Home Blog Page 3

শিব এবং চন্দ্র

শিব এবং চন্দ্র

পন্ডিতজী ভৃগুশ্রী জাতক

দেবাদিদেবের মস্তকে অর্ধচন্দ্র শোভা পায়
এর ব্যাখ্যা বিভিন্ন পুরাণে বিভিন্ন রকম।
আজকের পর্বে আসুন জেনে নেওয়া যাক শিব এবং চন্দ্রের সম্পর্ক এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।

একটি ব্যাখ্যা অনুসারে সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের সঙ্গে বিষ উঠে এসেছিল যা মহাদেব নিজের কণ্ঠে ধারণ করেছিলেন। সেই তীব্র বিষ ধারণ করার ফলে মহাদেবের শরীরের তাপমাত্রা ভীষণভাবে বেড়ে যায়।সেই তাপ হ্রাস করতেই শিব মাথায় চন্দ্রকে ধারণ করেছিলেন।জ্যোতিষ মতে চন্দ্র শীতল এবং জলতত্ত্ব দিয়ে গঠিত তাই শিব শীতলতা লাভ করেছিলেন চন্দ্রের স্পর্শে।

ব্রহ্মাপুত্র প্রজাপতি দক্ষ তার ২৭ জন কন্যা অর্থাৎ ২৭ টি নক্ষত্রের সঙ্গে চন্দ্রদেবের বিবাহ দিয়েছিলেন। সেই নক্ষত্রদের মধ্যে চন্দ্রদেবের প্রিয় ছিলেন রোহিণী। বাকি কন্যারা একবার রোহিনীর বিরুদ্ধে দক্ষর কাছে দুর্ব্যবহার এর অভিযোগ করেন তাতে রেগে গিয়ে দক্ষ চন্দ্রদেবকে অভিশাপ দেন যে ধীরে ধীরে চন্দ্রের ঔজ্জ্বল্য কমে যাবে। ক্রমশঃ তাই হতে থাকে শেষে চন্দ্রদেবের মাত্র একফালি অংশই উজ্বল ছিল সেই সময়ে দেবতাদের অনুরোধে চন্দ্রকে নিজের জটায় স্থান দেন পাশাপাশি তিনি সঙ্গে চন্দ্রদেবকে বর প্রদান করেন যে ১৫ দিন চন্দ্রের উজ্বলতা হ্রাস পাবে। তবে পরবর্তী ১৫ দিনে তা আবার ফিরে আসবে। পৌরাণিক মতে, এই কারণেই প্রত্যেক মাসে চাঁদের আলোর হ্রাস-বৃদ্ধি হয়।

আবার শিব পুরাণে অনুসারে সতীর দেহ ত্যাগের পর ক্ষুব্ধ মহাদেবের ক্রোধ শান্ত করতে বিষ্ণু নিজের সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ ৫১টি অংশে খণ্ডিত করে দেয়ার পর শিবের ক্রোধ কিছুটা কমলেও রুদ্রতেজ পুরোপুরি শান্ত হয়নি হয়নি। সেই তেজ কমানোর উপায় খুঁজতে দেবতারা ব্রহ্মার স্মরণে যায়। ব্রহ্মা তাঁদের একটাই উপান বলেছিলেন, তা হল অমৃতের কলস এবং ষোলকলাময় চন্দ্র।অমৃত পান করে শান্ত হলেন মহাদেব কিন্তু কলসে থাকা চন্দ্র তার হাতের আঘাতে দ্বিখণ্ডিত হলো।অমৃত পান করে প্রসন্ন এবং শান্ত হয়ে চন্দ্রকে পুনরায় ষোলকলা ফিরে পাওয়ার বর দিলেন শিব এবং নিজের মাথায় ধারণ করলেন।তারপর থেকেই মহাদেবের মাথায় শোভা পায় অর্ধচন্দ্র।

শিব রাত্রি উপলক্ষে চলতে থাকবে শিব নিয়ে আলোচনা।আগামী পর্বে আবার কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদে সামনে|মনে রাখবেন শিব রাত্রি এবং সোমবতি অমাবস্যা
গ্রহ দোষ খন্ডনের আদর্শ তিথি।
পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব কথা – শিব এবং নন্দী – ভৃঙ্গী

শিব কথা – শিব এবং নন্দী – ভৃঙ্গী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শিবের পাশে সর্বদা থাকেন তার একান্ত প্রিয় দুই অনুচর নন্দী এবং ভৃঙ্গী। অনেক শিবমন্দিরের সামনে নন্দীর মূর্তিও থাকে আজ এই দুই শিবের এই দুই সঙ্গী সম্পর্কে জানাবো।

নন্দী ও ভৃঙ্গী কে নিয়ে শাস্ত্রে অনেক কথাই বলা আছে কূর্ম পুরাণে নন্দী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, মহাদেবের এই প্রধান অনুচরটি করালদর্শন, বামন, বিকটাকার, মুণ্ডিতমস্তক, ক্ষুদ্রবাহু ও মহাবল।পূর্বে নন্দী মহারাজ পৃথক দেবতা হিসেবেও পূজিত হতেন পরবর্তীতে তিনি শিবের বাহন হিসেবে স্থান পান।

শিব মহাপুরাণ মতে, নন্দী শিলাদ মুনির পুত্র। শিলাদ ছিলেন ভগবান শিবের পরম ভক্ত এবং শিবের আশীর্বাদেই নন্দীর জন্ম হয়েছিলো এবং শিব স্বয়ং তাকে চিরঞ্জীবী হওয়ার বর দেন ও নিজের বাহন হিসেবে স্থান দেন|রামায়ণেও নন্দীর উল্লেখ পাওয়া যায় যেখানে অহংকারী রাবন কৈলাশ এসে নন্দীকে তার চেহারার জন্যে অপমান করেন ও বানর বলেন, নন্দী তাকে অভিশাপ দিয়েছিলো যে এক বানর তার পতন ডেকে আনবেন, পরে তাই হয়েছিলো|বজরংবলী রাবনের পতনের অন্যতম কারন।

নন্দীর ন্যায় ভৃঙ্গীও শিবের অনুচর। নন্দী যেমন হৃষ্টপুষ্ট, ভৃঙ্গী তেমনই রুগ্ন , কঙ্কালসার। ভৃঙ্গী আগে ছিলেন এক মুনি, শিবের উপাসক। তিনি শিবের সাথে পুজোয় কিছুতেই রাজি নন। ক্রুদ্ধ পার্বতী অভিশাপ ভৃঙ্গী কে অভিশাপ দিলেন। সেই অভিশাপে ভৃঙ্গী কঙ্কালে পরিণত হলেন। দু’পায়ে আর দাঁড়াতে পারেন না তিনি, তখন শিবের আশীর্বাদে তাঁর তৃতীয় চরণের সৃষ্টি হল। কিন্তু তবু ভৃঙ্গী পার্বতীর পুজো করবেন না। তখন শিব তাঁকে নিজের অর্ধনারীশ্বর রূপ দেখালেন, যাতে তিনি বুঝতে পারেন যে পার্বতী শিবেরই অংশ। পরবর্তীতে তিনিও হয়ে উঠলেন শিবের অনুচর, একত্রে উচ্চারি হতে শুরু হয় নন্দী ও ভৃঙ্গীর নাম|

শিবের সাথে নন্দী ভৃঙ্গীর সম্পর্ক এতটাই গভীর যে নন্দী ভৃঙ্গী ছাড়া শিবকে কল্পনা করা যায়না।যেখানে শিব সেখানেই তার এই দুই অনুচর স্বমহিমায় বিরাজমান।

আসন্ন শিব রাত্রি উপলক্ষে শিব সংক্রান্ত পৌরাণিক এবং ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে।শিব রাত্রিতে যারা জ্যোতিষ মতে প্রতিকার গ্রহন করতে চান তারা যোগাযোগ করতে পারেন। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|

শিব কথা – পঞ্চানন শিব

শিব কথা – পঞ্চানন শিব

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

একাধিক শাস্ত্রে শিবের একাধিক রূপ এবং অবতারের উল্লেখ আছে। তার মধ্যে একটি শিবের পঞ্চানন রূপ।শিবের পঞ্চানন রূপকে দুই ভাবে দেখা যায় বা ব্যাখ্যা করা যায়।প্রথমত পঞ্চানন রূপের অন্তর্নিহত অর্থ বা শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা যে ব্যাখ্যা অনুসারে।দ্বিতীয়ত একজন লৌকিক দেবতা হিসেবে তার ব্যাখ্যা।

 

পাঁচ সংখ্যাটির সঙ্গে শিবের এক রহস্যময় ও গভীর সম্পর্ক রয়েছে।শিবের পবিত্র সংখ্যা হল পাঁচ। পরম বৈষ্ণব শিবের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রগুলির একটি নমঃ শিবায় এক পঞ্চাক্ষরি মন্ত্র।আবার শিবের শরীর পাঁচটি মন্ত্র দ্বারা গঠিত। এগুলিকে বলা হয় পঞ্চব্রহ্মণ।

 

পঞ্চানন রূপে শিবের পাঁচটি সত্তা বা রূপ প্রকাশিত হয়। এই পাঁচটি রূপ হলো

 

১- সদ্যোজাত

২- বামদেব

৩-অঘোর

৪- তৎপুরুষ

৫- ঈশান

 

বিভিন্ন শাস্ত্র অনুসারে আবার এই পাঁচটি রূপ পঞ্চভূত, পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় ও পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয়ের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

 

দেবাদিদেবের পঞ্চানন রূপের আরো একটি ব্যাখ্যা হয় যেখানে পঞ্চানন শিবের এক লৌকিক রূপ। গ্রাম বাংলায় বহু জায়গায় পঞ্চানন শিবের মন্দির আছে। স্থানীয় ভাষায় তিনি “বাবাঠাকুর” নামে পরিচিত। আবার কারও কারও মতে তিনি “পাঁচু ঠাকুর”যিনি শিবের ই একটি বিশেষ রূপ।

 

গ্রাম বাংলায় লৌকিক দেবতা রূপে পূজিত পঞ্চানন ঠাকুরের সঙ্গে থাকেন তাঁর দুই অনুচর। ধনুষ্টংকার এবং জরাসুর নামক দুই অপদেবতা। এছাড়া থাকে ভূত-প্রেত, ঘোড়া ইত্যাদি পশু। যা

আবার অনেকের মতে তিনি শিবের পুত্র বা অবতার অনেকটা দক্ষযজ্ঞকালে জন্ম নেওয়া বীরভদ্রের মত।

 

বাংলার অন্যতম প্রাচীন তথা জনপ্রিয় লৌকিক দেবতা “ধর্মঠাকুর” আসলে শিবের পঞ্চানন রূপ বলেই অনেকে মনে করেন।

 

দেবাদিদেব নানা রূপে পূজিত হন তবে তার পুজোকরে তার কৃপা লাভ করার শ্রেষ্ট তিথি আগামী ১৫ ই ফেব্রুয়ারী অর্থাৎ শিবরাত্রি এবং তার সাথেই থাকছে সোমবতি অমাবস্যা।

জ্যোতিষ শাস্ত্রমতে গ্রহের প্রতিকারের জন্যও এই তিথি অন্যতম শ্রেষ্ঠ।যারা এই পবিত্র সময়ে গ্রহ দোষ খণ্ডন করাতে চান তারা যোগাযোগ করতে পারেন।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে। থাকবে শিব সংক্রান্ত আরো অনেক আলোচনা। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শিব এবং ত্রিশূল

শিব এবং ত্রিশূল

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শিবের প্রিয় অস্ত্র ত্রিশূল শুধু অস্ত্র নয় শুভ শক্তির প্রতীক দেবাদিদেব মহাদেবেকে নিয়ে আলোচনা অসম্পূর্ণ থেকে যায় যদি তার চির সঙ্গী ত্রিশূলের কথা না বলা হয়। সংহার কর্তা মহাদেবের প্রধান অস্ত্র।তার ত্রিশূল। আবার এই ত্রিশূলই তিনি তুলে দেন দেবী দুর্গার হাতে মহিষাসুর বধের সময়ে।

পুরান অনুসারে শিব হলেন স্বয়ম্ভু তার আদি অন্ত কিছুই নেই। তার সৃষ্টি নেই তার বিনাশ ও নেই।নিজের চেতনায় নিজ ইচ্ছায় সৃৃষ্ট হন এবং যাকিছু অশুভ বা সৃষ্টির জন্যে বিপদজনক তা সংহার করার দায়িত্বে থাকেন তিনি। কিন্তু সংহার কর্তার এই সংহার লীলার জন্যে প্রয়োজন অস্ত্র।
এই অস্ত্র নির্মাণের ভার স্বাভাবিক ভাবেই গিয়ে পরে দেব শিল্পী বিশ্বকর্মার উপর|

বিষ্ণুপুরান অনুসারে সূর্যের তেজ ও রশ্মির ব্যবহার করে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা ত্রিশূল নির্মাণ করেন এবং তা শিবকে প্রদান করেন|এতে শিব ও তার অস্ত্র পান এবং সূর্যের তেজ কিছুটা কমে তাতে বিশ্বকর্মার কন্যা এবং সূর্যর পত্নী সংজ্ঞা স্বামীর অতিরিক্ত তেজ থেকে কিছুটা স্বস্তি পান|এখানে ত্রিশুল একসাথে দুটি সমস্যার সমাধান করে।

মহিষাসুর বধের জন্য বিভিন্ন দেবতা যখন দেবীকে বিভিন্ন অস্ত্রদান করেন তখন ভগবান শিব তাকে এই ত্রিশূলটি দান করেছিলেন,দেবী মহিষাসুরকে ত্রিশূল দিয়েই বধ করেন|আবার ত্রিশূল দিয়ে শিব দ্বারা গণেশের মুন্ড ছেদের ঘটনারও উল্লেখ আছে শাস্ত্রে|

ত্রিশূলের তিনটি ফলার আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা এবং তাৎপর্য রয়েছে|মনে করা হয় তিনটি ফলা যথাক্রমে সৃষ্টি-স্থিতি-বিনাশ কে চিহ্নিত করে আবার অন্য একটি বাখ্যা অনুসারে তিনটি ফলার অর্থ যথাক্রমে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত যা শিব তথা মহাকালের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে|শিবের ত্রিশূলে সব সময় বাঁধা থাকে ডমরু। এই ডমরু বেদ এবং তার উপদেশের প্রতীক যা আমাদের জীবনে এগিয়ে চলার রাস্তা দেখায়|শুধু হিন্দু নয় বৌদ্ধ ধর্মেও ত্রিশূল একটি পবিত্র প্রতীক হিসেবে সমাদৃত|

এবার আসি বৈদিক জ্যোতিষ এবং বাস্তু শাস্ত্রের দিকে। বাস্তু শাস্ত্রে অশুভ শক্তিকে দূরে রাখতে ত্রিশূল ব্যাবহার হয়|বাস্তু শাস্ত্র মতে গৃহের প্রধান ফটকে ত্রিশূল চিহ্ন বা ত্রিশূল রাখলে গৃহে অশুভ শক্তি প্রবেশ করেনা ও গৃহে সুখ ও সমৃদ্ধি বিরাজ করে|জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে শ্রাবন মাসে শিবকে ত্রিশূল অর্পণ করলে শিব সন্তুষ্ট হন এবং মনোস্কামনা পূর্ণ করেন।কবচ আকারে পবিত্র ত্রিশুল ধারন করলেও ভালো ফল পাওয়া যায় বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।

শিব রাত্রি উপলক্ষে চলতে থাকবে শিব নিয়ে আলোচনা।আগামী পর্বে আবার শিব সংক্রান্ত কোনো নতুন বিষয় নিয়ে ফিরে আসবো আপনাদের জন্য।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

শিব কথা – শিব এবং বাসুকি নাগ

শিব কথা – শিব এবং বাসুকি নাগ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন শিব রাত্রি উপলক্ষে আজ থেকে শুরু করছি দেবাদিদেব মহাদেবকে নিয়ে বিশেষ পর্ব শিব কথা।আজ শুরু করবো শিব এবং বাসুকি নাগের সম্পর্ক দিয়ে।

 

সনাতন ধর্মে নাগ আধ্যাত্মিক শক্তি এবং কুন্ডলিনী শক্তির প্রতীক। শিব স্বয়ং মহাকাল স্বরূপ তিনি সকল অতিন্দ্রিয় শক্তিকে নিজ কণ্ঠে ধারণ করেন।

শিবের গলার সাপ কোনো সাধারণ সর্প নয় তিনি নাগ রাজ বাসুকি।স্বয়ং নাগ রাজ শিবের অলংকার স্বরূপ।

 

তবে কিভাবে এই প্রবল পরাক্রমী বাসুকি কিভাবে শিবের মাথায় স্থান পেলো তাই নিয়ে ভবিষ্য পুরানে বলা হচ্ছে যে নাগেরাই প্রথম শিব পূজা শুরু করে এবং নাগ রাজা হিসেবে বাসুকি শিবের তপস্যা করেন ও শিব কে তুষ্ট করে বরদান পান যে তিনি শিবের কণ্ঠে স্থান পাবেন ও সারা জীবন শিবের সবথেকে কাছে থেকে তার স্তুতি করবেন |

 

শিব ও বাসুকি কে নিয়ে আরো একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় | মনে করা হয় শিব ও পার্বতীর বিবাহের সময় যখন শিবের অঙ্গ সজ্জার প্রয়োজন হয় তখন বাসুকি তার কণ্ঠে জড়িয়ে যান | শিব এতে এতটাই খুশি হন যে সদা সর্বদা তিনি বাসুকি কে ওই স্থানে ধারণ করে থাকেন |

 

আরেকটি কাহিনী অনুসারে সমুদ্র মন্থন করে অমৃত সন্ধানের সময়ে বাসুকি রজ্জু হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে ছিলেন ও তার পরবর্তীতে শিব যখন হলা হল পান করেন তখনো বাসুকি শিব কে সাহায্য করেন | বাসুকীর এই ভক্তি দেখে শিব সন্তুষ্ট হন ও বাসুকি কে তার জটায় আশ্রয় দেন |

 

স্বয়ং নাগ রাজ যার অঙ্গের অলংকার তাঁর কৃপা পেলে যে জীবন ধন্য হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাই শাস্ত্রীয় মতে শিব পুজো করুন, শিবকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করুন তিনি অল্পেই সন্তুষ্ট হন এবং তিনি সন্তুষ্ট হলে আর কোনো দুক্ষ কষ্ট থাকেনা। শিব রাত্রিতে সম্ভব হলে গ্রহের প্রতিকার করান।ফিরে আসবো শিব কথার পরবর্তী পর্বে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – রামেশ্বরম শিব মন্দির

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – রামেশ্বরম শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ পর্ব নিয়ে ধারাবাহিক এই লেখা শেষ করবো যে মন্দিরটি নিয়ে তা হলো ভারতের শেষ প্রান্তে অবস্থিত জ্যোতির্লিঙ্গ রামেশ্বরম।

 

রামেশ্বরম ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রামনাথপুর জেলার পাম্মান দ্বীপে অবস্থিত|এই দ্বীপ পাম্মান সেতু দ্বারা ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত এই সেতু কে অনেকে রামেশ্বর ব্রিজ ও বলে থাকেন|অপূর্ব সুম্দর এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিশেষত সমুদ্র ও তার দুদিকের দুটি ভিন্ন রং দেখলে অবাক হতে হয়|সমুদ্র সৈকতটিও অতি সুম্দর|এখান থেকে শ্রীলংকার মান্নার দ্বীপের দূরত্ব মাত্র চল্লিশ কিলোমিটার যা দূরবীনে চোখ রাখলে বেশ স্পষ্ট দেখা যায়।

 

রামানায়নে রাম ও রাবনের যুদ্ধতে রাবন বধ হন রামের হাতে, কিন্তু রাবন ছিলো নিষ্ঠাবান ব্রাহ্মণ ও বড়ো শিব ভক্ত তাই রাবন কে হত্যা করে ব্রহ্ম হত্যার জন্য দায়ী হন শ্রী রাম এবং সেই মহা পাপ থেকে মুক্তি পেতে তিনি ভারতের মাটিতে পা রেখে একটি শিব লিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করে তার আরাধনা করেন এবং ব্রহ্ম হত্যার পাপ থেকে মুক্ত হন।

 

শ্রী রাম দ্বারা স্থাপিত সেই বিশেষ শিব লিঙ্গটি হলো এই রামেশ্বর শিব লিঙ্গ যা দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম|এই শিব লিঙ্গ শ্রীরামনাথস্বামী হিসাবে পরিচিত|

 

এখানে জানিয়ে রাখি ভারতের উত্তরে কেদারনাথ এবং দক্ষিনে রামেশ্বরম,এক সরল রেখায় অবস্থান করছে,তার সাথে আরো অনেক গুলি শিব মন্দির মিলিত হয়েছে ওই একি সরলরেখায় এও এক বিস্ময়|রামেশ্বর শুধু দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ নয় ভারতের জনপ্রিয় চারধাম তীর্থের মধ্যে অন্যতম।

জনশ্রুতি আছে পুরী যেমন ভগবানের ভোজনের স্থান তেমনই রামেশ্বরম ভগবানের বিশ্রাম স্থান।

 

আগামী পর্বে আবার ফিরে আসবো শিব সংক্রান্ত আধ্যাত্মিক এবং পৌরাণিক বিষয়

নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – মল্লিকার্জুন শিব মন্দির

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – মল্লিকার্জুন শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

এগিয়ে আসছে মহা শিব রাত্রি এবং সোমবতী অমাবস্যা। চলছে ধারাবাহিক দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে লেখা।ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীশৈলমে রয়েছে মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ।আজকের পর্বে এই জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে লিখবো।

 

শ্রীশৈলমের মল্লিকার্জুন মন্দির একই সাথে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ এবং মহাশক্তিপীঠেরও অন্যতম।

শাস্ত্র মতে এখানে সতীর ওপরোষ্ঠ পড়েছিল।

তবে আজ শক্তি পীঠ হিসেবে নয় জানবো এই জ্যোতির্লিঙ্গর বিশেষত্ব এবং তাৎপর্য।

 

শ্রীশৈলমের শিবমন্দির তৈরির পিছনে রয়েছে এক পৌরাণিক কাহিনি।যখন শিব এবং পার্বতী তাঁদের দুই ছেলে গণেশ ও কার্তিকের জন্য উপযুক্ত পাত্রীর সন্ধান করছিলেন। সেই সময় কার্তিক নাকি তর্ক জুড়েছিলেন, কে আগে বিয়ে করবেন, সেই ব্যাপারে। শিব তখন জানিয়েছিলেন, যে আগে বিশ্ব প্রদক্ষিণ করে আসতে পারবে, তারই আগে বিয়ে হবে। কার্তিক তাঁর বাহন ময়ূরে চেপে বিশ্ব প্রদক্ষিণে বেরিয়ে পড়েছিলেন। অপর দিকে বুদ্ধিমান গণেশ শুধু শিব-পার্বতীকেই সাতবার প্রদক্ষিণ করেছিলেন। শাস্ত্রমতে নিজের মা-বাবাকে প্রদক্ষিণ করলেই বিশ্ব প্রদক্ষিণ হয়ে যায়।গণেশ তাই সেই পথ বেছে নেয়।

 

পরবর্তীতে বুদ্ধি, ঋদ্ধি ও সিদ্ধির সঙ্গে গণেশের বিয়ে সম্পন্ন হয় । বিশ্ব প্রদক্ষিণ করে ফিরে এসে সেসব দেখে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন কার্তিক। তিনি কুমার এবং ব্রহ্মচারী হিসেবে থাকার জন্য ক্রৌঞ্চ পর্বতে চলে যান। ছেলেকে ফিরিয়ে নিতে শিব এবং পার্বতীও সেখানে যান। কিন্তু, কার্তিক ফিরতে রাজি হননি। তখন শিব ও পার্বতী কাছাকাছি এক স্থানে থাকা শুরু করেন। যেখান থেকে শিব প্রতি অমাবস্যা এবং পার্বতী প্রতি পূর্ণিমায় গিয়ে কার্তিককে দেখে আসতেন। যে জায়গায় শিব ও পার্বতী নির্বাচন করেন সেই জায়গাই পরিচিত হয় শ্রীশৈলম নামে।সেই পবিত্র স্থানেই জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে স্বয়ং শিব বিরাজ করছেন।

 

এখানের শিবমন্দিরটি পূর্বমুখী। এর মূল মণ্ডপে অনেকগুলো স্তম্ভ রয়েছে এবং নন্দীকেশ্বরের বিরাট মূর্তি রয়েছে।

 

সারা বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ভক্ত আসেন এই মন্দিরে নিজের মনস্কামনা পূরণের প্রার্থনা জানাতে। তবে, অন্যান্য শিব মন্দিরের মতই শিবচর্তুদর্শী বা শিবরাত্রির দিন এই মন্দিরে ব্যাপক ভক্ত সমাগম হয়।এই স্থান দর্শন করলে একই সাথে শক্তি পীঠ এবং জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শনের পুন্য লাভ হয়।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী জ্যোতির্লিঙ্গ এবং সেই

সংক্রান্ত পৌরাণিক ঘটনা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – কেদারনাথ

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – কেদারনাথ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গর মধ্যে অন্যতম জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির হলো উত্তর ভারতের হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত কেদারনাথ ধাম।আজ লিখবো এই জ্যোতির্লিঙ্গটি নিয়ে।

 

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পান্ডবরা বহু স্বজন কে হত্যা কোরেছিলো সেই পাপ থেকে মুক্তি পেতে পান্ডবরা শিবের শরণাপন্ন হন কিন্তু শিব তাদের ক্ষমা করতে প্রস্তুত ছিলেন না তাই তিনি একটি ষাঁড় এর রূপ ধরে গা ঢাকা দেন।কিছুকাল অনুসন্ধান চালানোর পর পান্ডব রা তার স্বরূপ চিনতে পারেন ও ভীম বহু চেষ্টার পর ষাঁড়রুপি শিব কে ধরে ফেলেন তখন শিব বাধ্য হয়ে নিজ মূর্তিতে আবির্ভুত হন, এই আবির্ভাবের মুহূর্তে ষাঁড়রুপি শিবের শরীরের যে অংশ যেখানে অবস্থান করছিলো সেখানে একটি করে শিব মন্দির সৃষ্টি হয় শিব রুপী ষাঁড়ের পৃষ্ঠদেশ ছিলো কেদারনাথে। কেদারনাথ একটি জ্যোতির্লিঙ্গের স্বীকৃতি পায়।

 

স্কন্দ পুরান অনুসারে কেদারনাথ এর এই পবিত্র স্থানেই শিব তার জটা থেকে মুক্ত করে ছিলো গঙ্গাকে|দেবাদিদেব এখানে পূজিত হন কেদার হিসেবে|প্রাচীন কালে এই অঞ্চলের নাম ছিলো কেদারখন্ড|

 

স্বাভাবিক ভাবেই আদি কেদারনাথ মন্দির প্রকৃতপক্ষে কবে নির্মাণ হয়েছিলো তার কোনো নিদ্দিষ্ট নথি নেই|মন্দির প্রাঙ্গনে আছে বিশালাকার নন্দীর মূর্তি, অভ্যন্তরে কৃষ্ণ ও স্বস্ত্রীক পঞ্চ পাণ্ডবের মূর্তি খোদাই করা আছে|ত্রিকোণাকৃতি জ্যোতির্লিঙ্গ টি রয়েছে মুলমন্দিরের এক বিশেষ গর্ভগৃহে|মনে করা হয় এক হাজার বছর আগে আদি শংকরাচার্য মন্দিরটির সংস্কার করেন ও বদ্রিনাথের পূজারী কে এনে কেদারে পূজার প্রচলন করেন|তার আগে কেদারনাথ এ কোনো নিদ্দিষ্ট পূজারী ছিলো না, পরে পাঁচ জন পূজারী নিয়োগ করা হয়, যে পরম্পরা আজও চলছে|

 

চারপাশে তুষার ঢাকা পর্বত মাঝ খানে কেদারনাথ মন্দির এক অপূর্ব অনুভূতি জাগায় মনে|তবে এই অঞ্চলের তীব্র শীতের ও প্রতিকূল পরিবেশের জন্য মন্দিরটি কেবল এপ্রিল মাসের শেষ থেকে কার্তিক পূর্ণিমা অবধি দর্শনার্থী দের জন্য খোলা থাকে। শীতকালে কেদারনাথ মন্দিরের মূর্তিগুলিকে ছয় মাসের জন্য উখিমঠে নিয়ে গিয়ে পূজা করা হয়|পরে আবার নিদ্দিষ্ট সময়ে মূর্তিগুলি কেদারনাথ মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়|যুগ যুগ ধরে এই পরম্পরা চলে আসছে|কেদারনাথ মন্দিরের কাছেই আছে আদি শঙ্করাচার্য্যর সমাধি মন্দির।

 

আজ জ্যোতির্লিঙ্গ কেদারনাথ নিয়ে এটুকুই।

ফিরে আসবো পরের পর্বে। অন্য একটি জ্যোতির্লিঙ্গের কথা নিয়ে।

আসন্ন শিব রাত্রিতে জ্যোতিষ সংক্রান্ত

প্রতিকারের জন্য যোগাযোগ করুন।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – বৈদ্যনাথ ধাম 

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – বৈদ্যনাথ ধাম

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের পর্বে বৈদ্যনাথ ধাম নিয়ে আলোচনা করবো। এটি দ্বাদশ জ্যোৎরলিঙ্গের অন্যতম।

এই মন্দিরটি বর্তমানে ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের দেওঘর জেলায় অবস্থিত।

 

এই স্থান আবার একটি শক্তি পিঠও কারন শাস্ত্র অনুসারে এখানে সতীর হৃদয় বা হৃৎপিণ্ড পড়েছিল। বৈদ্যনাথ ধামে অধিষ্ঠিত দেবী জয় দুর্গা ও ভৈরব হলেন স্বয়ং শিব যিনি বৈদ্যনাথ রূপে এখানে বিরাজমান।তবে আজ শক্তি পিঠ নয় জ্যোতির্লিঙ্গ বৈদ্যনাথ নিয়ে লিখবো।

 

পুরানে আছে একবার রাবন শিবকে স্থায়ী ভাবে লঙ্কায় নিয়ে যেতে কঠোর তপস্যা করেন।নিজের অত্যান্ত প্রিয় ভক্তকে শিব আত্মলিঙ্গ অর্পণ করে লঙ্কার প্রতিষ্ঠা করতে বলেন তাকে।শর্ত ছিলো কৈলাস থেকে লঙ্কার পথে যাওয়ার সময় কোথাও যদি রাবণ শিবলিঙ্গ কে কোন জায়গায় রেখে দেন, তাহলে তিনি সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে লঙ্কায় যাওয়ার পথে ক্লান্ত এবং তৃষ্ণার্থ রাবন এই স্থানে সেই দিব্য শিবলিঙ্গ কিছুক্ষনের জন্য নামিয়ে রাখেন আর সেখানেই শিবলিটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। সেই শিব

লিঙ্গই বৈদ্য নাথ রূপে এখানে বিরাজ করছে।

 

এই শিব খেত্রে শিবকে বৈদ্যনাথ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার অর্থ হল যিনি সর্বরোগহারি, রামায়ণেও এই বৈদ্যনাথ

মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া যায়।শিব পুরাণে এই মন্দিরকে দুটি আত্মার মিলনস্থল বলেও বর্ণনা করা হয়েছে।কারন এটিই একমাত্র শক্তিপীঠ যেখানে বৈদ্যনাথে শিব এবং শক্তি একসাথে বিরাজমান।

 

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী মোঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহ এই বৈদ্যনাথ মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন এবং দেওঘর রাজ্যের রাজা দ্বিধাউর এই মন্দির নির্মাণের কাজে অনেকখানি সহযোগিতা করেছিলেন। পরবর্তী কালে এই মন্দির একাধিক বার সংস্কার করা হয় এমনকি ব্রিটিশ আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিও এই মন্দিরের রক্ষনাবেক্ষনের ভার নেয়।

 

জ্যোতির্লিঙ্গ হওয়ায় বৈদ্যনাথে বিরাট আকারে পালিত হয় মহা শিবরাত্রি।সারা দেশের শিব ভক্তদের অন্যতম প্রিয় এবং শ্রদ্ধার স্থান এই বৈদ্যনাথ ধাম এবং বাবা বৈদ্যনাথ তাদের সবার মনোস্কামনা পূরণ করেন বলেই বিশ্বাস।

 

আজকের জ্যোতির্লিঙ্গ পর্ব এখানেই শেষ করছি।

দেখা হবে পরের পর্বে থাকবে পরবর্তী জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে লেখা । পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – কাশী বিশ্বনাথ মন্দির

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – কাশী বিশ্বনাথ মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শিব সংক্রান্ত আলোচনা কাশীকে বাদ দিয়ে সম্ভব নয়। আজ কাশীর কথা দিয়েই শুরু করছি।

কথিত আছে কাশী এই জগতের বাইরে। শিবের ত্রিশুলে অবস্থিত এই নগরী। মহা প্রলয়ে সব ধ্বংশ হয়ে গেলেও কাশী অক্ষত থাকবে।কাশীতে স্নান করে মহাদেব ব্রহ্ম হত্যার পাপ থেকে মুক্ত হয়েছিলেন তাই তাকে মুক্তেশ্বর মহাদেব ও বলা হয়।

 

“কাশী বিশ্বনাথ মন্দির ” দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম|বারাণসীর অপর নাম কাশী তাই এই মন্দির কে কাশী বিশ্বনাথ বলা হয়|শিব এখানে বিশ্বনাথ বা বিশ্বেস্বর রূপে প্রতিষ্ঠিত|

 

শিব মন্দির ও শিব লিঙ্গ এখানে কবে থেকে প্রতিষ্ঠিত তা সঠিক ভাবে বলা যায়না।

স্কন্দ পুরাণেও এই জ্যোতির্লিঙ্গের উল্লেখ আছে।কথিত আছে, সতীর দেহত্যাগের পর শিব মণিকর্ণিকা ঘাট দিয়ে কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরে এসেছিলেন|বিশ্বাস করা হয় শিব স্বয়ং এখানে বাস করতেন|এই মন্দির ও শিব লিঙ্গ নিয়ে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে অসংখ্য প্রচলিত কিংবদন্তী যা প্রতিটি শিব ভক্তের কাছে ধ্রুব সত্য|এই মন্দিরের ইতিহাসও বৈচিত্রময় ও বর্ণময়|বহু ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী কাশী বিশ্বনাথ মন্দির|

 

অতীতে বিশেষত মুসলিম শাসন কালে বহুবার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে এই মন্দির এবং পুনরায় নতুন করে সৃষ্টিও হয়েছে|পুরাকাল থেকে এই মন্দিরের অস্তিত্ব থাকলেও একাদশ শতাব্দীতে হরি চন্দ্র মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করেছিলেন|তারপর পর্যায়ক্রমে মোহাম্মদ ঘোরী,কুতুবুদ্দিন আইবক, ফিরোজ শাহ তুঘলক ও ঔরংযেব মন্দির টি ধ্বংস করেন|প্রতিবারই অবশ্যই পুনরায় মাথা তুলে দাঁড়ায় কাশী বিশ্বনাথ মন্দির|বর্তমান সময়ে যে মন্দিরটি রয়েছে তা ১৭৮০ সালে ইন্দোরের মহারানি অহিল্যা বাই হোলকর তৈরি করে দিয়েছিলেন|পরবর্তীকালে ১৮৩৫ সালে পাঞ্জাবের শিখ সম্রাট রঞ্জিত সিংহমন্দিরের চূড়াটি ১০০০ কিলোগ্রাম সোনা দিয়ে মুড়ে দেন|বর্তমান মন্দিরটির উচ্চতা 15.5 মিটার এবং চুড়োটি সোনায় মোড়ানো বলে অনেকে এই মন্দির কে স্বর্ন মন্দিরও বলেন|

 

প্রধান মন্দিরের মধ্যে একটি ৬০ সেন্টিমিটার উঁচু ও ৯০ সেন্টিমিটার পরিধির শিবলিঙ্গ রুপোর বেদির উপর স্থাপিত।মুল মন্দির প্রাঙ্গনে একটি প্রাচীন কূপ লখ্য করা যায়, কথিত আছে অতীতে একবার শত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে মন্দিরের পুরোহিত শিব লিঙ্গ নিয়ে ওই কূপে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।

 

সনাতন ধর্মে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলির মধ্যে একদম প্রথম সারিতে রয়েছে বারাণসী বা কাশী আর এই প্রাচীন ধর্মীয় নগরীর ধর্মচর্চার প্রানকেন্দ্র হচ্ছে কাশী বিশ্বনাথ মন্দির যা জ্যোতির্লিঙ্গ গুলির মধ্যে অন্যতম।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে আগামী পর্বে।যারা শিব রাত্রিতে শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার চান নির্দ্বিধায় যোগাযোগ করতে পারেন।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।