বাংলার শিব – রাজরাজেশ্বর শিব

288

বাংলার শিব – রাজরাজেশ্বর শিব

 

পন্ডিত ভৃগুশ্রী জাতক

 

চৈত্র মাস উপলক্ষে শুরু করেছি বাংলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত প্রাচীন শিব মন্দির নিয়ে আলোচনা আজকের পর্বে লিখবো পূর্ব ভারতে সবচেয়ে

বড় কালো পাথরের শিবলিঙ্গ নিয়ে।

 

বাংলার নদিয়া জেলার মাজদিয়ার কাছে শিবনিবাস গ্রাম আর এই গ্রামেই রয়েছে এই সর্ববৃহৎ ও অন্যতম প্রাচীন শিব লিঙ্গ টি যার নাম রাজ রাজেশ্বর শিব।

 

বাংলার ইতিহাস বলছে নবাবী আমলে কৃষ্ণচন্দ্র বাংলায় বর্গী আক্রমণের সময় তাঁর রাজধানী কৃষ্ণনগর থেকে মাজদিয়ায় সরিয়ে আনেন।শিবের নামে তার রাজধানীর নামকরণ করেন শিবনিবাস৷ এখানে তিনি এক সুন্দর রাজপ্রাসাদ এবং কয়েকটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন৷ তারমধ্যে তিনটি মন্দির এখনও অবশিষ্ট হয়েছে৷ এরমধ্যে সবচেয়ে পুরোনো মন্দিরটি হল রাজরাজেশ্বর শিবমন্দির।শিব এখানে রাজরাজেশ্বর নামে পরিচিত|

 

মহারাজা কৃষ্ণ চন্দ্র কতৃক ১৭৫৪ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয় মন্দিরটি৷ লোকমুখে বুড়ো শিবের মন্দির বলে খ্যাত এই মন্দির, চুড়ো সমেত এই মন্দিরের উচ্চতা ১২০ ফুট যা বাংলার মধ্যে অন্যতম, মন্দিরের ভিতর কালো শিবলিঙ্গ, উচ্চতা ১১ ফুটের বেশি বেড় ৩৬ ফুট। সিঁড়ি দিয়ে উঠে শিবের মাথায় জল ঢালতে হয়।

 

শিব মন্দির প্রাঙ্গনে রাজ পরিবার কতৃক নির্মিত রামসীতার মন্দির ও আছে।তবে এই শিব খেত্রের সব থেকে বড়ো আকর্ষণ নিঃসন্দেহে এই রাজ রাজেশ্বর শিব লিঙ্গ।

 

পূর্ব ভারতে এতো বড় শিবলিঙ্গ আর নেই।স্বাভাবিক ভাবেই এই বৃহৎ আকৃতির শিব লিঙ্গ নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। তবে সব কিছু কে ছাপিয়ে যায় ভক্তি আর আস্থা।এই চৈত্র মাস এবং শ্রাবন মাসে বাংলার বহু শিব ভক্তের গন্তব্য হয় এই রাজ রাজেশ্বর শিবের মন্দির।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। চৈত্র মাস ধরে চলতে থাকবে বাংলার প্রাচিন শিব মন্দির গুলি নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।