Home Blog Page 4

গুরু কথা – স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজ 

গুরু কথা – স্বামী প্রণবানন্দ মহারাজ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

গুরু পূর্ণিমা পালিত হয়ে গেছে ইতিমধ্যে।

তবে ভারত আধ্যাত্মিকতার দেশ। হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা গুরু শিষ্য পরম্পরায় রয়েছেন অগণিত মহান গুরুদের উজ্জ্বল উপস্থিতি

তাই এই আলোচনা এতো সহজে শেষ হওয়ার নয়।

আজকের গুরু কথায় দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক গুরু এবং সিদ্ধ যোগী পুরুষ স্বামী প্রনবানন্দ সরস্বতী কে নিয়ে লিখবো।

জানবো তার জীবন কাহিনী এবং একজন আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে তার যাবতীয় কর্মকান্ড।

 

পরাধীন ভারতে ১৮৯৬ সালে ২৯ জানুয়ারি একে মাঘী পূর্ণিমার দিন তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার মাদারীপুরে অত্যান্ত সাধারন এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন স্বামী প্রনবানন্দ|পিতার নাম বিষ্ণুচরন ভূইঞা ও মাতা এবং মাতা সারদা দেবী। তার সন্ন্যাস পূর্ব নাম ছিলো বিনোদ।

 

প্রণবানন্দকে স্বয়ং বাবা মহাদেবের বরপুত্র

বলা হয়।|ছোটো বেলা থেকেই ঈশ্বর চিন্তা এবং আধ্যাত্মিকতায় গভীর আকর্ষণ ছিলো তার|মাত্র সতেরো বছর বয়সে স্বামী গম্ভীরনাথ এর কাছে দীক্ষা নেন তিনি|মাত্র ২০ বৎসর বয়সে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন এবং ১৯২৪ সালে প্রয়াগে অর্দ্ধকুম্ভমেলায় স্বামী গোবিন্দানন্দ গিরির নিকট আনুষ্ঠানিক সন্ন্যাস গ্রহণ করেন ও হয়ে যান স্বামী প্রনবানন্দ।

 

স্বামী প্রণবানন্দ একাধারে ছিলেন সন্যাসী, সমাজ সংস্কারক এবং স্বাধীনতার যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী এক বীর সন্ন্যাসী|ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতার যুদ্ধে যোগ দিয়ে তিনি গ্রেপ্তার ও হয়ে ছিলেন।

সারা জীবন তিনি একাধিক প্রাচীন হিন্দু তীর্থ ক্ষেত্র সংস্কার করার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন|

 

তবে তার যে কীর্তি তাঁকে অমরত্ব প্রদান করেছে এবং তাঁর আদর্শকে বহন করে চলছে তা অবশ্যই ভারত সেবাশ্রম তৈরি|তিনি ভারত সেবাশ্রম সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন 1917 সালে|বিশ্ব জুড়ে সমাজ সংস্কার, সেবা মূলক কর্ম সূচি ও সনাতন ধর্মের প্রচারে ভারত সেবাশ্রম আজ এক অতি পরিচিত নাম। একজন আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে তিনি অসংখ্য ভক্ত শিষ্যকে মানব সেবা এবং সমাজ সংস্কারের কাজে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

 

সারাটা জীবন ধরে স্বামী প্রনবানন্দ সক্রিয় ছিলেন দেশের সনাতন সমাজকে ঐক্য বদ্ধ করতে এবং সংকীর্ণ জাতপাতের বেড়া জাল থেকে সনাতন ধর্ম ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করতে|তিনি সকল রকম ধর্মীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ছিলেন|তিনি ব্যক্তি চরিত্র নির্মাণ, আদর্শ পরিবার গঠন যথাযত শিক্ষা ইত্যাদিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতেন|তিনি বলেছিলেন – হিন্দুদের মধ্যে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, চণ্ডাল আদির কোন ভেদ নেই|অর্থাৎ সব হিন্দু সমান, সবার সমান অধিকার এবং সবাইকে সমান চোখে দেখতে হবে|

 

আজও তিনি ঘরে ঘরে পূজিত হন এক আদর্শ

গুরু ও এক অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাধক হিসেবে|১৯৪১ সালে ৮ জানুয়ারি মাত্র ৪৫ বৎসর বয়সে তিনি দেহ ত্যাগ করেন। আজও তার অগণিত ভক্ত এবং তার সংগঠনের সদস্যরা তার দেখানো পথে সনাতন ধর্মের স্বার্থে কাজ করে চলেছে।জাতী ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সেবাই তাদের প্রধান উদ্দেশ্য।

 

আজ এই মহান গুরু স্বামী প্রণবানন্দ

ব্রহ্মচারীকে জানাই প্রনাম এবং শ্রদ্ধা। আবার গুরুকথার পরবর্তী পর্বে অন্য এক গুরুর জীবনী নিয়ে ফিরে আসবো।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

গুরু কথা – শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর

গুরু কথা – শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

গুরু কথার আজকের উপস্থিত হয়েছি এক মহান আধ্যাত্মিক গুরুর জীবন কাহিনী নিয়ে|আজকের পর্বে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর কে নিয়ে লিখবো।

 

অবিভক্ত বাংলার গোপালগঞ্জ জেলায়

যশোমন্ত ও অন্নপূর্ণা দেবীর গৃহে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন কলি যুগের এই অন্যতম শ্রেষ্ট মহাপুরুষ।তাঁর পরিবার ছিলো নিষ্ঠাবান বৈষ্ণব পরিবার।ফলে শৈশব থেকেই শাস্ত্র পাঠ ও ধর্ম আলোচনার প্রতি তার এক গভীর আগ্রহ ও নিষ্ঠা

বর্তমান ছিলো।যত বয়স বাড়তে লাগলো শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের মধ্যে এক ঐশরিক শক্তির বিকাশ হতে থাকলো।যথাযত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই তিনি একজন জ্ঞানী শাস্ত্রজ্ঞ ও বৈষ্ণব শাস্ত্রে অগাধ পান্ডিত্যের অধিকারী হয়ে উঠেছিলেন।

মূলত প্রেম-ভক্তির কথা সহজ-সরলভাবে প্রচার করতেন তিনি।

 

পরবর্তীতে তার প্রচলিত সাধন পদ্ধতি মতুয়াবাদ রূপে ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে|মতুয়া শব্দের অর্থ মেতে থাকা বা মাতোয়ারা হওয়া। মূলত ঈশ্বর বা হরিনামের প্রেমে যিনি বা যারা মগ্ন বা বিভোর হয়ে থাকেন, তাদেরকেই মতুয়া বলা হয়।

 

 

শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রান পুরুষ|সারা জীবন তিনি উৎসর্গ করেন মতুয়া আদর্শের প্রচারে এবং প্রসারে|তিনি মনে করতেন ঈশ্বর প্রাপ্তির জন্য সন্ন্যাস নেয়ার প্রয়োজন নেই অন্তরে শ্রদ্ধা ও ভক্তি থাকলে এবং নিষ্ঠা সহকারে ঈশ্বর চিন্তা করলে গৃহীরও ঈশ্বর লাভ সম্ভব|নানা শ্রেণী ও জাতি তে বিভক্ত হিন্দু সমাজ কে তিনি ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলেন মতুয়াবাদের দ্বারা|তৎকালীন হিন্দু সমাজের অসংখ্য নিপিড়িত, দরিদ্র ও তথা কথিত নিম্ন শ্রেণীর মানুষ দের তিনি পরম স্নেহে বুকে টেনে নিয়েছিলেন এবং তাদের সার্বিক উন্নতি সাধনই ছিলো তার জীবনের প্রধান লক্ষ্য|

 

আজ দেশে বিদেশে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি মতুয়াদের কাছে  শ্রী শ্রী হরিচাঁদ চাঁদ ঠাকুর কলি যুগের শেষ এবং শ্রীহরি-র পূর্ণ অবতার|যথার্থ অর্থেই তিনি পতিতপাবন।

 

শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের মহা প্রয়ানের পর তার পুত্র শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর মতুয়া সমাজের উন্নতি সাধনে ব্রতী হন।আজও বংশ পরম্পরার শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরহরিচাঁদ ঠাকুরের সুযোগ্য বংশধরেরা মতুয়া সমাজ কে নেতৃত্ব দান করে চলেছে সঙ্গে রয়েছেন অসংখ্য মতুয়া ভক্ত এবং শিষ্য।

 

প্রনাম জানাই এই মহান আধ্যাত্মিক গুরু এবং পরম ব্রহ্ম স্বরূপ আধ্যাত্মিক ব্যাক্তিত্বকে।

আবার ফিরে আসবো গুরু কথার আগামী পর্ব নিয়ে।যথা সময়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো ঠাকুন। ধন্যবাদ।

গুরু পূর্ণিমার শুভেচ্ছা 

গুরু পূর্ণিমার শুভেচ্ছা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রথমেই সবাইকে গুরু পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানাই আজকের এই পুন্য তিথিতে স্মরণ করবো যোগীরাজ শ্যামা চরণ লাহিড়ীকে। যাকে সবাই লাহিড়ী মহাশয় বলেই জানেন।

 

ভারতের ক্রিয়াযোগের জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র যোগী রাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ী।সংসার ধর্ম পালন করেও যে আধ্যাত্মিক মার্গে সফল ভাবে হাঁটা যায় এবং সাধনার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানো যায় তা হাতে কলমে প্রমান করে দিয়েছেন এই মহান আধ্যাত্মিক গুরু।

 

ব্রিটিশ ভারতবর্ষে 1895 সালে নদীয়া জেলায় এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন শ্যামচরণ। তার জীবন ছিলো আর পাঁচটা সাধারণ গৃহস্ত বঙ্গ সন্তানের মতোই। চাকরি করতেন একটি বেসরকারি সংস্থায়। একবার কর্মসূত্রে তাকে যেতে হয় হিমালয়ের পাদদেশে এক এলাকায় এর এখানেই ঘটে এক অদ্ভূত ঘটনা।একদিন পাহাড়ে চলার সময় তিনি তাঁর গুরু কিংবদন্তী স্বরূপ মহাবতার বাবাজির দেখা পেলেন।মহাবতার বাবা শ্যামাচরণ কে ক্রিয়া যোগের কৌশলগুলো শিখিয়ে দিলেন এবং দীক্ষা দিলেন।দীক্ষার পর চললো কঠোর অনুশীলন ধীরে ধীরে শ্যামচরণ হয়ে উঠলেন যোগীরাজ শ্যামাচরণ।

 

পরবর্তীতে গৃহস্ত জীবনে থেকে তিনি সাধনা করেছেন। অসংখ্য ভক্ত শিষ্য হয়েছে। ঘটিয়েছেন বহু অলৌকিক ঘটনা যা নিয়ে আজও আলোচনা হয়।

 

শোনা যায় একবার তাঁরই এক শিষ্যা অভয়া গুরুর সঙ্গে দেখা করতে হাওড়া থেকে বারাণসী আসছেন। মালপত্র নিয়ে ছুটতে ছুটতে হাওড়া স্টেশনে পৌঁছতেই দেখলেন, বারাণসী এক্সপ্রেস স্টেশন ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে স্টেশনেই বসে পড়লেন তিনি। আস্তে আস্তে প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে ট্রেন। চূড়ান্ত হতাশ অভয়া তখন অঝোরে কাঁদছেন আর গুরুদেব শ্যামাচরণ লাহিড়িকে স্মরণ করছেন।হটাৎ অভয়া দেখলেন, ট্রেন থেমে গিয়েছে।ড্রাইভার ও গার্ড ও অবাক তৎক্ষণাৎ মালপত্র নিয়ে দৌড় দিলেন তিনিও। অভয়া ট্রেনে ওঠা মাত্র থেমে যাওয়া বারাণসী এক্সপ্রেস আবার গড়গড় করে চলতে শুরু করল।বারাণসী পৌঁছে অভয়া তাঁর গুরুদেবের কাছে গেলেন। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা মাত্র যোগীরাজ শ্যামাচরণ বললেন, ‘ট্রেন ধরতে গেলে একটু সময় হাতে নিয়ে বেরোতে হয় মা,অত বড়ো ট্রেনকে কি আটকে রাখা যায়?গুরুর অলৌকিক ক্ষমতায় দেখে অবাক হলেন শিষ্যা অভয়া।

 

এমন অনেক অলৌকিক কীর্তি ছড়িয়ে আছে তাঁর জীবনে।বলা হয় তিনি যোগ বলে সুক্ষ দেহে যেখানে খুশি যেতে পারতেন।তাঁর ভক্ত শিষ্যদের মনের কথা পড়তে পারতেন। স্বপ্নে দেখা দিতে পারতেন।ক্রিয়া যোগের দ্বারা তিনি বহু অসাধ্য সাধন করেছেন।যদিও বাইরে থেকে তাঁকে দেখে তাঁর অলৌকিক ক্ষমতা বোঝা যেতোনা।

 

আজও তাঁর দেখানো পথে হাটছেন তাঁর দীক্ষিত এবং বহু ভাব শিষ্য তাঁদের কাছে তিনি প্রকৃত যোগীরাজ অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন এক মহান গুরু।

 

গুরু পূর্ণিমার অনেক শুভেচ্ছা

জানাই।এমন অনেক আরো গুরুর কথা

নিয়ে লেখা বাকি আছে।ফিরে আসবো

আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

গুরুকথা – শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র 

গুরুকথা – শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন গুরু পূর্ণিমার এই পবিত্র তিথী উপলক্ষে গুরু তত্ব নিয়ে বা জগৎ বিখ্যাত গুরুদের নিয়ে উপস্থাপনা এক অনন্য সাধারণ অনুভূতি যে অনুভূতি আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে পেরে আমি অত্যান্ত আনন্দিত।আজকের পর্বে পরম পূজনীয় শ্রী শ্রী অনুকূল ঠাকুরকে নিয়ে বলবো।তার কথা যতই বলা হোক কথা শেষ হয় না এমনই অদ্ভুত এবং অলৌকিক জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনা।

 

অনুকূলচন্দ্র চক্রবর্তী ১৮৮৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পাবনা জেলার হিমায়তপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন|তাঁর পিতার নাম শিবচন্দ্র চক্রবর্তী এবং মাতার নাম ছিলো মনমোহিনী দেবী|

হিমায়তপুর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয় পরে নৈহাটী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্কুল জীবনের পড়া শেষ করে তিনি কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন|

 

অনুকূল চন্দ্রের পরিবার ছিলো উত্তর ভারতের যোগীপুরুষ শ্রী শ্রী হুজুর মহারাজের শিষ্য তবে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র মায়ের কাছেই দীক্ষা গ্রহন করেন|কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষতার সঙ্গে তিনি জীবনে এগিয়ে চলেন, অনুকূলচন্দ্র ছিলেন একাধারে কবি, লেখক, ডাক্তার ও সর্বোপরি এক আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় গুরু|তিনি ছিলেন হিন্দু সমাজের একজন মহাপুরুষ, বিশ্ব মানবতাবাদী এবং পরম কৃষ্ণ ভক্ত।সারা জীবন তিনি চেষ্টা করে গেছেন কি ভাবে মানুষ ভাল থাকবে, সুস্থ থাকবে, শান্তিপূর্ণ ভাবে সবাই মিলে মিশে থাকবে|সেজন্য ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সব সময় চাইতেন, তার অনুসারিরা সব সময় কৃষ্ণ ভক্তির পথে থাকুক|তাঁর এই দর্শন ও আদর্শ সাফল্যের সাথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাঁর পরিবার ও অগণিত ভক্ত শিষ্যর।

 

তাঁর বহু ভক্ত শিষ্যও বহু অলৌকিক অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। যেমন তাঁর সান্নিধ্যে এলে মনের সব অন্ধকার দিক মুছে যেতো। প্রানে শান্তি পাওয়া যেতো। আবার অনেকে তাঁকে স্মরণ করে বহু দুরে থেকেও তাঁর দিব্য দর্শন পেয়েছেন। বহু রোগী তাঁর কৃপায় সুস্থ্য হয়েছেন এমন ও দাবী আছে।একবার হিমায়ত পুর গ্রামে কলেরা মহামারীর আকার নেয়। সেই সময় এক রাতে গ্রামের রাস্তায় শ্রী শ্রী অনুকূল ঠাকুরের সামনে পরে যান এক রমণী। মুহূর্তে ঠাকুরের কপাল থেকে জ্যোতি বেরিয়ে ধেয়ে যায় সেই রহস্যময়ী রমণীর দিকে। তারপর সেই রমণী অদৃশ্য হয়। সেই রাতের পর কলেরা বিদায় নেয়

গ্রাম থেকে।

 

তবে লোক শিক্ষার জন্য তিনি চীরস্মরণীয়।শ্রী শ্রী অনুকূল ঠাকুর প্রায় ৪৬টি পুস্তক রচনা করেন|এগুলোতে ধর্মশিক্ষা, সমাজ সংস্কার প্রচলন প্রভৃতি বিষয়ে আদর্শ ও উপদেশসমূহ বর্ণিত হয়েছে।এগুলি ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্রে অত্যান্ত গুরুত্ব পুর্ন গ্রন্থ হিসেবে সর্বত্র সমাদৃত |বই গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য, সত্যানুসরণ, পুণ্যপুথি, অনুশ্রুতি, চলার সাথী, শাশ্বতী, বিবাহ বিধায়না,সমাজ সন্দীপন ইত্যাদি।

 

পাবনা শহরের কাছে হেমায়েতপুর গ্রামে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন সৎসঙ্গ আশ্রম ও মন্দির যা আজ লক্ষ লক্ষ ভক্ত শিষ্যর কাছে এক মহান তীর্থ ক্ষেত্র|1946 সালে অনুকূল ঠাকুর পাবনা থেকে দেওঘর আসেন ও দেওঘর আশ্রম তৈরি করেন|এই দেওঘরেই 1969 সালে ঠাকুর পরলোক গমন করেন|আজ এই আশ্রম ও ঠাকুরের সংগ্রহশালা দেও ঘরের মুখ্য আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

 

আবার যথা সময়ে ফিরে আসবো।

গুরু কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে। চলতে থাকবে ধারাবাহিক লেখা।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

গুরু কথা – শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর

গুরু কথা – শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

গুরু কথার আজকের পর্বে যে মহান
গুরুকে নিয়ে লিখবো।তিনি শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর যার সন্যাস জীবনের পূর্বের নাম ছিলো রাম চন্দ্র চক্রবর্তী। তার জীবন এবং সাধনা ভারতের আধ্যাত্মিক জগতে আদৰ্শ স্বরূপ। আজও দেশে বিদেশে তার অসংখ্য ভক্ত রয়েছে।ভারতের আধ্যাত্মিক জগতে তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র সম।

অবিভক্ত বাংলায় ১৮৬০ সালে ফরিদপুর জেলায় শ্রী রাধামাধব চক্রবর্তী ও শ্রীমতি কমলাদেবীর সন্তান হিসাবে শ্রীশ্রী রামঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন|

শৈশব থেকেই ধীরে ধীরে বালক রামচন্দ্রের মধ্যে কিছু দৈব্য ক্ষমতা বা সাধকের গুনাবলি প্রকাশ পেতে শুরু করে।বাল্যকাল থেকেই শাস্ত্রে তার খুব আগ্রহ ছিলো মাঝে মাঝেই ঈশ্বর চিন্তা করে তিনি ভাব তন্ময় হয়ে যেতেন |ঈশ্বরে কে কেন্দ্র করে নানা আধ্যাত্মিক প্রশ্ন তার মনে ঘুরপাক খেতো এই ঈশ্বরের খোঁজেই ১৮৭২ সালে সকলের অজ্ঞাতে অজানাকে জানার লক্ষ্যে গৃহত্যাগী হন এবং নানা স্থানে ঘুরে শেষে পৌঁছালেন আসামের শ্রীশ্রী কামাক্ষ্যাদেবীর মন্দিরে এবং এক অক্ষয় তৃতীয়ার দিন শ্রীশ্রী রামঠাকুর দেখেন জটাধারী, দীর্ঘাঙ্গী এক জ্যোতির্ময় মহাপুরুষ তার সামনে দাঁড়িয়ে|গুরু হিসাবে তিনি সেই দিব্য পুরুষ কে গ্রহন করলেন শুরু হলো তার সাধনা এবং
আধ্যাত্মিক যাত্রা|

একের পর এক বহু কঠিন সাধনায় সিদ্ধি লাভ করে একসময় তিনি হয়ে উঠলেন অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর। পরবর্তীতে আরো কঠোর সাধনা করে তিনি অষ্টসিদ্ধি লাভ করলেন এরপর গুরুর এদেশে গৃহে ফিরে মাতৃ সেবা এবং কর্ম জীবনে কিছুকাল নিজেকে নিয়োজিত করলেন|এসবের মধ্যে থেকেও তার আধ্যাত্মিক শক্তি এবং জ্ঞান গোপন রইলো না বেশি দিন।ধীরে ধীরে তার চারপাশের মানুষরা বুঝতে পারেন তিনি আর কোনো সাধারণ মানুষ নেই।তার মধ্যে অলৌকিক আধ্যাত্মিক শক্তি জন্ম নিয়েছে।

শোনা যায় শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর একই সাথে দুই স্থানে থাকতে পারতেন, মানুষের মনের কথা পড়তে পারতেন এমনকি অদৃশ্য হতে পারতেন|
এমন বহু ঘটনা তিনি তার জীবদ্দশায় ঘটিয়েছেন যা থেকে তাঁর অলৌকিক সত্ত্বার প্রমান পাওয়া যায়।

শ্রীশ্রী রামঠাকুরের নির্দেশে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ১৯৩০ সালে কৈবল্যধাম আশ্রম এবং ১৯৪২ সালে কলকাতার যাদবপুরে কৈবল্যধাম আশ্রম তৈরি হয় যেগুলি তার ভক্ত ও শিষ্য দের কাছে আজ তীৰ্থ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে|এছাড়াও ১৯৪৩ সালে তার জন্মভিটা ডিঙ্গামানিক গ্রামে সত্যনারায়ণ সেবা মন্দির তৈরি হয়। অসংখ্য ভক্ত তার আদর্শে দীক্ষিত। আজও বহু রাম ঠাকুর ভক্ত তার দেখানো
ভক্তি মার্গে চলছেন এবং নানা রকম জন সেবা চালিয়ে যাচ্ছেন।শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের কাছে, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শুচি, অশুচির কোনও ভেদ ছিল না|জীবনের দীর্ঘ সময় কঠিন যোগ সাধনায় মগ্ন থেকেও ভক্ত দের তিনি নিঃস্বার্থ ভাবে জীব সেবা করতে শিখিয়ে গেছেন|তার জীবন ও দর্শন তার অগণিত ভক্ত ও শিষ্য দের কাছে এক আদর্শ স্বরূপ|

ভারতের এই মহান আধ্যাত্মিক ব্যাক্তিত্ব
শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের চরনে আমার শত কোটি প্রনাম জানিয়ে শেষ করছি আজকের গুরু কথা|গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে চলতে থাকবে
গুরু কথা।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

গুরু কথা – শ্রী শ্রী সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ

গুরু কথা – শ্রী শ্রী সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সংস্কৃতে লেখা এই প্রাচীন বৈদিক শ্লোক

আমরা অনেকেই হয়তো আগে শুনেছি

‘গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণু গুরুর্দেবো মহেশ্বর

গুরুরেব পরং ব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ’

যার অন্তর্নিহিত অর্থ হচ্ছে জীবনে গুরুই হলেন ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর। তিনিই আমাদের সৃষ্টি-স্থিতি-লয়ের জ্ঞান বা পরম ব্রহ্মজ্ঞান দান করেন। সেই গুরুর উদ্দেশে প্রণাম জানাই|

এই গুরু শিষ্য পরম্পরাকে উদযাপন করা হয় গুরু পূর্ণিমা তিথিতে।আর কিছুদিন পরেই গুরু পূর্ণিমা।

সেই উপলক্ষে ধারাবাহিক ভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরবো আমাদের হাজার হাজার বছরের এই গুরু শিষ্য ঐতিহ্যর নানা দিক থাকবে জগৎ বিখ্যাত কিছু গুরুর কথা।

শুরু করছি এক পরম শ্রদ্ধেয় ও মহাজ্ঞানী

গুরু ঠাকুর সীতারাম দাস ওঙ্কার নাথকে দিয়ে।

 

আজ এই মহান গুরুর জীবন নিয়ে কিছু কথা বলবো, 1891 সালে হুগলীর ডুমুর দহে প্রান হরি চট্টোপাধ্যায় ও মালতি দেবীর গৃহে জন্মায় এক শিশু নাম রাখা হয় প্রবোধ চন্দ্র|শৈশব থেকেই কিছুটা ভাবুক প্রকৃতির ছিলেন প্রবোধ চন্দ্র, ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকতেন |পরবর্তীতে শিক্ষাগুরু এবং সাধক দাশরথি মুখোপাধ্যায়ের কাছে দীক্ষা নিলেন|শিক্ষাগুরু হলেন দীক্ষাগুরু। প্রবোধচন্দ্রের নাম হলো ‘সীতারাম’|গঙ্গা যমুনা সঙ্গম এ রাম নাম মন্ত্রে তার দীক্ষা হয়েছিলো|আত্মীয় স্বজন রা তাকে গৃহী দেখতে চেয়েছিলো তাই ঠাকুরচরণ ভট্টাচার্য্যের কন্যা সিদ্ধেশ্বরী দেবীর সঙ্গে তার বিবাহ দিলেন|কিন্তু ক্রমে আধ্যাত্মিক ভক্তির সমুদ্রে ডুবে যেতে থাকেন সীতারাম দাস ওঙ্কার নাথ এবং দুই সন্তান এর জন্মের পর ঘর ছেড়ে সন্যাসী হয়ে বেড়িয়ে পড়লেন তিনি|সর্বত্র রাম নাম প্রচার করতেন তিনি|

 

ক্রমেই এক দিব্য ও অলৌকিক শক্তি উৎপন্ন হয় তার মধ্যে|সারা ভারত পরিক্রমা করে ১৯৩৬ সালের পৌষ মাসে সীতারাম ফিরে এলেন তাঁর দীক্ষালাভের স্থান ত্রিবেণীতে এবং স্থাপন করলেন একটি মঙ্গলঘট|এরপর বস্ত্র ত্যাগ করে কৌপিন পরিহিত সন্ন্যাসী রূপে পদার্পন করেন নিজের জন্ম স্থানে|ততো দিনে তিনি এক আধ্যাত্মিক শক্তি সম্পন্ন মহাপুরুষ|রাম নামের প্রচারে সপেঁ দিয়েছেন জীবন|অসংখ্য ভক্ত শিষ্য তার অনুগামী|লিখেছেন ১৫০ টি গ্রন্থ ও প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন ভাষার ১৩ টি পত্রপত্রিকা|

 

তিনি ছিলেন এক প্রকৃত সাধক ও আদর্শ গুরু যিনি তার ভক্ত ও শিষ্য দের আধ্যাত্মিক পথে চলতে শিখিয়েছেন,ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে জীবন উৎসর্গ করতে ও দেশকে ভালো বাসতে শিখিয়েছেন|১৯৮২ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি পরলোক গমন করেন|দেশ ও সারা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা তার অগণিত ভক্ত শিষ্য আজও তার আদৰ্শ কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে|গুরু পূর্ণিমার এই বিশেষ সময়ে এই মহান গুরুর প্রতি আমার অন্তরের শ্রদ্ধা রইলো।প্রনাম জানাই এই মহান সাধককে।

 

আশা করি এই বিশেষ পর্ব

গুলি আপনাদের ভালো লাগবে। ফিরে আসবো পরবর্তী পর্বে।অন্য এক গুরুকে নিয়ে লিখবো।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

মাসির বাড়ি থেকে ফিরে জগন্নাথদেবকে কেন লক্ষ্মীদেবীর অভিমান ভাঙাতে হয়? এই ঘটনার আধ্যাত্মিক তাৎপর্য কী?

জগন্নাথদেবের উল্টো রথের তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

শাস্ত্রে রয়েছে, “রথস্থ বাম নং দৃষ্টাপুনর্জন্ম ন বিদ্যতে”৷ অর্থাৎ রথের উপর অধিষ্ঠিত বামন জগন্নাথকে দর্শন করলে তাঁর পুনর্জন্ম হয় না৷ তাই রথের দড়ি টানাকেও পুণ্যের কাজ হিসাবে গণ্য করেন ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা|বছরে দুবার এই সুযোগ আসে রথের দিন এবং তারপর উল্টো রথের দিন।

আজ উল্টো রথ। অর্থাৎ জগন্নাথের পুরী মন্দিরে প্রত্যাবর্তন এর দিন।

 

শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে প্রতিবছর রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।রথযাত্রার দিন বলরাম এবং সুভদ্রাকে নিয়ে রথে চড়ে অর্থাৎ মাসির বাড়ি যান জগতের নাথ জগন্নাথ মাসির বাড়ি মানে সমুদ্রোপকূলবর্তী জগন্নাথ মন্দির থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে|যাত্রার এক সপ্তাহ পরে তিনি ফেরেন নিজ স্থানে।জগন্নাথ দেবের সপরিবারের রথে চড়ে এই ফিরে আসাই উল্টোরথ নামে খ্যাত।

 

জনশ্রুতি আছে এই দিন মন্দিরে ঢুকতে গেলেই লক্ষ্মী দেবী সটান মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেন কারণ তিন ভাইবোন মাসির বাড়ি থেকে আনন্দ করে এসেছেন অথচ তাঁকে নিয়ে যাননি। অভিমানী লক্ষ্মী দেবী এই কয়দিন একা একা শ্রীমন্দিরে ছিলেন। সেই থেকে তিন দিন এরকম ভাবেই বাইরে থাকে রথ সহ বিগ্রহ। এই তিন দিন পালিত হয় কিছু অনুষ্ঠান তারপর মহালক্ষীর মান ভঞ্জন হলে পুনরায় মন্দিরের রত্ন বেদিতে স্থান পান জগন্নাথ শুভদ্রা এবং বলরাম।

 

একাধিক শাস্ত্রীয় উপাচার আছে এই উল্টো রথ নিয়ে।সাধারণত উল্টো রথে যখন জগন্নাথ ফিরে আসেন এই যাত্রাকে বহুদা যাত্রা বলা হয়। এরপর আছে অধরপানা এবং নীলাদ্রি বিজয়। অধরপানায় জগন্নাথকে বিশেষ পানীয় পান করানো হয়। সেটাকে ঘিরেও উৎসব হয় । এর পরদিন নীলাদ্রি বিজয় উৎসব হয়। এক হিসেবে এই দিনেই রথযাত্রা শেষ হয়।

 

উল্টো রথ উপলক্ষে প্রভু জগন্নাথ

সহ সুভদ্রা-বলরাম ও সেজে ওঠেন নানা সোনার

গয়নার সাজে।এই বেশ কে সোনা বেশ বলা হয়।

মন্দিরে ফিরলে জগন্নাথদেবের উদ্দেশ্যে

নিবেদন করা হয় কয়েকশ হাড়ি রসগোল্লা নানা রকম মিষ্টান্ন সর্বশেষে নীলাদ্রিবিজয় উৎসবের

মাধ্যমে শেষ হয় এই সমস্ত রীতি -রেওয়াজ এবং তার পর জগন্নাথ-সুভদ্রা-বলরাম কে মন্দিরের

মূল রত্নবেদি-তে তোলা হয়।

 

আপনাদের সবাইকে উল্টোরথের শুভেচ্ছা জানাই ফিরে আসবো আগামী পর্বে গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে বিশেষ ধারাবাহিক লেখা

নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

প্রভু জগন্নাথ এবং মহামারী

প্রভু জগন্নাথ এবং মহামারী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রভু জগন্নাথের লীলার শেষ নেই।

রথ যাত্রা উপলক্ষে তাঁর অনেক গুলি লীলা নিয়ে ইতিমধ্যে লিখেছি আজ আরো একটি

অলৌকিক ঘটনা নিয়ে লিখবো।

 

একবার বাংলার নদীয়া জেলার কিছু অঞ্চলে ভয়াবহ মহামারী ছড়িয়ে পড়েছিল। অসংখ্য মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন, অনেকের প্রাণও চলে যাচ্ছিল। চারদিকে আতঙ্ক আর অসহায়তার পরিবেশ।ঠিক সেই সময়ে এক রাতে মায়াপুরের কাছে এক জগন্নাথ মন্দিরের পূজারী স্বপ্নে মহাপ্রভু জগন্নাথের দর্শন পান। স্বপ্নে প্রভু তাঁকে এমন এক বিশেষ ভেষজ ওষুধের কথা জানান, যা এই মহামারী থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে।

 

পরদিন সকালে পূজারী গ্রামের মানুষদের নিয়ে সেই ওষুধ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সব ভেষজ সংগ্রহ করতে বেরিয়ে পড়েন।

সকল উপাদান সংগ্রহ করা গেলেও একটি বিশেষ গাছের ডাল কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। কারণ সেই গাছ ওই অঞ্চলে জন্মাতই না। ফলে সবাই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন।

এই একটি উপাদান ছাড়া ওষুধ সম্পূর্ণ হবে না।

কিন্তু মহাপ্রভুর ইচ্ছা যে ভিন্ন ছিল!

সেদিন বিকেলে এক ছোট্ট বালক মন্দিরে এসে পূজারীর স্ত্রীর হাতে ঠিক সেই গাছের ডালটি দিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পরে পূজারী ফিরে এসে ডালটি দেখে আনন্দে বলে ওঠেন, “এটাই তো সেই শেষ উপাদান, যার জন্য আমরা অপেক্ষা করছিলাম!”তিনি জানতে চান, কে এই ডাল এনে দিয়েছে? পূজারীর স্ত্রী জানান, এক অত্যন্ত সুন্দর ও অচেনা ছোট ছেলে এটি দিয়ে গেছে। গ্রামের কেউ তাকে আগে কখনও দেখেনি।পূজারী প্রভু জগন্নাথকে প্রনাম করে তার নাম স্মরণ করে ওষুধ তৈরীর কাজে লেগে পড়েন।

 

যথা সময়ে সেই দিব্য ভেষজ ওষুধ তৈরি করে রোগীদের দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে মহামারীর প্রকোপ কমে আসে এবং অসংখ্য মানুষ সুস্থ হয়ে ওঠেন। আসল সত্য জানার পর সবাই বিশ্বাস করেন, সেই অচেনা বালক আর কেউ নন স্বয়ং মহাপ্রভু জগন্নাথই ভক্তদের রক্ষা করতে বালকের রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন।

 

জগন্নাথদেব তাঁর ভক্তদের সকল বিপদ

থেকে রক্ষা করে এই ঘটনা থেকে আরো একবার প্রমাণিত হয়। ফিরে আসবো

আগামী পর্বে উল্টো সংক্রান্ত শাস্ত্রীয়

লেখা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

জগন্নাথ দেবের কাঁঠাল প্রীতি

জগন্নাথ দেবের কাঁঠাল প্রীতি

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শ্রী জগন্নাথের অত্যন্ত প্রিয় ফল কাঁঠাল। কাঁঠাল নিয়ে জগন্নাথের অনেক লীলা আছে। তার মধ্যে ইতিমধ্যে কিছু আপনাদের জানিয়েছি । আজ আরো একটি আপনাদের জানাবো।

এক সময় পুরীর এক দরিদ্র ভক্তের বাগানে একটি সুস্বাদু কাঁঠাল ধরেছিল। ভক্তের মনে একটাই ইচ্ছা ছিল যে এই প্রথম পাকা কাঁঠালটি তিনি প্রভু জগন্নাথকে নিবেদন করবেন। কিন্তু সংসারের নানা ব্যস্ততায় তিনি সময়মতো মন্দিরে কাঁঠালটি নিয়ে যেতে পারেননি।

জনশ্রুতি আছে সেই রাতেই প্রভু জগন্নাথ এক বালকের রূপে এসে গাছ থেকে কাঁঠালটি নিয়ে যান। পরদিন দেখা যায়, কাঁঠালটি আর গাছে নেই। একই সময়ে মন্দিরে প্রভুর ভোগের কাছে কাঁঠালের সুগন্ধ ও তার চিহ্ন দেখে সকলেই বিস্মিত হন। তখন ভক্ত বুঝতে পারেন—যে কাঁঠাল তিনি ভালোবাসা দিয়ে প্রভুকে নিবেদন করতে চেয়েছিলেন, প্রভু নিজেই এসে তা গ্রহণ করেছেন।

এই লীলার মূল শিক্ষা হলো ভগবান বাহ্যিক আড়ম্বর বা দামী উপহার চান না; তিনি চান ভক্তের আন্তরিক প্রেম, নিষ্ঠা ও সমর্পণ। সত্যিকারের ভক্তি থাকলে প্রভু নিজেই ভক্তের কাছে আসেন এবং তাঁর নিবেদন গ্রহণ করেন।

রথ যাত্রার সময়ই কাঁঠালের মরশুম এবং এই সময়ে উড়িষ্যয় অত্যন্ত উন্নত মানের মিষ্টি কাঁঠাল পাওয়া যায় এবং আজও প্রায় প্রতিদিন জগন্নাথ মন্দিরে কাঁঠাল ভোগ দেয়ার রীতি প্রচলিত আছে।

আবার ফিরে আসবো অন্য একটি
জগন্নাথ লীলা নিয়ে আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।

বিপদতারিণী পূজোর তাৎপর্য 

বিপদতারিণী পূজোর তাৎপর্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ বিপদতারিনী পুজো। বিপদতারিণী দেবী সঙ্কটনাশিনীর একটি রূপ যিনি দুর্গা তিনিই বিপদতারিনী।বিপদতারিনী পুজো করে ভক্তরা সুখ ও শান্তি লাভ করেন।আজ বিপদতারিণী পূজো উপলক্ষে এই বিশেষ পর্বে জানাবো এই পুজোর তাৎপর্য ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় উপাচার।

 

সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা কখনও অসুরনাশিনী, আবার কখনও বা মাতৃ রূপিণী। মা বিপত্তারিণী দেবী দুর্গার ১০৮ অবতারের একটি রূপ।

 

গ্রামাঞ্চলে বিপদতারিনী পুজো চারদিন ধরে চলে। প্রথম দিনে দেবীর “আরাধনা” করা হয়।  তারপর দুই রাত্রি ধরে রাতে বাংলা লোকগান, ভজন ও কীর্তন চলে। চতুর্থ দিনে বিসর্জন হয়।পুজোর পর বিপদ তারিণীর নামাঙ্কিত লাল সুতোর ধাগা পুরুষদের ডান এবং মহিলাদের বাম হাতে ধারণ করাই নিয়ম।

 

বিপত্তারিণী ব্রত পালনের আগের দিন হবিষ্য করার নিয়ম। না হলে নিরামিষ আহার করতে হয়।

১৩ রকম ফুল, ১৩ রকম ফল, ১৩টি পান, ১৩টি সুপারি এবং ১৩ গাছা লাল সুতোতে ১৩ গাছা দূর্বা সহযোগে ১৩টি গিঁট বেঁধে ডুরি তৈরি করতে হয়। আম্রপল্লব-সহ ঘট স্থাপন করে ব্রাহ্মণ দ্বারা নাম গোত্র সহযোগে পূজা দিতে হয়। পূজার পরে বিপত্তারিণী দেবীর ব্রতকথা শোনা পুজারই অঙ্গ।

পুজোর পর বিপদ তারিণীর নামাঙ্কিত লাল সুতোর ডুরি পুরুষদের ডান এবং মহিলাদের বাম হাতে ধারণ করাই নিয়ম।

 

বিপদতারিনী পুজোর সময় নিরামিষ আহার গ্রহণ করুন। গৃহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।এইদিনে পরিবারের কোনও সদস্যর নেশা করা উচিৎ নয়। তাছাড়া এই পূজোর দিন কাউকে কটু কথা বলা নিষেধ,অর্থ ঋণ দেয়া নিষেধ এবং কাউকে চিনি দেয়া উচিৎ নয়।

 

বিপত্তারিণী ব্রত সাধারাণত মহিলাদের ব্রত। এই ব্রত কমপক্ষে ৩ বছর পালন করা নিয়ম।বিপত্তারিণী ব্রত পালনে মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। সাংসারিক বিপদ থেকে রক্ষা করে জীবনে সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি দান করেন মা বিপত্তারিণী।

 

শাস্ত্র মেনে মা বিপদতারিনী পুজো করা ভক্তরা সুখ এবং শান্তি লাভ করে। শাস্ত্রে যেমন মা লক্ষ্মী মাকে ধন সম্পদের দেবী হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তেমনি এটা বিশ্বাস করা হয় যে মা বিপদতারিনী উপাসনা করলে তিনি সকলের উপর আশির্বাদ বজায় রাখেন। একই সঙ্গে সমস্ত ঝামেলা, অর্থ সঙ্কট থেকে মুক্তি দেন। গৃহে সুখ এবং

সমৃদ্ধি লাভ হয়।

 

সবাইকে জানাই বিপদতারিণী পূজোর শুভেচ্ছা।

ফিরে আসবো রথ যাত্রা উপলক্ষে

ধারাবাহিক লেখা নিয়ে আগামী দিনে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।