Home Blog Page 4

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ঘৃষ্ণেশ্বর শিব মন্দির 

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ঘৃষ্ণেশ্বর শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

তন্ত্রর কথা উঠলেই সাধারণত কালী বা দশ মহা বিদ্যার কথা ওঠে তবে শিব থেকেই তন্ত্রের সৃষ্টি।

যারা জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিশ্বাস করেন এবং তন্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার চান তাদের জন্য তাই শিব রাত্রি একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি। সেই তিথিকে সামনে রেখে শুরু করেছি দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ সংক্রান্ত আলোচনা।সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আজকের পর্বে আপনাদের বলবো জ্যোতির্লিঙ্গ ঘৃষ্ণেশ্বরের কথা।

 

পুরান মতে এই স্থানে ঘুশ্মা নামে এক শিব ভক্ত নারী বাস করতেন শিবের আশীর্বাদে তার এক পুত্র হয়েছিলো যে পুত্রকে পরবর্তীতে চক্রান্ত করে হত্যা করে ঘুশ্মার বোন সুহেদা|ঘুশ্মা বিচলিত না হয়ে শিব সাধনা শুরু করেন ও শিব সন্তুষ্ট হয়ে তার পুত্র কে জীবিত করে দেন|শিব আরেকটি বর দিতে চাইলে ঘুশ্মা তাঁর আরাধ্য দেবতা কে অনুরোধ করেন তিনি যেন চিরকালের জন্য সেই স্থানে বিরাজ করেন|শিব সেই অনুরোধ মেনে নেন|ঘুশ্মার নাম অনুসারে এই জ্যোতির্লিঙ্গের নাম হয় ঘুশ্মাস্বর বা ঘৃষ্ণেশ্বর।

 

ঘৃষ্ণেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মহারাষ্ট্র রাজ্যের আওরঙ্গাবাদ থেকে ৩০ কিলোমিটার এবং দৌলতাবাদ বা দেবগিরি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ইলোরা গুহার কাছে অবস্থিত|অতি প্রাচীন এই জ্যোতির্লিঙ্গের উল্লেখ পাওয়াযায় শিব পুরানে|

 

শিবভক্ত এক উপজাতি এক সময়ে এই স্থানে বাস করতো। সেই উপজাতিদের প্রধান ঘৃষ্ণেশ্বরের কৃপায় এখানে গুপ্তধনখুঁজে পেয়েছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। শোনা যায় সেই টাকায় তিনি অষ্টাদশ শতাব্দীতে নির্মিত প্রাচীন মন্দিরটির সংস্কার করান এবং একটি হ্রদ প্রতিষ্ঠা করেন|পরবর্তীতে অহল্যাবাই হোলকারও ঘৃষ্ণেশ্বরের মন্দির সংস্কার করিয়েছিলেন|

 

এই মন্দিরটি লাল পাথরের তৈরি। এতে পাঁচটি চূড়া দেখা যায়।মন্দিরের উপরে লাল পাথরে দশাবতারের মূর্তি দেখা যায়|চব্বিশটি সুদৃশ্য স্তম্ভ নিয়ে তৈরি হয়েছে দরবার কক্ষটি|মন্দির প্রাঙ্গনে নন্দিকেশ্বরের মূর্তিও আছে|শিবলিঙ্গ এখানে পূর্ব মুখী|প্রায় সারাবছর জনসমাগম হলেও শিব রাত্রি এখানে বিশেষ ভাবে পালিত হয় যা দেখতে দুর দূরান্ত থেকে শিব ভক্তরা আসেন।

 

আজ এখানেই শেষ করছি। ফিরে আসবো পরবর্তী জ্যোতির্লিঙ্গ সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ত্রম্বকেশ্বর শিব মন্দির

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ত্রম্বকেশ্বর শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

মহারাষ্ট্রে অবস্থিত ত্রম্বকেশ্বর মন্দির যা দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্তর্গত।পুরান মতে একবার গণেশ মহাদেবের পুজো করেন সেই সময়ে শিবের গলায় থাকা বাসুকি নাগের মনে হয় যে গণেশ তারই পুজো করছেন। তার এই ঔদ্ধত্যের জন্য শিব রেগে গিয়ে তাকে অভিশাপ দেন যে নাগকূল তাদের সব ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।তাই হয়|পরবর্তীতে ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা নাগেরা শিবের কাছে গিয়ে অভিশাপ ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানায়। শিব তখন দয়াবসত তাদের মর্ত্যে গিয়ে তাঁর পুজো করতে বলেন|নাগকুল এই ত্রম্বকেশ্বর মন্দিরে শিব পূজা করে তাদের হারানো গৌরব ফিরে পায়।

 

বর্তমান মন্দির টি নির্মাণ করিয়েছিলেন পেশোয়া তৃতীয় বালাজি বাজি রাও,1755 থেকে 1786 দীর্ঘ একত্রিশ বছর লেগেছিলো এই মন্দির নির্মাণ সম্পুর্ন হতে।

 

ত্র্যম্বকেশ্বর মন্দিরের পিছনের পাহাড় ব্রহ্মগিরি থেকে উদ্ভূত হয়ে গোদাবরী গুপ্ত ভাবে পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে এসে ক্ষীণ আকারে বেরিয়ে আসছে জ্যোতির্লিঙ্গ ত্র্যম্বকেশ্বরের মধ্য থেকে। মন্দির থেকে কিছু দূরে কুশাবর্ত কুণ্ড ও গোমতী ঘাট। কুম্ভপর্বে যে তিনটি স্নান হয়, তার একটি রামতীর্থ রামঘাটে ও অপর দুটি হয় এই কুশাবর্ত তীর্থে।

 

প্রচলিত বিশ্বাস মতে এই মন্দিরে বিশেষ পুজোর মাধ্যমে কাল সর্প দোষ খণ্ডন হয়। আমি নিজেও এই স্থানে জ্যোতিষ সংক্রান্ত কাজের জন্য গেছি এবং পূজো পাঠ সম্পন্ন করেছি। ধন্য হয়েছি জ্যোতির্লিঙ্গ দর্শন করে।

 

পরবর্তী জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে আবার ফিরে আসবো যথা সময়ে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ভীমাশঙ্কর শিব মন্দির

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ভীমাশঙ্কর শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

জ্যোতির্লিঙ্গ ভীমা শঙ্কর আমার আজকের পর্বে আলোচ্য বিষয়।এই জ্যোতির্লিঙ্গর স্থান নিয়ে কিছু বিতর্ক চলে আসছে বহু যুগ ধরে।

 

অনেকেই মনে করেন পুনেতে অবস্থিত ভীমা শংকর হচ্ছে প্রকৃত জ্যোতির্লিঙ্গ আবার কেউ কেউ বিশ্বাস করেন আসামে অবস্থিত এই ভীমেস্বরই হচ্ছেন ভীমাশংকর এবং এই স্বয়ংভু শিব লিঙ্গই প্রকৃত জ্যোতির্লিঙ্গ।

 

আজ আমি আসামের ভীমা শঙ্করের কথাই বলছি কারন জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে এই মন্দির অধিক জনপ্রিয় এবং স্বীকৃত।আসামের গুয়াহাটির কাছে দীপর হ্রদের ধারে ডাইনি পাহাড় বা ডাকিনি পাহাড় নামে এক বেশ রহস্যময় স্থানে ভীমশঙ্কর অবস্থিত|এখানে শিব মন্দির ও শিব লিঙ্গ প্রায় প্রাকৃতিক ভাবেই তৈরি যা আধ্যাত্মিক ভাবে দর্শনার্থীদের মোহিত করে|

 

এই শিব লিঙ্গ ও শিব মন্দির তৈরির পেছনে রয়েছে এক পৌরাণিক ঘটনা|শিব পুরান মতে কুম্ভ কর্ণ ও পাতাললোকের রাজকুমারী কর্কটির পুত্র ছিলেন ভীমাসুর যিনি ব্রম্ভার বর লাভ করে অজেও হয়ে উঠেছিলে|অহংকার ও ঔদ্ধত্যর বশবর্তী হয়ে তিনি কামরূপ রাজ প্ৰিয়ধর্ম কে হত্যা করতে যান|রাজা ছিলেন পরম শিব ভক্ত|তিনি শিবের কাছে প্রার্থনা করলে যথা সময়ে স্বয়ং শিব প্রকট হয়ে ভীমাসুর কে হত্যা করেন ও কাম রূপ রাজ কে রক্ষা করেন|পরবর্তীতে রাজা এবং অন্যান্য ঋষি মুনি দের অনুরোধ রাখতে শিব সেই স্থানে বিরাজমান হতে সম্মতি দেন|আজও তিনি ডাকিনি পাহাড়ে অবস্থিত ভীমশংকরে জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে স্বমহিমায় বিরাজমান|ভীমাসুরের নাম থেকেই ভীমেস্বর বা ভীম শংকর নামের সৃষ্টি|

 

এখানে শিব লিঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

এক প্রাকৃতিক জলধারা বা ঝর্না|দু ধারে সবুজ বনাঞ্চল ও জল ধারা দেখতে দেখতে পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে এই স্থানে পৌঁছানো এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে কিছু দূরেই রয়েছে একটি গণেশ মন্দির|সেখানেও ভক্তিভরে পূজা দেন দর্শনার্থীরা।

 

অন্যান্য জ্যোতির্লিঙ্গর ন্যায় এখানেও শিব রাত্রিতে বহু দর্শণার্থী আসেন। বিশেষ পূজো এবং উৎসবের আয়োজন করা হয়।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী জ্যোতির্লিঙ্গর কথা এবং তার পৌরাণিক ব্যাখ্যা নিয়ে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধম্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – মহাকালেশ্বর শিব মন্দির 

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – মহাকালেশ্বর শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন শিব রাত্রি উপলক্ষে শুরু করেছি জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের প্রায় প্রতিটির সাথেই জড়িত আছে একাধিক পৌরাণিক ঘটনা এবং ইতিহাস আজকের পর্বে লিখবো জ্যোতির্লিঙ্গ মহাকালেশ্বরের কথা|

 

শিব এখানে সয়ম্ভু|এই শিব লিঙ্গ কে দক্ষিনা মূর্তিও বলা হয় কারন তাঁর অবস্থান দক্ষিণ মুখী|এই জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো তান্ত্রিক নেত্র যা আর কোনো মূর্তিতে চোখে পরে না|ওঙ্কারেশ্বর এর ন্যায় এই শিব মন্দির ও পাঁচটি তল বিশিষ্ট যা মহাকাল মন্দির নামে খ্যাত।বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম এই মহাকালেশ্বর অবস্থিত। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে, রূদ্র সাগর হ্রদের তীরে।

 

প্রথমে আসি পুরানের কথায় পুরাণ অনুসারে উজ্জয়িনী শহরটির নাম ছিল অবন্তিকা|অবন্তিকার রাজা ছিলেন শিব ভক্ত কিন্তু এই সৎ এবং শিব ভক্ত রাজার শত্রুও ছিলো অনেক |একবার ব্রহ্মার আশীর্বাদে দূষণ নামে এক দৈত্য অদৃশ্য হয়ে যাবার ক্ষমতা পেয়েছিল। প্রতিবেশী শত্রুরাজারা দূষণের সাহায্যে উজ্জয়িনীর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে এবং উজ্জ্বয়ীনি আক্রমণ করেন। যুদ্ধে তাদেরই জয় হয় এবং তারা সকল শিবভক্তের উপর অত্যাচার শুরু করে দেন।অসহায় ভক্তদের প্রার্থনা শুনে শিব মহাকালের রূপে উজ্জয়িনীতে আবির্ভূত হয়ে অসুর ও রাজার বাকি শত্রুদের পরাজিত করেন।ভক্ত দের অনুরোধে শিব উজ্জয়িনীতে বাস করতে রাজি হন|সেই থেকে তিনিই হন রাজ্যের প্রধান দেবতা এবং শিবভক্তদের রক্ষাকর্তা।

 

মহাদেবে’র মূর্তিটি মহাকাল মন্দিরের গর্ভগৃহের উপরে স্থাপিত|এছাড়াও মন্দিরের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে গনেশ, পার্বতী, কার্তিক ও নন্দীর মূর্তি|সুবিস্তৃত মন্দির প্রাঙ্গন ও সুউচ্ছ চূড়া মহাকাল মন্দিরের সৌন্দর্য বহু অংশে বৃদ্ধি করে|ভূগর্ভস্থ কক্ষটির পথটি পিতলের প্রদীপ দ্বারা আলোকিত হয়। মনে করা হয়, দেবতাকে এই কক্ষেই প্রসাদ দেওয়া হয়|এ এক ব্যতিক্রমী ও স্বতন্ত্র প্রথা।

 

সনাতন ধর্ম বিশ্বাস অনুসারে, এই মন্দিরের প্রধান উপাস্য দেবতা শিব অনন্তকাল ধরে উজ্জয়িনীর শাসক|তিনি পার্বতী সহ এখানে স্বমহিমায় বিরাজমান|এই চত্বরেই রয়েছে শক্তি পীঠ মহাকালী এবং স্বপ্নেশ্বর মহাদেবের মন্দির|

 

বৈদেশিক শত্রুর আক্রমনে এই মন্দির একবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।পরবর্তীতে শিব ভক্ত মারাঠা পেশোয়ারা আবার এই মন্দির পুনর্নির্মাণ করান।

স্থানীয় প্রশাসন এই মন্দিরের দায়িত্ব নেয়।

 

অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী প্রায় সারা বছরই আসেন মহাকাল মন্দিরে, তাদের মনোস্কামনা জানান ও প্রচলিত বিস্বাস বাবা মহাকালেশ্বর কাউকে খালি হাতে ফেরান না|প্রতি বছর শিব রাত্রিতে এখানে মেলা বসে ও সেই উপলক্ষে ব্যাপক জন

সমাগম হয়। আর কয়েকদিন পরেই শিব রাত্রি উপলক্ষে সেজে উঠবে মহাকাল মন্দির।

 

আবার আগামী পর্বে আলোচনা করবো অন্য একটি জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে। এই ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ওঙ্কারেশ্বর শিব মন্দির 

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ওঙ্কারেশ্বর শিব মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সামনেই শিবরাত্রি যুক্ত অমাবস্যা।শিব মাহাত্মা

শ্রবণ এবং কথনের শ্রেষ্ঠ সময়। সেই উপলক্ষে আজকের জ্যোতির্লিঙ্গ পর্ব নিয়ে আরো একবার আমি আপনাদের সামনে উপস্থিত।আজকের পর্বে জানাবো মধ্যপ্রদেশের ওঙ্কারেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গর কথা যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা পৌরাণিক

ঘটনা।

 

প্রথমে আসি পৌরাণিক দিকে হিন্দু শাস্ত্রমতে বিন্ধ্যাচল পর্বতমালার রক্ষক অসুর বিন্ধ্য নিজের পাপ স্খলনের জন্য মহাদেবকে প্রসন্ন করেছিলেন। তিনি বালি ও পলির মিশ্রণে একটি শিবলিঙ্গ তৈরি করেছিলেন এবং সাধনা করে ছিলেন।শিব তাঁর তপস্যায় প্রসন্ন হয়ে দুটি রূপে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। একটি রূপ হল ওঙ্কারেশ্বর, অপরটি অমরেশ্বর।

 

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর স্টেশন থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ওঙ্কারেশ্বর মন্দির।কথিত

আছে- শ্রীরামচন্দ্রের পূর্বপুরুষ ইক্ষাকু বংশের রাজা মান্ধাতা ও তাঁর দুই সন্তান অম্বরীশ

ও মুচুকুন্দ এখানেই ভগবান শিবকে সন্তুষ্ট করেছিলেন।

 

পাঁচতলা এই মন্দিরের গর্ভগৃহেই রয়েছে শিবলিঙ্গ। জাতিধর্ম নির্বিশেষে সবাই এখানকার শিবলিঙ্গ স্পর্শ করে পুজো দিতে পারেন। সারা বছর ধরেই পুণ্যার্থীরা এখানে পুজো দিতে আসেন।

 

নদীগর্ভের পলি ঘনীভূত হয়ে এখানে দেবনাগরী ‘ওঁ’ এর আকৃতি ধারণ করেছিল। সেই কারণে দ্বীপটির নাম রাখা হয় ওঙ্কারেশ্বর।ওঙ্কারেশ্বর দ্বীপটি প্রায় তিন বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত। মধ্যপ্রদেশের খাণ্ডোয়া জেলার এই মন্দির নর্মদা নদী ও তার উপনদী কাবেরীর তীরে মান্ধাতা দ্বীপ সংলগ্ন। এই দ্বীপ ওঙ্কারেশ্বর দ্বীপ নামেও পরিচিত।রাজা মান্ধাতার নামে এই দ্বীপটি মান্ধাতা দ্বিপ নামেও খ্যাত।

 

সেখানেই আত্মপ্রকাশ করেছিল ওঙ্কারেশ্বর ও অমরেশ্বর।এখানকার মন্দিরে শিবের পাশাপাশি একটি।পার্বতী ও একটি পঞ্চমুখী গণেশের মূর্তি রয়েছে।

 

এই ওঙ্কারেশ্বরের কাছে রয়েছে আদি শংকরাচার্যর গুহা। যেখানে গুরু গোবিন্দপাদের দর্শন পেয়েছিলেন আদি শংকরাচার্য। সেই গুহাটি রয়েছে ওঙ্কারেশ্বর মন্দিরের ঠিক নীচে। সেখানে আদি শংকরাচার্যের একটি মূর্তিও রয়েছে।

 

সারা বিশ্বের শিবভক্তদের কাছে ওঙ্কারেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। শ্রাবণ মাসে এবং শিব চতুর্দশীর সময়ে এখানে ভক্তদের বেশি সংখ্যায় ভক্তদের আগমন ঘটে।

 

শিব রাত্রিতে যারা শাস্ত্র মতে গ্রহদোষ খণ্ডন

করাতে চান এখনই যোগাযোগ করুন।

ফিরে আসবো জ্যোতির্লিঙ্গ সংক্রান্ত ধারাবাহিক আলোচনা নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – নাগেশ্বর শিব মন্দির

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – নাগেশ্বর শিব মন্দির

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজকের জ্যোতির্লিঙ্গ পর্ব নাগেশ্বর শিব মন্দির নিয়ে।এই জ্যোতির্লিঙ্গ সৃষ্টি নিয়ে শিব পুরানে এক সুন্দর পৌরাণিক আখ্যান আছে|এক কালে দারুক নামে এক অত্যাচারি রাক্ষস ছিলো।
নিজের প্রাধান্য বিস্তারের জন্য সে সবার উপর খুব অত্যাচার করতো|তার রাজ্য বাস করতো সুপ্রিয় নামে এক শিব ভক্ত|একদিন দারুক তাকে বন্দী করে ও অত্যাচার শুরু করে|সুপ্রিয় ভয় না পেয়ে আরাধ্য মহাদেব কে ডাকতে থাকেন|ভক্তর ডাকে সাড়া দিয়ে প্রকট হন মহাদেব ও বধ করেন রাক্ষস দারুককে|এর পর সুপ্রিয়র অনুরোধে সেই স্থানেই জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে বাস করতে সম্মত হন মহাদেব|

এই বিশেষ জ্যোতির্লিঙ্গ টির সঠিক অবস্থান নিয়ে কিছু বিতর্ক বা মতপার্থক্য রয়েছে|যদিও বর্তমানে এই শিব লিঙ্গ ও মন্দির ভারতের গুজরাটের দ্বারকায় অবস্থিত কিন্তু অনেকেই মনে করেন ভারতের উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত যোগেশ্বর শিব লিঙ্গই আসলে জ্যোতির্লিঙ্গ তবে দ্বারকার নাগেশ্বর শিব মন্দিরই জ্যোতির্লিঙ্গের মর্যাদা পায়।

নাগেশ্বর অর্থ্যাৎ নাগেদের ঈশ্বর|দেবী পার্বতীও এই স্থানে নাগেশ্বরী রূপে বিরাজিতা|সারা বছর অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী ভীড় করেন নাগেশ্বর মন্দিরে।জ্যোতির্লিঙ্গ ও সুন্দর শিব মন্দিরটি দর্শন করে নিজেদের ধন্য করেন।

অন্যান্য জ্যোতির্লিঙ্গের ন্যায় শিব রাত্রিতে ও কিছু বিশেষ তিথীতে এখানেও বিশেষ পূজা হয় ও সেই উপলক্ষে ব্যাপক জনসমাগম হয়|দুর দূরান্ত থেকে মানুষ আসেন তাদের মনোস্কামনা নিয়ে|ভক্তদের বিশ্বাস বাবা নাগেশ্বর সকল ভক্তের মনোস্কামনা পূরণ করেন।

আজকের জ্যোতির্লিঙ্গ পর্ব এখানেই শেষ করে আজ বিদায় নেবো|দেখা হবে পরের পর্বে। থাকবে অন্য একটি জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে শাস্ত্রীয় আলোচনা।
সামনেই শিব রাত্রি এবং অমাবস্যা তিথি। শাস্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকারের অতি উত্তম তিথি। যাদের গ্রহ দোষ খন্ডনের প্রয়োজন আছে নির্দ্বিধায়যোগাযোগ করতে পারেন।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – সোমনাথ মন্দির

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – সোমনাথ মন্দির

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

ফিরে এলাম দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের প্রথম পর্ব নিয়ে|আজ লিখবো সোমনাথ মন্দির নিয়ে|

 

গুজরাটের বেরাবলে অবস্থিত সোমনাথ মন্দির দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম|এর ইতিহাস অতি প্রাচীন ও ঘটনাবহুল|ভারতের জনপ্রিয় তীর্থ ক্ষেত্র গুলির মধ্যে একদম প্রথম সারি তে আছে এই বিশেষ মন্দিরটি। অনেকের মতে সোমনাথ দেশের তথা বিশ্বের প্রাচীনতম শিব মন্দির।

 

সোমনাথ কে ঘিরে আছে নানা গল্প, ঐতিহাসিক ও পৌরাণিক ঘটনা আর সব কিছুর উপরে আছে এই তীর্থ ক্ষেত্র কে কেন্দ্র করে অসংখ্য মানুষের বিশ্বাস ও শ্ৰদ্ধা|সোমনাথ শব্দের প্রকৃত অর্থ হলো চন্দ্র দেবতার রক্ষা কর্তা, এই মন্দির চিরন্তন পীঠ নামেও পরিচিত কারন অতীতে একাধিক বার আক্রান্ত হয়েছে এই মন্দির, ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে কিন্তু প্রতিবারই সেই চেষ্টা ব্যার্থ হয়। প্রতিবারই স্বমহিমায় আবার ফিরে আসে সোমনাথ।

 

পুরান মতে দক্ষ প্রজাপতি একবার চন্দ্র কে অভিশাপ দিয়েছিলেন এবং সেই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে চন্দ্রদেব শিবের আরাধনা শুরু করেন|তার আরাধনায় তুষ্ট হয়ে শিব প্রকট হন ও চন্দ্র কে অভিশাপ থেকে নিষ্কৃতি দেন|চন্দ্র পরবর্তীতে শিব কে সন্তুষ্ট করার জন্য একটি স্বর্ণ নির্মিত শিব মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন যা সোমনাথ মন্দির নামে খ্যাত|সোমনাথ মন্দিরের শিব সোমেশ্বর মহাদেব নামে পরিচিত |বহুকাল পড়ে শিব ভক্ত রাবন রুপো এবং চন্দন কাঠ দিয়ে এই মন্দির পুনর্নির্মাণ করেন বলে বিশ্বাস করা হয়|তারও অনেক পড়ে ভীমদেব নামে এক রাজপূত রাজা সোমনাথ মন্দিরের সংস্কার করে পুনর্নির্মাণ করেন|

 

কথিত আছে মন্দিরটি খ্রিস্টের জন্মের আগেও বিদ্যমান ছিলো|আরবের শাসক জুনায়েদ, আলাউদ্দিন খিলজি, মামুদ গজনী ও সুলতান মুজাফ্ফর শাহ পর্যায় ক্রমে সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করেন লুঠপাঠ চালান ও ধ্বংস করেন|সোমনাথ মন্দির তবু অক্ষয় ও অমর |সনাতন ধর্মের প্রতীক হয়ে তা আজও স্বমহিমায় বিরাজমান।বর্তমান সময়ে আমরা যে মন্দিরটি দেখতে পাই তার নির্মাণের রূপকার ভারতের লৌহ পুরুষ সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল।

 

গুজরাট তথা ভারতের অন্যতম দর্শনীয় স্থান এই জ্যোতির্লিঙ্গ যা দেখতে দেশ বিদেশ থেকে প্রতি বছর অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী ভীড় জমান সোমনাথ প্রাঙ্গনে।

 

জ্যোতির্লিঙ্গ সোমনাথ নিয়ে আজ এটুকুই

ফিরবো পরের পর্বে অন্য একটি জ্যোতির্লিঙ্গের কথা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

শুভ প্রজাতন্ত্র দিবস

শুভ প্রজাতন্ত্র দিবস

 

পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রীজাতক

 

আজ আমাদের দেশের প্রজাতন্ত্র দিবস। মূলত জাতীয় পতাকা উত্তোলন, রাষ্ট্রপ্রধানদের বক্তৃতা, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে এই দিনটি উদযাপিত হয়।তবে দিনটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য অপরিসীম।

 

প্রজাতন্ত্র অর্থাৎ দেশের জনগণের রাজত্ব কায়েম। এক্ষেত্রে সংবিধানই শেষ কথা। দেশের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী সংবিধানের মাধ্যমে নাগরিকদের সকল অধিকার সুনিশ্চিত করাই আজকের দিনটির অন্তর্নিহিত তাৎপর্য।

 

১৯৫০ সালে এই দিনেই ভারতের সংবিধান গৃহীত হয়েছিল এবং জন্ম দিয়েছিল বিশ্বের বৃহত্তম প্রজাতন্ত্রের|এই দিন থেকেই বিশ্বের বৃহত্তম লিখিত সংবিধান আনুষ্ঠানিক ভাবে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতবর্ষের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হয়|প্রজাতন্ত্র দিবসের সূচনা করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। সালটি ছিলো 1950, এবং এই দিনেই স্বাধীন ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ তার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন|

 

আজ এই বিশ্ব জোড়া সাম্রাজ্যবাদ এবং রাজনৈতিক অশান্তির যুগে। ভারতের মতো একটি নানা ভাষা নানা সংস্কৃতির দেশের গণতন্ত্র যে রক্ষিত আছে। প্রতিবেশী দেশ গুলির ন্যায় রাজনৈতিক অরাজকতা বা সামরিক শাসন যে আমাদের দেশে মাথা তুলতে পারেনি তার কারন আইনের শাসন এবং লিখিত সংবিধান সর্বোপরি প্রজাতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থা।অর্থাৎ প্রজাতন্ত্র দিবস আমাদের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিন বললেও ভুল বলা হয়না।

 

আমরা গর্বিত আমরা স্বাধীন প্রজাতান্ত্রিক ভারত বর্ষের নাগরিক, আমাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সামাজিক নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষিত আছে যে সংবিধানের মাধ্যমে আজ সেই সংবিধান কার্যকর হওয়ার দিন।

 

আজ প্রতিটা ভারতবাসির গর্বের দিন|আসুন আজ শ্রদ্ধা জানাই দেশের সংবিধানকে, শ্রদ্ধা জানাই দেশের বীর সৈনিকদের যারা রাষ্ট্র রক্ষায় আত্ম ত্যাগ করেছেন|জয় হিন্দ|বন্দে মাতারাম|আপনাদের সবাইকে জানাই প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভেচ্ছা।ধন্যবাদ।

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ সৃষ্টি

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ সৃষ্টি

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আর কয়েকদিন পরেই শিব রাত্রি।

শিবরাত্রি উপলক্ষে আজ থেকে শুরু করছি শিব সংক্রান্ত নানা পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় আলোচনা।

আলোচনা করবো দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে।

আজ প্রথম পর্বে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের সৃষ্টির

পৌরাণিক কাহিনী এবং তাদের প্রাথমিক পরিচয় দেবো।

 

একবার ব্রহ্মা আর বিষ্ণুর মধ্যে জোর লড়াই বাঁধল। বিষ্ণু বললেন আমি শ্রেষ্ঠ আর ব্রহ্মা বললেন আমি। মীমাংসা করতে দুজনে গেলেন শিবের কাছে। শিব তখন স্বর্গ, মর্ত আর পাতাল ফুঁড়ে দেখা দিলেন এক আদি অনন্ত আগুনের স্ফুলিঙ্গ হিসেবে।যা আসলে একটি জ্যোতির্লিঙ্গ তিনি ব্রহ্মা আর বিষ্ণুকে বললেন যে এই অগ্নিস্ফুলিঙ্গের শুরু বা শেষ খুঁজে বের করতে পারবে, প্রমাণ হবে সেই শ্রেষ্ঠ।বিষ্ণু বরাহের রূপ ধারণ করে নীচের দিকে যেতে শুরু করলেন। আর ব্রহ্মা একটি হংসের রূপ ধারণ করে উপরের দিকে যেতে লাগ্লেন।দুজনেই ব্যার্থ হলেন। কারন জ্যোতির্লিঙ্গ রুপী শিব অনাদি এবং অনন্ত তার প্রকাশ।

 

শাস্ত্র মতে এই জ্যোতির্ময় লিঙ্গই মোট ৬৪টি জায়গায় ফুঁড়ে বেরিয়েছিল। যার মধ্যে ১২টি অত্যন্ত পবিত্র এবং আবিষ্কৃত এই বারোটি স্থানে রয়েছে বারোটি শিব মন্দির এবং এগুলোই হল দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ।

 

এই দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ গুলি হলো যথাক্রমে

 

১। গুজরাতের সোমনাথ মন্দির:

 

কথায় বলে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের পরিক্রমা শুরু করলে এখান থেকেই করা উচিৎ।

 

২। গুজরাতের নাগেশ্বর:

 

জামনগরে অবস্থিত এই মন্দিরের দেবতা নাগেশ্বরের উল্লেখ আছে শিবপুরাণে।

 

৩। মধ্যপ্রদেশের ওঙ্কারেশ্বর:

 

নর্মদা নদীর একটি দ্বীপে অবস্থিত এই মন্দির।

 

৪। মধ্যপ্রদেশের মহাকালেশ্বর:

 

প্রাচীন শহর উজ্জয়নীতে অবস্থিত এই মন্দির।এখানে যে শিবলিঙ্গ আছে বলা হয় তা স্বয়ম্ভূ। অর্থাৎ নিজেই মাটি ফুঁড়ে উঠেছে। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে এটা একমাত্র লিঙ্গ যার মুখ দক্ষিণ দিকে।

 

৫। মহারাষ্ট্রের ভীমাশঙ্কর:

 

ভীমাশঙ্করের উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক আছে। কারণ এই নামে উড়িষ্যা, গুয়াহাটি ও উত্তরাখণ্ডেও মন্দির আছে।

 

৬। মহারাষ্ট্রের ত্র্যম্বকেশ্বর:

 

গোদাবরী নদীর উৎপত্তির সঙ্গে জড়িত এই মন্দির অবস্থিত নাসিক জেলায়।

 

৭। মহারাষ্ট্রের গৃশ্নেস্বর:

 

এই মন্দিরের উল্লেখ আছে শিব পুরাণে।

 

৮। বেনারসের কাশী বিশ্বনাথ:

 

বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন শহরে অবস্থিত এই মন্দির আছে গঙ্গার পশ্চিম দিকে।

 

৯। ঝাড়খণ্ডের বৈদ্যনাথ:

 

দেওঘরে অবস্থিত এই মন্দির খুব জনপ্রিয়। কথিত আছে শিবভক্ত রাবণের চিকিৎসা করেছিলেন মহাদেব। তিনি হয়েছিলেন বৈদ্য। আর এখান থেকেই বৈদ্যনাথ নামের উৎপত্তি।

 

১০। উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ:

 

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় এটি। বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে এটি সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত এবং এটি শিবের বাসস্থান কৈলাস পর্বতের খুব কাছে অবস্থিত।

 

১১। অন্ধ্রপ্রদেশের মল্লিকার্জুনস্বামী:

 

কুরনুল জেলার শ্রীশৈলম অঞ্চলে এই মন্দির অবস্থিত। এখানে শিবের সঙ্গে রয়েছে পার্বতীও। বাবা মাকে প্রদক্ষিণ করে গণেশের বিশ্ব ভ্রমণের গল্প জড়িত আছে এই মন্দিরের সঙ্গে।

 

১২। তামিলনাড়ুর রামেশ্বরম:

 

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে এটি সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত।

 

পরবর্তী পর্বগুলিতে দ্বাদশ জ্যোতির্লঙ্গ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।

শুভ সরস্বতী পুজো 

শুভ সরস্বতী পুজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আমাদের সনাতন ধর্মে বিদ্যার দেবী বলা হয় দেবী সরস্বতীকে তাই বিশেষ করে বিদ্যার্থীদের কাছে দেবী সরস্বতী পূজনীয় তবে হিন্দু দের কাছেই তিনি পরম শ্রদ্ধার এবং পূজনীয়। তাঁর আশির্বাদে শুধুমাত্র বিদ্যা নয় বুদ্ধিও বৃদ্ধি পায়, বৃদ্ধি পায় সৃজন শীল ক্ষমতা ও সমৃদ্ধি|আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত সরস্বতী পুজো, আসুন আজ জেনে নিই দেবী সরস্বতী সম্পর্কে একটি রোমাঞ্চকর পৌরাণিক কাহিনী।

 

দেবী সরস্বতী পুরা কালে নদী রূপে ধরিত্রীকে উর্বরা করতেন। জলকে পবিত্র করতেন। অর্থ এবং সমৃদ্ধি আনতেন। মহাভারতে দেবীর উল্লেখ আছে। সেই সময়ে এই নদীর কুলে ঋষিগণ বাস করতেন এবং এই নদীর আধিষ্ঠাত্রি দেবীই হলেন সরস্বতী। তিনিই বাগদেবী।

 

পুরাণ মতে দেবী সরস্বতীকে তুষ্ট করতে একদিন বদ্রিকাশ্রমে তপস্যা করার সিদ্ধান্ত নেন মহামুনি ব্যাসদেব। তপস্যা শুরুর আগেই দেবী সরস্বতী ব্যাসদেবকে একটি শর্ত দেন তাঁকে। একটি কুল বীজ রেখে তিনি বলেন, এই বীজ থেকে গাছ হয়ে কুল হবে। সেই কুল যেদিন ব্যাসদেবের মাথায় পড়বে সেদিন দেবী সন্তুষ্ট হবেন ব্যাসদেবের তপস্যা সম্পূর্ণ হবে।

 

শর্ত মেনে নিয়ে তপস্যা শুরু করেন ব্যাসদেব। দীর্ঘ সময় কেটে গেলো সেই বীজ থেকে গাছ হল, গাছে কুল ধরল এবং কুল পেকে তা ব্যাসদেবের মাথাতেও পড়ল। ঘটনাচক্রে সেই দিনটা ছিল পঞ্চমী, এরপর সরস্বতীর অর্চনায় কুল ফল নিবেদন করেন ব্যাসদেব । সেই থেকেই বিদ্যার দেবীর প্রসাদ হিসেবেই মরসুমের প্রথম কুল খাই আমরা। এবং দেবীর পুজোর আগে কারোর কুল খাওয়া উচিত নয় বিশেষ করে ছাত্র ছাত্রীদের কারন সরস্বতীর কৃপা তাদের সবথেকে বেশি প্রয়োজন|

 

আজ সবাই সরস্বতী পূজা করুন ভক্তি ভরে। সবাইকে সরস্বতী পূজার অনেক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। ফিরে আসবো অন্য কোনো শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক বিষয় নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন।ধন্যবাদ।