Home Blog Page 3

যজ্ঞের দেবী স্বাহার উৎপত্তি

যজ্ঞের দেবী স্বাহার উৎপত্তি

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

সনাতন ধর্মে যজ্ঞ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈদিক আচার। যজ্ঞের অগ্নিতে ঘৃত, শস্য, ফল, তিলসহ বিভিন্ন দ্রব্য আহুতি দেওয়া হয় এবং মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে সেই আহুতি দেবতাদের উদ্দেশে নিবেদন করা হয়।এক্ষেত্রে স্বহা শব্দটি একাধিক বার যজ্ঞতে উচ্চারিত হয়। আজ এই স্বাহা আসলে এক
পৌরাণিক দেবী। আজ জানবো তার উৎপত্তির
পৌরাণিক গল্প

পুরান অনুসারে একবার স্বর্গে দেবতারা প্রায় অনাহারে কষ্ট পেতে শুরু করেছিলেন কারন মর্তের যজ্ঞের ফল তাঁদের কাছে যাচ্ছিলো না।
এক সময় অগ্নিদেব ব্রহ্মার কাছে এসে নিজের অসহায়তার কথা জানালেন। তিনি বললেন, মানুষ যজ্ঞে যে সমস্ত আহুতি দেয়, তিনি সেগুলি তিনি গ্রহণ করতে পারেন, কিন্তু সেই আহুতি দেবতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। ফলে দেবতারা আহারের অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন।
অগ্নির এই কথা শুনে সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাও চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তিনি সমস্যার সমাধানের জন্য বিষ্ণুর পরামর্শ নিলেন। বিষ্ণু তাঁকে প্রকৃতির শক্তির আরাধনা করতে বললেন। কারণ প্রকৃতিই এমন এক শক্তি, যিনি সৃষ্টির বিভিন্ন কার্যকে সম্পূর্ণতা দিতে পারেন।

ব্রহ্মার প্রার্থনায় প্রকৃতি প্রসন্ন হলেন। তাঁর শক্তি থেকে আবির্ভূত হলেন এক অপরূপ দেবী। এই দেবীর বিশেষ দায়িত্ব নিলেন যজ্ঞে নিবেদিত আহুতিকে দেবতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার।
ব্রহ্মা তাঁকে আশীর্বাদ করে বললেন—
“তুমিই এখন আমাদের জীবনরেখা। তোমার মাধ্যমেই পৃথিবী ও স্বর্গের মধ্যে এই পবিত্র আদান-প্রদান সম্পন্ন হবে।”
এই দেবীই হলেন যজ্ঞের দেবী “স্বাহা।”

ঠিক হলো যজ্ঞে অগ্নির উদ্দেশে যে কোনো আহুতি দেওয়ার সময় ‘স্বাহা’ উচ্চারণ করতে হবে। ‘স্বাহা’ উচ্চারণের মাধ্যমে আহুতিটি দেবতাদের উদ্দেশে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত হয়।

সেই থেকে ‘স্বাহা’ ছাড়া যজ্ঞের আহুতি যেন ফলহীন হয়ে পড়ে। যেমন ফলহীন বৃক্ষ, বিষহীন সাপ কিংবা জ্ঞানহীন মানুষ তার পূর্ণতা হারায়, তেমনই ‘স্বাহা’ ছাড়া যজ্ঞও অসম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

পরবর্তীতে ব্রহ্মা দেবী স্বাহার সঙ্গে অগ্নিদেবের বিবাহ দেন।এই বিবাহের মধ্য দিয়ে অগ্নি এবং
স্বাহা চিরদিনের জন্য একত্রিত হলেন।

ফিরে আসবো পরবর্তী পুরান কথা নিয়ে
আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

গঙ্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর দ্বন্দ্ব 

গঙ্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর দ্বন্দ্ব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরানে বর্ণিত এক ঘটনা অনুসারে একবার গঙ্গা, লক্ষ্মী ও সরস্বতীর মধ্যে বিবাদ দেখা দেয় এবং তার ফলেই পৃথিবীতে তাঁদের আগমন হয়। আজ পুরান কথায় সেই গল্প আপনাদের বলবো।

 

পুরানে পাওয়া বর্ণনা অনুযায়ী গঙ্গা ছিলেন অপরূপ সুন্দরী ও আকর্ষণীয়। একদিন বৈকুণ্ঠে ভগবান বিষ্ণুকে একা দেখে তাঁর প্রতি প্রেমের অনুভূতি প্রকাশ করেন গঙ্গা। ঠিক সেই সময় সেখানে উপস্থিত হন দেবী সরস্বতী। গঙ্গাকে বিষ্ণুর এত কাছে দেখে সরস্বতী ক্রুদ্ধ হয়ে ওঠেন এবং গঙ্গাকে সরে যেতে বলেন। দুজনের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা।পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করেন ভগবান বিষ্ণু। কিন্তু দুজনেরই ক্রোধ তখন আর নিয়ন্ত্রণে নেই। দেবী লক্ষ্মী তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করলেও সরস্বতী মনে করেন, লক্ষ্মী গঙ্গার পক্ষ নিচ্ছেন। ক্রুদ্ধ হয়ে তিনি লক্ষ্মীকে অভিশাপ দেন যে তাঁকে পৃথিবীতে একটি উদ্ভিদরূপে জন্ম নিতে হবে।

 

অশান্তি আরো তীব্র হয় এবং একটি পর্যায়ে

গঙ্গা ও সরস্বতী পরস্পরকে অভিশাপ দেন। গঙ্গা অভিশাপ দেন যে সরস্বতী পৃথিবীতে একটি নদীরূপে প্রবাহিত হবেন। সরস্বতীও গঙ্গাকে অভিশাপ দেন যে তাঁকে পৃথিবীতে নদীরূপে প্রবাহিত হয়ে মানুষের পাপ ও মৃতদেহের ভার বহন করতে হবে।

 

ভগবান বিষ্ণু সব শুনে মৃদু হাসলেন কারন তিনি জানতেন এই সব অভিশাপ ভবিষ্যতে এক বিশেষ উদ্দেশ্য পূরণ করবে।তিনি অন্তর্যামী এবং সবই তাঁর লীলা মাত্র।

 

পরবর্তীতে অভিশাপ অনুসারে লক্ষ্মীর একটি অংশ পৃথিবীতে পবিত্র তুলসী রূপে প্রকাশিত হয় এবং বিষ্ণু নিজেও শালগ্রাম শিলা রূপে তাঁর সঙ্গে যুক্ত থাকেন তাছাড়া বিষ্ণুর ভোগ তুলসী ছাড়া সম্পন্ন হয়না এ আমরা সবাই জানি।

 

অন্যদিকে গঙ্গা পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়ে মানুষের পাপ মোচনের পবিত্র সুযোগ করে দেন। মানুষ তাঁকে মা গঙ্গা বলে শ্রদ্ধা করে এবং তাঁর জলে পাপমোচনের বিশ্বাস রাখবে।

 

সরস্বতীও অভিশাপের ফলে একটি পবিত্র নদীরূপে পৃথিবীতে প্রবাহিত হন।বহু মানুষ তাঁর পবিত্র স্পর্শ পেয়ে ধন্য হন।

 

এই ভাবে দেব দেবীদের দ্বন্দ্ব এবং অভিশাপের ফল স্বরূপ মর্তে আগমন হয় দুটি পবিত্র স্বর্গীয় নদী এবং তুলসী দেবীর।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী পুরান কথা নিয়ে। থাকবে আরো একটি পুরানের গল্প এবং তার শাস্ত্রীয়

ব্যাখ্যা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিষ্ণু এবং হস্তীরাজ গজেন্দ্র

বিষ্ণু এবং হস্তীরাজ গজেন্দ্র

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শ্রী বিষ্ণু নানা সময়ে তাঁর ভক্তদের সাথে নানা রকম লীলা করে থাকেন। পুরানে এমন বহু ঘটনার উল্লেখ আছে। আজ পুরান কথায় আপনাদের বিষ্ণু এবং হস্তীরাজ গজেন্দ্রর গল্প বলবো।

 

ক্ষীরসাগরের তীরে ত্রিকূট পর্বতের কাছে ছিল এক সুন্দর বন—ঋতুমত। সেই বনে ছিল একটি মনোরম পদ্মপুকুর।যেখানে প্রতিদিন হাতির দল জল পান এবং স্নান করতে আসত। তাদের নেতা বা রাজা ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর পরম

ভক্ত গজেন্দ্র।একদিন গজেন্দ্র যখন পুকুরে জলকেলি করছিলেন, তখন হঠাৎ এক প্রকান্ড কুমির তাঁর একটি পা শক্ত করে কামড়ে ধরে। গজেন্দ্র অনেক চেষ্টা করেও নিজেকে মুক্ত করতে পারলেন না। দীর্ঘ সময় ধরে চলল তাঁর সঙ্গে কুমিরের লড়াই। ধীরে ধীরে গজেন্দ্র দুর্বল হয়ে পড়লেন।তাঁর সঙ্গীরাও

তাঁকে বিপদে ছেড়ে ছলে যায়।

 

শেষপর্যন্ত গজেন্দ্র বুঝতে পারলেন, নিজের শক্তিতে এই বিপদ থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব নয়। তখন তিনি ভগবান বিষ্ণুর শরণ নিলেন। পদ্মফুল তুলে তিনি ভগবানকে স্মরণ করে গভীর ভক্তিতে প্রার্থনা করলেন এবং বললেন যে আমাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করুন। আর যদি এটাই আমার নিয়তি হয় এই ভক্তের শেষ প্রনাম স্বীকার করুন।

 

গজেন্দ্রের সেই আকুল ডাক ভগবান বিষ্ণুর কাছে পৌঁছাল। ভক্তের বিপদে তিনি আর দেরি করলেন না।বিষ্ণু আবির্ভূত হলেন।সুদর্শন চক্র দিয়ে কুমিরকে বধ করে গজেন্দ্রকে মুক্ত করলেন।

 

তবে ঘটনা এখানেই শেষ নয়। বিষ্ণু তাকে ইন্দ্রদুম্ন বলে সম্মোধন করলেন এবং স্মরণ করালেন কিভাবে আগের জন্মে রাজা ইন্দ্রদুম্ন রূপে রাজ সভায় নিজের অজ্ঞাতে তিনি মুনী অগস্তকে অবজ্ঞা করেছিলেন এবং সেই পাপেই এই জন্মে হস্তী হয়ে জন্মে তাকে এই যন্ত্রনা পেতে হলো।

 

এই পুরান কাহিনী আমাদের শেখায়

বিপদের সময় অহংকার নয়, ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস এবং আত্মসমর্পণই মানুষের অন্তরে সাহস জাগায়।

ভগবান সর্বদা তাঁর স্মরণাগত ভক্তের পাসে থাকেন।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী পুরান কথা নিয়ে

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পুরান কথা – মহর্ষি ভৃগুর পরীক্ষা

পুরান কথা – মহর্ষি ভৃগুর পরীক্ষা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্ম শাস্ত্রে যতজন বিখ্যাত ঋষি মুনীর উল্লেখ পাওয়া যায় ঋষি ভৃগু তাঁদের মধ্যে অন্যতম। আজ পুরান কথার এই পর্বে আপনাদের জানাবো কি ভাবে ঋষি ভৃগু একবার ব্রহ্মা বিষ্ণু এবং মহেশ্বরের অর্থাৎ ত্রিদেবের শ্রেষ্টত্ত্বর পরীক্ষা নিয়ে ছিলেন।

 

ভৃগুকে মহর্ষি ভৃগুও বলা হয়। তিনি হলেন ব্রহ্মার মানস পুত্র এবং সপ্তর্ষির একজন। জ্যোতিষ শাস্ত্রে তার ছিলো অগাধ পান্ডিত্য এবং তার ভবিষ্যত বাণী অক্ষরে অক্ষরে ফলে যেতো।অনেকেই তাঁকে জ্যোতিষ শাস্ত্রের প্রনেতা বলেও মনে করেন।

 

একবার ব্রহ্মাণ্ডের অন্যান্য ঋষিরা একত্রিত হয়ে প্রশ্ন তুললেন—ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ঋষি ভৃগুকে তিন দেবতার পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রথমে ভৃগু ব্রহ্মার কাছে গিয়ে তাঁকে যথাযথ সম্মান জানালেন না। এতে ব্রহ্মা ক্রুদ্ধ হলেও নিজেকে সংযত করলেন।বিদায় করলেন ভৃগুকে।

 

বিদায় নিয়ে এরপর ভৃগু গেলেন কৈলাসে মহাদেবের কাছে। সেখানেও নন্দী ভৃঙ্গী সহ অন্যান্য শিবের অনুচররা তাঁকে কৈলাসে প্রবেশ করতে দিলেন না কারন মহাদেব তখন কোনো এক গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যাস্ত ছিলেন।।

 

শেষে ভৃগু গেলেন বিষ্ণুর কাছে। বিষ্ণু তখন শয়ন করছিলেন।একাধিক স্থানে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ভৃগু তখন ক্রোধন্নিত ছিলেন। বিষ্ণুকে জাগানোর জন্য ভৃগু তাঁর বুকে পদাঘাত করেন। কিন্তু বিষ্ণু ক্রুদ্ধ না হয়ে উঠে ভৃগুর পা ধরে বলেন, “আপনার পায়ে আঘাত লেগেছে কি?” তাঁর এই ক্ষমা, ধৈর্য ও বিনয় ভৃগুকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।

মহর্ষি ভৃগু শ্রী বিষ্ণুর ব্যাবহারে অনুতপ্ত হলেন এবং

নিজের অন্তরে নিজের প্রশ্নের এবং সকল দ্বিধা দ্বন্দ্বর উত্তর খুঁজে পেলেন।

 

আসলে এই পরীক্ষা শুধু শ্রেষ্টত্ত্ব প্রমানের জন্য নয়। এই পরীক্ষা বুঝিয়ে দেয় সত্যিকারের মহত্ত্ব শুধু শক্তির মধ্যে নয়; ক্ষমা, ধৈর্য, বিনয় ও ভালোবাসার মধ্যেও মহত্ত্ব প্রকাশ পায়। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর পরম সত্যের তিনটি ভিন্ন প্রকাশ—তাঁদের তুলনা করার চেয়ে তাঁদের স্বরূপ ও মহিমাকে উপলব্ধি করাই এই লীলার মূল সার্থকতা।

 

পুরানে বর্ণিত এমন আরো অনেক ঘটনা নিয়ে

চলতে থাকবে পুরান কথা

ধারাবাহিক ভাবে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

রাধাষ্টমীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

রাধাষ্টমীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ রাধাষ্টমী|প্রতি বছর শ্রীকৃষ্ণের জন্মের পরবর্তী অষ্টমী তিথি রাধাষ্টমী হিসেবে পালিত হয়| এটি কৃষ্ণ সঙ্গিনী শ্রীরাধার পবিত্র জন্মতিথি।

আজ রাধাষ্টমীর শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা

আপনাদের জন্য উপস্থাপনা করবো।

 

মথুরার পবিত্র বারসনা শ্রীরাধার জন্মস্থান। রাজা বৃষভানু এবং তাঁর স্ত্রী কীর্তি স্বর্ণপদ্মের উপর শ্রীরাধাকে পেয়েছিলেন বলে কথিত আছে।

সূর্য দেব বিষ্ণুর বর প্রাপ্ত হয়ে বৃষ ভানু রূপে জন্মে রাধাকে তাদের কন্যা রূপে পেয়েছিলেন|রাজা শ্রীবৃষভানু এবং তাঁর স্ত্রী শ্রীকীর্তি তাঁদের কন্যা হিসাবে রাধা-কে বড় করেছিলেন। রাধা বিভিন্ন শাস্ত্রে শ্রী কৃষ্ণর সর্বোচ্চ শক্তি রূপে বর্ণিত হয়েছেন।

 

বিভিন্ন ধর্ম গ্রন্থে সরাসরি রাধা নাম না উল্লেখিত হলেও শ্রী রাধাকে কোথাও ‘কৃষ্ণবল্লভা’ কোথাও ‘কৃষ্ণাত্মা’ আবার কোথাও কৃষ্ণপ্রিয়া ‘বলে অভিহিত করা হয়েছে। পৌরাণিক কাহিনিগুলিতে এমন একটি বিবরণ পাওয়া যায় যে, কৃষ্ণ রূপে অবতার নেওয়ার আগে ভগবান শ্রীবিষ্ণু তাঁর ভক্তদেরও পৃথিবীতে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই সময় বিষ্ণু প্রিয়া লক্ষ্মীও রাধা রূপে পৃথিবীতে এসেছিলেন।

 

এবার অনেকের মতে রাধা এবিং কৃষ্ণ একই।

একই শক্তির দুই ভিন্ন প্রকাশ। তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। রাধা কৃষ্ণর বিবাহ প্রসঙ্গে বলা হয় স্বয়ং ব্রম্হা তাদের বিবাহ সম্পন্ন করেছিলেন।

 

রাধাষ্টমী উপাসনা পদ্ধতি সহজ সরল|সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার পোশাক পরুন।ঠাকুরের স্থানে লাল বা হলুদ কাপড় পেতে তার উপরে, শ্রী কৃষ্ণ এবং রাধার মূর্তিটি স্থাপন করুন এবং শাস্ত্র মতে পূজো এবং আরতি করুন।

শাস্ত্র মতে রাধাষ্টমী পালন করলে। মনোস্কামনা পূরণ হয়। দাম্পত্য জীবন সুখের হয়।রাধাষ্টমীর উপবাস করলে সমস্ত পাপ বিনষ্ট হয় বলেও অনেকে বিশ্বাস করেন।

 

আপনাদের সবাইকে রাধাষ্টমীর শুভেচ্ছা।

ফিরে আসবো পুরান কথা নিয়ে

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিশ্বকর্মা পূজোর শুভেচ্ছা 

বিশ্বকর্মা পূজোর শুভেচ্ছা

 

পন্ডিতজি ভৃগুরশ্রী জাতক

 

আমাদের সনাতন ধর্মে ভগবান বিষ্ণু তার সৃষ্টি কর্মের এক একটি গুরু দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন এক একজন দেবতার উপর|অর্থাৎ ও বাণিজ্যর ভার দেবী লক্ষীর উপর, শিক্ষা ও সংস্কৃতির দায়িত্ব সরস্বতীর আবার প্রতিরক্ষার দায়িত্বে রয়েছেন দেবী দূর্গা|এদের মধ্যে বিশ্বকর্মা হলেন স্থাপত্য ও নির্মাণের দেবতা|তিনি দেব শিল্পী|

 

আজ বিশ্বকর্মা পূজা|সাধারনত ভাদ্র মাসের সংক্রান্তি তেই বিশ্বকর্মা পূজা হয়ে থাকে|আজ সারা বাংলা তথা দেশের শিল্প ও নির্মানশিল্প কেন্দ্র গুলিতে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকর্মা পূজা।

 

বিশ্বকর্মা মূলত বৈদিক দেবতা|ঋগ বেদ সহ একাধিক ধর্ম গ্রন্থে তার উল্লেখ আছে এবং রামায়ন মহাভারতের মত মহাকাব্যে রয়েছে বিশ্বকর্মার উজ্জ্বল উপস্থিতি।তিনি ব্রহ্মা সৃষ্টি কর্মের অন্যতম সহযোগী|সৃষ্টির একদম আদি লগ্ন থেকে বিভিন্ন সৃষ্টি কর্মের মাধ্যমে তিনি জগৎ নির্মাণের কাজে যুক্ত|বিশ্বকর্মার পুত্র বিশ্বরূপকে ইন্দ্র বধ করেছিলেন এবং ইন্দ্র ও বিশ্বকর্মার শত্রুতাও দেখা দিয়েছিলো|যদিও নিজের কর্তব্যে সদা অবিচল বিশ্বকর্মা এবং নিজের সৃষ্টিকর্মে সর্বদা মগ্ন তিনি।

 

পুরান ও অন্যান্য শাস্ত্রে বর্ণিত একাধিক অস্ত্র, ও গুরুত্বপূর্ণ বস্তুর প্রধান কারিগর বিশ্বকর্মা|বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র, কুবেরের পুস্পক রথ, শিবের ত্রিশূল

পরশুরামের ধনুক, ইন্দ্রের প্রথম বজ্র এসবই বিশ্বকর্মার সৃষ্টি।

 

তাছাড়া দেবতাদের প্রাসাদ বা বাসস্থান নির্মাণের দায়িত্ব তাকেই নিতে হয়।রাবনের লংকা নগরী, কুবেরের অলোকা পুরী,এমনকি পুরীর বিখ্যাত জগন্নাথ বিগ্রহও বিশ্বকর্মার স্বহস্তে নির্মিত|

 

যখনই দেব লোকে কোনো বিশেষ স্থাপত্য বা দৈব নিদর্শন সৃষ্টির প্রয়োজন হয় ডাক পড়ে বিশ্বকর্মার|কখনো নিরাশ করেন না বিশ্বকর্মা|নিজের অলৌকিক শিল্প সত্ত্বা ও কঠোর পরিশ্রমের দ্বারা নির্মান করেন একের পর এক শিল্প কর্ম তথা স্থাপত্য শিল্পের সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শনগুলি|

 

বিশ্বকর্মা পুজো নিষ্ঠা সহকারে পালন করেন দেশের শিল্পীরা, শ্রমিকরা এবং স্থাপত্য শিল্পের সাথে যুক্ত শ্রমিকেরা|প্রান ভোরে তার আশীর্বাদ চান যাতে আগামী সময়ে আরো কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষতার সাথে নির্মান শিল্পে বা কারিগরি ও যান্ত্রিক বিভাগে প্রভূত উন্নতি লাভ করা যায়।

 

আরো একটি বিষয় ভুললে চলবে না যে একদিকে যখন দুর্গা, লক্ষী, বিষ্ণু বা জগদ্ধাত্রীর মতো দেব দেবীরা মূলত সমাজের উচ্চ বর্ণের এবং বিত্তশালীদের পূজো বেশি পান অন্য দিকে বিশ্বকর্মা প্রান্তিক শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন।

 

সবাইকে বিশ্বকর্মা পূজোর শুভেচ্ছা।

ফিরে আসবো অন্য পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে আগামী পর্বে। দেখতে থাকুন।

দেবী গঙ্গার উৎপত্তি 

দেবী গঙ্গার উৎপত্তি

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মে গঙ্গা কোনো সাধারণ নদী নয়। গঙ্গা এক দেবী।পুরানে দেবী গঙ্গার জন্ম নিয়ে অনেক জনপ্রিয় গল্প আছে।আজ পুরান কথায় দেবী গঙ্গার উৎপত্তি এবং তার মর্তে আগমন

নিয়ে লিখবো।

 

বামন পুরাণ অনুসারে, শ্রী হরি বিষ্ণু যখন তাঁর বামন রূপে তাঁর একটি পা আকাশের দিকে তুলেছিলেন, তখন ভগবান ব্রহ্মা তাঁর পা জল দিয়ে ধুয়ে তাঁর কমণ্ডলুতে ভরেছিলেন। এই পবিত্র জলের তেজ ও শক্তিতে ভগবান ব্রহ্মার কমণ্ডলে দেবী গঙ্গার জন্ম হয়েছিল। এর পর ব্রহ্মা তাকে হিমালয় রাজের হাতে তুলে দেন । সেই থেকে মা গঙ্গা এবং দেবী পার্বতীকে বোন হিসেবে গণ্য করা হয়।

 

আবার বিষ্ণু পুরাণ অনুসারে, ভগবান বিষ্ণুর পায়ের ঘাম থেকে বা শ্রী চরণ থেকে নিঃসৃত এক বিন্দু জল থেকে গঙ্গার সৃষ্টি হয়েছিল।দেবী স্বেত বর্ণা এবং তার বাহন মকর যা কুমির জাতীয় এক জলজ প্রাণী।

 

গঙ্গার মর্তে আগমনের সময় সম্পর্কে অনেকে মনে করেন অক্ষয় তৃতীয়ায় মর্তে গঙ্গার আগমন হয়।রাজা ভগীরথ তার পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য গঙ্গাকে মর্তে এনে ছিলেন। গঙ্গার প্রবল তেজে পৃথিবী যখন ধ্বংস হওয়ার উপক্রম হয় তখন শিব গঙ্গাকে তার জটায় আশ্রয় দেন। সেই থেকে শিবের জটায় গঙ্গার অবস্থান।

 

রামায়ণ অনুসারে আরেকটি কাহিনি আছে যেখানে বলা হচ্ছে ব্রহ্মা হিমাবত সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি পরে হিমালয়ের রাজা হন এবং মেরু কন্যা মেনকা বিয়ে করেন। বেশ কয়েক বছর পর, তারা একটি কন্যার আশীর্বাদ পেয়েছিলেন যার নাম তারা গঙ্গা রাখেন। কিছু বছর পর, তাদের আরেকটি কন্যা হয়েছিল যার নাম তারা পার্বতী রাখে এবং যাকে সতীর অবতার বলে

মনে করা হয়।

 

পুরান সংক্রান্ত আরো অনেক তথ্য, ঘটনা এবং তাদের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে আবার ফিরে আসবো

পুরান কথায়। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পুরান কথা – কালভৈরব

পুরান কথা – কালভৈরব

 

পন্ডিত জি ভৃগুর শ্রী জাতক

 

শিবের বিভিন্ন রূপগুলির মধ্যে অন্যতম কাল ভৈরব যা শিবের অংশ বিশেষ। আজ পুরান থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে কাল ভৈরব রূপ

নিয়ে লিখবো।

 

শিব পুরান অনুযায়ী কোনো একসময় ব্রহ্মা নাকি কোনও ধর্মবিরোধী কাজ করেছিলেন যার ফলে শিব অত্যন্ত রেগে যান তাঁর উপর । তাই সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য কালভৈরবকে সৃষ্টি করেছিলেন করেছিলেন শিব। অর্থ্যাৎ শিবের ক্রোধ থেকে জন্ম কাল ভৈরবের আর সেই কালভৈরবই ব্রহ্মার একটি মাথা কেটে নিয়েছিল। কিন্তু তারপর সেই ছিন্ন মস্তক ছুঁড়ে ফেলতে চাইলেও কালভৈরনের হাতেই আটকে ছিল সেটি।সেই অবস্থায় কিছু কাল ভ্রাম্যমান অবস্থায় কাটান তিনি |এদিকে ব্রহ্ম হত্যার পাপ অন্য দিকে এই অসহায় অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে কপাল ব্রত পালন করতে হয় তাঁকে।তাতেও তেমন ফল হয়না, অবশেষে কাশীতে আসার পর তাঁর হাত থেকে হটাৎ খোশে পড়ে যায় সেই মস্তক। তার পর শিব কাল ভৈরব কে নিষ্ঠা সহকারে কাশী তেই স্থাপন করেন এবং কাশীকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেন কালভৈরবকে। তাই শিব হলেন কাশীর রাজা আর কালভৈরব তাঁর কোতোয়াল। তিনিই আশীর্বাদ করেন, তিনিই অভিশাপ দেন। এমনকি স্বয়ং যমরাজেরও নাকি কাশীবাসীকে শাস্তি দেওয়ার কোনও অধিকার নেই।কাশী তে কাল ভৈরব ই শেষ কথা।

 

আবার আরেকটি ব্যাখ্যা অনুসারে বৈষ্ণবদের পাপের শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা যমের বা অন্য কোনো দেবতার নেই। তাই তাদের পাপ পুন্যর হিসেব করেন স্বয়ং কাল ভৈরব।

 

কাশীর কালভৈরব মন্দির ঘিরে রয়েছে অসংখ্য রহস্যময় আচার ও প্রথা,কথিত আছে কাল ভৈরব এর অনুমতি ছাড়া কাশী প্রবেশ বা এখানে থাকা সম্ভব নয়|

 

অনেকের কাছেই কালভৈরব শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাফল্যের দেবতা, তার বাহন কুকুর।

পুরাণ মতে, কালভৈরব কাল বা সময়ের শাসক। বহু প্রাচীন মন্দিরে কালভৈরবের মূর্তি রয়েছে। এবং তিনি সেই মন্দিরের রক্ষক হিসেবে

বিবেচিত হন।

 

আগামী পর্বে অন্য কোনো পৌরাণিক বিষয়

নিয়ে ফিরবো। চলতে থাকবে

ধারাবাহিক পুরান কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

গণেশ চতুর্থীর শাস্ত্রীয় তাৎপর্য 

গণেশ চতুর্থীর শাস্ত্রীয় তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ গণেশ চতুর্থী। গণেশ শুধু আর মহারাষ্ট্র বা হিন্দি বলয়ের আরাধ্য দেবতা নন। তিনি বাঙালির খুব কাছের। সারা বাংলা জুড়ে এখন মহা সমারোহে গণেশ পুজো হয়।আজ আসুন জেনে নেয়া যাক গণেশ পূজোর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য।

 

সিদ্ধিদাতা গণেশের পূজা ঘরে সুখ, সমৃদ্ধি ও বৃদ্ধি নিয়ে আসে। শিব পুরাণে ভাদ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্থীকে গণেশের জন্মদিন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। গণেশ পুরাণের মতানুযায়ী এই গণেশ অবতারের আবির্ভাব ঘটেছিল ভাদ্রপদ শুক্লা চতুর্থীতে।

 

অর্থাৎ পৌরাণিক বিশ্বাস অনুসারে, যেদিন ভগবান শিব ও মা পার্বতীর পুত্র গণেশের জন্ম হয়েছিল, সেই দিনটি ছিল ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থী। তাই এই দিনটিকে গণেশ চতুর্থী ও বিনায়ক চতুর্থী নামে নামকরণ করা হয়।

 

পার্বতী পুত্র গণেশ প্রারম্ভের দেবতা। তিনি বিঘ্ননাশক দেবতা তাই তার অপর নাম বিঘ্নেশ বা বিঘ্নেশ্বর, আবার তিনিই শিল্পকলা ও বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষক, এবং মহাবল, মেধা ও বুদ্ধির দেবতা।

 

বিভিন্ন পুরানে গণেশের একাধিক নামের অস্তিত্ব পাওয়া যায় যেমন হেরম্ব, বক্রতুণ্ড, একদন্ত, মহোদর, গজানন, লম্বোদর, বিকট ও বিঘ্নরাজ।

এদের মধ্যে একদন্ত নামটি নামটি হয়েছে তার একটি গজ দন্তের জন্য। এনিয়ে একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যাও আছে।

 

একটি ব্যাখ্যা অনুসারে একবার পরশুরাম দেবাদিদেব মহাদেবের সঙ্গে দেখা করার জন্য তাঁর গৃহে যান। কিন্তু গণপতি দরজাতেই তাঁকে আটকে দেন। ভেতরে প্রবেশ করতে দেন না। কারণ সেই সময় মহাদেব ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। তখনই ক্রোধান্বিত হয়ে পরশুরাম গণপতির একটি দাঁত কেটে দেন তার অস্ত্র দিয়ে|

 

আবার এটাও মনে করা হয় যে বেদব্যাসের সঙ্গে মহাভারত লিখতে বসে, গণেশের কলম ভেঙে গিয়েছিল। যেহেতু ব্যাসদেব তাঁকে শর্ত দিয়েছিলেন যে, লেখা থামাতে পারবেন না। তাই গণপতি নাকি নিজের একটা দাঁত ভেঙে তা কলম হিসেবে ব্যাবহার করে লেখা চালিয়ে যান।

সেই থেকে গণেশ একদন্ত এবং এই

রূপেই তাকে পুজো করা হয়।

 

আজ শাস্ত্র মতে গণেশ পুজো করুন।গণেশ আরতির সময়ে – ” ওম গণ গণপতায় নমঃ’ মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে সহজেই গণেশকে সন্তুষ্ট করে তার কৃপা লাভ করতে পারেন।বিঘ্নহর্তার আশীর্বাদে সব বিঘ্ন দূর হবে।

 

সবাইকে জানাই গণেশ চতুর্থীর শুভেচ্ছা।

ফিরে আসবো আরো অনেক পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে।আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পুরান কথা – গণেশ পুজো কেনো আগে হয় 

পুরান কথা – গণেশ পুজো কেনো আগে হয়

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দেবতাদের মধ্যে সর্ব প্রথম গণেশের পুজোর রীতি প্রচলিত রয়েছে সেই পুরাকাল থেকে, তার পুজোর পর হয় অন্য সব পুজো। আজ গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে এই বিশেষ পর্বে জানাবো এক পৌরাণিক ঘটনা যেখান থেকে এই রীতির সূত্রপাত।

 

একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে গণেশের মুন্ডচ্ছেদের পর যখন তার মাথায় হাতির মাথা স্থাপন করা হয় তখন দেবী পার্বতী তার প্রিয় সন্তানের মন কষ্ট কিছুটা দুর করতে এবং দেবতা দের মধ্যে তার মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে তাকে আশীর্বাদ করেন যে সমস্ত দেবতাদের মধ্যে

তার পূজো সবার প্রথমে হবে।

 

তবে গণেশের পূজো নিয়ে একটি পৌরাণিক ঘটনার উল্লেখ ও পাওয়া যায়। একবার

দেবলোকে কোন দেবতা শ্রেষ্ট এবং কার পূজা প্রথম হয়ে দরকার এই বিতর্ক দেখা দেয় এবং কিছুতেই এই বিতর্কের নিষ্পত্তি হচ্ছিল না, শেষে ঠিক হল, যে দেবতা ত্রিলোক পরিক্রমা করে একটি নিদ্দিষ্ট স্থানে প্রথমে পৌঁছবেন তিনিই শ্রেষ্ঠ এবং তাঁর পুজো প্রথম করা হবে।যেমন ভাবা তেমন কাজ|শুরু হলো প্রতিযোগিতা, অংশ নিলেন সব দেবতারা।ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে দেবতাগণ নিজ নিজ বাহনে চড়ে ত্রিলোক পরিক্রমা করতে চলে গেলেন।কিন্তু বুদ্ধিমান গণেশ সেই পথে গেলেননা তিনি তার পিতা মাতা অর্থাৎ শিব ও পার্বতীকে পরিক্রমা করলেন

 

সব দেবতারা যখন তার এই কর্মের ব্যাখ্যা চাইলেন তখন গণেশ বললেন পিতা মাতা তার সন্তানের জন্য ত্রিভুবন সমতুল্য|ত্রিলোকের সকল সুখ সম্পদ মাতা-পিতার চরণে বিরাজমান। মাতা-পিতার চরণের সেবাই সর্বোত্তম তাই পিতামাতার পরিক্রমা ত্রিলোক পরিক্রমার সমান।

 

যুক্তিতে জিতে গেলেন গণেশ, সব দেবতারা উপায় না দেখে গণেশদেবের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিলেন|সেই থেকে শুরু হয় সবার প্রথমে গণেশ পুজোর প্রচলন|আজও চলছে সেই রীতি।

 

সনাতন ধর্মে গণেশ বিঘ্নহর্তা এবং সিদ্ধিদাতা তাই তার আশীর্বাদে সব শুভ কাজ সফল হয় এবং বিঘ্ন নাশ হয়। তাই আজও যেকোনো শুভ কাজের সূচনা হয় গণেশ পুজোর মাধ্যমে।তাছাড়া বুদ্ধি এবং জ্ঞানের দেবতা রূপে পূজা করা হয়

গণেশকে। তাই ই যারা জ্ঞান বিজ্ঞান বা শিক্ষা নিয়ে চর্চা করেন তাদের আরাধ্যা দেবতা গণেশ।

 

ফিরে আসবো গণেশ সংক্রান্ত আরো কিছু

তথ্য এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে

আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।