Home Blog Page 47

কালী তীর্থ – টাকি জমিদার বাড়ির কালী পুজো

কালী তীর্থ – টাকি জমিদার বাড়ির কালী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলায় জাগ্রত মন্দিরের অভাব নেই আর এই সব মন্দিরকে কেন্দ্র করে আছে অসংখ্য অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ।যার মধ্যে অনেকগুলি আমি আগে কালী কথায় বলেছি। তবু অনেক গল্প, অনেক ইতিহাস এখনো বলা বাকি আছে। তাই কালী তীর্থ নিয়ে ফিরে এসেছি।

 

আজকের পর্বে টাকির প্রসিদ্ধ রায় চৌধুরী বাড়ির কালী পুজোর ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করবো।

 

জনশ্রুতি আছে বহুবছর আগে ইছামতীতে জেলেদের জালে উঠে এসেছিল একটি সুন্দর নকশা করা ঘট। সেকথা জানতে পারেন টাকির জমিদার রায়চৌধুরীরা। জমিদার গিন্নি সেই রাতেই স্বপ্ন দেখেছিলেন চালাঘর তৈরি করে ঘটটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। খড়, বিচালি, গোলপাতা দিয়ে মাটির দেওয়ালের মন্দির বানিয়ে কালীপুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মন্দিরটি নতুন করে সংস্কার করা হয়।নদীর স্থানীয় জমিদার রায়চৌধুরি পরিবারের হাত ধরেই টাকির কুলেশ্বরী কালীবাড়ির পুজো শুরু হয়েছিল। সেই থেকে আজও একইভাবে দেবীর পুজো চলে আসছে।এই দেবী রায় চৌধুরী পরিবারের কুলদেবী এবং সমগ্র টাকির মানুষের কাছের অত্যন্ত শ্রদ্ধার।

 

এই দেবী সম্পর্কে অনেকে আবার বলেন একবার এক মাতৃ সাধক ইছামতীর পাড়ে মা কালীর সাধনা করতেন এবং তার প্রতিষ্ঠিত ঘট নদীর পাড়ে পড়েছিল। এরপর টাকির জমিদারকে দেবী স্বপ্নাদেশ দেন ওই ঘট প্রতিষ্ঠা করার। তখনই টাকির জমিদার কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

 

চারশো বছর ধরে এখানে চলে নিত্যপুজো ও অন্নভোগ। বছরের বিশেষ তিথিতে এই মন্দিরে বড় আকারে পুজো করা হয়। একটা সময় এই পুজোয় কামান দাগা হত তন্ত্র মতে বলী দিয়ে পুজো হতো। সেই সব রীতির কিছু কিছু আজও বজায় আছে। ভক্তরা বিশ্বাস করেন দেবী এখানে অত্যন্ত জাগ্রত এবং তিনি ভক্তদের মনোস্কামনা পূরণ করেন।

 

নদীর কুল থেকে দেবীর ঘট উদ্ধার হয়েছিল তাই দেবীকে অনেকে কুলেশ্বরী নামেও ডাকেন।

 

চলতে থাকবে কালী তীর্থ । এখনো অনেক দেবী মন্দির নিয়ে আলোচনা বাকি আছে। ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান : জগদীশ পন্ডিত এবং প্রভু জগন্নাথ

ভক্তের ভগবান

 

জগদীশ পন্ডিত এবং প্রভু জগন্নাথ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের পর্বে আপনাদের পরম বৈষ্ণব এবং শ্রী চৈতন্যদেবের অন্যতম প্রিয় শিষ্য শ্রীল জগদিশ পন্ডিতের সাথে ঘটে যাওয়া জগন্নাথ দেবের এক অদ্ভুত লীলা প্রসঙ্গে লিখবো।

 

শ্রী চৈতণ্য দেবের নির্দেশে একবার জগদীশ পন্ডিত পুরী ভ্রমণ করেন।শ্রীধাম পুরীতে পৌঁছে জগদীশ পণ্ডিত ভগবান জগন্নাথের দিব্য দর্শন লাভ করেন।জগন্নাথ প্রেমে উন্মাদ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরী হয়। জগদীশ পন্ডিত বেশ বুঝতে পেরে ছিলেন জগন্নাথকে ছেড়ে থাকা তার পক্ষে আর সম্ভব নয়। ভগবান ও ভক্তের মনের অবস্থা বুঝতে পেরে তাকে স্বপ্নে দর্শন দেন এবং বলেন তিনি যেনো তার দারু ব্রহ্ম মূর্তি সাথে নিয়ে যান এবং নিজের মাতৃ ভূমি তে সেই মূর্তি স্থাপন করে জগন্নাথ সেবা করেন।

 

একই সাথে জগন্নাথ উড়িষ্যার রাজার কাছে আবির্ভূত হন এবং তাকে নির্দেশ দেন তিনি যেনো জগদীশ পন্ডিতকে এই মূর্তি প্রদান করেন। রাজা সেই আদেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন।

 

জগদীশ পন্ডিত আনন্দিত হন এবং একই সঙ্গে চিন্তায় পরে যান যে কিভাবে তিনি ওই

ভারী বিগ্রহ বাংলায় নিয়ে যাবেন। জগন্নাথ

তাকে দেখা দিয়ে আশ্বস্ত করেন যে তিনি

এই বিগ্রহের ভার অনুভব করবেন না এবং তিনি যেন বিগ্রহটি একটি নতুন কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন এবং তাকে একটি লাঠির শেষে ঝুলিয়ে নিয়ে যান। এবং জগন্নাথ তাকে সতর্ক করেছিলেন যে একবার তিনি মাটিতে বসালে।সেই জায়গাটি তার স্থায়ী আবাসে পরিণত হবে।আর বিগ্রহ তোলা যাবেনা।

 

দুই ব্রাহ্মণের সাহায্যে জগদীশ ভগবান জগন্নাথকে বাংলার দিকে নিয়ে যান। চাকদহের কাছে গঙ্গার তীরে তারা যখন গঙ্গায় স্নান করছিলেন তখন তারা উপলব্ধি করেন যে ভগবান জগন্নাথ হঠাৎ খুব ভারী হয়ে উঠেছেন। আর তার ভার বহন করা সম্ভব নয়। জগদীশ পন্ডিত বুঝতে পারেন যে ভগবান জগন্নাথ সেই স্থানেই থাকতে চান।সেখানেই মন্দির বানিয়ে শুরু হয়

জগন্নাথ সেবা। আজও নিত্য পুজো হয়

জগদীশ পন্ডিতের বিখ্যাত এই

জগন্নাথ মন্দিরে। বিশেষ বিশেষ তিথিতে

বহু ভক্ত সমাগম হয়।

 

ভক্তের ভগবানের পরবর্তী পর্বে থাকবে এমনই

এক ভক্তের কথা এবং বিশেষ একটি

অলৌকিক লীলা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশেষ পর্ব – কপিল মুনীর মাহাত্ম

বিশেষ পর্ব – কপিল মুনীর মাহাত্ম

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শুরু হয়ে গেছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় মিলন উৎসব গঙ্গা সাগর মেলা |প্রতিবছর মকর সংক্রান্তির পুন্য তিথিতে লক্ষ লক্ষ পূর্ণার্থী ভিড় জমান এই মেলায়|এই স্থান ঘিরে রয়েছে এক পৌরাণিক ঘটনার উল্লেখ যার প্রধান চরিত্র কপিল মুনী|গঙ্গা সাগর ও কপিল মুনীর আশ্রম প্রায় সমার্থক! কিন্তু কে এই কপিল মুনী?

আজকের পর্বে আসুন জেনে নিই কপিল মুনির আধ্যাত্মিক মাহাত্ম।

 

কপিল মুনি একজন বৈদিক ঋষি ছিলেন এবং তাঁকে সাংখ্য দর্শনের অন্যতম প্রবর্তক বলে মনে করা হয়। ভগবত গীতায় কপিল মুনির উল্লেখ রয়েছে|আবার কিছই শাস্ত্র অনুসারে অনুসারে তিনি ব্রহ্মার পৌত্র মনুর বংশধর। আবার অনেকে বলেন কপিল মুনি হলেন বিষ্ণু ভক্ত প্রহ্লাদের পুত্র|

 

কপিল মুনীর সাংখ্য দর্শনের মূল কথা হলো আত্মা মানুষের কর্ম অনুসারে দেহান্তরে প্রবেশ করে। যখন কর্ম ক্ষয় তখন আর আত্মা দেহান্তরে প্রবেশ করেনা। এই দর্শন নিরিশ্বর বাদের উপর প্রতিষ্ঠিত।সাংখ্য দর্শন আরো বলে যে জড় জগৎ প্রকৃতি থেকে উদ্ভুত।

 

আগের একটি পর্বে বলেছি কিভাবে রাজা ভগীরথ মা গঙ্গাকে মর্তে এনে তার পূর্ব পুরুষদের

মুক্ত করেন। এখানেও প্রধান চরিত্র কপিল মুনী তার ক্রোধের ফলেই ভগীরথের পূর্বপুরুষরা অভিশপ্ত হয়ে ছিলেন।

 

সূর্য বংশীয় রাজা সগর অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করেন। নিজের আসন বিপন্ন হবে তাই ভীত হয়ে দেবরাজ কপিল মুনির অজান্তেই যজ্ঞের ঘোড়া চুরি করে বেঁধে রাখেন তাঁর আশ্রমে।

রাজার আদেশে তার ষাট হাজার সন্তান যজ্ঞর নিরুদ্দেশ ঘোড়া খুঁজতে এসে উপস্থিত হন কপিল মুনির আশ্রমে। না বুঝেই তাঁরা মুনিকে অপরাধী সাব্যস্ত করেন এবং চোর ও চক্রান্তকারী অপবাদ দেয়।অসীম ক্ষমতাধর কপিলমুনি রেগে গিয়ে তাঁদের অভিশাপ দেন এবং তাঁরা ভস্মীভূত হয়ে যায়। কপিল মুনী যেমন ক্রোধ বসবর্তী হয়ে শাস্তি দিয়ে ছিলেন তেমনই দয়ালু হয়ে তাদের মুক্তির পথ ও বলে দিয়েছিলেন।

 

বর্তমানে গঙ্গা সাগরে অবস্থিত কপিল মুনির আশ্রম এবং মন্দিরে কপিল মুনী, রাজা সগর এবং মাতা গঙ্গার মূর্তি একত্রে বিরাজমান। বহু দর্শণার্থী আসেন এই মন্দিরে পুজো দিতে এবং নিজ নিজ মনোস্কামনা জানতে।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে আরো একটি আধ্যাত্মিক বিষয় নিয়ে আলোচনায়। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণ ভক্ত গোপাল ভট্ট গোস্বামী

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণ ভক্ত গোপাল ভট্ট গোস্বামী

 

পন্ডিতজি ভ্রূগুশ্রী জাতক

 

শ্রী গোপাল ভট্ট ছিলেন শ্রী চৈতণ্যদেবের প্রিয় শিষ্যদের অন্যতম। তিনি কৃষ্ণের রাধা রমন রূপের পুজো করতেন এবং কৃষ্ণ প্রেমে নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে বিলিয়ে দিয়েছিলেন।আজকের পর্বে এই মহান বৈষ্ণব সাধককে নিয়ে লিখবো।

 

শ্রী গোপাল ভট্ট গোস্বামীর বয়স তখন মাত্র দশ বছর যখন মহাপ্রভু দক্ষিণ ভারতে তীর্থযাত্রার সময় শ্রী রঙ্গমে তাঁর পারিবারিক বাড়িতে চার মাস অবস্থান করেছিলেন। গোপাল ভট্ট মহাপ্রভুর সেবায় নিজেকে সম্পূর্ণরূপে উৎসর্গ করেছিলেন,

বিদায় নেয়ার সময়ে গোপাল ভাটের বাবা ভেঙ্কট ভট্টকে চৈতন্য মহাপ্রভু বলেছিলেন, “গোপালকে সাধারণ মানুষ হিসাবে নেবেন না। তিনি একজন গোপীর অবতার , রাধা ও কৃষ্ণের ব্যক্তিগত সহযোগী। সময়ের সাথে সাথে, তিনি লক্ষ লক্ষ দুঃখী আত্মাকে সাহায্য করবেন।”

 

সব শুনে ভেঙ্কট ভট্ট তার পুত্রকে মহাপ্রভুর পদ্মের চরণে নিবেদন করেছিলেন, যিনি তাকে সেই বছরের কার্তিক শুক্লা একাদশীতে দীক্ষা দিয়েছিলেন।

 

মহাপ্রভু একবার আদেশ দিয়েছিলেন যে আমার পরম প্রিয় গোপাল ভট্টের ভক্তির পথ প্রচার

করা উচিত এবং নেপালের গণ্ডকী নদীতে যাওয়া উচিত, যেখানে তিনি বারোটি শালিগ্রাম শীল পাবেন । এই শীলগুলির মধ্যে আমি সর্বদা দামোদর শালিগ্রাম রূপে বিরাজ করবো।

তিনি যেনো এই শীলগুলিকে কৃষ্ণ রূপে পুজো করেন।

 

মহাপ্রভু একটি কাঠের আসনও দেন এবং আশীর্বাদ করেন যে গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের পরবর্তী গুরু হিসেবে গোপাল ভট্ট এই আসনে বসবেন বসবেন এবং রাধা ও কৃষ্ণের ভক্তি প্রচার করবেন পরবর্তীতে এই আসন বংশ পরম্পরায় গুরু হওয়ার যোগ্য গোস্বামীদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তর করা হবে। এটা আমার আদেশ।”

 

পরবর্তীতে গোপাল ভট্ট অলৌকিক ভাবে এই দামোদর শিলা খুঁজে পান এবং স্বপ্নে রাধারমন রুপী কৃষ্ণের দর্শন পান। সেই দামোদর শিলা স্থাপন করে মহাপ্রভুর আদেশ মতো পুজো শুরু করেন এবং সর্বত্র কৃষ্ণ নামের প্রচার শুরু করেন।

 

গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজে গোপাল ভট্ট ছিলেন কৃষ্ণ প্রেম এবং ভক্তির মূর্ত প্রতীক অসংখ্য পাপী তাপী নর নারীকে তিনি কৃষ্ণ নামের মাধ্যমে উদ্ধার করেছেন।

 

ফিরে আসবো অন্য এক ভক্ত এবং এরকমই

এক দিব্য লীলা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – গদাধর পন্ডিতের কথা

ভক্তের ভগবান – গদাধর পন্ডিতের কথা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শ্রী চৈতণ্যদেব যদি যদি সাক্ষাৎ বিষ্ণু অবতার হন তবে শ্রী গদাধর পন্ডিত ছিলেন রাধারানীর অবতার। তার মধ্যে রাধা তত্ত্বের প্রকাশ ঘটেছিলো। আজ ভক্তের ভগবানের এই পর্বে শ্রী গদাধর পন্ডিতের ভক্তি নিয়ে লিখবো।

গদাধর পন্ডিত বয়সে নিমাই পন্ডিতের চেয়ে সামান্য ছোটো ছিলেন। শৈশব থেকেই তাদের মধ্যে সখ্যাতা গড়ে ওঠে। নিমাই জননী শচীমাতা গদাধরকে তার আরেক পুত্র রূপেই দেখতেন।
একবার কৃষ্ণ প্রেমে উন্মাদ প্রায় গৌরাঙ্গ যখন নিজের বুক চিরে কৃষ্ণ দর্শন করানোর উপক্রম করেন তখন গদাধর পন্ডিত বহু চেষ্টায় তাকে থামান এবং এই জন্যে শচি মাতা তাকে অত্যাধিক স্নেহ করতেন।

সন্ন্যাস নেয়ার পর নিয়মিত গদাধর পন্ডিত চৈতণ্যদেবকে ভাগবত পাঠ করে শোনাতেন।
চৈতণ্য দেব তার সান্নিধ্যে এলেই কৃষ্ণ বিরহ অনুভব করতেন এবং ভাব তন্ময় হয়ে যেতেন।
শ্রী রাধিকার সমস্ত গুন ফুটে উঠতো গদাধর পন্ডিতের মধ্যে।

একবার পুরীতে থাকা কালীন শ্রীমদ্ভাগবত শোনার পর মহাপ্রভু গদাধর পণ্ডিতাকে বললেন, “গদাধর, আমি তোমাকে আমার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পত্তি দিতে চাই। তুমি কি তা গ্রহণ করবে?” গদাধর পণ্ডিত রাজি হলে মহাপ্রভু বললেন, “এটা আমার হৃদয়ের সম্পত্তি।” এরপর তিনি বালি সরাতে শুরু করলেন এবং সেখান থেকে বেরিয়ে এলো এক সুন্দর কৃষ্ণ মূর্তি মহাপ্রভু তখন শ্রী গদাধর পণ্ডিতকে অনুরোধ করলেন, “দয়া করে তাঁকে নিয়ে যাও এবং মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত করে নিত্য পুজোর ব্যাবস্থা করো।

বাগান বা টোটার মধ্যে থেকে এই গোপীনাথ মূর্তি প্রকট হয়েছিলো তাই নাম হয় টোটা গোপীনাথ। তারপর থেকে নিজের দেহ মন সর্বস্ব গদাধর পন্ডিত সমর্পন করেন টোটা গোপীনাথকে। মহাপ্রভু যতদিন জীবিত ছিলেন তিনি নিয়মিত গদাধর পন্ডিতের গৃহে টোটা গোপীনাথ দর্শনে যেতেন।
মহাপ্রভুর অন্তর্ধানের পর বিমর্শ গদাধর পন্ডিত আর বেশি দিন দেহ ধারণ করেননি।ভগবানের বিরহ ভক্তের কাছে অসহানীয়।আজও টোটা গোপীনাথ মন্দির গদাধর পন্ডিত এবং মহাপ্রভুর স্মৃতি ধরে রেখেছে যা সব বৈষ্ণবের কাছে একটি অত্যন্ত পবিত্র এবং দর্শনীয় স্থান।

ফিরে আসবো ভক্তের ভগবানের পরবর্তী
পর্ব নিয়ে। থাকবে আরো এক ভক্ত এবং একটি
বিশেষ লীলা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণ ভক্ত মাধবেন্দ্র পুরী

ভক্তের ভগবান – কৃষ্ণ ভক্ত মাধবেন্দ্র পুরী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

মাধবেন্দ্র পুরী ছিলেন আধ্যাত্মিক গুরু চৈতন্য মহাপ্রভুর আধ্যাত্মিক গুরু। শ্রীল মাধবেন্দ্র পুরী কতৃক প্রতিষ্ঠিত গোপাল আজ শ্রীনাথজি হিসাবে পূজিত হন।আজকের পর্বে এই মহান

ভক্তকে নিয়ে লিখবো।

 

শ্ৰীহট্টর ধর্মনিষ্ঠ ব্ৰাহ্মণ পরিবারে তাঁর জন্ম। ব্যাকরণ, কাব্য ও ধর্মশাস্ত্রে পারদর্শী মাধবেন্দ্ৰ চতুষ্পাঠী স্থাপন করে অধ্যাপনা শুরু করেন।পরবর্তীতে সংসার ত্যাগ করে পুরী সম্প্রদায়ের এক সন্ন্যাসীর কাছে দীক্ষা নিয়ে আধ্যাত্মিক জীবন শুরু করেন।

 

মাধবেন্দ্র পুরীর কৃষ্ণ প্রেম ছিল খুবই অস্বাভাবিক। আকাশে কালো বৃষ্টির মেঘ দেখলেই তিনি তাঁর মধ্যে তাঁর আরাধ্য কৃষ্ণকে খুঁজে পেতেন এবং অজ্ঞান হয়ে পড়ে যেতেন । দিনরাত্রি তিনি কৃষ্ণপ্রেমে ডুবে থাকতেন কখনও হাসতেন, কখনও কাঁদতেন, কখনও উচ্ছৃঙ্খল হৈ চৈ করতেন।

 

মাধবেন্দ্র পুরীকে প্রথম দেখে নিত্যানন্দ প্রভু চিৎকার করে বললেন, “আজ আমি আমার সমস্ত পবিত্র স্থানে ভ্রমণের ফল পেয়েছি। মাধবেন্দ্র পুরীর চরণ দেখে আমি ভগবানের প্রেমের ভান্ডার পেয়েছি, এবং এইভাবে আমার জীবন ধন্য হয়ে উঠেছে।”

 

একবার বৃন্দাবনে অবস্থান কালে অভুক্ত মাধবেন্দ্র পুরী জেদ ধরলেন তিনি নিজে চেয়ে বা মাধুকরী করে আহার করবেন না।কৃষ্ণ স্বয়ং চাইলে তার খিদে মেটাবেন। ভগবান তার ভক্তের কষ্ট সইতে পারলেন না। এক গোপ বালক রূপে তিনি ক্ষীর নিয়ে এলেন এবং বললেন এটা তার জন্যে

এক ভক্ত পাঠিয়েছেন এবং তিনি যেনো খেয়ে নিয়ে পাত্রটি রেখে দেন। তিনি এসে নিয়ে যাবেন। মাধবেন্দ্র পুরী আহার সম্পন্ন করলেন।কিন্তু পাত্র নিতে কেউ এলেন না। ঘুমের মধ্যে তিনি দেখলেন তার আরাধ্য গোপীনাথ তাকে দর্শন দিয়েছেন। তিনি ভগবানের দর্শন পেয়ে ধন্য অনুভব করলেন। বুঝলেন সেই গোপ বালক গোপাল স্বয়ং।

 

মাধবেন্দ্র পুরী সম্পর্কে কবিরাজ গোস্বামী লিখেছেন— ‘পৃথিবীতে রোপণ করি গেলা প্রেমাঙ্কুর/সেই প্ৰেমাঙ্কুরের বৃক্ষ চৈতন্য ঠাকুর’

 

আবার এক ভক্তের কথা নিয়ে যথা সময়ে

ফিরে আসবো থাকবে আরো একটি

অলৌকিক লীলা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে বিশেষ পর্ব : মহা কুম্ভর আধ্যাত্মিক তাৎপর্

মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে বিশেষ পর্ব

মহা কুম্ভর আধ্যাত্মিক তাৎপর্

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

পবিত্র মকর সংক্রান্তি উপলক্ষে আজ থেকে শুরু হয়েছে মহাকুম্ভ মেলা। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে গঙ্গা, যমুনা ও পৌরাণিক সরস্বতীর সঙ্গমে অনুষ্ঠিত হয়। এই মেলা বিশ্বের সর্ব বৃহৎ ধর্মীয় মিলন উৎসব।মকর সংক্রান্তর এই পুন্য তিথিতে আজ কুম্ভ মেলার আধ্যাত্মিক এবং ধর্মীয় তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করবো।

প্রতি ৪ বছরে হয় কুম্ভ, ৬ বছরে হয় অর্ধকুম্ভ ও ১২ বছরে হয় পূর্ণ কুম্ভ। আর ১৪৪ বছর পর আসে মহাকুম্ভ।এবারের মহাকুম্ভকে বিশেষ বিবেচনা করা হচ্ছে কারণ ১৪৪ বছর পরে একটি বিরল গ্রহগত সংযোগ এই বছর সৃষ্টি হতে চলেছে।পৌরাণিক কালে সমুদ্র মন্থনের সময়ে যে রূপ গ্রহের অবস্থান ছিলো এবছর সেই রকম গ্রহের অবস্থান থাকবে।

পুরান অনুসারে একবার ঋষি দূর্বাসার অভিশাপে ইন্দ্র ও অন্যান্য দেবতারা তাদের ক্ষমতা হারান এবং স্বর্গ হয়ে যায় শ্রী হীন । সুযোগ বুঝে অসুররা দেবতাদের আক্রমণ করে এবং এই যুদ্ধে দেবতারা পরাজিত হন। তখন সমস্ত দেবতা একত্রে ভগবান বিষ্ণুর কাছে সাহায্যের জন্য গেলেন এবং ভগবান বিষ্ণু অসুরদের সঙ্গে তাদের সমুদ্র মন্থন করে সেখান থেকে অমৃত আহরণের পরামর্শ দেন।

দেবতা এবং অসুররা সমুদ্র মন্থন করলে অমৃতের পাত্র বের হলে অসুররা তা অধিকার করে নিতে চাইলেন। অসুরদের হাতে অমৃত অমৃত গেলে তারা অমর এবং অজেয় হয়ে যাবে। সৃষ্টি ধ্বংস হতে পারে তাই ভগবান ইন্দ্রের পুত্র জয়ন্ত তা নিয়ে আকাশে উড়ে যান । অসুররাও অমৃত পাত্র নিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এরপর অমৃত কলসের জন্য বারো দিন ধরে দেবতা ও অসুরদের মধ্যে যুদ্ধ হয়। সেই সময়ে অমৃত কলশের কিছু ফোঁটা প্রয়াগরাজ এবং পার্শবর্তী কিছু অঞ্চলে পড়েছিল তাই এই পবিত্র স্থানে মহাকুম্ভ মেলার আয়োজন করা হয়।

মহাকুম্ভে স্নানের কিছু শাস্ত্রীয় রীতি নীতি আছে প্রথমে শাহী স্নানে অংশ নেন ন নাগা সাধুরা। নাগা সাধুদের স্নানের প্রথা বহু শতাব্দী ধরে চলে আসছে।তারপর স্নান করেন অন্যান্য সাধু সন্ন্যাসীরা এবং গৃহস্তরা।সাধারণত স্নান করার সময়, ৫ টি ডুব দিন, তবেই স্নান সম্পূর্ণরূপে বিবেচিত হবে। স্নানের পর সূর্য্য প্রণাম করে বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করা হয়। স্নান শেষে দান
ধ্যান করতে হয় এবং বজরংবলী এবং বাসুকি কে প্রণাম করতে হয়।

এই বিশেষ তিথিতে মহাকুম্ভে স্নান করলে সর্ব প্রকার কষ্ট দূর হয় এবং পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং জীবাত্মা মোক্ষ লাভ করতে সক্ষম হয়।

সবাইকে জানাই মকর সংক্রান্তির শুভেচ্ছা এবং
অভিনন্দন। ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক আলোচনা নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

স্বামীজীর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ পর্ব স্বামী বিবেকানন্দর অলৌকিক ক্ষমতা

স্বামীজীর জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ পর্ব

স্বামী বিবেকানন্দর অলৌকিক ক্ষমতা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

ঠাকুর শ্রী রামকৃষ্ণ তার প্রিয় শিষ্য নরেনকে নিজের সর্বস্ব দিয়ে নিঃস্ব হয়ে ছিলেন এবং স্বামী বিবেকানন্দ হয়ে উঠেছিলেন সর্বজ্ঞানী এবং অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী আজ জন্মদিনে
তার জীবনের কিছু অদ্ভুত ও অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে তাকে স্মরণ করবো।

এক দিনে কী ভাবে গোটা বই পড়া এবং মনে রাখা সম্ভব সম্ভব তা জানা সত্যি কঠিন কাজ, অলৌকিক শক্তি ছাড়া বোধ হয় সম্ভব নয়, আর এই অলৌকিক ক্ষমতা ছিলো বিবেকানন্দর
মেরঠে থাকাকালীন স্বামীজি লাইব্রেরি থেকে বই আনাতেন। স্বামী অভেদানন্দ বইগুলি নিয়ে আসতেন। আবার পরের দিনই বইগুলি পড়ে তা ফেরত দিয়ে দিতেন স্বামীজি। এক দিন লাইব্রেরিয়ানের মনে সন্দেহ হয়। একদিন স্বামীজি লাইব্রেরিতে আসতেই, সেই বই থেকে জিজ্ঞাসা করলেন। স্বামীজি শুধু উত্তর দিলেন না, কোন পাতায় কী লেখা রয়েছে প্রায় সবই বলে দিলেন। যা দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন ওই লাইব্রেরিয়ান।
এমনই ছিলো স্বামীজীর অদ্ভুত স্মৃতি শক্তি

স্বামীজীর মধ্যে এক ধরণের প্রশান্তি ছিলো যারা তার সংস্পর্শে আসতেন তারা এক আধ্যাত্মিক শান্তি অনুভব করতেন। একবার গুরুভাইদের সাথে হিমালয় ভ্রমণ কালে এক গৃহস্ত ভক্তের বাড়িতে তারা আশ্রয় নিয়ে ছিলেন। গৃহস্তের এক শিশুকে কাঁদতে দেখে স্বামীজি সারারাত তাকে কোলে নিয়ে জপ করে কাটিয়েছিলেন আশ্চর্য বিষয় সারা রাত শিশুটি আর কাঁদেনি।

একবার মঠের বারান্দায় সারা রাত স্বমীজীকে পায়চারি করতে দেখে তার এক গুরুভাই তাকে জিগেস করলেন কি হয়েছে। স্বামীজী বললেন কথাও বহু মানুষ বিপদে পড়েছে। কষ্ট পাচ্ছে।
পরদিন জানা যায় ভারত থেকে বহু দুরে সমুদ্রে একটি জাহাজ দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই রাতে এবং
বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ফরাসী গায়িকা মাদাম এমা কাল্ভের সাথে শিকাগোয় ১৮৯৪ খ্রিঃ সাক্ষাৎ হয় স্বামী বিবেকানন্দর, মাদাম কাল্ভে তখন জীবনের প্রতি সম্পুর্ন বীতশ্রদ্ধ এবং আত্মহত্যা প্রবণ হয়ে পড়েছিলেন সেটাও স্বাভাবিক কারন তিনি তখন মেজাজী, একগুঁয়ে এবং পুরোমাত্রায় ভোগী মহিলা এবং স্বাভাবিক কারণেই তাঁর জীবনে শান্তি ছিল না, ঝড় বয়ে যাচ্ছে তার অন্তরে|তাকে দেখেই স্বামীজী বলে উঠলেন,বাছা, কী ঝোড়ো হাওয়াই না তুমি নিয়ে এলে। শান্ত হও।’ তারপর অতি শান্তস্বরে মাদামের জীবনের একান্ত ব্যক্তিগত ঘটনা বলতে লাগলেন|যেন এক অলৌকিক ব্যাপার। ‘আপনি এত সব জানলেন কি করে?এই প্রশ্নের উত্তরে স্বামীজী বললেন,আমি খোলা বইয়ের মতন তোমার ভেতরটা পড়তে পারি।শুধু তাই নয় স্বামীজীর কথায় তার অন্তরের সব ঝড় থেমে গেলো শান্ত হলেন তিনি,স্বামীজীর শিষ্য হয়ে সব ছেড়ে আধ্যাত্মিক পথ আপন করে নিলেন|

জন্মদিনে শ্রদ্ধা এবং প্রনাম জানাই এই মহান সন্ন্যাসীকে|ফিরে আসবো ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক আলোচনা নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – শ্রী কৃষ্ণ এবং বারবারিক

ভক্তের ভগবান – শ্রী কৃষ্ণ এবং বারবারিক

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

রাজস্থানের সিকারে খাটুশ্যামজির বড় মন্দির রয়েছে।অসংখ্য ভক্তসমাগম হয় এই মন্দিরে।

মনে করা হয় খাটু শ্যাম এর কাছে করা প্রতিটি মনোস্কামনা পূর্ণ হয়। এই খাটু শ্যাম আসলে ঘটৎকচের পুত্র বারবারিক। শ্রী কৃষ্ণের বরে তিনি আজও পূজিত হচ্ছেন।

 

মহাদেব বারবারিককে বর দিয়েছিলেন, তিনি তাঁর ‘তিনটি তীর’ দিয়েই বিশ্বজয় করতে পারবেন। প্রথম তীরটি দিয়ে বারবারিক যা যা ধ্বংস করতে চান সেগুলি চিহ্নিত করতে পারতেন। দ্বিতীয় যে তীর তা দিয়ে বারবারিক যাকে যাকে বাঁচাতে চান তাদেরকে চিহ্নিত করতে পারতেন। আর তৃতীয় তীরটি দিয়ে প্রথম তীর দ্বারা চিহ্নিত সকল বস্তু ধ্বংস করতে পারতেন।

 

এই তিন তীর নিয়েই কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে লড়তে উদ্যোগী হন বারবারিক। তিনি চাইতেন যে পক্ষ হারবে তিনি তার হয়ে যুদ্ধ করবেন। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ অচিরেই বুঝেছিলেন, বারবারিকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ কোনও পক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। বারবারিক এর জন্য এই যুদ্ধ শেষই হবেনা। আদি অনন্ত কাল ধরে চলবে।তখন শ্রীকৃষ্ণ এক ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশে তাঁর পথ আগলে দাঁড়ান। আর জিজ্ঞেস করেন, বারবারিক কার পক্ষে লড়তে চান।বারবারিক বলেন তিনি পক্ষ বদলে বদলে মায়ের আদেশ মতো দুর্বলের পক্ষে লড়বেন।

অর্থাৎ বারবারিক যদি যুদ্ধ করেন তাহলে শেষে তিনিই শুধু বেঁচে থাকবেন। আর কেউ নয়।

 

তাই এরপর কৃষ্ণ ভিক্ষা হিসেবে বারবারিকের মস্তক চান। এবারে বারবারিক বুঝতে পারেন যে এই ব্রাহ্মণ সাধারণ কেউ নন। পরিচয় জানতে চাইলে কৃষ্ণ নিজের রূপ ধারণ করেন। আর তারপর বারবারিক তারপর কৃষ্ণকে নিজের মস্তক কেটে নিবেদন করেন।

 

তবে মস্তক নিবেদন করলেও বারবারিক শর্ত দিয়েছিলেন। তিনি কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ দেখতে চান। ফলে শ্রীকৃষ্ণ বারবারিকের মস্তক একটি উঁচু ঢিবির ওপর রাখেন। যাতে বারবারিক অনায়াসে যুদ্ধ দেখতে পান।যুদ্ধ শেষে বারবারিকের মস্তক বলে ওঠে শ্রীকৃষ্ণ পাণ্ডবদের পক্ষে ছিলেন বলেই তাঁরা জিততে পেরেছেন।

 

শ্রীকৃষ্ণ বারবারিককে বর দিয়েছিলেন যে তিনি কলিযুগে খাটুশ্যাম নামে পূজিত হবেন। পাশাপাশি তিনি এও বলেন, “তোমার পুজো আমি আমার নিজের পুজো বলেই গ্রহণ করব।” সেই থেকেই খাটু শ্যামের প্রসিদ্ধি সর্বত্র ছড়িয়ে পরে।

 

আবার ভক্ত এবং ভগবানের লীলা নিয়ে পরবর্তী পর্বে ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।