ভক্তের ভগবান – শ্রী রাম ভক্ত জাম্ববান

313

ভক্তের ভগবান – শ্রী রাম ভক্ত জাম্ববান

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রভু শ্রী রামের ভক্তদের কথা উঠলেই সাধারণত রুদ্রবতার বজরংবলীকে নিয়ে আলোচনা হয় তবে রামায়নে আরো অনেক রামভক্ত আছেন। তাদের মধ্যে অনেকই সেই ভাবে প্রচারের আলোয় আসেননি এদের মধ্যে অন্যতম রামভক্ত এবং শ্রী রামের বানর সেনার অন্যতম বীর যোদ্ধা জাম্ববান।

 

পৌরাণিক কাহিনি মতে ভল্লুক রাজ জাম্ববানকে ব্রহ্মা সৃষ্টি করেছিলেন। অসীম ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন জাম্ববান।ত্রেতাযুগে জাম্ববান সুগ্রীবের মন্ত্রি ছিলেন ও রাম-রাবণের যুদ্ধকালে সুগ্রীব ও রামকে সাহায্য করেছিলেন।

 

শিশু রূপে হনুমান বিভিন্ন ঋষিদের আশ্রমে উপদ্রব শুরু  করলে, ঋষিদের অভিশাপে যখন দীর্ঘদিন তাঁর নিজের ক্ষমতা সম্পর্কে বিস্মৃত হয়ে থাকেন।হনুমান কর্তৃক সাগর লঙ্ঘনের

আগে  জাম্ববান হনুমানকে তাঁর ক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। এরপর থেকে বজ্রবলী আর তাঁর ক্ষমতা সম্পর্কে আর বিস্মৃত হন নি।সেদিক দিয়ে রাবনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয় লাভে জাম্ববানের বড়ো ভূমিকা ছিলো।

 

দ্বাপর যুগে সত্রাজিৎ নামে এক রাজা কঠোর তপস্যাকরে সূর্যের কাছ থেকে সামন্তক মণি লাভ করেন। এই সামন্তক মণি নিজের কাছে পেতে চেয়েছিলেন স্বয়ং শ্রী কৃষ্ণ। সত্রাজিতের ভাই এই মণি ধারণ করে মৃগয়ায় গেলে সিংহ দ্বারা নিহত হন তখন ওই বনে বসবাসকারী জাম্ববান সেই

সিংহ কে হত্যা করে সামন্তক মণি উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে শ্রী কৃষ্ণ সামন্তক মনির সন্ধান করে বনে আসেন এবং জাম্ববানের সঙ্গে তার ভীষণ

যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে জাম্ববান পরাজিত হন এবং শ্রী কৃষ্ণ সামন্তক মণি হস্তগত করেন।

 

জাম্ববান উপলব্ধি করেন যে, রামই কৃষ্ণরূপে জন্মগ্রহণ করেছেন। পরে তিনি তার কন্যা জাম্ববতীর সাথে কৃষ্ণের বিবাহ দেন এবং বিষ্ণুর আরাধনা করে দেহত্যাগ করেন।

 

ভক্তের সাথে ভগবানের যুদ্ধ এবং ভগবানের আরাধনায় ভক্তের প্রাণ ত্যাগ এই সবই

ভক্তের প্রতি ভগবানের লীলা ছাড়া আর কিছুনয়।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে ভক্ত এবং

ভগবানের আরো একটি লীলা নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।