বাংলার শিব – শেকলে বাঁধা শিব

186

বাংলার শিব – শেকলে বাঁধা শিব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার বিশেষ করে কলকাতার কালী মন্দির নিয়ে অনেক অনুষ্ঠান করছি আজ আপনাদের কলকাতার এক আজব শিব মন্দিরের কথা জানাবো । কেনো আজব বলছি তা পুরোটা

পরলে বুঝবেন।

 

দক্ষিণ কলকাতার নিমতলা স্ট্রিট এলাকায় ১৬ নম্বর মহম্মদ রমজান লেনে অবস্থিত বহু পুরনো বুড়ো শিব মন্দির বা মোটা শিব মন্দির দর্শনার্থীদের কাছে একটি অন্যতম আকর্ষণীয় জায়গা। প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতা, ২৪ ফুট লম্বা এবং ৩০ ফুট চওড়া এই সুবিশাল প্রাচীন ভাঙাচোরা মন্দিরটি বাংলার আটচালা মন্দিরের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ। মন্দিরের মাথা থেকে গা পর্যন্ত নেমে এসেছে বটের ঝুরি, যা দেখতে অনেকটা শিবের জটার মত। প্রায় পাশ দিয়ে বয়ে গেছে গঙ্গা।

 

ব্রিটিশ শাসিত কলকাতার অন্যতম গণ্যমান্য ব্যক্তি হাটখোলার দত্ত পরিবারের মদনমোহন দত্তের দুই পুত্র রসিকলাল দত্ত এবং জহরলাল দত্ত আনুমানিক ১৭৯৪ সালে এই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২২৭ বছরের পুরনো এই ভগ্নপ্রায় আটচালা মন্দির সম্পর্কে বেশ কিছু লোককথা কথিত আছে সে নিয়ে পরে বলবো আগে শিব লিঙ্গের কথা বলি।

 

মন্দিরের ভিতরে রয়েছে কালো পাথরের তৈরি প্রায় ১০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট একটি শিবলিঙ্গ যার পোশাকি নাম দুর্গেশ্বর শিব। তবে এই শিবলিঙ্গের বিরাট আকার দেখে ভক্তরা এনাকে মোটা শিব নামে সম্বোধন করেন।শিবলিঙ্গ এতটাই চওড়া এবং উঁচু যে বিভিন্ন পূজা অনুষ্ঠানে শিবলিঙ্গে জল ঢালার জন্য ব্যবহার হয় একটি বড় লোহার সিঁড়ি।

 

এবার সেই লোককথা প্রসঙ্গে আসি।শোনা যায়, বহুকাল আগে এই মন্দিরের একজন পুরোহিত রাত্রিবেলা পুজো শেষ করে মন্দিরের দরজা বন্ধ করে বাড়ি ফিরে যান। পরদিন সকালে এসে মন্দিরের দরজা খুলতেই তিনি দেখেন মন্দির শূন্য। শিবলিঙ্গ সেখানে নেই। বহু খোঁজার পর সেই শিবলিঙ্গকে তারা পাশে অবস্থিত গঙ্গা নদীর তীরে খুঁজে পান এবং তাঁকে আবার মন্দিরে নিয়ে গিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন। এইভাবে শিবলিঙ্গ যাতে ঘুরে বেড়াতে না পারেন সেটি বন্ধ করার জন্যই এই মোটা শিবকে পরবর্তীতে শিকল দিয়ে আবদ্ধ করা হয়।

 

বাংলায় কিছু কালী মন্দিরে কালী মূর্তিকে শেকলে বেঁধে রাখার রীতি আছে তবে শেকল দিয়ে শিব লিঙ্গ বেঁধে রাখার অদ্ভুত এই রীতি বোধ হয় শুধু এখানেই দেখা যায়।

 

পরের পর্বে বাংলার আরো এক শিব মন্দিরের কথা নিয়ে আবার ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।