Home Blog Page 38

ভক্তের ভগবান – ত্রৈলঙ্গ স্বামীর অলৌকিক লীলা

ভক্তের ভগবান – ত্রৈলঙ্গ স্বামীর অলৌকিক লীলা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ত্রৈলঙ্গ স্বামীকে বলা হতো কাশীর সচল শিব।

বহু ভক্ত শিষ্যকে তিনি নানা অলৌকিক অভিজ্ঞতা

বা লীলা প্রদর্শন করিয়েছিলেন। বহু সাধারণ মানুষ তার কৃপা পেয়ে ধন্য হয়ে ছিলেন। আজ এমনই কয়েকটি ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

 

শোনা যায় সন্ন্যাসী রূপে দেশ ভ্রমণ কালে তিনি একবার নেপালে পৌঁছে ছিলেন। সেই সময় নেপালের জঙ্গলে শিকাররত এক রানা একটি বিরাট বাঘের পেছনে ধাওয়া করে করে যখন ক্লান্ত তখন জঙ্গলের গভীরে তিনি এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখলেন। তিনি দেখলেন এক বিরাট গাছের নিচে বোসে আছেন এক জটাধারী স্থূল দেহি সন্ন্যাসী এবং তার সামনে বোসে আছে সেই হিংস্র বাঘটি।

সন্ন্যাসী তার গায়ে হাত বুলিয়ে তাকে আদর করে দিচ্ছেন। এ কিভাবে সম্ভব? রানা এই প্রশ্ন সেই সন্ন্যাসী কে করতে তিনি শান্ত ভাবে বললেন মন থেকে হিংসা দুর করতে পারলে জগতের সব জীব সমান মনে হবে। ভেদাভেদ থাকবেনা। বাঘ

যতই হিংস্র হোক ভালোবাসা দিয়ে তাকেও বশ করা সম্ভব। এই সন্ন্যাসী আর কেউ নন স্বয়ং ত্রৈলঙ্গ স্বামী।

 

দ্বিতীয় যে ঘটনাটির কথা বলবো তা ঘটেছিলো কাশিতে। একবার এক ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার কৌপিন পরিহিত ত্রৈলঙ্গ স্বামীকে কাশির ঘাটে বিচরণ করতে দেখে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলে ভোরে দেন। পরদিন ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় সেই অফিসার দেখেন সেই সন্ন্যাসী প্রতিদিনের ন্যায় গঙ্গার ঘাটেই আছে। দ্রুত তিনি জেলে পৌঁছে দেখেন না সেই সন্ন্যাসী তো জেলেই বন্দি আছেন। আবার তিনি গঙ্গার ধারে অনুসন্ধান করতে যান এবং সেই সন্ন্যাসকে দেখতে পান। জেলে ফিরে গিয়ে তাকে আগের অবস্থাতেই আবিষ্কার করেন। তখন সেই অফিসার বুঝতে পারেন না এই নিশ্চই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী এক সিদ্ধ পুরুষ। তৎক্ষণাৎ তিনি তার কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে

মুক্ত করেন।

 

এমনই ছিলেন কাশির সচল বিশ্বনাথ ত্রৈলঙ্গ স্বামী। তার অলৌকিক ক্ষমতা বহুবার তার ভক্তরা প্রত্যক্ষ করেছেন।

 

ফিরে আসবো ভক্তের ভগবান নিয়ে আগামী পর্বে থাকবে আরো এক মহান সাধক এবং তার অলৌকিক লীলা প্রসঙ্গে আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের সাথে শ্যামাচরণ লাহিড়ীর লীলা

ভক্তের ভগবান

ভক্তের সাথে শ্যামাচরণ লাহিড়ীর লীলা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

যোগীরাজ শ্যামা চরম লাহিড়ী যিনি লাহিড়ী মশাই নামে বেশি বিখ্যাত তিনি ছিলেন সাক্ষাৎ ভগবত প্রাপ্ত এক সিদ্ধ পুরুষ এবং ক্রিয়া যোগী। তিনি তার ভক্তদের সাথে একাধিকবার অলৌকিক লীলা করেছেন আজ সেই সব ঘটনার মধ্যে দুটি বিশেষ ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো এবং এই ঘটনা দুটি থেকে বোঝা যায় তিনি তার স্মরণাগত ভক্তদের কিভাবে আপদে বিপদে রক্ষা করতেন।

বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়ের বড়সাহেব ভগবতীচরণ ঘোষের অধস্তন কর্মচারী ছুটি নিয়ে বারাণসী যাবেন তাঁর গুরু শ্যামাচরণ লাহিড়ীর কাছে। ভগবতীবাবু ছুটি দেননি সেদিন।সন্ধ্যায় ঘরে ফেরার পথে আচমকা শূন্য থেকে ফুটে উঠল একটি ব্যাক্তি । দীপ্ত কণ্ঠে ভর্ৎসনা করে বললেন ‘ভগবতী, তুমি কর্মচারীদের প্রতি খুব নির্দয়।’ পরক্ষণেই মিলিয়ে গেল সেই মূর্তি। অধস্তন কর্মীটি তত ক্ষণে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি, গুরুদেব বলে কেঁদে ফেলেছেন।কারন যিনি এসেছিলেন তিনি স্বয়ং শ্যামাচরণ লাহিড়ী। ছুটি মঞ্জুর হয় । পরবর্তীতে পুরো রহস্যটা ভাল ভাবে বুঝতে সেই কর্মচারীর সঙ্গে সস্ত্রীক বারাণসীতে রওনা হলেন ভগবতীবাবু। গিয়ে দেখেন, চৌকিতে পদ্মাসনে বসা সেই লোক। আবার শ্যামচরণ মৃদু ভৎসনা করলেন ভগবতী বাবুকে সে দিনই সস্ত্রীক লাহিড়ীমশাইয়ের কাছে দীক্ষা নিলেন।ভক্তের মনোস্কামনা পূর্ণ করতে এই ভাবে লাহিড়ী মশাই সুক্ষ দেহে আবির্ভূত হতেন।

শোনা যায় একবার তাঁরই এক শিষ্যা অভয়া গুরুর সঙ্গে দেখা করতে হাওড়া থেকে বারাণসী আসছেন। মালপত্র নিয়ে ছুটতে ছুটতে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছতেই দেখলেন, বারাণসী এক্সপ্রেস স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে স্টেশনেই বসে পড়লেন তিনি। আস্তে আস্তে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে ট্রেন। চূড়ান্ত হতাশ অভয়া তখন অঝোরে কাঁদছেন আর গুরুদেব শ্যামাচরণ লাহিড়িকে স্মরণ করছেন।হটাৎ অভয়া দেখলেন, ট্রেন থেমে গিয়েছে।ড্রাইভার ও গার্ড ও অবাক তৎক্ষণাৎ মালপত্র নিয়ে দৌড় দিলেন তিনিও। অভয়া ট্রেনে ওঠামাত্র থেমে যাওয়া বারাণসী এক্সপ্রেস আবার গড়গড় করে চলতে শুরু করল।বারাণসী পৌঁছে অভয়া তাঁর গুরুদেবের কাছে গেলেন। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা মাত্র যোগীরাজ শ্যামাচরণ বললেন, ‘ট্রেন ধরতে গেলে একটু সময় হাতে নিয়ে বেরোতে হয় মা,অত বড়ো ট্রেনকে কি আটকে রাখা যায়?গুরুর অলৌকিক ক্ষমতায় এবং স্নেহ দেখে অবাক হলেন শিষ্যা অভয়া|

দেশ কাল সীমানার গণ্ডী শ্যামাচরণ অতিক্রম করে ছিলেন তার যোগ বলে এবং স্থূল দেহ ছেড়ে তিনি সুক্ষ দেহে বিচরণ করতে পারতেন অবলীলায় এবং তার সব শিষ্যদের কাছে তিনি পৌঁছে যেতেন তাদের প্রয়োজনে।

ভক্তের ভগবানের পরবর্তী পর্ব নিয়ে আবার যথা সময়ে ফিরে আসবো।থাকবে এমনই সব অলৌকিক ঘটনা।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বাবা লোকনাথের অলৌকিক লীলা 

বাবা লোকনাথের অলৌকিক লীলা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী ছিলেন শিবের সাক্ষাৎ বর পুত্র।তার জীবনকালে তার ভক্তরা মনে করতেন বাবা লোকনাথের আশীর্বাদ পাওয়া মানে সাক্ষাৎ শিবের আশীর্বাদ পাওয়া। তার ভক্তশিষ্য দের কাছে তিনি ভগবান হয়ে উঠেছিলেন এবং এই গুরু রুপী ভগবান তার ভক্তদের সাথে বহু অলৌকিক লীলা করেছেন। আজ সেই সব ঘটনা নিয়ে লিখবো।

 

১৭৩৫ খ্রিস্টাব্দে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার

চাকলা গ্রামে লোকনাথ বাবার জন্ম হয়েছিল। তার পিতার নাম ছিল রামনারায়ন এবং মায়ের নাম ছিল কমলাদেবী। পিতা-মাতার চতুর্থ সন্তান ছিলেন তিনি। ছোটো থেকেই তার মধ্যে আধ্যাত্মিক জগৎ এবং পরম ব্রহ্মকে জানার অন্তত জিজ্ঞাসা দেখা যায়।তার যখন এগারো বছর বয়সে তখন তাকে উপনয়ন করিয়ে পাশের গ্রামের ভগবান গাঙ্গুলীর হাতে সন্ন্যাস এর জন্য তুলে দেওয়া হয়েছিল। তার পর দীর্ঘ পথ পরিক্রমা এবং ধ্যান জপ এবং সাধনার মধ্যে দিয়ে গিয়ে লোকনাথ বাবা ব্রহ্ম জ্ঞান লাভ করেছিলেন এবং অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠে ছিলেন।

 

নিজের ভক্ত দের সন্তান রূপে স্নেহ করতেন বাবা লোকনাথ। ভুল করলে তাদের যেমন সঠিক পথ প্রদর্শন করতেন তেমনই ভালো কাজ করলে প্রশংসা করতেন এবং আশীর্বাদ দিতেন।একাধিক অলৌকিক ঘটনা আছে বাবা লোকনাথের জীবনে। বরোদাতে থাকার সময়ে একবার অহংকারী সাধক লোকনাথ বাবাকে সিদ্ধিলাভের প্রমাণ দিতে বলেন। তিনি বলেছিলেন লোকনাথ বাবা যদি সিদ্ধপুরুষ হন তবে তিনি তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করবেন।লোকনাথ বাবার অলৌকিক ক্ষমতা আছে কিনা প্রমান করতে তাকে ধুতরা ফুল এবং ভয়ংকর সাপের বিষ দেওয়া হয়েছিল। সেই বিষকে পরাজিত করে বাবা লোকনাথ অক্ষত ছিলেন।

এই ঘটনার পর বাবা লোকনাথের খ্যাতি আরো বেশি করে ছড়িয়ে পরে।

 

ভক্তদের দুঃখ কষ্ট বাবা সহ্য করতে পারতেন না একবার এক ভক্তকে উদ্ধার করতে তার পুত্রের যক্ষ্মারোগ তিনি নিজের শরীরে ধারণ করেছিলেন। তাতে বালকটি পুরো সুস্থ হয়ে ওঠে এবং এই ঘটনার কিছুদিন পর যক্ষ্মা রোগে বাবা লোকনাথ আক্রান্ত হন। ভক্তের উদ্ধারের জন্য গুরুর এই আত্ম ত্যাগ সনাতন ধর্মে আগেও ঘটেছে।বাবা লোকনাথ তার ভক্তদের বলতেন রণে বনে যেখানে যা বিপদই আসুক না কেনো আমাকে স্মরণ করবে আমি তোমাদের উদ্ধার করবো।মনে করা হয়ে আজও তার ভক্তরা তাকে বিপদের সময়ে ডাকলে তার অদৃশ্য উপস্থিত অনুভব করে থাকেন।

 

একশো ষাট বছর বয়সে লোকনাথ বাবা পরলোক গমন করেন।বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের বারদী আশ্রমে তিনি সমাধিস্থ হয়েছিলেন।

পরের পর্বে এমনই এক মহান সাধনক এবং ভক্তদের সাথে ঘটা এক অলৌকিক লীলা নিয়ে আবার ফিরে আসবো ভক্তের ভগবানে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – ভবা পাগলার অলৌকিক লীলা

ভক্তের ভগবান – ভবা পাগলার অলৌকিক লীলা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সাধক ভবা পাগলা যেমন সারাজীবন মাতৃ শক্তির আরাধনা করে গেছেন এবং মাতৃ মূর্তির মধ্যে পরমব্রহ্ম কে উপলব্ধি করেছেন তেমনই ভবা পাগলার ভক্তদের কাছে তিনি ছিলেন সাক্ষাৎ ব্রহ্ম স্বরূপ। মা কালী যেমন তার এই পাগল সন্তানের সাথে নানারকম লীলা করেছেন তেমনই ভবা পাগলাও তার ভক্তদের বহু বার নানা রকম অলৌকিক অনুভূতি করিয়েছেন। আজ এই মহান সাধক এবং মাতৃভক্তকে নিয়ে লিখবো।

 

প্রথমে ভবা পাগলার সংক্ষিপ্ত পরিচয় জেনে নেয়া যাক।ভবা পাগলার জন্ম আনুমানিক ১৮৯৭ খৃস্টাব্দে বাংলাদেশে, তার পিতার নাম গজেন্দ্র কুমার সাহা, পারিবারিক সূত্রেই ভবা ছিলেন কালী সাধক পরবর্তীতে দেশ ভাগ হলে ভবাকে চলে আসতে হয় ভারতে সেখানেও তার সঙ্গে ছিলো একটি কালী মূর্তি,থাকতে শুরু করেন শোভাবাজার অঞ্চলে এক ভক্তের গৃহে, সেখান থেকেই ক্রমশঃ ছড়িয়ে পড়তে থাকে তার গান ও অলৌকিক কীর্তি|

 

ভবাপাগলার মধ্যে ছিলো অসীম আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও বিশাল অলৌকিক ক্ষমতা, যা বার বার ধরা দিয়েছে তার নানান কর্ম কাণ্ডে, শোনা যায় একবার এক দুরারোগ্য ব্যাধি তে আক্রান্ত ব্যাক্তি কে অলৌকিক ভাবে সুস্থ করে দিয়েছিলেন ভবাপাগলা|

 

একবার ভবাপাগলা তার ভক্তদের এক অদ্ভুত দর্শন করিয়ে ছিলেন বলে শোনা যায়। সেবার ভবা পাগলা তার কয়েকজন ভক্তকে নিয়ে সাধক রামপ্রসাদের ভিটে এবং মন্দির দর্শন করতে গেছিলেন। গভীর জঙ্গলে তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে ছিলো এক রহস্যময় শেয়াল এবং এক সুন্দর সাদা রঙের গাভী। জঙ্গলে এক বহু প্রাচীন মাটির কুটিরে গিয়ে তারা যখন পৌছালেন তখন সাদা থান পড়া এক বৃদ্ধা ভবাকে স্বাগত জানালেন। তাকে আশীর্বাদ করলেন এবং আদর করে নারকেল মুড়ি খেতে দিলেন তারপর হটাৎ

অদৃশ্য হয়ে যান। যখন ভক্তরা ভবা পাগলার কাছে জানতে চান কে ওই বৃদ্ধা। ভবাপাগলা হেসে বলেছিলেন তিনি স্বয়ং দেবী ধুমাবতী। আজ কৃপা করে তিনি দর্শন দিয়েছেন।এই কথা শুনে ভবা পাগলার সাথে থাকা শিষ্যরা শিহরিত হয়েছিলেন এবং মনে মনে ভবা দেবী ধুমাবতীকে প্রণাম জানিয়ে ছিলেন।

 

আরো এমন বহু অলৌকিক কীর্তি আছে তার সারা জীবনে|নিজের জীবদ্দশায় প্রায় সাতটি কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি|ভবা পাগলা ছিলেন পাগল সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং পরবর্তীতে বহু মানুষ তার আদর্শে দীক্ষিত হয়ে তার চরনে নিজেদের জীবন সমর্পন করেছেন।এই মহান সাধক ১৯৮৪ খৃস্টাব্দে দেহ ত্যাগ করেন, আজও তিনি স্মরণীয় তার অলৌকিক কীর্তি ও তার গানের জন্যে।

 

ভক্ত এবং ভগবানের এমনই আরো একটি অলৌকিক লীলা নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – গৌতম বুদ্ধ এবং দুই শিষ্য

ভক্তের ভগবান – গৌতম বুদ্ধ এবং দুই শিষ্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ভগবানের স্মরণ নেয়া ভক্তের উদ্ধার করার জন্য ভগবান সদা সচেষ্ট থাকেন।ভগবানের অবতার বুদ্ধও সারা জীবন সেই চেষ্টাই করেছেন। তার অনেক ভক্ত তার সান্নিধ্য পেয়ে ধন্য হয়েছেন অনেককেই তিনি অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোয় এনেছেন। বুদ্ধের এমনই দুই

ভক্ত ছিলেন আনন্দ এবং রবি। আজকের পর্বে তাদের কথা জানাবো।

 

বুদ্ধের দুই প্রিয় শিষ্য একদিন কিছু অদ্ভুত ঘটনা প্রত্যক্ষ করলেন। তারা দেখলেন একদিন সকালে এক ব্যাক্তি এসে বুদ্ধ কে জিগেস করলেন যে ভগবান আছে কি নেই। এবং জানালেন যে তিনি ভীষণ ভাবে ঈশ্বর বিশ্বাসী। বুদ্ধ উত্তরে বললেন যে না ঈশ্বর নেই। ব্যক্তিটি খুশি না হলেও মুখে কিছু না বলে সেখান থেকে বিদায় নিলেন। দুপুরে আরো একজন বুদ্ধের কাছে এলেন এবং একই প্রশ্ন করলেন। ইনি ছিলেন একজন নাস্তিক এবং ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন না। তার উত্তরে বুদ্ধ বললেন একমাত্র ঈশ্বরই সত্যি বাকি সব মিথ্যা।সেদিন সন্ধ্যায় আরো একজন এসে ঈশ্বর সম্পর্কে একই প্রশ্ন করলেন এবং বুদ্ধ কিছু না বলে মৌন থাকলেন।

 

ভক্ত আনন্দ এবং রবি সেদিন রাতে বুদ্ধর কাছে এসে জানতে চাইলেন কেনো তিনি একই

প্রশ্নের উত্তরে তিনজকে আলাদা আলাদা উত্তর দিলেন। বুদ্ধ বললেন প্রথম ব্যক্তি ছিলেন ঈশ্বর বিশ্বাসী কিন্তু তিনি ঈশ্বর সম্পর্কে অনুসন্ধান করেননি। শুধু বিশ্বাস করলে হয়না সাধনা প্রয়োজন। অনুসন্ধান প্রয়োজন। দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন নাস্তিক কিন্তু তিনিও অজ্ঞানী কোনোরকম সাধনা এবং জ্ঞান ছাড়া নাস্তিক হওয়া যায়না।আর তৃতীয় ব্যাক্তির ক্ষেত্রে তিনি কেনো নীরব ছিলেন তা জানার জন্য পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললেন।

 

পরদিন সকালে সেই তৃতীয় ব্যক্তি আবার এলেন এবং জানতে চাইলেন ঈশ্বর আছে না নেই। বুদ্ধ বললেন তার একটি মূল্য বান রত্ন তিনি হারিয়ে ফেলেছেন এবং সেটা খুঁজে দিতে পারলে তবেই এর উত্তর দেবেন। ব্যাক্তিটি সারাদিন নানা স্থানে সেই রত্ন খোঁজ করে সন্ধ্যায় বুদ্ধর কাছে এলেন এবং বুদ্ধ তাকে বললেন রত্নটি তিনি তার কুটিরে হারিয়ে ফেলেছেন তাই বাইরে খুঁজে লাভ নেই। এতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে এই ব্যক্তি এই পরিহাসের মানে জানতে চাইলেন। বুদ্ধ তখন হেসে বললেন

ঈশ্বর ও তার মধ্যে আছে এবং তিনি এইরকম নির্বোধের ন্যায় তাকে নানা স্থানে খুঁজে চলেছেন তাই তার মনে ঈশ্বরকে নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে তার উচিৎ ঈশ্বরকে নিজের অন্তরে খোঁজা।

 

এরপর বুদ্ধ তার দুই শিষ্য কে ডেকে বললেন ঈশ্বর সূর্যের ন্যায় সত্য। তাকে মানা না মানার প্রশ্ন নেই তাকে জানতে হয় এবং তার জন্য প্রয়োজন জ্ঞান এবং সাধনা। একজন গুরুর উচিৎ সেই সাধনায়

তাকে উৎসাহ দেয়া। জ্ঞান ডান করা।

তিনি তাই করেছেন।

 

আবার পরের পর্বে ফিরে আসবো ভক্ত এবং ভগবানের এমনই এক লীলা নিয়ে। যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

নতুন বছর এবং কল্পতরু উৎসবের শুভেচ্ছা

নতুন বছর এবং কল্পতরু উৎসবের শুভেচ্ছা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সমগ্র বিশ্ববাসির কাছে পয়লা জানুয়ারি মানে ইংরেজি নব বর্ষের সূচনা হলেও বাঙালির কাছে পয়লা জানুয়ারি মানে কল্প তরু উৎসব।বিশেষ করে যারা রামকৃষ্ণর ভাবধারায় বিশ্বাসী জন্য তো বটেই।

 

প্রথমে আসুন শাস্ত্র কল্পতরু সন্পর্কে কি বলছে।

পুরাণ মতে দেবতা এবং অসুরদের মধ্যে সমুদ্র সমুদ্র মন্থনকালে অমৃত, লক্ষ্মীদেবী, ঐরাবত ইত্যাদির সঙ্গে উঠে আসে কল্প তরু বৃক্ষ পরবর্তীতে দেবরাজ ইন্দ্রের বিখ্যাত নন্দনকাননের স্থান পায় এই কল্প তরু বৃক্ষ এবং সেখান থেকে স্ত্রী সত্যভামার আবদারে শ্রীকৃষ্ণ পৃথিবীতে নিয়ে আসেন এই বৃক্ষ। এই বৃক্ষ সবার মনোস্কামনা পূর্ণ করতো অর্থাৎ এই বৃক্ষর কাছে যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়।শ্রী কৃষ্ণর মৃত্যু এবং দ্বারকা নগরী ধ্বংসের পর কল্পতরু বৃক্ষ সম্পর্কে আর কোনো শুনিদ্দিষ্টি তথ্য পাওয়া যায়না।

 

এবার আসুন জেনে নিই কেনো ঠাকুর রামকৃষ্ণকে কল্পতরু বৃক্ষের সাথে তুলনা করা হয় এবং কেনই বা এই বিশেষ দিনটিকে কল্পতরু দিবস রূপে পালন করা হয়।দিন টা ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি কাশীপুর উদ্যান বাড়িতে উপস্থিত রয়েছেন প্রায় ৩০ জন মতো গৃহী ভক্ত।শরীরে মারণ রোগ বাসা বাঁধলে, ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকারের নির্দেশে ঠাকুর এই বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন।ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক দুপুর তিনটে। দোতলা ঘর থেকে তিনি নেমে এলেন বাগানে। গৃহী ভক্তরা তাঁদের হাতে রাখা ফুল ঠাকুরের চরণে অঞ্জলি দিতে থাকেন। কথিত আছে, ঠাকুর তখন নাট্যকার গিরিশ ঘোষকে বলেন, “হ্যাঁ গো,তুমি যে আমার নামে এত কিছু চারিদিকে বলো, তো আমি আসলে কী”? গিরিশ ঘোষ উত্তর দিলেন, “তুমিই নররূপ ধারী পূর্ণব্রহ্ম ভগবান, আমার মত পাপী তাপীদের মুক্তির জন্যই তোমার মর্ত্যে আগমন”। সবাই তখন ঠাকুরের চরণ স্পর্শ করল এবং ঠাকুর তাদের আশীর্বাদ করে বললেন, “তোমাদের চৈতন্য হউক”।

 

তখন উপস্থিত ভক্তরা ইচ্ছা পূরণের এক দিব্য অনুভূতি অনুভব করেন নিজেদের অন্তরে।বিদ্যুৎ তরঙ্গের মতো এক অলৌকিক শক্তি যেনো প্রবেশ করে তাদের শরীরে। ঠাকুর তখন ভাব লেশ হীন। তন্ময় অবস্থায় পৌঁছে গেছেন।তিনি যেনো সাক্ষাৎ কল্পতরু।

 

সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত কেই আজ স্মরণ করা হয়।

ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে, এই দিন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব সকলের মনের ইচ্ছা পূরণ করেন।

ঠাকুরের লীলা স্মরণ করে ১৮৮৬ সালের সেই দিনকে মঠ মিশন সহ ঠাকুরের গৃহি ভক্তদের গৃহে পালন করা হয় কল্পতরু উৎসব।

 

সবাইকে জানাই একইসাথে ইংরেজি নববর্ষের এবং কল্পতরু উৎসবের শুভেচ্ছা।ফিরে আসবো আগামী পর্বে। ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক আলোচনা নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – হনুমান ভক্ত নীম কারোলি বাবা

ভক্তের ভগবান – হনুমান ভক্ত নীম কারোলি বাবা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ভারতের আধ্যাত্মিক সাধক বা গুরুস্থানীয় ব্যাক্তিরা তাদের জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনা দিয়ে এমন সব দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে যা বহিঃবিশ্বের কাছে আজও এক রহস্য|এমনই এক রহস্যময় সাধক ও গুরু ছিলেন নিম কারোলি বাবা যার ভক্ত তালিকায় রয়েছে ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ, অ্যাপেল প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জোবস আবার ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শঙ্কর দয়াল শর্মা থেকে বর্তমান রাষ্ট্রনায়কদের অনেকেই তার গুনমুগ্ধ।এই নীম কারোলি বাবা ছিলেন বজরংবলীর পরম ভক্ত। অনেকেই তাকে সাক্ষাৎ বজরংবলীর অবতার বলে মনে করতেন।

 

ব্রিটিশ ভারতে উত্তর প্রদেশের ফিরোজাবাদে জন্মেছিলেন এই মহা পুরুষ, প্রথম জীবনে বিবাহ করে সংসার ও শুরু করেছিলেন কিন্তু হটাৎ একদিন সব ছেড়ে ঈশ্বর অনুসন্ধানে বেরিয়ে পড়লেন তিনি, বহু স্থান ঘুরলেন শেষে উত্তরা খন্ডের কাঁচি ধামে নিজের ছোট্ট একটি হনুমান মন্দির স্থাপন করে আধ্যাত্মিক সাধনায় নিজেকে নিয়োজিত করলেন|

 

বহু অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ আছে তার সারা জীবন জুড়ে, একবার আশ্রম ভ্রমণে আশা

এক সধারণ রাজনীতিবিদকে তিনি দেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার আশির্বাদ দিয়ে বসেছিলেন|পরবর্তীতে আশ্চর্যজনক ভাবে সেই নেতা ভারতের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন, তিনি আর কেউ নন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শংকর দয়াল শর্মা|তিনি আজীবন মানতেন বাবার আশীর্বাদেই তার এই সাফল্য|একটি প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে একবার বাবাকে ট্রেনে তুলতে অস্বীকার করে কোনো ব্রিটিশ কর্মচারী তারপর বহু চেষ্টা করেও এক চুল ও গড়ায়নি ট্রেনের চাকা|বাবার ইচ্ছায় তা আবার চলতে শুরু করেছিলো|এমন অসংখ্য ঘটনা আছে|

 

বাবা জন সমক্ষে খুব কমই আসতেন , খুব একটা পছন্দ করতেন না মানুষের ভিড়|সর্বক্ষণ তার শরীর ঢাকা থাকতো একটি বড়ো চাদরে|কেনো তা কেউ জানেনা|বাবার আচরণ ও দৈহিক কিছু বিষয় দেখে অনেকেই বাবা নিম কারোলিকে বজরংবলীর অংশ বা তার অবতার জ্ঞানে পূজা করতো|আবার কথিত আছে যে কয়জন হাতে গোনা সৌভাগ্যশালী বজরংবলির সাক্ষাৎ দর্শন পেয়েছিলেন বাবা নীম কারোলি তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন|আজীবন তিনি প্রচার থেকে দূরে|নিভৃতে নির্জনে থাকতে পছন্দ করতেন|সদা ব্যাস্ত থাকতেন রাম নামে|

 

মহান এই সাধক এবং হনুমানজীর ভক্ত 1973 সালে পরলোক গমন করেন|বর্তমানে দেশে এবং বিদেশের মাটিতে 108 টি মন্দির রয়েছে নিম কারোলি বাবার|রয়েছে অগণিত ভক্ত শিষ্য

 

আবার ভক্তের ভগবান নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে থাকবে আরো এক মহান

ভক্ত এবং তার সাধনার কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – কালী ভক্ত রামানন্দ গোস্বামী

ভক্তের ভগবান – কালী ভক্ত রামানন্দ গোস্বামী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সোমবতী বকুল অমাবস্যা বা পৌষ অমাবস্যার পুন্য তিথিতে আজ প্রসিদ্ধ তন্ত্র সাধক এবং কালী ভক্ত রামানন্দ গোস্বামীর কথা জানাবো।

 

আজ থেকে প্রায় সাতশো বছর আগে তন্ত্র মতে কালী পূজা শুরু করেন রামানন্দ গোস্বামী।

তাঁর সাধনার স্থান ছিল কাশ আর বেতবনে ঘেরা শ্মশান।তিনি ছোটবেলা থেকে কালী মায়ের একনিষ্ঠ সাধক ছিলেন । যদিও রামানন্দ গোস্বামীর পিতা কৃষ্ণমন্ত্রে দীক্ষিত হওয়ার জন্য পুত্রের কালী-মা ভক্তি মোটেই পছন্দ করতেন না ।দীর্ঘ সময় কঠোর সাধনা করে মায়ের দর্শন পেয়ে ছিলেন রামানন্দ গোস্বামী । মায়ের সঙ্গে কথাও বলেছিলেন ঠাকুর রামানন্দ।সেই শ্মশানের মধ্যে পঞ্চমুন্ডীর আসন প্রতিষ্ঠা করে মায়ের মন্দির তৈরী করেছিলেন তিনি। সেই পুজো আজ বিখ্যাত এই কালী পুজোর রূপ নিয়েছে।

 

তার শৈশবের সময় থেকেই বহু অলৌকিক ঘটনার কথা শোনা যায়। একবার সাধক রামানন্দ যখন সেই শ্মশানে ধ্যানে মগ্ন তখন পাড়ার কেউ তাঁর বাবাকে এই খবর দিয়েছেন । তাঁর কৃষ্ণভক্ত বাবা সাথে সাথে শ্মশানে আসেন কিন্তু শুধু কৃষ্ণ ছাড়া তিনি আর কিছুই দেখতে পাননি । ভক্তকে রক্ষা করতে স্বয়ং মা কালী কৃষ্ণ রূপে দেখা দিয়ে ছিলেন বলে মনে করা হয়।

 

আজও রামানন্দ গোস্বামীর পুজোয় একটি

শাঁখারী পরিবারের বংশধরেরা নিয়মিত শাঁখা দিয়ে যায়। তারও একটি বিশেষ কারন আছে।শোনা যায় একদিন এক শাঁখারী মায়ের পুকুর পাড় দিয়ে যাচ্ছেন । এমন সময় একটি বাচ্চা মেয়ে তাঁর কাছে শাঁখা পরতে চায় । শাঁখারী দু-হাতে শাঁখা পরিয়ে টাকা চায় । মেয়েটি তখন উত্তরে জানায়,’ মন্দিরের কুলুঙ্গিতে বেলপাতা ঢাকা দু-টাকা রাখা আছে বাবাকে দিতে বলবি ‘ শাঁখারী তাঁর কথা মতো পুরোহিতের কাছে সমস্ত কথা বলেন । পুরোহিত অবাক হয় এবং পরে সেখানে দুটি টাকা পাওয়া যায়। তিনি দু-টাকা সেখান থেকে নিয়ে শাঁখারীকে দিয়ে বলেন যে তার তো কোনো মেয়ে নেই । দুজনে সেই স্থানে ফিরে গেলেও মেয়েটিকে আর দেখতে পাওয়া যায়নি । তখন ঠাকুর বুঝতে পেরে পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়েই মাকে শাঁখা দেখানোর অনুরোধ করেন । সন্তানের অনুরোধে মা কালী স্বয়ং পুকুরের মাঝে তার হাত তুলে শাঁখা দেখায় ।

 

কোনো এক অজ্ঞাত কারণে এখানে রাত্রে মায়ের প্রতিমা তৈরীর কাজ নিষিদ্ধ ।কথিত আছে

বহু বছর আগে একবার এক প্রতিমাশিল্পী রাত্রে মায়ের চক্ষুদান করছেন । ওই সময় এক অদৃশ্য হাত শক্তি তাকে মন্দিরে বাইরে বের করে দিয়েছিলো। পরের দিন সকালে তাকে আহত অবস্থায় মন্দিরের বাইরে উদ্ধার করা হয় ।

অন্যদিকে মায়ের মুর্তিতে ছিন্নভিন্ন রক্তের দাগ দেখতে পায় । তখন থেকে আজও মায়ের প্রতিমা দিনেই তৈরী করা হয়। স্বশরীরে উপস্থিত না থাকলেও আজও মহান কালী ভক্ত রামানন্দ গোস্বামীর পুজোয় তার অদৃশ্য উপস্থিতি লক্ষ করা যায় বলেই স্থানীয়রা মনে করেন।

 

আবার এক মহান ভক্ত এবং তার সাধনার কথা নিয়ে ফিরে আসবো ভক্তের ভগবান সংক্রান্ত আলোচনায়। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – শিব অবতার শঙ্করাচার্য্য

ভক্তের ভগবান – শিব অবতার শঙ্করাচার্য্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আধ্যাত্মিক জগতে কখনো কখনো ভগবান তার অংশকে পৃথিবীতে। তখন একই দেহে ভক্ত এবং ভগবান বাস করেন। ভগবানই ভক্ত আবার

ভক্তই ভগবান হয়ে ওঠেন।আদি গুরু শংকরাচার্য্য ছিলেন এমনই এক ব্যাক্তিত্ব।শাস্ত্রে আছে শংকর স্বয়ং শংকর। অর্থাৎ শঙ্করাচার্য্য শিবের অবতার।

আজকের পর্বে শিব ভক্ত এবং শিবের অবতার শঙ্করের আদি গুরু শঙ্করা চার্য্য হয়ে ওঠার কথা

জানাবো।

 

আদিগুরু শঙ্করাচার্য্যর প্রারম্ভিক জীবন এবং বাল্যকাল নিয়ে নানা মুনির নানা মত|তবে এ বিষয়ে সব থেকে গ্রহন যোগ্য প্রামাণ্য হিসেবে ধরা হয় শংকর বিজয়ম নামক প্রাচীন গ্রন্থকে|1788 খ্রিস্টাব্দে, কেরল রাজ্যের কালাডি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন শঙ্করাচার্য্য|তার বাবার নাম ছিল শিবগুরু ও মায়ের নাম আর্যাম্বা|কথিত আছে ত্রিশূরের বৃষভচল শিবমন্দিরে পুত্রকামনা করে পূজা দিয়ে আশীর্বাদ স্বরূপ শংকরকে পেয়ে ছিলেন তার বাবা মা|তিনি ছিলেন শিবের বর পুত্র।রক্ষন শীল হিন্দু পরিবারে তার বড়ো হয়ে ওঠা|বাল্যকাল থেকেই শংকর ছিলেন অত্যান্ত মেধাবী ও আধ্যাত্মিক মানসিকতার|মনে করা হয় মাত্র আট বছর বয়সে তিনি চারটি বেদ আয়ত্ত্ব করে ফেলেন অতি সহজে|অল্প বয়সে পিতৃ বিয়োগের পর চরম আর্থিক দুর্দশার সম্মুখীন হতে হয় তাকে|

 

কৈশোর থেকেই শঙ্করের ইচ্ছে ছিলো সন্ন্যাস নেয়ার কিন্তু মা রাজি ছিলেন না পরবর্তীতে তাকে রাজি হতে হয় এ নিয়েও আছে এক অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ|একবার বালক শংকর পূর্ণা নদীতে স্নান করছিলেন। এমন সময় একটি কুমির তার পা কামড়ে ধরে। শঙ্করের মা তখন সেখানেই উপস্থিত ছিলেন|তিনি মা-কে বলেন, মা যদি সন্ন্যাস গ্রহণের অনুমতি দেন, তাহলে কুমিরটি তার পা ছেড়ে দেবে। ছেলের প্রাণ বাঁচাতে মা তাকে সন্ন্যাস গ্রহণের অনুমতি দিলেন|কুমির ও সাথে সাথে পা ছেড়ে অদৃশ্য হলো|এরপর সন্যাস নিয়ে গৃহ ত্যাগ করলেন শঙ্করাচার্য্য|গুরুর খোঁজে বেড়িয়ে পড়লেন পথে|

 

দীর্ঘ সময় পদব্রজে সারা উত্তর ভারত পরিভ্রমণ করার পর অবশেষে গুরুর সাথে সাক্ষাৎ হলো|নর্মদানদীর তীরে ওঙ্কারেশ্বরেতিনি গৌড়পাদের

শিষ্য গোবিন্দ ভগবদপাদের শিষ্যত্ব গ্রহন করলেন শঙ্করাচার্য্য|গুরু শঙ্করাচার্য্যকে অদ্বৈত মত প্রচার করতে বলেন|পরবর্তীতে তিনি কাশী,বদ্রিনাথ সহ বহু স্থানে ঘুরে বেড়ান|অসংখ্য ভাষ্য ও গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেন এবং তার পাশাপাশি চালিয়ে যান

অদ্বৈতবাদের প্রচার|এই সময় অসংখ্য অনুগামী ও ভক্ত তার সংস্পর্শে আসেন ও তার শিষ্যত্ব গ্রহন করেন|বহু ধর্মীয় বিতর্কে অংশগ্রহন করে সেকালের ধর্মজগতের বহু সনামধন্য পন্ডিতকে শাস্ত্র আলোচনায় পরাস্ত করে শংকরাচার্য্য হয়ে ওঠেন এক অতি পরিচিত কিংবদন্তী স্বরূপ|মনে করা হয় কাশীতে বিশ্বনাথ মন্দিরদর্শন করতে যাওয়ার সময় স্বয়ং শিব এক চন্ডাল রূপে তাকে দর্শন দিয়ে ছিলেন|

 

শঙ্করাচার্য সারাটা জীবন ধরে অদ্বৈতত্ত্বের প্রচার করে বেদ বিমুখী সমাজকে আবার বেদান্তের পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন| শঙ্করাচারজ্যর অদ্বৈত ত্বত্ত্বের মূল কথা ছিল- ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। জীব ও ব্রহ্মে কোনো প্রভেদ নেই|অর্থাৎ, জীব ও ব্রহ্মকে এক ভাবাই অদ্বৈতবাদ।সকল জীবের অভ্যন্তরে যে আত্মা বিরাজমান, তা পরমাত্মারই প্রকাশ। এ তত্ত্বে জীবাত্মা ও পরমাত্মা এক|

 

তবে শিব স্বয়ং যেমন পরম বৈষ্ণব তার ভক্ত বা

অংশ শংকরা চার্য্যও তার ব্যতিক্রম ছিলেন না সন্ন্যাস জীবনে যখন তিনি তার মায়ের সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন তার মাকে তিনি হরেকৃষ্ণ মহা মন্ত্র জপ করে শুনিয়ে তাকে উদ্ধার করেছিলেন।

 

ভক্তের ভগবানের পরবর্তী পর্ব নিয়ে যথা সময়ে আবার ফিরে আসবো। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

ভক্তের ভগবান – কালীভক্ত শ্রী অন্নদা ঠাকুর 

ভক্তের ভগবান – কালীভক্ত শ্রী অন্নদা ঠাকুর

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের ভক্তের ভগবান পর্বে বাংলা তথা দেশের অন্যতম প্রসিদ্ধ মাতৃ সাধক এবং ঠাকুর রামকৃষ্ণ দেবের প্ৰিয় শিষ্য অন্নদা ঠাকুর অর্থাৎ অন্নদা চরণ ভট্টাচার্য কে নিয়ে আলোচনা লিখবো।

 

অন্নদা ঠাকুরের আসল নাম অন্নদাচরণ ভট্টাচার্য। তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। তাঁর মায়ের নাম তিলোত্তমা দেবী। বাবার নাম অভয়চরণ ভট্টাচার্য। তিন সন্তানের মধ্যে অন্নদাচরণ ছিলেন মেজো। মেধাবী ছাত্রটি আয়ুর্বেদ চিকিৎসক হতে লেখাপড়ার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন। পেশায় তিনি ছিলেন আয়ুর্বেদ চিকিৎসক।কলকাতায় থাকাকালীন শ্রীরামকৃষ্ণের স্বপ্ন দেখেন। বাংলাদেশের বাড়িতে মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েও দেখেন সেই শ্রীরামকৃষ্ণের স্বপ্ন।

 

ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তার ভক্ত তথা শিষ্য অন্নদা ঠাকুরকে নির্দেশ দিয়ে ছিলেন কলকাতার একটি দীঘি থেকে দেবী মূর্তি উদ্ধার করে নিয়ে এসে দক্ষিনেশ্বর এর অদূরে আরিয়া দহে এক মন্দির নির্মাণ করতে এবং শর্ত ছিলো বারো বছরের মধ্যে মন্দির নির্মাণ সম্পন্ন করতে হবে না হলে সর্ব সাধারণের জন্য মন্দিরের দ্বার উন্মুক্ত থাকবেনা|অন্নদা ঠাকুর আদেশ পালন করে ছিলেন কিন্তু বারো বছরের জায়গায় পঁয়ত্রিশ বছর লেগে ছিলো মন্দির নির্মাণ সম্পূর্ণ করতে।সেই মন্দির হলো আজকের আদ্যাপীঠ মন্দির।

যেহেতু বারো বছরে মন্দিরের কাজ সম্পন্ন হয়নি তাই আজও সর্ব সাধারণের জন্য মুল মন্দিরের দ্বার বন্ধই আছে|

 

কথিত আছে এক রাম নবমীর রাতে মা আদ্যা শক্তি অন্নদা ঠাকুর কে দর্শন দিয়েছিলেন এবং আদ্যা স্তোত্র পাঠ করে শুনিয়েছিলেন এবং অন্নদা ঠাকুর এই আদ্যা স্তোত্র লিখে রাখেন যা আজও এই মন্দিরে স্বযত্নে রাখা আছে এবং নিয়মিত তা পাঠ করা হয় মন্দিরে।

 

মাত্র ৩৮ বছর বয়সে পুরীতে প্রয়াত হন অন্নদাঠাকুর।তবে তার দ্বারা শুরু হওয়া কর্মকান্ড আজও তার তৈরি প্রতিষ্ঠান নিষ্ঠার সঙ্গে করে চলেছে।অন্নদা ঠাকুর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ সংঘ মন্দিরের পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে।

প্রতি বছর আদ্যা নবমী তে মন্দিরে বিশেষ পূজা এবং কালী পূজা উপলক্ষে মহা পূজার আয়োজন করা হয়|প্রতিদিন দেবী কে সাড়ে বাইশ সের চালের অন্ন ভোগ ঠাকুর রামকৃষ্ণদেবকে সাড়ে বারো সের চালের অন্ন ভোগ দেয়া হয় আদ্যাপিঠে|

 

আদ্যা শক্তি যখন তার ভক্তকে কৃপা করেন এবং তাকে দিয়ে বিশেষ কাজ করাবেন স্থির করেন তখন সেই ভক্ত হয়ে ওঠেন নিমিত্ত মাত্র সমস্ত কাজ অলৌকিক উপায়ে পরিচালিত হতে থাকে। অন্নদা ঠাকুর তার বড়ো প্রমান।

 

চলতে থাকবে ভক্তের ভগবান। ফিরবো

আগামী পর্বে আরো এক ভক্তের কথা নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।