বাংলার কালী : পাতাল চণ্ডীর পুজো

53

আগামী আটই মার্চ দুই হাজার চব্বিশ শুক্রবার শিবরাত্রিতে ভান্ডারা ও নয়ই মার্চ শনিবার অমাবস্যায় তারাপীঠ মহাশ্মশানে মহাযজ্ঞের আয়োজন করেছেন মায়াঙ্ক তন্ত্রের মহাগুরু আচার্য্য পলাশ। সব তন্ত্র বারবার মায়াঙ্ক তন্ত্র একবার, করতে গ্রহের প্রতিকার আচার্য্য পলাশের মেটাল ট্যাবলেটের জুড়ি মেলা ভার। বিবাহ, বিদ্যা, কর্ম, ব্যবসা, গ্রহদোষ, বাস্তুদোষ, বশীকরণ, শত্রু দমন সহ সকল সমস্যার ধারন ছাড়া অবাক করা প্রতিকার পেতে আজই যোগাযোগ করুন, কারণ মায়াঙ্ক তন্ত্রের মহাগুরু আচার্য্য পলাশের কাছে না বলে কিছু হয় না।

বাংলার কালী – পাতাল চন্ডীর পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলায় প্রাচীন কালী মন্দিরের সংখ্যা হাতে গুনে শেষ করা যাবেনা। এদের মধ্যে অনেক মন্দির আজও প্রচারের আলোয় আছে। পরিচিত তীর্থ ক্ষেত্র হিসেবে সুনাম আছে কিন্তু অনেক এমন ঐতিহাসিক মন্দির আছে যেগুলি সেই ভাবে প্রচারে আসেনি। হারিয়ে গেছে লোক চক্ষুর অন্তরালে। এমনই এক ঐতিহাসিক এবং
প্রাচিন মন্দির মালদার পাতাল চন্ডীর মন্দির যা নিয়ে আজকের পর্ব।

বাংলার পাল এবং সেন বংশের ইতিহাস আবর্তীত হয়েছে গৌড়কে ঘিরে।এই গৌড়ে সেন আমলের একটি নিদর্শন পাতাল চন্ডী মন্দির।সেন বংশের কূলদেবী ছিলেন চণ্ডী।রাজা লক্ষণ সেন তার শাসন কালে এই চন্ডী মন্দিরটি নির্মাণ করান।
এক কালে এই চন্ডী মন্দিরকে কেন্দ্র করে নানা অলৌকিক ঘটনা শোনা যেতো। শোনা যায় পাতাল থেকে দেবী চন্ডী স্বয়ং এখানে আবির্ভূতা হয়েছেন তাই দেবীর নাম পাতাল চন্ডী।

বর্তমানে মালদহ শহর থেকে সামান্য দূরে ইংলিশ বাজারে জাতীয় সড়কের পাশে নিরিবিলি পরিবেশে। বিশাল ঝিলের ধারে প্রাচীন এক তেঁতুল গাছের নীচে অবস্থিত সেন আমলের পাতাল চণ্ডী মন্দির ।

সেন বংশের অন্যতম শাসক লক্ষ্মণসেন রামাবতী থেকে দক্ষিণে রাজধানী সরিয়ে নিয়ে যান।নিজের নামানুসারে তার নাম দেন লক্ষ্মণাবতী বা লখনৌতি।এই রাজধানীই পরবর্তী সময়ের গৌড়।এই গৌড়ের নগরদদূর্গের চারদিকের রক্ষাকর্ত্রী চারজন দেবীর চারটি মন্দির বা পীঠ ছিল। তাদের মধ্যে উত্তরদিকে ছিলো মাধাইচণ্ডীর পীঠ যা বর্তমানে গঙ্গাগর্ভে বিলীন, পূর্বদিকে ছিলো জহুরাচণ্ডী, পশ্চিমে দুয়ারবাসিনী ও দক্ষিণে পাতালচণ্ডী।লর্ড ক্লাইভের লেখায় এই প্রাচীন পাতাল চন্ডীর মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া যায়।

দীর্ঘদিন এই পাতাল চন্ডী মন্দিরটির চারিপাশে ঘন জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। মন্দির চত্বরে যেতে সাধারণ মানুষ ভয় পেতেন। পরবর্তীতে এই স্থান সংস্কার করা হয় এবং পাতাল চন্ডী মন্দিরটি বর্তমানে মালদার অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

এখনও এই স্থানে অতীত সময়ের কিছু চিন্হ খুঁজে পাওয়া যায়। আজও জাহাজ বাঁধার নোঙর এখানে রয়েছে।অর্থাৎ এর পাশ দিয়ে এক সময়ে বয়ে যেতো নদী।প্রাচীন পাথর দিয়ে ঘাট
বাঁধানো রয়েছে। এখন পাতাল চণ্ডী বিগ্রহ এবং একটি পাতালচণ্ডী কালি মন্দির রয়েছে।
প্রতিবছর বাসন্তী পুজো উপলক্ষে বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন হয় এখানে।

আগামী পর্বে ফিরে আসবো বাংলার এমনই
এক প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী পুজোর কথা নিয়ে।থাকবে নানা ঐতিহাসিক তথ্য এবং
অলৌকিক ঘটনা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।