Home Blog Page 64

বাংলার শিব – রাজরাজেশ্বর শিব

বাংলার শিব – রাজরাজেশ্বর শিব

 

পন্ডিত ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র মাস উপলক্ষে শুরু করেছি বাংলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত প্রাচীন শিব মন্দির নিয়ে আলোচনা আজকের পর্বে লিখবো পূর্ব ভারতে সবচেয়ে

বড় কালো পাথরের শিবলিঙ্গ নিয়ে।

 

বাংলার নদিয়া জেলার মাজদিয়ার কাছে শিবনিবাস গ্রাম আর এই গ্রামেই রয়েছে এই সর্ববৃহৎ ও অন্যতম প্রাচীন শিব লিঙ্গ টি যার নাম রাজ রাজেশ্বর শিব।

 

বাংলার ইতিহাস বলছে নবাবী আমলে কৃষ্ণচন্দ্র বাংলায় বর্গী আক্রমণের সময় তাঁর রাজধানী কৃষ্ণনগর থেকে মাজদিয়ায় সরিয়ে আনেন।শিবের নামে তার রাজধানীর নামকরণ করেন শিবনিবাস৷ এখানে তিনি এক সুন্দর রাজপ্রাসাদ এবং কয়েকটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন৷ তারমধ্যে তিনটি মন্দির এখনও অবশিষ্ট হয়েছে৷ এরমধ্যে সবচেয়ে পুরোনো মন্দিরটি হল রাজরাজেশ্বর শিবমন্দির।শিব এখানে রাজরাজেশ্বর নামে পরিচিত|

 

মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্র কতৃক ১৭৫৪ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয় মন্দিরটি৷ লোকমুখে বুড়ো শিবের মন্দির বলে খ্যাত এই মন্দির, চুড়ো সমেত এই মন্দিরের উচ্চতা ১২০ ফুট যা বাংলার মধ্যে অন্যতম, মন্দিরের ভিতর কালো শিবলিঙ্গ, উচ্চতা ১১ ফুটের বেশি বেড় ৩৬ ফুট। সিঁড়ি দিয়ে উঠে শিবের মাথায় জল ঢালতে হয়।

 

শিব মন্দির প্রাঙ্গনে রাজ পরিবার কতৃক নির্মিত রামসীতার মন্দির ও আছে।তবে এই শিব খেত্রের সব থেকে বড়ো আকর্ষণ নিঃসন্দেহে এই রাজ রাজেশ্বর শিব লিঙ্গ।

 

পূর্ব ভারতে এতো বড় শিবলিঙ্গ আর নেই।স্বাভাবিক ভাবেই এই বৃহৎ আকৃতির শিব লিঙ্গ নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। তবে সব কিছু কে ছাপিয়ে যায় ভক্তি আর আস্থা।এই চৈত্র মাস এবং শ্রাবন মাসে বাংলার বহু শিব ভক্তের গন্তব্য হয় এই রাজ রাজেশ্বর শিবের মন্দির।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। চৈত্র মাস ধরে চলতে থাকবে বাংলার প্রাচিন শিব মন্দির গুলি নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – এক্তেশ্বর শিবের পুজো

বাংলার শিব – এক্তেশ্বর শিবের পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ বাংলার মন্দির নগরী বা বিষ্ণুপুরের কাছেই বাঁকুড়ার একটি প্রসিদ্ধ শিব মন্দিরের কথা আপনাদের জানাবো |এই মন্দিরে স্থাপিত শিব এক্তেশ্বর নামে খ্যাত|এই মন্দির ও শিব লিঙ্গ নিয়ে প্রচলিত রয়েছে অসংখ্য লোককাহিনী এবং অলৌকিক ঘটনা|

 

বর্তমানে ল্যাটেরাইট তৈরি সুগঠিত পশ্চিমমুখী মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফুট। ভক্তদের একাংশের ধারণা সেই দ্বাপর যুগ থেকে এই শিব এখানে বিরাজ করছেন এই মন্দিরটি দ পাণ্ডবদের সময় নির্মিত হয়েছিল। যা তৈরি করেছিলেন স্বয়ং দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা। মন্দিরের গর্ভগৃহের মধ্যে রয়েছে কুণ্ড। যার মধ্যে রয়েছে শিবলিঙ্গ। অনেকের মধ্যে শিবলিঙ্গ নিয়ে এসে এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দৈত্যগুরু শুক্রাচার্য।পৌরাণিক ব্যাখ্যা যাই হোক এই অঞ্চলের ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে এই শিব মন্দির।

 

প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে যে জনগোষ্ঠী বাস করতো তাঁরা নিজেদের সূর্যের সন্তান বলে প্রচার করতেন। এই আদিবাসীরা ছিলেন একেশ্বরবাদী অনেকে মনে করেন একঈশ্বর থেকে এক্তেশ্বর নামটি সৃষ্টি হয়েছে|বর্তমানে বাঁকুড়া শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে দ্বারকেশ্বর নদের বাম তীরে এই প্রাচীন শিব মন্দির অবস্থিত|মন্দিরের কুণ্ডের মধ্যে যে শিবলিঙ্গটি রয়েছে সেটি কিছুটা বাঁকা ভাবে অবস্থান করছে|অনেকে মনে করেন এই কিঞ্চিৎ বাঁকা শিবলিঙ্গ থেকেই বাঁকুড়া

নামের উৎপত্তি|

 

একটি প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে বিষ্ণুপুরের মল্ল রাজার সঙ্গে ছাতনার সামন্তভূমের রাজার রাজ্য সীমানা নিয়ে বিবাদ চরম আকার নিলে তার মীমাংসা করতে আসেন স্বয়ং শিব পরবর্তীতে বিবাদিত অঞ্চলের সীমানার সংযোগস্থলে একতার প্রতীক হিসেবে এই এক্তেশ্বর মন্দির স্থাপিত হয়|

 

শুধু বাঁকুড়া বা বাংলা নয় সারা বিশ্বের শিব ভক্ত দের কাছে একটি প্রসিদ্ধ তীর্থক্ষেত্র এই এক্তেশ্বর শিব মন্দির|শ্রাবন এবং চৈত্র মাস উপলক্ষে এখানে কয়েক হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়।সেই সময়ে এই শিব পুজোকে কেন্দ্র করে মেলাও বসে|

 

আবার পরবর্তী পর্বে অন্য কোনো প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা নিয়ে ফিরে আসবো|

সঙ্গে থাকুন। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – তারকেশ্বর শিবমন্দিরের ইতিহাস

বাংলার শিব – তারকেশ্বর শিবমন্দিরের ইতিহাস

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলার শৈব্য তীর্থ ক্ষেত্র গুলির মধ্যে
অন্যতম হুগলীতে অবস্থিত তারকেশ্বর শিব মন্দির দেশ বিদেশের শিব ভক্ত দের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় তীর্থ ক্ষেত্র এই স্থান। আজকের বাংলার শিব পর্বে এই শিবমন্দিরের কথা লিখবো।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে ষোড়শ শতাব্দীর শেষ দিকে এই অঞ্চলে বিষ্ণুদাস নামে এক স্থানীয় ক্ষত্রিয় রাজা রাজত্ব করতেন।রাজার ভাই ভারমল্ল রোজ বনে যেতেন ফলমূল ও মধু সংগ্রহ করতে।
তিনি ছিলেন যোগী পুরুষ এবং একজন একনিষ্ট শিব ভক্ত। তিনি প্রায়ই তিনি লক্ষ করতেন একটি বড় কালো রঙের শিলাখণ্ডের ওপর গাভীরা এসে নিয়মিত দুধ দিয়ে য়ায়। এই অদ্ভুত ঘটনা তিনি তাঁর দাদাকে বলেন। বিষ্ণুদাস নিজেও ছিলেন
শিবের উপাষক বনে এসে এই দৃশ্য দেখে শিহরিত হন। তৎক্ষণাৎ রাজা ভারামল্ল তখন ঐ শিলাস্তম্ভকে শিব লিঙ্গরূপে রাজ প্রাসাদের কাছে শিব মন্দির বানিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যোগী হলেন। বহু মাটি খুঁড়েও সেই পাথরের উৎস খুঁজে পাওয়া গেল না।

তারপর রাজা যখন বাধ্য হয়ে হাল ছেড়ে দিলেন তখন এক রাতে রাজার ভাই ভারামল্ল স্বপ্ন দেখলেন, স্বয়ং শিব তাঁকে জানাচ্ছেন যে, তিনি তারকেশ্বর শিব। তিনি ঐ স্থান থেকে গয়া ও কাশী পর্যন্ত ছড়িয়ে আছেন। সুতরাং তাঁকে সেই
জঙ্গল থেকে উচ্ছেদ না করে ওখানেই তাঁকে প্রতিষ্ঠা করা হোক।

তারপরে রাজার আদেশে বন কেটে পরিষ্কার সেই স্থানেই সেই প্রস্তর স্তম্ভের উপর একটি মন্দির নির্মাণ হয় এবং শিবের সেবা পুজো করবার জন্য এক জন সেবক নিয়োগ করা হয়।ধীরে ধীরে তারকেশ্বর শিবের মহিমা সারা রাজ্যে তথা দেশে চড়িয়ে পড়ে বহু শিব ভক্ত আসতে শুরু করেন শোনা যায় তারকেশ্বর শিব সবার সব মনোস্কামনা পূর্ণ করেন

তারকেশ্বর শিব মন্দিরটি বাংলা আটচালা শৈলীতে তৈরী মন্দির। মন্দিরের সামনে একটি
নাটমন্দির অবস্থিত এবং কাছেই দেবী এবং লক্ষী নারায়ণের দুটি মন্দির রয়েছে। মন্দিরের উত্তরে অবস্থিত পুকুরটির নাম দুধপুকুর। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই পুকুরে স্নান করলে মনস্কামনা পূর্ণ হয় বিশেষ বিশেষ তিথিতে অসংখ্য মানুষ এই পুকুরে স্নান করেন।চৈত্র মাস এবং শ্রাবন মাসে
বহু শিব ভক্ত আসেন এই পবিত্র স্থানে।

ফিরে আসবো আরো একটি শিব মন্দিরের প্রাচীন ইতিহাস এবং অলৌকিক ঘটনা নিয়ে।
আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – শেকলে বাঁধা শিব

বাংলার শিব – শেকলে বাঁধা শিব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার বিশেষ করে কলকাতার কালী মন্দির নিয়ে অনেক অনুষ্ঠান করছি আজ আপনাদের কলকাতার এক আজব শিব মন্দিরের কথা জানাবো । কেনো আজব বলছি তা পুরোটা

পরলে বুঝবেন।

 

দক্ষিণ কলকাতার নিমতলা স্ট্রিট এলাকায় ১৬ নম্বর মহম্মদ রমজান লেনে অবস্থিত বহু পুরনো বুড়ো শিব মন্দির বা মোটা শিব মন্দির দর্শনার্থীদের কাছে একটি অন্যতম আকর্ষণীয় জায়গা। প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতা, ২৪ ফুট লম্বা এবং ৩০ ফুট চওড়া এই সুবিশাল প্রাচীন ভাঙাচোরা মন্দিরটি বাংলার আটচালা মন্দিরের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মন্দিরের মাথা থেকে গা পর্যন্ত নেমে এসেছে বটের ঝুরি, যা দেখতে অনেকটা শিবের জটার মত। প্রায় পাশ দিয়ে বয়ে গেছে গঙ্গা।

 

ব্রিটিশ শাসিত কলকাতার অন্যতম গণ্যমান্য ব্যক্তি হাটখোলার দত্ত পরিবারের মদনমোহন দত্তের দুই পুত্র রসিকলাল দত্ত এবং জহরলাল দত্ত আনুমানিক ১৭৯৪ সালে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২২৭ বছরের পুরনো এই ভগ্নপ্রায় আটচালা মন্দির সম্পর্কে বেশ কিছু লোককথা কথিত আছে সে নিয়ে পরে বলবো আগে শিব লিঙ্গের কথা বলি।

 

মন্দিরের ভিতরে রয়েছে কালো পাথরের তৈরি প্রায় ১০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একটি শিবলিঙ্গ যার পোশাকি নাম দুর্গেশ্বর শিব। তবে এই শিবলিঙ্গের বিরাট আকার দেখে ভক্তরা এনাকে মোটা শিব নামে সম্বোধন করেন।শিবলিঙ্গ এতটাই চওড়া এবং উঁচু যে বিভিন্ন পূজা অনুষ্ঠানে শিবলিঙ্গে জল ঢালার জন্য ব্যবহার হয় একটি বড় লোহার সিঁড়ি।

 

এবার সেই লোককথা প্রসঙ্গে আসি।শোনা যায়, বহুকাল আগে এই মন্দিরের একজন পুরোহিত রাত্রিবেলা পুজো শেষ করে মন্দিরের দরজা বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যান। পরদিন সকালে এসে মন্দিরের দরজা খুলতেই তিনি দেখেন মন্দির শূন্য। শিবলিঙ্গ সেখানে নেই। বহু খোঁজার পর সেই শিবলিঙ্গকে তারা পাশে অবস্থিত গঙ্গা নদীর তীরে খুঁজে পান এবং তাঁকে আবার মন্দিরে নিয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন। এইভাবে শিবলিঙ্গ যাতে ঘুরে বেড়াতে না পারেন সেটি বন্ধ করার জন্যই এই মোটা শিবকে পরবর্তীতে শিকল দিয়ে আবদ্ধ করা হয়।

 

বাংলায় কিছু কালী মন্দিরে কালী মূর্তিকে শেকলে বেঁধে রাখার রীতি আছে তবে শেকল দিয়ে শিব লিঙ্গ বেঁধে রাখার অদ্ভুত এই রীতি বোধ হয় শুধু এখানেই দেখা যায়।

 

পরের পর্বে বাংলার আরো এক শিব মন্দিরের কথা নিয়ে আবার ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব- জটেশ্বর শিবের পুজো 

বাংলার শিব- জটেশ্বর শিবের পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রীজাতক

 

আজকের বাংলার শিব পর্বে উত্তর বঙ্গের আলিপুরদুয়ারে অবস্থিত জটেশ্বর শিব মন্দির নিয়ে লিখবো । এই শিব মন্দির নিয়ে আছে অদ্ভুত এবং অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ।

 

জটেশ্বর শিব মন্দিরের বয়স আনুমানিক প্রায় দুশো বছর এই দীর্ঘ সময়ে একাধিকবার মন্দিরের সংস্কার হয়েছে এবং জটেশ্বর শিব কে নিয়ে মানুষের কৌতূহল ও অগাধ ভক্তি রয়েছে

অনেক রহস্যময় এবং অলৌকিক জনশ্রুতি প্রচলিত আছে এই মন্দির নিয়ে যার মধ্যে অন্যতম এই এই শিব লিঙ্গের আবিষ্কারের ঘটনাটি।

 

শোনা যায় একবার মন্দির সংলগ্ন কাঠালবাড়ি গ্রামের গ্রামবাসীরা লক্ষ্য করেন জঙ্গলের ভিতর একটি দুগ্ধবতীর আবির্ভাব হয় মাঝে মাঝে।

একদিন গ্রামবাসিরা লক্ষ করেন সেই গাভীর বাঁট থেকে অনবরত দুধ পড়ে যাচ্ছে এবং সেই দুধ কোনো একটি বস্তুর উপরে গিয়ে জমা হচ্ছে কৌতুহলী গ্রামবাসীগণ খানিকটা এগিয়ে গিয়ে এক অলৌকিক দৃশ্য দেখলেন তারা সামনে গিয়ে দেখতে পান মাটি ভেদ করে একট শিব

লিঙ্গ উঠে আছে এবং সেই শিব লিঙ্গে গাভীর দুধ অনবরত পড়ছে |লোক মুখে এই অলৌকিক ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়লো সর্বত্র|

 

পরবর্তীতে স্থানীয় জমিদারের আদেশে লোক জন গিয়ে শয়ম্ভু শিব লিঙ্গটি উদ্ধার করে এবং সেটি বহন করে জমিদার বাড়িতে আনার সময় পথে এক স্থানে তা নামিয়ে রাখলেন বিশ্রামের জন্যে। অলৌকিক ভাবে পরে সেই স্থান থেকে শিব লিঙ্গকে ওঠানো আর সম্ভব হয়নি, এমনকি জমিদারের হাতিও ওই স্থান থেকে শিব লিঙ্গ এক চুল নাড়াতে পারেনি। সবাই বোঝেন এই স্থানেই বাবা মহাদেব বিরাজ করতে চান। পরে ঐখানেই ছোট শিব মন্দির বানিয়ে পুজো শুরু হয়|

 

এর পর দীর্ঘ সময় কেটে যায়|একদিন হঠাত্‍ করে এক দিগম্বর সাধুর আবির্ভাব ঘটলো ওই স্থানে সাধু দীর্ঘদিন পুজো দিয়েছিলন এই শিব মন্দিরে তারপর একদিন তিনি অন্তর্ধান হন |এরপর একদিন মিথিলা থেকে এক পুরোহিত এলেন

তিনি এসে স্থানীয়দের জানালেন তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়েছেন এখানে আসার জন্য এবং এই স্থানে তিনি এসে দেখেন স্বপ্নে যা যা দেখেছেন সব একশো শতাংশ সত্যি। তিনি স্থানীয় লোকেদের সাথে কথা বলে নিয়মিত পুজোর ব্যাবস্থা করেন তৈরি হয় সুন্দর এক বৃহৎ শিব মন্দির|

জটেশ্বর মহাদেব নামে এখানে পূজিত হন শিব|

আজও সেই শুরুর দিনের মতো শাস্ত্র মতে এখানে পুজো হয়। বাবার বহু ভক্ত আসেন নিজের নিজের মনোস্কামনা নিয়ে। বাবার দয়ায় সবার মনোস্কামনা পূর্ণ হয়।

 

বাংলায় শিব মন্দিরের সংখ্যা অসংখ্য। অলৌকিক ঘটনার সংখ্যাও প্রচুর।আবার পরের পর্বে বলবো অন্য কোনো প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা

সঙ্গে থাকুন।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার – ঘুমন্ত শিবের কথা

বাংলার – ঘুমন্ত শিবের কথা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আগের পর্বে আপনাদের বলেছি চৈত্র মাস জুড়ে বাংলার প্রাচীন শিব মন্দির গুলি নিয়ে

আলোচনা করবো। আজকের পর্ব একটি অদ্ভুত শিব মন্দির নিয়ে যেখানে কয়েকশো বছর ধরে ঘুমিয়ে রয়েছেন মহাদেব|কেনই বা শিবের এই রূপ এবং এই অদ্ভুত নামকরণ জানতে গেলে পুরোটা

দেখতে হবে।

 

এই ঘুমন্ত শিব আছেন বর্ধমানের ইটাচুনা রাজবাড়িতে। এই শতাব্দী প্রাচীন রাজবাড়িতে অধিষ্ঠিত শিব ঠাকুরকে নিয়ে আছে এক রহস্য, শিব মূর্তি আছে, অর্থবল, লোকবল সবই আছে। তবু গত দেশড় বড়র ধরে ঘুমিয়ে শিব।

 

প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে , ১৮৭১ সালে তদানিন্তন ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে গিরিডি অঞ্চলে রেল লাইন বসাবার কন্ট্রাক্ট পান ইটাচুনা রাজবাড়ির তৎকালীন কর্তা বিজয় নারায়ণ কুণ্ডু। সেখানে কাজ করতে গিয়ে গিরিডির জঙ্গলে এক অদ্ভূত শিব মূর্তির খোঁজ পান তিনি। মূর্তিটির প্রচলিত শিব মূর্তির মত নয়। অভিনব সেই শিব মূর্তি।ঠিক যেন নিজ গৃহে বসে আছেন দেবাদিদেব মহাদেব।মূর্তিটি এনে তিনি স্থাপন করেন রাজবাড়ির শিব মন্দিরে।

 

যথারীতি পুজো শুরু হয়, এরপরই ঘটে কিছু অলৌকিক ঘটনা। শিব মূর্তি স্থাপনের পরই হটাৎ পরলোক গমন করেন পরিবারের একসদস্য।তারপর ক্রমাগত বাধা আসতে থাকে নানা কাজে।এইভাবে বন্ধ হয়ে যায় শিবপুজো।

 

কেনো এমনটা হয়েছিলো তা নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে|অনেকেই মনে করেন শাস্ত্র মতে মা দূর্গা বা মা কালি ছাড়া শিব মূর্তির পুজো হয় না। আবার অনেকে বিশ্বাস করেন, যদিও বা পুজো হয় তবে শুধু শিব লিঙ্গের পুজো হতে পারে, একা শিব মূর্তির পুজো হয় না তাতে মঙ্গলের পরিবর্তে নেমে আসে ঘোর অমঙ্গল এবং এমন টাই ঘটেছিলো এই পরিবারে|

 

সেই থেকে শিব এখানে বিরাজ করেন ঠিকই

তবে তিনি ঘুমন্ত এবং ঘুমন্ত শিব নামেই পরিচিত।

 

গোটা বাংলা জুড়ে এমন অনেক ঐতিহাসিক এবং প্রাচীন শিব মন্দির রয়েছে। রয়েছে অসংখ্য এমন অলৌকিক ঘটনা। ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে

বাংলার আরেক শিব মন্দিরের কথা

নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার শিব – বড়োকাছারি শিব মন্দিরের কথা

বাংলার শিব – বড়োকাছারি শিব মন্দিরের কথা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র মাস শিবের মাস। শিব ভক্তদের প্রিয় মাস

এই মাসেই বহু ভক্ত তারকেশ্বর সহ, বাংলা এবং দেশের প্রায় সব শিবের মন্দিরে জল ঢালতে যান শিবলিঙ্গে। শিবের উদ্দেশ্যে নীল ষষ্ঠী পালন হয় এই চৈত্র মাসে। শুধু তাই নয়। এই চৈত্র মাসে শিব পুরান পাঠ, শিব চালিসা পাঠ, শিব স্তোত্র শ্রবণ এবিং শিব তত্ত্ব নিয়ে আলোচনার বিশেষ তাৎপর্য আছে।এই চৈত্র মাস উপলক্ষে আপনাদের আজ

থেকে বাংলার কিছু প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক শিব ক্ষেত্র নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাবো।থাকবে নানা অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আজকের পর্বে বাবা বড়ো কাছারির মন্দির নিয়ে লিখবো।

 

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিষ্ণুপুর থানার বাখরাহাটে অবস্থিত এক প্রাচীন শিব মন্দির বাবা বড়ো কাছারি নামেই জগৎ বিখ্যাত|এক সময়ে আজকের বাখরাহাট সংলগ্ন এলাকা ছিলো ঘন জঙ্গলে ঢাকা, এখানেই বাস করতেন এক সাধু, শোনা যায় স্থানীয় অধিবাসীদের সকল বিপদ থেকে রক্ষা করতেন ওই সাধু, তার মৃত্যুর পর

তার মরদেহ না দাহ করে এখানই শশ্মানে

সমাধিস্থ করে তার ভক্তগণ। পরে সেই সমাধিক্ষেত্র হতে এক অশ্বত্থ গাছ জন্মায় এবং ওই স্থানে স্থাপন করা হয় এক শিবলিঙ্গ, স্থানটি ক্রমশঃ সর্বত্র বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং দূর দূর থেকে মানুষ আসতে থাকেন পুজো দিতে|

 

এই শিব ধাম কেনো বড়ো কাছারি নামে জগৎ প্রসিদ্ধ হলো সে নিয়েও এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে।জনশ্রুতি অনুসারে এই শশ্মানে

নাকি গভীর রাতে স্বয়ং শিবশম্ভু ভূতনাথ বেশে বিচার সভা বসাতেন। সেকারণে স্থানটিকে অনেকে এখনো ভূতের কাছারিও বলেন। আর যেহেতু সে বিচার ভূতনাথরূপী শিবের দরবারে হয় সুতরাং তার বিচারই সর্বশ্রেষ্ঠ তাই সব কাছারির উর্ধে এই দেবাদিদেবের কাছারি ও তার বিচার।তাই

বড়ো কাছারি নামেই পরিচিত হয়েছে এই স্থান|

 

প্রতি শনি ও মঙ্গলবার বেশ ধুমধাম সহ পূজা হয় এখানে, শিব রাত্রিতে ও বিশেষ বিশেষ তিথিতে ব্যাপক জনসমাগম হয়। দূর দূরান্ত থেকে আসেন শিব ভক্তরা বাবার মাথায় জল ঢালতে|

ভক্তরা এক ছোট্ট কাগজে তাদের প্রার্থনা দরখাস্তের আকার লিখে মন্দিরের গায়ে বেঁধে দেন|শোনা যায় এখানে করা কোনো প্রার্থনাই নাকি বিফলে যায় না|এই মন্দিরে জানানো সব অভাব অভিযোগ স্বয়ং বাবা ভোলানাথ শোনেন এবং সঠিক বিচার করেন।দক্ষিণ বঙ্গের শিব ক্ষেত্র গুলির মধ্যে নিঃসন্দেহে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শিব ধাম বড়ো কাছারি।

 

চৈত্র মাস উপলক্ষে চলতে থাকবে এই

ধারাবাহিক আলোচনা ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে বাংলার অন্য এক শিব মন্দিরের কথা নিয়ে।

সঙ্গে থাকুন।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার কালী – হাজার হাত কালীর পুজো

বাংলার কালী – হাজার হাত কালীর পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার কালীতে কলকাতার এবং জেলার কয়েকটি প্রসিদ্ধ ও প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা ইতিমধ্যে আপনাদের বলেছি।এই পরম্পরা কে আরেকটু এগিয়ে নিয়ে যাবো আজ|আজকের পর্বে হাওড়ায় অবস্থিত হাজার হাত কালীর মন্দির নিয়ে লিখবো।

 

বেশ কিছু শাস্ত্রে দেবীর এই রূপের উল্লেখ রয়েছে|

চণ্ডীপুরাণের বাইশ তম অধ্যায়ে কালীর এই রূপের কথা উল্লেখ আছে|চণ্ডীপুরাণ অনুযায়ী, অসুর বধের সময় দেবী দুর্গা অনেক রূপ ধারন করেছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম হাজার হাতের রূপ। কাত্যায়নী, মহামায়ার পরেই অসুর নিধন করতে আসেন হাজার হাত রূপী মা কালী|দেবী কালীর এই রূপটি খুব একটা জনপ্রিয় বা পরিচিত রুপ নয়, এই রূপ খুব কম কালী মন্দিরেই রয়েছে, দেবীর এই বিশেষ রূপই দেখা যায় হাওড়ার শিব পুরের এই বিশেষ মন্দিরে|

 

মন্দিরের প্রতিষ্টা নিয়েও একটি লোককথা প্রচলিত আছে, শোনা যায় স্থানীয় মুখোপাধ্য়ায় বাড়ির ছেলে তান্ত্রিক আশুতোষ মুখোপাধ্য়ায় মা চণ্ডীর স্বপ্নাদেশে কালীর এই হাজার হাত রূপ দেখতে পান এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা করে দেবীর এই রূপের পুজো করতে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন|কিন্তু এই মন্দির নির্মাণের বিপুল ব্যয় ভার বহন করার সাধ্য ছিলোনা তান্ত্রিক আশুতোষ মুখোপাধ্যায় বা তার পরিবারের|তবে স্বয়ং দেবী যার সহায় তার আর চিন্তা কি! আশুতোষ মুখোপাধ্য়ায়ের এই ইচ্ছাপূরণের জন্য এগিয়ে আসেন স্থানীয় ধনী হালদার পরিবার এবং তাদের চেষ্টায় ১৮৭০ সালে স্থাপিত হয় এই মন্দির এবং দেবীর এই বিশেষ রূপ এখানে প্রতিষ্টিত হয়|

 

এই কালী মন্দির পশ্চিম বঙ্গ এবং হাওড়া ছাড়াও দক্ষিণ ভারতীয়দের মধ্যে বিশেষ ভাবে জনপ্রিয়, তার কারন জানতে হলে একটি অলৌকিক ঘটনা জানতে হবে।শোনা যায়, প্রায় ৬০ বছর আগে শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের এক শুক্রবার দক্ষিণ ভারতের বাসিন্দা এক দৃষ্টি হীন ব্যাক্তি এই মন্দিরে এসেছিলেন এবং তিনি হাজার হাত কালীর কাছে দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রার্থনা করেন|অলৌকিক ভাবে এক বছরের মধ্যে তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান। তার পর থেকে তিনি মায়ের মাহাত্ম্য প্রচার শুরু করেন দক্ষিণ ভারত জুড়ে। এখন প্রচুর দক্ষিণ ভারতীয় মানুষ এই দেবীর কাছে নিজেদের মনোস্কামনা নিয়ে আসেন।শ্রাবণে শুক্লপক্ষের শুক্রবারে বহু ভক্ত পুজো হাওড়ার দেন এই

বিখ্যাত হাজার হাত কালীর মন্দিরে|

 

এই রূপে দেবী নীল বর্ণা, বাহন সিংহের উপর তাঁর ডান পা|এখানে দেবী পূজিত হন তন্ত্র মতে তবে বলী প্রথা এখানে নেই এবং প্রাচীন প্রথা মেনে আজ ও মুখোপাধ্যায় পরিবারের সদস্যরা এখানে পুজো করে আসছেন|দৈনন্দিন পুজোর পাশাপাশি বুদ্ধ পূর্ণিমা ও দীপাবলিতে এখানে বিশেষ পুজো হয় ও সেই উপলক্ষে ব্যাপক জনসমাগম হয়|

 

আজ এখানেই শেষ করছি।আবার ফিরবো পরবর্তী পর্বে। চৈত্র মাস উপলক্ষে শুরু করবো প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কিছু শিব মন্দির নিয়ে

ধারাবাহিক আলোচনা।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার কালী – পুঁটে কালীর পুজো

বাংলার কালী – পুঁটে কালীর পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

যে শহরের নামের সাথেই জড়িয়ে আছেন দেবী কালী সেই শহরে যে অসংখ্য কালী মন্দির এবং কালী পুজো নিয়ে অজস্র কিংবদন্তী থাকবে সেটাই স্বাভাবিক।আজ কলকাতার আরেক প্রাচীন কালী মন্দির নিয়ে বলবো |আজকের পর্বে কলকাতার পুঁটে কালীর মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে
আলোচনা হবে।

কলকাতার ব্যাস্ততম অঞ্চল গুলির অন্যতম বড়ো বাজার অঞ্চলে কালীকৃষ্ণ ঠাকুর স্ট্রিটে অবস্থিত বিখ্যাত পুঁটে কালী মন্দির|বর্তমান মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন তান্ত্রিক মানিকচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করা হয় এই মন্দির স্থাপিত হয়েছিল ১৫৫৮ সালে |যদিও দেবী মূর্তি এখানে আরো আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত ছিলো এবং পুজোও হতো তন্ত্র মতে।

বহু প্রাচীন কালে এই অঞ্চল ছিলো দুর্গম ও অরণ্য সংকুল। সেকালে ডাকাতরাই রাজত্ব করতো এখানে|তখন ডাকাতরা এই মন্দিরে নিয়মিত পূজা করতো এমনকি বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে নর বলীও হতো বলে শোনা যায়|পরবর্তীতে তন্ত্র সাধক মানিকরাম বন্দ্যোপাধ্যায় এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন|

তারপর ১৯৩০ সালে মন্দিরের সংস্কার করা হয়। বর্তমান মন্দিরটি চারচালা ও তিনটি চূড়াবিশিষ্ট। চূড়াগুলির উপর চক্র, ত্রিশূল ও পতাকার চিহ্ন আছে। মন্দিরটির তলায় একটি পাতালকক্ষ আছে|মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত কালীমূর্তিটি ছয়
ইঞ্চি উচ্চতা বিশিষ্ট।

মন্দির এবং দেবী মূর্তির এই অদ্ভুত নামকরণ প্রসঙ্গে দুরকম ব্যাখ্যা রয়েছে|কেউ কেউ মনে করেন পুঁটি” অর্থে ছোটো মেয়ে বোঝায়। সেকালে আদর করে অনেকেই বাছা মেয়েদের পুঁটি বলে ডাকতেন এবং বাচ্ছা ছেলেদের ক্ষেত্রে পুঁটিরাম নাম ব্যবহার হতো।এই মন্দিরের কালীমূর্তিটির উচ্চতা মাত্র ছয় ইঞ্চি এত ছোটো মূর্তি বোঝাতেই তাই “পুঁটিকালী” নামটির প্রচলন হয় এবং পরবর্তীতে লোক মুখে তা বিকৃত হয়ে “পুঁটেকালী” হয়ে যায়|

তবে এই নামের আরো একটি ব্যাখ্যা আছে।
নামের দ্বিতীয় ব্যাখ্যা অনুসারে একবার মন্দিরে হোম চলা কালীন গঙ্গার খাদ থেকে একটি পুঁটিমাছ লাফিয়ে হোমকুণ্ডের মধ্যে পড়ে যায়|পড়ে অর্ধদগ্ধ মাছটিকে তুলে জলে ফেলে দিতেই সেটি আবার জীবন্ত হয়ে হয়ে ওঠে এবং অলৌকিক ঘটনার জন্য দেবীর নাম হয় “পুঁটিকালী” বা “পুঁটেকালী” এক্ষেত্রে পুঁটি মাছ থেকে এই নামের জন্ম হয়েছে এবং দেবীর অলৌকিক ক্ষমতা এই ব্যাখ্যার সাথে জড়িত।

আজও পুঁটে কালীর মন্দিরে পূজা হয় তন্ত্রমতে। দীপান্বিতা কালীপূজার রাতে প্রতিমার স্বর্ণবেশ হয় এবং ভৈরবী পূজাও অনুষ্টিত হয়|এখানে আজও কালী পূজা উপলক্ষে কুমারী পূজা হয়|এছাড়াও বিশেষ বিশেষ তিথিতে পশু বলীর ও ব্যবস্থা
করা হয়|দেবীর উদেশ্যে আমিষ ও নিরামিষ দু রকম ভোগ ই নিবেদিত হয়|

এই মন্দিরে দেবী কালীর পাশে দেবী শীতলার পূজাও করা হয় নিষ্ঠা সহকারে|স্থানীয় দের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই মন্দির এবং বিশেষ বিশেষ তিথিতে বহু দর্শনার্থী ভিড় জমান পুঁটে কালীর মন্দিরে|কলকাতার প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দির গুলির মধ্যে নিঃসন্দেহে এই পুঁটে কালী অন্যতম।

আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি|দেখা হবে আগামী পর্বে|থাকবে বাংলার কালীর আরো একটি পর্ব। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাংলার কালী : পাতাল চণ্ডীর পুজো

আগামী আটই মার্চ দুই হাজার চব্বিশ শুক্রবার শিবরাত্রিতে ভান্ডারা ও নয়ই মার্চ শনিবার অমাবস্যায় তারাপীঠ মহাশ্মশানে মহাযজ্ঞের আয়োজন করেছেন মায়াঙ্ক তন্ত্রের মহাগুরু আচার্য্য পলাশ। সব তন্ত্র বারবার মায়াঙ্ক তন্ত্র একবার, করতে গ্রহের প্রতিকার আচার্য্য পলাশের মেটাল ট্যাবলেটের জুড়ি মেলা ভার। বিবাহ, বিদ্যা, কর্ম, ব্যবসা, গ্রহদোষ, বাস্তুদোষ, বশীকরণ, শত্রু দমন সহ সকল সমস্যার ধারন ছাড়া অবাক করা প্রতিকার পেতে আজই যোগাযোগ করুন, কারণ মায়াঙ্ক তন্ত্রের মহাগুরু আচার্য্য পলাশের কাছে না বলে কিছু হয় না।

বাংলার কালী – পাতাল চন্ডীর পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলায় প্রাচীন কালী মন্দিরের সংখ্যা হাতে গুনে শেষ করা যাবেনা। এদের মধ্যে অনেক মন্দির আজও প্রচারের আলোয় আছে। পরিচিত তীর্থ ক্ষেত্র হিসেবে সুনাম আছে কিন্তু অনেক এমন ঐতিহাসিক মন্দির আছে যেগুলি সেই ভাবে প্রচারে আসেনি। হারিয়ে গেছে লোক চক্ষুর অন্তরালে। এমনই এক ঐতিহাসিক এবং
প্রাচিন মন্দির মালদার পাতাল চন্ডীর মন্দির যা নিয়ে আজকের পর্ব।

বাংলার পাল এবং সেন বংশের ইতিহাস আবর্তীত হয়েছে গৌড়কে ঘিরে।এই গৌড়ে সেন আমলের একটি নিদর্শন পাতাল চন্ডী মন্দির।সেন বংশের কূলদেবী ছিলেন চণ্ডী।রাজা লক্ষণ সেন তার শাসন কালে এই চন্ডী মন্দিরটি নির্মাণ করান।
এক কালে এই চন্ডী মন্দিরকে কেন্দ্র করে নানা অলৌকিক ঘটনা শোনা যেতো। শোনা যায় পাতাল থেকে দেবী চন্ডী স্বয়ং এখানে আবির্ভূতা হয়েছেন তাই দেবীর নাম পাতাল চন্ডী।

বর্তমানে মালদহ শহর থেকে সামান্য দূরে ইংলিশ বাজারে জাতীয় সড়কের পাশে নিরিবিলি পরিবেশে। বিশাল ঝিলের ধারে প্রাচীন এক তেঁতুল গাছের নীচে অবস্থিত সেন আমলের পাতাল চণ্ডী মন্দির ।

সেন বংশের অন্যতম শাসক লক্ষ্মণসেন রামাবতী থেকে দক্ষিণে রাজধানী সরিয়ে নিয়ে যান।নিজের নামানুসারে তার নাম দেন লক্ষ্মণাবতী বা লখনৌতি।এই রাজধানীই পরবর্তী সময়ের গৌড়।এই গৌড়ের নগরদদূর্গের চারদিকের রক্ষাকর্ত্রী চারজন দেবীর চারটি মন্দির বা পীঠ ছিল। তাদের মধ্যে উত্তরদিকে ছিলো মাধাইচণ্ডীর পীঠ যা বর্তমানে গঙ্গাগর্ভে বিলীন, পূর্বদিকে ছিলো জহুরাচণ্ডী, পশ্চিমে দুয়ারবাসিনী ও দক্ষিণে পাতালচণ্ডী।লর্ড ক্লাইভের লেখায় এই প্রাচীন পাতাল চন্ডীর মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া যায়।

দীর্ঘদিন এই পাতাল চন্ডী মন্দিরটির চারিপাশে ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। মন্দির চত্বরে যেতে সাধারণ মানুষ ভয় পেতেন। পরবর্তীতে এই স্থান সংস্কার করা হয় এবং পাতাল চন্ডী মন্দিরটি বর্তমানে মালদার অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

এখনও এই স্থানে অতীত সময়ের কিছু চিন্হ খুঁজে পাওয়া যায়। আজও জাহাজ বাঁধার নোঙর এখানে রয়েছে।অর্থাৎ এর পাশ দিয়ে এক সময়ে বয়ে যেতো নদী।প্রাচীন পাথর দিয়ে ঘাট
বাঁধানো রয়েছে। এখন পাতাল চণ্ডী বিগ্রহ এবং একটি পাতালচণ্ডী কালি মন্দির রয়েছে।
প্রতিবছর বাসন্তী পুজো উপলক্ষে বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন হয় এখানে।

আগামী পর্বে ফিরে আসবো বাংলার এমনই
এক প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী পুজোর কথা নিয়ে।থাকবে নানা ঐতিহাসিক তথ্য এবং
অলৌকিক ঘটনা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।