বাংলার কালী – পুঁটে কালীর পুজো

17

বাংলার কালী – পুঁটে কালীর পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

যে শহরের নামের সাথেই জড়িয়ে আছেন দেবী কালী সেই শহরে যে অসংখ্য কালী মন্দির এবং কালী পুজো নিয়ে অজস্র কিংবদন্তী থাকবে সেটাই স্বাভাবিক।আজ কলকাতার আরেক প্রাচীন কালী মন্দির নিয়ে বলবো |আজকের পর্বে কলকাতার পুঁটে কালীর মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে
আলোচনা হবে।

কলকাতার ব্যাস্ততম অঞ্চল গুলির অন্যতম বড়ো বাজার অঞ্চলে কালীকৃষ্ণ ঠাকুর স্ট্রিটে অবস্থিত বিখ্যাত পুঁটে কালী মন্দির|বর্তমান মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন তান্ত্রিক মানিকচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করা হয় এই মন্দির স্থাপিত হয়েছিল ১৫৫৮ সালে |যদিও দেবী মূর্তি এখানে আরো আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত ছিলো এবং পুজোও হতো তন্ত্র মতে।

বহু প্রাচীন কালে এই অঞ্চল ছিলো দুর্গম ও অরণ্য সংকুল। সেকালে ডাকাতরাই রাজত্ব করতো এখানে|তখন ডাকাতরা এই মন্দিরে নিয়মিত পূজা করতো এমনকি বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে নর বলীও হতো বলে শোনা যায়|পরবর্তীতে তন্ত্র সাধক মানিকরাম বন্দ্যোপাধ্যায় এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন|

তারপর ১৯৩০ সালে মন্দিরের সংস্কার করা হয়। বর্তমান মন্দিরটি চারচালা ও তিনটি চূড়াবিশিষ্ট। চূড়াগুলির উপর চক্র, ত্রিশূল ও পতাকার চিহ্ন আছে। মন্দিরটির তলায় একটি পাতালকক্ষ আছে|মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত কালীমূর্তিটি ছয়
ইঞ্চি উচ্চতা বিশিষ্ট।

মন্দির এবং দেবী মূর্তির এই অদ্ভুত নামকরণ প্রসঙ্গে দুরকম ব্যাখ্যা রয়েছে|কেউ কেউ মনে করেন পুঁটি” অর্থে ছোটো মেয়ে বোঝায়। সেকালে আদর করে অনেকেই বাছা মেয়েদের পুঁটি বলে ডাকতেন এবং বাচ্ছা ছেলেদের ক্ষেত্রে পুঁটিরাম নাম ব্যবহার হতো।এই মন্দিরের কালীমূর্তিটির উচ্চতা মাত্র ছয় ইঞ্চি এত ছোটো মূর্তি বোঝাতেই তাই “পুঁটিকালী” নামটির প্রচলন হয় এবং পরবর্তীতে লোক মুখে তা বিকৃত হয়ে “পুঁটেকালী” হয়ে যায়|

তবে এই নামের আরো একটি ব্যাখ্যা আছে।
নামের দ্বিতীয় ব্যাখ্যা অনুসারে একবার মন্দিরে হোম চলা কালীন গঙ্গার খাদ থেকে একটি পুঁটিমাছ লাফিয়ে হোমকুণ্ডের মধ্যে পড়ে যায়|পড়ে অর্ধদগ্ধ মাছটিকে তুলে জলে ফেলে দিতেই সেটি আবার জীবন্ত হয়ে হয়ে ওঠে এবং অলৌকিক ঘটনার জন্য দেবীর নাম হয় “পুঁটিকালী” বা “পুঁটেকালী” এক্ষেত্রে পুঁটি মাছ থেকে এই নামের জন্ম হয়েছে এবং দেবীর অলৌকিক ক্ষমতা এই ব্যাখ্যার সাথে জড়িত।

আজও পুঁটে কালীর মন্দিরে পূজা হয় তন্ত্রমতে। দীপান্বিতা কালীপূজার রাতে প্রতিমার স্বর্ণবেশ হয় এবং ভৈরবী পূজাও অনুষ্টিত হয়|এখানে আজও কালী পূজা উপলক্ষে কুমারী পূজা হয়|এছাড়াও বিশেষ বিশেষ তিথিতে পশু বলীর ও ব্যবস্থা
করা হয়|দেবীর উদেশ্যে আমিষ ও নিরামিষ দু রকম ভোগ ই নিবেদিত হয়|

এই মন্দিরে দেবী কালীর পাশে দেবী শীতলার পূজাও করা হয় নিষ্ঠা সহকারে|স্থানীয় দের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই মন্দির এবং বিশেষ বিশেষ তিথিতে বহু দর্শনার্থী ভিড় জমান পুঁটে কালীর মন্দিরে|কলকাতার প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দির গুলির মধ্যে নিঃসন্দেহে এই পুঁটে কালী অন্যতম।

আজকের পর্ব এখানেই শেষ করছি|দেখা হবে আগামী পর্বে|থাকবে বাংলার কালীর আরো একটি পর্ব। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।