Home Blog Page 38

গুরু মাহাত্ম – শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র 

গুরু মাহাত্ম – শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র

 

পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রী জাতক

 

আগামী সপ্তাহে গুরু পূর্ণিমা। এই পবিত্র আধ্যাত্মিক উৎসব উপলক্ষে গুরু তত্ব নিয়ে বা জগৎ বিখ্যাত গুরুদের বলা এক অনন্য সাধারণ অনুভূতি যে অনুভূতি আপনাদের সাথে প্রতিবার ভাগ করে নিই। এবারের গুরু পূর্ণিমা পর্ব শুরু করবো আমার অন্যতম প্রিয় আধ্যাত্মিক গুরু ঠাকুর শ্রী অনুকূল চন্দ্রকে দিয়ে

 

জন্ম সূত্রে আমার পরিবার ওপার বাংলার অর্থাৎ অধুনা বাংলাদেশ|পারিবারিক সূত্রেও আমরা অনুকূল ঠাকুরের আশীর্বাদধন্য কারন আমার নিজের বড়োমামা ছিলেন স্বয়ং ঠাকুরের ছায়া সঙ্গী ও তার একজন একনিষ্ট ভক্ত|সেই সূত্রে ছোটো থেকেই ঠাকুরের মহিমাশুনে বড়ো হওয়া| তাঁর আধ্যাত্মিক শক্তির উপর আস্থা ও শ্রদ্ধা সেই সময় থেকেই পরবর্তীতে জীবনের এক কঠিন সময়ে অনুকূল ঠাকুরের অনুগত হয়ে দীক্ষিত হই|আশ্চর্য ভাবে দীক্ষা গ্রহনের পর থেকেই জীবনে ভালো সময় আসতে শুরু করলো|অন্ধকার কাটিয়ে আলোয় ফিরলাম, সকল দিক দিয়েই সফল হলাম জীবনে|একে ঠাকুরের মহিমা ছাড়া আর কিবা বলি|আজও ঠাকুরের প্রতিকৃতি বিরাজমান আমার গৃহ মন্দিরের সিংহাসনে|আজও প্রতিটা দিন তাঁর কাছে প্রার্থনা করে আমার দিন শুরু হয়|

 

অনুকূলচন্দ্র চক্রবর্তী ১৮৮৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পাবনা জেলার হিমায়তপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন|তাঁর পিতার নাম শিবচন্দ্র চক্রবর্তী এবং মাতার নাম ছিলো মনমোহিনী দেবী|

হিমায়তপুর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয় পরে নৈহাটী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্কুল জীবনের পড়া শেষ করে তিনি কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন|

 

অনুকূল চন্দ্রের ছিলো উত্তর ভারতের যোগীপুরুষ শ্রী শ্রী হুজুর মহারাজের শিষ্য তবে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র মায়ের কাছেই দীক্ষা গ্রহন করেন|কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষতার সঙ্গে তিনি জীবনে এগিয়ে চলেন, অনুকূলচন্দ্র ছিলেন একাধারে কবি, লেখক, ডাক্তার ও সর্বোপরি এক আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় গুরু|তিনি ছিলেন হিন্দু সমাজের একজন মহাপুরুষ, বিশ্ব মানবতাবাদী এবং পরম কৃষ্ণ ভক্ত।সারা জীবন তিনি চেষ্টা করে গেছেন কি ভাবে মানুষ ভাল থাকবে, সুস্থ থাকবে, শান্তিপূর্ণ ভাবে সবাই মিলে মিশে থাকবে|সেজন্য ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সব সময় চাইতেন, তার অনুসারিরা সব সময় কৃষ্ণ ভক্তির পথে থাকুক|তাঁর এই দর্শন ও আদর্শ সাফল্যের সাথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাঁর পরিবার ও অগণিত ভক্ত শিষ্যরা|

 

লোক শিক্ষার জন্য অনুকূলচন্দ্র ঠাকুর প্রায় ৪৬টি পুস্তক রচনা করেন|এগুলোতে ধর্মশিক্ষা, সমাজ সংস্কার প্রচলন প্রভৃতি বিষয়ে আদর্শ ও উপদেশসমূহ বর্ণিত হয়েছে|এগুলি ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্রে অত্যান্ত গুরুত্ব পুর্ন গ্রন্থ হিসেবে সর্বত্র সমাদৃত |বই গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য, সত্যানুসরণ, পুণ্যপুথি, অনুশ্রুতি, চলার সাথী, শাশ্বতী, বিবাহ বিধায়না,সমাজ সন্দীপন ইত্যাদি|

 

পাবনা শহরের কাছে হেমায়েতপুর গ্রামে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন সৎসঙ্গ আশ্রম ও মন্দির যা আজ লক্ষ লক্ষ ভক্ত শিষ্যর কাছে এক মহান তীর্থ ক্ষেত্র|1946 সালে অনুকূল ঠাকুর পাবনা থেকে দেওঘর আসেন ও দেওঘর আশ্রম তৈরি করেন|এই দেওঘরেই 1969 সালে ঠাকুর পরলোক গমন করেন|আজ এই আশ্রম ও ঠাকুরের সংগ্রহশালা দেও ঘরের মুখ্য আকর্ষণ হয়ে উঠেছে|

 

আমার পরম পূজনীয় গুরুকে প্রনাম ও শ্রদ্ধা জানিয়ে এই পর্ব শেষ করলাম|তবে চলবে আমার এই ধারাবাহিক লেখা গুরু পূর্ণিমা অবধি পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জগন্নাথদেবের উল্টো রথের শুভেচ্ছা 

জগন্নাথদেবের উল্টো রথের শুভেচ্ছা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ উল্টো রথ।বাস্তবে রথ যাত্রা ঠিক একদিনের উৎসব নয়। আসলে রথ যাত্রার সূচনা হয় দেবস্নান পূর্ণিমায় প্রভু জগন্নাথের স্নানের মধ্যে দিয়ে আর শেষ হয়উল্টো রথ যাত্রার দিনে।

 

জনশ্রুতি আছে এই দিন মন্দিরে ঢুকতে গেলেই লক্ষ্মী দেবী সটান মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেন কারণ তিন ভাইবোন মাসির বাড়ি থেকে আনন্দ করে এসেছেন অথচ তাঁকে নিয়ে যাননি। অভিমানী লক্ষ্মী দেবী এই কয়দিন একা একা শ্রীমন্দিরে ছিলেন। সেই থেকে তিন দিন এরকম ভাবেই বাইরে থাকে রথ সহ বিগ্রহ। এই তিন দিন পালিত হয় কিছু অনুষ্ঠান তারপর মহালক্ষীর মান ভঞ্জন হলে পুনরায় মন্দিরের রত্ন বেদিতে স্থান পান জগন্নাথ শুভদ্রা এবং বলরাম।

 

একাধিক শাস্ত্রীয় উপাচার আছে এই উল্টো রথ নিয়ে।সাধারণত উল্টো রথে যখন জগন্নাথ ফিরে আসেন এই যাত্রাকে বহুদা যাত্রা বলা হয়। এরপর আছে অধরপানা এবং নীলাদ্রি বিজয়। অধরপানায় জগন্নাথকে বিশেষ পানীয় পান করানো হয়। সেটাকে ঘিরেও উৎসব হয় । এর পরদিন নীলাদ্রি বিজয় উৎসব হয়। এক হিসেবে এই দিনেই রথযাত্রা শেষ হয়।

 

উল্টো রথ উপলক্ষে প্রভু জগন্নাথ

সহ সুভদ্রা-বলরাম ও সেজে ওঠেন নানা সোনার

গয়নার সাজে।এই বেশ কে সোনা বেশ বলা হয়।

মন্দিরে ফিরলে জগন্নাথদেবের উদ্দেশ্যে

নিবেদন করা হয় কয়েকশ হাড়ি রসগোল্লা নানা রকম মিষ্টান্ন সর্বশেষে নীলাদ্রিবিজয় উৎসবের

মাধ্যমে শেষ হয় এই সমস্ত রীতি -রেওয়াজ এবং তার পর জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলরাম কে মন্দিরের

মূল রত্নবেদি-তে তোলা হয়।

 

আপনাদের সবাইকে উল্টোরথ যাত্রার অনেক শুভেচ্ছা। ফিরে আসবো আগামী পর্বে ধারাবাহিক শাস্ত্রীয় ওব পৌরাণিক নানা বিষয় নিয়ে

আলোচনা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

প্রভু জগন্নাথের নব কলেবর

প্রভু জগন্নাথের নব কলেবর

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রভু জগন্নাথ সংক্রান্ত রহস্যগুলির মধ্যে অন্যতম তাঁর নব কলেবর। আজ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবো।

 

শ্রী কৃষ্ণের অন্তেষ্টি ক্রিয়া সাঙ্গ করেন পাণ্ডবরা। কিন্তু চিতা নিভে গেলেও দেখা যায় তাঁর হৃদপিণ্ডটি অক্ষত আছে । তখন সেটিকে নদীর জলে ভাসিয়ে দ্বারকার সব মহিলা ও শিশুদের নিয়ে হস্তিনাপুর ফিরে যান পাণ্ডবরা। সমুদ্রের জল এসে ভাসিয়ে নিয়ে দ্বারকাকে। সমুদ্রের নিচে ডুবে যায় দ্বারকা।কিন্তু কৃষ্ণের হৃদপিণ্ড সাগরের জলে জীবিত অবস্থায় নিমজ্জিত হয়|

 

এরপর কেটে যায় বহু কাল, একদিন নদীর জলে স্নান করতে করতে কৃষ্ণের দিব্য হৃদয় উদ্ধার করেন পুরীর মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন। সেই হৃদয় হাতে নিতেই স্বয়ং বিষ্ণু তাঁর কানে ফিসফিস করে বসেন যে এই হৃদয় তাঁরই। এই পৃথিবীতে এটি বরাবর থাকবে। দ্রুত জগন্নাথ মন্দিরে এসে জগন্নাথ দেবের মুর্তির মধ্যেই তা স্থাপন করেন ইন্দ্রদ্যুম্ন।বিষ্ণুর আদেশে এমন ভাবে তা করা হয়, যাতে তা কেউ দেখতে না পায়|মনে করা হয় আজও সেই দিব্য বস্তু, স্বজত্নে এবং গোপনে সংরক্ষিত আছে প্রভু জগন্নাথের মূর্তির মধ্যে যাকে বলা হয় ব্রহ্ম পদার্থ।

 

‘নব-কলেবর’ নামের রহস্যময় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়মিত নিদ্দিষ্ট সময়ের ব্যাবধানে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হয় আর পুরোনো মূর্তির ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হবে – এটাই পূজারীদের বিশ্বাস।

এ জন্য ইতিমধ্যেই জগন্নাথ, সুভদ্রা আর বলভদ্রের নতুন কাঠের মূর্তি তৈরী হয়েছে।জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে – যাতে পুরোনো মূর্তি থেকে ‘আত্মা’ নতুন মূর্তিতে গিয়ে ঢুকছে – এটা তাঁরাও দেখতে না পান।

 

যদিও বিষয়টি বিতর্কিত এবং নানা রকম বিরুদ্ধ মতবাদ আছে। তবুও জনশ্রুতি বা লোককথা রূপে এই তত্ত্ব বেশ জনপ্রিয় এবং বহুল প্রচারিত।

 

প্রভু জগন্নাথ সংক্রান্ত আরো এমন অনেক তথ্য নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বগুলিতে।

পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

রথযাত্রা এবং উল্টো রথের শাস্ত্রীয় মাহাত্ম

রথযাত্রা এবং উল্টো রথের শাস্ত্রীয় মাহাত্ম

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে প্রতিবছর রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। ৯ দিন পর উল্টো রথ।রথযাত্রার দিন বলরাম এবং সুভদ্রাকে নিয়ে রথে চড়ে অর্থাৎ মাসির বাড়ি যান জগতের নাথ জগন্নাথ মাসির বাড়ি মানে সমুদ্রোপকূলবর্তী জগন্নাথ মন্দির থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে|

 

যাত্রার এক সপ্তাহ পরে তিনি ফেরেন নিজ স্থানে।জগন্নাথ দেবের সপরিবারের রথে চড়ে এই ফিরে আসাই উল্টোরথ নামে খ্যাত

এই মুহূর্তে জগন্নাথদেব বিরাজ করছেন গুন্ডিচা মন্দিরে। আর কয়েকদিন পরেই উল্টো রথের মাধ্যমে তার রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটবে।

 

শাস্ত্রে রথ যাত্রা সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে, “রথস্থ বাম নং দৃষ্টাপুনর্জন্ম ন বিদ্যতে”৷ অর্থাৎ রথের উপর অধিষ্ঠিত বামন জগন্নাথকে দর্শন করলে তাঁর পুনর্জন্ম হয় না৷ তাই রথের দড়ি টানাকেও পুণ্যের কাজ হিসাবে গণ্য করেন ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা|।

 

শুধু তাই নয় শাস্ত্র মতে যেকোনো শুভ কাজে যেমন গৃহ প্রবেশ, ব্যাবসার শুরু সবই করা যায় এই শুভ সময়ে।জগন্নাথ দেব স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ। তিনিই জগতের নাথ। শাস্ত্র মতে তিনি বামন অবতার রূপে পুরীতে বিরাজমান।এই সমগ্র সময় জুড়ে জগন্নাথ মাহাত্ম শ্রবণ করা এবং প্রভু জগন্নাথ

দেবের আরাধনা করা শাস্ত্র মতে মহা পুন্যর কাজ।

 

ফিরে আসবো জগন্নাথেদেব সংক্রান্ত আরো তথ্য এবং পৌরাণিক আলোচনা নিয়ে। দেখতে থাকুন।

মাহেশের রথ যাত্রার ইতিহাস

মাহেশের রথ যাত্রার ইতিহাস

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরীর মতো অত প্রাচীন না হলেও বাংলার রথ যাত্রার রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস এবং সেই ইতিহাসের অনেকটাই জুড়ে রয়েছে মাহেশের

বিখ্যাত রথ যাত্রা। আজ এই রথ যাত্রা

নিয়ে লিখবো।

 

ইতিহাস বলছে পাঁচশো বছর আগে সন্ন্যাসী ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী পুরীতে গিয়েছিলেন নিজের হাতে জগন্নাথ দেবকে ভোগ রেঁধে খাওয়াবেন বলে। কিন্তু সেখানকার সেবকরা তাতে রাজি না হওয়ায় রাগে, শোকে সন্ন্যাসী স্নান-খাওয়া ত্যাগ করেন। তখন একদিন স্বপ্নে তাঁর দেবদর্শন হয়। জগন্নাথ দেব তাঁকে নির্দেশ দেন মাহেশে যেতে। সেখানে গিয়ে এক বৃ্ষ্টিভেজা রাতে ধ্রুবানন্দ ব্রহ্মচারী গঙ্গায় ভাসমান তিনটি নিমগাছের কাঠ পান। এই কাঠ দিয়ে তিনি তৈরি করেন জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার মূর্তি। এই মূর্তি আজও পুরীর মন্দিরের মতোই মাহেশে পূজিত হয়। এবং ১২ বছর অন্তর মূর্তিগুলির অঙ্গ মার্জনা করা হয়।

 

তবে পুরীতে যেখানে তিনটি রথ সাজিয়ে শোভাযাত্রা করে বের করা হয় মাহেশে হয় একটি। প্রথমে এই রথ তৈরি হয়েছিল কাঠের। পরে পুরনো হয়ে সেই রথ ভেঙে গেলে ১২৯২ সনে নতুন রথ বানিয়ে দেন শ্যামবাজারের দেওয়ান কৃষ্ণরাম বসু। এই রথ সম্পূর্ণ লোহার তৈরি। রথটি তৈরি করে দেয় তৎকালীন  মার্টিনবার্ন কোম্পানি। ৫০ ফুট উঁচু এই রথের ৯টি চুড়ো, ১২টি চাকা। ওজন ১২৫ টন। রথের সামনে তামার দু-টি ঘোড়া আর কাঠের দু-টি রাজহাঁস আছে।

 

এই রথ তৈরি করতে তখনকার দিনে খরচ হয়েছিল কুড়ি হাজার টাকা। এই রথে চড়েই জগন্নাথ দেব তাঁর ভাই-বোনদের নিয়ে মাসির বাড়ি যান। একসপ্তাহ পরে উল্টোরথের দিনে তিন দেব-দেবী রথ ফিরে আসে নিজের জায়গায়।আবার শুরু হয় আগামী বছরের প্রতীক্ষা|

 

মাহেশের এই রথ পরিচিত নীলাচল নামে। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু একাধিকবার এই রথ যাত্রায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি মাহেশের নাম দেন নব নীলাচল। সেই অনুযায়ী মাহেশের রথ পরিচিত নীলাচল রথ নামে। ঐতিহাসিক এই রথ যাত্রায় রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবও যোগদান করেছিলেন।

 

আবার পরের পর্বে রথ যাত্রার অন্য এক ইতিহাস এবং অনেক তথ্য নিয়ে ফিরে আসবো। পড়তে

থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পুরীর রথ যাত্রার প্রাচীন ইতিহাস

পুরীর রথ যাত্রার প্রাচীন ইতিহাস

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

পুরীর রথের রয়েছে এক প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ ইতিহাস। বিভিন্ন প্রাচীন পুঁথি এবং গ্রন্থ থেকে পাওয়া সেই ইতিহাস আজ আপনাদের সামনের তুলে ধরবো।

ভগবান বাসুদেবের রথ গরুড় ধ্বজ সুভদ্রার রথ পদ্মধ্বজ বলরামের রথ তালধ্বজ নামে পরিচিত।

কখন পুরীর রথযাত্রা শুরু হয়েছিল তা বলা কঠিন। গবেষকমন্ডলী এবং ইতিহাসবিদগণের রথযাত্রার উৎপত্তি সম্পর্কে বিভিন্ন শাস্ত্র থেকে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পেয়েছি।

‘মাদলা পঞ্জি’ নামে ষোড়শ শতাব্দীতে প্রণীত এক পঞ্জিকায় উল্লেখ আছে, একদা জগন্নাথ মন্দির এবং গুন্ডিচা মন্দিরের মধ্যে মালিনী নামে একটি নদী ছিল যা বড় নাই অথবা বড় নদী নামেও খ্যাত।

সে সময়ের রাজা ৬টি রথ নির্মাণ করেন। সুদর্শন চক্রসহ জগন্নাথ এবং বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহের জন্য তিনটি রথ নদী পর্যন্ত আনতে ব্যবহৃত হতো। তারপর বিগ্রহগণ নদীর অপর প্রান্তে আনা হলে, সেই স্থান থেকে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রাকে গুন্ডিচা মন্দিরে আনতে তিনটি অতিরিক্ত রথ নিযুক্ত করা হতো। রাজা বীর নরসিংহের শাসনামলে নদীটি মাটি দ্বারা পূর্ণ বরা হয় এবং তারপর থেকে গুন্ডিচা মন্দির পর্যন্ত যাওয়ার জন্য শুধু তিনটি রথ প্রয়োজন হয়, আধুনিক হিসাব অনুসারে সেটি প্রায় ২.৮ কিলোমিটার।

মাদলা পঞ্জি অনুসারে গুন্ডিচা মন্দিরটি পূর্বে নরসিংহ এটি পাথর দিয়ে পুননির্মাণ করেন। কিন্তু যখন পুরীর রথযাত্রা শুরু হয়, এর কোনো সঠিক তথ্য নেই। তবে, ক্রয়োদশ শতাব্দীতে যে রথযাত্রা উদযাপিত হতো তার ঐতিহাসিক প্রামাণ রয়েছে।

‘রথ চকড়’ নামে একটি গ্রন্থ প্রাচীন মন্দিরে পাওয়া যায়। এটি প্রতিপন্ন করে যে, রাজা যযাতি কেশরী ৮ম শতাব্দীতে রথযাত্রা উদযাপন করেন।

স্কন্দপুরাণ অনুসারে, মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্নের শাসনামলে রথযাত্রা উদযাপিত হয়, যখন তিনি জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা বিগ্রহ স্থাপন করেন।

এখানে এক জায়গায় নারদমুনি বললেন, “প্রিয় রাজা, ভগবানের ভ্রমণের জন্য সুন্দরভাবে সজ্জিত তিনটি রথ প্রস্তুত করতে হবে। এই রথ গুলো রত্ন, অলঙ্কার, পাটের শাড়ি, মালা এবং বিভিন্ন মূল্যবান রত্নদ্বারা আবৃত করতে হবে। স্কন্দ পুরাণে আরো বর্ণিত আছে যে, স্বর্গের স্থপতি বিশ্বকর্মা নারদ মুনি কর্তৃক নির্দেশিত হয়ে একই দিনে তিনটি রথ নির্মাণ করেন। তখন নারদ মুনি বৈদিক রীতি অনুসারে রথসমূহ স্থাপন করেন। এই বর্ণনা হতে আমরা জানতে পারি, রথযাত্রা সুপ্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত|

পুরীর রথ সংক্রান্ত আরো অনেক তথ্য আপনাদের জন্য নিয়ে আসবো আপনাদের জন্য আগামী পর্ব গুলিতে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জগন্নাথ ব্রতর মাহাত্ম

চলছে রথ যাত্রা। চলছে বললাম কারন রথযাত্রা সমাপ্ত হয় উল্টো রথের মধ্যে দিয়ে। সোজা রথ থেকে উল্টো রথ পর্যন্ত নানা উপাচার এবং আধ্যাত্মিক কর্ম কান্ড অনুষ্ঠিত হয় পুরী ধামে। শুধু পুরী নয় যেখানেই প্রভু জগন্নাথ বিরাজমান সেখানেই এই দিন গুলিতে নানা রকম ব্রত বা
শাস্ত্রীয় উপাচার পালন হয়। এমনই এক ব্রত জগন্নাথ ব্রত।

রথযাত্রার দিনে জগন্নাথ ব্রত শুরু হয়।এতে সুখ সমৃদ্ধি আসে।বাড়িতে নারায়ণ থাকলে তার সামনেও এই ব্রত পালন করতে পারেন। একটি পেতলের বাটিতে একটু আতপ চাল, দুটো কাঁচা হলুদ এবং এক টাকার একটি কয়েন দিন। এরপর এই বাটিটি জগন্নাথ দেবের সামনে রেখে দিন। উল্টো রথের শেষ লগ্নে এই বাটিটি তুলে নিন এবং বাটিতে থাকা সমস্ত ভূজ্যি কোনও মন্দির বা ভিক্ষুককে দান করে। প্রভু জগন্নাথকে প্রনাম করে নিজের মনোস্কামনা জানান।

জগন্নাথ ব্রত পালন কালে জগন্নাথ দেবকে তুলসী অর্পণ করতে পারেন।তুলসি জগন্নাথদেবের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস। একশো আট টি তুলসী পাতা দিয়ে মালা গড়ুন। তুলসি পাতার ডগাগুলিকে বেঁধে বেঁধে এই মালা তৈরি করতে হবে। রথের দিন মালা জগন্নাথদেবের গলায় পরিয়ে দিতে হবে।
এবং উল্টো রথে তা বিসর্জন দিতে হবে।
এতে জগন্নাথদেবের বিশেষ কৃপা পাবেন।

আবার রথ যাত্রা এবং জগন্নাথ দেব সংক্রান্ত শাস্ত্রীয় আলোচনা নিয়ে ফিরে আসবো।
আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিপদ তারিণী পুজোর শাস্ত্রীয় তাৎপর্য 

বিপদ তারিণী পুজোর শাস্ত্রীয় তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

যিনি দুর্গা তিনিই বিপদতারিনী।আষাঢ় মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে বিপদতারিনী পুজো হয়। তিথি অনুসারে আজ বিপদতারিণী পুজো।

 

শাস্ত্র মতে বিপত্তারিণীর ব্রত পালনের অর্থ দেবী দুর্গার আরাধনা করা। দেবী দুর্গা হিন্দুধর্মের দেবী। দেবাদীদেব মহাদেবের অর্ধাঙ্গিনী আদি শক্তি। অন্যান্য দেবী তাঁরই অবতার বা ভিন্ন রূপ। সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা কখনও অসুরনাশিনী, আবার কখনও বা মাতৃ রূপিণী। মা বিপত্তারিণী দেবী দুর্গার ১০৮ অবতারের একটি রূপ।

 

বিপত্তারিণী ব্রত পালনের মাধ্যমে দেবী বিপদতারিণীর আরাধনা করা হয়।পুজোর আগের দিন নিরামিষ আহার করতে হয়।

১৩ রকম ফুল, ১৩ রকম ফল, ১৩টি পান, ১৩টি সুপারি এবং ১৩ গাছা লাল সুতোতে ১৩ গাছা দূর্বা সহযোগে ১৩টি গিঁট বেঁধে ডুরি তৈরি করতে হয়। আম্রপল্লব-সহ ঘট স্থাপন করে ব্রাহ্মণ দ্বারা নাম গোত্র সহযোগে পূজা দিতে হয়। পূজার পরে বিপত্তারিণী দেবীর ব্রতকথা শোনা পুজারই অঙ্গ।

পুজোর পর বিপদ তারিণীর নামাঙ্কিত লাল সুতোর ডুরি পুরুষদের ডান এবং মহিলাদের বাম হাতে ধারণ করাই নিয়ম।

 

বিপত্তারিণী ব্রত সাধারাণত মহিলাদের ব্রত। এই ব্রত কমপক্ষে ৩ বছর পালন করা নিয়ম।বিপত্তারিণী ব্রত পালনে মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। সাংসারিক বিপদ থেকে রক্ষা করে জীবনে সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি দান করেন মা বিপত্তারিণী।

 

গ্রামাঞ্চলে বিপদতারিনী পুজো চারদিন ধরে চলে। প্রথম দিনে দেবীর “আরাধনা” করা হয়। তারপর দুই রাত্রি ধরে রাতে বাংলা লোকগান, ভজন ও কীর্তন চলে। চতুর্থ দিনে বিসর্জন হয়।পুজোর পর বিপদ তারিণীর নামাঙ্কিত লাল সুতোর ডুরি পুরুষদের ডান এবং মহিলাদের বাম হাতে ধারণ করাই নিয়ম।

 

এই পুজোর নিয়ম অনুসারে মা বিপদতারিনী পুজো করা ভক্তরা সুখ ও শান্তি লাভ করে। শাস্ত্রে যেমন মা লক্ষ্মী মাকে ধন সম্পদের দেবী হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তেমনি এটা বিশ্বাস করা হয় যে মা বিপদতারিনী উপাসনা করলে তিনি সকলের উপর আশির্বাদ বজায় রাখেন। একই সঙ্গে সমস্ত ঝামেলা, অর্থ সঙ্কট থেকে মুক্তি দেন। ঘরে সুখ এবং সমৃদ্ধি লাভ হয়।

 

সবাইকে মা বিপদ তারিণী পুজোর শুভেচ্ছা।

শাস্ত্র মতে বিপদ তারিণী ব্রত পালন করুন।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে অন্য শাস্ত্রীয়

বিষয় নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

রথযাত্রার শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

রথযাত্রার শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ পবিত্র রথযাত্রা মনে করা হয় দীর্ঘ বিরতির পর শ্রী কৃষ্ণর বৃন্দাবন যাত্রাকেই উদযাপন করা হয় রথ যাত্রা পালনের মাধ্যমে|

 

পুরীতে আজ জগন্নাথ দেব তার রাজকীয় রথে করে পথে নামেন তার অগণিত ভক্তদের দর্শন দিতে।এই রথ যাত্রার এক সুদীর্ঘ ইতিহাস আছে।প্রথমে রাজ পরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় ও পরবর্তীতে সরকার জনসাধারণএর উদ্যোগে প্রতি বছর পুরীতে ওই বিশেষ তিথী তে বিরাট আকারে পালিত হয় রথ যাত্রা|

 

এই পরম্পরা চলে আসছে যুগ যুগ ধরে|

বোন সুভদ্রা ও দাদা বলরাম বা বলভদ্রকে নিয়ে রথে চড়ে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের পত্নী গুন্ডিচারবাড়ি যান জগন্নাথদেব। সেখান থেকে সাতদিন পরে আবার নিজের মন্দিরে ফিরে আসেন।

 

রথের দিন তিনটি রথ পর পর যাত্রা করে মাসির বাড়ি। প্রথমে যায় বলরামের রথ, তারপর সুভদ্রা এবং সবশেষে জগন্নাথের রথ। রথে চড়ে এই গমন ও প্রত্যাগমনকে সোজা রথ এবং উল্টোরথ বলে|তিনটি রথের প্রত্যেকের নিজস্ব বৈশিষ্ট আছে|জগন্নাথের রথের নাম নন্দী ঘোষ, বলরামের রথের নাম তালধ্বজ ও সুভদ্রার রথের নাম দর্পদলন।আজও পুরীর বর্তমান রাজা সোনার ঝাড়ু ব্যবহার করে রথের যাত্রার আগে তার পথ পরিষ্কার করে থাকেন|

 

শ্রীচৈতন্যদেবের নীলাচল অর্থাৎ পুরী যাওয়ার পর থেকে বাংলায় রথ যাত্রার জনপ্রিয়তা বাড়ে।চৈতন্যভক্ত বৈষ্ণবরা বাংলায় পুরীর অনুকরণে রথযাত্রার শুরু করেন এবং দেখতে দেখতে বহু রাজপরিবার ও এই মহা সমারোহে এই উৎসব পালন করতে শুরু করে|আরো কিছু কাল পরে ইসকন ও শ্রীল প্রভুপাদের হাত ধরে রথ যাত্রা দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে বিদেশের মাটিতে পা রাখে ও ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে সারা বিশ্ব জুড়ে|

এবছর থেকে দিঘার নব নির্মিত জগন্নাথ ধামের রথ যাত্রা পালনের মাধ্যমে বাংলার রথ

যাত্রা উৎসব নিঃসন্দেহে অন্য মাত্রা পেলো।

 

পবিত্র রথ যাত্রা যেকোনো শুভ শাস্ত্রীয় বা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের সূচনার পবিত্র দিন হিসেবে গণ্য করা হয়| বাঙালির অন্যতম শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গাপূজোর সূচনাও হয় এই রথ কিংবা উল্টোরথের দিন|

 

আজ আপনাদের সবাইকে জানাই পবিত্র

এই রথ যাত্রার অসংখ্য শুভেচ্ছা এবং

অভিনন্দন। জয় জগন্নাথ।রথ যাত্রা সংক্রান্ত আরো অনেক তথ্য এবং আলোচনা নিয়ে আবার ফিরে আসবো আগামী সময়ে ধারাবাহিক ভাবে।

পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

অম্বুবাচির প্রকৃত অর্থ

অম্বুবাচির প্রকৃত অর্থ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

অম্বুবাচি নিয়ে বিগত সপ্তাহে বিভিন্ন আঙ্গিকে আলোচনা করেছি জানিয়েছি তার শাস্ত্রীয় এবং আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা এবং বিধিনিষেধ।

বলেছি অম্বুবাচী মেলার কথা।আজ অম্বুবাচী পরবর্তী এই পবিত্র সময়ে জানাবো অম্বুবাচির প্রকৃত বা অন্তর নিহিত অর্থ।

 

অম্বুবাচীর সময়ে কৃষকরা কৃষি কাজ থেকে বিরত থাকেন ও ধরিত্রী কে বিশ্রাম দেন|আবার অম্বুবাচী

উপলক্ষে উড়িষ্যায় ভূদেবীর বিশেষ পূজা মেলা ও উৎসবের আয়োজন করা হয় ও ব্যাপক জন সমাগম হয়|ভূদেবী কে উড়িষ্যায় স্বয়ং জগন্নাথ দেবের স্ত্রী হিসেবে কল্পনা করা হয় এবং তার ঋতুমতী হওয়ার সময় কাল কে চারদিনের রজ উৎসব হিসেবে পালন করা হয়|

 

পুরানে পৃথিবীকে নানা রূপে দেখানো হয়েছে।

শাস্ত্র মতে তিনি কশ্যপ প্রজাপতির কন্যা ভূদেবী। আবার রামায়ণে তিনি সীতার মা। অন্য একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে দ্বাপরযুগে কৃষ্ণের স্ত্রী সত্যভামা রূপে এই ভুদেবী জন্মেছিলেন।আবার বরাহ অবতারে এই বসুন্ধরাকেই অতল সাগর থেকে রক্ষা করেছিলেন স্বয়ং বিষ্ণু।ধরিত্রী জড় বস্তু নয় তিনি দেবী রূপে পূজিতা হন এবং সৃষ্টি শক্তির আধার।

 

অম্বু বাচীতে উড়িষ্যায় চারদিনের উৎসব কে চারটি আলাদা পর্যায় উদযাপন করা হয় প্রথম দিনকে বলা হয় পহিলি রজ। দ্বিতীয় দিন মিথুন সংক্রান্তি| তৃতীয় দিন ভূদহ বা বাসি রজ এবং চতুর্থ দিন বসুমতী স্নান।

 

সনাতন ধর্মে চন্দ্র সূর্য বায়ু পর্বত বা গঙ্গা যেমন দেবতা বা দেবী রূপে পূজিত হন তেমনই প্রকৃতি

এখানে দেবীর মর্যাদা পায়। যে প্রকৃতি আমাদের খাদ্য দেয় অক্সিজেন দেয় জল দেয় সেই প্রকৃতিকে মাতৃ শক্তি রূপে পুজো করা এবং তার জীবনের একটি বিশেষ পর্যায়কে সন্মান জানানোই অম্বুবাচির প্রকৃত উদ্দেশ্য।

 

আগামী কাল রথ যাত্রা উপলক্ষে বিশেষ পর্ব নিয়ে আবার ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।