বাংলার শিব – বড়োকাছারি শিব মন্দিরের কথা

27

বাংলার শিব – বড়োকাছারি শিব মন্দিরের কথা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র মাস শিবের মাস। শিব ভক্তদের প্রিয় মাস

এই মাসেই বহু ভক্ত তারকেশ্বর সহ, বাংলা এবং দেশের প্রায় সব শিবের মন্দিরে জল ঢালতে যান শিবলিঙ্গে। শিবের উদ্দেশ্যে নীল ষষ্ঠী পালন হয় এই চৈত্র মাসে। শুধু তাই নয়। এই চৈত্র মাসে শিব পুরান পাঠ, শিব চালিসা পাঠ, শিব স্তোত্র শ্রবণ এবিং শিব তত্ত্ব নিয়ে আলোচনার বিশেষ তাৎপর্য আছে।এই চৈত্র মাস উপলক্ষে আপনাদের আজ

থেকে বাংলার কিছু প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক শিব ক্ষেত্র নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাবো।থাকবে নানা অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আজকের পর্বে বাবা বড়ো কাছারির মন্দির নিয়ে লিখবো।

 

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বিষ্ণুপুর থানার বাখরাহাটে অবস্থিত এক প্রাচীন শিব মন্দির বাবা বড়ো কাছারি নামেই জগৎ বিখ্যাত|এক সময়ে আজকের বাখরাহাট সংলগ্ন এলাকা ছিলো ঘন জঙ্গলে ঢাকা, এখানেই বাস করতেন এক সাধু, শোনা যায় স্থানীয় অধিবাসীদের সকল বিপদ থেকে রক্ষা করতেন ওই সাধু, তার মৃত্যুর পর

তার মরদেহ না দাহ করে এখানই শশ্মানে

সমাধিস্থ করে তার ভক্তগণ। পরে সেই সমাধিক্ষেত্র হতে এক অশ্বত্থ গাছ জন্মায় এবং ওই স্থানে স্থাপন করা হয় এক শিবলিঙ্গ, স্থানটি ক্রমশঃ সর্বত্র বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং দূর দূর থেকে মানুষ আসতে থাকেন পুজো দিতে|

 

এই শিব ধাম কেনো বড়ো কাছারি নামে জগৎ প্রসিদ্ধ হলো সে নিয়েও এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে।জনশ্রুতি অনুসারে এই শশ্মানে

নাকি গভীর রাতে স্বয়ং শিবশম্ভু ভূতনাথ বেশে বিচার সভা বসাতেন। সেকারণে স্থানটিকে অনেকে এখনো ভূতের কাছারিও বলেন। আর যেহেতু সে বিচার ভূতনাথরূপী শিবের দরবারে হয় সুতরাং তার বিচারই সর্বশ্রেষ্ঠ তাই সব কাছারির উর্ধে এই দেবাদিদেবের কাছারি ও তার বিচার।তাই

বড়ো কাছারি নামেই পরিচিত হয়েছে এই স্থান|

 

প্রতি শনি ও মঙ্গলবার বেশ ধুমধাম সহ পূজা হয় এখানে, শিব রাত্রিতে ও বিশেষ বিশেষ তিথিতে ব্যাপক জনসমাগম হয়। দূর দূরান্ত থেকে আসেন শিব ভক্তরা বাবার মাথায় জল ঢালতে|

ভক্তরা এক ছোট্ট কাগজে তাদের প্রার্থনা দরখাস্তের আকার লিখে মন্দিরের গায়ে বেঁধে দেন|শোনা যায় এখানে করা কোনো প্রার্থনাই নাকি বিফলে যায় না|এই মন্দিরে জানানো সব অভাব অভিযোগ স্বয়ং বাবা ভোলানাথ শোনেন এবং সঠিক বিচার করেন।দক্ষিণ বঙ্গের শিব ক্ষেত্র গুলির মধ্যে নিঃসন্দেহে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই শিব ধাম বড়ো কাছারি।

 

চৈত্র মাস উপলক্ষে চলতে থাকবে এই

ধারাবাহিক আলোচনা ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে বাংলার অন্য এক শিব মন্দিরের কথা নিয়ে।

সঙ্গে থাকুন।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।