Home Blog Page 38

বিশেষ পর্ব – জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা

বিশেষ পর্ব – জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দেবী দূর্গা বা কালীর পাশাপাশি বাঙালির সাথে জগন্নাথদেবের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। পুরী বাঙালির অন্যতম আস্থা সব শ্রদ্ধার স্থান।সেই পুরীতে অক্ষয় তৃতীয়ায় অনুষ্ঠিত হয় জগন্নাথের চন্দন যাত্রা। আজকের পর্ব এই চন্দন যাত্রা নিয়ে।

 

প্রভু জগন্নাথের রথ যাত্রার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় পবিত্র চন্দন যাত্রার দিন থেকেই। এই চন্দন যাত্রা নিয়ে নানা পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত আছে।

কথিত আছে শ্রীজগন্নাথদেব মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্নকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে বৈশাখী শুক্লা অক্ষয় তৃতীয়াতে সুগন্ধি চন্দন দ্বারা তার শ্রী অঙ্গে লেপন করার নির্দ্দেশ দিয়েছিলেন। সেদিন থেকে শুরু হয় চন্দন যাত্রা। উৎসব।

 

গ্রীষ্ম ঋতুতে প্রভু জগন্নাথ কর্পূর এবং চন্দন লেপনের মাধ্যমে গরমের কষ্ট থেকে রেহাই পান তাই এই রীতি তিনি নিজে শুরু করেছিলেন বলে মনে করা হয়।

 

আয়ুর্বেদ মতে চন্দন হল সর্বশ্রেষ্ঠ প্রলেপন। যেহেতু ভারতে বৈশাখ মাস অত্যন্ত উষ্ণ থাকে তাই চন্দনের শীতল গুণ ভগবানের আনন্দ প্রদান করে। জগন্নাথের দুই চক্ষু ব্যতীত সর্বাঙ্গে চন্দন লেপন করা হয়ে থাকে। এই সময়ে বিগ্রহগকে নিয়ে শোভাযাত্রা করা হয় এবং জগতের নাথকে মন্দির পুষ্করিণীতে নৌকাবিহার করানো হয়ে থাকে।

 

শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে আছে বৃন্দাবনে পরম বৈষ্ণব শ্রীমাধবেন্দ্র পুরীকে স্বপ্নে তাঁর আরাধ্য শ্রীগোপাল বলছেন, “আমার শরীরের তাপ জুড়োচ্ছে না। শ্রী ক্ষেত্র থেকে চন্দন নিয়ে এসো এবং তা ঘষে আমার অঙ্গে লেপন কর, তা হলে তাপ জুড়োবে।” বৃদ্ধ মাধবেন্দ্র পুরী পূর্বভারতে নীলাচলে জগন্নাথধাম পুরীতে এসে রাজার কাছে পূর্ব স্বপ্নগত সমস্ত কথা বললেন। রাজা তার আরাধ্য গোপালের জন্য এক মণ সুগন্ধি চন্দন দেন। চন্দন নিয়ে ফেরার মাধবেন্দ্র পুরী রেমুনা নামক স্থানে অবস্থিত শ্রীগোপীনাথ মন্দিরে আসেন। সেই রাত্রে তার আরাধ্য গোপাল তার স্বপ্নে এসে বলেন “হে মাধবেন্দ্র পুরী, আমি ইতিমধ্যেই সমস্ত চন্দন ও কর্পূর গ্রহণ করেছি। এখন কর্পূর সহ এই চন্দন ঘষে ঘষে শ্রীগোপীনাথের অঙ্গে লেপন কর। গোপীনাথ এবং আমি অভিন্ন।

 

পরের দিন মাধবেন্দ্র পুরী পুরীরর রাজা কে সব বলেন এবং ঠিক হয় দীর্ঘ ২১ দিন ধরে প্রত্যহ একজন পূজারী প্রভু গোপীনাথের শ্রীঅঙ্গে চন্দন লেপন করবেন । তাই হয়। সেইদিন থেকেই চন্দন যাত্রা শুরু হয়। সেই রীতি নীতি আজও সমান ভাবে চলছে।তবে বর্তমানে পুরীর জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং প্রসিদ্ধ।চন্দন যাত্রার পর দেবস্নান পূর্ণিমায় হবে স্নান যাত্রা এবিং সব শেষে রথ যাত্রা

 

প্রভু জগন্নাথ সম্পর্কে আরো অনেক তথ্য এবং ঘটনা নিয়ে চলতে থাকবে ধারাবাহিক আলোচনা। ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

 

চন্দন যাত্রার মধ্যে দিয়েই শুরু হয় রথ যাত্রার প্রস্তুতি। এর পরে হবে প্রভুর স্নান যাত্রা। তারপর রথ যাত্রা।সব শেষে উল্টো রথ যাত্রার মধ্যে দিয়ে পরিক্রমা শেষ হবে। আবার এক বছরের অপেক্ষা

শুরু হবে পরবর্তী রথ যাত্রার জন্য।

 

আধ্যাত্মিক, শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে চলতে থাকবে ধারাবাহিক আলোচনা।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

অক্ষয় তৃতীয়ার শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

যেকোনও শুভ কাজ আরম্ভের জন্য অক্ষয় তৃতীয়া তিথিকে প্রশস্ত বলে মনে করা হয়|আজ যেকোনো শুভ কাজ শুরু হলে তা সফল এবং স্বার্থক হয়।কারন বহু পৌরাণিক শুভ ঘটনা ঘটেছে এই তিথিতে।

 

এই অক্ষয় তৃতীয়ার দিনই মহাভারত রচনা শুরু করেছিলেন ব্যসদেব। তিনি এই চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথিতেই মহাভারতের শ্লোক উচ্চারণ শুরু করেন আর সিদ্ধিদাতা গণেশ তা লিখতে শুরু করেন।

 

ভীষণ গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে মা যশোদা গোপালের সারা অঙ্গে চন্দন লেপন করে রাখতেন দহন কমানোর জন্য। সেই প্রথা মেনে আজও মহাপ্রভু জগন্নাথ দেবের গাত্র দহন নিবারণের জন্য অঙ্গ সেবা ও চন্দন লেপন একুশ দিন

ধরে অনুষ্ঠিত হয়। এই চন্দন যাত্রার সূচনা হয় অক্ষয় তৃতীয়ায়।

 

বিষ্ণুর দশাবতারের ষষ্ঠ অবতার পরশুরামের জন্ম চান্দ্র বৈশাখ মাসের শুক্লা তৃতীয়া তিথিতে অর্থাৎ এই অক্ষয়তৃতীয়ার দিনে হয়েছিলো।

তাই দেশের বহু স্থানে আজকের দিনটি ‘পরশুরাম জয়ন্তী’ হিসেবেও পালিত হয়|

 

তন্ত্রের জগতেও এই তিথি তাৎপর্যপূর্ণ কারন অক্ষয় তৃতীয়া হল দশমহাবিদ্যার অন্যতম দেবী ধুমাবতীর আবির্ভাব তিথি। আবার অক্ষয় তৃতীয়ার দিনেই কাশীতে দেবী অন্নপূর্ণার আবির্ভাব ঘটে।

 

অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে সত্যযুগের অবসান হয়ে ত্রেতা যুগের সূচনা হয়।

 

সবাইকে জানাই শুভ অক্ষয় তৃতীয়া।

ফিরে আসবো পরের পর্ব নিয়ে।

ধারাবাহিক আধ্যাত্মিক আলোচনা

নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

অক্ষয় তৃতীয়ার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

অক্ষয় তৃতীয়ার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ অক্ষয় তৃতীয়ার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা আপনাদের শোনাবো।জানাবো এই অনুষ্ঠানের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য।

 

আমাদের বৈদিক জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে যেকোনো শুভ কাজ শুরু করা যেতে পারে আজকের দিনে|আজকের দিনে সোনা রুপো বা মূল্যবান রত্ন ক্রয় করে গৃহে আনলে গৃহস্তের কল্যাণ হয় তাছাড়া আজ লক্ষী ও কুবেরের পুজোর মাধ্যমেও সৌভাগ্য লাভ করা যায়|

 

দেবী লক্ষী ধন প্রদান করেন এবং সেই ধন সম্পত্তির রক্ষাকর্তা হলেন কুবের তাই এই দুজন সন্তুষ্ট থাকলে তবেই অক্ষয় থাকে সম্পদ। আজ কুবের এবং মহা লক্ষী দুজনের আশীর্বাদ পাওয়ার দিন।

 

পুরান এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে এই উৎসব সম্পর্কে অনেক তথ্য আছে।সনাতন ধর্মে ধন ও সম্পদের দেবতা হলেন রাবনের ভ্রাতা এবং মহাদেবের অন্যতম ভক্ত কুবেরদেব|আসলে হলেন দেবতাদের কোষাধক্ষ্য তাকে প্রতারিত করে লঙ্কা থেকে বিতাড়িত করেন রাবন এবং ছিনিয়ে নেন তার পুস্পক রথ, যে ব্যবহিত হয়েছিলো পরবর্তীতে রামায়নের সময়ে|তবে কুবের হাল ছাড়েননি কঠোর তপস্যায় মহাদেবকে সন্তুষ্ট করে তিনি জগতের সমস্ত বৈভব ও ঐশ্বর্যর দেবতা হন|

 

পুরাণ মতে আজকের এই অক্ষয় তৃতীয়ার তিথিতেই কুবেরকে তাঁর অনন্ত বৈভব দান করেছিলেন স্বয়ং মহাদেব। পরবর্তীতে দেব শিল্পী বিশ্বকর্মা কৈলাসের কাছে অলকায় কুবেরের প্রাসাদ তৈরি করে দেন যা অলোকাপুরী নামে খ্যাত|

 

বিশ্বাস করা হয় আজ কুবেরের পুজো করলে এবং তার কাছে নিজের অভাব অভিযোগ জানালে তিনি কাউকে শুন্য হাতে ফেরান না।আরো অনেক পৌরাণিক বিষয় জড়িয়ে আছে অক্ষয় তৃতীয়ার সঙ্গে সেই সব পৌরাণিক ঘটনা এবং ব্যাখ্যা নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – কালীয়া নাগ দমন

কৃষ্ণ কথা – কালীয়া নাগ দমন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রী কৃষ্ণের বাল্য লীলা গুলির মধ্যে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর একটি অধ্যায় তার কালিয়া নাগ দমন পর্ব। আজকের পর্বে কালিয়া দমন লীলা নিয়ে আলোচনা করবো।

 

কৃষ্ণের সময়ে কালীয়া নাগ রামাণকনামক এক দ্বীপে বাস করতো । ভগবান শ্রীবিষ্ণুর বাহন শ্রী গরুড় দেবের ভয়ে কালীয়া নাগ একবার রামাণক দ্বীপ ছেড়ে চলে আসেন বৃন্দাবনের যমুনা নদীতে।

 

কালিয়া নাগের আগমনে বৃন্দাবনবাসীর সাধারণ জীবন যাপন ব্যাহুত হয়। কারন তাদের জীবন ছিলো যমুনা কেন্দ্রিক।কালীয় নাগের বিষের প্রভাবে যমুনার জল বিষাক্ত হয়ে যায় । যখনই গাভী, বাছুরেরা সেই জল পান করে তৎক্ষণাৎ তাদের মৃত্যু ঘটতে থাকে । সকলে কালীয়া নাগের ভয়ে ছিল তটস্থ। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই সমস্যার সমাধান করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

 

একদিন পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার সখাদের সাথে যমুনার তীরে খেলছিলেন। খেলার ছলেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যমুনায় ডুব দিলেন। কালীয়া নাগ ভগবানকে তৎক্ষণাৎ সেই স্থান পরিত্যাগ করতে বললেন। কিন্তু ভগবান সেই কথায় কর্ণপাত না করে নদীতে সাঁতার কাটতে লাগলেন।এরপর রাগে কালিয়া নাগ কৃষ্ণকে আক্রমণ করে বসে।

শ্রীকৃষ্ণকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে ।

 

তখন শ্রীকৃষ্ণ এতই বৃহৎ আকার ধারণ করলেন যেন কালীয়া নাগ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। শ্রীকৃষ্ণ তাকে আঘাত করতে লাগলেন এবং তার ফনার উপর নৃত্য করতে লাগলেন।কালিয়া ভগবানের অসীম শক্তি উপলব্ধি করে তার কাছে ক্ষমা চান।এরপর শ্রীকৃষ্ণ একটি শর্তে ক্ষমা করতে রাজী হন।শর্তটি ছিল কালীয়া নাগ কে অবশ্যই যমুনা ও বৃন্দাবন পরিত্যাগ করে দূরে মধ্য সমুদ্রের অবস্থিত রামাণক দ্বীপে ফিরে যেতে হবে।

অনেকই মনে করেন এই দ্বীপ বর্তমানের ফিজি নামক দেশ।আজও ফিজির লোক কথায় কালিয়া নাগের অস্তিত্ব আছে।

 

কালীয়া নাগ তার দ্বীপে ফিরে যান এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মহত্ব উপলব্ধি করে তার নিত্য সেবকে পরিণত হন।একদিক দিয়ে দেখতে গেলে কালীয়া নাগ হলেন পরম সৌভাগ্যবান কারন তার ফনায় ভগবান তার শ্রীচরণ রেখেছিলেন।

 

আজকের কৃষ্ণ কথা এখানেই শেষ করছি।

ফিরে আসবো কৃষ্ণ কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং গোবর্ধন পর্বত

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং গোবর্ধন পর্বত

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রীকৃষ্ণের সাথে জড়িত বিষয় এবং তার বিভিন্ন লীলা এবং আধ্যাত্মিক তাৎপর্য নিয়ে এই পবিত্র মধুসূদন মাসে আলোচনা করছি।

 

শ্রী কৃষ্ণের শৈশবের সাথে জড়িয়ে আছে গিরিরাজ গোবর্ধন পর্বতের কথা যে পর্বত আজও প্রতিটি কৃষ্ণ ভক্তের কাছে অত্যন্ত পবিত্র স্থান। বৃন্দাবনের দর্শনীয় স্থান গুলির মধ্যে এটি একটি।

 

পুরাণের কাহিনিতে মতে ভালো বৃষ্টি হয়ে যাতে ফলন ভালো হয়, তার জন্য দেবরাজ ইন্দ্রের পুজো করতেন বৃন্দাবনবাসী।কারন গবাদী পশু পালন এবং কৃষি কাজের জন্য জলের উপর নির্ভর করতে হতো।

 

কিন্তু ইন্দ্রের আরাধনায় গরীব বৃন্দাবনবাসীর বিপুল খরচ হতো। এই বিপুল ব্যয় পছন্দ করেননি শ্রীকৃষ্ণ। তাই তিনি সেই খাবার ইন্দ্রকে না দিয়ে ছোট ছেলেমেয়েদের খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। শ্রীকৃষ্ণের কথা মেনে বৃন্দাবনের অধিবাসীরা ইন্দ্রের পুজো না করার সিদ্ধান্ত নেয়। তখন দেবরাজ তিনি প্রচণ্ড রেগে গিয়ে বৃন্দাবনে প্রবল বৃষ্টি নামান।ভারী দুর্যোগ দেখা দেয়।

 

দেবরাজ ইন্দ্রের রোষে বন্যা গোটা বৃন্দাবন প্রায় ভেসে যায়। কৃষ্ণের কারণেই তাঁদের এই বিপদ বলে অভিযোগ করেন বৃন্দাবনবাসী। তারা কৃষ্ণকে সাহায্য করতে বলেন।তখন তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে আসেন কিশোর শ্রীকৃষ্ণ। নিজের কনিষ্ঠ আঙুলের ডগায় বৃন্দাবনের গোবর্ধন পর্বত অনায়াসে তুলে ফেলেন শ্রীকৃষ্ণ।

 

প্রবল বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে তার নীচে আশ্রয় নেয় বৃন্দাবনের সকল মানুষ ও গবাদি পশু। টানা সাত দিন শ্রী কৃষ্ণ আঙুলের ডগায় গোবর্ধন পাহাড় তুলে অটল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন।তার এই দিব্য লীলা দেখে বৃন্দাবনবাসীরা ধন্য হয়।

 

অবশেষে দেবরাজ ইন্দ্র নিজের ভুল বুঝতে পেরে সেই প্রবল বৃষ্টি বন্ধ করেন।রক্ষা পায় বৃন্দাবন

গৃহে ফিরে গেলে মা যশোদা আট দিনের অভুক্ত কৃষ্ণকে ছাপ্পান রকম পদ রান্না করে খাওয়ায়। সেই থেকে ছাপ্পান ভোগের রীতির প্রচলন হয়।

 

এই ঘটনায় শ্রী কৃষ্ণের পাশাপাশি বৃন্দাবনবাসী গোবর্ধন পর্বতের কাছেও ঋণী হয়ে পরে। তারা গোবর্ধন পর্বতকে দেবতা জ্ঞানে পুজো করতে শুরু করেন এবং সেই থেকে দীপাবলির পরের দিন গোবর্ধন পুজো শুরু হয়।

 

ফিরে আসবো কৃষ্ণ কথার পরবর্তী

পর্ব নিয়ে যথা সময়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং গয়না চোর

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং গয়না চোর

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ভগবান শ্রী কৃষ্ণ লীলা ধর।তিনি যে কার সাথে কখন কি লীলা করবেন তা বোঝা দায়। আজ কৃষ্ণ কথায় শ্রী কৃষ্ণের এক অদ্ভুত লীলা অপনাদের শোনাবো।

 

এক সময়ে সময়ে বৃন্দাবনে গোবর্ধন নামে এক কুখ্যাত চোর ছিল। একদিন রাজকর্মচারীরা তাকে ধরার জন্য তাড়া করছিল। পালতে গিয়ে সে এক ভগবত পাঠের আসরে ঢুকে পরে। রাজ কর্ম চারীরা ভগবত পাশের আসরে প্রবেশ না করে ফিরে যায়।

 

সেই সময় সেখানে আলোচনাটি চলছিল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শৈশব সম্পর্কে। কথাকার উল্লেখ করেছিলেন যে শ্রীকৃষ্ণ একজন সাত বা আট বছরের শিশু। তিনি প্রতিদিন গরু চরানোর সময় একটি সোনার লাঠি বহন করেন এবং একটি সোনার মুকুট পরেন।তার গায়ে থাকে বহু মূল্য সোনার গহনা।সেই চোর মনে মনে ভাবতে লাগলো বনে একা একটি ছোট ছেলেকে ডাকাতি করা সহজ হবে।এ সুযোগ ছাড়া যাবেনা। সেই বালককে খুঁজে বের করতেই হবে।

 

আলোচনা শেষ হলেই চোর বক্তাকে সেই ছেলের ঠিকানা জিগেস করলো।কথাকার বললেন সে অনেক দূরে, মথুরার বৃন্দাবনে থাকে। তার বাবার নাম নন্দ বাবা।তারপর পুরো ঠিকানাও দিলো আর ছলে যাওয়ার সময় তাকে পরামর্শ দিলো যে সে চোরদেরও নেতা। সে এত সহজে ওকে ডাকাতি করতে পারবে না। চোর স্বগর্বে ঘোষণা করল, আমি শপথ করছি, যতক্ষণ না আমি ওই ছেলেটিকে ডাকাতি করি, ততক্ষণ আমি জল স্পর্শ করবো না।তার জেদ দেখে তিনি বললেন কিছু মাখন এবং চিনি তোমার সাথে নিয়ে যাও। এতে সে খুশি হতে পারে।চোর তাই করলো।

 

বেচারা চোর, ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত অবস্থায় বৃন্দাবনের পথে পথে ঘুরতে লাগলো । যাদের জিজ্ঞাসা করেছিল তারা সবাই তাকে বলেছিল যে শ্রী কৃষ্ণ আর নেই এখনে। সে অনেক যুগ আগের কথা। ভগবানের দর্শন পাওয়া এযুগে ওতো সোজা না অনেক তপস্যা করতে হয়।কিন্তু চোর হাল ছাড়বেনা। কৃষ্ণকে তার চাই। সেই সব সোনার গহনা তার চাই।

 

অবশেষে একদিন সে দেখতে পেল অনেক সুন্দর গরু এবং রাখাল তার সামনে এসে হাজির। তাদের মধ্যে সেই মনোমুগ্ধকর শিশু কৃষ্ণও ছিল যার জন্য তার এখানে আসা। সেই সব গহনা। মুকুট এবং সোনার লাঠি সবই আছে।চোর এগিয়ে গিয়ে ভগবানকে বললেন তোমার সমস্ত অলংকার খুলে আমাকে দাও।শ্রী কৃষ্ণ ভীত না হয়ে মৃদু হেসে অসম্মতি জানালেন।চোর এবার বললো আমি তোমার জন্য মাখন এবং চিনি এনেছি। এই কথা শুনে ভগবান খুশি হলেন এবং সব অলংকার এবং সোনার লাঠি তার হাতে দিলেন।

 

সেই মুহূর্তে চোরের বোধদয় হলো।সে বুঝলো এসব তুচ্ছ। স্বয়ং ভগবানের দর্শন পেয়েছে সে। সব ত্যাগ করে নিজের দেহ মন সেই মুহূর্তে ভগবানের চরণে সমর্পন করে উদ্ধার লাভ করলো কুখ্যাত গোবর্ধন চোর। ভগবান ও তাকে কৃপা করলেন কারণ এক জন চোর হয়েও সে ভগবানে আস্থা রেখেছে। সব ভুলে তার জন্য ব্যাকুল হয়ে ছুটে বেরিয়েছে।

 

পরবর্তী পর্বে আরো এক কৃষ্ণ লীলা নিয়ে আপনাদের জন্য ফিরে আসবো কৃষ্ণ কথায়।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – নরকাসুর বধ

কৃষ্ণ কথা – নরকাসুর বধ

কৃষ্ণ কথা – নরকাসুর বধ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শ্রী কৃষ্ণ এই সৃষ্টিকে একাধিক বার বহু ভয়ঙ্কর অসুরের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। বহু অসুর কে বধ করে তাদের উচিৎ শিক্ষা দিয়েছিলেন। এমনই এক অসুর ছিলো নরকাসুর। আজকের পর্বে জানাবো এই নরকাসুর বধের কথা।

পুরান অনুসারে নরকাসুর নামে এক অসুর তার শক্তি দিয়ে দেবতা ও ঋষিদের সঙ্গে ১৬ হাজার একশত সুন্দরী রাজকন্যাকে বন্দী করেছিল এবং তাদের নিজের দাসী বানিয়ে রেখে ছিলো।
নরকাসুরের অত্যাচারে দেবতা ও সাধুরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরণাপন্ন হন।কিন্তু নরকাসুরকে বধ করা ভগবানের পক্ষেও সহজ ছিলো না কারন
নরকাসের নিয়তি ছিলো যে সে এক মহিলার হাতে বধ হবে।তাই ভগবান শ্রী কৃষ্ণ তাঁর স্ত্রী সত্যভামার
সহায়তা চান এবং কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশীতে শ্রী কৃষ্ণ এবং তার স্ত্রী সত্য ভামা নরকাসুরকে যুদ্ধে পরাজিত করেন এবং বধ করেন এবং ১৬ হাজার একশত রাজকন্যাকে তাঁদের বন্দিদশা থেকে মুক্ত করেন।

নরকাসুরের মৃত্যুর পর বন্দী দশা থেকে মুক্তি পেয়ে সেই ষোলো হাজার রমণী শ্রী কৃষ্ণের কাছে তাদের উদ্ধার করার প্রার্থনা জানান। স্বামী ছাড়া সেই যুগে রমণীদের সমাজে সন্মান এবং নিরাপত্তা হীনতায় ভুগতে হতো তাই তাদের নিরাপত্তা এবং সন্মান প্রদান করতে শ্রী কৃষ্ণ তাদের শাস্ত্র মতে বিবাহ করেন। এই কারণেই শ্রী কৃষ্ণের ষোলো হাজার স্ত্রীর কথা শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।

নরকাসুরকে বধের তিথি আজও নরক চতুর্দশী রূপে পালিত হয়।কথিত আছে যে, শ্রীকৃষ্ণ যখন নরকাসুরকে বধ করেছিলেন, তখন তাকে বধ করার পর তিনি তেল দিয়ে স্নান করেছিলেন তাই আজও নরক চতুর্দশীতে তেল মাখানোর বা তেল অর্পণ করার রীতি প্রচলিত আছে।

ফিরে আসবো কৃষ্ণকথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে। থাকবে কৃষ্ণ সংক্রান্ত এরকম অনেক তথ্য এবং পৌরাণিক ঘটনা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – অঘাসুর বধ

কৃষ্ণ কথা – অঘাসুর বধ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জন্ম থেকেই শ্রী কৃষ্ণকে বধ করতে চাইতেন তার মামা কংশ। একের পর এক অসুর এবং দৈত্যকে তিনি পাঠিয়েছেন। একাধিক বার ষড়যন্ত্র করেছেন কৃষ্ণর বিরুদ্ধে। কিন্তু যিনি স্বয়ং ভগবান তাকে বধ করা অসম্ভব। প্রতিবারই শ্রী কৃষ্ণ নিজেকে এবং নিরীহ ব্রজবাসীদের রক্ষা করেছেন। আজকের পর্বে শ্রী কৃষ্ণ কতৃক অঘাসুর বধের বৃত্তান্ত আপনাদের জানাবো।

 

একদিন শ্রীকৃষ্ণ তার বন্ধুদের একত্রিত করে বনভোজনে যান। বনভোজনের আনন্দে তাঁরা সকলেই উৎফুল্ল হয়ে উঠেছিল।মনের আনন্দে সবাই নানারকম খেলাধুলা করতে লাগলেন সেই সময় কংসের আদেশে অঘাসুর কৃষ্ণকে হত্যা করার জন্য বৃন্দাবনে আসেন।সম্পর্কে অঘাসুর ছিল পুতনা ও বকাসুরের ছোট ভাই।

 

খুঁজতে খুঁজতে অঘাসুর বনে প্রবেশ করেন এবং কৃষ্ণকে দেখে এক সাধারণ নরশিশুই মনে করেন ওই মহাসুর। ক্রোধে এবং ভীষণ প্রতিশোধস্পৃহায় আগুনের মতো জ্বলতে থাকে সেই ভয়ঙ্কর অসুর । কৃষ্ণকে দেখে অঘাসুর ভাবে, এই ছেলেই তাঁর বোন ও ভাইকে হত্যা করেছে।যেভাবেই হোক কৃষ্ণকে সে বধ করবেই।

 

অঘাসুর নিজের রূপ বদলাতে জানতো।কৃষ্ণকে বধ করার জন্য জঙ্গলের মধ্যে নিজেকে বিশাল অজগর সাপে পরিণত করে পর্বতের গুহাসদৃশ মুখ প্রসারিত করে কৃষ্ণের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কৃষ্ণ সহ বাকি গোবালকরা অঘাসুরের মায়ায় মোহিত হয়। ভাবে অজগর সাপের মতো দেখতে একটি প্রাকৃতিক গুহা। সেই গুহার ভিতরে যাওয়ার কৌতূহল প্রকাশ করে তাঁরা। সকলেই জানে, তাঁদের রক্ষা করার জন্য কৃষ্ণ তো রয়েছেই। বিপদ এলে সেই তাঁদের রক্ষা করবে। সেই কথামতো গোপ বালকরা ওই অজগর সাপ সদৃশ গুহার ভিতরে প্রবেশ করে।কৃষ্ণ অন্তর্যামী তিনি সব জেনেও না জানার ভান করে বাইরে অপেক্ষা করতে লাগলেন। এদিকে কৃষ্ণের জন্য অপেক্ষা করছিল অঘাসুর। তাই তাঁদের তখনই গিলে ফেলল না।সেঅ অপেক্ষা করতে লাগলো।

 

কিছুক্ষন পর বালক কৃষ্ণ সব বুঝতে পেরে সঙ্গীদের রক্ষা করার জন্য অঘাসুরের মুখগহ্বরে প্রবেশ করেন। সাথে সাথে অঘাসুর অর্থাৎ সেই অজগর সাপটি তার মুখ বন্ধ করে সব পথ বন্ধ করে দিল। এটাই ছিলো তার চরম ভুল।কৃষ্ণ তার দেহ প্রসারিত করে করতে থাকেন। অঘাসুরের পক্ষে আর বেশিক্ষন সেই দেহ ধারণ করা সম্ভব ছিলো না।নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে অঘাসুরের চোখদুটি বাইকে বেরিয়ে আসে।অঘাসুর সেখানেই মৃত্যুবরণ করে।এবং শ্রী কৃষ্ণ সহ তার সখারা বাইরে বেরিয়ে আসে।

 

পরবর্তী পর্বে কৃষ্ণের এমনই এক লীলা নিয়ে আবার ফিরে আসবো কৃষ্ণ কথায়। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং ফল বিক্রেতা

কৃষ্ণ কথা – শ্রী কৃষ্ণ এবং ফল বিক্রেতা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বৃন্দাবনে আজও শ্রী কৃষ্ণের একটি বাল্য লীলা সবার মুখে মুখে ফেরে যেখানে শ্রী কৃষ্ণ একজন সাধারণ ফল বিক্রেতা রমণীকে খেলার ছলে তার অলৌকিক শক্তি দেখিয়ে ছিলেন।

একদিন শ্রী কৃষ্ণ তার সখাদের সাথে বৃন্দাবনের পথে খেলছিলেন। ঠিক সসময় এক দরিদ্র ফল বিক্রেতা মহিলা এলেন । ক্ষুদার্থ শ্রী কৃষ্ণ ফল
বিক্রেতার কাছে ফল চাইলেন।ফল বিক্রতা বললেন তার ছেলেমেয়েরা তিন দিন থেকে অনাহারে আছি । এই ফল বেচে তাদের জন্য খাবার কিনতে হবে। তাই কিছু অন্নর বিনিময়ে তিনি ফল দিতে পারবেন।এই কথা শুনে শ্রী কৃষ্ণ ঘরে অন্ন অনতে গেলেন।

অন্ন নিয়ে আসার সময়ে ছোট কৃষ্ণের হাতের মধ্যে থেকে সব অন্ন পড়ে গেল। তিনি আবার গেলেন অন্ন আনতে কিন্তু এবার ও ব্যার্থ হলেন।এমন করে বেশ কয়েকবার একই ঘটনা ঘটলো বারবারই সব অন্ন নিচে পড়ে যেতে লাগল।

এই ঘটনা দেখে ফলবিক্রেতা মহিলার মন গলে গেল ।বলল আমারো দুটো ছেলে আছে তাদের ক্ষিধার জন্য কান্না তিনদিন থেকে দেখছি । তুমিও আমার পুত্র সম। তুমিও ক্ষুদার্থ এই নাও আমার ঝুড়ির সব ফল নাও ।কৃষ্ণ আনন্দে সব ফল গ্রহন করলেন।

এদিকে সব ফল দান করে শুন্য ঝুড়ি নিয়ে ঘরে ফিরে আসে ঐ ফল বিক্রেতা মহিলা । তার এক ছেলে সেই ঝুড়ির দিকে এগিয়ে যায় ।ভাবে যদি অন্ন বা অন্য খাদ্য সামগ্রী পাওয়া যায় । কিন্তু গিয়ে দেখে একি সেই ঝুড়ি তো স্বর্নালংকারে ভর্তি ।ফলবিক্রেতা এই লীলা দেখে বুঝতে পারে শ্রী কৃষ্ণ সাধারন মানব না। তিনি অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন দেব শিশু বা হয়তো ভগবান আজ
তাকে কৃপা করেছেন।তার সব কষ্ট দুর হয়েছে।

কৃষ্ণ কথা পরবর্তী পর্ব নিয়ে আবার ফিরে আসবো যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কৃষ্ণ কথা – রাধা কৃষ্ণর বিবাহ

কৃষ্ণ কথা – রাধা কৃষ্ণর বিবাহ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রী কৃষ্ণের প্রেম লীলা নিয়ে এবং শ্রী রাধার সাথে তার সম্পর্ক নিয়ে যতটা আলোচনা হয় তাদের বিবাহ নিয়ে ততটা আলোচনা হয়না কারণ অনেকই মনে করেন বিষয়টি বিতর্কিত এবং শাস্ত্রে নানা রকম যুক্তি এবং ব্যাখ্যা আছে। আজ শ্রী কৃষ্ণ এবং শ্রী রাধার বিবাহ নিয়ে লিখবো।

 

যারা মনে করেন কৃষ্ণ রাধাকে বিবাহ করেননি তাদের মত শ্রী কৃষ্ণ এবং রাধা এক এবং অভিন্ন একই শক্তির দুই রূপ তাই তাদের বিবাহর প্রয়োজন নেই। তবে শাস্ত্রে রাধা কৃষ্ণর বিবাহের কথা আছে। সে বিষয়ে পরে আসছি আগে রাধার সাথে আয়ান ঘোষের বিবাহ নিয়ে বলা প্রয়োজন।

 

আয়ানের আসল নাম অভিমন্যু। গোকুলের বাসিন্দা আয়ান পেশায় ছিলেন দুধের ব্যবসায়ী। সম্পর্কে কৃষ্ণের পালিকা মা যশোদার তুতো ভাই ছিলেন আয়ান। তাঁর সঙ্গে রাধার বিয়ের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন কৃষ্ণের পালক পিতা নন্দ। কালী-ভক্ত আয়ান পুজো-অর্চনা নিয়েই থাকতেন। অন্য কোনও বিষয়ে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল না।

তাই বিবাহ হলেও রাধা এবং আয়ান ঘোষের মধ্যে দাম্পত্য জীবন সেই ভাবে গড়ে ওঠেনি।

 

শ্রী রাধা এবং কৃষ্ণের প্রেম পবিত্র এবং তা পূর্ব নির্ধারিত কারণ কৃষ্ণ আসলে নারায়ণের একটি রূপ এবং রাধা লক্ষ্মীর রূপ। রাধা-কৃষ্ণের প্রেম যুগ যুগ ধরে চলে আসছে রাধা-রূপী লক্ষ্মী কৃষ্ণের সঙ্গীনি হতেই মর্ত্যে অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

 

আবার শাস্ত্রে এও আছে যে ছোটবেলায় খেলার ছলে রাধা কৃষ্ণের বিবাহ সম্পন্ন হয় এবং সেই বিয়ের আচার সম্পূর্ণ করেন স্বয়ং ব্রহ্মা।

বিয়ের সাক্ষী ছিলেন সব দেবতাগণ। কৃষ্ণের সঙ্গে আগেই বিয়ে হয়ে যাওয়ায় আয়ানের সঙ্গে রাধার বিয়ে বৈধ নয় এবং রাধা কৃষ্ণের সম্পর্ক বিবাহ বহির্ভূত নয়। শাস্ত্র সম্মত।

 

ফিরে আসবো কৃষ্ণ কথা নিয়ে আগামী পর্বে। শ্রী কৃষ্ণ কে নিয়ে আরো অনেক আলোচনা

বাকি আছে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।