দূর্গা কথা – ভাঙ্গর জমিদারবাড়ির দূর্গা পুজো

84

ধারাবাহিক এই লেখায় ইতিমধ্যে উত্তর বঙ্গের বেশ কয়েকটি বিখ্যাত জমিদার বাড়ির পুজো নিয়ে আলোচনা করেছি।দক্ষিণ বঙ্গের অন্যতম পুরোনো ভাঙ্গর জমিদার বাড়ির পুজো নিয়েআজকের পর্বে লিখবো।ভাঙড়ের স্বস্ত্যয়নগাছি গ্রামে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন মজুমদার বাড়ি এই মজুমদাররাই ছিলেন ভাঙ্গর অঞ্চলের জমিদার। তাদের বিরাট প্রাসাদপ্রম জমিদার বাড়ির দূর্গা মণ্ডপে শুরু হয়েছিলো দূর্গা পুজো। তবে কবে এবং কোন জমিদারের আমলে এই বাড়িতে দূর্গা পুজো প্রথম শুরু হয় তা নিয়ে নিদ্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়না।এই বাড়িতে গোবিন্দের নিত্যপুজো হয় এবং দূর্গা পুজোর জন্য একজন আলাদা পুরোহিত রাখা আছে। আদতে বিষ্ণু উপাসক হলেও শক্তি সাধনা হয় তন্ত্র মতে যদিও আগের মতো এখন আর পশু বলী হয়না। প্রতি বছর জন্মাষ্টমীতে কাঠামো পুজোর পর শুরু হয় মূর্তি গড়ার কাজ।সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের একসাথে অংশগ্রহণ এই পুজোয় অন্য মাত্রা যোগ করে।বলা যায় এটাই এই পুজোর বৈশিষ্ট্য। দূর্গা পুজো সবাই এক সাথে আনন্দে মেতে ওঠেন।অতীতে সর্বদা লোকজনে গমগম করত মজুমদারদের এই বিশাল জমিদার বাড়ি।পুর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ মিলে তিন মহলার দ্বিতল বাড়ি ছিল মজুমদারদের। নাট মন্দির ছিলো অপূর্ব সুন্দর। বিশাল আকার দূর্গা মণ্ডপে হতো দুর্গাপুজো। সব কিছুরই এখন ভগ্নদশা। একটি মহলার অস্তত্বই বিলোপ হয়েছে। তবে দুটি মহলার দ্বিতল জমিদার বাড়ি এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তবু নিয়ম মেনে প্রতি বছরই সাধারণ গ্রামবাসী ও জমিদার বাড়ির বর্তমান সদস্যরা মিলে দূর্গা পুজোর আয়োজন করেন।অষ্টমীর দিনে সবাই মিলে একসঙ্গে বসে হয় খাওয়াদাওয়ার রীতি সেই জমিদারির স্বর্ণ যুগ থেকে আজও চলে আসছে।ফিরে আসবো পরের পর্বে। অন্য কোনো বনেদি বাড়ির পুজোর ইতিহাস নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।