Home Blog Page 4

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা

শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বুদ্ধ পূর্ণিমায় ভগবান বুদ্ধর আগমন ঘটেছিলো মানব সভ্যতাকে অজ্ঞানতার অন্ধকার থেকে জ্ঞানের আলোয় ফিরিয়ে আনতে।হিংসাকে পরাজিত করে অহিংসাকে স্থাপন করতে। তার বাণী তার শিক্ষা তার ভক্ত শিষ্যদের মাধ্যমে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পরে। আজ বুদ্ধ পূর্ণিমায় তাঁকে স্মরণ করবো তার দুই শিষ্যর সাথে করা তার এক বিশেষ লীলার মধ্যে দিয়ে।

 

আনন্দ এবং রবি ছিলেন বুদ্ধের দুই প্রিয় শিষ্য। একদিন তারা কিছু অদ্ভুত ঘটনা প্রত্যক্ষ করলেন। তারা দেখলেন একদিন সকালে এক ব্যাক্তি এসে বুদ্ধ কে জিগেস করলেন যে ভগবান আছে কি নেই। এবং জানালেন যে তিনি ভীষণ ভাবে ঈশ্বর বিশ্বাসী। বুদ্ধ উত্তরে বললেন যে না ঈশ্বর নেই। ব্যক্তিটি খুশি না হলেও মুখে কিছু না বলে সেখান থেকে বিদায় নিলেন। দুপুরে আরো একজন বুদ্ধের কাছে এলেন এবং একই প্রশ্ন করলেন। ইনি ছিলেন একজন নাস্তিক এবং ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন না। তার উত্তরে বুদ্ধ বললেন একমাত্র ঈশ্বরই সত্যি বাকি সব মিথ্যা।সেদিন সন্ধ্যায় আরো একজন এসে ঈশ্বর সম্পর্কে একই প্রশ্ন করলেন এবং বুদ্ধ কিছু না বলে মৌন থাকলেন।

 

ভক্ত আনন্দ এবং রবি সেদিন রাতে বুদ্ধর কাছে এসে জানতে চাইলেন কেনো তিনি একই

প্রশ্নের উত্তরে তিনজকে আলাদা আলাদা উত্তর দিলেন। বুদ্ধ বললেন প্রথম ব্যক্তি ছিলেন ঈশ্বর বিশ্বাসী কিন্তু তিনি ঈশ্বর সম্পর্কে অনুসন্ধান করেননি। শুধু বিশ্বাস করলে হয়না সাধনা প্রয়োজন। অনুসন্ধান প্রয়োজন। দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন নাস্তিক কিন্তু তিনিও অজ্ঞানী কোনোরকম সাধনা এবং জ্ঞান ছাড়া নাস্তিক হওয়া যায়না।আর তৃতীয় ব্যাক্তির ক্ষেত্রে তিনি কেনো নীরব ছিলেন তা জানার জন্য পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললেন।

 

পরদিন সকালে সেই তৃতীয় ব্যক্তি আবার এলেন এবং জানতে চাইলেন ঈশ্বর আছে না নেই। বুদ্ধ বললেন তার একটি মূল্য বান রত্ন তিনি হারিয়ে ফেলেছেন এবং সেটা খুঁজে দিতে পারলে তবেই এর উত্তর দেবেন। ব্যাক্তিটি সারাদিন নানা স্থানে সেই রত্ন খোঁজ করে সন্ধ্যায় বুদ্ধর কাছে এলেন এবং বুদ্ধ তাকে বললেন রত্নটি তিনি তার কুটিরে হারিয়ে ফেলেছেন তাই বাইরে খুঁজে লাভ নেই। এতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে এই ব্যক্তি এই পরিহাসের মানে জানতে চাইলেন। বুদ্ধ তখন হেসে বললেন

ঈশ্বর ও তার মধ্যে আছে এবং তিনি এইরকম নির্বোধের ন্যায় তাকে নানা স্থানে খুঁজে চলেছেন তাই তার মনে ঈশ্বরকে নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে তার উচিৎ ঈশ্বরকে নিজের অন্তরে খোঁজা।

 

এই ভাবে বুদ্ধ তার দুই শিষ্য কে বোঝান ঈশ্বর সূর্যের ন্যায় সত্য। তাকে মানা না মানার প্রশ্ন নেই তাকে জানতে হয় এবং তার জন্য প্রয়োজন জ্ঞান এবং সাধনা। একজন গুরুর উচিৎ সেই সাধনায়

তাকে উৎসাহ দেয়া। জ্ঞান দান করা।

 

ভগবান বুদ্ধ আজ সারা বিশ্বে শান্তির প্রতীক।

তার বাণী লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষকে আলো দেখাচ্ছে।

আজ বুদ্ধ পূর্ণিমার পবিত্র দিনে প্রনাম জানাই বুদ্ধের চরণে।সবাইকে বুদ্ধ পূর্ণিমার শুভেচ্ছা।

আবার পরের পর্বে ফিরে আসবো কালী কথা নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – নাক কাটা কালী 

কালী কথা – নাক কাটা কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরুলিয়া জেলার প্রাচীন কালীপুজোগুলির মধ্যে চিড়াবাড়ি এলাকার নাক কাটা কালি পুজো অন্যতম। আজকের পর্বে জানাবো কেনো দেবীর এমন অদ্ভুত নাম আর কেনই বা এমন অদ্ভুত রূপ।

 

শোনা যায় বহুকাল আগে এই অঞ্চলে ডাকাত দের উৎপাত ছিলো সেই সময়ে ডাকাতদের হাত থেকে ফসল বাঁচাতে পুজো শুরু করেছিলেন গ্রামবাসীরা সেই রাগে ডাকাতরা দেবীর মূর্তি ভেঙে দিয়েছিল । কেটে দিয়েছিল মূর্তির নাক ।সেই থেকে দেবী এখানে পূজিত হন নাক-কাটা কালীরূপে।

শুধু নাক নয় দেবী মূর্তি এখানে খণ্ডিত।

পরবর্তীতে মূর্তি ভাঙার অপরাধে সেই ডাকাত দলকে নিশ্চিহ্ন করে দেন দেবী।এমন টাই জনশ্রুতি আছে।এই কালীমূর্তির নাক কাটা অবস্থায় পুজো হয় নাক তাই কাটা কালী নামেই খ্যাত।এক প্রাচীন বট গাছের নিচে রয়েছে দেবীর খণ্ডিত মূর্তি ।

 

অলৌকিক ভাবে এই দেবীর পুজোর পর থেকেই বন্ধ হয় ডাকাতি এবং গ্রাম বাসীরা ফিরে পান তাদের হারানো শান্তি ও সমৃদ্ধি।সে প্রায় দুশো বছর আগের কথা সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত এই গ্রামকে সমস্ত বিপদ থেকে রক্ষা করেন এই দেবী।

 

প্রত্যেক অমাবস্যায় এবং প্রতি বছর কালী পুজোর সময়ে মহা ধুমধামের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে এই পুজো । প্রাচীন প্রথা মেনে ছাগ বলিও হয় এই মন্দিরে এবং পুজো হয় তন্ত্র মতে।

 

ডাকাতদের যুগ আর নেই। বর্তমানে গ্রামবাসীরাই পুজোর সব দায়িত্ব পালন করেন।নাক কাটা কালীর উপরে গোটা পুরুলিয়া জেলার মানুষের অগাধ আস্থা এবং শ্রদ্ধা।

 

দেখা হবে আগামী পর্বে। কালী কথায় থাকবে অন্য এক কালী মন্দিরের কথা।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – ত্রিপুর সুন্দরী মন্দির

কালী কথা – ত্রিপুর সুন্দরী মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

গড়িয়ার কাছে বোড়াল গ্রামে অবস্থিত প্রাচীন ত্রিপুরসুন্দরী মন্দির নিয়ে আজকের কালী কথা।

এই মন্দির নিঃসন্দেহে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহ্য সম্পন্ন কালী মন্দির গুলির মধ্যে একটি।

 

এক সময় বোড়ালের পাশেই প্রবাহিত হতো আদি-গঙ্গা।সেই সময় দুর্গম ছিলো এই অঞ্চল।ডাকাত এবং হিংস্র জীব জন্তুর ভয়ে এদিকে সন্ধ্যের পর মানুষ আসতো না খুব একটা।এই দুর্গম স্থানেই গড়ে ওঠে ত্রিপুর সুন্দরী মন্দির।

 

জনশ্রুতি আছে এটিও একটি সতীপীঠ। শোনা যায় এখানে সতীর ডান হাতের তালু পতিত হয়েছিল।

তবে শাস্ত্রে তেমন প্রমান পাওয়া যায়না তাই শক্তি পীঠের মর্যাদা দেয়া হয়না।অনেকে আবার বলেন মন্দিরটি আসলে অতীতে কোনো তান্ত্রিক বৌদ্ধদেবীর । বোড়ালের দেবী মূর্তিটি দারু-নির্মিত।

 

বর্তমানে প্রাচীন মন্দিরটির সংস্কার করা হয়েছে।

মন্দিরে নিত্য পুজোর ব্যবস্থা আছে ।

এখানে মা ত্রিপুরেশ্বরী ছাড়াও শিবমন্দির আছে, সেখানেও নিত্যপুজো হয়।বেশ অনেকটা জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই মন্দিরে সাথেই আছে সংগ্রহশালা যেখানে প্রাচীন কালের বহু প্রত্ননিদর্শন রাখা আছে।এগুলি এই স্থানে আসা দর্শণার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ।

 

মন্দিরের কাছেই শ্মশান। বলা হয় এই শ্মশানে চাঁদ সওদাগরের ডুবে যাওয়া সপ্তডিঙার মৃতদের সৎকার হয়েছিল।

 

প্রতি অমাবস্যায় এবং বিশেষ বিশেষ দিনে প্রচুর ভীড় হয় এখানে।। সকাল দশটা নাগাদ পুজো হয় এবং প্রতি সরস্বতী পুজোয় ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে বিরাট মেলা বসে।বহু দর্শণার্থী আসেন সেই সময়ে।

 

ফিরে আসবো কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে। থাকবে এমনই এক প্রাচীন মন্দিরের ইতিহাস এবং অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দেবী মাহাত্ম – চঞ্চলা কালী

দেবী মাহাত্ম – চঞ্চলা কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বালুরঘাট শহরের প্রাচীন কালী পুজো পূজো গুলির অন্যতম চঞ্চলা কালী নিয়ে আজকের কালী কথা পর্বে লিখবো।

জানবো এই কালী ক্ষেত্রের কিছু দৈব বা অলৌকিক ঘটনাবলী।

 

বালুরঘাট শহরের হোসেনপুরের কাছে চকবাখর গ্রামে রয়েছে চঞ্চলা কালী।

সাধারণত কালীর পায়ের নিচে শিবের দেখা মিললেও এই কালীর পায়ের নিচে অশুর রয়েছে। অন্য পায়ের নিচে আছে সিংহ। বলা হয়, মহামায়া ও চামুণ্ডার এক রূপ এই চঞ্চলা কালী মাতা।দেবীর উচ্চতা সাড়ে দশ হাত এবং চঞ্চলা কালী মাতার হাতের সংখ্যা আট।

 

প্রায় তিনশো বছর ধরে পুজো চলছে এখানে শোনা যায় কোনো এক সময়ে এখান থেকে কিছু অলৌকিক নিদর্শন খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। তখন স্থানীয় রাজা এই পুজোর প্রচলন করেন। রাজার মৃত্যুর পর কিছুকাল পুজো বন্ধ থাকলেও পরবর্তীতে এই এলাকার এক বাসিন্দা স্বপ্নাদেশ পেয়ে স্থানীয় জমিদারের সহযোগিতায় আবার পুজোর সূচনা করেন।

 

প্রতি বছর এখানে দোলপূর্ণিমার পরের

দিন গভীর রাতে চঞ্চলা কালীর পুজো হয়।

চঞ্চলা কালীর মন্দিরের পাশেই রয়েছে শ্মশান কালী ও মাশান কালীর মন্দির। মা চঞ্চলার পুজোর পরের দিন এঁরা তন্ত্র মতে ভক্তিভরে পূজিত হন।

 

এখানে মন্দিরে পাশে রয়েছে একটি পুকুর।এই পুকুরকে কেন্দ্র করেও রহস্যর শেষ নেই।জনশ্রুতি রয়েছে এই পুকুর থেকে একসময় পূজোর কাজের জন্য থালা-বাসন ভেসে উঠত। বর্তমানে এই পুকুরের জল দিয়ে মায়ের পুজো করা হয়।

 

দেবী মন্দিরের সামনে রয়েছে নাটমন্দির যেখানে পুজোর পরে দুদিন রাতভর মঙ্গলচন্ডীর গান শোনানো হয়।প্রায় তিনশো বছরের পুরোনো এই পুজোয় শুধু দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার নয়, বিহার, ঝাড়খণ্ড সহ প্রতিবেশী রাজ্যের ভক্তরাও উপস্থিত হন।

 

আবার ফিরে আসবো আগামী পর্বে। কালী কথা নিয়ে। ধারাবাহিক ভাবে লেখালেখি চলতে থাকবে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – দেবীনগরের কালী

কালী কথা – দেবীনগরের কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ কালী কথায় জানবো শতাধিক বছরের পুরনো রায় গঞ্জের দেবীনগর কালীবাড়ির কথা

যে মন্দিরকে ঘিরে বহু অলৌকিক ঘটনার কথা প্রচলিত আছে।

 

ঠিক কত সাল থেকে এবং কে দেবী নগর কালী বাড়ির পূজা প্রচলন করেন তা সঠিকভাবে জানা না গেলেও পূজার বয়স শতাধিক সে নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। অতীতে কোনো এক সময়ে জঙ্গলে ঘেরা এই মন্দিরে পুজো করতো এলাকার দুর্ধর্ষ ডাকাতরা।পরবর্তীতে দিনাজপুরের জমিদার স্যার গিরিজানাথ রায় বাহাদুর এই পূজার দেখভাল শুরু করেন।তিনি প্রতি বছর দিনাজপুর থেকে এসে এখানে পুজো করতেন।

 

শোনা যায় একবার স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যাক্তি ভূপালচন্দ্র রায়চৌধুরির গাড়ি এই মন্দিরের সামনে এসে খারাপ হয়ে পড়ে। তিনি নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান পরে অদ্ভুত ভাবে আপনাআপনি তার গাড়ি ঠিক হয়ে যায়। এবং সেই রাতে দেবী তাকে স্বপ্নাদেশ দেন মন্দিরের চারপাশে ঘিরে দেবার জন্য। তারপর তিনি মন্দিরের পাশে প্রাচীর তুলে দেন।নতুন করে মন্দিরের রক্ষানাবেক্ষনও শুরু হয় তার আমল থেকে।

 

পরবর্তীতে জমিদার পরিবার থেকে ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। বর্তমানে এই ট্রাস্টি বোর্ড সেই ট্র‍্যাডিশন মেনে আজও নিষ্ঠাযোগে পূজা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

এখানে জমিদার বাড়ির প্রচলিত নিয়ম মেনে কালীপূজার দিন সূর্যাস্তের পর মূর্তি গড়ে, সেই মূর্তিতেই পূজা করে সূর্যোদয়ের আগেই বিসর্জন দেওয়া হয়।

 

বিশেষ বিশেষ তিথিতে পশুবলিও হয়ে থাকে।

তবে তা হয় পূজার পরে। কারণ দিনাজপুরের জমিদাররা ছিলেন বৈষ্ণব, তাঁরা বলি দিতেন না, পশুবলি দিত ডাকাতেরা। সেই পরম্পরা মেনেই এই রীতি পালন হয়।মায়ের মন্দিরে কোন ছাদ নেই। খোলা আকাশের নীচে মায়ের স্থান।

 

দেবী নগর কালী বাড়ির দেবী বহু মানুষের কাছে

পরম দয়াময়ী। ভক্তদের সব মন বাসনা তিনি পূরণ করেন।তাই প্রতি অমাবস্যায় তার কাছে ছুটে আসেন বহু দর্শণার্থী।

 

আসন্ন ফল হারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে

চলছে কালী কথা। এমন সব কালী ক্ষেত্র ও তাদের তাদের সাথে জড়িত অলৌকিক বহু ঘটনা নিয়ে ফিরে আসবো প্রতি পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – ব্রহ্মময়ী কালী

কালী কথা – ব্রহ্মময়ী কালী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ কালী কথায় আপনাদের এমন এক প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দিরের ইতিহাস জানাবো যে মন্দিরের প্রভাব রয়েছে দক্ষিনেশ্বর কালী মন্দিরে।

এই কালী মন্দির ব্রহ্মময়ী কালী মন্দির নামে খ্যাত।আজ থেকে আড়াইশ বছর আগে এই মন্দির তৈরী করেছিলেন সেযুগের অন্যতম ধনী ব্যবসায়ী পরিবার নিয়োগী পরিবার। সেই সময় ব্রিটিশ কোম্পানির সাথে ব্যবসা চলতো নিয়োগী পরিবারের। মুলত চিনির ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ সম্পদ লাভ করেন তারা।সেই সময়ে এই পরিবারের কর্তা কৃষ্ণচন্দ্র নিয়োগী স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

নবরত্ন শৈলী তে নির্মিত ব্রহ্মময়ী মন্দিরটি বাংলার প্রসিদ্ধ কালী মন্দিরগুলির অন্যতম।
মন্দিরের মূল বেদী থেকে চৌশট্টি ফুট উঁচুতে অর্থাৎ তন্ত্রমতে চৌশট্টি যোগিনী স্তর পার হয়ে মন্দিরের সর্বোচ্চ তলের মধ্যভাগে শ্বেতবর্ণের হংসেশ্বর শিবলিঙ্গের অবস্থান। একতলায় আছেন মা ব্রহ্মময়ী কালী। মন্দিরের চারকোণে চারটি কালো পাথরের শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠিত আছে। মন্দিরের অভ্যন্তরে পঞ্চমুণ্ড আসনের উপর বেদীতে শবরূপী মহাদেবের উপর কালো পাথরের খড়গমুণ্ডধারিণী ব্রহ্মময়ী মা অধিষ্ঠিন করছেন।

মন্দিরের প্রথম তলে সমতল ছাদের চারকোণে চারটি চূড়া। মন্দিরের বেদীমূলে সিংহাসনে নারায়ণ শিলা এবং শ্রী শ্রী ঠাকুর রামকৃষ্ণ ও মাতা শ্রী শ্রী সারদা দেবীর চিত্র বর্তমান। মূল মন্দিরের তিনটি প্রবেশপথ তন্ত্রমতে ঈড়া, পিঙ্গলা ও সুষুম্নার প্রতীক। কেবলমাত্র বছরে একবার শিবরাত্রির দিন মন্দিরের উপরে দর্শনার্থীদের যেতে দেওয়া হয়।বাকি দিন গুলি ওই স্থানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।

দেবী এখানে ব্রহ্মময়ী রূপে বিরাজ করছেন। পূজা পাঠ সবই হয় তন্ত্র মতে।প্রতি অমাবস্যায় বিশেষ পুজো এবং তন্ত্র মতে সমস্ত উপাচার নিষ্ঠা সহকারে পালন করা হয়।বহু দর্শণার্থী সেই সময় এই মন্দিরে ভিড় করেন।

শোনা যায় ব্রহ্মময়ী মন্দির প্রতিষ্ঠার প্রায় সাতাশ বছর পরে রানী রাসমনির জামাই মথুরবাবুকে এই মন্দির সম্পর্কে জানার জন্য এখানে আসতে বলেন এবং মথুরবাবু নিজে এসে এই মন্দির সম্বন্ধে জ্ঞাতব্য বিষয়গুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জেনে যান এবং পরবর্তীতে এই মন্দিরের প্রভাব থেকে যায় দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে

আবার কালী কথার পরবর্তী পর্বে অন্য এক প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক কালী মন্দিরের ইতিহাস
নিয়ে ফিরে আসবো আপনাদের জন্য।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – বিপদত্তারিনী কালী

কালী কথা – বিপদত্তারিনী কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের কালী কথা পর্বে লিখবো

দক্ষিণ বঙ্গের রাজ পুরের বিপদত্তারিণী কালী প্রসঙ্গে।জানাবো এই কালী মন্দিরের প্রতিষ্টার কাহিনী এবং তার মাহাত্ম।

 

অনেকে মনে করেন বিপদতারিণী এবং পুরাণে কৌশিকী দেবী একই।যিনি বিপদ থেকে রক্ষা করেন তিঁনিই বিপদত্তারিণী।বাংলার বিপদত্তারিণী মন্দির গুলির মধ্যে এটি অন্যতম জাগ্রত এবং প্রসিদ্ধ।বর্তমানে কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গে এই মন্দির চণ্ডীর বাড়ি হিসাবে পরিচিত।

 

দুলাল বাবা বা শ্রী দুলাল চন্দ্র দাস নামে এক মাতৃ সাধক এই পুজোর প্রান পুরুষ।শোনা যায় শৈশব থেকেই তিনি মা চন্ডীর পূজো করতেন তবে ব্রাহ্মন না হওয়ায় তাকে বড়োরা নিষেধ করতেন। একবার পূজো বন্ধ করতে তাকে নিষেধ এবং প্রহারও করা হয়। জন্যশ্রুতি আছে অলৌকিক ভাবে সেই প্রহারের চিহ্ন ফুটে ওঠে মৃন্ময়ী মাতৃ মূর্তিতে। তারপর থেকে আর কেউ তাকে পূজো বন্ধ করতে বলেন নি।

 

পরবর্তীতে দেবী তার এই সন্তানকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে বিপত্তারিণী চণ্ডীর মূর্তি গড়তে আদেশ দেন।সেই থেকে রাজপুরে মা বিপত্তারিণী চণ্ডী রয়েছেন।

স্বপ্নে বর্ণিত রূপ অনুযায়ী দেবী এখানে সিংহবাহিনী, তাঁর চার হাত, এক হাতে মহাশূল, এক হাতে খড়গ ও অন্য দুই হাতে বরাভয় ও অভয় দান করছেন তিনি।

 

কথিত আছে পুজোর পদ্ধতিও দেবী স্বয়ং শিখিয়ে গিয়েছিলেন দুলাল বাবাকে।সেই পদ্ধতিতেই আজও পূজো হয়। পুজোর দিন একেবারে ভোর থেকেই এখানে ভক্ত সমাগম শুরু হয়ে যায়। সবাই মাকে তেরো রকমের ফল, মিষ্টান্ন দিয়ে পুজো দেন।ভক্তরা মা চন্ডীকে ভগবান ভেবে নয়, নিজের মা ভেবে সব কিছু মনে মনে জানান, মা নায্য বিচার করে সমাধান করে দেন।

 

প্রতিবছর আষাড় মাসে রাজপুর বিপদত্তারিণী মন্দিরে ধুমধাম করে বিপদত্তারিণী পুজোর আয়োজন হয় এবং বহু ভক্তের সমাগম হয়।

 

 

ফিরে আসবো পরবর্তী কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে।ফল হারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

কালী কথা – কূলেশ্বরী কালী

কালী কথা – কূলেশ্বরী কালী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

বাংলায় জাগ্রত মন্দিরের অভাব নেই আর এই সব মন্দিরকে কেন্দ্র করে আছে অসংখ্য অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ।আজ থেকে আসন্ন ফলহারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে ধারাবাহিক ভাবে এমনই কিছু কালী ক্ষেত্র নিয়ে লিখবো কালী কথায়। আজ টাকির বিখ্যাত কূলেশ্বরী কালী মন্দির দিয়ে শুরু করছি।

জনশ্রুতি আছে বহুবছর আগে ইছামতীতে জেলেদের জালে উঠে এসেছিল একটি সুন্দর নকশা করা ঘট। সেকথা জানতে পারেন টাকির জমিদার। অন্যদিকে জমিদার গিন্নি সেই রাতেই স্বপ্ন দেখেছিলেন চালাঘর তৈরি করে ঘটটি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। খড়, বিচালি, গোলপাতা দিয়ে মাটির দেওয়ালের মন্দির বানিয়ে কালীপুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মন্দিরটি নতুন করে সংস্কার করা হয়।নদীর কূল থেকে ঘটটি পাওয়া গিয়েছিল বলে মন্দিরের নাম হয় কুলেশ্বরী কালীবাড়ি।

আবার কেউ কেউ বলেন এক মাতৃ সাধক ইছামতীর পাড়ে মা কালীর সাধনা করতেন এবং তার প্রতিষ্ঠিত ঘট নদীর পাড়ে পড়েছিল। এরপর টাকির জমিদারকে দেবী স্বপ্নাদেশ দেন ওই ঘট প্রতিষ্ঠা করার। তখনই টাকির জমিদার কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। নাম দেওয়া হয় কুলেশ্বরী কালীমন্দির। কারণ, নদীর কুলেই এই মন্দিরের ঘট পাওয়া গিয়েছিল।

সেই জমিদারের আমল থেকে শুরু করে আজ চারশো বছর ধরে এখানে চলে নিত্যপুজো ও অন্নভোগ। বছরের বিশেষ তিথিতে এই মন্দিরে বড় আকারে পুজো করা হয়। একটা সময় এই পুজোয় কামান দাগা হত তন্ত্র মতে বলী দিয়ে পুজো হতো। সেই সব রীতির কিছু কিছু আজও বজায় আছে।টাকির এই কুলেশ্বরী কালী মন্দিরের পুজো দেখতে আজও ভিড় করেন অগণিত ভক্ত। কারণ, ভক্তরা বিশ্বাস করেন দেবী এখানে অত্যন্ত জাগ্রত এবং তিনি ভক্তদের মনোস্কামনা পূরণ করেন।

ফলহারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে
থাকবে কালী কথা।ফিরে আসবো
আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

পুরী ধামের রহস্য

পুরী ধামের রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

চন্দন যাত্রার মধ্যে দিয়ে এবছরের রথ

যাত্রা উৎসবের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে পুরী ধামে।আজকের পর্বে পুরী ধামের কিছু রহস্য

নিয়ে লিখবো।

 

পুরী মন্দিরের উপর দিয়ে কোন বিমান বা পাখি উড়ে যেতে পারেনা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও বিষয়টি কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা অগ্রাহ্য করতে পারেন না। তবে একাধিক বার এক বিরাট পক্ষীকে মন্দিরের চূড়া প্রদক্ষিণ করতে দেখা গেছে। অনেকে বলেন নিশ্চই কোনো পৌরাণিক পক্ষী জগন্নাথ দর্শনে এসেছিলেন।

 

মন্দিরের চূড়ায় যে পতাকাটি লাগানো আছে তা রোজ নিয়ম করে পাল্টানো হয়,এই পতাকা সব সময় হওয়ার বিপরীতে ওড়ে। এর কারণ কিন্তু জানা যায় না কিন্তু এই অদ্ভূত ঘটনাটি ঘটে থাকে|

বিশেষ বিশেষ জাগতিক ঘটনার আগে কখনো এই ধজাতে আগুন লাগা বা ধজা অর্ধনমিত হওয়ার মতো ব্যাতিক্রমী ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকেও অনেকে অলৌকিক বার্তা বলে মনে করেন।

 

মন্দিরের যেকোনো স্থান থেকে মন্দিরের চূড়ার দিকে তাকালে সুদর্শন চক্র আপনার দিকে সম্মুখীন হয়ে থাকবে।

 

মন্দিরে প্রবেশ করার পর প্রথম সিঁড়িতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে সমুদ্রের আওয়াজ আর শুনতে পাওয়াযায় না কিন্তু সিঁড়ি টপকে গেলেই তারপর আবার সমুদ্রের আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়|

 

এতো রহস্য এতো অলৌকিক বিষয় থেকে এটাই প্রমান হয় যে জগন্নাথদেবের লীলা বোঝা দায়|তার ইচ্ছায় সবই সম্ভব|সাধারণ বুদ্ধি বা যুক্তি দিয়ে ভগবানের লীলার বিচার সম্ভব নয়|

 

মনে করা হয় পুরী হলো ভগবানের ভোজনের স্থান তাই এখানকার সবচেয়ে বড়ো রহস্য হল প্রসাদ। সারাবছর ধরে সমপরিমাণ প্রসাদ রান্না করা হয়। কিন্তু একই পরিমাণ প্রসাদ দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ হোক বা কয়েক লক্ষ মানুষকে খাওয়ানো হোক তবু প্রসাদ কখনো নষ্ট হয় না বা কখনো কম পড়ে না|এই প্রসাদ রন্ধন পক্রিয়াতেও রয়েছে এক রহস্য রান্নার পদ্ধতিতেও বেশ রহস্য আছে, মন্দিরের হেঁশেলে একটি পাত্রের উপর আরেকটি পাত্র এমন করে মোট সাতটি পাত্র আগুনের উপর বসে রান্না করা হয়। এই পদ্ধতিতে যেটি সবচেয়ে উপরে বসানো হয় থাকে, তার রান্না সবার আগে হয়। আর তার নিচেরগুলো তারপর। এই রহস্যর আজও কোনো সমাধান হয়নি।

 

আজ এই বিশেষ পর্ব এখানেই শেষ করছি।

ফিরবো আগামী পর্বে। পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে লেখা লেখি চলতে থাকবে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা

জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

পুরীতে অক্ষয় তৃতীয়ায় অনুষ্ঠিত হয় জগন্নাথের চন্দন যাত্রা। চন্দন যাত্রার এই পবিত্র সময়ে আজকের পর্ব এই চন্দন যাত্রা নিয়ে।

এই চন্দন যাত্রা নিয়ে নানা পৌরাণিক কাহিনী প্রচলিত আছে। কথিত আছে শ্রীজগন্নাথদেব মহারাজ ইন্দ্রদ্যুম্নকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে বৈশাখী শুক্লা অক্ষয় তৃতীয়াতে সুগন্ধি চন্দন দ্বারা তার শ্রী অঙ্গে লেপন করার নির্দ্দেশ দিয়েছিলেন। সেদিন থেকে শুরু হয় চন্দন যাত্রা। উৎসব।প্রভু জগন্নাথের রথ যাত্রার তোড়জোড় শুরু হয়ে যায় পবিত্র চন্দন যাত্রার দিন থেকেই।

গ্রীষ্ম ঋতুতে প্রভু জগন্নাথ কর্পূর এবং চন্দন লেপনের মাধ্যমে গরমের কষ্ট থেকে রেহাই পান তাই এই রীতি তিনি নিজে শুরু করেছিলেন বলে মনে করা হয়।

আয়ুর্বেদ মতে চন্দন হল সর্বশ্রেষ্ঠ প্রলেপন। যেহেতু ভারতে বৈশাখ মাস অত্যন্ত উষ্ণ থাকে তাই চন্দনের শীতল গুণ ভগবানের আনন্দ প্রদান করে। জগন্নাথের দুই চক্ষু ব্যতীত সর্বাঙ্গে চন্দন লেপন করা হয়ে থাকে। এই সময়ে বিগ্রহগকে নিয়ে শোভাযাত্রা করা হয় এবং জগতের নাথকে মন্দির পুষ্করিণীতে নৌকাবিহার করানো হয়ে থাকে।

শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে আছে বৃন্দাবনে পরম বৈষ্ণব শ্রীমাধবেন্দ্র পুরীকে স্বপ্নে তাঁর আরাধ্য শ্রীগোপাল বলছেন, “আমার শরীরের তাপ জুড়োচ্ছে না। শ্রী ক্ষেত্র থেকে চন্দন নিয়ে এসো এবং তা ঘষে আমার অঙ্গে লেপন কর, তা হলে তাপ জুড়োবে।” বৃদ্ধ মাধবেন্দ্র পুরী পূর্বভারতে নীলাচলে জগন্নাথধাম পুরীতে এসে রাজার কাছে পূর্ব স্বপ্নগত সমস্ত কথা বললেন। রাজা তার আরাধ্য গোপালের জন্য এক মণ সুগন্ধি চন্দন দেন। চন্দন নিয়ে ফেরার মাধবেন্দ্র পুরী রেমুনা নামক স্থানে অবস্থিত শ্রীগোপীনাথ মন্দিরে আসেন। সেই রাত্রে তার আরাধ্য গোপাল তার স্বপ্নে এসে বলেন “হে মাধবেন্দ্র পুরী, আমি ইতিমধ্যেই সমস্ত চন্দন ও কর্পূর গ্রহণ করেছি। এখন কর্পূর সহ এই চন্দন ঘষে ঘষে শ্রীগোপীনাথের অঙ্গে লেপন কর। গোপীনাথ এবং আমি অভিন্ন।

পরের দিন মাধবেন্দ্র পুরী পুরীরর রাজা কে সব বলেন এবং ঠিক হয় দীর্ঘ ২১ দিন ধরে প্রত্যহ একজন পূজারী প্রভু গোপীনাথের শ্রীঅঙ্গে চন্দন লেপন করবেন । তাই হয়। সেইদিন থেকেই চন্দন যাত্রা শুরু হয়। সেই রীতি নীতি আজও সমান ভাবে চলছে।তবে বর্তমানে পুরীর জগন্নাথ দেবের চন্দন যাত্রা সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং প্রসিদ্ধ।চন্দন যাত্রার পর দেবস্নান পূর্ণিমায় হবে স্নান যাত্রা এবিং সব শেষে রথ যাত্রা

জগতের সকল জগন্নাথ ভক্তকে জানাই চন্দন যাত্রা এবং আসন্ন রথ যাত্রার অগ্রিম শুভেচ্ছা।

আধ্যাত্মিক, শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে চলতে থাকবে ধারাবাহিক লেখা নিয়ে ।
ফিরে আসবো আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।