Home Blog Page 76

কালী কথা – অরন্যা কালীর পুজো

কালী কথা – অরন্যা কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দু হাড়োয়ার বুক চিরে বয়ে গিয়েছে বিদ্যাধরী নদী। তার কিছু দূরে রয়েছে প্রাচীন অরন্যা কালী মন্দির। আজকের কালী কথায় জানাবো এই মন্দিরের মাহাত্ম।

 

আজ থেকে আড়াইশো বছর আগে বিদ‍্যাধরীর জলস্ফিতি হয়ে বন‍্যায় ভেসেছিল সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই সময় সুন্দরবনের জঙ্গলে বিদ‍্যাধরী নদীর পাশে এক সাধু জঙ্গলের মঙ্গলের জন্য এই অরণ‍্য কালীর যজ্ঞ শুরু করেছিলেন।

দেবী কালীএ কৃপায় সে যাত্রায় রক্ষা পান এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষ। তারপর এলাকার মানুষের প্রচেষ্টায় একটু একটু করে ধাপে ধাপে তৈরি হয়েছে এই মন্দির। বর্তমানে অরণ্য কালিবাড়ি বলে প্রসিদ্ধি লাভ করছে এই কালী ক্ষেত্র।

 

কথিত আছে, আড়াইশো বছর আগে বিদ‍্যাধরীর জলস্ফিতি হয়ে বন‍্যায় ভেসেছিল সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই সময় সুন্দরবনের জঙ্গলে বিদ‍্যাধরী নদীর পাশে এক সাধু জঙ্গলের মঙ্গলের জন্য এই অরণ‍্য কালীর যজ্ঞ শুরু করেছিলেন। তারপর একটু একটু করে ধাপে ধাপে তৈরি হয়েছে একটি মন্দির। বর্তমানে অরণ্য কালিবাড়ি বলে পরিচিত।

 

মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়ার পর এই পুজোর দায়িত্ব গ্রামেরই ভট্টাচার্য্য পরিবারের হাতে হস্তান্তর করে গ্রামবাসীরা। তখন থেকেই ভট্টাচার্য্য পরিবার এই পূজার দেখাশোনা করে আসছে।স্থানীয় দের মতে এখানকার মা কালী খুবই জাগ্রত। তার কাছে মন থেকে যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়।

 

প্রতি বছর শ‍্যামা পুজোর দিন পশু বলী হয় পাশাপাশি ফলও বলি দেওয়া হয়। খিচুড়ি ভোগ তৈরি হয়। পুজো উপলক্ষে এই সময়ে কালী মায়ের কাছে প্রার্থনা করতে বহু দূর দূরান্ত থেকে পূণ‍্যার্থীদের আগমন ঘটে।

 

এমন বহু প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দির আছে এই বাংলার বুকে। পরবর্তী পর্বে অন্য

এক কালী মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো কালী কথায়। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – গোঘাটের কালী পুজো

কালী কথা – গোঘাটের কালী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পশ্চিম বঙ্গের হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমার প্রত্যন্ত একটি জনপদ হল গোঘাট।এই গোঘাটে রয়েছে এক হাজার বছরের প্রাচীন কালী মন্দির। মাতৃ সাধক সন্ন্যাসী অহরলাল গোস্বামী এই স্থানে মন্দির প্রতিষ্ঠা করে মা কালীর আরাধনা শুরু করেন। আজকের কালী কথায় এই কালী পুজো নিয়ে লিখবো।

 

যে গ্রামে কালী মন্দির আছে তার নাম আগাই গ্রাম। আজ থেকে হাজার বছর আগে এই স্থান ছিল জঙ্গলে ঘেরা।পায়ে হাঁটা মেঠো পথে ডাকাত আর জংলী প্রাণী দের আনাগোনাই বেশি ছিলো। সন্ধ্যের পর এই গ্রামে রাস্তা দিয়ে মানুষ যাতায়াত করত না।

 

সেই সময়ে বর্ধমান রাজ পরিবারের আর্থিক সাহায্যে গোঘাটের এই আগাই গ্রামে চারটি জলাশয় কেটে গড় প্রতিষ্ঠা করে মা কালীর পুজো শুরু হয়েছিলো গোস্বামী পরিবারের হাত ধরে।

 

যদিও মন্দির প্রতিষ্ঠা হওয়ার বহু আগে থেকে দেবী কালী এই স্থানে বিরাজ করতেন। গোস্বামী বাড়ির কাছে একটি পুকুরের পাড়ে বিশাল এক নিম গাছ ছিল। সেই নিম গাছের তলাতেই মা কালীর প্রথম পুজো হতো। এই নিম গাছের তলায় ডাকাত দল পুজো করে ডাকাতি করতে যেত।পরবর্তীতে নিম গাছের তলায় পুজোর পর মূল মন্দিরে দেবীর আরাধনা হত।

 

সেই অতীত আজ শুধুই স্মৃতি আর কিছুটা জনশ্রুতি তবে এখনও বহু প্রাচীন রীতি প্রচলিত আছে।নিমগাছের নিচে যখন পুজোপাঠ শুরু হয় তখন গোট গ্রাম নিশুতি হয়ে যায়। অন্ধকারে গোটা গ্রাম ঢেকে যায়। কারুর বাড়িতে কোনও আলো জ্বলে না। একটা গা ছমছমে ও রহস্যময় পরিবেশ পুরোহিত ঠাকুর নিমগাছের তলায় মা কালিকে আহ্বান জানান।গভীর রাতে এই মন্ত্র উচ্চারণ যেনো এক মায়াবী পরিবেশ সৃষ্টি করে।

 

আজও প্রথমে মঙ্গল ঘট স্থাপন করে শুরু হয় পুজো।তারপর দেবী মূর্তির চক্ষুদান করা হয় এবং সেই সময় বলী প্রথার রীতি রয়েছে। তন্ত্র মতেই সম্পন্ন হয় পুজো। সবমিলিয়ে এখনও বেশ নিষ্ঠার সঙ্গে ও প্রাচীন প্রথা মেনে আগাই গ্রামে মা কালীর পুজোপাঠ হয়।বিশেষ বিশেষ তিথিতে বহু দর্শণার্থী আসেন মনোস্কামনা নিয়ে।গোঘাটের জাগ্রত কালী সব ভক্তের মনোস্কামনা পূর্ণ করেন বলে বিশ্বাস।

 

ধারাবাহিক কালী কথা চলতে থাকবে।

ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার কালী – দেবী মন্দিরবসিনীর পুজো

বাংলার কালী – দেবী মন্দিরবসিনীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন ব্লকের ফিকাহার এলাকার মন্দিরবাসীনি কালী মায়ের মন্দির প্রায় ৬০০ বছরের পুরনো।আজকের বাংলার কালী পর্বে আপনাদের এই প্রাচীন কালী নিয়ে লিখবো।

 

এমনিতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ইতিহাসের বিভিন্ন বিষয়। এখানে যেমন রয়েছে বৌদ্ধতান্ত্রিক নিদর্শন, মহাভারতের নিদর্শন তেমনি রয়েছে শাক্ততন্ত্রের নিদর্শনও।এই শাক্ত তন্ত্রের অন্যতম নিদর্শন এই মন্দির বসিনী কালী মন্দির।

 

এই কালী মাকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এক মহিলা তান্ত্রিক। লোকশ্রুতি রয়েছে, এই মহিলা তান্ত্রিক কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে তাঁর কিশোরী কন্যাকে জীবন্ত কবর দেন এবং তার ওপরই গড়ে তোলেন এই কালী মায়ের মূর্তি। এখানে বসেই তান্ত্রিক তাঁর তন্ত্রসাধনা করতেন। তান্ত্রিকের মৃত্যুর পর এরপর দক্ষিণ দিনাজপুরের এক জমিদার তান্ত্রিকের তন্ত্র সাধনার জায়গাতেই এই মন্দির গড়ে তোলেন। যা ছয়শো বছেরেরও পুরনো।হার হিম করা এই তন্ত্র সাধনার উপখ্যান আজও এই অঞ্চলের মানুষ সত্যি বলেই মানেন।

 

বিশেষ কিছু রীতি আছে এই মন্দিরে এই মা কালী হলেন অসূর্যস্পর্শা যার অর্থ সূর্যের আলো দেখেননা তিনি। মন্দিরেই বাস এই দেবীর তাই এই দেবীকে মন্দিরবাসীনি দেবী হিসাবে ডাকা হয়।

আজও তার উপস্থিতি ভক্তরা উপলব্ধি করেন।

 

নিয়ম করে প্রতি বছর কালীপুজোর দিন সূর্যাস্তের পরে কালীর মূর্তি তৈরি করার সঙ্গে সঙ্গে চক্ষু দান সহ মূর্তি তৈরি করে একরাতের মধ্যে পুজো সম্পন্ন করা হয় এবং সূর্যোদয়ের আগেই মাকে বিসর্জন দেওয়া হয়ে থাকে। এই প্রথাই চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। শাক্তমতে পুজো হয় তাই বলি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে এই কালী পুজোয়।

 

বর্তমানে মন্দিরের অবস্থা প্রায় ভগ্নাশেষ। এই পুজোতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, এখানে মহিলাদের প্রবেশ নিষেধ।যা বাংলার আর কোনো কালী মন্দিরে লক্ষ্য করা যায়না।পুজোর কাজ থেকে শুরু করে সবকিছু পুরুষরাই করে থাকেন। এমনকী ওই দেবীর ছবি তোলাও নিষেধ, যদি দেবী সূর্যের আলো দেখে ফেলেন তাতে গ্রামের অকল্যাণ হতে পারে বলে মনে করে গ্রামবাসীরা।সব নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করে দেবী মন্দির বসিনীর পুজো হয়।

 

বাংলার প্রাচীন কালী পুজোগুলি নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে। ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

 

.

বাংলার কালী – রানীগঞ্জের অলৌকিক কালীপুজো 

বাংলার কালী – রানীগঞ্জের অলৌকিক কালীপুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

এই বাংলা বরাবরই কালী সাধনার ক্ষেত্র এখানে পুরনো কালী মন্দির আছে যেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একই পরম্পরা মেনে একই রীতিতে পুজো চলছে। এমনই এক পুরনো মন্দির রয়েছে রাজ্যের শিল্পশহর রানিগঞ্জে। যেখানে রয়েছে তিনশো বছরের পুরনো বড়মা কালী মন্দির।

 

একটা সময় রানিগঞ্জের বড়বাজার এলাকা ছিল শ্মশানভূমি। শ্মশানভূমির পাশ দিয়ে বয়ে যেত দামোদর নদ। আজ থেকে তিনশো বছর আগে এক মধ্যরাতে অন্ডালের বাসিন্দা তারাচরণ চট্টোপাধ্যায় দেবী কালীর স্বপ্নাদেশ পান। সেই স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী তারাচরণ ছুটে আসেন রানিগঞ্জের জঙ্গলে। প্রতিষ্ঠা করেন দেবী বড়মা কালীর। তারপর থেকে নিয়মিত অন্ডাল থেকে যাতায়াত করেই দেবী কালীর নিত্যপূজা সামলেছেন তিনি এবং পরবর্তীতে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা । আজও বংশপরম্পরায় সেই রীতি বহাল রয়েছে এই মন্দিরে।

 

যুগ পাল্টেছে সেই শ্মশানভূমি আজ ব হয়ে উঠেছে ব্যস্ত শহর।কিন্তু বড়মার পুজো আজও একই রীতিতে হয়।সময়ের হাত ধরে এই মন্দিরে বেড়েছে ভক্তদের ভিড়। প্রতিদিন এই মন্দিরে দেবীর হাতের খাঁড়া-ধোয়া জল পান করতে ভিড় করেন অজস্র ভক্ত। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তো বটেই, দূর-দূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসেন ভক্তরা। তাঁরা দেবীর খাঁড়া ধোয়া জল পান করেন। ভক্তদের দাবি, এই জল পান করে নাকি তাঁদের নানা রোগ-ব্যাধি সেরে যায়। সবার সব মনোস্কামনা পূর্ণ হয়।দেবীর খাঁড়া ধোঁয়া জলে অলৌকিক শক্তি আছে এটা ভক্তরা বিশ্বাস করে। কথায় বলে বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহু দূর। বিশ্বাস এবং ভক্তির কাছে যুক্তি ম্লান হয়ে যায়।

 

এই মন্দিরে তিনশো বছর আগে থেকেই রয়েছে একটি কুয়ো। সেই কুয়ো রয়েছে মন্দিরের চত্বরের মধ্যে। যা ঢেকে রাখা হয়। সাধারণত বলা হয়, সূর্যের আলো না-পড়লে কুয়োর জল নষ্ট হয়ে যায়। অলৌকিক ভাবে এখানকার কুয়োর জল কিন্তু অত্যন্ত স্বচ্ছ । শুধু তাই নয়, এই জল সারাবছর থাকে। গ্রীষ্মে দামোদরের খাতে জল শুকিয়ে যায়। গরমে খনি অঞ্চল রানিগঞ্জে জলাভাব দেখা যায়। কিন্তু, এই কুয়োর জল কিছুতেই কমে না।

 

এ সবই বড়োমায়ের কৃপায় হয় অন্তত এমনটাই দাবি ভক্তদের।প্রতি অমাবস্যায় বহু দর্শণার্থীদের সমাগম হয় এই মন্দিরে।

 

ফিরে আসবো বাংলার কালীর পরবর্তী পর্ব নিয়ে। থাকবে আরো একটি প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – অষ্টসিদ্ধির ব্যাখ্যা

বিশেষ পর্ব – অষ্টসিদ্ধির ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজী ভৃগুশ্রী জাতক

 

তুলসীদাস রচিত হনুমান চালিশায় হনুমানজীকে

“অষ্ট সিদ্ধি নবনিধী কে দাতা ” নামে অভিহিত করা হয়েছে।এই অষ্ট সিদ্ধি আটটি ঐশ্বরিক ক্ষমতা যা বজরংবলীর অসীম শক্তির উৎস। আজকের পর্বে আপনাদের জানাবো কি এই অষ্টসিদ্ধি এবং কিভাবে এই আটটি শক্তি হনুমানজী কাজে লাগিয়েছিলেন তার প্রভু রামের সেবায়।

 

প্রথম সিদ্ধি হলো অনিমা। এই সিদ্ধি শরীরকে ক্ষুদ্র আকার ধারণ করার ক্ষমতা দেয়। লঙ্কায় সীতাকে খোঁজার জন্য হনুমান যখন গোপনে প্রবেশ করেছিলেন তখন তিনি এই সিদ্ধি প্রয়োগ করে ক্ষুদ্র দেহ ধারণ করেছিলেন।

 

মহিমা হলো দ্বিতীয় সিদ্ধি। এই সিদ্ধির প্রয়োগে শরীর কে ইচ্ছে মতো বিরাট আকার দেয়া যায়। যখন যুদ্ধে লক্ষন আহত এবং একমাত্র সঞ্জীবনি গাছ প্রয়োজন তার প্রাণ রক্ষার জন্য তখন বজরংবলী এই সিদ্ধি ব্যবহার করে সঞ্জীবনি বৃক্ষ সহ সুমেরু পর্বতকে তুলে এনে ছিলেন।

 

গরিমা হলো তৃতীয় সিদ্ধি। এই সিদ্ধির বলে দেহের ওজন বাড়িয়ে বিপক্ষকে পরাস্ত করা যায়। মহাভারতের যুদ্ধের সময়ে ভিমের অহংকারকে চূর্ণ করতে হনুমান এই সিদ্ধি প্রয়োগ করেছিলেন। ভীম বৃদ্ধ হনুমানের লেজ তুলে তার পথ থেকে সরিয়ে দিতে গিয়ে ব্যার্থ হন। পরে তিনি হনুমানের স্বরূপ বুঝতে পেরে তার কাছে ক্ষমা চান এবং যুদ্ধে সাহায্য করার অনুরোধ করেন।

 

চতুর্থ সিদ্ধি লঘিমা গরিমার ঠিক বিপরীত। এই সিদ্ধি বলে শরীরকে অতিরিক্ত হাল্কা করে তোলা যায়। এই সিদ্ধি ব্যাবহার করে বজরংবলী সহজেই সমুদ্র অতিক্রম করে লঙ্কায় পৌঁছতে পারতেন।

 

পঞ্চমসিদ্ধি প্রাপ্তি এমন এক অলৌকিক ক্ষমতা যা এই সিদ্ধির অধিকারী ব্যাক্তির সব মনোস্কামনা পূর্ণ করে। যা কিছু মনোস্কামনা মনে উদয় হয় তা সাথে সাথে পূর্ণতা পায়।শুন্য হাতে এসে যেতে অস্ত্র।যুদ্ধ ক্ষেত্র সহ একাধিক ক্ষেত্রে বজরংবলীকে এই সিদ্ধি প্রয়োগ করতে দেখা গেছে।

 

প্রকম্য হলো ষষ্ঠ সিদ্ধি এই সিদ্ধি প্রাণ শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। প্রতিকূলতাকে জয় করতে সাহায্য করে। যাদের এই সিদ্ধি আছে তারা জলের মধ্যেও দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে।বজরংবলী যে অজেয় এবং চিরঞ্জিবী হন তার একটি বড়ো কারন এই সিদ্ধির অধিকারী হওয়ার।

 

ঈশিত্ব হলো সপ্তম সিদ্ধি যা প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা প্রদন করে। বজরংবলী ছিলেন এই সিদ্ধির অধিকারী। এই সিদ্ধি থাকলে প্রাকৃতিক যেকোনো ঘটনা ঘটানো যায় যেমন বৃষ্টিপাত, বায়ুর গতি, নদীর জল ধারা কে পরিচালনা করা যায়। বজরংবলী তা পারতেন।

 

বশিত্ব এই অষ্টম এবং শেষ সিদ্ধি অন্যর মনের উপরে প্রভাব বিস্তার করার ক্ষমতা দেয়। যার এই সিদ্ধি থাকবে সে যেকোনো মানুষ বা প্রাণীর মনের কথা বুজতে পারবে এবং তার মনকে প্রভাবিত করতে পারবে। বজরংবলী অষ্ট সিদ্ধির অধিকারী হওয়ায় তার এই ক্ষমতা ছিলো।

 

বজরংবলীকে নিয়ে ধারাবাহিক এই আলোচনা আশা করি আপনাদের ভালো লেগেছে।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে ধারাবাহিক শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – বজরংবলী এবং শনি দেব

বিশেষ পর্ব – বজরংবলী এবং শনি দেব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শাস্ত্রে আছে হনুমান পুজো করলে শনির খারাপ প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায় কিন্তু কেনো|তার উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের শাস্ত্রে।আজকের পর্বে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজবো।

 

দুজনের প্রথম সাক্ষাৎ হয় লঙ্কায়। হনুমানজী যখন প্রথম লঙ্কায় যান রামের দূত হিসেবে তখন তিনি লঙ্কায় রাবনের হাতে বন্দি শনিদেবকে মুক্ত করে দেন।পুত্র ইন্দ্রজিৎ কে অমর এবং অজেয় করতে তার জন্মের সময় রাবন সমস্ত গ্রহকে লংকায় আটকে রেখেছিলেন। শনিদেব অবাধ্য হওয়ায় তাকে আলাদা করে বন্দি করে রাখা হয়েছিলো।

 

এর পর প্রভু রাম যখন লঙ্কায় যাবেন, রাবণকে বধ করে সীতাকে উদ্ধার করার জন্য তখন রামেশ্বরমে সেতুবন্ধন হচ্ছে। ভক্ত বীর হনুমান আছেন তারই তত্ত্বাবধানে, কঠোর প্রহরায়। প্রিয় রামের কাজে কোনো বাধা আসতেই দেবেন না তিনি।এমন সময়, হনুমান একদিন রামের পুজোয় বসেছেন। এমন সময় শনিদেব এলেন তাঁর কাছে। নিজ পরিচয় সদম্ভে ঘোষণা করে কে বেশী শক্তিশালী তা দেখার জন্য হনুমানকে যুদ্ধে আহ্বান করলেন।শান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করলেন হনুমান। বললেন, ‘আমি এখন রামের ধ্যানে বসেছি। দয়া করে আমাকে একা ছেড়ে দিন। পুজোর সময় আমাকে বিরক্ত করবেন না’।

 

শনি তো নাছোড়বান্দা! যুদ্ধে শক্তি পরীক্ষা না করে কিছুতেই যাবেন না তিনি। অগত্যা হনুমান আর কি করেন! নিজের লেজটাকেই বড় করে শনিদেবকে পেঁচিয়ে ফেললেন এবং শক্ত করতে লাগলেন লেজের বাঁধুনি। যতই বাঁধন শক্ত করেন, শনিদেব তো ততই হাঁসফাঁস করতে থাকেন ব্যথায়! শেষে হনুমান যখন লেজ ওপর-নীচ করতে লাগলেন, শনিদেবের তখন রীতিমতো কষ্ট পাচ্ছেন, এরপর পাথরের উপর দিয়ে ঘষে তাকে কিছুটা দূর নিয়ে গেলেন হনুমান, সারা গায়ে যখন তাঁর রক্তে ভেসে যাচ্ছে, তিনি মুক্তি চাইলেন, তখন শনির মিনতিতে দয়া হল হনুমানের। ছেড়ে দিলেন তিনি।

 

এরপর শনিদেব সারা শরীরে তেল দিয়ে মালিশ করে যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেয়ে ছিলেন। হনুমানের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে শনিদেবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি আর রামের ভক্তদের বিরক্ত করবেন না।

 

তবে এখানেই শেষ নয় আরো একবার এই দুই মহারথী মুখোমুখি হয়েছিলেন, এবার সেই ঘটনা টা বলি, একবার কলিযুগে হনুমানজী শ্রীরামের ধ্যান করছিলেন। সেই সময় শনিদেব এসে তাকে হুমকির সুরে সাবধান করে বলেন যে এই মুহূর্ত আমার সাড়ে সাতির দশা আপনার ওপরেও পড়তে চলেছে। এর উওরে হনুমানজী বলেছিলেন শ্রীরামের যারা ভক্ত তাদের উপরে গ্রহের কু প্রভাব পড়েনা।তাছাড়া আমার গোটা শরীরেতো শ্রীরামের বাস আপনি বসবেন কোথায়? এর থেকে ভাল আপনি অন্য কোথাও চলে যান। শনিদেব তখন বলেন আমি সৃষ্টি কর্তার বিধানে বাধ্য। আমি আপনার শরীরেও প্রবেশ করছি। হনুমানজী তখন বলেন ঠিক আছে চলে আসুন। এই বলাতে শনিদেব হনুমানজীর মাথায় গিয়ে অবস্থান করলেন।আর হনুমানজীর মাথায় তখন হঠাৎ একটু অসস্ত্বি হতে শুরু হল। হনুমানজী এক পাহাড় তুলে নিজের মাথায় রাখলেন। চাপা পড়ে শনিদেব হনুমানজীকে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করলেন এ আপনি কি করছেন? হনুমানজী উওরে বললেন আপনি যেমন সৃষ্টি কর্তার বিধানে বাধ্য তেমনি আমিও আমার নিজের স্বভাবে বাধ্য।

এই বলে তিনি আবার একটি পাহাড় তার মাথায় রাখলেন। শনিদেব আরও চাপা পড়ে বললেন আমাকে নিচে নামতে দিন আমি আপনার সঙ্গে সন্ধি করতে রাজি আছি। হনুমানজী কোন কথা না শুনে তৃতীয় পর্বত তার মাথায় তুলে নেন। শনিদেব আরও চিৎকার করতে করতে থাকে, বলে আমাকে মুক্ত কর পবন পুএ আমি কখনও তোমার আশেপাশেও আসবো না। হনুমানজী এই বার চতুর্থ পর্বত তার মাথায় তুলতে যন্ত্রনায় কাতর শনিদেব চিৎকার করতে থাকেন আমার ভুল হয়ে গেছে রামভক্ত হনুমান। আমি আপনি কেন আপনার কোন ভক্তের ধারেকাছে আমি যাব না কথা দিচ্ছি। এই কথা শোনার পর হনুমানজী পাহাড় নামিয়ে শনিদেবকে মুক্তি দেন।

 

আজকে বজরংবলী কে নিয়ে আলোচনা এখানেই শেষ করছি।ফিরে আসবো আগামী পর্বে।

সঙ্গে থাকুন।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – হনুমানজির পঞ্চমুখী রূপ 

বিশেষ পর্ব – হনুমানজির পঞ্চমুখী রূপ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পবনপুত্র হনুমানজীর জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনায় আজকের এই পর্বে জানাবো হনুমানজির পঞ্চমুখী রূপের ব্যাখ্যা এবং এই বিশেষ রূপ ধারণের কারন|

 

কেনো বজরংবলী কে পঞ্চ মুখী রূপে অবতীর্ন হতে হয়েছিলো তার উত্তর রামায়নেই রয়েছে।

প্রভু শ্রীরাম এবং রাবণের যুদ্ধ চলাকালীন পরাজয় এড়াতে রাবণ তাঁর ভাই অহিরাবনের নের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন।অহিরাবন ছিলেন পাতালের রাজা। রাবণের ভাই অহিরাবন তার মায়ার মধ্য দিয়ে প্রভু শ্রীরামের সেনাকে ঘুমের মধ্যে ফেলে শ্রী রাম এবং লক্ষ্মণকে বন্দী করে করে পাতালে নিয়ে যান।

 

হনুমানজি রাম ও লক্ষণকে উদ্ধার করতে পাতাল লোকে গিয়ে দেখলেন সেখানে পাঁচটি মোবাতির পাঁচটি শিখা জ্বলছে এই শিখা গুলোই অহিরাবনের শক্তির উৎস|এই সময় হনুমান পঞ্চমুখী রূপে অবতীর্ন হন।পঞ্চমুখ অবতারে হনুমান তার পাঁচটি মুখ দিয়ে একসাথে সেই পাঁচটি মোমবাতি নেভান শক্তি হীন অবস্থায় রাবণের ভাই অহিরাবননকে যুদ্ধে পরাজিত এবং হত্যা করে ভগবান শ্রী রাম এবং লক্ষ্মণকে উদ্ধার করে আনেন। সংক্ষেপে

এই হলো পঞ্চমুখী রূপে অবতীর্ন হওয়ার কারন|

 

ভারতীয় জ্যোতিষ শাস্ত্র, বাস্তু শাস্ত্র এবং আধ্যাত্মিক জগতে হনুমানের এই রূপের গুরুত্ব অপরিসীম।পাঁচটি মুখের রয়েছে নিদ্দিষ্ট নাম ও ব্যাখ্যা।পঞ্চমুখি রূপের পুজোর আলাদা তাৎপর্য আছে। মনে করা হয় গৃহে বজরংবলীর পঞ্চমুখি রুপ থাকলে নানাবিধ বিপদ দূর হয়।

 

প্রথম মুখটির নাম শ্রী হনুমান  –

 

এই মুখের তাৎপর্য হ’ল এই মুখটি পাপের ফল থেকে রক্ষা করে এবং মনের বিশুদ্ধতা দেয়।

 

দ্বিতীয় মুখটির নাম নরসিংহ  –

 

এই মুখের তাৎপর্য হ’ল এই মুখটি শত্রুদের ভয়কে সরিয়ে দেয় এবং বিজয় দেয়। নরসিংহ হলেন ভগবান বিষ্ণুর অবতার, যিনি তাঁর ভক্ত প্রহ্লাদকে তাঁর দুষ্ট পিতা হিরণ্যকশিপু থেকে রক্ষা করার জন্য এই রূপ নিয়েছিলেন।

 

তৃতীয় মুখটির নাম গরুড় –

 

এই মুখের তাৎপর্য হলো এই মুখটি অশুভ শক্তি, নেতিবাচক প্রভাব দূরে সরিয়ে দেয়

গরুড় হলেন ভগবান বিষ্ণুর বাহন।

 

চতুর্থ মুখটির নাম বরাহ –

 

এই মুখটিও বিষ্ণুর অবতার স্বরূপ। এই মুখটি সুখ ও সমৃদ্ধি দান করে এবং মনকে শান্ত রাখে|

 

পঞ্চম মুখটি হয়গ্রিব –

 

এই মুখটি ঘোড়ার আকৃতি বিশিষ্ট |এই মুখ শক্তি ও জ্ঞান দান করে ও আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটায় |

 

রূদ্র অবতার হনুমান কল্যানের দেবতা হিসাবে বিবেচিত হন।শাস্ত্র মতে পঞ্চমুখী হনুমানজি তাঁর ভক্তদের সমস্ত দুর্ভোগকে নষ্ট করে দেন এবং নিয়মিত তার আরাধনা অপার ঐশ্বর্য ও সমৃদ্ধি প্রদান করে|

 

পবন পুত্র হনুমানকে প্রনাম জানিয়ে শেষ করছি আজকের এই পর্ব|চলতে থাকবে বজরংবলীকে নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা। দেখা হবে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা

বিশেষ পর্ব – হনুমান জয়ন্তীর শুভেচ্ছা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ বজরংবলীজীর আবির্ভাব তিথি। এই দিনটিকে সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মের মানুষ ‘হনুমান জয়ন্তী’ হিসেবে পালন করেন।আজকের পর্বে আসুন জেনে নিই রূদ্র অবতার হনুমানজী সম্পর্কে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য|

 

হনুমানের পিতার নাম ছিল কেশরী, মায়ের নাম ছিল অঞ্জনা। তাই কোথাও তাকে কেশরী নন্দন আবার কোথাও অঞ্জনি পুত্র বলা হয়েছে।হনুমানের পালক পিতা হলেন পবন দেবতা|রাক্ষস বাহিনীর অত্যাচার থেকে ধরিত্রীকে মুক্ত করতে, তথা ভগবান রামের সেবা ও রাম নাম প্রচারের জন্যই রুদ্র অবতার হনুমানের আবির্ভাব।তিনি স্বয়ং শিবের অংশ।

 

একবার দশানন রাবণ কৈলাশে দ্বার পাহারারত নন্দীকে ব্যাঙ্গ করেছিলেন  বানর বলে|ক্ষিপ্ত হয়ে নন্দী রাবণকে অভিশাপ দিলেন নর আর বানরের সম্মিলিত প্রয়াসেই রাবণ আর তার কূল ধ্বংস হবে|এই অভিশাপ পরবর্তীতে কি ভাবে সত্য হয়েছিলো তা রামায়নে বিস্তারিত ভাবে বর্ণিত হয়েছে|

 

শৈশব থেকেই বজরংবলী অসীম শক্তির অধিকারী

পুরান অনুসারে একদা তিনি সূর্য দেবতাকে ফল হিসাবে গ্রাস করে ফেলেছিলেন।এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইন্দ্র হনুমানকে বজ্রাঘাত করে সূর্য উদ্ধার করেন।

সহকারী হিসেবে রাবনকে পরাজিত করতে বিরাট ভূমিকা নিয়েছিলেন বজরংবলী। তিনিই একমাত্র চরিত্র যিনি আগাগোড়া নিষ্কাম কর্ম করেগেছেন তার কোনো ব্যাক্তি স্বার্থ নেই। শুধু প্রভূ শ্রী রামের কাজ নিঃস্বার্থ ভাবে করে যাওয়াই তার উদ্দেশ্যে।

গীতায় শ্রী কৃষ্ণ যে নিষ্কাম কর্মর কথা বলেছেন বজরংবলী সেই আদর্শের প্রতীক স্বরূপ।

 

রূদ্র অবতার হনুমানজী দ্বাপর যুগেও ছিলেন।মহাভারতেও তার উল্লেখ রয়েছে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে অর্জুন ও শ্রীকৃষ্ণের রথের ধ্বজা হিসেবে ছিলেন তিনি সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি কিন্তু ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সেবা করেছেন। হনুমানজীর অনুরোধে শ্রীকৃষ্ণ রামচন্দ্রের রূপ ধারণ করে একবার হনুমানজীকে দর্শনও দিয়েছিলেন।

 

যত দেব দেবী আছেন তাদের মধ্যে সব থেকে দ্রুত ভক্তের প্রার্থনা শোনেন হনুমান কারন তিনি শশরীরে এই পৃথিবীতেই বিরাজ করছেন। যেখানেই প্রভু রামের গুনগান হয় সেখানেই তিনি আসেন।

 

জ্যোতিষ শাস্ত্রেও বলা হয় যার উপরে হনুমানজীর কৃপা আছে তার উপর শনিদেবের অশুভ দৃষ্টি পড়েনা। এনিয়ে পরে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

 

আজ রূদ্র অবতার হনুমানের চরনে প্রনাম জানাই আপনাদের সবাইকে হনুমান জয়ন্তীর অনেক শুভেচ্ছা। ফিরে আসবো আগামী পর্বে বজরংবলী প্রসঙ্গে আরো একটি আলোচনা নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – চিরঞ্জিবী হনুমানজী 

বিশেষ পর্ব – চিরঞ্জিবী হনুমানজী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে আজ থেকে শুরু করছি ছয়দিন ব্যাপী বজরংবলী সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনা। আজ শুরুতে বজরংবলীর চিরঞ্জিবী সত্ত্বা নিয়ে লিখবো।

 

শাস্ত্রে যে সাতজন চিরঞ্জিবীর উল্লেখ আছে তাদের মধ্যে অন্যতম হনুমান।ভগবান হনুমান ভগবান ইন্দ্রের বরপ্রদত্ত। বিশ্বাস করা হয়, হনুমান একমাত্র নিজের ইচ্ছেয় মৃত্যুবরণ করতে পারবেন বলে বর দিয়েছিলেন ইন্দ্র।কিন্তু কেনো এমন বর দেয়ার প্রয়োজন হলো তা নিয়ে শাস্ত্রে একটি

ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়।

 

হনুমান যখন শিশু ছিলেন, তিনি সূর্যকে দেখেছিলেন এবং ভেবেছিলেন এটি একটি লাল ফল, তাই তিনি এটি খাওয়ার চেষ্টায় এর দিকে উড়ে গেলেন। ইন্দ্র যখন হনুমানকে আসতে দেখেন, তখন তিনি তাকে আঘাত করার জন্য তার বজ্র নিক্ষেপ করেন। আঘাতে হনুমানের বাম গালের হাড় আহত হয়। বায়ু দেবতা, যিনি হনুমানের পিতা ছিলেন, তাঁর পুত্রের আঘাতে ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন, তাই তিনি আর পৃথিবীতে বায়ু সঞ্চালন করতে অস্বীকার করেছিলেন। বায়ুর অভাবে জীবকুল যখন শেষ হয়ে যেতে বসে তখন সমস্ত দেবতারা হনুমানকে বর দেন।বর দিয়েছিলেন যাতে যেকোনো ক্ষেপণাস্ত্র দ্বারা হনুমানের কোনো ক্ষতি না হয়।ভগবান শিব বর দিয়েছিলেন যে তাঁর বা তাঁর কোনো অস্ত্র দ্বারা কখনোই হনুমানের মৃত্যু হবেনা।এই সময়ে দেবরাজ ইন্দ্র বর দিয়েছিলেন যে হনুমানের মৃত্যু কেবল তার নিজের ইচ্ছায় ঘটবে।

 

ভগবান শ্রী রামও বর দিয়েছেন হনুমানকে। সেই বর অনুযায়ী কলি যুগের শেষ হলে তবেই মুক্তি মিলবে হনুমানের। আবার সীতাদেবীর বর অনুযায়ী হনুমান চিরঞ্জীবী। বিশ্বাস করা হয়, মা সীতার বরদানের কারণেই দ্বাপর যুগে ভগবান হনুমানের উল্লেখ পাওয়া যায়। ওই যুগে ভীমের পরীক্ষা নিয়েছিলেন ভগবান হনুমান। মহাভারতের যুদ্ধেও অর্জুনের রথের ধ্বজা রূপে হনুমান উপস্থিত ছিলেন।কলিযুগেও ভগবান হনুমানের দর্শন পেয়েছিলেন কবি তুলসিদাস। ভগবৎ গীতায় উল্লেখ করা হয়েছে কলিযুগে গন্ধমাদন পর্বতে বাস করবেন ভগবান হনুমান।

 

বজরংবলী অজর-অমর হওয়ার বর প্রাপ্ত। অর্থাত্‍‌ তিনি কখনও বুড়ো হবেন না। আবার তাঁর কখনও মৃত্যু হবে না। কথিত আছে, রামায়ণের সমস্ত চরিত্র মোক্ষ লাভ করে, কিন্তু হনুমান সব সময়ের জন্য পৃথিবীতে থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যত দিন মানুষের হৃদয়ে রাম জীবিত আছেন, তত দিন তিনি পৃথিবীতে থাকবেন।মনে করার হয় যেখানে ভক্তি সহকারে রাম নাম হয় সেখানেই তিনি আসেন এবং শ্রীলংকার একটি জনগোষ্ঠীকে নিদ্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর দেখা দেন|এমনটাও শোনা যায় যে হিমালয়ে অবস্থিত বহু উচ্চকোটির সাধু সন্ন্যাসীরা তার দর্শন পেয়েছেন।

 

শোনা যায় যেখানেই অন্তরথেকে রাম নাম করা হয় সেখানেই তিনি আসেন। তাই সব নাম সংকীর্ণ এর স্থানে হনুমানের জন্য একটি নিদ্দিষ্ট আসন সর্বদা ফাঁকা রাখা হয়।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। বজরংবলী সংক্রান্ত আরো একটি পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার কালী – জলপাইগুড়ির ভদ্র কালীর পুজো

বাংলার কালী – জলপাইগুড়ির ভদ্র কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জলপাইগুড়ির পাণ্ডাপাড়ায় রয়েছে প্রাচীন এক কালী মন্দির। নাম দেবী ভদ্রকালীর মন্দির।

গোটা উত্তর বঙ্গের মানুষের কাছে দেবী অত্যন্ত জাগ্রত। ব্যতিক্রমী ব্যতিক্রমী বিষয় হচ্ছে দেবী সাপের ওপর বিরাজিতা।

 

কিছু ইতিহাসবিদ মনে করেন কোচবিহারের মহারাজার রূপনারায়ণ ১৬৯৩ খ্রিস্টাব্দে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আবার

অনেকের আবার দাবি বৈকুণ্ঠপুরের মহারাজা দর্পদেব রায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মন্দিরটি এবং সেই সময়ে পুরী থেকে পান্ডা নিয়ে এসে শুরু করেছিলেন এই পুজো।

 

প্রায় ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে দেবীমূর্তি পূজিত হচ্ছেন। দেবীর গড়নেও রয়েছে বৈচিত্র্য। যার সঙ্গে অগ্নিপুরাণে বর্ণিত দেবীর রূপের সাদৃশ্য আছে।এখানে দেবীর পায়ের তলায় মহাদেব নেই। রয়েছে দুটি গোখরো সাপ। যা সৃষ্টি ও প্রলয়ের প্রতীক। দেবী এখানে জিহ্বা বার করে নেই বরং প্রসন্নময়ী স্নিগ্ধ এবং শান্ত রূপ।দেবী বিগ্রহের উচ্চতা প্রায় চার ফুট।

 

যদিও রূপ কিছুটা ভিন্ন তবুও দেবীকে এখানে দক্ষিণকালী রূপে পুজো করা হয়।বর্তমানে এই মন্দিরের দায়িত্বে রয়েছেন রাজপরিবারের এক সদস্য।বংশ পরম্পরায় পান্ডারাই পুজো করেন।এই মন্দির ঘিরে রয়েছে পাণ্ডাদের বসতি। সেই থেকেই এলাকার নাম হয়েছে পাণ্ডাপাড়া।

 

প্রতি কার্তিক অমাবস্যায় বেশ ঘটা করে দেবীর পুজো করা হয়। প্রতিপুজোয় এখানে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। সেই সময় মন্দির প্রাঙ্গণে মেলা বসে।

দেবীর ভক্তরা বিশ্বাস করেন তাঁর কাছে যা

প্রার্থনা করা হয় সেটাই পূরণ হয়।

 

বাংলার আরো একটি প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী নিয়ে আলোচনা করবো আগামী পর্বে।

চলতে থাকবে বাংলার কালী। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।