বাংলার – ঘুমন্ত শিবের কথা

14

বাংলার – ঘুমন্ত শিবের কথা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আগের পর্বে আপনাদের বলেছি চৈত্র মাস জুড়ে বাংলার প্রাচীন শিব মন্দির গুলি নিয়ে

আলোচনা করবো। আজকের পর্ব একটি অদ্ভুত শিব মন্দির নিয়ে যেখানে কয়েকশো বছর ধরে ঘুমিয়ে রয়েছেন মহাদেব|কেনই বা শিবের এই রূপ এবং এই অদ্ভুত নামকরণ জানতে গেলে পুরোটা

দেখতে হবে।

 

এই ঘুমন্ত শিব আছেন বর্ধমানের ইটাচুনা রাজবাড়িতে। এই শতাব্দী প্রাচীন রাজবাড়িতে অধিষ্ঠিত শিব ঠাকুরকে নিয়ে আছে এক রহস্য, শিব মূর্তি আছে, অর্থবল, লোকবল সবই আছে। তবু গত দেশড় বড়র ধরে ঘুমিয়ে শিব।

 

প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে , ১৮৭১ সালে তদানিন্তন ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে গিরিডি অঞ্চলে রেল লাইন বসাবার কন্ট্রাক্ট পান ইটাচুনা রাজবাড়ির তৎকালীন কর্তা বিজয় নারায়ণ কুণ্ডু। সেখানে কাজ করতে গিয়ে গিরিডির জঙ্গলে এক অদ্ভূত শিব মূর্তির খোঁজ পান তিনি। মূর্তিটির প্রচলিত শিব মূর্তির মত নয়। অভিনব সেই শিব মূর্তি।ঠিক যেন নিজ গৃহে বসে আছেন দেবাদিদেব মহাদেব।মূর্তিটি এনে তিনি স্থাপন করেন রাজবাড়ির শিব মন্দিরে।

 

যথারীতি পুজো শুরু হয়, এরপরই ঘটে কিছু অলৌকিক ঘটনা। শিব মূর্তি স্থাপনের পরই হটাৎ পরলোক গমন করেন পরিবারের একসদস্য।তারপর ক্রমাগত বাধা আসতে থাকে নানা কাজে।এইভাবে বন্ধ হয়ে যায় শিবপুজো।

 

কেনো এমনটা হয়েছিলো তা নিয়ে পন্ডিতদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে|অনেকেই মনে করেন শাস্ত্র মতে মা দূর্গা বা মা কালি ছাড়া শিব মূর্তির পুজো হয় না। আবার অনেকে বিশ্বাস করেন, যদিও বা পুজো হয় তবে শুধু শিব লিঙ্গের পুজো হতে পারে, একা শিব মূর্তির পুজো হয় না তাতে মঙ্গলের পরিবর্তে নেমে আসে ঘোর অমঙ্গল এবং এমন টাই ঘটেছিলো এই পরিবারে|

 

সেই থেকে শিব এখানে বিরাজ করেন ঠিকই

তবে তিনি ঘুমন্ত এবং ঘুমন্ত শিব নামেই পরিচিত।

 

গোটা বাংলা জুড়ে এমন অনেক ঐতিহাসিক এবং প্রাচীন শিব মন্দির রয়েছে। রয়েছে অসংখ্য এমন অলৌকিক ঘটনা। ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে

বাংলার আরেক শিব মন্দিরের কথা

নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।