ভক্তের ভগবান – ভবা পাগলার অলৌকিক লীলা

179

ভক্তের ভগবান – ভবা পাগলার অলৌকিক লীলা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সাধক ভবা পাগলা যেমন সারাজীবন মাতৃ শক্তির আরাধনা করে গেছেন এবং মাতৃ মূর্তির মধ্যে পরমব্রহ্ম কে উপলব্ধি করেছেন তেমনই ভবা পাগলার ভক্তদের কাছে তিনি ছিলেন সাক্ষাৎ ব্রহ্ম স্বরূপ। মা কালী যেমন তার এই পাগল সন্তানের সাথে নানারকম লীলা করেছেন তেমনই ভবা পাগলাও তার ভক্তদের বহু বার নানা রকম অলৌকিক অনুভূতি করিয়েছেন। আজ এই মহান সাধক এবং মাতৃভক্তকে নিয়ে লিখবো।

 

প্রথমে ভবা পাগলার সংক্ষিপ্ত পরিচয় জেনে নেয়া যাক।ভবা পাগলার জন্ম আনুমানিক ১৮৯৭ খৃস্টাব্দে বাংলাদেশে, তার পিতার নাম গজেন্দ্র কুমার সাহা, পারিবারিক সূত্রেই ভবা ছিলেন কালী সাধক পরবর্তীতে দেশ ভাগ হলে ভবাকে চলে আসতে হয় ভারতে সেখানেও তার সঙ্গে ছিলো একটি কালী মূর্তি,থাকতে শুরু করেন শোভাবাজার অঞ্চলে এক ভক্তের গৃহে, সেখান থেকেই ক্রমশঃ ছড়িয়ে পড়তে থাকে তার গান ও অলৌকিক কীর্তি|

 

ভবাপাগলার মধ্যে ছিলো অসীম আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও বিশাল অলৌকিক ক্ষমতা, যা বার বার ধরা দিয়েছে তার নানান কর্ম কাণ্ডে, শোনা যায় একবার এক দুরারোগ্য ব্যাধি তে আক্রান্ত ব্যাক্তি কে অলৌকিক ভাবে সুস্থ করে দিয়েছিলেন ভবাপাগলা|

 

একবার ভবাপাগলা তার ভক্তদের এক অদ্ভুত দর্শন করিয়ে ছিলেন বলে শোনা যায়। সেবার ভবা পাগলা তার কয়েকজন ভক্তকে নিয়ে সাধক রামপ্রসাদের ভিটে এবং মন্দির দর্শন করতে গেছিলেন। গভীর জঙ্গলে তাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে গিয়ে ছিলো এক রহস্যময় শেয়াল এবং এক সুন্দর সাদা রঙের গাভী। জঙ্গলে এক বহু প্রাচীন মাটির কুটিরে গিয়ে তারা যখন পৌছালেন তখন সাদা থান পড়া এক বৃদ্ধা ভবাকে স্বাগত জানালেন। তাকে আশীর্বাদ করলেন এবং আদর করে নারকেল মুড়ি খেতে দিলেন তারপর হটাৎ

অদৃশ্য হয়ে যান। যখন ভক্তরা ভবা পাগলার কাছে জানতে চান কে ওই বৃদ্ধা। ভবাপাগলা হেসে বলেছিলেন তিনি স্বয়ং দেবী ধুমাবতী। আজ কৃপা করে তিনি দর্শন দিয়েছেন।এই কথা শুনে ভবা পাগলার সাথে থাকা শিষ্যরা শিহরিত হয়েছিলেন এবং মনে মনে ভবা দেবী ধুমাবতীকে প্রণাম জানিয়ে ছিলেন।

 

আরো এমন বহু অলৌকিক কীর্তি আছে তার সারা জীবনে|নিজের জীবদ্দশায় প্রায় সাতটি কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি|ভবা পাগলা ছিলেন পাগল সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং পরবর্তীতে বহু মানুষ তার আদর্শে দীক্ষিত হয়ে তার চরনে নিজেদের জীবন সমর্পন করেছেন।এই মহান সাধক ১৯৮৪ খৃস্টাব্দে দেহ ত্যাগ করেন, আজও তিনি স্মরণীয় তার অলৌকিক কীর্তি ও তার গানের জন্যে।

 

ভক্ত এবং ভগবানের এমনই আরো একটি অলৌকিক লীলা নিয়ে ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।