ভক্তের ভগবান
সাধক রামপ্রসাদ এবং মা কালী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
ভারতের শক্তি সাধক বা মা কালীর উপাসক হিসেবে সাধক রাম প্রসাদ এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
কালী ভক্ত হিসেবে তিনি শ্যামা সংগীতকেই নিজের সাধনার মাধ্যম করেছিলেন। তার জীবনে একাধিক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছে তবে এজ এমন একটি ঘটনার উল্লেখ করবো যেখানে এই মাতৃ ভক্তকে স্বয়ং মা কালী দেখা দেন এবং সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দেন।কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের জন্ম আনুমানিক ১৭১৮ থেকে ১৭২৩ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে। তাঁর প্রয়াণ আনুমানিক ১৭৭৫ সালে।
নিজের হাতে ছোট্ট এক ছাউনি তে মাতৃ প্রতিমা গড়ে মায়ের ধ্যান, পূজা, হোম, যজ্ঞ নিয়ে তার দিন কাটতো । মায়ের নাম জপ করতেন অষ্টপ্রহর। এরই ফাঁকে মাকে শোনাতেন স্বরচিত শ্যামাসঙ্গীত। গান গাইতে গাইতে চোখ দিয়ে নেমে আসতো অশ্রু।রামপ্রসাদ রচিত শ্যামাসংগীতে মা কালী ভয়ংকর ও উগ্ররূপিণী দেবী নন। কখনও তিনি মা, কখনও মেয়ে।তার কালী সাধনা ছিলো সহজ সরল এবং আবেগ সর্বস্ব। এই সাধনাতেই তুষ্ট হয়ে মা কালী রামপ্রসাদকে দর্শন দিয়ে ছিলেন।
একবার তিনি একবার বাড়িতে নিজে হাতে বেড়া বাঁধছিলেন। সেই সময় কাছেই তাঁর মেয়ে খেলা করছিল। মেয়ের থেকে দড়ি চেয়েছিলেন রামপ্রসাদ। মেয়ে খেলার আনন্দে সেই ডাককে গুরুত্ব দেয়নি। সেই সময়ে দেবী নিজে তাঁর মেয়ের রূপ ধরে রামপ্রসাদের হাতে বেড়ার দড়ি তুলে দিয়েছিলেন। পরে আসল সত্য উপলব্ধি করেছিলেন রামপ্রসাদ। বুঝে ছিলেন তার কালী সাধনা স্বার্থক হয়েছে। তিনি মা কালীর দেখা পেয়েছেন। কন্যা রূপে মা তাকে দেখা দেন।
তার গানে তিনি এই ঘটনার উল্লেখ করছেন।তার মৃত্যু নিয়েও আছে একটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ।জীবনান্তের পূর্ব লক্ষণ বুঝতে পেরে তিনি বিশেষ পূজা করেন তাঁর আরাধ্যার। মৃন্ময়ীর মূর্তি বিসর্জনের কালে তিনি তাঁর নিজের লেখা গান গাইতে গাইতে হালিশহরের ভাগীরথী তীরে উপস্থিত হন। গঙ্গা বক্ষে অর্ধনাভি নিমজ্জিত রেখে দণ্ডায়মান অবস্থাতেই ব্রহ্মরন্ধ্র ভেদ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। কথিত আছে প্রয়াণ মুহূর্তেও তিনি একটি শ্যাম সংগীতের পদ উচ্চারণ করছিলেন – ‘মা গো, ও মা আমার দফা হল রফা। এমনই ছিলো তার মাতৃ ভক্তি।
আবার ফিরে আসবো অন্য এক ভক্ত এবং ভগবানের লীলা নিয়ে আগামী পর্বে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
ভক্তের ভগবান : সাধক রামপ্রসাদ এবং মা কালী
ভক্তের ভগবান : জগন্নাথদেব এবং কর্মা বাই
ভক্তের ভগবান
জগন্নাথদেব এবং কর্মা বাই
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
শাস্ত্রে আছে শ্রী ক্ষেত্র পুরী ভগবানের ভোজনের স্থান। অন্যান্য খাদ্যের মধ্যে জগন্নাথ দেবের প্রিয় খাদ্য খিচুড়ি এবং খিচুড়ি সাধারণ খিচুড়ি নয়।এই খিচুড়ির নাম কর্মাবাই খিচুড়ি’। এই খিচুড়ির সাথে জড়িয়ে আছে ভক্তের সাথে ভগবানের এক অপূর্ব লীলা। আজকের পর্বে সেই লীলা এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।
পুরীতে এক সময়ে কর্মাবাই নামে একজন বৃদ্ধা বাস করতেন। তিনি জগন্নাথকে নিজের পুত্র রূপে দেখতেন এবং তাঁকে বালক রূপে সেবা করতেন।
মনে করা হয় ভগবানকে ভক্ত যে রূপে পুজো করবে ভগবান সেই রূপেই ধরা দেবে।জগন্নাথও কর্মা বাইকে পুত্র রূপে ধরা দিয়েছিলেন।
কর্মা বাইয়ের মনে হত সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই জগন্নাথ দেবের খিদে পেয়ে যায়। তাই তিনিও খুব সকালে ঘুম থেক উঠে স্নান না করেই খিচুড়ি রান্না করতে বসতেন।প্রতিদিন ভোরে বালক রূপ ধরে জগন্নাথদেব কর্মাবাইয়ের খিচুড়ি খেয়ে ক্ষুধা নিবারণ করতেন। এই খিচুড়ির স্বাদ ছিল জগন্নাথদেবের বড়ই প্রিয়।
খুব ভরে বৃদ্ধা কর্মা বাইয়ের পক্ষে প্রতিদিন স্নান করা সম্ভব হতোনা।একদিন মন্দিরের এক পূজারী কর্মাবাইকে স্নান না করেই খিচুড়ি রান্না করে জগন্নাথদেবকে ভোগ নিবেদন করতে দেখেন। তিনি কর্মাবাইকে নিষেধ করে বলেন যে প্রভুর ভোগ রান্না এবং নিবেদনের আগে দেহে এবং মনে বিশুদ্ধ হওয়া জরুরি।স্নান না করে ভোগ রান্না শাস্ত্র বিরুদ্ধ।পরদিন সাধুর কথামতো কর্মাবাই স্নান সেরে নিয়ম মেনে যখন জগন্নাথ দেবকে খিচুড়ি ভোগ দেন।তাতে দেরি হয়ে যায় অনেকটা। সকাল থেকে ক্ষুদার্থ জগন্নাথ দেব বেলার দিকে
কর্মা বাইয়ের বানানো গরম খিচুড়ি খেয়ে দুপুরে আর ভোগ গ্রহণ করলেন না।
পরে সেবাইতএ অনুসন্ধান করে দেখেন যে
প্রভুর মুখে খিচুড়ি লেগে আছে।পরবর্তীতে জগন্নাথদেব স্বয়ং তার বিশেষ এবং ঘনিষ্ট কয়েকজন সেবককে স্বপ্নে কর্মাবাইয়ের বৃত্তান্ত শোনান এবং তাদের আদেশ করেন তিনি যেন আগের মতোই খুব ভোরে স্নানের আগেই জগন্নাথের জন্য খিচুড়ি রান্না করে ভোগ নিবেদন করেন।সেবকরা কর্মাবাই এর কাছে ছুটে গিয়ে ক্ষমা চান এবং প্রভুর আদেশ শোনান।
তারপর থেকে শুরু হয় খুব সকালে বাল্য ভোগে জগন্নাথ দেবকে খিচুড়ি দেওয়ার নিয়ম।যতদিন কর্মা বাই জীবিত ছিলেন তিনি নিজেই খিচুড়ি বানাতেন।শোনা যায় কর্মাবাইয়ের মৃত্যুতে জগন্নাথদেব কেঁদে ছিলেন।
কর্মা বাইয়ের অনুপস্থিতিতে পুরীর রাজার নির্দেশে পুরী মন্দিরের বাল্যভোগে ” কর্মাবাই খিচুড়ি ” রান্না চালু হয়।আজও জগতের নাথের দিন শুরু হয় তার ভক্তের নামাঙ্কিত ভোগ দিয়ে।
ভক্তের ভক্তি যদি নিখুঁত হয় ভগবান তাকে বুকে টেনে নেন এবং ভক্তের দুঃখে ভগবানের চোখেও জল আসে। এই ঘটনা তা আরো একবার প্রমান করে।
ভক্ত এবং ভগবানের এমন নিবিড় সম্পর্ক এবং লীলা নিয়ে আবার ফিরে আসবো যথা সময়ে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
ভক্তের ভগবান : জগন্নাথদেব এবং ভক্ত রঘু
ভক্তের ভগবান
জগন্নাথদেব এবং ভক্ত রঘু
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
ভক্তের প্রতি ভগবানের এবং ভগবানের প্রতি ভক্তের যতগুলি ভাব শাস্ত্রে উল্লেখিত আছে তার মধ্যে অন্যতম সখা ভাব। এই ভাবে ভগবান হয়ে ওঠেন ভক্তের বন্ধু।আজ প্রভু জগন্নাথের একটি বিশেষ লীলা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো। এই লীলাতে প্রভুর সখা ভাব ফুটে উঠেছে।
জগন্নাথ ধামে রঘু নামে জগন্নাথের এক ভক্ত ছিলো।সে নিজেকে জগন্নাথের সখা রূপে কল্পনা করতো।জগন্নাথদেব ও তাকে বালক রূপে দর্শন দিতো।
একবার ভগবান জগন্নাথ তার ভক্ত রঘুকে বালক রূপে দর্শন দিলেন এবং তাঁকে রাজার বাগান থেকে কাঁঠাল চুরি করতে তাঁর সঙ্গে যেতে বললেন। রঘু বলল, “তুমি কেন কাঁঠাল চুরি করতে চাও? তোমার যদি কাঁঠাল খাবার ইচ্ছা হয়, আমাকে বল-আমি তোমার জন্য সুন্দর একটি কাঁঠাল এনে দেব।” বালকরূপী জগন্নাথ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বললেন কৃষ্ণরূপে আমি অন্যদের বাড়িতে মাখন চুরি করতে যেতাম। চুরি করা দ্রব্য ভোজনে বিশেষ আনন্দ আছে। আজ তোমাকে আমি উপলব্ধি করাব চুরি করা কি আনন্দের। আমার সঙ্গে এসো।”
রঘু বুঝলো আজ আর মুক্তি নেই।
নিরুপায় হয়ে রঘু প্রভুর প্রস্তাবে সম্মত হল এবং তাঁর সঙ্গ নিল।
চুপিসারে তারা দুজনে রাজার বাগানে প্রবেশ করলেন। চারিদিকে কাঁঠাল গাছ তাতে শোভা পাচ্ছে বড়ো বড়ো পাকা কাঁঠাল। বাতাসে পাকা কাঁঠালের মিষ্টি গন্ধ।জগন্নাথ রঘুকে বললেন, “তুমি গাছে চড়বে। আমি মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকব। তুমি সবচেয়ে সুন্দর ও বড় কাঁঠালটি পাড়বে এবং মাটিতে ফেলবে। আমি এখানে দাঁড়িয়ে থাকব। তারপর আমরা উভয়ে কাঁঠাল নিয়ে পালাব।” রঘু যথাযথভাবে প্রভুর নিদের্শ অনুসরণ করল। রঘু কাঁঠাল গাছে উঠে সবচেয়ে বড় ও ভাল কাঁঠালটি খুঁজে বের করল এবং সেটা পাড়ল। ‘জগন্নাথ’, চাপাস্বরে রঘু জগন্নাথকে ডাকল। ‘তুমি কি তৈরি?’ জগন্নাথ উত্তর দিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি তৈরি, নিচে ফেল !’ রঘু কাঁঠাল নিচে ফেলল- জগন্নাথ সেটা ধরবেন ভেবে। কিন্তু কোথায় জগন্নাথ ! তিনি ইতিমধ্যেই বাগান থেকে অদৃশ্য হয়েছেন।কাঁঠাল ধরার জন্য কেউই সেখানে ছিল না। সশব্দে কাঁঠালটি মাটিতে পড়ে ফেটে চৌচির হল। যখন রাজার বাগানের মালী ঐ শব্দ শুনল তখন রঘু
ধরা পড়লো এবং রাজার কাছে খবর গেলো|
রাজা জানতেন রঘু জগন্নাথদেবের অত্যন্ত প্রিয় ভক্ত এবং খুবই সৎ আর নিষ্ঠাবান।নিছক চুরি করার জন্য সে এই কাজ করবে না। নিশ্চই এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে।রাজা রঘুকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার যদি কাঁঠাল খাওয়ার ইচ্ছা হয়ে থাকে, তাহলে গভীর রাত্রে আমার বাগানে এসে গাছে চড়ার কি প্রয়োজন ছিল? তুমি আমাকে একবার বলতে পারতে। আমি কাঁঠাল পাড়ার ব্যবস্থা করে তোমার বাড়িতে পাঠিয়ে দিতাম!’ রঘু তখন প্রভু জগন্নাথের এই অদ্ভুত লীলা সবিস্তারে বললো । সেখানে উপস্থিত সবাই প্রভুর রম্য এই লীলা শুনে খুবই আনন্দ পেল এবং সকলেই হাসতে লাগল। তাঁরা রঘুর সৌভাগ্যর জন্য তাঁর গুনগান করলেন।কারন জগতের নাথের ভক্তের প্রতি এই সখা ভাব খুবই দুর্লভ।অনেক সৌভাগ্য এবং পূর্ব জন্মের পুন্যর ফল হিসেবে এই অতি সাধারণ বালক জগন্নাথদেবকে তার সখা রূপে পেয়েছে।
পরবর্তী পর্বে অন্য এক ভক্ত এবং এবং তার ভগবানের আরো একটি অদ্ভুত লীলা নিয়ে আলোচনা করবো। পড়তে থাকুন।
ভক্তের ভগবান – প্রল্লাদ এবং নৃসিংহ দেব
ভক্তের ভগবান
প্রল্লাদ এবং নৃসিংহ দেব
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
যারা ভক্তি মার্গে চলেন তাদের ভক্তি যদি খাঁটি হয় যদি সম্পূর্ণ রূপে স্মরনাগতি আসে তবে ভগবান তার জন্য সবকিছু করতে পারেন
এমনকি অবতার রূপে অবতীর্ণ হতে পারেন
যেমনটা হয়েছিলো ভক্ত প্রল্লাদের খেত্রে।
বিষ্ণু বরাহ অবতারে হিরণ্যাক্ষ নামে এক রাক্ষসকে বধকরেন ও পৃথিবীকে রক্ষা করেন এই হিরণ্যাক্ষের ভাই হিরণ্যকশিপু স্বাভাবিক ভাবেই প্রবল বিষ্ণুবিদ্বেষী হয়ে ওঠেন। তিনি বিষ্ণুকে হত্যা করার পথ খুঁজতে থাকেন।তিনি বহু বছর ব্রহ্মার কঠোর তপস্যা করেন। ব্রহ্মাও হিরণ্যকশিপুর তপস্যায় সন্তুষ্ট হন। তিনি হিরণ্যকশিপুর সম্মুখে উপস্থিত হয়ে তাঁকে বর দিতে চান। হিরণ্যকশিপু অমরত্ত চাইলেন। কিন্তু তা পেলেন না তখন তিনি বললেন আপনি আমায় এমন বর দিন যে বরে আপনার সৃষ্ট কোনো জীবের হস্তে আমার মৃত্যু ঘটবে না, আমার বাসস্থানের অন্দরে বা বাহিরে আমার মৃত্যু ঘটবে না, দিবসে বা রাত্রিতে, ভূমিতে বা আকাশে আমার মৃত্যু হবে না, শস্ত্রাঘাতে, মনুষ্য বা পশুর হাতে আমার মৃত্যু হবে না,।বাধ্য হয়ে ব্রম্হা তাকে ইচ্ছা মতো বর দেন|
পরবর্তীতে হিরণ্য কশিপুর পুত্র প্রহ্লাদ হয়ে ওঠেন পরম বিষ্ণুভক্ত।এতে তাঁর পিতা হিরণ্যকশিপু অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। ক্রমে প্রহ্লাদের বিষ্ণুভক্তিতে হিরণ্যকশিপু এতটাই ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত হন যে তিনি নিজ পুত্রকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেন।
হোলিকা রাক্ষসী প্রল্লাদকে আগুনে দগ্ধ করতে চাইলে বিষ্ণু তাকে রক্ষা করেন এবং হোলিকা আগুনে পুড়ে মারা যায়।
তারপর বিষ্ণু স্বয়ং নৃসিংহ অবতারে হিরণ্য কশিপুরকে বধ করে প্রহ্লাদকে রক্ষা করেন|দেবতা মানুষ বা পশু হলে হবেনা কারন ব্রহ্মার বর হিরণ্য কশিপুর কে রক্ষা করবে তাই নৃসিংহ পরিপূর্ণ দেবতা, মানব বা পশু নন; হিরণ্যকশিপুকে দিবসে বা রাত্রিতে বধ করা যাবে না, তাই নৃসিংহ দিন ও রাত্রির সন্ধিস্থল গোধূলি সময়ে তাঁকে বধ করেন; হিরণ্যকশিপু ভূমিতে বা আকাশে কোনো শস্ত্রাঘাতে বধ্য নন, তাই নৃসিংহ তাঁকে নিজ জঙ্ঘার উপর স্থাপন করে নখের আঘাতে হত্যা করেন; হিরণ্যকশিপু নিজ গৃহ বা গৃহের বাইরে বধ্য ছিলেন না, তাই নৃসিংহ তাঁকে বধ করেন তাঁরই নিজের গৃহদ্বারে।
ভগবানের প্রতি ভক্ত প্রল্লাদের বিশ্বাস এতটাই ছিলো যে তিনি একটি পাথরের স্তম্ভ থেকে অবির্ভুত হয়েছিলেন কারন প্রল্লাদ দাবী করেছিল যে বিষ্ণু জগতের সর্বত্র বিরাজমান।
আবার পরের পর্বে অন্য এক ভক্ত এবং তার ভগবানের দিব্য লীলা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণ সুদামা
ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণ সুদামা
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
ভক্ত এবং ভগবানের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে গেলে শ্রী কৃষ্ণ এবং তার সখা এবং ভক্ত সুদামার প্রসঙ্গ উঠবেই।আজকের পর্বে এই দুই জনের বন্ধুত্ব নিয়ে লিখবো।
বৃন্দাবনের একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণকারী সুদামা এবং ভগবান কৃষ্ণ ছিলেন সহপাঠী যারা বৃন্দাবনে আচার্য সন্দীপনের আশ্রমে অধ্যয়ন করতেন এবং তখন থেকেই তাদের বন্ধুত্ব তৈরী হয়। কৃষ্ণের বাল লীলার প্রায় প্রতিটি পর্বে সুদামা স্বমহিমায় বিরাজমান।
কৃষ্ণ এবং সুদামা উভয়েই শিক্ষা সমাপ্ত করে নিজ নিজ গৃহে চলে যান। পরবর্তীতে যেখানে কৃষ্ণ দ্বারকা রাজ্যের সিংহাসন লাভ করেন অন্যদিকে সুদামা দারিদ্র্যতার জীবনে আবদ্ধ হয়ে পড়েন । এতো কিছুর পরেও তার ভক্তি, অনুরাগ এবং কৃষ্ণপ্রেম অব্যাহত ছিল।তিনি জানতেন বন্ধু তাকে ভুলবেননা। একদিন আবার ভক্ত এবং ভগবানের মিলন ঘটবেই।
সুদামার সর্বদা অর্থের অভাব ছিল। প্রায়শই তার বাচ্চারা রাতে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। বহু বছর পরেও কৃষ্ণের প্রতি সুদামার ভালোবাসা কমেনি এবং প্রভুর গল্প তার বাচ্চাদের শোনাতেন। তার স্ত্রী সুশীলা একবার তাকে জোর করে ভগবান কৃষ্ণের সাথে দেখা করতে পাঠান।
সুদামা তার স্বাভাবিক মলীন এবং ছেঁড়া কাপড় পরে সম্পূর্ণ খালি পায়ে দ্বারকার উদ্দেশ্যে রওনা হলেন।মনে অনেক প্রশ্ন ভগবান কৃষ্ণ কি তাকে চিনবেন? তাঁকে দেখে কৃষ্ণের প্রতিক্রিয়া কী হবে? প্রহরীরা কি তাকে কৃষ্ণের সাথে দেখা করতে দেবে? কেউ কি বিশ্বাস করবে যে আমি কৃষ্ণের বন্ধু?
অবশেষে ক্ষুধার্ত এবং ক্লান্ত সুদামা দ্বারকায় পৌঁছেন।দ্বারকার সৌন্দর্যে বিস্মিত হয়ে সুদামা কৃষ্ণের দুর্গ খুঁজতে থাকেন। রক্ষীরা তাকে অপমান করে দুর্গে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।কীভাবে একজন ভিক্ষুকের সাথে কৃষ্ণর বন্ধুত্ব থাকতে পারে তা ভেবে তারা অবাক।
এদিকে কৃষ্ণের আগমনের খবর পৌছায় দ্বারকার অন্দর মহলে।সুদামা প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে আছেন শুনে কৃষ্ণ সরাসরি মূল ফটকের দিকে দৌড়ে গেলেন। কৃষ্ণের চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে শুরু করে।আবেগে ভরা হৃদয় নিয়ে কৃষ্ণ সুদামাকে জড়িয়ে ধরে তাঁর সিংহাসন অর্পণ করেন । তিনি তার অশ্রু দিয়ে সুদামার পা ধুয়ে দিলেন। বসালেন স্ত্রী রুক্মিণীর আসনে। কিছু দিন সেবা এবং আতিথ্য গ্রহন করে সুদামা জাগতিক কিছু না চেয়ে খালি হাতেই ফিরে এলেন।
গ্রামে ফিরে দেখলেন তার পুরানো এবং ভাঙা কুঁড়েঘরটি একটি জমকালো প্রাসাদে রূপান্তরিত হয়েছে। স্ত্রীও রাজ রানী হয়েছেন। দারিদ্রতার অভিশাপ মুছে গেছে।সুদামা বুঝতে পেরেছিলেন যে এটি তাঁর লীলা ধর , তাঁর প্রিয় ভগবান শ্রী কৃষ্ণের লীলা। ভক্তের প্রতি ভগবানের অসীম করুন হয়েছে।
একদিকে কৃষ্ণের মতো বন্ধু পেয়ে সুদামা যেমন ভাগ্যবান তেমনই সুদামার ন্যায় ভক্ত বা বন্ধু পেয়ে কৃষ্ণও ধন্য।
আবার অন্য এক ভক্ত এবং তার ভগবানের কথা নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
কার্তিক পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
- কার্তিক পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আগামীকাল কার্তিক সংক্রান্তি,কার্তিক পুজোর এই পবিত্র সময়ে দেব সেনাপতি কার্তিকের জন্ম বৃত্তান্ত ও তার বাহন অর্থাৎ ময়ূর নিয়ে কিছু পৌরাণিক তথ্য ও ব্যাখ্যা আপনাদের সামনের উপস্থাপন করবো এই বিশেষ পর্বে|জানাবো কার্তিক পুজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য।
শাস্ত্র মতে কার্তিক পুজো করে তাকে তুষ্ট করতে পারলে কার্তিকের মতো সর্বগুন সম্পন্ন
পুত্র লাভ হয়।সেই বিশ্বাস থেকে নব বিবাহিত দম্পতিদের ঘরের সামনে গভীর রাতে কার্তিক ঠাকুর স্থপন করার রীতি শুরু হয়।
ভারতের কোথাও তিনি মুরগান, কোথাও শুভ্রমনিয়াম, আবার বাংলায় তিনি ঘরের ছেলে কার্তিক।কার্তিক শিব ও পার্বতীর সন্তান এ আমরা সবাই জানি, কিন্তু তার জন্মর একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে ছিলো|তারকাসুরের অত্যাচার থেকে বাঁচার জন্য দেবতারা একজন শৌর্য-বীর্যসম্পন্ন দেবসেনাপতির খোঁজ করছিলেন। অবশেষে সকলে মিলে মহাদেবের শরণাপন্ন হলেন তপস্যা ভঙ্গ করে অন্তত যাতে একটা পুত্র তিনি দেবতাদের উপহার দেন। এতে শিব সম্মত হয়ে নিজের তেজ নিঃক্ষেপ করলেন, মহাদেবের তেজ গিয়ে পড়ল পৃথিবীতে। বসুন্ধরা এই তেজ সহ্য করতে না পেরে তা অগ্নিতে নিক্ষেপ করলেন। অগ্নি আবার সেই মহাতেজ শরবনে নিক্ষেপ করলেন। আর এই শরবনেই একটি সুন্দর সন্তানের জন্ম হল। ঠিক এই সময় ছয়জন কৃত্তিকা অগ্নির ছয় পত্নী সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন।তারা কার্তিকের লালন পালনের দায়িত্ব নিলেন|পরবর্তীতে তিনি হলেন দেব সেনাপতি এবং যুদ্ধে বধ করলেন তারকাসুর কে|কার্তিকের বিবাহ হয়েছিলো দেবসেনা নামক এক রমণীর সাথে|
আবার বিবাহ সংক্রান্ত অন্য একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যাও আছে যা মূলত লোককাহিনী যেখানে কার্তিক উষা নামে এক সুন্দরী রমণীকে বিবাহ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু মাতা পার্বতীর সম্মতি না দেয়ায় তিনি আর বিবাহ করেননি এবং চীরকুমার রয়ে গেছিলেন|যাইহোক অগ্নির ছয় পত্নী তাকে পালন কোরেছিলেন তাই তার নাম সড়ানন|
কার্তিকের বাহন ময়ূর কেনো হলো তা নিয়েও একটি ব্যাখ্যা আছে, ময়ূর খুব সামান্যই নিদ্রা যায়। সর্বদা সতর্ক। আলস্যহীন। ময়ুরের স্বজনপ্রীতি লক্ষণীয়। সৈনিক পুরুষ ময়ূরের মতো অনলস, কর্মকুশল এবং লোকপ্রিয় হবেন তা বলাই বাহুল্য। তাছাড়া, ময়ূর মেঘ দেখলে যেমন আনন্দে পেখম তুলে নৃত্য করে, তেমনই ধীর ব্যক্তি শত বিপদেও উৎফুল্ল থাকবেন। সম্ভবত এই সব কারণেই দেব সেনাপতি কার্তিকের উপযুক্ত বাহন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ময়ূর|
আপনাদের সবাইকে কার্তিক পুজোর শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। ফিরে আসবো আগামী পর্বে বিশেষ এক ধারাবাহিক অনুষ্ঠান নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
কালী কথা – পুরুলিয়ার ডাকাত কালী
কালী কথা – পুরুলিয়ার ডাকাত কালী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
পুরুলিয়া জেলার প্রাচীন কালীপুজোগুলির মধ্যে চিড়াবাড়ি এলাকার নাক কাটা কালি পুজো অন্যতম । এক প্রাচীন বট গাছের নিচে রয়েছে দেবীর খণ্ডিত মূর্তি । এই কালীমূর্তির নাক কাটা অবস্থায় পুজো হয় নাক কাটা কালী নামেই খ্যাত।
এই কালী মুলত ডাকাত কালী।
শোনা যায় বহুকাল আগে এই অঞ্চলে ডাকাত দের উৎপাত ছিলো সেই সময়ে ডাকাতদের হাত থেকে ফসল বাঁচাতে পুজো শুরু করেছিলেন গ্রামবাসীরা সেই রাগে ডাকাতরা দেবীর মূর্তি ভেঙে দিয়েছিল । কেটে দিয়েছিল মূর্তির নাক ।সেই থেকে দেবী এখানে পূজিত হন নাক-কাটা কালীরূপে।
শুধু নাক নয় দেবী মূর্তি এখানে খণ্ডিত।
পরবর্তীতে মূর্তি ভাঙার অপরাধে সেই ডাকাত দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেন দেবী।এমন টাই জনশ্রুতি আছে।
এই দেবীর পুজোর পর থেকেই বন্ধ হয় ডাকাতি এবং গ্রাম বাসীরা ফিরে পান তাদের হারানো শান্তি। সে প্রায় দুশো বছর আগের কথা সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত এই গ্রামকে সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করেন এই দেবী।
প্রত্যেক অমাবস্যায় এবং প্রতি বছর কালী পুজোর সময়ে মহা ধুমধামের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে এই পুজো । প্রাচীন প্রথা মেনে ছাগ বলিও হয় এই মন্দিরে এবং পুজো হয় তন্ত্র মতে।নাক কাটা কালীর উপরে গোটা পুরুলিয়া জেলার মানুষের অগাধ আস্থা এবং শ্রদ্ধা।
দেখা হবে আগামী পর্বে। সঙ্গে থাকবে অন্য
এক কালী মন্দিরের কথা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
কালী কথা – পুঁটে কালীর পুজো
কালী কথা – পুঁটে কালীর পুজো
পন্ডিতজি ভৃগুরশ্রী জাতক
আজ কালী কথায় আপনাদের কলকাতার এক অতি প্রাচীন কালী মন্দিরের কথা লিখবো।
কলকাতার ব্যাস্ততম অঞ্চল গুলির অন্যতম বড়ো বাজার অঞ্চলে কালীকৃষ্ণ ঠাকুর স্ট্রিটে অবস্থিত বিখ্যাত পুঁটে কালী মন্দির|এই মন্দিরের ইতিহাস অতি প্রাচীন ও বহু অলৌকিক ঘটনা এবং কিংবদন্তী জড়িত আছে এই মন্দির এবং দেবীর মূর্তির সাথে|
তখন ভারত শাসন করছেন সম্রাট আকবর। কলকাতা তখন ও শহর হয়ে ওঠেনি । উত্তর কলকাতার আজকের কালীকৃষ্ণ ঠাকুর স্ট্রীট তখন ছিলো গঙ্গা তিরবর্তী এক জনপদ।চারিপাশ ছিল জঙ্গলে ভর্তি।ডাকাত রা নরবলী দিয়ে ডাকাতি করতে যেতো। সেই সব নর মুণ্ড জমা হতো একটি কুয়ায়।ডাকাতদের নরমুণ্ড ফেলার জন্য ব্যবহৃত সেই কুয়োর মধ্যে দেবী পুটে কালী বাস করতেন।
বর্তমান মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন তান্ত্রিক মানিকচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রথম পাকা মন্দির স্থাপিত হয়েছিল ১৫৫৮ খ্রিষ্টাব্দে|যদিও প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে এই দেবী মূর্তি এখানে আরো আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত ছিলো|
তান্ত্রিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজার দুরারোগ্য শ্বেতী সারিয়ে দিলে মহারাজা তাঁকে ‘রাজা’ উপাধিতে ভূষিত করেন এবং লক্ষ ব্রাহ্মণ ভোজন করান। দেবীর বর্তমান সেবাইতরা রাজা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৌহিত্র বংশ।
১৯৩০ সালে মন্দিরের সংস্কার করা হয়মন্দিরটি চারচালা ও তিনটি চূড়াবিশিষ্ট। চূড়াগুলির উপর চক্র, ত্রিশূল ও পতাকার চিহ্ন আছে। মন্দিরটির তলায় একটি পাতালকক্ষ আছে|মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত কালীমূর্তিটি ছয় ইঞ্চি লম্বা|
মন্দির এবং দেবী মূর্তির এই অদ্ভুত নামকরণ প্রসঙ্গে দুরকম ব্যাখ্যা রয়েছে|কেউ কেউ মনে করেন পুঁটি” অর্থে ছোটো মেয়ে বোঝায়|এই মন্দিরের কালীমূর্তিটির উচ্চতা মাত্র ছয় ইঞ্চি এত ছোটো মূর্তি বোঝাতেই তাই “পুঁটিকালী” বা নামটির প্রচলন হয় এবং পরবর্তীতে লোক মুখে তা বিকৃত হয়ে “পুঁটেকালী” হয়ে যায়|
নামের দ্বিতীয় ব্যাখ্যা অনুসারে একবার মন্দিরে হোম চলা কালীন গঙ্গার খাদ থেকে একটি পুঁটিমাছ লাফিয়ে হোমকুণ্ডের মধ্যে পড়ে যায়|পড়ে অর্ধদগ্ধ মাছটিকে তুলে জলে ফেলে দিতেই সেটি আবার জীবন্ত হয়ে হয়ে ওঠে এবং অলৌকিক ঘটনার জন্য দেবীর নাম হয় “পুঁটিকালী” বা “পুঁটেকালী”|
পুঁটে কালীর মন্দিরে পূজা হয় তন্ত্রমতে। দীপান্বিতা কালীপূজার রাতে প্রতিমার স্বর্ণবেশ হয় এবং ভৈরবী পূজাও অনুষ্টিত হয়|এখানে আজও কালী পূজা উপলক্ষে কুমারী পূজা হয়|এছাড়াও বিশেষ বিশেষ তিথিতে ছাগ বলীর ও ব্যবস্থা করা হয়|দেবীর উদেশ্যে আমিষ ও নিরামিষ দু রকম ভোগ ই নিবেদিত হয়|লক্ষণীয় বিষয় এই মন্দিরে দেবী কালীর পাশে দেবী শীতলার ও পূজা করা হয় নিষ্ঠা সহকারে|
আজকের কালী কথা পর্ব এখানেই শেষ করছি।ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
কালী কথা – জোড়া কালীর পুজো
কালী কথা – জোড়া কালীর পুজো
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
নদিয়ার ভীমপুরের ময়দানপুরের কালীবাড়িতে একই মন্দিরে পাশাপাশি পূজিতা হন রক্ষাকালী এবং দক্ষিণকালী।আজ কালী কথায় এই পুজোর ব্যতিক্রমী এবং ঐতিহাসিক কালী পুজো নিয়ে আলোচনা করবো।
বহু বছর আগে এক কালীর পুজোর আগের রাতে দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন স্থানীয় এক মহিলা। দেবী তাঁকে স্বপ্নে জানিয়েছিলেন, তাঁর বাড়ির কাছেই মনসা গাছ রয়েছে। সেই গাছের মাটির তলায় তাঁরা আছেন। তাঁদের মাটি থেকে তুলে পুজো করতে হবে।
প্রথমে কেউ তাঁকে বিশ্বাস করেননি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাঁর জোরাজুরিতে শুরু হয় মাটি খোঁড়া। বেশ কিছুটা মাটি খোঁড়ার পর উদ্ধার হয় জোড়া কালীমূর্তি। এরপর যেখান থেকে কালীমূর্তি দুটি উদ্ধার হয়, সেই মনসা গাছের পাশেই তৈরি করা হয় দেবীর বেদী।শুরু হয় পুজো। আজ সেই পুজোই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে গোটা নদীয়া
জেলা জুড়ে।
বিশেষ তিথি তে বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়। এখানে দেবীকে এখানে নিত্য পুজো করা হয়। এই মন্দিরে দুই কালী প্রতিমার পাশে দেবী লক্ষ্মীর মূর্তিও রয়েছে। দেবী লক্ষ্মীকেও এখানে নিত্য পুজো করা হয়।পাশাপাশি দুই কালী মূর্তি বিরাজ করছে শিবের ওপর।
বর্তমানে সেই মহিলার পরিবারের লোকজন বংশপরম্পরায় এই পুজো করে চলেছেন।পাশাপাশি অসংখ্য ভক্ত যুক্ত হয়েছে এই পুজোর সাথে।কালীপুজোর দিনগুলোয় এই মন্দির পরিসর যেন বিরাট এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। বিপুলসংখ্যক ভক্ত এখানে ভিড় করেন।
গোটা নদীয়া জেলায় এই জোড়া কালীর বিশেষ খ্যাতি আছে।
আজকের এই পর্ব এখানেই শেষ করছি।
ফিরে আসবো কালীর কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে আগামী দিনে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।