নগাছি গ্রামে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন মজুমদার বাড়ি এই মজুমদাররাই ছিলেন ভাঙ্গর অঞ্চলের জমিদার। তাদের বিরাট প্রাসাদপ্রম জমিদার বাড়ির দূর্গা মণ্ডপে শুরু হয়েছিলো দূর্গা পুজো। তবে কবে এবং কোন জমিদারের আমলে এই বাড়িতে দূর্গা পুজো প্রথম শুরু হয় তা নিয়ে নিদ্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়না।এই বাড়িতে গোবিন্দের নিত্যপুজো হয় এবং দূর্গা পুজোর জন্য একজন আলাদা পুরোহিত রাখা আছে। আদতে বিষ্ণু উপাসক হলেও শক্তি সাধনা হয় তন্ত্র মতে যদিও আগের মতো এখন আর পশু বলী হয়না। প্রতি বছর জন্মাষ্টমীতে কাঠামো পুজোর পর শুরু হয় মূর্তি গড়ার কাজ।সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের একসাথে অংশগ্রহণ এই পুজোয় অন্য মাত্রা যোগ করে।বলা যায় এটাই এই পুজোর বৈশিষ্ট্য। দূর্গা পুজো সবাই এক সাথে আনন্দে মেতে ওঠেন।অতীতে সর্বদা লোকজনে গমগম করত মজুমদারদের এই বিশাল জমিদার বাড়ি।পুর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ মিলে তিন মহলার দ্বিতল বাড়ি ছিল মজুমদারদের। নাট মন্দির ছিলো অপূর্ব সুন্দর। বিশাল আকার দূর্গা মণ্ডপে হতো দুর্গাপুজো। সব কিছুরই এখন ভগ্নদশা। একটি মহলার অস্তত্বই বিলোপ হয়েছে। তবে দুটি মহলার দ্বিতল জমিদার বাড়ি এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবু নিয়ম মেনে প্রতি বছরই সাধারণ গ্রামবাসী ও জমিদার বাড়ির বর্তমান সদস্যরা মিলে দূর্গা পুজোর আয়োজন করেন।অষ্টমীর দিনে সবাই মিলে একসঙ্গে বসে হয় খাওয়াদাওয়ার রীতি সেই জমিদারির স্বর্ণ যুগ থেকে আজও চলে আসছে।ফিরে আসবো পরের পর্বে। অন্য কোনো বনেদি বাড়ির পুজোর ইতিহাস নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দূর্গা কথা – বাহিন জমিদার বাড়ির দূর্গাপুজো
বর্তমানে কলকাতার পাশাপাশি জেলা গুলিতেও বাড়ছে থিমের পূজোর রমরমা পিছিয়ে নেই উত্তর বঙ্গ তবে একসময়ে উত্তর বঙ্গে দুর্গাপুজো বলতে কয়েকটি জমিদার বাড়ির পুজোকেই বোঝাতো। সেক্ষেত্রে উত্তর দিনাজপুরের বাহিন
জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো ছিলো অন্যতম পুজো।
অবিভক্ত বাংলাদেশের দিনাজপুরের জমিদার ছিলেন রুদ্র প্রতাপ চৌধুরীর বাহিন নামক অঞ্চল থেকেই মূলত তার বিশাল জমিদারি পরিচালিত হতো।স্থানীয় ” নাগর ” নদীর ধার ঘেঁষে ছিল জমিদারের অট্টালিকা।জমিদার বাড়ির পাশেই বানানো হয়েছিলো সিংহবাহিনী মন্দির।সেখানেই প্রতিবছর দুর্গাপুজো হতো। আজও হয়।
বাহিনদের পারিবারিক দূর্গাপুজো ঠিক কত পুরনো তা সঠিকভাবে জানা যায় না। অনুমান করা হয় জমিদার বাড়ি নির্মাণ করার পরেই সেখানকার ঠাকুরদালানে দুর্গাপুজো শুরু হয়।এক সময়ে বাহিন জমিদার বাড়ির দূর্গোৎসবে বসত যাত্রাপালার আসর, থিয়েটার, সার্কাস ও বিশাল মেলা এবং পূজোর কদিন প্রজাদের জন্য সাতদিন ধরে ভুড়িভোজ আর আমোদপ্রমোদের আয়োজন হতো।
আজও লোক মুখে শোনা যায় যে পূজোর সময়ে অতিথি দের অভ্যার্থনা জানাতে জমিদার বাড়ির সামনে বড় বাগানে বেশ কয়েকটি হাতি বাঁধা থাকত যা থেকে তাদের প্রতিপত্তি এবং বৈভব সহজেই অনুমান করা যায়।
যুগের সাথে সাথে সব কিছুতেই বদল এসেছে আগে সিংহবাহিনী মন্দির চণ্ডীপাঠ ও দুর্গাপুজো করতেন জনা তিনেক পুরোহিত। তবে এখন আর সেসব আড়ম্বর নেই। জমিদারবাড়ির জৌলুসের সঙ্গে সেসব কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছে।এখন বাহিন জমিদার বাড়ির দূর্গাপুজো তথাকথিত
পারিবারিক পুজো থেকে বারোয়ারী পূজোর রূপ নিয়েছে কারন সব এলাকা বাসি একত্রিত হয়ে এই শতাব্দী প্রাচীন দূর্গা পূজোর আয়োজন করেন।
তবে সেই সব জমিদারি রীতি নীতি না থাকলেও আজও এই দূর্গা পূজোর ক্ষেত্রে নিষ্ঠা এবং ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দেয়া হয়।
চলতে থাকবে এই ধারাবাহিক আলোচনা।
আবার ফিরে আসবো এমনই কোনো বনেদি বাড়ির দূর্গা পুজোর কথা নিয়ে।
আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দূর্গা কথা – কৃষ্ণনগর রাজ বাড়ির পুজো
আজকের পর্বে আলোচনা করবো ঐতিহাসিক কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির ঐতিহ্য মন্ডিত দূর্গা পুজো নিয়ে। জানবো এই পূজোর সোনালী ইতিহাস এবং বর্তমানে এখানে দুর্গাপূজা কিরকম সেই সব তথ্য ।
বহু ইতিহাসবিদের মতে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের আমলেই বাংলায় দুর্গাপুজো জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে ছিলো৷
বাংলার দূর্গা পুজো যে কয়জন রাজার হাত ধরে প্রধান উৎসবে পরিণত হয় তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্র। স্বাভাবিক ভাবেই তার পুজোর জাঁকজমক যে ব্যাপক হবে সেটাই স্বাভাবিক।তবে অষ্টাদশ শতকের সেই রাজকীয় দূর্গা পূজোর অনেক অনেক কিছুই কালের নিয়মে আজ হারিয়ে গিয়েছে যদিও নিষ্ঠা এবং ঐতিহ্য আজও বজায় আছে।
নবাবী আমলে বিশেষত পলাশী যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে এই রাজবাড়ির পুজোর জৌলুস
ছিল আলাদা৷ এদের হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া৷বড়ো বড়ো জমিদার এবং ব্রিটিশ সরকারের গণ্য মান্য ব্যাক্তিদের তখন কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে নিত্য আনাগোনা।ধুম ধাম করে দূর্গা পুজো করতেন স্বয়ং মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র।
বাংলায় কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির মতো বিশালাকার পুজো মণ্ডপ খুব একটা দেখা যায় না। পুজো রাজ বাড়ির পুজো মণ্ডপের বিচিত্র এবং অপূর্ব
সুন্দর কারুকার্য আজও চোখ ধাঁধিয়ে দেয়।
দূর্গা পুজোতে যাত্রামঙ্গল প্রথার প্রচলন ছিলো এই বাড়িতে দশমীর দিন পুজো শেষে ঠাকুরদালান থেকে শুভদৃষ্টি সেরে রাজপ্রাসাদে ঢুকতেন মহারাজা ও রাজ বাড়ির অন্যান্য পুরুষ সদস্যবৃন্দ। শুভদৃষ্টির তালিকায় থাকতো মোষ, ঘোড়া, হাতি, জ্যান্ত মাছ, অগ্নি, গণিকা, ঘি, দই, ধান, স্বর্ণ মুদ্রা সহ বহু মূল্য রত্ন এবং আরো অনেক কিছু।
আরও কত কী৷এই মঙ্গল যাত্রার নামক উপাচারটি পালন করা হতো এই বিশ্বাস থেকে যে এই সব মহা মূল্যবান বস্তু দর্শন রাজ্যের জন্য মঙ্গলবার্তা বয়ে আনবে৷
সেসব এখন অতীত তবে এই বেশকয়েকশো
বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও কৃষ্ণ নগর রাজ বাড়ির পূজোর ঐতিহ্য এবং বেশি ভাগ রীতিনীতি অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে।
এখনো রথের দিন প্রতিমা নির্মাণ শুরু হয় এবং মহালয়া থেকেই শুরু হয়ে যায় পুজো৷ সেদিন ভোরে জ্বালানো হয় হোমকুণ্ড যা নিরবচ্ছিন্ন ভাবে নবমী পর্যন্ত জ্বলতে থাকে।অতীতে সন্ধি পুজোর আগে কামানের তোপধ্বনিতে পুজোর নির্ঘণ্ট জানিয়ে দেওয়া হতো৷ বেজে উঠতো ১০৮টি ঢাক। এখন সেসব না হলেও ১০৮টি প্রদীপ জ্বলে এবং এখানে ১০৮টি পদ্মফুলে দেবীর পুজো হয়।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য কোনো ঐতিহ্য সম্পন্ন এবং ঐতিহাসিক বনেদি বাড়ির
দূর্গা পুজোর কথা নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দূর্গা কথা – ভুপালপুর রাজবাড়ির দূর্গা পুজো
একসময়ে গোটা উত্তর বঙ্গে যে কয়েকটি জমিদার বাড়ির ব্যাপক প্রভাব ছিলো তাদের মধ্যে অন্যতম অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার ভুপাল রাজ বাড়ির পুজো।বর্তমানে ভুপালপুর রাজবাড়ি উত্তর দিনাজপুর জেলার অন্তর্গত।এই জমিদার বাড়ির দুর্গাপূজা নানা দিক দিয়ে বেশ তাৎপর্য পূর্ণ। আজকে জানাবো এই পূজোর ইতিহাস এবং রীতি নীতি।
চৌত্রিশ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে ষাট বিঘার বেশি জমির উপরে আজ থেকে কয়েকশো বছর আগে তৈরী হয় ভূপালপুরের জমিদারবাড়ি।তখন ব্রিটিশ যুগ। এই বাড়ির সাথে প্রথমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ প্রশাসনের সাথে ছিলো নিবিড় সম্পর্ক।এমনকি ব্রিটিশ সরকার এই বাড়ির একতলাটি নির্মাণ করে দিয়েছিল বলেও শোনা যায়।
আর পাঁচটা জমিদার বাড়ির ন্যায় নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি ও ক্ষমতা প্রকাশ করতে নানা উৎসব লেগেই থাকতো। তার মধ্যে অন্যতম ছিলো এই দুর্গোৎসব। শোনা যায় কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং মালদা সহ উত্তর বঙ্গের একাধিক জমিদার বাড়ির পূজোর মধ্যে প্রতিযোগিতা লেগেই থাকতো। সেই প্রতিযোগিতায় অন্য পুজোগুলিকে প্রায়সই টেক্কা দিতো এই ভুপাল রাজবাড়ির পুজো।
বংশের আদি পুরুষ কৃষ্ণচন্দ্রের পুত্র ভুপাল চন্দ্র যখন জমিদার হন তখন তিনি বয়সে নাবালক তৎকালীন আইন অনুযায়ী নাবালক ভূপালচন্দ্রের জমিদারি দেখাশোনার দায়িত্ব ভার থাকে ব্রিটিশ সরকারের হাতে।ব্রিটিশরা সেই সময়ে জমিদার বাড়ি পুনর্নির্মাণ করে দেন। তৈরী হয় দূর্গা মন্দির।
কৃষ্ণচন্দ্রের স্ত্রী দুর্গাময়ী চৌধুরানি সেই সময়ে দুর্গাপুজোর সূচনা করেন।
এখানে শুরুর দিন থেকেই প্রতিমা হয় একচালার। মায়ের গাত্রবর্ণ হলুদ। অসুরের রং সবুজ। থাকেন শিব তার উপরে উপরে মকরবাহিনী দেবী গঙ্গা বিরাজ করেন। এখানে রীতি মেনে আজও মহা সপ্তমীর সকালে নদীতে ঘট ভরতে যাবার সময় বাড়ির পুরুষেরা উপস্থিত থাকেন। এককালে জমিদারি ঐতিহ্যের প্রতীক হিসাবে শূন্যে ৫ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পুজোর সূচনা করা হতো ।
আজ সেই রাজাও নেই।রানিও নেই । নেই জমিদারির সেই স্বর্ণ যুগ।কিন্তু আজও দূর্গা পুজো রয়ে গেছে একই রকম অন্তত ভক্তি, নিষ্ঠা এবং ঐতিহ্যের পরম্পরা আজও অমলিন। দশমীতে বিরাট মেলা বসে। প্রথা অনুযায়ী মেলা শেষ হলে প্রতিমা নিরঞ্জন হয় এবং আবার যথারীতি
পরের বছরের জন্য প্রতীক্ষা শুরু হয়।
বহু ঐতিহাসিক পুজো হয় সারা বাংলায়। আবার ফিরে আসবো এমনই কোনো দূর্গা পুজোর কথা নিয়ে আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
বনেদি বাড়ির পুজো – বেড়ে জমিদার বাড়ির পুজো
বর্ধমানের বেড়ে জমিদার বাড়ির দেড়শো
বছরের পুরানো দুর্গাপুজো পুজোকে নিয়ে আছে অসংখ্য লোককথা এবং ঐতিহাসিক ঘটনা। আজকের পর্বে শতাব্দী প্রাচীন এবং ঐতিহ্যপূর্ণ এই পুজো নিয়ে লিখবো।
শোনা যায় এই বংশের দাপুটে জমিদার ব্রজেন্দ্রলাল দাসকে দেবী স্বপ্নে দেখা দিয়ে
তার মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো করার কথা বলেন। আর সেই বছর থেকেই বেড়ের জমিদার পরিবারে মা দুর্গার পুজো হচ্ছে মৃন্ময়ী মূর্তিতে। স্বপ্নাদেশ পেয়ে তৈরি হয় মূর্তিও। একচালার কাঠামোয় বসে থাকা দেবীর ডান পাশে বসে থাকেন দেবাদিদেব মহাদেব। শিব-পার্বতীর দুপাশে অধিষ্ঠাত্রী লক্ষ্মী আর সরস্বতী । নিচে বসে কার্তিক আর গণেশ। দেবী এখানে মহিষাসুরমর্দিনী নন, দাস পরিবারে হয় হরগৌরীর আরাধনা।স্বপ্নাদেশ পাওয়ার আগে পর্যন্ত ঘটে পুজো হতো।
পুজো শুরু হওয়ার পরেই জমিদার ব্রজেন্দ্রলাল দাসের জীবনে ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা।
তার কোনও পুত্র সন্তান ছিল না।সবাই একরকম সন্তান লাভের আশা ছেড়েই দিয়ে ছিলেন সেই সময়ে দেবীর সেই স্বপ্নাদেশের পর মহাসমারোহে হরগৌরী মূর্তি তৈরি করে পুজোর শুরু হওয়ার পরই ব্রজেন্দ্রলাল দাস পুত্রলাভ করেন। দেবীর স্বপ্নাদেশে পাওয়া বলে একমাত্র পুত্রের নাম হয় দুর্গাচরণ দাস।
বেড়ে রাজবাড়ীর পুজোতে আসতেন বর্ধমানের মহারাজা সহ বহু গণ্য মান্য ব্যক্তি। সেই যুগে এই রাজবাড়ির পুজো ছিলো গোটা জেলার মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ পুজো।ঠাকুর দালানে নিয়ম
করে বসত যাত্রাপালা, গানের আসর। দুর্গামণ্ডপ লাগোয়া দোতলার ঘর থেকে অন্দরমহলের মহিলারা পুজো দেখতেন।
যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক কিছু পাল্টালেও আজও রীতি অনুসারে পঞ্চমীতে বোধনের সঙ্গে সঙ্গে শুরু পুজো। সন্ধি পুজোয় আগে পশু বলী হলেও বর্তমানে এখানে শুধু
মণ্ডা বলি হয় নিয়ম রক্ষায় ।
একটি অলৌকিক ঘটনার কথা না বললেই নয় শোনা যায় সেই শুরুর দিন থেকে আজও এখানে অষ্টমীর দিন সন্ধিক্ষণে দুর্গামণ্ডপের উপর একটি শঙ্খচিল উড়তে দেখা যায়। আবার দশমীর দিন যখন দেবীর বিসর্জন করা হয় পাশের একটি প্রাচীন জলাশয়ে তখনও আকাশে উড়তে দেখা যায় সেই শঙ্খচিলটি।
ফিরে আসবো বনেদি বাড়ির পূজোর পরের পর্ব নিয়ে। থাকবে এমন সব দূর্গা পূজোর ইতিহাস
এবং অলৌকিক ঘটনা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দূর্গা কথা – পাথুরিয়াঘাটা জমিদার বাড়ির পুজো
বাংলার বনেদি বাড়ির পুজো গুলির মধ্যে কলকাতার বনেদি বাড়ি গুলি একসময়ে দূর্গাপুজো করে তাক লাগিয়ে দিতো গোটা বাংলাকে আর এক্ষেত্রে উত্তর কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজো গুলি অনেকটাই এগিয়ে ছিলো।পাথুরিয়াঘাটার রাজবাড়ির পুজো তার মধ্যে অন্যতম এই পুজোকে অনেকে চেনেন খেলাৎ ঘোষের পুজো হিসেবে।নবাবী আমলে বর্ধমান থেকে ব্যবসা সূত্রে কলকাতায় এসে পাথুরিয়াঘাটা স্ট্রিটে বাড়ি তৈরি করেন রামরাম ঘোষ। পলাশীর যুদ্ধের কয়েক বছর পরে সালে তৈরি পাথুরিয়াঘাটা স্ট্রিটের বাড়িটি। পাথুরিয়াঘাটা ঘোষ বংশের প্রতিষ্ঠাতা রামরামের ছেলে রামলোচন ঘোষ ইস্ট ইন্ডিয়া কম্পানির সাথেও ব্যবসা করেছেন পরে তিনি কোম্পানির দেওয়ান নিযুক্ত হন তিনি।রামলোচনের তিন পুত্র শিবনারায়ণ, দেবনারায়ণ এবং আনন্দনারায়ণ।রামলোচনের মেজো ছেলে দেবনারায়ণের ছেলে খেলাৎচন্দ্র ঘোষ উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পুরনো বাড়ির পাশেই দুর্গাদালানসহ নতুন বাড়ি তৈরি করে উঠে যান এবং সেখানে দুর্গাপুজো শুরু করেন আজও সেই পুজো খেলাৎ ঘোষের পুজো নামে জনপ্রিয়।এই বাড়ির দূর্গা পুজোতে আসতেন সস্ত্রীক ওয়ারেন হেস্টিংস পরবর্তীতে ঘোষ বাড়ির পুজোতে এসেছেন শ্রীরামকৃষ্ণ এবং গান্ধীজির মতো ব্যাক্তিত্বরা।খেলাৎ ঘোষের ছেলে রামনাথ ঘোষ যখন বাড়ির কর্তা তখন কথা সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় পুজোর সময় এই বাড়িতে আসতেন।কালীপ্রসন্ন সিংহ মানে হুতোম প্যাঁচার লেখায় প্রায়ই উঠে আসত বাবু খেলাত চন্দ্র ঘোষের বৈভবের কথা। ঘোষ বাড়ির বিখ্যাত দুর্গাপুজোর কথা।এবাড়িতে আশ্বিনের কৃষ্ণপ্রতিপদে দেবীর বোধন শুরু হয়। তার আগে মধুসূদন ও রামকৃষ্ণ দেবের পুজো করা হয়।পুজোর প্রতিদিনই কুমারী পুজো হয়।সপ্তমীর দিন কলাবউ স্নান হয়।অষ্টমীর দিন হাজার একটা পদ্ম নিবেদন করা হয় দেবীকে।ঘোষ বাড়ির পুজোতে পশু বলি নিষিদ্ধ তার বদলে এখানে বলি দেওয়া হয় চিনির মঠ যা বিশেষ ভাবে কাশী থেকে বানিয়ে আনা হয়।শোনা যায় অতীতে সাতবার বন্দুক দেগে প্রতিমা ঘাটের দিকে নিয়ে যাওয়া হত কালের নিয়মে কিছু রীতি নীতিতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে তবে আজও আন্তরিকতা এবং নিষ্ঠা একই রকম আছে।ফিরে আসবো অন্য কোনো ঐতিহাসিক বনেদি বাড়ির পুজো নিয়ে আগামী পর্বে। চলবে এই ধারাবাহিক আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
দূর্গা কথা – পুরুলিয়ার কাশীপুর রাজ বাড়ির পুজো
বর্তমান সময়ে শহরের থিম পূজোর ভিড়ে কিছুটা হলেও জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে এক সময়ের ঐতিহাসিক বনেদি বাড়ির পুজোগুলি। তবে আজও ঐতিহ্য এবং শাস্ত্রীর রীতি নীতির দিক দিয়ে বিচার করলে এই পুজোগুলিকেই এগিয়ে রাখতে হবে।এমনই এক ঐতিহাসিক পুজো পুরুলিয়া জেলার কাশীপুর রাজবাড়ির পূজো যা নিয়ে আজকের পর্ব।কাশীপুর রাজপরিবার আসলে পঞ্চকোট রাজবংশের শেষ একটা রাজপরিবার। কয়েকশ বছর আগে পঞ্চকোট পাহাড়ের পাদদেশে এই রাজবংশ বসবাস করত। সেখান থেকে বর্গিরাজাদের আক্রমণের পর কাশীপুরের যিনি মহারাজা ছিলেন উনি রঘুনাথপুর পালিয়ে আসেন সপরিবারে; এবং তারপর থেকে এখানেই অর্থাৎ পুরুলিয়ার কাশিপুরে পুরোপুরি ভাবে অবস্থান করেন। তারপর ধীরে ধীরে উনি ওনার সাম্রাজ্য বিস্তার করেন ও কাশীপুরের এই প্রাসাদ নির্মাণ করেন ও সপরিবারে বসবাস শুরু করেন। দুর্গাপূজার প্রচলন করেন যা আজও অব্যাহত।এই কাশীপুর রাজ বাড়ির দূর্গাপূজোর কিছু বিশেষত্ব আছে।এখানে দেবী পূজো তথা প্রতিটি শাস্ত্রীয় উপাচার পালিত হয় ঘড়ির কাঁটা ধরে।এক মুহূর্তের হের ফের হয়না।যেহেতু বৈষ্ণব মতে হয়ে থাকে পূজোর যাবতীয় আয়োজন থেকে প্রাণী হত্যা সম্পূর্ণ বাদ তার বদলে পূজো কদিন মায়ের অন্নভোগ দেওয়া হয়।এই কাশী পুর রাজবাড়ির দূর্গা পুজো নিয়ে একটি অলৌকিক ঘটনাও কিংবদন্তী রূপে প্রচলিত আছে।পূজোর অষ্টমী তিথিতে নিশিপূজোর সময় সিঁদুরের থালার মধ্যে মায়ের পায়ের ছাপ দেখতে পাওয়া যায়। সেই সময়টাতে ঠাকুর দালান ভারী পর্দা দিয়ে আচ্ছাদন করে দেওয়া হয় এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। শুধু সেই সময়টুকু গোপনীয়তা বজায় রাখতে এমন টা করা হয়।এক সময়ে পারিবারিক পুজো হিসেবে শুরু হলেও বর্তমানে এই জেলার অসংখ্য মানুষ এই পুজোয় অংশ নেন। পুজো কদিন রাজবাড়ির সদর দরজা থেকে ঠাকুর দালান বা প্রাঙ্গন সর্বত্র থাকে মানুষজনের অবাধ প্যাতায়াত ।আসন্ন দূর্গা পুজো উপলক্ষে সারা বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এমন সব ঐতিহাসিক দূর্গা পূজো নিয়ে চলতে থাকবে এই ধারাবাহিক অনুষ্ঠানে।ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন ধন্যবাদ।
বনেদি বাড়ির পুজো – বারুইপুর রাজবাড়ীর পুজো
নবাবী আমলে বাংলার বারো ভুঁইয়া দের এক ভূঁইয়া ছিলেন বারুইপুরের রায়চৌধুরীরা যদিও তারা গোড়ার দিকে রায় ছিলেন পরবর্তীতে ব্রিটিশ দের দের সাথে সম্পর্ক এবং নিজেদের প্রভাব ও প্রতিপত্তির জোরে রায় চৌধুরী উপাধি লাভ করেন।
তাদের সেই জমিদারী আজ আর হয়তো নেই তবে তাদের দুর্গাপূজা আজও আছে। বারুইপুর জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো নানা কারণে ঐতিহাসিক। এই পূজোর ইতিহাস নিয়ে এই পর্বে আলোচনা করবো।
প্রায় তিনশো বছর আগে রাজা রাজবল্লভ রায়চৌধুরী এই দুর্গাপুজোর সূচনা করেছিলেন। এখনও তিন জন পুরোহিত রীতি মেনে এখানে পুজো করেন।প্রতিপদ থেকে শুরু হয়ে যায় পুজো।
সেই শুরুর দিন থেকে যা যা রীতি আছে সবই আজও নিষ্ঠার সাথে পালিত হয় এখানে।
বেশ কিছু বছর আগেও বারুইপুর আদি গঙ্গার জলে প্রতিমার বিসর্জনের সময় দুটি করে নীলকন্ঠ পাখি ওড়াতেন বারুইপুর রায়চৌধুরী বাড়ির কর্তারা। যদিও সরকারী কারণে নীল কণ্ঠ পাখি ওড়ানোর মতো কিছু রীতিতে বর্তমানে অনিচ্ছা সত্ত্বেও লাগাম টানতে হয়েছে তবুও বাপ ঠাকুর্দার আমল থেকে চলে আসা ঐতিহ্য যতটা সম্ভব ধরে রাখার চেষ্টা করা হয়।
যেহেতু পুজো হয় তন্ত্র মতে তাই সপ্তমী থেকে নবমী নিশি পর্যন্ত প্রতিদিন এখানে পশু হয় বলি হয়। অষ্টমীতে পরিবারের সবার একসাথে বসে ভোগ খাওয়ার নিয়ম আছে।অতীতে জমিদার বাড়িতে নৈবেদ্যর ডালা সাজিয়ে প্রজারা আসতেন এখন সেই পরম্পরা আর চোখে পড়েনা তবে জেলা থেকে বহু দর্শণার্থী আজও আসেন।
চারপাশের অসংখ্য বারোয়ারী পুজোর ভিড়, থিমের চমক থাকলেও আজও অমলিন বারুইপুরের রায়চৌধুরী বাড়ির দুর্গাপুজো এবং তাদের গৌরব।আজও তাই রীতি মেনে
বারুইপুরে প্রতি বছরই রায়চৌধুরীদের প্রতিমা সবার আগে বিসর্জন হয়। তারপর অন্যান্য প্রতিমা বিসর্জিত হয়।
ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট থাকা কালীন সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও একসময় কিছুদিন বারুইপুরের এই জমিদার বাড়িতে কাটিয়েছিলেন। এই বাড়িতে বসেই তিনি কপাল কুণ্ডলা এবং দূর্গেশনন্দিনীর মতো ঐতিহাসিক উপন্যাস
গুলি লিখেছেন। তার ব্যাবহিত টেবিল এবং
চেয়ার এখানে এখনও রাখা আছে।
সারা বাংলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এমন সব ঐতিহাসিক দূর্গা পূজো নিয়ে চলতে থাকবে এই ধারাবাহিক অনুষ্ঠানে।ফিরে আসবো
আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।