Home Blog Page 3

প্রভু জগন্নাথের গজবেশ এবং কালিয়া দমন বেশ

প্রভু জগন্নাথের গজবেশ এবং কালিয়া দমন বেশ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন স্নান যাত্রা উপলক্ষে আজ থেকে প্রভু জগন্নাথকে নিয়ে লিখবো। ধারাবাহিক ভাবে।

প্রভু জগন্নাথের রাজ বেশ জগৎ বিখ্যাত। তবে তাছাড়াও নানা সময়ে নানা বেশে তিনি অবির্ভুত হন।আজ জগন্নাথ দেবের বিশেষ দুই বেশ গজ বেশ এবং কালিয়া দমন বেশ নিয়ে আজ লিখবো।

 

গজ বেশ বা হাতিবেশ রথযাত্রার আগে স্নান যাত্রার সময় দেখা যায় । এই সময়ে গণপতির বেশে জগন্নাথকে সাজানো হয় বলে নাম ‘হাতি বেশ’। এই গজ বেশের নেপথ্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা আছে|বহু শতক আগে পুরীর রাজার রাজদরবারে এসেছিলেন পণ্ডিত গণেশ ভট্ট। রাজা তাঁকে জহগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা দেখবার জন্য আহ্বান জানান। তবে তা দেখতে যাওয়ার ইচ্ছা ছিলনা গনেশ ভট্টর। কারণ তাঁর আরাধ্য দেবতা গণপতি স্বয়ং তিনি আর কারুর প্রতি আগ্রহী নন । তবে রাজার অনুরোধে স্নানযাত্রায় গিয়ে গণেশ ভট্ট আবিষ্কার করেন জগন্নাথ গণেশ রূপেই তাকে দেখা দিয়েছেন।ভক্ত যে রূপে চান সেই রূপেই ভগবান ধরা দেন। জগন্নাথের মধ্যে সম্পূর্ণ ব্রম্ভান্ড বিরাজমান এই সত্য উপলব্ধি করে গণেশ ভট্ট জগন্নাথের ভক্ত হয়ে ওঠেন।সেই ঘটনার পর থেকেই স্নান যাত্রায় জগন্নাথের গজ বেশ বেশ হয়।

 

পুরীর জগন্নাদেবের বিভিন্ন বেশের মধ্যে অন্যতম হল কালিয়াদমন বেশ। ভাদ্র একাদশীর দিন পুরীর জগন্নাথকে সাজানো হয় এই বিশেষ বেশে। যেভাবে শ্রীকৃষ্ণ দুর্দমনীয় রাক্ষস কালিয়াকে হত্যা করেছিলেন সেই বেশেই এদিন সাজানো হয় জগন্নাথকে।শ্রী কৃষ্ণ এবং জগন্নাথ দেব এক এবং অভিন্ন। শ্রী কৃষ্ণ ব্রহ্ম পদার্থ রূপে জগন্নাথ মূর্তিতে বিরাজমান আবার অনেকের মতে জগন্নাথ দেব স্বয়ং বামন অবতার তাই কৃষ্ণ রূপে এই বিশেষ বেশে তার পুজো করার যথেষ্ট কারন আছে।

 

প্রভু জগন্নাথের মহিমা এবং প্রভুর নানা লীলা নিয়ে আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দশহরা ও মা গঙ্গার পূজোর শুভেচ্ছা 

দশহরা ও মা গঙ্গার পূজোর শুভেচ্ছা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

গঙ্গার মর্তে আগমনের সময় নিয়ে মত পার্থক্য আছে অনেকে মনে করেন অক্ষয় তৃতীয়ায় মর্তে গঙ্গার আগমন হয় আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করেন আজকের তিথিতে অর্থাৎ এই গঙ্গা দশহরা পূজোর দিন গঙ্গার আগমন হয় মর্তে।তাই আজ গঙ্গা দশহরায় মা গঙ্গার পূজো হয়।

রাজা ভগীরথ তার পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য গঙ্গাকে মর্তে এনে ছিলেন। গঙ্গার প্রবল তেজে পৃথিবী যখন ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয় তখন শিব গঙ্গাকে তার জটায় আশ্রয় দেন। সেই থেকে শিবের জটায় গঙ্গার অবস্থান।

সনাতন ধর্মে গঙ্গা কোনো সাধারণ নদী নয়। গঙ্গা এক দেবী তার উৎপত্তি নিয়ে পুরানে নানা তথ্য পাওয়া যায়।

শাস্ত্র আমাদের বলে যে গঙ্গা সপ্তমীর দিনে মা গঙ্গা ব্রহ্মার কমন্ডল থেকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

গঙ্গা সম্পর্কে শিবের স্ত্রী পার্বতীর বোন।

পুরানে দেবী গঙ্গার জন্ম নিয়ে অনেক জনপ্রিয় গল্প আছে। বামন পুরাণ অনুসারে, শ্রী হরি বিষ্ণু যখন তাঁর বামন রূপে তাঁর একটি পা আকাশের দিকে তুলেছিলেন, তখন ভগবান ব্রহ্মা তাঁর পা জল দিয়ে ধুয়ে তাঁর কমণ্ডলুতে ভরেছিলেন। এই পবিত্র জলের তেজ ও শক্তিতে ভগবান ব্রহ্মার কমণ্ডলে দেবী গঙ্গার জন্ম হয়েছিল। এর পর ব্রহ্মা তাকে হিমালয় রাজের হাতে তুলে দেন । সেই থেকে মা গঙ্গা এবং দেবী পার্বতীকে বোন হিসেবে গণ্য করা হয়।

রামায়ণ অনুসারে আরেকটি কাহিনি আছে যেখানে বলা হচ্ছে ব্রহ্মা হিমাবত সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি পরে হিমালয়ের রাজা হন এবং মেরু কন্যা মেনকা বিয়ে করেন। বেশ কয়েক বছর পর, তারা একটি কন্যার আশীর্বাদ পেয়েছিলেন যার নাম তারা গঙ্গা রাখেন। কিছু বছর পর, তাদের আরেকটি কন্যা হয়েছিল যার নাম তারা পার্বতী রাখে এবং যাকে সতীর অবতার বলে

মনে করা হয়।

সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করা হয় আজকের দিনে গঙ্গাস্নান করলে বা গঙ্গার উদ্দেশ্যে ফুল এবং

ফল নৈবেদ্য রূপে প্রদান করলে বহু জন্মের পাপ

খণ্ডন হয়।

সবাইকে জানাই দশহরা এবং গঙ্গা পূজোর

অনেক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন।

অম্বুবাচি উৎসব 

অম্বুবাচি উৎসব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

অম্বুবাচি মানে যেমন একাধিক শাস্ত্রীয় বিধি নিষেধ তেমনই অম্বুবাচির শেষ মানে উৎসব এবং অম্বুবাচি মেলা।প্রায় সারা দেশ বিশেষ করে পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে অম্বুবাচির এই কয়েকটা দিন কে নানা ভাবে পালন করা হয় তবে আসামে এটি সর্ব বৃহৎ উৎসব।কামাখ্যা মন্দিরের কাছে অনুষ্ঠিত অম্বুবাচী মেলা হল পূর্ব ভারতের অন্যতম বড় ধর্মসভা যা সনাতন ধর্মের মানুষদের এক বিরাট মিলন উৎসব।

 

দেবী কামাখ্যা মাতৃ শক্তিকে মূর্ত করে। অম্বুবাচি চলা কালীন মন্দিরের দরজা সকলের জন্য বন্ধ থাকে। অম্বুবাচির নিবৃত্তির পর আবার আনুষ্ঠানিক ভাবে দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং সেই দিন মন্দির চত্বরে একটি বড় মেলা বসে।

 

পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত কামাখ্যা মন্দির যেখানে অবস্থিত সেখানেই পতিত হয়েছিলো দেবীর যোনি তাই অম্বুবাচি উৎসব এই অঞ্চলের প্রধান উৎসব

তবে সারা ভারত, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং আসাম থেকে হাজার হাজার মানুষ

এই উৎসবটি দেখতে আসেন এবং দেবীর কাছ থেকে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।

 

এই স্থানটি তন্ত্র সাধনার জন্যও খুব বিখ্যাত।

অম্বুবাচি উপলক্ষে বহু তন্ত্র সাধক আসেন এখানে।

আজও এখানে একটি গুপ্ত তান্ত্রিক সমাজ রয়েছে বলে মনে করা হয় এবং তাদের সমস্ত তান্ত্রিক আচার অনুষ্ঠান গোপনে পরিচালিত হয় কোন রূপ বাহ্যিক প্রদর্শন নেই অম্বুবাচি মেলায় তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকেন বলে ধরে নেয়া হয়।

 

সেদিক দিয়ে দেখতেগেলে অম্বুবাচি উৎসব বা অম্বুবাচি মেলা আধ্যাত্মিক জগৎ বিশেষ করে তন্ত্র জগতের সব থেকে বড়ো মিলন উৎসব।

অ্যাম্বুবাচি উৎসব মাতৃ শক্তিকে কেন্দ্র করে আবর্তীত হয় যা সমগ্র সৃষ্টির মূল চালিকা

শক্তি বলে মনে করা হয়।

 

অম্বুবাচী সংক্রান্ত শাস্ত্রীয় উপস্থাপনা নিয়ে

আবার ফিরে আসবো আগামী দিনে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

অম্বুবাচী ও কামরূপ কামাখ্যা

অম্বুবাচী ও কামরূপ কামাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রী জাতক

 

প্রতি বছর অম্বুবাচী উপলক্ষে আসামের কামাখ্যায় দেশের সর্ব বৃহৎ উৎসবটি আয়োজন করা হয় যা অম্বুবাচী মেলা নামে প্রসিদ্ধ।আজ জানবো শক্তি পীঠ কামাখ্যা ও তার সাথে জড়িয়ে থাকা অম্বুবাচী সংক্রান্ত নানা প্রথা, কিংবদন্তি ও তার আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা।

 

কামরূপ হচ্ছে তীর্থচূড়ামণি। তীর্থচূড়ামনির অর্থ হলো সব তীর্থের মধ্যে সেরা তীর্থ স্থান। যেখানে সতীর যোনি মন্ডল পতিত হয়েছিল সেই জায়গাটাকে বলে কুব্জিকাপীঠ। আজও বিশ্বাস করা হয় যে যোনিরূপ যে প্রস্তরখণ্ডে মা কামাক্ষা অবস্থান করছেন সেই শিলা স্পর্শ করলে মানুষ সকল পাপ তাপ থেকে রক্ষা পায়।

 

পুরান অনুসারে স্বয়ং কাম দেব এই সতী পীঠ আবিষ্কার করেন এবং দেবীর পুজো করে শাপমুক্ত হন এবং নিজের হারানো রূপ যৌবন ফিরে পান।

তার নামে স্থানটির নাম হয় কামরুপ।

শাস্ত্র মতে যেহেতু দেবী সতীর গৰ্ভ ও যোনি পতিত হয়েছিল এই স্থানে এই কারণে এই দেবীকে অনেকে উর্বরতার দেবী বা রক্ত ক্ষরণ কারী দেবীও বলে থাকেন তাই স্বাভাবিক ভাবেই অম্বুবাচী যা দেবীর ঋতু মতি হওয়ার উৎসব এই স্থানে সর্বাধিক গুরুত্ব সহকারে পালন হয়|

 

অম্বুবাচির সময়ে বিশেষ কিছু প্রথা পালন করা হয় এখানে।অম্বুবাচীর দিন থেকে পরবর্তী তিন দিন দেবীর মন্দির বন্ধ থাকে|এই সময় দেবীর দর্শন নিষিদ্ধ|এই সময়ে একটি লাল কাপড় দিয়ে

দেবীকে ঢেকে রাখা হয় ভক্তরা মন্দিরের বাইরে থেকে দেবীকে প্রনাম করেন ও নিজের মনোস্কামনা ব্যক্ত করেন|শোনা যায় নিয়ম অমান্য করে এই সময়ে মন্দিরে ঢুকলে অপুরণীয় ক্ষতি হয়।সে চেষ্টাও অবশ্য কেউ করেন না।

 

অম্বুবাচীর চতুর্থ দিন থেকে দেবীর স্নান এর পর তার দর্শন ও স্বাভাবিক পূজা প্রক্রিয়া পুনরায় আরম্ভ হয়|এই পরম্পরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে যুগ যুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে|অম্বুবাচী নিবৃত্তির পর দেবীর রক্ত বস্ত্র ভক্ত দের মধ্যে দান করা হয়, প্রচলিত বিশ্বাস মতে এই রক্ত বস্ত্র লাভ করলে জীবনের অনেক সমস্যা দুর হয় ও বহু মনোস্কামনা পূর্ন হয়|

 

অম্বুবাচি নিবৃত্তির পর নব গ্রহের প্রতিকারের জন্য অনেকেই এই স্থান নির্বাচন করেন এবং দশ মহা বিদ্যার পূজো দিতে আসেন ।তাছাড়া তন্ত্র মন্ত্র এবং নানা বিধ গুপ্ত বিদ্যার জন্য কামাখ্যা চিরকাল বিখ্যাত।

 

আপাতত চলত থাকবে অম্বুবাচি নিয়ে

ধারাবাহিক লেখা।ফিরে আসবো

আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশ্ব যোগ দিবসের শুভেচ্ছা

বিশ্ব যোগ দিবসের শুভেচ্ছা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

গোটা বিশ্বকে ভারতের দেয়া অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপহার হলো যোগ।আজ সেই উপহারকে স্বীকৃতি দেয়ার দিন।আজ ২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস। ভারতের যোগের ইতিহাসে কয়েক হাজার বছরের প্রাচীন হলেও এই যোগ দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এসেছেন মাত্র কয়েক বছর আগেই|

 

যোগ হল প্রাচীন ভারতে উদ্ভূত শারীরিক ও মানসিক ব্যায়াম এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন প্রথা। এর মধ্যে দিয়ে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় থাকে। যোগের গুরুত্ব আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান ও স্বীকার করে নিয়েছে। যুগ যুগ ধরে ভারতের যোগ গুরুরা বিশ্ব কে যোগ শিখিয়েছেন এবং আজ তাদের ও শ্রদ্ধা জানানোর দিন।

 

২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২১ জুন তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব দেন। সেই বছরই ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদ ২১ জুন তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস বলে ঘোষণা করে।

 

একাধিক প্রাচীন শাস্ত্রে উল্লেখ আছে আজকের দিনে আদি যোগী তাঁর সবচেয়ে নিষ্ঠাবান সাত জন শিষ্যকে প্রথম দেখেন যাঁরা আলোকপাতের পথ প্রদর্শন না করা পর্যন্ত তাঁকে ছেড়ে না যাওয়ার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। এরপর পরবর্তী পূর্ণিমাতে আদি যোগী ওই শিষ্যদের যোগিক ক্রিয়া পদ্ধতি শেখাতে শুরু করেন। এটাই ছিলো প্রথাগত যোগ শিক্ষার সূচনা লগ্ন|

 

আধ্যাত্মিক ভাবে যোগ মানে আত্মার সাথে পরমাত্মার মিলন যার একটি মাধ্যম এই যোগ আসন বা ধ্যান।সুস্থ্য শরীর ও মন পেতে যোগের কোনো বিকল্প নেই।

 

নিয়মিত যোগ অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং সুস্থ থাকুন|আপনাদের সবাইকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনেক শুভেচ্ছা জানাই।

জামাই ষষ্ঠীর ধর্মীয় ব্যাখ্যা 

জামাই ষষ্ঠীর ধর্মীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জামাই ষষ্টি বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বনের এক অন্যতম পার্বন|আজকের দিন টায় জামাই রা তাদের শশুর বাড়িতে যান নতুন পোশাকে সেজে উপহার নিয়ে, আবার শশুর বাড়ির পক্ষ থেকেও জামাইকে আপ্যায়ন করা হয় উপহার দিয়ে। তবে এই জামাই ষষ্ঠীর একটি আধ্যাত্মিক দিক আছে, ধর্মীয় ব্যাখ্যা আছে। আজ সেই নিয়েই লিখবো।

 

জামাই ষষ্ঠী বাংলার লৌকিক দেবী মা ষষ্ঠীর সাথে গভীর ভাবে সংযুক্ত।জামাই ষষ্টি নিয়ে একটি লোককাহিনী অনুসারে একবার এক গৃহবধূ নিজে মাছ চুরি করে খেয়ে দোষ দিয়েছিলেন বিড়ালের উপর। ফলে তাঁর সন্তান হারিয়ে যায়। তাঁর পাপের ফলেই এই ঘটনা ঘটে বলে মনে করা হয়। তখন সেই মহিলা বনে গিয়ে ষষ্ঠীদেবীর আরাধনা শুরু করেন৷ দেবী তুষ্ট হন৷ ফলে বনেই তিনি নিজের সন্তানকে ফিরে পান। এই জন্যই ষষ্ঠীদেবীর অপর নাম অরণ্যষষ্ঠী। এদিকে মাছ চুরি করে খাওয়ার জন্য শ্বশুর-শাশুড়ি ওই বধূর পিতৃগৃহে যাওয়া বন্ধ করে দেন। এই অবস্থায় মেয়েকে দেখার জন্য ব্যাকুল মা-বাবা একবার ষষ্ঠীপুজোর দিন জামাইকে সাদরে নিমন্ত্রণ জানান। জামাইষষ্ঠী পুজোর দিনে সস্ত্রীক উপস্থিত হলে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় বাড়িতে।ষষ্ঠীপুজো রূপান্তরিত হয় জামাইষষ্ঠীতে।অর্থাৎ এই তিথি আসলে মেয়ে জামাইয়ের কল্যানে মা ষষ্ঠীর আরাধনার দিন।

 

সঠিক ভাবে সূচনা কাল বলা মুশকিল তবে মনে করা হয় বৈদিক যুগ থেকেই জামাইষষ্ঠী পালন

হয়ে আসছে। প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসের ষষ্ঠী তিথিতে প্রথম প্রহরে ষষ্ঠী পুজার আয়োজন করা হয়। ষষ্ঠীর প্রতিমা কিংবা আঁকা ছবিতে পুজা নিবেদন করা হয়। কেউ কেউ ঘট স্থাপন করেও এই পুজো করে থাকেন।

 

বাঙালি হিন্দুসমাজে এ উৎসবের সামাজিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বিশেষত যে পরিবারে সদ্য বিবাহিতা কন্যা রয়েছে সেই পরিবারে এই পার্বণটি ঘটা করে পালন করা হয়। পুজোর সময় পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য পৃথক মালসার মধ্যে নতুন বস্ত্র, ফলফলাদি, পান-সুপারি, ধান-দূর্বা ও তালের পাখা রাখা হয়। ভক্তরা উপোস রেখে মায়ের পূজা করেন। মালসা থেকে নতুন বস্ত্র পরিধান করে ফল মিষ্টি খেতে হয়।আরো অনেক রীতি নীতি আছে এবং বলা বাহুল্য স্থান ভেদে এই রীতি নীতি

বা উপাচারগুলি আলাদা আলাদা। তবে উদ্দেশ্য একই গৃহের কল্যাণ। মেয়ে জামাইয়ের কল্যাণ।

 

আনন্দে কাটান জামাই ষষ্টি।

অনেক শুভেচ্ছা রইলো। শাস্ত্রীয় নানা বিষয়

নিয়ে লেখা চলতে থাকবে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শক্তিপীঠ কামাখ্যা

শক্তিপীঠ কামাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শক্তিপীঠ বা একান্ন পীঠ নিয়ে আগেও বহুবার লিখেছি তবে এই অম্বুবাচির বিশেষ সময়ে কামাখ্যা পীঠ নিয়ে কথা না লিখলেই নয় কারন অম্বুবাচি কামাখ্যা মন্দিরের প্রধান উৎসব। অম্বু বাচির সময়ে দেশ বিদেশথেকে মাতৃ সাধক এবং তীর্থযাত্রীরা এখানে আসেন।

 

বলা হয় একসময় এ জায়গায় কেউ গেলে আর ফিরে আসত না। এখনো উচ্চ মার্গের তন্ত্র সাধনার জন্য বেছে নেওয়া হয় কামাখ্যা মন্দিরকেই। কামরূপ কামাখ্যার আশপাশের অরণ্য আর নির্জন পথে নাকি ঘুরে বেড়ায় ভালো-মন্দ আত্মারা। এমনকি এক কালে বৈদেশিক শত্রুরা বিশ্বাস করতো কামরূপ-কামাখ্যার অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন মায়াবী নারীরা পুরুষদের মন্ত্রবলে ভেড়া বানিয়ে রাখতো|তাই অনেকেই এই পথ মাড়াতে চাইতো না সহজে এমনকি বহু বিদেশী আক্রমকারীও কামাখ্যা অঞ্চলকে এড়িয়ে যেতো বলে শোনা যায়।

 

পীঠ নির্ণয় তন্ত্র মতে সিদ্ধ পীঠ কামরূপে মায়ের মাতৃ যোনি পতিত হয়েছিল।কামাখ্যাকে বলা হয় তীর্থচূড়ামণি। তীর্থচূড়ামনির অর্থ হলো সব তীর্থের মধ্যে সেরা তীর্থ স্থান।

 

মহাভারতের যুগে এই স্থনের নাম ছিল প্রাগজ্যোতিষ।আবার পুরান অনুসারে এই স্থানে নরকাসুর এবং দেবী কামাখ্যাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন বশিষ্ট দেব এবং এই স্থানেই শিবের অভিশাপে নিজ রূপ হারিয়ে পুনরায় নিজের স্বরূপ ফিরে পেয়েছিলেন কামদেব।

 

যেখানে সতীর যোনি মন্ডল পতিত হয়েছিল সেই জায়গাটাকে বলে কুব্জিকাপীঠ।কথিত আছে যোনিরূপ যে প্রস্তরখণ্ডে মা কামাক্ষা অবস্থান করছেন সেই শিলা স্পর্শ করলে মানুষ মুক্তিলাভ করে। কালিকাপুরাণে বলা হয়েছে সতীর অঙ্গ পতিত হওয়ার পর এই উচ্চ পর্বত মহামায়ার শ্রী অঙ্গের ভার সহ্য করতে না পেরে কেঁপে উঠেছিলো এবং নিচের দিকের কিছুটা পাতালে প্রবেশ কোরেছিলো।রঙ ও পরিবর্তন হয়।

আজও সেই অবস্থাতেই আছে।

 

নাগারা স্থাপত্যশৈলীর মন্দিরে গর্ভগৃহ ছাড়াও তিনটি মণ্ডপ সম্বলিত কক্ষ রয়েছে যেগুলোর স্থানীয় নাম চলন্ত, পঞ্চরত্ন এবং নাটমন্দির।

এই মন্দির চত্বরে দশমহাবিদ্যার মন্দিরও বিদ্যমান।

দেবীর ভৈরব একজন নয় নয়জন।তাই মনে করা হয় সুদূর অতীতে কোনো এক সময়ে হয়তো এখানে নয়টি শক্তিপীঠ ছিলো। যদিও এখন একটি শক্তিপীঠ ই জনসমক্ষে অবস্থিত।

 

কামাখ্যা পীঠ এবং অম্বুবাচি সংক্রান্ত আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং তথ্য নিয়ে

ফিরে আসবো আবার পরবর্তী

সময়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

অম্বুবাচির প্রকৃত অর্থ

অম্বুবাচির প্রকৃত অর্থ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

অম্বুবাচি নিয়ে আলোচনায় শুরুতে শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা জানিয়েছি আজ জানাবো অম্বুবাচির প্রকৃত বা অন্তর নিহিত অর্থ।

 

পুরানে পৃথিবীকে নানা রূপে দেখানো হয়েছে।

শাস্ত্র মতে তিনি কশ্যপ প্রজাপতির কন্যা ভূদেবী। আবার রামায়ণে তিনি সীতার মা। অন্য একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে দ্বাপরযুগে কৃষ্ণের স্ত্রী সত্যভামা রূপে এই ভুদেবী জন্মেছিলেন।আবার বরাহ অবতারে এই বসুন্ধরাকেই অতল সাগর থেকে রক্ষা করেছিলেন স্বয়ং বিষ্ণু।

আষাঢ় মাসে বর্ষার আগে অম্বুবাচীতে

ঋতুমতী হন পৃথিবী।

 

এই সময়ে কৃষকরা কৃষি কাজ থেকে বিরত থাকেন ও ধরিত্রী কে বিশ্রাম দেন|আবার অম্বুবাচী

উপলক্ষে উড়িষ্যায় ভূদেবীর বিশেষ পূজা মেলা ও উৎসবের আয়োজন করা হয় ও ব্যাপক জন সমাগম হয়|ভূদেবী কে উড়িষ্যায় স্বয়ং জগন্নাথ দেবের স্ত্রী হিসেবে কল্পনা করা হয় এবং তার ঋতুমতী হওয়ার সময় কাল কে চারদিনের রজ উৎসব হিসেবে পালন করা হয়|চারদিনের এই উৎসব কে চারটি আলাদা পর্যায় উদযাপন করা হয় প্রথম দিনকে বলা হয় পহিলি রজ। দ্বিতীয় দিন মিথুন সংক্রান্তি| তৃতীয় দিন ভূদহ বা বাসি রজ এবং চতুর্থ দিন বসুমতী স্নান।

 

দেবী কালীর ভূমি বাংলাও কোনো কালে পিছিয়ে ছিলোনা এই শাস্ত্রীয় অনুষ্ঠান পালনে অম্বুবাচী উপলক্ষে গ্রামবাংলার বিধবা মহিলারা তিন দিন ধরে ব্রত রাখেন|দেশ তথা বাংলার প্রায় সব গুলো শক্তি পীঠেই নিষ্ঠার সাথে অম্বুবাচী পালন হয় ও সেই উপলক্ষে বিশেষ উৎসব এবং কোথাও কোথাও মেলার আয়োজন করা হয়।

 

সনাতন ধর্মে চন্দ্র সূর্য বায়ু পর্বত বা গঙ্গা যেমন দেবতা বা দেবী রূপে পূজিত হন তেমনই প্রকৃতি

এখানে দেবীর মর্যাদা পায়। যে প্রকৃতি আমাদের খাদ্য দেয় অক্সিজেন দেয় জল দেয় সেই প্রকৃতিকে মাতৃ শক্তি রূপে পুজো করা এবং তার জীবনের একটি বিশেষ পর্যায়কে সন্মান জানানোই অম্বুবাচির প্রকৃত উদ্দেশ্য।

 

অর্থাৎ বৃহৎ অর্থে বা অন্তর্নিহিত অর্থ অনুযায়ী

পৃথিবীকে দেবী রূপে পূজো করা এবং

তার উর্বরতা শক্তিকে শ্রদ্ধা জানানো হয়

এই অম্বুবাচিতে।

 

ফিরে আসবো আগামী পর্বে

ধারাবাহিক ভাবে চলবে অম্বুবাচি

নিয়ে লেখা ।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

অম্বুবাচীর শাস্ত্রীয় বিধি নিষেধ

অম্বুবাচীর শাস্ত্রীয় বিধি নিষেধ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

অম্বুবাচী নিয়ে লেখা শুরু করেছি আগেই। আজকের পর্বে জানাবো অম্বুবাচী সংক্রান্ত নানা শাস্ত্রীয় বিধি নিষেধ এবং সেগুলির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য।

 

আসলে এই বিশেষ সময় ধরিত্রী যেহেতু ঋতুমতী হয় তাই লৌকিক আচার বা প্রথা গুলিকে সাময়িক ভাবে স্থগিত রাখা হয় এর পেছনে আছে বা বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং হাজার হাজার বছরের প্রাচীন পরম্পরা সাথে শাস্ত্রীয় বিধান|যদিও চতুর্থ দিন অম্বুবাচির নিভৃতির পর থেকে শুভ কাজে আর কোনো রকম বাধা থাকেনা।

 

শাস্ত্র মতে অম্বুবাচীর প্রথম তিন দিন কৃষি কাজ ছাড়াও আরো অনেককিছুই করা নিষেধ। এই সময় কোনো শুভ বা মাঙ্গলিক কাজের সূচনা করা হয়না যেমন বিবাহ,অন্নপ্রাসন গৃহ প্রবেশ বা মন্দিরের স্বাভাবিক পূজাঅর্চনা ইত্যাদি।

 

শাস্ত্র মতে আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও কয়েকটি বিধি নিষেধ এই অম্বুবাচী চলাকালীন মেনে চলা শ্রেয় যেমন আদি শক্তির বিভিন্ন রূপকে যারা পূজা করেন অর্থাৎ কালী, চন্ডি, দূর্গা জগদ্ধাত্রী ইত্যাদি তারা দেবীমূর্তি কে একটি লাল কাপড়ে ঢেকে রাখতে পারেন।এই সময় দেবী মূর্তিকে স্পর্শ করা বা মন্ত্রউচ্চারণ করা উচিৎ নয়|

 

যারা দীক্ষিত তারা গুরু পূজা করতে পারেন এছাড়া জপ চলতে পারে তাতে কোনো দোষ নেই|গৃহী রা এই সময় কয়েকটি নিয়ম মেনে চললে গৃহের কল্যাণ হয় যেমন নতুন বৃক্ষ রোপন না করা বা দাম্পত্য জীবনে সংযম এবং শুদ্ধতা বজায় রাখা ইত্যাদি।

 

গ্রাম বাংলার বহু স্থানে সাধারণত বিধবা মহিলারা অম্বুবাচী চলা কালীন আগুন জ্বালিয়ে খাবার রান্না করেন না|যারা ব্রহ্মচর্য পালন করেন তাদের এই সময় আমিষ খাবার বর্জন করে মূলত ফল মুল খেয়ে থাকতে হয়|এই কটাদিন বেদ পাঠ করা যায়না এবং উপনয়ন অনুষ্ঠান করা যায়না|

 

অম্বুবাচীর আগের দিনটিকে বলা হয় ‘অম্বুবাচী প্রবৃত্তি’। তিন দিনের পরের দিনটিকে বলা হয় ‘অম্বুবাচী নিবৃত্তি’ যার পর আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সূচনা হয় ধীরে ধীরে|

 

অম্বুবাচী নিবৃত্তির সময় তন্ত্র সাধনা এবং শাস্ত্র মতে গ্রহ দোষ খণ্ডনের উপযুক্ত সময় বলে ধরা হয়।তাই এই সময়ে কামাখ্যা পিঠে বহু তন্ত্র সাধকের আগমন হয়। সে সব নিয়েও লিখবো

আগামী পর্ব গুলিতে ধারাবাহিক ভাবে।

থাকবে আরো অনেক কিছু।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

অম্বুবাচির শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

অম্বুবাচির শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

প্রকৃতির নিয়ম অনুসারে চলে এসেছে বর্ষাঋতু।
তিথি অনুসারে যথা সময়ে শুরু হচ্ছেঅম্বুবাচি। অম্বুবাচির এই পবিত্র সময়ে ঋতুমতি হবেন ধরিত্রী। মাতৃ শক্তির এবং একই সাথে সৃষ্টি শক্তির প্রতীক মা কামাখ্যার মন্দিরে বসবে অম্বুবাচি মেলা। এই কটাদিন এই অম্বুবাচি নিয়ে নানা দৃষ্টি কোন
থেকে আলোচনা করবো।আজকের পর্বে এই অম্বুবাচির শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা জানাবো।

বিভিন্ন শাস্ত্রে আলাদা আলাদা ভাবে অম্বুবাচিকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যদিও আসল কথা একই।
সংস্কৃত শব্দ “অম্ব ” মানে জল আর “বাচি” মানে আরম্ভ বা সূচনা৷

জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে রাশি চক্রের ২৭টি নক্ষত্রের মধ্যে সূর্য যখন আদ্রা নক্ষত্রে প্রবেশ করে সেই
তিন দিন কুড়ি দন্ড সময়টাই “অম্বুবাচি ” ৷

প্রাকৃতিক ভাবে প্রচন্ড গরমের পর এই সময় বর্ষার জলে ভিজে পৃথিবী হয় সিক্ত ও বীজ ধারনের উপযোগী ৷এই সময় মনে করা হয় মা বসুমতী ঋতুমতী হয়েছেন ৷ তার জীবন চক্রের এই বিশেষ সময় কালকে অম্বুবাচি হিসেবে পালন করা হয়।

রজঃস্বলা নারী যেমন এই সময় অনেক কাজ করেন না তেমনই প্রকৃতির ক্ষেত্রে এই সময়ে বিশেষ কিছু রীতি নীতি পালন করা হয়।
এই দিনগুলিতে চাষিরা কৃষিকাজ বন্ধ রাখেন ৷ সাধারণত সন্ন্যাসী , যোগী এবং বিধবা মহিলারা এই তিন দিন রান্না করা ও আমিষ খাবার খান না।

শাস্ত্রে আছে –
“ত্বমেব প্রকৃতিদেবী ত্বমেব পৃথিবী জলম্ ৷
ত্বমেব জগতাং মাতা ত্বমেব চ জগন্ময়ী ৷’’
অর্থাৎ পৃথিবী হলেন ধরিত্রী মাতা।বরাহ অবতারে সলীল সমাধি থেকে মাতা ধরিত্রীকে উদ্ধার করেছিলেন বিষ্ণু।আজ বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে মহাবিশ্বে সত্যি এমন গ্রহ পাওয়া গেছে যেখানে বাস্তবেই পৃথিবীকে জলমগ্ন করে রাখা যায়
অর্থাৎ শাস্ত্রর বাস্তবতা প্রমাণিত।

সনাতন ধর্ম এবং সংস্কৃতিতে নারী ও ধরিত্রী এই দুই উর্বরতা এবং সৃষ্টি শক্তির আধার তাই মাতৃ শক্তির এই স্বাভাবিক পর্যায়টি অত্যন্ত পবিত্র সময় রূপে দেখা হয় এবং অম্বুবাচির নিবৃত্তির সময়টি
দেশের নানা প্রান্তে উৎসব রূপে পালিত হয় ।
সেই প্রসঙ্গে আরো বিস্তারিত আলোচনা করবো
ধারাবাহিক ভাবে।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। অম্বুবাচি সংক্রান্ত নানা তথ্য এবং ব্যাখ্যা নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।