ভক্তের ভগবান – ত্রৈলঙ্গ স্বামীর অলৌকিক লীলা

89

ভক্তের ভগবান – ত্রৈলঙ্গ স্বামীর অলৌকিক লীলা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ত্রৈলঙ্গ স্বামীকে বলা হতো কাশীর সচল শিব।

বহু ভক্ত শিষ্যকে তিনি নানা অলৌকিক অভিজ্ঞতা

বা লীলা প্রদর্শন করিয়েছিলেন। বহু সাধারণ মানুষ তার কৃপা পেয়ে ধন্য হয়ে ছিলেন। আজ এমনই কয়েকটি ঘটনা আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

 

শোনা যায় সন্ন্যাসী রূপে দেশ ভ্রমণ কালে তিনি একবার নেপালে পৌঁছে ছিলেন। সেই সময় নেপালের জঙ্গলে শিকাররত এক রানা একটি বিরাট বাঘের পেছনে ধাওয়া করে করে যখন ক্লান্ত তখন জঙ্গলের গভীরে তিনি এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখলেন। তিনি দেখলেন এক বিরাট গাছের নিচে বোসে আছেন এক জটাধারী স্থূল দেহি সন্ন্যাসী এবং তার সামনে বোসে আছে সেই হিংস্র বাঘটি।

সন্ন্যাসী তার গায়ে হাত বুলিয়ে তাকে আদর করে দিচ্ছেন। এ কিভাবে সম্ভব? রানা এই প্রশ্ন সেই সন্ন্যাসী কে করতে তিনি শান্ত ভাবে বললেন মন থেকে হিংসা দুর করতে পারলে জগতের সব জীব সমান মনে হবে। ভেদাভেদ থাকবেনা। বাঘ

যতই হিংস্র হোক ভালোবাসা দিয়ে তাকেও বশ করা সম্ভব। এই সন্ন্যাসী আর কেউ নন স্বয়ং ত্রৈলঙ্গ স্বামী।

 

দ্বিতীয় যে ঘটনাটির কথা বলবো তা ঘটেছিলো কাশিতে। একবার এক ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার কৌপিন পরিহিত ত্রৈলঙ্গ স্বামীকে কাশির ঘাটে বিচরণ করতে দেখে তাকে গ্রেপ্তার করে জেলে ভোরে দেন। পরদিন ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় সেই অফিসার দেখেন সেই সন্ন্যাসী প্রতিদিনের ন্যায় গঙ্গার ঘাটেই আছে। দ্রুত তিনি জেলে পৌঁছে দেখেন না সেই সন্ন্যাসী তো জেলেই বন্দি আছেন। আবার তিনি গঙ্গার ধারে অনুসন্ধান করতে যান এবং সেই সন্ন্যাসকে দেখতে পান। জেলে ফিরে গিয়ে তাকে আগের অবস্থাতেই আবিষ্কার করেন। তখন সেই অফিসার বুঝতে পারেন না এই নিশ্চই অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী এক সিদ্ধ পুরুষ। তৎক্ষণাৎ তিনি তার কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে

মুক্ত করেন।

 

এমনই ছিলেন কাশির সচল বিশ্বনাথ ত্রৈলঙ্গ স্বামী। তার অলৌকিক ক্ষমতা বহুবার তার ভক্তরা প্রত্যক্ষ করেছেন।

 

ফিরে আসবো ভক্তের ভগবান নিয়ে আগামী পর্বে থাকবে আরো এক মহান সাধক এবং তার অলৌকিক লীলা প্রসঙ্গে আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।